All posts by lutfor

শিলার সঙ্গে শাওনের কি আসলেই বন্ধুত্ব ছিল!

সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন-এর আর একটা পরিচয় তিনি নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর স্ত্রী। হুমায়ূনকন্যা শিলার সাথে শাওনের বন্ধুত্ব নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কিন্তু শাওন বন্ধুত্বের বিষয়টি পুরো গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই একটি গুজব সচেতনভাবে ছড়ানো হয়েছে আমাদের লোকচক্ষে খাটো করার জন্য। এই ছবিটিও সে ভাবেই সাজানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদের মেয়ের এক বান্ধবী তাদের বাড়ি আসত। সেখান থেকেই নাকি প্রেম। কি ডাহা মিথ্যা কথা এটা।’

শাওন আরো বলেন, কোন কালেও হুমায়ূনের কন্যার সঙ্গে বন্ধুত্ব দূরস্থান, কোনও পরিচিতিও ছিল না। ‘থাকবেই বা কী করে! আমাদের স্কুল-কলেজ সবই তো আলাদা। পরিচয়ের সূত্রটা তো ছিল গান।’
হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে শাওন বলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতের অত্যন্ত ভক্ত ছিলেন হুমায়ূন। দিনভর প্রবল পরিশ্রমের মধ্যে সেটাই ছিল তার বড় আশ্রয়ের জায়গা। সেই ক্লাস সিক্স-এ পড়ার সময় থেকেই তো ওনার নাটকে অভিনয়, গান করি। ইউনিটের কেউ যদি গান জানতেন, উনি রিহার্সালের পর তার কাছে শুনতে চাইতেন। সেই ভাবে আমার কাছেও অনেক বার শুনতে চেয়েছেন। আমি খুব চটপট গান তুলে নিতে পারতাম বলে আমার নাম দিয়েছিলেন টেপ রেকর্ডার!’
মানবকণ্ঠ/

পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে হ্যাপীর বই ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’

এটি হ্যাপীর কোন মিউজিক ভিডিও নয়, নয় কোন চলচ্চিত্রও। তবুও জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে এসেছে হ্যাপির জীবনধর্মী বই ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’। গতকাল শনিবার বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই একদিনেই পাঠক চাহিদা হাজার ছাড়িয়ে গেছে এমনটাই জানালেন বইটির প্রকাশক মাওলানা উবায়েদুল্লাহ।

