All posts by lutfor

জাকাত কাকে দেবেন, কীভাবে দেবেন

জাকাত প্রাপ্যদের তালিকা দেওয়া হয়েছে কোরআনে। গরিব, নিঃস্ব ব্যক্তি, জাকাত আদায় ও বণ্টন ব্যবস্থায় নিয়োজিত ব্যক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথের পথিক এবং অভাবী মুসাফির জাকাতের অর্থ ও সম্পদ গ্রহণ করতে পারে।
নিকট আত্মীয়দের জাকাত দেওয়া উত্তম। তবে নিজের সন্তান বা তার অধস্তনকে কিংবা মা-বাবা বা তাদের ঊর্ধ্বতনকে, স্বামী-স্ত্রীকে জাকাত দেওয়া যায় না। এমনিভাবে রাসুলের বংশের কেউ জাকাত নিতে পারেন না।
জাকাত দেওয়ার সময় মনে মনে জাকাত দেওয়ার নিয়ত বা ইচ্ছা করলেই জাকাত আদায় হয়ে যাবে। জাকাত গ্রহিতাকে ‘এটা জাকাতের সম্পদ’ জানানোর প্রয়োজন নেই। অভাবীদের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ করে সারা বছরই জাকাত দেওয়া উচিত। বরং অত্যন্ত প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসায় তা রমজানে দানের চেয়ে কম হবে না। এ লক্ষ্যে অগ্রিম জাকাত দেওয়া যায়, বছর শেষে সারা বছর যা জাকাত দেওয়া হয়েছে তা সমন্বয় করে নেওয়া যায় জাকাতের হিসাব থেকে।
অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ কম থাকে, কিন্তু স্বর্ণ থাকায় অথবা জাকাতযোগ্য অন্যান্য মাল থাকায় জাকাত দেওয়া ফরজ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে মোট কত টাকা জাকাত ওয়াজিব হয়েছে তা হিসাব করে নিয়ে অল্প অল্প করে সারা বছরই জাকাত দেওয়া যায়। কারও যদি ২০,০০০ টাকা জাকাত আসে তাহলে তা কয়েক মাসেও ভাগ করে দিতে পারে। আবার এক বারেও দিতে পারে। একজনকে দিতে পারে বা একাধিক জনকেও দিতে পারে।
জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে টাকা বা সম্পদের পূর্ণ মালিকানা জাকাত গ্রহিতাকে দিতে হবে। তাই যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিমালিকানা হয় না যেমন মসজিদ, রাস্তাঘাট, মাদ্রাসার স্থাপনা, কবরস্থান, এতিমখানার বিল্ডিং ইত্যাদি এসব তৈরির কাজে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না।
মাদ্রাসার গরিব-এতিম ছাত্রদের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জাকাতের টাকা উঠিয়ে থাকেন। তাই মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতিনিধির কাছে গরিব এতিম ছাত্রদের কাছে জাকাতের টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এসব টাকা সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের মালিকানায় দেবেন। পরবর্তী সময়ে ছাত্ররা তাদের থাকা-খাওয়া, বই-খাতা, চিকিৎসা, বস্ত্র বাবদ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দিতে পারবে।
জাকাতের টাকায় ব্যক্তি বিশেষকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজিও দেওয়া যায়। ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ, কৃষি সরঞ্জামাদি দেওয়া যায়। গৃহনির্মাণ করে অভাবী ব্যক্তিকে মালিকও বানিয়ে দেওয়া যায় জাকাতের টাকায়। বিধবা, এতিমের যত্ন, তাদের চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিয়ে, গরিবদের লেখাপড়া এমন যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করা যাবে জাকাতের টাকায়, শর্ত একটাই- অভাবীকে মালিক করে দিতে হবে জাকাতের টাকার।

কুমিল্লায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে সংবাদকর্মী নিহত

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে দুর্বৃত্তদের গুলিতে মো. মহিউদ্দি সরকার (২৬) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ভারত সীমান্তবর্তী হায়দারাবাদ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মহিউদ্দি সরকার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া গ্রামের বাসিন্দা। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছি। তার সঙ্গে একটি পত্রিকার আইডি কার্ড পাওয়া গেছে। তবে কারা তাকে গুলি করেছে এ বিষয়ে এখনো পরিষ্কার নয়। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. মুজাহিদ বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়। ধারণা করা হচ্ছে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। নিহতের শরীরে একাধিক গুলির চিহ্ন রয়েছে।

