All posts by lutfor

নওগাঁয় কৃষকদের মাঝে স্মার্ট মোবাইল বিতরণ

নওগাঁয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিতে বিশেষ সফট্ওয়্যার সম্বলিত স্মার্ট মোবাইল ফোন বিতরণ করেছে। এর ফলে এখন থেকে মোবাইলের মাধ্যমে ফসলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের সাথে কৃষক সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।

এমপাওয়ার নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নওগাঁর বদলগাছি ও মহাদেবপুর উপজেলার ৫৭ জন কৃষককে বিশেষ সফট্ওয়্যার সম্বলিত এ মোবাইল সেট দেয়। এর মাধ্যমে এখন থেকে মোবাইল ফোনের এই সফট্ওয়্যার থেকে কৃষক কৃষি বিষয়ক যাবতীয় পরামর্শ পাবেন।

পরামর্শ বলতে শুধু রোগ বালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে নিরসন নয়, বরং কোন্ জমি কোন্ ধরণের ফসলের উপোযোগী কিংবা কোন্ ফসলে কেমন খরচ আর লাভ কত সে হিসেবও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানবে কৃষক।

নওগাঁয় ভালো ফলাফল পাওয়া গেলে সারা বরেন্দ্র এলাকায় এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

কয়েক মিনিটেই শেষ ১৮ বছরের আয়

‘এক-একটি গরুর দাম ছিল এক লাখ ২০ হাজার টাকা। আগুনে দগ্ধ হওয়ায় সেই গরু বিক্রি করলাম মাত্র ৩০ হাজার টাকায়। পাঁচটি গরু তো পুড়ে মারাই গেছে। ১৮ বছর ব্যবসা করে যা আয় করেছিলাম কয়েক মিনিটের আগুনে সব শেষ হয়ে গেল!’

গাবতলী পশুর হাটে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী মো. অপু শুক্রবার যুগান্তরকে এভাবেই নিজের কষ্টের কথা বললেন।

শুধু অপু নন, ওই আগুনে নিঃস্ব হয়েছেন আরও অনেক ব্যবসায়ী। আসন্ন কোরবানির ঈদে কিভাবে তারা ব্যবসা করবেন, কোথায় পাবেন ব্যবসার পুঁজি সেই অনিশ্চিতায় পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর গাবতলী পশুর হাটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি গরু, পাঁচটি ছাগল ও একটি ভেড়া পুড়ে মারা গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে তাদের অন্তত ২২টি পশু মারা গেছে। আর দগ্ধ হয়েছে অর্ধশতাধিক গরু, ছাগল ও ভেড়া।

গরু ব্যবসায়ী মো. অপু বলেন, বাবা আমজাদ আলীও গরুর ব্যবসা করতেন। ১৮ বছর ধরে আমি বাবার ব্যবসার হাল ধরেছি।
তিনি বলেন, সারা বছরই গরুর ব্যবসা করি। তবে পুড়ে যাওয়া গরুগুলো কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে পালছিলাম। প্রতিটি গরুর দাম ছিল লাখ টাকার ওপরে। আগুনে পাঁচটি গরু পুড়ে মারা গেছে। দগ্ধ হয়েছে সাতটি, সেগুলো খুব অল্প টাকায় কসাইদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছি। কসাইরা এসব মাংস বিভিন্ন প্রাণীর খাবার হিসেবে বিক্রি করবেন।

তিনি আরও বলেন, সামনের ঈদে কিভাবে ব্যবসা করব, কোথায় পুঁজির টাকা পাব বুঝতে পারছি না। ব্যাংকগুলো গরু ব্যবসায়ীদের লোন দেয় না বলে হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

আরেক ব্যবসায়ী মহসিন মেম্বার বলেন, আগুনে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমার দুটি গরুই পুড়ে মারা গেছে। অল্প পুঁজি নিয়ে ব্যবসা করছিলাম। এখন সব পুঁজি শেষ। ব্যবসা করার টাকা কোথায় পাব, সংসার চলবে কিভাবে বুঝতে পারছি না।

গাবতলী গবাদি পশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মজিবুর রহমান বলেন, আগুনে অনেকের পশু পুড়ে যাওয়ায় ব্যবসার পুঁজি হারিয়েছে।

সামনে কোরবানির ঈদ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যবসা করতে পারেন সেজন্য সমিতির সবাই বসে তাদের আর্থিক সহাযোগিতার বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেব। হাটের যে শেডগুলো পুড়ে গেছে সেগুলো দ্রুত সময়ে ঠিক করে দেয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে চিঠি দিয়ে আবেদন জানাব।

তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যাংক লোন পায় সেজন্য সংশ্লিষ্টদের কাছেও আবেদন জানাব।
এদিকে শুক্রবার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনে পুড়ে যাওয়া শেডগুলো পরিষ্কার করছেন সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা। ট্রাকের পেছনে দড়ি বেঁধে পুড়ে মারা যাওয়া পশুগুলো টেনে হাটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আগুনে পোড়া শেডের পাশে বসেই নিজেদের নিঃস্ব হওয়ার কথা বলছেন ব্যবসায়ীরা। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন কেউ কেউ। উৎসঃ যুগান্তর

ভারি বৃষ্টিতে সিলেট-চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা

শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত আবহাওয়া বার্তায় বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে। ভারি বর্ষণের ফলে সিলেট ও চট্টগ্রামে পাহাড়ধস হতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শহিদুল ইসলাম পরিবর্তন ডটকমকে এ তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা থেকে আগামী ২৪ ঘন্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, বরিশাল, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ হতে পারে।
এছাড়া সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস হ্রাস পেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় আবহাওয়ার অবস্থায় বলা হয়েছে, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকা অতিক্রম করে বিহার হয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গেপসাগরে অবস্থান করছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গেপসাগরের অন্যত্র মাঝারী অবস্থায় রয়েছে।
গত ১২ জুন রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। এতে দেড় শতাধিক মানুষ নিহত হন। উদ্বাস্তু হন কয়েক হাজার মানুষ।

আরেক দফা বাড়লো চালের দাম

চাল নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের মন্ত্রীদের হুমকি-ধমকির তোয়াক্কা না করেই বাজারে বেড়ে চলেছে চালের দাম। শনিবার মিনিকেট ও আটাশ চালের দাম আরেক দফা বেড়েছে। এই দুই ধরনের চালের দাম বস্তাপ্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা বলছেন, শিগগির বাড়তে পারে সব ধরনের চালের দাম। শনিবার রাজধানীর রামপুরা ও মেরাদিয়া বাজার ঘুরে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গিয়েছিল চালের দাম। মোটা চালসহ সব ধরনের চাল স্বাধীনতার পর সর্বোচ্চ দামে ৫০ টাকা দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কাটাগায়ে নুনের চিটা হয়ে রেকর্ডর পর আরেক দফা বাড়লো মোটা ও চিকন চালের বাজার। এর আগে দেশের ইতিহাসে মোটা চাল সর্বোচ্চ ৪০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হয়েছিল। আর চিকন চাল বিক্রি হয়েছিল ৫৬ টাকা কেজি দামে।
রামপুরা ও মেরাদিয়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিআর২৮ চালের বস্তাপ্রতি মানভেদে ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই অবস্থা মিনিকেট চালের দামেও। এ হিসাবে প্রতিকেজি আটাশ ও মিনিকেট চালের দাম ৩ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। বিআর২৮ চালের দর ৫০ টাকা থকে বেড়ে কেজি প্রতি ৫৩ থেকে ৫৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট চালের দাম ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৬৩ থেকে ৬৪ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

মোটা চাল স্বর্ণা প্রতিকেজি ৫০ টাকা, পাইজাম ৫০ থেকে ৫২ টাকা, চায়না ইরি ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া পারিজা ৫০ টাকা, নাজিরশাইল ৫৬ থেকে ৬২ টাকা, বাসমতি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, কাটারিভোগ ৭৮ টাকা, হাস্কি নাজির চাল ৫৪ টাকা এবং পোলাও চাল খোলা ৯০- ১০০ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।
মেরাদিয়া বাজারের পাইকারী চাল বিক্রেতা আবদুর রশিদ বলেন, সরকার হুমকি-ধমকি দিলে কি হবে? বাজারে পর্যাপ্ত চাল না থাকলে দামতো বাড়বোই। সরকার চাল মজুদকারীদের বিরুদ্ধে অভিযানের ঘোষণা দিয়েছেন। কই সরকারের কোনো অভিযানের তো খবর পাই নাই। হুমকি-ধমকি না দিয়ে সরকারকে বলবো বাজারে চালের সরবরাহ বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে।
রামপুরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চালের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সবজির দামও। প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া শসা ৫০ টাকা, পটল ৩৫ টাকা, কাঁকরোল ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কাঁচা পেঁপে ৩০ টাকা, আলু ২২ টাকা, টমেটো ৬০ টাকা, ধনেপাতা ৩০০ টাকা, পুদিনা পাতা ৩০০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেড়েছে সব ধরনের শাকের দাম।
বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী জাহিদ হাসান বলেন, চাল, ডাল, শাক-সবজি সব কিছুরই দাম নাগালের বাইরে। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ। এভাবে সব কিছুর্ দাম বাড়তে থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
উৎসঃ পরিবর্তন

নারী পকেটমার নূরী বেগমদের চাঞ্চল্যকর কাহিনী !