একসময়ের আলোচিত চিত্র নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর বর্তমান সংস্করণ নাম আমাতুল্লাহ। সংস্কার হয়েছে তার জীবনবাঁকেও। জীবনের এমন সংস্কারের গল্পই বলে গেছেন নাজনীন আক্তার হ্যাপী। জীবনের কালো অধ্যায় থেকে কীভাবে আলোর পথে ফিরে এলেন এমন গল্পই বলে গেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারধর্মী বইটির লেখক সাদিকা সুলতানা সাকী।
কী আছে ‘হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ’ বইটিতে? এমন প্রশ্নের উত্তর পেতে বইটির ‘সম্পাদকের কথায়’ বলা হয়েছে, ‘নাজনীন আক্তার হ্যাপি। এই তো কিছু দিন আগেও তিনি ছিলেন সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা। অর্থ, গ্ল্যামার, জনপ্রিয়তা, শোবিজ জগতে অবস্থান- সবই ছিলো তাঁর। কিন্তু সে-সব ছেড়ে এখন তিনি আপদমস্তক পর্দাবৃত দ্বীনদার মুসলিম নারী। সিনেমার কৃত্রিম নিয়ন আলোর জগত ছেড়ে চলে এসেছেন হিদায়াতের আলোকিত ভুবনে। পড়াশুনা করছেন মাদরাসায়। যাচ্ছেন দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে। নিজে যেমন দ্বীনের ওপর উঠে এসেছেন, তেমনই অন্যকেও দ্বীনের পথে ডেকে যাচ্ছেন নিরন্তর। এমনকি এতোদিনের সুপরিচিত নাম ‘হ্যাপি’ ছেড়ে এখন তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘আমাতুল্লাহ’। কীভাবে হলো এতো বড় পরিবর্তন? তাঁর জীবনে আলোর এমন উদ্ভাসিত ঝলক কোত্থেকে এলো? কীভাবে তিনি ‘হ্যাপি’ থেকে ‘আমাতুল্লাহ’ হলেন? সেলুলয়েডের তীব্র আকর্ষণ উপেক্ষা করে কীভাবে তিনি চলে এলেন মাদরাসার অন্দরমহলে? তাঁর হিদায়াতের রাজপথে উঠে আসার সরু পথ কি ফুলের মতো কোমল ছিলো? না-কি তাকে মাড়াতে হয়েছে অবর্ণনীয় কষ্ট, উপেক্ষা ও নির্যাতনের কণ্টকাকীর্ণ পথ। জীবনের এই আকস্মিক পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাকে কি শুধু নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে? না-কি লড়তে হয়েছে এতোদিনের চেনা মুখ আর সুপরিচিত স্বজনদের সঙ্গেও? এমন কিছু প্রশ্ন নিয়ে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে। তিনি আমাদের কাছে বলেছেন তাঁর জীবনের আদ্যোপান্ত। শৈশব, তারুণ্য, দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে জীবনের সুখ-দুখের কথাগুলো তিনি অকপটে আলোচনা করেছেন। তিনি যেমন তাঁর স্বপ্নের কথা বলেছেন, তেমনই বলেছেন স্বপ্নভঙ্গের ব্যথাভরা অনুভূতির কথাও। সত্যি বলছি, আমাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় যখন তিনি তাঁর জীবনের সেই বেদনাবিধুর উপাখ্যান বলছিলেন, আমরা আমাদের চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি। হিদায়াতের পথে তাঁর পা পিছলে পড়া, আবার উঠে দাঁড়ানোর সংগ্রামের অশ্রুভেজা কথাগুলো শুনে আমাদের চোখ থেকেও টপটপ অশ্রু ঝরেছে। খুব কষ্টে নিজেদেরকে সামলে নিয়ে সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে হয়েছে।’
নাজনীন আক্তার হ্যাপীকে নিয়ে বই লেখার প্রয়োজন কেন মনে করলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষাৎকারধর্মী বইটির লেখক সাদিকা সুলতানা সাকী এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমি অনেক দিন ধরে আমাতুল্লাহ (নাজনীন আক্তার হ্যাপী) কে পর্যবেক্ষণ করে আসছি। তাঁর জীবনের দু-দিক লক্ষ্য করছি। দীর্ঘ দিনের পর্যবেক্ষণে মনে হলো, এটি কোনো কাল্পনিক চরিত্র নয়। আমাদের সমাজেরই একটি শক্তিশালী চরিত্র। একজন হ্যাপীর মাঝে আমি আমার আশপাশেরঅনেক বোনের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখেছি।
আমার কাছে মনে হয়েছে, এ সমাজে ‘হ্যাপী’ হওয়াটা খুব সহজ। কিন্তু ‘আমাতুল্লাহ’ হওয়াটা অনেক কঠিন। এই কঠিন কাজটাই আমার বোন ‘আমাতুল্লাহ’ করেছেন। তখন আগ্রহ জন্মালো, কীভাবে তিনি ‘হ্যাপী’ থেকে ‘আমাতুল্লাহ’ হলেন, তা যেমন আমার জানা দরকার, তেমনই অন্যদের জানানো প্রয়োজন। সে প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখেই আমি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ হই।
বইটির প্রকাশক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ জানান, অনেক ভাল মানের বই ইতোপূর্বে আমরা প্রকাশ করেছি। তবে এ বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পাবে আমাদের ভাবনার বাইরে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া থেকেও অর্ডার এসেছে। প্রথমদিনেই ছাপানো সব বই শেষ হয়ে গেছে। যারা ইসলামিক বই পড়তে অভ্যস্ত নয়, তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, বইটির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
যধঢ়ঢ়ু (২)এ ছাড়া দেশের শীর্ষ কয়েকজন আলেমদের কাছেও তিনি বইটি উপহার হিসাবে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

