All posts by lutfor

‘আমার কথাগুলো এলোমেলো, গুছিয়ে নেবেন’

‘আমরা কখনও ভাবিই না যে ইশরাত নেই। আমাদের মনে হয় সবসময়ই ও আমাদের সঙ্গে আছে। হয়তো দেখতে পাচ্ছি না, হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারছি না বোনটাকে। কিন্তু কোথাও না কোথাও সে আছে, ভালোই আছে— এটা ধরে নিয়েই জীবন চালাচ্ছি। এতে করে আমাদের বেঁচে থাকাটা সহজ হয়।’

থেমে থেমে কথাগুলো বলছিলেন গত বছরের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় নিহত ইশরাত আখন্দের ভাই এম এ ইউসুফ আখন্দ। খানিকটা অপ্রস্তুত হয়ে তিনি বারবার বলছিলেন, ‘এগুলো খুব ব্যক্তিগত অনুভূতি, গুছিয়ে বলার মতো না। তাই আমার কথাগুলো খুব এলোমেলো, আপনি প্লিজ গুছিয়ে নেবেন।’

 

হলি আর্টিজান বেকারির ওই জঙ্গি হামলায় নিহত হন ২০ জন। তাদেরই একজন ইশরাত আখন্দ। জেডএক্সওয়াই ইন্টারন্যাশনালের মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক ছিলেন তিনি। এর আগে গ্রামীণফোন ও ওয়েস্টিন হোটেলের গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন তিনি। বিজিএমইএ’র সাবেক মানবসম্পদ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

 

বৃহস্পতিবার উত্তরায় ইউসুফ আখন্দের বাসায় বসে কথা হয় তার ও তার মা আছিয়া খাতুনের সঙ্গে। ইউসুফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই বাসার যেখানে চোখ রাখবেন সেখানেই ওর কিছু না কিছু পাবেন। ড্রয়িং রুমের ভেতরে দরোজার পাশেই দেখবেন একটি কির্বোড। ইশরাত বাজাত। দেয়ালের দুই পাশে আছে বড় বড় দু’টি পেইন্টিং। ওগুলো ইশরাতের হাতে আঁকা। সোফার পাশে রাখা সাইডল্যাম্পটাও ইশরাতের। পুরো বাসাজুড়ে সবই ইশরাতের স্মৃতিঘেরা।’

কিছুটা বিরতি দিয়ে ইউসুফ বলতে থাকেন, ‘এমন একটি হামলায় নিহত হওয়া বোনকে কেমন করে ভুলে থাকব! কিন্তু বেঁচে তো থাকতেই হয়। চলতে হবে, তাই চলছি; এর চেয়ে বেশিকিছু নয়।’ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে সংকোচ হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কী আর বলার আছে! এগুলো তো খুবই ইমোশনাল আর ব্যক্তিগত বিষয়।’

 

ইউসুফ বলতে থাকেন, ‘আমাদের চার ভাইবোনের মধ্যে দুই ভাই আগেই মারা গিয়েছেন। ইশরাত ছিল আমার সাত বছরের ছোট। তবু পিঠাপিঠি ভাইবোন হিসেবে আমাদের সম্পর্কটা ছিল অনেক অন্তরঙ্গ, মধুর।’ ওই দিনের পর থেকে ৮৫ বছর বয়সী মা আছিয়া খাতুন প্রতিদিন কান্না করেন বলে জানান ইউসুফ।

 

সেদিনের ঘটনা কখন জানতে পারলেন— জানতে চাইলে ইশরাতের ভাই বলেন, ‘গুলশানে কিছু একটা হয়েছে শুনে আমি আর মা ওকে ফোন করে যাচ্ছিলাম। কিন্তু ফোনে পাইনি ওকে। পরদিন সকালে আত্মীয়দের মাধ্যমে জানতে পারি ইশরাতের কথা।’

এরই মধ্যে ড্রয়িংরুমে ইশরাতের আঁকা পেইন্টিংয়ের সামনের সোফায় বসলেন তার মা। ইউসুফ আখন্দ এ প্রতিবেদককে তার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতেই মুখে কাপড় চেপে আছিয়া খাতুন বলেন, ‘বলার তো কিছুই নাই রে মা! সন্তান হারানোর যে কষ্ট, তার মতো কষ্ট দুনিয়ায় আর নাই।’

 

একটু সময় নিয়ে আছিয়া খাতুন বলেন, ‘মেয়েটা খুব আদরের ছিল। সবাই ওকে আদর করত। সেই মেয়েটা আমার চলে গেল। এই কষ্ট বোঝানোর কোনও ভাষা নেই। মেয়ের অভাব তো কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়। আমার মেয়েটা খুব গুণী, বুদ্ধিমতী আর সাহসী ছিল। আল্লাহ ভালো জানেন, কেন সেই মেয়েটাকেই আমার হারাতে হলো। সবাই আমাকে সান্ত্বনা দেয়। কিন্তু সান্ত্বনা দিয়ে কী করব, আমার মেয়েকে তো আর কোনোকিছু দিয়েই ফেরত পাবো না।’ তবে তিন-চারটা ছেলে এত অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকলো, অথচ কেউ তাদের দেখলো না কেন— সেই প্রশ্নটাই আবার তুলে ধরেন তিনি।

গাজীপুরে নিজের কর্মস্থলের পাশে ইশরাতকে দাফন করেছেন জানিয়ে ইউসুফ বলেন, ‘বোনটাকে আমার কাছেই রেখে দিয়েছি, কবর দিয়েছি আমার অফিসের পাশেই। ইচ্ছা হলেই সেখানে যাই। এভাবেই ইশরাত আমাদের সঙ্গে আছে। ও নেই, এটা আমরা কখনই ভাবি না। এতে আমাদেরও বেঁচে থাকতে সুবিধা হয়। আমাদের বিশ্বাস, ও যেখানেই আছে ভালো আছে। কারণ ইশরাত কখনও খারাপ থাকত না।

অভাবে দিন কাটছে সাইফুলের পরিবারের

অভাব আর লাশ না পাওয়ার আক্ষেপে দিন কাটছে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলায় নিহত বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদারের পরিবারের।