বয়স আটাশ থেকে ত্রিশ হবে নূরী বেগমের। চেহারায় লাবণ্যতা এখনো কমেনি। ভোর হলেই বেরিয়ে পড়ে শহরের রাস্তায়। ব্যস্ত গলি, মার্কেট অথবা কোর্ট প্রাঙ্গণ তার বিচরণের জায়গা। তীক্ষ্ণ দুই চোখে খুঁজে ফেরে মানুষের পকেট, ভ্যানিটি ব্যাগ। সুযোগ পেলেই খুলে ফেলে ঘাড়ে ঝুলে থাকা ব্যাগের সবগুলো চেইন। কৌশলে হাতিয়ে নেয় টাকা, মোবাইল ফোন। পরিচিত লোকজন পকেটমার হিসেবেই চেনে তাকে। বাস করেন শহরের পকেটমার পল্লী উত্তর চেলোপাড়ায়। সংঘবদ্ধভাবেই এরা মাঠে কাজ করে। কখনো বিপদে পড়লে সমাজের কিছু প্রভাশালী ব্যক্তি তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। তারাই তাদের নিয়ন্ত্রক। ওরা সর্দার বলে মানে। সর্দারদের সঙ্গে পুলিশের সখ্য বেশি থাকায় কখনো কোন পকেটমার ধরা পড়লে তাদের ছাড়িয়ে আনতে সবকিছুই করে থাকেন তারা। যাদেরকে পুলিশের কাছ থেকে মুক্ত করা যায় না তাদের কোর্ট থেকে মুক্ত করার যাবতীয় আয়োজনেও তাদের ভূমিকা বেশি। সর্দারদের পাশাপাশি এসব পকেটমারের বন্ধুর ভূমিকায় থাকে পুলিশ। পকেট কাটতে ধরা পড়ে গণধোলাইয়ের শিকার হলে তাদের মার এবং জীবন বাঁচাতে পুলিশ সবচেয়ে বেশি কাজ করে। জনসাধারণের হাত থেকে এদের রক্ষা করে দুই চারটি লাথি মেরে থানায় নিলেই তাদের ফাঁড়া কেটে যায়। তারপর দেন-দরবারের মাধ্যমে মুক্তি অথবা ১-২ মাসের জন্য জেল।
গতবছর ২০ এপ্রিল সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের ব্যস্ততম সাতমাথা এলাকায় এক মহিলার ভ্যানিটি ব্যাগে আঙুল চালানোর সময় ধরা পড়ে নূরী বেগম। শুরু হয় গণপিটুনি। কিছুক্ষণের পৃষ্ঠা ৫ কলাম ১

মধ্যেই তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন কর্তব্যরত পুলিশ। জনরোষানলের হাত থেকে রক্ষা করে তাকে ধরে নিয়ে যায় সদর থানায়। এই সময়েই তার সাথে কথা বলার সুযোগ হয়। নূরী বেগম বগুড়ার নিউমার্কেট, সাতমাথা এবং কোর্ট এলাকায় নিয়মিত পকেটকাটার কাজ করে। তাকে সহযোগিতা করে তার টিমের আরো ৬-৭ জন কিশোরী ও মহিলা। মোট আট জনের এই টিমের লিডার সে। সারাদিনে অন্যের পকেট থেকে তুলে আনা টাকা ভাগ হয় রাত ১১টার পরে। মোট টাকার অর্ধেক নিজে নিয়ে বাকি টাকা অন্যদের সমান করে ভাগ করে দেয় নিজ হাতে। সবদিনেই কাজ হয় এমনটি নয়। তবে সপ্তাহে দুই-তিনদিন কাজ হলেই ভালো চলে যায় নূরী বেগমদের। নূরী বেগম যখন ৭-৮ বছরের শিশু তখন থেকেই সে পকেটকাটার কাজে জড়িয়ে পড়ে। এখন সে একাজের বিশ বছরের অভিজ্ঞ একজন কৌশলী পকেটমার। পকেটকাটাকে সে পেশা হিসেবেই দেখে। নারী, পুরুষ, কিশোর, কিশোরী সব মিলে পকেটমারের সংখ্যা তিন শতাধিক হবে বলে জানায় নূরী বেগম। পকেটকাটার অভিযোগে এদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। মাঝে-মধ্যে গ্রেপ্তার হলে ১-২ মাসের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে আবারো মাঠে নামে তারা। নূরী বেগম এখন জেলের বাইরে। শহরের অলিগলি, মার্কেটেই এখন তার বিচরণ। কারণ ঈদ সমিনে। কেনাকাটায় উপচেপড়া ভিড় মার্কেটগুলোতে। এখনিতো মুখ্য সময় তাদের। নূরী বেগমদের এখন সিজন টাইম।
উৎসঃ মানব জমিন