ঈদ বানান তো ঈদ-ই আছে : শামসুজ্জামান খান

ঈদ বানান ‘ঈ’ দিয়ে হবে নাকি ‘ই’ দিয়ে হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় বইছে বিষয়টি নিয়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ঈদ’ বানান বিতর্ক নিয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সঙ্গে। তিনি বললেন ‘বানান তো ঠিকই আছে।’ পরিবর্তন ডটকমকে শামসুজ্জামান খান বলেন,‘আমাদের অভিধান দেখেন এখানে ঈদের বানান কি কি আছে? আধুনিক বাংলা অভিধান দেখেন সেখানে ঈদের বানান ‘ঈ’ দিয়েই লেখা আছে। আর বিকল্প বানান ‘ই’ দিয়ে আছে। এখানে দুটো বানানই আছে এবং প্রথম বানান ঈদ আছে।’
তিনি আরও বলেন,‘কিছু লোক চায় খামোখা বিতর্ক হোক। নানা লোক নানা মত দিয়ে যন্ত্রণা তৈরি করে। হঠাৎ করেই কেন বিতর্ক তৈরি করে তারা। তাদের উদ্দেশ্য কি আমি জানি না, না দেখে কথা না বলে ডিকশনারি দেখেন বানান ঠিকই আছে।’

গত কয়েকদিন ধরে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করছেন ‘ঈদ’ নিয়ে। কবি আবু হাসান শাহরিয়ার তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমি বানানরীতির বিস্তর সংস্কার এনেছে অভিধানে। তারই একটি– ‘ঈদ’ নয়, ‘ইদ’। সব ফেলে শুধু ইদ নিয়ে মাতামাতি কেন? ধর্মের গন্ধ আছে বলে? যোগ্যতা থাকলে পুরো বানান সংস্কার নিয়ে কথা বলুন, নইলে পণ্ডপাণ্ডিত্য প্রদর্শন না করে চুপ থাকুন। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।’
প্রখ্যাত সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল লিখেছেন ‘(সবাই লিখছে, আমিও লিখলাম) (ঈ) অক্ষরটি এমন কি অপরাধ করেছে যে তাকে সরিয়ে দিয়ে (ই) অক্ষরটিকে (ঈদ) শব্দে বসানো হয়েছে! তার মানে কি আমাদের শত শত বছরের লেখা পড়ায় ভুল ছিল? কিছু তো একটা কারণ নিশ্চয় আছে। কি কারণ, জানতে পারি কি, বাংলা + Academy? বাহ, এই নামটিও দেখছি অর্ধেক ইংরেজি অর্ধেক বাংলা!’
বাংলা একাডেমির ‘আধুনিক বাংলা অভিধানে’ ‘ঈদ’ শব্দটির ভুক্তি রয়েছে দুটি। এর মধ্যে একটি লেখা হয়েছে ‘ঈ’ ব্যবহার করে, অন্যটি ‘ই’ব্যবহার করে। তবে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জামিল চৌধুরী সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা অভিধানে’ ঈদের বিকল্প বানান ‘ইদ’ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
উৎসঃ পরিবর্তন

টাকার ওপর কাকা’র নজর, কাকা আমার ‘মাল’

সালেম সুলেরী

০১. টাকার ওপর কাকা’র নজর

টাকার ওপর কাকা’র নজর, কাকা আমার ‘মাল’,
জনগণের কষ্ট-পুঁজির ওপর ঝাড়েন ঝাল।
একশ টাকায় আটটি টাকা,
ব্যাংকে থেকেই হবে ফাঁকা-
কাকা আমার অর্থ-উজির, ব্যর্থ বেসামাল!
টাকার ওপর কাকা’র নজর’, কাকা আমার ‘মাল’!
০২. করের টোপর
খুঁজছি কেনো বালিশ-তোষক, গাল-পাড়ি দেয় নিন্দুকে,
মাটির গড়া ব্যাংকে এবং আগ্রহ আজ সিন্ধুকে।
ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর,
বসিয়ে দিলে করের টোপর-
সবাই রেগে তুললে টাকা- ব্যাংক কাটাবে দিন দুখে!
খুঁজছি কেনো বালিশ-তোষক, গাল-পাড়ি দেয় নিন্দুকে!
০৩. বিত্তে বিপদ
ব্যাংকে আমার বৈধ টাকা রাখবো নিজের দরকারে,
ঐ টাকা-ধন ধরবি কেনো ‘হাওয়া পাওয়া’ সরকারে?
টাকাতো নয় হাওয়ায় পাওয়া,
ছিনতাই বা ঘুষের খাওয়া!
জমিয়ে রাখা বিত্তে বিপদ, মারবো ক্ষোভের চড় কারে?
ব্যাংকে আমার বৈধ টাকা রাখবো নিজের দরকারে।
০৪. ঈদে-পুজোয়
ব্যাংকে কেনো রাখিস টাকা, দে ‘তাহাদের’ চাঁদা দে,
কালো টাকা অনেক পেলো, এবার তাদের ‘সাদা’ দে।
ঢালবি টাকা বাজারে,
যা দিতে হয় যা যারে,
ঈদে-পুজো’য় নেতাজী’কে দে উপহার ‘গাধা- দে?’
ব্যাংকে কেনো রাখিস টাকা, দে ‘তাহাদের’ চাঁদা দে।
০৫. সূচক এখন
এতিম নাকি ফকির হলো অর্থনীতি খাত?
করের নামে ‘যাকাত’ তোলা সারনী-সম্পাত।
ভ্যাট-ভরসায় স্বপ্নবিলাস,
সাধারণের যত্ন-বিনাশ,
অর্থনীতির স্বপ্ন-সূচক ধরা’য় ধুলিস্মাৎ।
এতিম নাকি ফকির হলো অর্থনীতির খাত?
উৎসঃ পূর্বপশ্চিম