শুক্রবার সকালে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার কলুকাঠি গ্রামে সাইফুলদের বাড়িতে গেলে কথা হয় তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে। সাইফুলের বৃদ্ধ মা সমমেহের বেগম বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছেন। তারপরেও ছেলের প্রসঙ্গ উঠতেই বিছানায় শুয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। আক্ষেপ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘একটা বছর হইয়া গেল সরকারের কাছে বিচারও পাইলাম না, আমার পোলারেও পাইলাম না। চুরি কইরা মাটি দিয়া দিল। লাশটা দিলে নায়নাতকুরে দেখতে পারতো, আমিও একটু দেখতাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত নিল, দরখাস্ত নিল, ডিবি অফিসার মাথায় হাত বুলিয়ে কথা দিল, কিন্তু কথা রাখলো না। আমার পোলার লাশটারে দিল না। চুরি কইরা মাটি দিয়া দিল।’

একবছর আগে গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় নিহত হয় তার ছেলে ও হলি আর্টিজানের বাবুর্চি সাইফুল ইসলাম চৌকিদার। লাশ না পাওয়ার আক্ষেপ প্রতিনিয়তই তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে পরিবারটিকে। সেই সঙ্গে পরিবারে আর কোনও উপার্জনক্ষম ব্যক্তি না থাকায় অভাব-অনাটনে দিনা কাটছে পরিবারটি। তিন সন্তান সামিয়া, ইমনি ও হাসান, শাশুড়ি সমমেহের বেগম ও নিজের মা মমতাজ বেগমকে নিয়ে ৬ জনের সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাইফুলের স্ত্রী সোনিয়া বেগম।

 

সোনিয়া বেগম বলেন, ‘লাশ ফেরত দেবে বলে জানিয়েছিল। এজন্য বোন জামাই কবির ভূঁইয়া লাশ ফেরত চেয়ে আবেদনও করেছিলেন। পরে আবার বললো মাকে আবেদন করতে হবে। এজন্য মাকে ঢাকা নিয়ে গেলাম। ডিএনএ টেস্টের জন্য রক্ত নিল। নতুন করে আবেদনও করলাম। কিন্তু আবেদন জমা নিল না। দাফনের সময় বললেও আমরা একটু শেষ দেখা দেখতে পারতাম।’

স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে সোনিয়া বেগমের মা মমতাজ বেগমও নাতি-নাতনিদের লালন পালনের জন্য এখানে এসে থাকছেন। সাইফুলের বড় মেয়ে চতুর্থ শ্রেণিতে ও ছোট মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। সংসারে উপার্জনক্ষম কেউ নেই। একমাত্র বাড়িটা ছাড়া কোনও জমিও নেই। সাইফুল মারা যাওয়ার পর সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনও ধরনের সহায়তা পাননি। আত্মীয়-স্বজন ও মাঝে মাঝে হলি আর্টিজান কর্তৃপক্ষের পাঠানো সহায়তা দিয়ে কোনও রকম টেনেটুনে চলছে ৬ জনের সংসার।

সোনিয়া বেগম বলেন, ‘হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁ থেকে ২/৩ মাস পরপর ১০ হাজার করে টাকা পাঠায়। তারা বলেছে, রেস্তোরাঁ ঠিকমতো চালু হলে নিয়মিত সহায়তা দেবে এর বাইরে আত্মীয়-স্বজনদের সহায়তা ও ধারদেনা করে কোনও রকমে দুই মেয়ের পড়াশুনা ও সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘লঞ্চডুবিতে নিহত হলে সরকার নিহতের পরিবারকে সহায়তা করে। তাহলে জঙ্গি হামলায় নিহত হলে সরকার কেন তার পরিবারকে সহায়তা করবে না?’

সাইফুলের স্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেক বাবাই তাদের সন্তানদের কাছে নায়কের মতো। আমার সন্তানদের নায়ক হারিয়ে গেছে। হারিয়ে গেছে শিশু হাসানের না দেখা নায়ক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ছেলে সন্তানের খুব শখ ছিল সাইফুলের। এজন্য দুই মেয়ে হওয়ার পর আবার সন্তান নিয়েছিলাম আমরা। কিন্তু সাইফুল তো ছেলেকে দেখে যেতে পারলো না। আমার ছেলেও কোনও দিন বাবাকে খুঁজে পাবে না। লাশটা ফেরত দিলেও ছেলেকে বলতে পারতাম এটা তোর বাবার কবর।’

সুইজারল্যান্ডে জমা হওয়া বাড়তি টাকা লুটপাটের: বিএনপি

বাংলাদেশ থেকে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে চলতি বছর যে বাড়তি ১ হাজার কোটি টাকা জমা হয়েছে তার পুরোটাই ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় লোকদের দুর্নীতি ও লুটপাটের অর্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ব্রিফিংয়ে রিজভী বলেন, লুটপাট করার জন্য বাজেটে জনগণের ওপর করের বোঝা বাড়িয়ে বড় আকারের বাজেট দেয়া হয়েছে।

সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের প্রকাশিত ‘ব্যাংকস ইন সুইজারল্যান্ড ২০১৬’ শীর্ষক বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে এর আগের বছরের চাইতে সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে বাংলাদেশের অর্থ জমার পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।

সহায়ক সরকারের ২ প্রস্তাব বিএনপির

সংবিধানসম্মত ও সংবিধানবহির্ভূত—দুই ধরনের নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে বিএনপি। সংবিধানের বাইরে যেতে হলে নতুন আইন পাস করে সংবিধান সংশোধন করতে হবে।

দলটির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জানা যায়, সংবিধানের মধ্যে থেকে দিতে যাওয়া সম্ভাব্য প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে রেখেই সংসদ ভেঙে দেওয়ার কথা বলা হবে; যাতে নির্বাচনের সময় সব দলের প্রার্থীর সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে ‘রুলস অব বিজনেস’ পরিবর্তন করে নির্বাচনকালে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানোর কথা উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের দলীয় সভাপতির পদ ছাড়ার কথাও বলা হবে।

আর সংবিধানের বাইরে দিতে যাওয়া প্রস্তাবে থাকছে প্রথমত, রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে, দ্বিতীয়ত, স্পিকারের নেতৃত্বে এবং তৃতীয়ত, নাগরিকসমাজের গ্রহণযোগ্য একজনের নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার। সব ক্ষেত্রেই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাশাপাশি বড় দলগুলোকে নিয়ে ওই সরকারের মন্ত্রিসভা গঠনের প্রস্তাব থাকবে।

সহায়ক সরকারের প্রস্তাব তৈরির কাজে সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই নেতারা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, প্রস্তাবগুলো এখনো চূড়ান্ত রূপ নেয়নি। এ নিয়ে অত্যন্ত গোপনে কাজ করছেন বিএনপির ‘থিংকট্যাংক’ সংশ্লিষ্ট সুধীসমাজের কয়েকজন প্রতিনিধি ও সিনিয়র নেতা। তাঁরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবনার খসড়া তৈরি শেষ হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার পর তা চূড়ান্ত হবে। আগামী ৭ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার কথা রয়েছে।