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের অংশে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। সড়কের রসুলপুরে বিকল হওয়া বাসটিকে প্রায় ১ ঘণ্টা পর সরিয়ে নিলে যানবাহন চলাচল শুরু হয়। এর আগে, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে রসুলপুরে একটি বাস বিকল হয়ে পড়লে ঢাকাগামী গাড়িগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের রসুলপুরে রাতে একটি বাস হঠাৎ করে বিকল হয়। এতে করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে প্রায় ১ ঘণ্টা পর বিকল বাসটিকে সরিয়ে নেয়া হয়। এতে ধীরে ধীরে মহাসড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল শুরে করতে থাকে। আর এদিকে সাড়ে ৯টার দিকে এলেঙ্গায় একটি ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে। এতে করে এলেঙ্গা থেকে যমুনাগামী যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করে। পরে তাৎক্ষণিক ট্রাকটিকে সরিয়ে নিয়ে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির এসআই শাহ আলম পরির্বতন ডটকমকে বলেন, বিকল হওয়া যানবাহগুলো সরানো হয়েছে। এখন স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চলাচল করছে। তবে গাড়ির কিছুটা চাপ রয়েছে।

স্বজনের মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে নিজেরাও হলেন লাশ

সাভার প্রতিনিধি: ঢাকা থেকে স্বজনের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১ টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের বাথুলি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

লাশবহনকারি অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাবার পথে ধামরাইয়ের কাছে পৌঁছলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে চালকসহ ২ জন নিহত হন। এছাড়া এই ঘটনায় আহত হয়েছে শিশুসহ আরও ৫ জন। আহতদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত ড্রাইভার রহিম ভুইয়া নারায়ণগঞ্জ থানার দৌলতপুর গ্রামের রুপ ভুইয়ার ছেলে। অপরজন সেলিনা বেগম। তার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুর জেলায়।

পুলিশ জানায়, রাসেল নামে এক কিশোরের মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা থেকে ফরিদপুর যাওয়ার পথে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বাথুলি এলাকায় পৌছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে একটি গাছের সাথে ধাক্কা খায়। আর এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ এক আরোহী মারা যান। এ ঘটনায় আহত হয় আরও অন্তত ৫ জন। পরে পুলিশ গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে।

দুর্ঘটনা কবলিত অ্যাম্বুলেন্সটি মানিকগঞ্জের গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে ধামরাই থানা পুলিশ।