সৌদি পণ্য বর্জন করছে কাতারের জনগণ

অবরোধ আরোপের প্রতিবাদে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশরের পণ্য বর্জন করছে কাতারের জনগণ। এসব দেশের কোনো পণ্য নতুন করে কাতারে প্রবেশ না করলেও আগে আমদানিকৃত পণ্যগুলোও আর কিনছে না কাতারের মানুষ।

আল-আলম টিভি চ্যানেল জানিয়েছে, অবরোধ আরোপ হতে যাচ্ছে- এমন আশঙ্কায় কাতারের অনেক ব্যবসায়ী সৌদি আরব ও আরব আমিরাতের বিভিন্ন কোম্পানির উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানি করে মজুদ করেছিল। কিন্তু এখন এসব পণ্যের কোনো ক্রেতা নেই।

 

কাতারের জনগণ ওই সব দেশের পণ্য কিনতে রাজি নন। বিশেষকরে সৌদি আরবের বিখ্যাত খাদ্য উৎপাদনকারী কোম্পানি আল-মারাই’র উৎপাদিত পণ্য এখনও কাতারের বিভিন্ন দোকানে শোভা পাচ্ছে। কিন্তু সেগুলো বিক্রি হচ্ছে না।

সৌদি ও আমিরাতি পণ্য বিক্রির জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও তাতে কাজ হচ্ছে না। এর ফলে বিপদে পড়েছে সৌদি ও আমিরাতি পণ্য মজুদকারী ব্যবসায়ীরা।

গত রমজানে সৌদি আরব ও তার মিত্র দেশগুলো কাতারে খাদ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। এ অবস্থায় রমজান মাসে দেশটির বিপদে এগিয়ে আসে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও তুরস্ক। এ দু’টি দেশ থেকে এখন কাতারে শত শত টন খাদ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।#
পার্সটুডে

ঝিনাইদহে গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ

এ বছর গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করেছেন ঝিনাইদহের কৃষক। গত কয়েক বছর ধরে গম ক্ষেতে হুইট ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় এ বছর আর গম চাষ করেন নি তারা । কৃষকের দাবি ভুট্টার ন্যায্য দাম।

এখন চলছে ভুট্টার মৌসুম। ঝিনাইদহ জেলার কৃষক রাত দিন ব্যস্ত ভুট্টা কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ঘরে তোলার কাজে । অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখের পর থেকেই ভুট্টার বীজ বপন শুরু করেন কৃষক। আর মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হয় ভুট্টা কাটা।

এ অঞ্চলে সুপার সাইন, এলিট, উত্তরোণসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষ হয়েছে বেশি। এ পর্যন্ত বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে ৫০ থেকে ৬০ মণ। প্রকারভেদে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ছয়শ’ ৫০ থেকে সাতশ’ টাকায়।

ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ জমির ভুট্টা কাটা শেষ হয়েছে। এবার হেক্টর প্রতি ১০ টনেরও বেশি ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

এবার জেলায় ১২ হাজার ছয়শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ।

নৌকায় পিকনিকের নামে তরুণ-তরুণীদের কাণ্ড!