চিংড়িতে জেলি পুশ করায় লাখ টাকা জরিমানা

চিংড়ি ও অন্যান্য মাছে ইনজেকশনের মাধ্যমে জেলি, ওলোট কম্বল ইত্যাদি অপদ্রব্য পুশ করার অভিযোগে সাতক্ষীরার দেবহাটার গাজীরহাট মৎস্য আড়ত থেকে পাঁচ মাছ ব্যবসায়ীকে র‌্যাবের সহায়তায় আটক করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, সাতক্ষীরা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ দল।

বুধবার (১৩ এপ্রিল) এ অভিযান চালানো হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবিএম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর ভ্রাম্যমাণ আদালত দুইটি প্রতিষ্ঠানের মালিক বাবলু গাজী ও সিরাজুল ইসলামকে দুই মাস করে কারাদণ্ড প্রদান করেন। বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠানের মালিককে ভোক্তা অধিকার আইনে মোট ১,০৫০০০ টাকা জরিমানা করেছেন। এছাড়া অপদ্রব্য মিশ্রিত মাছগুলো জনসমক্ষে বিনষ্ট করা হয়।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগেও গাজীরহাট মৎস্য সেডে চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ বিরোধী অভিযানে কয়েকজন অসাধু ব্যবসায়ীকে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

অস্ট্রেলিয়ার দায়িত্ব ছাড়লেন ভন

অস্ট্রেলিয়ান পুরুষ দলের সহকারী কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জেফ ভন। রাজ্য দল তাসমানিয়ার কোচিংয়ের দায়িত্ব পালন করতে এমন সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান প্রধান কোচ হিসেবে অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডের চাকরি পাকাপোক্ত হওয়ার পর পদত্যাগ করলেন ভন। তিনি বলেন, ‘সবকিছু যেভাবে হয়েছে তাতে আমি নিজেকে সত্যিই খুব ভাগ্যবান মনে করছি।’জাতীয় দলে থাকায় যে সুযোগ সুবিধা পেয়েছেন তার জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানান ভন। ২০২১ সালের জুলাইয়ে মাইকেল ডি ভেনুতোর সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার সহকারী কোচের দায়িত্ব পান ভন। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দলের সঙ্গেও ছিলেন তিনি। এছাড়া ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে অ্যাশেজ সিরিজ জয়েরও অংশ ছিলেন ভন। সম্প্রতি পাকিস্তানে টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি সিরিজ জয়ের স্বাদ পান।

ডিলেট করা মেসেজ পড়া যাবে হোয়াটসঅ্যাপে

ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হোয়াটসঅ্যাপ। সারাবিশ্বে রয়েছে হোয়াটসঅ্যাপের কোটি কোটি ব্যবহারকারী। প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট করছে মেটার মালিকানাধীন সাইটটি। এবার নতুন সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা। ডিলিট করা মেসেজও দেখতে পাবেন এখন। হোয়াটসঅ্যাপের একটি জনপ্রিয় ফিচার সেন্ড করা মেসেজ ডিলিট করা। কোনো কারণে অন্য কোনো ব্যবহারকারীর কাছে ভুল মেসেজ পাঠানো হলে তা ডিলিট করা সম্ভব। তবে আপনাকে পাঠানো সেই ভুল মেসেজ কী ছিল তা এখন সহজেই জানতে পারবেন। এজন্য অবশ্য আপনাকে থার্ডপার্টি অ্যাপ ইনস্টল করতে হবে। হোয়াটসঅ্যাপের নিজস্ব কোনো ফিচার নেই যার মাধ্যমে ডিলিট করা মেসেজ আপনি পড়তে পারবেন।

চলুন জেনে নেওয়া যাক কীভাবে কাজটি করবেন-

১. প্রথমে আপনার স্মার্টফোনে গেট ডিলিট মেসেজ (Get Deleted Message) নামের অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।

২. এরপর ওই অ্যাপটি একাধিক পারমিশন চাইবে। সেখানে গিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ পারমিশন দিতে হবে।