সেখানে অবস্থানরত দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে তাঁর বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে। লন্ডন থেকে তিনি ফেরার পর আগস্টের মাঝামাঝি জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হবে সহায়ক সরকারের প্রস্তাব।

 

সংবিধানের ১২৩-এর (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ রেখে এবং সংসদ ভেঙে দিয়ে দুইভাবেই নির্বাচনের সুযোগ আছে। এই অনুচ্ছেদের (ক) অংশ অনুযায়ী ‘মেয়াদ অবসানের কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার পূর্ববর্তী নব্বই দিনের মধ্যে’ নির্বাচনের কথা উল্লেখ আছে। আর (খ)-তে বলা হয়েছে, ‘মেয়াদ অবসান ব্যতীত অন্য কোনো কারণে সংসদ ভাঙ্গিয়া যাইবার পরবর্তী নব্বই দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে। ’ অর্থাত্ প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি থাকলে রাষ্ট্রপতির পরামর্শে মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেও সংসদ ভেঙে দেওয়া যাবে।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিএনপির সহায়ক সরকারের প্রস্তাব নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। এটি চূড়ান্ত হতে কিছুটা সময় লাগবে। তবে এটুকু বলা যায়, অযৌক্তিক কোনো প্রস্তাবনা এতে থাকবে না, যা থাকবে তাতে দেশের জনগণ বুঝবে যে বিএনপি শুধু সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই চায়। অন্য কোনো এজেন্ডা বিএনপির নেই। ’

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রস্তাবে কী থাকবে সেটি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে। তবে সহায়ক সরকার বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা। এটি কোনো একটি দল বা গোষ্ঠীর বিষয় নয়। কারণ সহায়ক সরকার ছাড়া এ দেশে আর ভোটাধিকার প্রয়োগ সম্ভব নয়—সেটি দেশের জনগণ জানে। আর এ জন্যই বিএনপির এ ধরনের একটি প্রস্তাবের জন্য তারা অপেক্ষা করছে। ’

 

গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মতে, সংবিধানের ভেতরে ও বাইরে নানা ধরনের প্রস্তাব নিয়ে বিএনপি চিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত হয়তো শেখ হাসিনার আগের দেওয়া প্রস্তাবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপিপন্থী সুধীসমাজের আরেকজন প্রতিনিধি কালের কণ্ঠকে বলেন, সংবিধানের ভেতরে ও বাইরে দুই ধরনের প্রস্তাবই থাকবে। কিন্তু মূল বিষয় হচ্ছে সরকার চাইলেই কেবল তা বাস্তবায়ন সম্ভব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রুলস অব বিজনেস পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো যায়।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ‘রুলস অব বিজনেস পরিবর্তন করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা কমানো যায়। কিন্তু এর জন্য আইন পাস করাতে হবে। কারণ রুলস অব বিজনেস একটি আইনের অধীনে করা হয়েছে। ’

 

মন্ত্রিসভায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাঁচজন করে সদস্যের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাতে স্বরাষ্ট্রসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় বিএনপিকে দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু বিএনপি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি নির্বাচনও বর্জন করে।

 

সংবিধানের মধ্যে প্রস্তাব বর্তমানে জনসমর্থনের যে অবস্থা তাতে নির্বাহী ক্ষমতা খর্ব করে এবং দলীয় সভাপতির পদ ছাড়লে প্রধানমন্ত্রী পদে শেখ হাসিনাকে রেখেও নির্বাচনে যাওয়ার পক্ষে বিএনপির বড় একটি অংশ। তাঁদের মতে, শেখ হাসিনা দলীয় সভাপতির পদ ছাড়লে প্রশাসনে তাঁর প্রভাব কমে যাবে।

পাশাপাশি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। আর সেই পরিস্থিতিতে বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার উঠবে বলে ধারণা দলটির নেতাদের। তা ছাড়া সমঝোতা হলে সংবিধান বহাল রেখে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনা পদত্যাগও করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে সংসদ উপনেতাই তখন সংসদ নেতা তথা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারেন—এমন একটি প্রস্তাব দিতে চায় দলটি। পাশাপাশি সংসদ ভেঙে দেওয়া হলে এমপিদের তখন আর নির্বাচনী এলাকাগুলোতে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের সুযোগ থাকবে না। ফলে বিএনপির পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হবে বলে মনে করে দলটি।

তবে মাঠের বিরোধী দল বিএনপি সংসদে না থাকায় মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে সাংবিধানিক জটিলতা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিএনপির প্রস্তাব হলো নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের মন্ত্রিসভা কমপক্ষে ৪০ থেকে ৫০ সদস্যের করা। যাতে বিএনপির চার-পাঁচজনকে টেকনোক্র্যাট কোটায় নেওয়া যায়।

সূত্রমতে, দলটির প্রস্তাব হলো প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলো বিরোধীদের দিতে হবে। পাশাপাশি সাংবিধানিক কারণে ৫০ জনকে মন্ত্রিসভায় নেওয়া হলেও দুই দলের ১৯ জন ছাড়া বাকি সদস্যদের নিষ্ক্রিয় রাখার প্রস্তাবনা থাকবে।
এর বাইরে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা সব মামলার কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব থাকবে; যাতে দলটি সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে এবং পুলিশ যাতে তাদের হয়রানি করার সুযোগ না পায়। পাশাপাশি সব জেলার বর্তমান জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) বদলির প্রস্তাবনা থাকবে। থাকবে নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিও।
সংবিধান সংশোধন করে সহায়ক সরকার
রাষ্ট্রপতি কিংবা স্পিকারের নেতৃত্বে সহায়ক সরকার গঠন করতে চাইলে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। যদিও তাঁরা সরকারেরই অংশ এবং প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন বলে বিএনপি মনে করে। তার পরও দলটি কৌশলগত কারণে এ দুজনকে প্রধান করে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের প্রস্তাব দিতে চায়।

উদ্দেশ্য হলো অন্তত ওই সময়ের জন্য জনগণের সামনে স্পষ্ট করা যে সরকারপ্রধান হিসেবে শেখ হাসিনা এখন আর নেই। দলটি এও মনে করে যে প্রশাসনে শেখ হাসিনার প্রভাব আর ওই দুজনের প্রভাব কখনোই এক হবে না। তা ছাড়া ওই দুজনকে প্রধান করে দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলে ‘অন্য কারো ওপরই সরকারের আস্থা নেই’; এটিও জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে বলে মনে করে দলটি।