আমাদের রাজনীতিবিদগণ ও সুইস ব্যাংকের টাকা

চিররঞ্জন সরকার : আমাদের রাজনীতিবিদগণ ও সুইস ব্যাংকের টাকা সুবিখ্যাত সুকুমার রায় ‘খুড়োর কল’ নামক কবিতায় এক আশ্চর্য কল বা যন্ত্রের কথা বলেছিলেন। যে যন্ত্র ঘাড়ের কাছে লাগালে ওই খুড়োর ‘খাই খাই’ স্বভাব বেড়ে যায় এবং সে যা পায় তাই খেতে থাকে। আমাদের দেশের বেশিরভাগ নেতা ওই খুড়োর কল নীতিই মেনে চলেন।
ভোটার নামে পরিচিত ‘গাধা’গুলোর মুখের সামনে প্রতিশ্রুতির মুলো ঝোলালেই এরা দৌড়ে এসে ভোট দিয়ে যায়। অনেক সময় আবার ভোটের দরকারও হয় না। এমন এক কল ফিট করা হয় যে ভোট ছাড়াই ‘নির্বাচন’ হয় এবং সেই নির্বাচনের সংসদ কাজও করে!
তারপরও দেশে মাঝে মাঝে ভোটের তোড়জোড় হয়। রাজনৈতিক দলগুলো থেকে কিছু ব্যক্তি নমিনেশন ‘বাগিয়ে’ নেয়। তবে এখন রাজনীতি যেহেতু বৃহৎ ব্যবসা ছাড়া আর কিছু নয়, তাই জনগণের ভোটের ভরসায় কেউ ভোটে দাঁড়ায় না। প্রার্থীর ভোট ব্যাঙ্ক নিয়ন্ত্রণ করে শিল্পপতিরা।
বেশিরভাগ সময়ই সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বিশেষ শিল্পপতি বা শিল্পগোষ্ঠী বিশেষ সুবিধা পেয়ে থাকে। বড় বড় ব্যবসা তারাই করে। অনেক সময় প্রচলিত নিয়ম-নীতি অগ্রাহ্য করলেও তাদের শাস্তি হয় না। তাদের বড় বড় অর্ডার পেতেও অসুবিধা হয় না।
অবশ্য সাধারণ মানুষ এসব জানতে পারে না। আর জানবেই বা কি করে? বাজারের যা পরিস্থিতি, চালের যা দাম, তাতে দুবেলা খাবার জোটাতেই হিমশিম, সেখানে চিন্তা করা তো বিলাসিতা! আর সবাই যদি চিন্তা করতে বা ভাবতে শুরু করে তাহলে রাজনীতিকদের তো কপাল পুড়বে! এটাও একটা নীতি যে সাধারণ মানুষকে সব সময় রুটি-রুজির সমস্যায় জর্জরিত করে রাখা!
ভাবার জন্য রয়েছেন মন্ত্রীরা। মন্ত্রীদের প্রধান ভাবনা কীভাবে চাকরিটা টিকিয়ে রাখা যায় আর মাল কামানো যায়! একবার মন্ত্রী হতে পারলে খাওয়া-পরার অভাব তো আর রইল না! সঙ্গে দেদার বিলাসিতা। শুধু কি নিজের? একই সঙ্গে আগামী কয়েক প্রজন্মের বসে খাবার ব্যবস্থাও পাকা করা চাই।
তারা জনগণের কথাও ভাবেন, কী করে জনগণকে ভুলিয়ে শান্ত রাখা যায়, কী করে পরবর্তী ভোটেও তাদের ভোটটা নিশ্চিত করা যায়। জনগণের জন্য কোন কাজটা করলে (মানে সেই খুড়োর কলের মুলো) জনগণ খুশি থাকবে এবং লাভের অঙ্কও অনেক বেশি হবে, তেমন কাজ তারা কিছু করেন বটে।
ধরা যাক কোনো এক জায়গায় রাস্তা নেই, সেখানে রাস্তা বানানো হলো। ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার কাজের ভার পেল। জনগণ রাস্তা পেয়েই খুশি। সে রাস্তা ভালো না খারাপ, কত খরচ-এসব অসাধারণ ব্যাপার তো আর সাধারণের জানার কথা নয়! জনগণ খুশি, ঠিকাদার লাভের অঙ্ক বুঝে নিয়ে খুশি, আর মন্ত্রী বা এমপি এক ঢিলে দুই পাখি মেরে দ্বিগুণ খুশি। একটা পাখি জনগণ কে খুশি রাখা, আরেকটা ঠিকাদারের কাছে লাভের অংশ বুঝে নেওয়া। এটা একটা অতি সামান্য উদাহরণ মাত্র।
রাজনীতির ব্যবসায় এই হলো সুবিধা, যতদিন গদিতে, লোকসানের কোনো ভয় নেই, বিনা ইনভেস্টে শুধু লাভ আর লাভ। ভয় শুধু একটাই একদিন অন্য কাউকে এই ব্যবসার ভার ছেড়ে দিতে হবে অনিচ্ছা সত্ত্বেও। এই ভয়েই জনগণের জন্য ভাবনাটা আসে, কি করলে গাধাগুলো আবার তাকেই ভোট দেবে। সে জন্যই তো নিরন্তর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
আবার বিরোধী দল ক্ষমতায় এলে তাদের প্রধান ও প্রথম কাজ হয় আগে যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের দুর্নীতিগুলো খুঁজে বের করা। এর প্রধান উদেশ্য জনগণকে বোঝানো- আমরা সৎ, দুর্নীতিপরায়ণদের আমরা ছাড়ব না। আর জনগণ আগের দলের দুর্নীতির খবরে ব্যস্ত থাকলে, নতুন ক্ষমতায় আসা দলের দিকে নজর কম দেবে। ফলে নিশ্চিন্তে কামানো যাবে। গত চারদশক ধরে আমাদের দেশে এই ধারাই চলছে।
সত্যজিৎ রায় ভালো চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনীতিটাও ভালো বুঝতেন। ছোটদের সিনেমার মোড়কে কি দারুন রাজনৈতিক সিনেমা উপহার দিয়ে গেছেন- ‘গুপি গাইন বাঘা বাইন’, ‘হীরক রাজার দেশে’! ছোটবেলায় দেখা এসব সিনেমা এই বড়বেলায় আরও অনেক বেশি প্রিয় হয়ে গেছে-‘ও মন্ত্রীমশাই…, ষড়যন্ত্রী মশাই…’ বাংলাদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে কি নিদারুণ সত্যি একটা লাইন!
আমাদের রাজনীতির মূল বিষয় কিন্তু মোটেই জটিল কিছু নয়। যে কোনো মূল্যে ভোটে জেতা আর ভোটে জিতে ক্ষমতায় দীর্ঘদিন টিকে থাকার জন্য যত রকম নোংরা কাজ আছে করে যাওয়া। এটাই এক এবং একমাত্র কৌশলে পরিণত হয়েছে। দেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়ে চলেছে এই নীতিকে সামনে রেখে। এর বাইরে দেশসেবা কথাটা-সেই খুড়োর কল!
ভোটের প্রচারে রাজনৈতিক দলগুলো প্রতিশ্রুতি দেয় ভুরি ভুরি। তাদের সবচেয়ে বেশি ঝোঁক, প্রতিপক্ষ দলগুলোর নামে বিষোদগার করা। নিজের দুর্নীতি আর ব্যর্থতার কথা তারা বেমালুম চেপে যায়। আর জনগণও অত্যন্ত সরেস। ঘুরে ফিরে সেই একই নেতানেত্রীদের চরণতলে তাদের আনুগত্য ঘোষণা করে যায়! সে যতো খারাপই হোক (তাইতো নিজামী-মওদুদ-সাকা চৌধুরীরাও আমাদের দেশে যুগের পর যুগ জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন)!