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে নৌকায় পিকনিকের নামে অসামাজিক কার্যকলাপের দায়ে ৫ প্রমোদবালাসহ ১১ যুবককে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
শনিবার সকালে শাহজাদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে শাহজাদপুর গঙ্গাপ্রসাদের করতোয়া নদী থেকে ৫ তরুণী প্রমোদবালাসহ ২৮ জন যুবককে আটক করে শাহজাদপুর থানা পুলিশ।
জানা গেছে, গত শুক্রবার সকালে শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলা থেকে ২৭/২৮ জন যুবক গানের শিল্পীর নামে দুটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে শাহজাদপুরে পিকনিকে আসে। তারা পিকনিকের নামে অসামাজিক কার্যকলাপ চালাচ্ছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ১২টার দিকে শাহজাদপুর থানার এসআই গোলজার হোসেন একদল পুলিশ নিয়ে করতোয়া নদীর গঙ্গাপ্রসাদ নামক স্থানে অভিযান চালান।
ওই দুই নৌকা থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত অবস্থায় ৫ জন প্রমোদবালাসহ ২৭/২৮ যুবককে আটক করে থানায় নিয়ে যান।
আটক সবার বাড়ি শাহজাদপুর ও উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বলে জানা গেছে।
এদের মধ্যে ৫ জন প্রমোদবালা ও ১১ জন যুবককে রেখে বাকিদের কাছ থেকে বড় অংকের টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।
পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পাওয়া উল্লাপাড়া উপজেলার ছোনতলা গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে আব্দুল কাদের (২২), রেজাউল ইসলামের ছেলে রনি (২০),তারাবাড়িয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তারেক (২০) ও আব্দুল মজিদের ছেলে রাসেল (২৫)।
তারা জানায়, পিকনিক করার জন্য তারা নৌকায় করে শুক্রবার করতোয়া নদী দিয়ে আনন্দ করতে করতে শাহজাদপুরের গঙ্গাপ্রসাদ নামক স্থানে পৌঁছালে শাহজাদপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
বিষয়টি জানিয়ে তাদের বাড়িতে খবর দেয়া হলে অভিভাবকরা শুক্রবার রাতেই শাহজাদপুর থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে ছাড়িয়ে নেয়।
তারা আরও জানায়, পুলিশ তাদেরসহ ১৭ জনকে ছেড়ে দিলেও উৎকোচ না দেয়ায় বাকিদের থানায় আটক করে রাখে।
তবে শাহজাদপুর থানা পুলিশ টাকা নিয়ে অনেককে ছেড়ে দেয়ার অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেছে।
ওসি খাজা গোলাম কিবরিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে তারা সবাই বয়সে নাবালক। তাই তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
উৎসঃ jugantor

ভোলায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষে সাফল্য (ভিডিও)

ভোলায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষ করে সফল হয়েছেন মৎসচাষি শেখ ফরিদ। তার এই উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক মানুষের। মাছ চাষে এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অনেকে।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফরিদ। ২০১১ সালে ৬ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে দু’টি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। পরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়ের পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষের পরিসর বাড়াতে থাকেন।

এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি ২০টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এসব পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতল, পাঙ্গাসসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। গত বছর তিনি ৬০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন।

তার সাফল্য দেখে ওই গ্রামের অনেকেই এখন মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মাছচাষ প্রতিদিনই কেউ না কেউ তার কাছে এসে নানান পরামর্শ নেন। তিনিও সাহায্য নিচ্ছেন কৃষি বিভাগের।

কৃষি বিভাগ মনে করছে শেখ ফরিদের অনুপ্রেরণার এ অঞ্চল মৎস্য চাষে ভবিষ্যতে আরো অনেক উন্নয়ন ঘটবে।

 

 

 

যুক্তরাষ্ট্রে নাইট ক্লাবে ১৭ জন গুলিবিদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের আরকানসাস রাজ্যের একটি নাইট ক্লাবে বন্দুকধারীর হামলায় ১৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আরকানসাস পুলিশের বরাতে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সবচেয়ে কমবয়সী গুলিবিদ্ধ যে তার বয়স ১৬ বছর বলে জানা গেছে। খবর বিবিসির।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত আড়াইটার দিকে পাওয়ার লাউঞ্জ নামে নাইটক্লাবে আয়োজিত একটি কনসার্টে গুলি বিনিময় হয়। সন্দেহভাজন কে বা কারা এই গোলাগুলির পেছনে রয়েছে সেটা এখনো জানা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এটা সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত মনে হচ্ছে না। পুলিশের বরাতে এবিসি নিউজ নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, গোলাগুলির শব্দে পালাতে গিয়ে বেশির ভাগ মানুষ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