 

বড় দল থেকে মন্ত্রিসভায় সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে নাগরিক সমাজের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একজনকে প্রধান করে সহায়ক সরকার গঠনের প্রস্তাব প্রভাবশালী দু-একটি দেশের কূটনীতিকদের পরামর্শে দেওয়া হতে পারে। সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য ওই প্রস্তাব তৈরির ব্যাপারে বিএনপি ঢাকাস্থ কূটনীতিকদের কাছ থেকেও সময় সময় পরামর্শ নিচ্ছে। আলোচনায় কূটনীতিকরা বিএনপি নেতাদের বলছেন, সরকারের মেনে নিতে সুবিধা হয় এমন বাস্তবসম্মত প্রস্তাবই যাতে তাঁরা দেন।
উৎসঃ কালের কণ্ঠ

সেই রাতের কথা মনে হলে এখনো আঁতকে ওঠেন তারা

ভয়াল সেই রাতের কথা আর মনে করতে চাই না। নির্ঘাত মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে গেছি। শত চেষ্টা করছি ভোলার জন্য। কিন্তু পারছি না। সেই রাতের কথা মনে হলে এখনো আঁতকে উঠি। মনে হয় আমার পুনর্জন্ম হয়েছে। তাই এখন নতুন করে বাঁচতে চাই। নতুন করে স্বপ্ন দেখছি। কথাগুলো বলছিলেন গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের কর্মী দ্বীন ইসলাম রাকিব। গতকাল গুলশানের হলি আর্টিজানের নতুন দোকানে স্মৃতি হাতড়ে রাকিব বলেন, সেই রাত ছিল আমার জীবনের একটি কালো রাত। সৃষ্টিকর্তা আর মা-বাবার দোয়ায় বেঁচে গেছি।

আমরা প্রায় ৬০ স্টাফ সেদিন কর্মরত ছিলাম। আমি কাজ করতাম কিচেনে। সেখানে আমি সহ মোট ১৩ জন ছিলাম। যখন গোলাগুলির শব্দ শুনতে পাই তখনই আমরা কিচেনের দরজা বন্ধ করে দেই। জঙ্গিরা এসে একবার দরজায় ধাক্কা দিয়েছিলো। তারা হয়তো বুঝতে পারে আমরা স্টাফ। পরে আর আসেনি। রাকিব জানান, নির্ঘুম রাত কাটিয়েছি। সারা রাত পানি ছাড়া আর কিছু খাইনি। আমরা সবাই সৃষ্টিকর্তাকে ডেকে ডেকে সময় পার করেছি। মনের ভেতর একটা আতঙ্ক বিরাজ করে। কখন কি হবে। আমাদের ওপর যদি আক্রমণ করে। যদি আমাদেরকে মেরে ফেলা হয়। তবে আমাদের কাছে মোবাইল থাকার কারণে বাড়িতে এবং আমাদের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছি। বাড়িতে মা এবং আমার ছোট বোনরা খুবই দুশ্চিন্তায় সময় কাটিয়েছে। আমরা বুঝতে পারছিলাম ভয়ঙ্কর কিছু হতে যাচ্ছে।

রাত শেষে যখন সকাল হলো তখন আমাদের রেস্টুরেন্টের মালিক সাহাদাত মেহেদী আমাদেরকে মোবাইলে জানান ভয়ের কোনো কারণ নাই। সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসেছেন। তারাই আমাদের উদ্ধার করবেন। সেনাবাহিনী যখন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান চালায় তখন আরো বেশি ভয় পাই। আমরা দরজার ভেতর থেকে বাঁচাও, বাঁচাও, বলতে থাকি। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আমাদেরকে উদ্ধার করে। বাইরে বের হয়ে দেখি রক্তে লাল হয়ে আছে পুরো রেস্টুরেন্ট। এতো রক্ত দেখে আমার মাথা ঘুরছিল। সেই আতঙ্ক আজও মনে বিরাজ করছে। জানি না কতদিনে এই দৃশ্য ভুলতে পারবো।

 

পপিলসন চিরান (৩৫)। ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার নগরসন্তোষ গ্রামের বাসিন্দা। পপিলসন গুলশানের হলি আর্টিজানের একসময়ের সার্ভিসম্যান। গত বছরের ১লা জুলাইয়ের সেই রাতে হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার সময় তিনিও সেখানে ছিলেন। তবে, ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান। ভয়ঙ্কর সেই রাতের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে মানবজমিনকে তিনি জানান, ওই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে হলি আর্টিজানের নিচতলায় সার্ভিসম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। ফ্লোরে তিনটি টেবিলের সিরিয়ালের একটির ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন পপিলসন। এ সময় হাসনাত করিম তার স্ত্রী ও ছেলেমেয়েকে নিয়ে প্রবেশ করে একটি টেবিলে বসেন।

তিনটি সিরিয়ালের সব টেবিলই তখন পরিপূর্ণ। এর একটিতে ছিলেন বেশক’জন জাপানি নাগরিক। একটিতে ছিলেন ইতালির অন্তত ৮ জন নাগরিক। হাসনাত করিম খাবারের অর্ডার দেন। পাশে জাপানি নাগরিকদের অর্ডার আনতে যান পপিলসন। এ সময় একজন জাপানি তাকে জানান, পাশের দরজার বাইরে কেউ একজন দরজা খুলে দেয়ার ইশারা করছে। নিচতলার দরজা বাইরে থেকে খোলা যায় না। ভেতর থেকে খুলতে হয়।

পপিলসন বলেন, দরজার দিকে তাকিয়ে দেখি কয়েকজন দরজা খুলে দেয়ার ইশারা করছে। তাদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র। তখনও বুঝতে পারিনি তারা ভয়ঙ্কর জঙ্গি। আমরা ভয় পেলাম। দরজা খোলার সাহস পেলাম না। ওরা তখন ওই দরজায় গুলিবর্ষণ করে। আমরা ভয়ে সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করলাম। কেউ কেউ ফ্লোরে শুইয়ে পড়লো। তারা (জঙ্গি) তখন মূল দরজা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। সবার হাতেই অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র। এসেই তারা ফাঁকা গুলি ছুড়ে। আমি তখন ভেতরের একটি দরজা দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। পেছনের দরজা দিয়ে বের হয়ে নিচতলার বাথরুমে প্রবেশ করার চেষ্টা করি। কিন্তু আমার আগে বেকারির আরো অনেকেই বাথরুমে প্রবেশ করে এর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেয়। পরে সিঁড়ি দিয়ে দোতলায় উঠে রেষ্টুরেন্টের কর্মীদের কিচেনে প্রবেশ করার চেষ্টা করি। কিন্তু সেখানেও একই অবস্থা। ভেতর থেকে দরজা বন্ধ। একপর্যায়ে কিচেনের পাশে বেকারি রুমে যাই।