আজ পর্যন্ত এমন উদাহরণ খুব কমই দেখা গেছে যে, দুর্নীতির কারণে জনগণ কোনো নেতা বা নেত্রীকে ভোট দেয়নি! অদ্ভুত এই দেশ! এদেশে মেধাবী হয়েও চাকরি পাওয়া যায় না, কিন্তু একজন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত অপরাধী ব্যক্তিও কোনো মতে মন্ত্রী হয়ে অনেকের চাকরি দিতে পারেন। একটা ভালো কাজ তা সে যে দলই করুক, সমস্ত রাজনৈতিক দল সেটা সমর্থন করে প্রশংসা করেছে, এমন দৃষ্টান্ত আমাদের দেশে খুঁজে পাওয়া যাবে না।
কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান ব্যক্তিরা চান না যে তার দলের সবচেয়ে সৎ ব্যক্তিটি মন্ত্রী হোক। যদিওবা হয়, তাহলে সবাই মিলে তাকে অযোগ্য-অথর্ব বানিয়ে দেওয়া হয়। সে কোনো কাজই করতে পারে না, তাকে করতে দেওয়া হয় না। বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় রাজনীতিতে সততা বা সৎ মানুষের কোনো ভাত নেই।
এদেশের মানুষকে নিয়ে প্রহসনের কোনো শেষ নেই। সবচেয়ে হাস্যকর ব্যাপার হলো বিজ্ঞাপন। রেডিও-টিভিসহ গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেখিয়ে নিরন্তর দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষকে উপহাস করা হয়। যদিও এটা ভিন্ন প্রসঙ্গ, তবু একটু বলা দরকার।
যে দেশে বেশিরভাগ মানুষের দুবেলা খাওয়া জোটে না, অনেক মানুষ ফুটপাতে রাত কাটায়, সেখানে দুধ, স্ট্রবেরি, আপেল, পিচ ইত্যাদি দামি ফলের তৈরি তথাকথিত রং ফর্সা করার মুখে মাখার ক্রিম বা শ্যাম্পুর বিজ্ঞাপন কিংবা দামি মোবাইল সেট, টিভি ফ্রিজের বিজ্ঞাপন নিদারুণ উপহাস বা ব্যঙ্গ ছাড়া কি?
রাজনৈতিক নেতাদের বিজ্ঞাপনও একটা বড় প্রহসন। ভোটের প্রচারে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করা হয়। সভা, মিছিল, লিফলেট, পোস্টার দেয়াল লিখন, বিলবোর্ড, জনদরদি নেতাদের বড় বড় কাট আউট আরও কত কি!
এটাও কি দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সঙ্গে চরম উপহাস নয়? এই যে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ হয়, এটা দিয়েও জনগণের জন্য অনেক কিছু করা যায়। এলাকায় লাইব্রেরি স্থাপন, পুকুর সংস্কার, পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন দরিদ্রদের পুনর্বাসন আরও কতো কি আছে করার!
কিন্তু তা না করে, টাউট-বাটপারদের নগদ টাকা দিয়ে, প্রচারের নামে নগদ টাকা পানিতে ঢেলে এক আজব অপচয়ের পথে রাজনীতি আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছে। আর এই টাকা খরচ কে করে, কেন করে, এই টাকা ওঠে কি করে-সবই কিন্তু জনগণকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লুট করেই হয়।
আসলে আমাদের দেশের রাজনীতিবিদরা (দুচারজন ব্যতিক্রম অবশ্যই আছেন) লুটপাট আর নিজেদের আখের গোছানো ছাড়া আর কিছুই করেন না। নিজেরা প্রতিনিয়ত যে দেশকে ‘ধর্ষণ’ করে চলেন অথচ সাধারণ মানুষের দেশপ্রেমের আবেগকে জিইয়ে রাখেন রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য। তাই ভোটের আগে এই দেশপ্রেমকেও উসকে দেওয়ার চেষ্টা হয়।
রাজনীতিবিদ নামক ব্যবসায়ীদের এই লুটপাটের টাকা কোথায় যায়? এই লুটপাটের টাকা সবার অলক্ষে চলে যায় সুইস ব্যাংকে। কিছু লোক ফুলেফেঁপে কলাগাছ হয়। তাদের আয় বাড়ে। সেই আয়ের হিসেবে দেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ে। শাসকরা উল্লসিত হন। আর এই ধনিকগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরূপী বিভিন্ন দেশের শাসকরা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সাব্বাসী দেন।
‘বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে’ বলে জিগির তোলেন। কিন্তু বৈষম্যের শিকার, লুটপাটের শিকার, দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হওয়া মানুষগুলো কোনো দিশা পায় না। দেশের এই তথাকথিত প্রবৃদ্ধি গরিবের সমৃদ্ধি আনার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকাই রাখে না। রাখবে কি করে? লুটপাটকারীদের টাকা তো দেশেও বিনিয়োগ হয় না।
আমাদের দেশের জনগণের টাকা দেশে যত না তার থেকে বেশি আছে সুইস ব্যাংকে! আর আমরা গাধার দল ডাকাতের দলকে বিশ্বাস করে তাদের হাতে নিজেদের সর্বস্ব তুলে দিয়ে নিশ্চিন্তে সুখে জীবন কাটাতে চাইছি!
হ্যাঁ, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। বিকল্প চাই। এক লুটপাটকারীর বদলে আরেক লুটপাটকারী নয়, সত্যিকার দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এই নেতৃত্ব গড়ে তোলার কাজটা এখনই শুরু করতে হবে। নেতৃত্ব দিতে হবে তরুণদেরকেই।
তা না হলে ফি বছর সুইস ব্যাংকে টাকার পরিমাণ বাড়বে। আমরা নিঃস্ব থেকে আরও নিঃস্ব হবো!
চিররঞ্জন সরকার : লেখক, কলামিস্ট।