৩. সব প্রক্রিয়া শেষ হলে আপনি ডিলিট মেসেজ দেখতে পাবেন।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই থার্ড পার্টি অ্যাপগুলো কোনো মেসেজ পড়তে পারে না। সেগুলো শুধু নোটিফিকেশন থেকে মেসেজ ট্র্যাকই করতে পারে।

লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ থামাবেন না পুতিন

রাশিয়ার লক্ষ্যগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয় বিরোধিতা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিষেধাজ্ঞা সত্যেও তাদের অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।

এদিন পুতিন বলেন, রুশ সেনারা ইউক্রেনের রাজধানীর দখল ভালোভাবেই নিতে পেরেছে। এখন তারা ডনবাস অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দেবে। মঙ্গলবার ইউক্রেন বলেছে, সেনাদের (ইউক্রেনীয়) ওপর বিষাক্ত পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে। পদার্থটি কী হতে পারে তা তারা স্পষ্ট নয়।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের কোনো ধরনের ব্যবহার করলে এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ আরও গুরুতর হয়ে উঠবে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানী কিয়েভ দখল, সরকার পতন এবং একটি মস্কো-বান্ধব শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল।

ছয় সপ্তাহ পর পুতিন মঙ্গলবার জোর দিয়ে বলেন, তার আক্রমণের লক্ষ্য ছিল মস্কো-সমর্থিতদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশের জনগণকে রক্ষা করা এবং ‘রাশিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না এবং অঙ্গীকার করে বলেন, এর সম্পূর্ণ সমাপ্তি এবং নির্ধারিত কাজগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে। আপাতত পুতিনের বাহিনী ডনবাসে একটি বড় আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেখানে ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ান-মিত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে এবং রাশিয়া এই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ডনবাসের একটি কৌশলগত বন্দর শহর মারিউপোল। এখানকার একটি ইউক্রেনীয় রেজিমেন্ট দাবি করেছে, একটি ড্রোন শহরের ওপর বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা জানার চেষ্টা করছেন এই বিশেষ পদার্থটি কী হতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর এখনই প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত।

তিনি বলেন, কিয়েভের অন্যান্য শহরতলিতে নারী ও শিশুদের প্রতি ‘ধর্ষণ’ ও অন্যান্য অমানবিক নিষ্ঠুরতার’ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার বলেছেন, কর্মকর্তারা ধারণা করছেন মারিউপোলে রাশিয়া সম্ভবত ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যা ভয়াবহ দগ্ধ করে, কিন্তু এটি রাসায়নিক অস্ত্র হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ নয়।

মারিউপোল শহরের মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো সোমবার বলেন, রুশ সেনাদের অবরোধের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক মারা গেছে। শুধুমাত্র মারিউপোলে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক মারিউপোলে ইউক্রেনীয় সেনারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে তা স্বীকার করেছেন। তিনি এক টুইটে বলেছেন, তারা (সেনারা) অবরুদ্ধ হয়ে আছে, এবং রসদ সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

পোডোলিয়াক টুইটে জানান, দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের রক্ষকরা (রাশিয়ান) সেনাদের থেকে শহরটিকে রক্ষা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার আক্রমণকে “গণহত্যা” বলে উল্লেখ করেছেন।

একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য ৭৫০ মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার আরেকটি প্যাকেজ প্রস্তুত করছে, যেটি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার বলেছে, তারা পশ্চিম খমেলনিটস্কি অঞ্চলের স্টারোকোস্টিয়ানটিনিভ এবং কিয়েভের কাছে একটি গোলাবারুদ ডিপো এবং বিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করতে ব্যবহৃত বায়ু- এবং সমুদ্র-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।

মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা সমুন্নত রাখুন: সেতুমন্ত্রী

নিজ নিজ ধর্ম পালনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।  তিনি বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী, ধর্মের নামে কোনরূপ বাড়াবাড়ি কোন ধর্মই অনুমোদন করে না। নিজ নিজ ধর্ম পালনের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকে সমুন্নত রাখি।

বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) সকালে ওবায়দুল কাদের নিয়মিত বিফ্রিংকালে এসব বলে। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে জনগণের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের সাথে সঙ্গতি রেখে সকল কার্যক্রম এগিয়ে নেয়াই আজকের দিনের অঙ্গীকার।

তাঁর বাসভবনে ব্রিফিংকালে দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।  পাশাপাশি পহেলা বৈশাখে আওয়ামী লীগকে সুশৃঙ্খল, সুসংগঠিত, আরও আধুনিক ও স্মার্ট রাজনৈতিক দল হিসেবে এদেশের গণমানুষের স্বপ্ন পূরণে ইতিবাচক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকারও করেন ওবায়দুল কাদের।

এবার বৈশাখ এসেছে রমজান মাসে তাই দেশবাসী জনগণ রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করার পাশাপাশি আবহমান কাল থেকে বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পহেলা বৈশাখ উদযাপন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে, এমন প্রত্যাশা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে দলকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথরেখায়, ইতিবাচক ধারাকে আরও বলিষ্ঠ ও বেগবান করা হবে।  তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রেখে দেশের রাজনীতিতে অসাম্প্রদায়িক চেতনার সুবাতাস ছড়িয়ে দিতে আওয়ামী লীগ বদ্ধ পরিকর।

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দেশের সকল গণতান্ত্রিক, দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নানা বাধা অতিক্রম করে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলছে, তাই আসুন ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের অব্যাহত অগ্রযাত্রাকে আরও বেগবান করি।

অষ্টাদশ বিসিএস ফোরাম স্বাধীনতা দিসব উদযাপন ও অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক : অষ্টাদশ বিসিএস ফোরামের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস-২০২২ উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সাথে সংগঠনটির ২০২২-২০২৩ কার্যনির্বাহী পর্যদের অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর চলচিত্র প্রকাশনা অধিদপ্তরের তথ্য ভবন মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি কার্যনির্বাহী সংসদের সভাপতি সুরাইয়া পারভীন শেলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চলতি কমিটির মহাসচিব রফিকুল ইসলাম, বিদায়ী কমিটির সভাপতি একেএম এনামুল করিম ও মহাসচিব মোঃ শাহ আলম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্যাডার কো-অর্ডিনেটর আয়েশা সিদ্দিকা শেলী এবং বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক জাহিদ বিন মতিন।

সভাপতির বক্তব্যে সুরাইয়া পারভীন শেলী বলেন, নতুন কমিটির উদ্যোগে এরই মধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। আশা করি সফলতার সাথে আমাদের কার্যক্রম সকলের সহযোগিতার ভিত্তিতে আমরা সম্পন্ন করতে পারবো। তিনি বলেন, আমরা সকলেই বন্ধু-ভিন্ন ভিন্ন ক্যাডার, বন্ধু আমরা সবার। সকলে সকলের বিপদে-আপদে পাশে থাকবো। সকলের সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।

চলতি কমিটির মহাসচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, বৈশ্বিক অতিমারির কারণে আমাদের অভিষেক আয়োজন কিছুটা বিলম্বিত হয়েছে। তবে এরই মধ্যে বেশ কিছু কার্যক্রম আমরা হাতে নিয়েছি। সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও রূপরেখার ভিত্তিতে সৌহাদ্য-সম্প্রীতি বজায় রেখে আমাদের কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এর আগে বিদায়ী কমিটির সভাপতি ও মহাসচিব নতুন কমিটির সভাপতি -মহাসচিব এর নিকট দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। পরে সকল সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এর পরেই অনুষ্ঠিত হয় পরিচিত পর্ব। অনুষ্ঠানে আগত অষ্টাদশ বিসিএস ফোরামের কর্মকর্তাগণ তাদের নিজেদের পরিচয় তুলে ধরেন। এছাড়া অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মনোজ্ঞ সাংস্ককৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