সেখানে মিকচার মেশিনের পাশে দেয়াল ঘেঁষে লুকিয়ে থাকি। তিনি বলেন, সেখান থেকেই নিচতলায় চিৎকার, গুলির আওয়াজ, ভাঙচুরের শব্দ, নারী ও শিশুদের কান্না শুনতে পাই। ১০/১৫ মিনিট পরে জঙ্গিদের একজন সেখানে আসে। প্রথমে চিনতে না পারলেও ঘটনার পর ছবি দেখে আন্দাজ করতে পারি সে ছিল জঙ্গি নিবরাস। তার হাতে রক্তমাখা লম্বা ছুরি। কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ। আমি ভয়ে আঁতকে উঠি। তবে, আমার সামনে দিয়ে ঘুরে গেলেও সম্ভবত আমাকে দেখতে পায়নি। সে তখন শেফ’র রুম ভাঙচুর করে। আর আমি একমনে প্রার্থনা করে যাচ্ছি। এই জায়গাটা নিরাপদ মনে না করে আবারো স্টাফ কিচেনের সামনে চলে যাই। সেখানে কিচেনের পাশেই সীমানা প্রাচীর। সীমানা প্রাচীরের পাশে রেস্তরাঁর কর্মীদের বিশ্রাম কক্ষ। সীমানা প্রাচীরের তারকাঁটা ধরে ওঠার চেষ্টা করি। কিন্তু লাভ হয়নি।

একপর্যায়ে কর্মীদের খাবার রুমের জানালায় ধাক্কা দিলে সেটি খুলে যায়। জানালা দিয়ে রেষ্টুরেন্টের ছাদে ওঠার চেষ্টা করি। তবে, আমার আগেই ছাদে রেস্টুরেন্টের কর্মীদের অনেকেই সেখানে ছিল। তারাই আমাকে ছাদে টেনে তুলে। ওদিকে নিচতলা ও দোতলায় জঙ্গিদের তাণ্ডব চলছেই। আমরা তখন ছাদে শুইয়ে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করি। বুঝতে পারছিলাম ভয়ঙ্কর কিছু হচ্ছে। চিৎকার আর কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। ফোনে স্ত্রীকে বলি হলি আর্টিজান বেকারি রেস্তরাঁয় সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। সম্ভবত আমি বাঁচবো না। তবে, সৃষ্টিকর্তা আমার সহায় ছিল। একপর্যায়ে ছাদ থেকে যে যেভাবে পারি পাশের ফ্ল্যাটগুলোতে যাওয়ার চেষ্টা করি। আমিও ঝাঁপ দিয়ে উত্তর পাশের একটি ফ্ল্যাটের নিচে নেমে সাহায্য চাই।

ওদের সাহায্যে ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে ঝিলপাড় হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালের পেছন দিক দিয়ে নর্দ্দা হয়ে শাহজাদপুরে আমার বাসায় চলে যাই। পপিলসন বলেন, এমন ভয়ঙ্কর রাতের কথা আমি ভুলে যেতে চাই। ওই রাতে আমি বেঁচে গেলেও আমাদের অন্য কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জঙ্গিদের ভয়ঙ্কর উন্মত্ততার বিষয়টি জানতে পারি।
হলি আর্টিজানে সেই রাতে কফিশপের দায়িত্বে ছিলেন শাহরিয়ার আহমেদ (৩০)। ঘটনার ভয়াবহতা এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় তাকে। শাহরিয়ার বলেন, আমিসহ আরো কয়েকজন প্রায় সারারাত রেষ্টুরেন্টের নিচতলার বাথরুমে জিম্মি অবস্থায় ছিলাম। তবে, এরমধ্যেই জঙ্গিদের আক্রমণ তাদের বীভৎসতা টের পাই। নারী, পুরুষ ও শিশুদের চিৎকার শুনতে পাই। বীভৎস হত্যাকাণ্ড হচ্ছে সেটিও বুঝতে পারি।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় এত হত্যা ও রক্ত দেখার পরও তারা ছিল প্রায় স্বাভাবিক। কোনোরকম অস্থিরতা তাদের মধ্যে দেখিনি। এতকিছুর পরও তারা রান্না করা খাবার খেয়েছে, আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। এটি একটি অসম্ভব ব্যাপার। শাহরিয়ার বলেন, প্রায় ১১ ঘণ্টা জিম্মি অবস্থা থেকে সকালে আমাদের উদ্ধার করা হলো। হলি আর্টিজানের নিচতলায় তখন লাশ আর লাশ। রক্তে ভেসে গেছে পুরোটা ফ্লোর। তিনি বলেন, সেই রাতের স্মৃতি ভুলে যেতে চাই। এটি খুব কষ্টকর অভিজ্ঞতা। বলে বোঝানো যাবে না। এখনো দুঃস্বপ্ন দেখি। চোখের সামনেই দেখতে পাই সেই রাতের ভয়াবহতা। সাংবাদিকসহ অনেকেই ওই রাতের স্মৃতি আমার কাছে জানতে চান। কিন্তু বলতে ইচ্ছে করে না। এ ধরনের ভয়ঙ্কর কষ্টের স্মৃতি কাউকে বলা যায় না। এত খারাপ অভিজ্ঞতা খুব কম মানুষেরই হয়েছে।

 

এদিকে পুরাতন হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের আশেপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এখনো তাদের ভেতর সেই ভয়াল রাতের আতঙ্ক বিরাজ করছে। নীরব নিস্তব্ধ এই রোডে মানুষের আনাগোনা এখন অনেকটা কমে গেছে। রেস্টুরেন্টের পাশেই ১৫ নম্বর বাসা (মেনর মেরডিয়ানা ভবনের) নিরাপত্তা কর্মী বকুল হোসেন বলেন, সেই রাতের কথা কোনোদিন ভোলা যাবে না। নিজ কানে কখনো এতো গোলাগুলির শব্দ আর কখনো শুনি নাই। পুলিশ, র‌্যাব, বিডিআর, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দলবেঁধে ঘোরাঘুরি করছিলো। একটার পর একটা অ্যাম্বুলেন্স আসা-যাওয়া করে। তখন ভেবেছিলাম হয়তো শত শত মানুষ মারা গেছে। আমরা গেইটের ভেতর থেকে বের হতে পারছিলাম না। ঘটনা শুরু হওয়ার পর পরই পুলিশ বাইরে থেকে তালা মেরে দেয়। ভেতরে আমরা সহকর্মীরা ভয়ে ইতস্তত হয়ে পড়ি।