ধানের দামে কৃষক খুশি, চালের দামে ভোক্তা

ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি প্রান্তিক কৃষকরা। রাজধানীর পাশের জেলা মানিকগঞ্জ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু ঈদের আগে জেলা শহরটির দুধবাজারে চাল কিনতে আসা ভোক্তাদের ভ্রু কুচকে তাকানোই বলে দেয় তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। রাজধানীতেও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে প্রায় একইরকম প্রতিক্রিয়া।

কারণ আগের তুলনায় কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে চালের দাম নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তুষ্টির জন্য তারা দায়ী নন। তাদের (কৃষক) এবং ভোক্তার মধ্যে ব্যাপারী, মিল মালিকদের মতো অতি মুনাফা প্রত্যাশি একটি শ্রেণী রয়েছে।

কৃষকরা মনে করেন এজন্যই বাজারে বেড়েছে চালের দাম। তারা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করলে চালের সর্বনিম্ন দাম ৩৫-৩৮ টাকার বেশি হতো না।

 

ধানের দাম পেয়ে খুশি চরমকিমপুরের কৃষকরা
মানিকগঞ্জের চরমকিমপুর গ্রামের কৃষক মো.আব্দুল্লাহ জানান, এবারের বৃষ্টিপাত তাদের সেচ এবং বালাইনাশকের খরচ কমিয়েছে। ৫-৬ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘা থেকে ২২-২৪ মণ ধান উঠেছে গোলায়।মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্যও গত মৌসুমের তুলনায় সহনীয় মাত্রায় ছিলো। কারণ গতবার বেঁধে দেয়া দরে কেউ ধান বিক্রি করতে পারেনি। গত মৌসুমে ১ মণ ধান বিক্রি করে কৃষক বড়জোর ৭’শ থেকে সাড়ে ৭’শ টাকা পেয়েছিলো। কিন্তু এবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পেয়েছে তারা।

 

মকিমপুর থেকে যে বাজারে যেতে মাত্র আধ ঘণ্টা লাগে সেই বাজারে (দুধবাজার) চাল কিনতে আসা নিম্নবিত্তের ভোক্তারা আছেন বিপাকে।

 

রাজশাহী-২৮ জাতের চাল কিনে দোকান থেকে বের হওয়া গোবিন্দ ঘোষ বলেন,‘ আগে যে চাল খেতাম ৪০-৪২টাকায় এখন সেটা ৫৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’

ঈদের আগে প্রতিবারই বাজার দর মাত্রা ছাড়িয়ে যায় অভিযোগ করেন চাল কিনতে আসা আব্দুল মান্নান।

অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন,‘ গতবছরের চেয়ে এবার একই চাল ১০-১২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

ইরি-বোরো ২৮ ও ২৯ সহ অন্যান্য চালের দাম যে হঠাৎ মাত্রা ছাড়িয়েছে সেটা স্বীকার করে নিলেন দুধবাজারের চাল বিক্রেতা মিজানুর রহমান ও বজলু মিয়া।

তারা জানান, খুচরা আড়তে চালের দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে হলে মিল মালিকদের দিকে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ দরকার। কারণ তাদের জন্য বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পায় অথচ ভোক্তার সামনে বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাদের।

 

খুচরা বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে
চাল বিক্রেতা মিজানুর বলেন,‘কয়েক মাস আগেও যে চাল ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম, সেই চাল এখন ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিল মালিকদেরকে ট্রাক প্রতি লাখ টাকার বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে আমাদের।’

মানিকগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৮টাকা। পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকায়। বিরি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট। প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও চালের মান ভেদে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দামের এই উচ্চগতিতে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চালের আমদানির ওপর ট্যারিফ ২৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, প্রতি কেজিতে চাল ৬ টাকা কমে যাবে। প্রতি কেজিতে চাল যদি ৬ টাকা কমে যায় তাহলে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হবে ৪২ টাকায়। পাইজাম বিক্রি হবে ৪৪ টাকায়। বিরি-২৮ ৫৪ পরিবর্তে বিক্রি হবে ৪৮ টাকায়। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের চাল মিনিকেট বিক্রি হবে আনুমানিক ৫৪ টাকায়।