একাদশে ভর্তির আবেদন ৮ জানুয়ারি

একাদশ শ্রেণির ভর্তির জন্য আবেদন আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে অনলাইন শুরু হবে। যা চলবে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। তিন ধাপে মেধা তালিকা প্রকাশ করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে এ নীতিমালা জারি করা হয়। যাতে ঢাকা ও জেলা পর্যায়ে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ভর্তি ফিসহ সব ব্যয় নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। নীতিমালায় বলা হয়, এবার শুধু অনলাইনে xiclassadmission.gov.bd একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে। আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন পাঁচটি ও সর্বোচ্চ ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্বাচন করা যাবে। আবেদন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। ২০১৯ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যারা এসএসসি পাশ করেছে তারা আবেদন করতে পারবেন।উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএসসি পাশ করা শিক্ষার্থীদেরও ভর্তির জন্য আবেদন করতে হবে। যারা পুনঃনিরীক্ষার আবেদন করবে তাদেরও এ সময়ের মধ্যে ভর্তির আবেদন করতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, পুনঃনিরীক্ষণের ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীদের আবেদন নেয়া হবে ২২ ও ২৩ জানুয়ারি। ২৪ জানুয়ারি পছন্দক্রম পরিবর্তনের সুযোগ দেয়া হবে। আর ২৯ জানুয়ারি প্রথম দফায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ করা হবে। ৩০ জানুয়ারি থেকে ৬ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে তাকে পুনরায় ফিসহ আবেদন করতে হবে। ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদন নেয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী প্রথম মাইগ্রেশনের ফল এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১০ ফেব্রুয়ারি। ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৩ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ের আবেদন নিয়ে পছন্দক্রম অনুযায়ী দ্বিতীয় মাইগ্রেশনের ফল এবং তৃতীয় পর্যায়ের আবেদনের ফল প্রকাশ করা হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। এতে বলা হয়, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি তৃতীয় পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সিলেকশন নিশ্চয়ন করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে সিলেকশন নিশ্চয়ন না করলে আবেদন বাতিল হবে। ১৯ থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে। আর ২রা মার্চ থেকে কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে।নীতিমালায় বলা হয়, নির্ধারিত ফির বেশি অর্থ আদায় করা যাবে না। এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সেশনচার্জ ও ভর্তি ফি গ্রহণ করা যাবে। উন্নয়ন ফি আদায় করা যাবে না। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার ক্ষেত্রে বাংলা ও ইংরেজি ভার্সনে ৫ হাজার টাকা, ঢাকা মহানগরের বাইরে ৩ হাজার, জেলা পর্যায়ে ২ হাজার আর উপজেলা ও সফম্বলে ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করা যাবে।

ওমিক্রন আতঙ্কে সৌদির গ্র্যান্ড মসজিদে ফের বিধিনিষেধ আরোপ

করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন আতঙ্ক এবং নতুন করে সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সৌদি আরবের পবিত্র দুই মসজিদ, মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববীতে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম পুনরায় চালু করেছে দেশটির সরকার।বুধবার (২৯ ডিসেম্বর) দেশটির সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ডিসেম্বর) থেকে সেটি কার্যকর হয় বলে জানা গেছে। করোনাভাইরাস মহামারির প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করলে দেশটির কর্তৃপক্ষ অক্টোবরে এ দুই মসজিদ থেকে স্বাস্থ্যবিধি শিথিল করেছিল।

বুধবার সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, মসজিদুল হারামে মুসল্লি ও ওমরাহ পালনকারীদের সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ব্যবস্থা পুনরায় জারি করা হবে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোর ৭টা থেকে নতুন বিধি কার্যকর হতে যাচ্ছে।জেনারেল প্রেসিডেন্সি জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট কর্মীরা ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কিভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন সেসব নিয়ম কানুন নিয়ে পরিকল্পনা করছেন। এরই মধ্যে মসজিদের করিডোরসহ ভেতরের বিভিন্ন জায়গায় এ সংক্রান্ত তথ্যাবলি জানানোর জন্য লাগানো হয়েছে স্টিকার। এই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা মদিনার মসজিদে নববীতেও প্রয়োগ করার কথা জানান তিনি।

তবে মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশে সংখ্যা কমিয়ে আনার ব্যাপারে এখনো কিছু জানানো হয়নি।এদিকে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দেশটিতে নতুন করে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৫২ জন। এ নিয়ে মোট করোনা আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচ লাখ, ৫৫ হাজার ৪১৭ জন। একই সময়ে দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন একজন এবং মোট মৃত্যু হয়েছে আট হাজার ৮৭৫ জনের।