 

যখন শুনলাম সন্ত্রাসীরা পুলিশকে গুলি করে মেরেছে। তখন নিজের আশা ছেড়ে দেই। যেখানে পুলিশ মারতে পারছে আমরা তো সাধারণ মানুষ। বাড়িতে মোবাইল করে সবার কাছ থেকে দোয়া চেয়ে নেই। আর সৃষ্টিকর্তাকে ডাকতে থাকি। ভয়ে পালানোরও কোনো সুযোগ ছিল না। ঘটনার দুইদিন পরও আমাদেরকে বাসা থেকে বের হতে দেয়া হয়নি। একই বাসার লিফটম্যান মো. হাসান জানান, ভাবিনি বেঁচে যাবো। সৃষ্টিকর্তার কারণে হয়তো বেঁচে গেছি। কিন্তু সেই আতঙ্ক এখনো কাটেনি। থমথমে সেই রাত। কি হবে। কি হচ্ছে। অ্যাম্বুলেন্সের আর গোলাগুলির শব্দ। সব মিলিয়ে অন্য রকম একটা রাত কাটিয়েছি। ৭৯ নম্বর সড়কের পাশেই তার বাসা। সেদিন রাতে তিনি বাসায় ছিলেন। আরব আলী বলেন, সন্ধ্যার পরপরই গোলাগুলির শব্দ শুনি। তারপর আর আমরা বাইরে বের হইনি। জানালা দিয়ে দেখছিলাম একের পর এক পুলিশের গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স যাওয়া-আসা করছিলো। আমরা আশেপাশে যারা ছিলাম সবার মাঝেই একটা আতঙ্ক বিরাজ করে। মানব জমিন

বরিশালে বিএনপি প্রার্থীকে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার আন্দারমানিক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহমানকে গত দুদিন ধরে নিজ বাড়িতে অবরুদ্ধ করা রাখা হয়েছে।
ওই ইউনিয়নের ক্ষমতাসীন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলামের ক্যাডার বাহিনী ঘরের বাইরে অস্ত্রের মহড়া দিয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বলে আব্দুর রহমান অভিযোগ করেছেন।

ধানের শীষের প্রার্থী আব্দুর রহমান জানান, গতকাল শুক্রবার বিকেল থেকে আজ শনিবার বিকেল পর্যন্ত নিজ ঘরে অবরুদ্ধ রয়েছেন তিনি। আজ নির্বাচনী প্রচারণার জন্য ঘর থেকে বের হতে গেলে বাইরে অবস্থানরত ক্যাডার বাহিনী তাকে বাধা দেয়।
অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি ঘরে ফিরে যান। এরপর ওই সকল ক্যাডার বাহিনীর সরে যাওয়ার অপেক্ষা করতে থাকেন। কিন্তু তারা তার বাড়ির সামনে পাহারা বসানোর কারণে তিনি ঘরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।
বিষয়টি মোবাইলে থানা পুলিশকে অবহিত করলেও তারা তাতে সামান্যতম কর্ণপাত করছে না। এমনকি তার সঙ্গে দেখা করতে আসা দলীয় নেতাকর্মীদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হতে পারে আশঙ্কায় তারাও ওই ঘরের আশপাশ থেকে সরে গিয়ে তার সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করছেন। পরবর্তীতে বরিশাল নগরীতে গিয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করার জন্য ঘরের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েও তিনি ব্যর্থ হন।
এদিকে বিকেলে আন্দারমানিক ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলাম। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এমনকি বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে ঘরে অবরুদ্ধ রাখার বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তার দাবি তার প্রতিপক্ষ নৌকার প্রার্থী নাসিরউদ্দিন খোকন এ ঘটনা ঘটিয়ে তার ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।
কাজীরহাট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম তালুকদার জানান, চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুর রহমান নিজেই নিজের ঘরে অবস্থান করছেন বলে তিনি শুনেছেন। এরপর অবরুদ্ধ রাখার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আব্দুর রহমানের নিজ বাড়িতে উঠানে বৈঠকের আয়োজন করলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কাজী শহিদুল ইসলামের ক্যাডার বাহিনী সেখানে হামলা-ভাঙচুর চালায় বৈঠক পণ্ড করে দেয়। হামলায় নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান।
উৎসঃ jagonews24

ভ্যাট স্থগিতে সরকারকে ব্যবসায়ীদের অভিনন্দন

নতুন মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য স্থগিত করায় সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা। শনিবার মতিঝিলে এফবিসিসিআই সম্মেলনকক্ষে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উত্তর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন) এই অভিনন্দন জানান।

এফবিসিসিআই সভাপতি বলেন, নতুন মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন দুই বছরের জন্য স্থগিত এবং ব্যাংক আমানতের ওপর প্রস্তাবিত আবগারি শুল্ক হ্রাস করে ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদন করায় আমরা দেশের সমগ্র বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর ব্যবসা-বান্ধব সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
শফিউল ইসলাম বলেন, দেশের অব্যাহত অর্থনীতি প্রবৃদ্ধিকে আরও বেগবান করার লক্ষ্যে বর্তমান ব্যবসাবান্ধব পরিবেশকে সুসংহত করার স্বার্থে বেসরকারি খাতের বাজেট পরবর্তী মূল প্রস্তাবনাসমূহ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নেয়ায় সরকারকে সাধুবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।
সভাপতি বলেন, মূসক ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যেহেতু দুই বছর সময় সামনে থাকছে সেহেতু ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্বাধীন সংস্থা দিয়ে এ আইনের বিভিন্ন দিক মুল্যায়ন এর কথা আমরা আবারো বলতে চাই। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় আনার জন্য জোর আবেদন করছি।
মহিউদ্দিন বলেন, তৈরি পোশাক, চামড়া, হিমায়িত খাদ্যসহ সব রপ্তানি খাতের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার ০.৫০% নির্ধারণ করার জন্য আবারও অনুরোধ জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে এফবিসিসিআই সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বিকেএমইএ সভাপতি এ. কে. এম. সেলিম ওসমান এমপি, এফবিসিসিআইয়ের অধিভুক্ত অন্যান্য বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পরিষদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
(ঢাকাটাইমস