ভারতীয় নারীরা গরুর মুখোশে কেন?

ভারতীয় নারীরা দেশটির বিভিন্ন জায়গায় গরুর মুখোশ পরে ছবি তুলছেন, যা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এখন তুঙ্গে। ভারতীয় সমাজে নারীর অবহেলা বা নিরাপত্তাহীনতার প্রকট চিত্রের বিরুদ্ধে এই অভিনব প্রতিবাদ। গো-রক্ষার নামে দেশটিতে যা ঘটছে, তা দেখেই কলকাতার অধিবাসী সুজাত্র ঘোষের (২৩) এই ফটোগ্রাফি প্রজেক্ট। এতে তার ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্নটি হলো, ভারতে কি মেয়েরা গরুর চেয়েও অধম?

দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের কাছে, কলেজের ক্লাশরুমে, ট্রেনের কামরায়, এমনকি রাষ্ট্রপতি ভবনের সামনেও গরুর মুখোশ পরিয়ে তিনি মেয়েদের ছবি তুলেছেন। ছবি তোলার জন্য সুজাত্র তার বন্ধু এবং পরিচিতজনদেরকেই মডেল হিসেবে ব্যবহার করেছেন।

দুই সপ্তাহ আগে সুজাত্র ঘোষ তার এসব ছবি ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করতে শুরু করেন।ছবিগুলো প্রথম সপ্তাহেই ভাইরাল হয়।

 

দিল্লির ইন্ডিয়া গেটের সামনে গরুর মুখোশে নারী
সুজাত্র বিবিসিকে বলেন, “আমার দেশে মেয়েদের তুলনায় গরুকে যে এত বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, সেটা দেখে আমি বিচলিত। এখানে একজন মেয়ে ধর্ষিত বা লাঞ্ছিত হওয়ার পর বিচার পেতে যে সময় লাগে, তার চেয়ে অনেক দ্রুত বিচার পায় একটি গরু, কারণ হিন্দুরা এই গরুকে পবিত্র মনে করে।”

 

ভারতে প্রতি পনের মিনিটে একজন নারী ধর্ষিত হয়। সুজাত্র বলেন, “এসব অপরাধের মামলা চলতে থাকে বছরের পর বছর। অথচ যখন একটি গরু জবাই করা হয়, তখন হিন্দু চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলো গিয়ে তখনই সন্দেহভাজনদের ধরে পিটিয়ে মারে।”

“এই হিন্দু গোরক্ষা গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা এবং তাদের প্রভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবেই তিনি এই অভিনব ফটোগ্রাফির ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেন।”

 