সুইস ব্যাংকে কেন অর্থ রাখে বিত্তশালীরা

সারা দুনিয়ার ধনী এবং বিখ্যাত লোকজন তাদের টাকা রাখার জন্য সুইস ব্যাংক কেন এত পছন্দ করেন? সুইস ব্যাংকে টাকা রাখার কারণ নিয়ে বিবিসি বাংলা একটি প্রতিবেদন করেছে।

ওই প্রতিবেদনে সুইচ ব্যাংকে টাকা রাখার প্রধান কারণ হিসেবে বলা হয়, গ্রাহকের গোপনীয়তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে সুইস ব্যাংকগুলোর সুনাম আছে। কোনো সুইস ব্যাংকে কে কত অর্থ জমা রেখেছে, সেই তথ্য সুইস ব্যাংক পারতপক্ষে ফাঁস করবে না।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, অ্যাসোসিয়েশন অব সুইস প্রাইভেট ব্যাংকার্স এর প্রধান মিশেল ডি রবার্ট কয়েক বছর আগে বিবিসির কাছে ব্যাখ্যা করছিলেন কিভাবে এই গোপনীয়তার নীতি কাজ করে। একজন ডাক্তার বা আইনজীবী যেভাবে তার রোগী বা মক্কেলের গোপনীয়তা বজায় রাখেন, এখানেও ব্যাপারটা তাই, বলছিলেন তিনি। ‘একজন সুইস ব্যাংকার তার গ্রাহকের কোনো তথ্য কাউকে দিতে বাধ্য নন, এটা রীতিমত নীতি এবং আইন বিরুদ্ধ।’

ঠিক এ কারণেই সুইটজারল্যান্ড হয়ে উঠেছে বিশ্বের ব্যাংকিং সেবার এক বড় কেন্দ্র। তিনশোর উপরে ব্যাংক এবং আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান আছে সেখানে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুটি ব্যাংক হচ্ছে ক্রেডিট সুইস এবং ইউবিএস।

সিনেমা, থ্রিলার উপন্যাসে কিংবা মিডিয়ায় বহুল প্রচলিত একটি ধারণা হচ্ছে, সুইস ব্যাংকগুলোতে বেনামি বা অনামি (এনোনিমাস) অ্যাকাউন্ট খোলা যায়। কিন্তু বাস্তবে এটি সত্য নয়।

সুইস ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের সাইটে বলছে, অনামি অ্যাকাউন্ট বলে কিছু সুইটজারল্যান্ডে নেই। কোনো ব্যাংক গ্রাহকের অ্যাকাউন্টটি হয়তো কেবল সংখ্যা দিয়েই চিহ্নিত করা থাকবে, কিন্তু এই গ্রাহকের আসল পরিচয় ব্যাংকের খুবই অল্প কয়েকজন কর্মকর্তা অবশ্যই জানবেন।

কিন্তু সুইস ব্যাংকগুলোর এই কঠোর গোপনীয়তার নীতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনেক শিথিল করতে হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চাপের মুখে।

মূলত কর ফাঁকি দেয়া, কিংবা দুর্নীতি বা অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ রাখার জন্যও অনেকে সুইস ব্যাংক বেছে নেয়। বিশ্বের অনেক দুর্নীতিবাজ রাজনীতিক, ব্যবসায়ী বা নামকরা তারকা সুইস ব্যাংকে তাদের অর্থ পাচার করেছেন, এমন খবর বিগত দশকগুলোতে বহু বার গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

 

কিন্তু এনিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সুইটজারল্যান্ডের ওপর চাপ বেড়েছে এরকম অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য। যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, অনেকেই দাবি জানিয়েছে, সুইটজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্যই তাদের গ্রাহকদের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বাধ্য হয়ে তাতে নতি স্বীকার করতে হয়েছে তাদের।

সুইটজারল্যান্ড কীভাবে সারা দুনিয়ার ব্যাংকিং সেবার বড় কেন্দ্র হয়ে উঠলো তার ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। বলা হয়ে থাকে, ১৯৩০ এর দশকে জার্মানিতে যখন ইহুদিরা নাৎসিদের শুদ্ধি অভিযানের মুখে পড়ে, তখন তাদের অর্থ গোপন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখার মাধ্যমে সুইস ব্যাংকগুলোর এই ব্যবসার শুরু।

তবে তারও আগে ১৯৩৪ প্রথম সুইস ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তার রক্ষার আইন করে। ফ্রান্সের কয়েকজন রাজনীতিক এবং ব্যবসায়ী তাদের বিপুল অর্থ সুইস ব্যাংকে রেখেছিলেন। সেই তথ্য ব্যাংক থেকে ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। এরপর সুইস ব্যাংকগুলো তাদের গ্রাহকদের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপ নেয়।

এই গোপনীয়তা আইনের সুযোগে সুইটজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো ফুল ফেঁপে উঠে। তৃতীয় বিশ্বের দুর্নীতিবাজ স্বৈরশাসক থেকে শুরু করে ইউরোপ-আমেরিকার কর ফাঁকি দেয়া বিত্তশালী ব্যবসায়ী, সবাই তাদের অর্থ গোপন রাখার জন্য বেছে নেন সুইস ব্যাংকগুলোকে।

আজ ব্যাংক হলিডে

আজ ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে। এদিন গ্রাহক পর্যায়ে কোনো লেনদেন হয় না। যে কারণে শেয়ারবাজারও বন্ধ থাকে। যদিও এবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ব্যাংক হলিডে হওয়ায় এমনিতেই শনিবার লেনদেন বন্ধ থাকবে।
তবে ষাণ্মাসিক হিসাব বিবরণী প্রস্তুতের জন্য ব্যাংকগুলোর প্রধান কার্যালয় খোলা থাকবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ৩০ জুন ব্যাংকগুলো ষাণ্মাসিক আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিন বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্র করে অর্ধবার্ষিক ব্যালান্স-শিট প্রস্তুত করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে হিসাব বিবরণী প্রস্তুত করতে গিয়ে ক্লান্ত ব্যাংকারদের বিশ্রাম দিতে পরদিন ১ জুলাই ‘ব্যাংক হলিডে’ পালিত হয়ে আসছে বেশ আগে থেকে।
তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শাখা থেকে পাঠানো হিসাব এক দিনে সম্পন্ন হয় না। যে কারণে পরদিন ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে হওয়ার পরও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও আঞ্চলিক কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু শাখা খোলা রাখা হয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বা গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে না।
আয়কর, ভ্যাট ও শুল্কের চালান জমা দেওয়ার সুবিধার্থে সদ্য বিদায়ী জুন মাসের শেষ দিন, গতকাল শুক্রবার বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নির্দিষ্ট করেছিল তাদের কোন শাখা খোলা থাকবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে, এমনই নির্দেশনা ছিল বলেও জানা গেছে।
রাইজিংবিডি

রূপার হাতে বিয়ার…

পৃথিবীর সবচেয়ে পিচ্ছিল জিনিসটা বোধহয় মানুষের বমি। সেদিন রাতে প্রচণ্ড বমি করলো রূপা। কেন এমন হচ্ছে হঠাৎ করে-কোনো কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছে না সে। নিজের বমির ওপর পা পিছলে অবস্থা আরো ভয়ানক। রাত বেড়ে ২ টা গড়িয়েছে। এ মুহূর্তে কার সাহায্য চাইবে-সেটাও মাথায় আসছে না।

রূপার বন্ধু মিহির যেহেতু ভোরের আলো না দেখে ঘুমাতে যায় না, তাই ফোনটা মিহিরকেই করলো সে। এত রাতে রূপা সাধারণত কোনোদিন মিহিরকে ফোন করে না। রূপার কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারলো অবস্থা ভালো নয়। পকেটে টাকা নেই মিহিরের যে যাত্রাবাড়ী থেকে সিএনজি ভাড়া করে রূপার কাঁঠালবাগান আসবে সে। পাশের রুমমেটও ঘুমে। বাধ্য হয়ে রুমমেট আরিফের পকেট থেকে ২০৭ টাকা নিয়ে একটা চিরকুট লিখে বাসা থেকে বের হওয়া।

 

গুলিস্তান ফ্লাইওভার পার হতে না হতেই মিহিরেরও বমি শুরু হলো। রূপাকে ফোন করে জানাবে-কিন্তু রূপা তখন ফোন ধরছে না। বাথরুমে বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। সেই রাতে কেউ কারো কাছে পৌঁছাতে পারলো না, এই আফসোস নিয়ে খারাপ শরীরেই দুপুরে রূপার বাসায় আসলো মিহির।

৫ তলার সিঁড়ি ভেঙে উঠতে উঠতে জীবনটা বেরিয়ে যাচ্ছিল মিহিরের। তারপরও উঠে যা দেখলো তাতে পিলে চমকে উঠলো তার। বিয়ার হাতে বসে আছে তার প্রিয়তমা বন্ধু রূপা। একা একাই গিলছে, বেশ আরাম করেই গিলছে। সামনে আরো ৩ টা বিয়ারের ক্যান দেখে মুচকি হেসে বললো- এই তাহলে অবস্থা। রাতে আমাকে অযথা প্যারা দিলি কেন? উত্তরে রূপাও হো হো করে হেসে বললো- তুই আমার বন্ধু তো। তাই তোকে জ্বালালাম। আমার কিছুই হয়নি। রাতে বমিও করি নাই।

মিহিরের অসাধারণ অলৌকিক গুণের মধ্যে একটা হলো কেউ মিথ্যা বললে ধরে ফেলতে পারার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাবলে বুঝলো রূপা মিথ্যা বলছে। তারপরও সে কথা বাড়ালো না। একটা বিয়ারের ক্যান ভেঙে চুমুক দিতেই রূপা বললো- আয় চুমু খাই। এভাবে সময় আরো গড়িয়ে যায়। এক সময় এলিয়ে শরীর এলিয়ে পড়ে রূপার। মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে মিহিরের লোমশ বুকে। এভাবেই সন্ধ্যা নেমে এলো।

দুজনই স্নান সেরে শাহবাগে যাবে আড্ডা দিতে। রাত ১১ টা পর্যন্ত চলো প্রাণবন্ত আড্ডা। মিহির প্রচুর সিগারেট খায় বলে মাঝে মাঝে দূরত্ব বজায় রেখে গল্প চালাচ্ছিল রূপা। সাথে আরো কয়েকজন বন্ধু যোগ দিয়েছে আড্ডাতে। যখন আড্ডা ভাঙলো-রূপার নেশাও কেটে গেল। আবারো রাস্তার মধ্যেই বমি করতে শুরু করলো সে। এবার মিহির কিছু না বলে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দিয়ে মোটামুটি সুস্থ করে তুললো রূপাকে। তথন রাত দেড়টা বেজে গেছে। এই সময়ের মধ্যে রূপার দুইটা টেস্টও করানো হয়েছে। রিপোর্ট কাল দেয়া হবে। সকালেই ফিরতে হবে আবার রিপোর্ট নিতে। এদিকে, রূপার বাসায় ফেরার উপায় নেই, নেই মিহিরেরও। এমনি সময় ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটালো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। সেই রাতে ক্লান্ত রূপাকে দেখে আনমনে মিহিরের অনেক প্রশ্ন জেগেছিল। নিজেই প্রশ্ন তৈরি করে আবার সেই প্রশ্নের সমাধান খোঁজার বৃথা চেষ্টাও করে গেল রাতভর। একই বিছানায় পাশাপশি শুয়ে রূপাকে তার বড় বেশি অচেনা মনে হচ্ছে।

মিহির রূপাকে চেনে ৬ মাস হলো মাত্র। এরই মাঝে ঘনিষ্ঠতা, বিশ্বস্ততার জায়গাটা দুজনের কাছেই পোক্ত হয়েছে। শীতের রাতে একটু ভেজা উষ্ণতা পাওয়ার আসায় দুজনই কাছাকাছি এসেছে কয়েকবার গত দু’মাস ধরে। এমন নয় যে, তারা কেউ কারো প্রতি কমিটেড। মিহির কখনো প্রটেকশন ছাড়া রূপার সঙ্গে বিছানায় যায়নি। রূপার প্রতিনিয়ত বমি নিয়ে অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মিহিরের মনে। যাক অনেক কথা ভেবে ভেবে রাত ভোর হলো। এবার মিহিরের প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। রূপাকে জড়িয়ে ধরে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ঘুমালো মিহির।

এরপর সকালের নাস্তা সেরে হাসপাতালে রিপোর্ট নিতে যাবে দুজন। রিপোর্ট নেয়ার সময় রূপা কোনোভাবেই মিহিরকে সাথে নিতে রাজি নয়। এ নিয়ে কথাকাটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে মিহির চলে গেলো নিজের কাজে। রূপা হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে বাসায় ফিরেছে। তার মন বিষণ্ন, ভয়াবহ খারাপ…রূপা আবারো বিয়ারের ক্যান খুলে বসেছে। আজ সে একা একা গিলবে, কাউকে ডাকবে না…
উৎসঃ purboposhchimbd