বিজেপি ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে ভারতে গোরক্ষা নিয়ে হিন্দুত্ববাদী চরমপন্থা প্রকট রূপ ধারণ করে। বিজেপি বলছে, গরু ভারতীয় হিন্দুদের কাছে খুবই পবিত্র এবং এই গরু রক্ষায় তারা নানা ধরণের কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। গরু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে অনেক রাজ্যে। এখন গো হত্যার জন্য মৃত্যুদন্ডের বিধান করে একটি পার্লামেন্টে আইন পাশ করার কথাও ভাবা হচ্ছে।

 

কিন্তু ভারতের কোটি কোটি মুসলিম, খ্রীষ্টান এবং নিম্নবর্গের দলিত শ্রেণীর মানুষ গরুর মাংস খান। কাজেই বিজেপির এসব নীতির ফলে তারা এখন নানাভাবে নিগৃহীত হচ্ছেন।

গত দুই বছরে তথকথিত হিন্দু গোরক্ষকদের হাতে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কোন প্রমাণ ছাড়া শুধুমাত্র গুজবের ওপর ভিত্তি করে মুসলিমদের ওপর এসব হামলা চালানো হয়। এমনকি গরুর দুধ পরিবহনের কারণে পর্যন্ত মুসলিমদের ওপর হামলা চালানো হয়।

সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে এক সফরের সময় সেখানকার এক পার্টি শপ থেকে কিছু গরুর মুখোশ কেনেন সুজাত্র। সেখান থেকে ফিরে এসে তিনি এই ফটোগ্রাফী সিরিজের জন্য ছবি তুলতে শুরু করেন।

 

কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যমে যখন তার এই ফটোগ্রাফীর খবর বেরুলো, তখন পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করলো। তবে হুমকিতে ভীত নন সুজাত্র ঘোষ।

 

“অনেকেই আমাকে হুমকি দেয়া শুরু করে। কেউ কেউ এমন কথাও বলে, আমাকে আর আমার মডেলদের দিল্লির জামে মসজিদে নিয়ে জবাই করা উচিত। কিছু লোকতো দিল্লি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে। তারা বলে আমি নাকি দাঙ্গায় উস্কানি দিচ্ছি।”

মেয়েদেরকে স্কুলে ফেরাতে বিনামূল্যে ন্যাপকিন

কেনিয়ায় স্কুলগামী ছাত্রীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দিবে সেদেশের সরকার। এর ফলে কেনিয়ার স্কুলগুলোতে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার সংখ্যা কমবে বলে কেনিয়া সরকার আশা করছে। কারণ এসব দরিদ্র পরিবারের ছাত্রীদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বা প্যাড কেনারও সামর্থ্য নেই। কেনিয়া স্যানিটারি সামগ্রীর দামও তুলনামূলকভাবে বেশী।

অত্যন্ত দামী স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারে না বলে প্রায় দশ লাখ ছাত্রী বছরে দুমাস স্কুলে/কলেজে যায় না বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ‘জানা আফ্রিকা ফাউন্ডেশন’।এখন সে ব্যয়ভারের দায়িত্ব নিয়েছে কেনিয়া সরকার।

এজন্য কেনিয়ার শিক্ষা আইন সংশোধন করা হয়েছে।এ সপ্তাহে কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনয়াতা সাক্ষরিত সংশোধনীতে বলা হয়েছে, স্কুলে নিবন্ধিত প্রতিটি মেয়ে বিনামূল্যে যথেষ্ট সংখ্যক মানসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন পাবে। ন্যাপকিনগুলো অবশ্যই নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব এবং সহজে পঁচনশীল হতে হবে।

কেনিয়া যদিও প্রায় দশ বছর আগে স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন সামগ্রীর উপর থেকে ট্যাক্স প্রত্যাহার করা হযেছে। তারপরও কেনিয়ার ৬৫% নারীর কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিন খুব দামী পণ্য। সে কারণে ‘জানা আফ্রিকা ফাউন্ডেশনের’ মতো দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলো কেনিয়াজুড়ে মেয়েদেরকে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন সরবরাহ করে আসছে।

সানিটারি সামগ্রীর অতিরিক্ত দাম এবং নারী শিক্ষায় এর নেতিবাচক প্রভাব কেবল কেনিয়াতেই না। একই কারণে ভারত, নেপাল, আফগানিস্তান এবং সিয়েরা লিয়নেও ছাত্রীদের ঝরে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। হতবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, কেবল উন্নয়নশীল দেশ না খোদ ব্রিটেনের লিডস শহরের স্কুলগুলোতে স্যানিটারি সামগ্রী বিতরণের জন্য দাতব্য সংস্থা ‘ফ্রিডম ফর গার্লস’ এর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।কারণ স্কুল থেকে ছাত্রীদের ঝরে পড়ার প্রবণতা দেখে লিডস প্রশাসনও উদ্বিগ্ন।