All posts by lutfor

সরাসরি ভোটযুদ্ধের অপেক্ষায় অনেক নারী রাজনীতিক

ডেস্ক রিপোর্ট : সংরক্ষিত কোটায় নয়, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নারী এমপিরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিতে চান।বিএনপির কয়েকজন নেত্রীও একইরকম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে চান। এরইমধ্যে নারী এমপিদের অনেকে হাইকমান্ডের নির্দেশে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অনেকে আছেন দলের ডাকের অপেক্ষায়।

বিভিন্ন দলে সংরক্ষিত আসনের বর্তমান ও সাবেক এমপিদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খান বলেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে ডাক পেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করব। তবে এবার সংরক্ষিত নয়, সরাসরি নির্বাচনে এমপি পদে লড়াই করতে চাই।

তিনি মনে করেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের উন্নয়ন দু’টোই ভালো করে করা যায় যেটি সংরক্ষিত আসনে থেকে সম্ভব নয়। বাজেট বরাদ্দ কম থাকায় এলাকার উন্নয় করা যায় না।

 

‘পাশাপাশি এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের কারণে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা সেভাবে মূল্যায়ন পায় না,’ দাবি করে পিনু খান বলেন: এবার দল থেকে নমিনেশন পেলে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে চাই।

নির্বাচিত হলে দেশ ও এলাকার মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে চান বলে জানান মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খান।

তার মতোই সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য হওয়াকে বেশি সম্মাজনক বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির এমপি খোরশেদ আরা হক। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সংরক্ষিত আসনের এমপি।

দল থেকে মনোনয়ন পেলে কক্সবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী তিনি। ‘দলের থেকে ডাক পেলেই নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নেব,’ বলে জানান তিনি।

 

এলাকার উন্নয়ন পরিপূর্ণ করতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া দরকার বলে মনে করা খোরশেদ আরা বলেন: সংরক্ষিত আসন ও নারী হওয়ার কারণে এলাকার উন্নয়নের যে পরিমাণ বাজেট দরকার সেটি পাওয়া যায় না। তবুও আমার এলকার সবার সহযোগিতায় জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে জনগণের কল্যাণে সরাসরি নির্বাচনে এমপি পদে লড়াই করব।

জাপা’র খোরশেদ আরা যেমন দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, তেমনি নিজ দল আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে আছেন গোপালগঞ্জ জেলার সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ঠিক সেভাবে এলাকার জনগণকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ‘দলের সিদ্ধান্তে নমিনেশন পেলে জনগণ ও এলাকার উন্নয়নে নিজেকে আরো বেশি সঁপে দেব।’

 

দল থেকে সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন না পেলেও শেখ হাসিনা ও দলের প্রতি সবসময় আনুগত্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পরিণত করেছেন, সেদিক থেকে তার ছায়ায় থাকাটাও অনেক গর্বের।

তবে, সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ায় এলাকার কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে করতে পারেননি বলেও জানান তিনি। বলেন, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এমপি না হওয়ায় এলাকার সরাসরি উন্নয়নে কাজ করা খুব কঠিন। নির্বাচিত হলে তা সহজ হয়, ক্ষমতাও বেশি হয়।

এমপি নির্বাচনের জন্য রাজিয়া কাজল এরইমধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজ এলাকায়। সবসময় এলাকার জনগণের কাছাকাছি থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে , টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর) থেকে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন থেকে এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবি, চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ থেকে নুজাহান বেগম মুক্তাসহ অনেকে সরাসরি এমপি পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি’র নীরব প্রস্তুতি
ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির কয়েকেজন নেত্রী। তবে প্রস্তুতিটা চলছে একটু নীরবে ও গোপনে।

জামালপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করব এই স্বপ্ন নিয়েই বেড়ে উঠেছি। রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমানে এলাকার কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মাঠের খোঁজখবর নিচ্ছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করছি। তাদের চাওয়া-পাওয়া বুঝছি। তাছাড়া এলাকার জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছি।

 

দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা মনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যদি আমাকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেন তাহলে রাজনৈতিকভাবে ভোটের লড়াই করতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।

‘কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হলে কতটুকু জনগণ ভোট দিতে পারবে সেটি নিয়ে অনেক সন্দেহ রয়েছে। ৫০ শতাংশ ভোট যদি সুষ্ঠুভাবে জনগণ দিতে পারে তাহলেও বিএনপি সবোর্চ্চ আসন পাবে বলে আমি আশাবাদী।’

২০০৮ সালে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ তার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের আসন থেকে আবার এমপি পদে লড়াই করতে চান। শামা বলেন, বর্তমানে এমপি না হয়েও নিজ এলাকার জনগণের জন্য সবসময় কাজ করি, তাদের বিপদে-আপদে চলে যাই।

 

‘সেকারণেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমি এলাকায় নির্বাচন করতে প্রস্তুত।’

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন এমপি রয়েছেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪২ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন এবং জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে ২ জন রয়েছেন।

এর বাইরে চলতি সংসদে ২২ জন নারী এমপি রয়েছেন যারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৮ জন, জাতীয় পার্টির তিনজন ও জাসদের একজন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করতে হবে। সে ধারাবাহিকতায় সংসদেও সরাসরি ভোটে আরো বেশি নারী এমপি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক এবং রূপা হকসহ দুইশ’র বেশি নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।

চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ কুদ্দুস বয়াতীর

নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়ের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ করেছেন বিশিষ্ট পালাগায়ক আব্দুল কুদ্দুছ বয়াতী।

কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকালে শিল্পী কুদ্দুছ বয়াতী অভিযোগটি দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, বয়াতীর ভাইয়ের ছেলে ও কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাহাদৎ হোসেন (রাজা) কীটনাশক পান করে। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। পরে তার চিকিৎসা করার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জয়ের কাছে আকুতি-মিনতি করেও কোনো লাভ হয়নি। পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ডাক্তারের অবহেলার কারণে রাজা এখন মৃত্যুপথযাত্রী বলে অভিযোগ করা হয়। রাজার মৃত্যু হলে এই ডাক্তারই দায়ী থাকবেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

আব্দুল কুদ্দুছ বয়াতী বলেন, আমার ভাতিজাকে ভর্তি করানোর পর ডাক্তার জয়কে চিকিৎসা করতে বলা হয়। কিন্তু তিনি তাকে কোনো কর্ণপাত করেননি। তিনি রোগীকে একবার এসে দেখেননিও। ডাক্তারের অবহেলার কারণে আজ আমার ভাতিজা মৃত্যুর পথযাত্রী। বারবার বলা হলেও সময়মত আমার রোগী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেননি।

চিকিৎসায় অবহেলার বিষয়ে জানতে চাইলে সাইফুল ইসলাম জয় ঢাকাটাইমসকে বলেন, বিষপানে আক্রান্ত সাহাদৎ হোসেন (রাজা) রোগীকে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছেন। রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। তবে আমার সঙ্গে রোগীর কোনো স্বজন যোগাযোগ করেছেন বলে যা প্রচার করা হচ্ছে এটা ঢাহা মিথ্যা।

শনিবার বেলা দেড়টার দিকে কুদ্দুছ বয়াতীর স্ত্রী পাপিয়া আক্তার বীণা মোবাইল ফোনে ঢাকাটাইমসকে জানান, রাজার অবস্থার তেমন কোনো উন্নতি হয়নি।

ওসি মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করতে শিল্পী কুদ্দুছ বয়াতীকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে বলেও জানান ওসি।

সাইকেলে স্কুলের পথে নড়াইলের মেয়েরা(ভিডিও)

সাইকেলে করে স্কুলে আসা-যাওয়া করছে নড়াইলের এক গ্রামের প্রায় দেড়শ’ ছাত্রী। ব্যতিক্রমী এই বিষয়টি এখন যেন ওই গ্রামের স্বাভাবিক দৃশ্য। ভ্যানের জন্য অপেক্ষা করতে হয় না তাদের, বাড়ি থেকে নিতে হয় না বাড়তি টাকা।

মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে। কতটা এগিয়েছে তা অজ পাড়া-গাঁয়ের এই দৃশ্যই বলে দিচ্ছে। তবে পথ অনেক কঠিন। শুরুটা এতো সহজ ছিল না। প্রথম দিকে শুনতে হয়েছে অনেক কটু কথা। অনেক কুসংস্কার অনেক বাঁধা উপেক্ষা করে প্রায় দেড়শ’ ছাত্রী এখন নিয়মিত স্কুলে যাচ্ছে সাইকেল চালিয়ে। মেয়েরা শুধু এগিয়েই যাচ্ছে না, লড়ে যাচ্ছে বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, নারী নির্যাতনসহ সমাজের সব কুসংস্কারের বিরুদ্ধে।

নড়াইল শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে গুয়াখোলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে নড়াইল সদর ও যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এগারোটি গ্রামের শিক্ষার্থীরা। আগে শুধু ছেলেরা স্কুলে যেত সাইকেলে। আর মেয়েরা পায়ে হেঁটে অথবা ভ্যানে। দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে স্কুলের শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ প্রয়াসে সাইকেল কিনে দেয়া হয় মেয়েদের। চার বছর আগে প্রথমে কয়েকজন ছাত্রী সাইকেল নিয়ে স্কুলে যাতায়াত শুরু করে।

গ্রামগঞ্জ মফস্বল দেশ ছাড়িয়ে একদিন তারা বিশ্ব জয় করবে, এই প্রত্যয়ে এগিয়ে চলেছে নড়াইলের শিক্ষার্থীরা।

 

 

 

 

দুই লক্ষাধিক নারীকে আইজিএ প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ বলেছেন, ‘ইনকাম জেনারেটিং অ্যাক্টিভেটিস (আইজিএ) ট্রেনিং অব ওমেন অ্যাট উপজেলা লেভেল’ প্রকল্পের আওতায় সরকার ২ লাখ ১৭ হাজার ৪৪০ জন নারীকে আইজিএ প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।

তিনি আজ সংসদে সরকারি দলের সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামের অসহায় নারীদের সহায়তার জন্য সরকারের চলমান বিভিন্ন কার্যক্রমের পাশাপাশি ২৫০৫৬.২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘ইনকাম জেনারেটিং অ্যাক্টিভেটিস (আইজিএ) ট্রেনিং অব ওমেন অ্যাট উপজেলা লেভেল’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের ৪২৬টি উপজেলা, ৮টি বিভাগীয় শহর ও ৬৪টি জেলা শহরে দরিদ্র নারী স্থানীয় চাহিদার ভিত্তিতে ২টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

তিনি জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

মালয়েশিয়ায় অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান

মালয়েশিয়ায় বসবাসরত কাগজপত্রহীন অবৈধ অভিবাসীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার মাঝরাত থেকেই শুরু হয় এই অভিযান। গতকাল ইনফোর্স কার্ডের (ই-কার্ড) মাধ্যমে নিবন্ধনের সময়সীমা শেষ হতেই এ সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অবৈধ শ্রমিকদের ই-কার্ড নিবন্ধনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সময়সীমা শেষে বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) দেখা যায় মাত্র ১৪ হাজার ৫৪১ জন নিয়োগকারীর মাধ্যমে দুই লাখ ৬০ হাজার ৯৮১ জন নিবন্ধন করেছে। এরমধ্যে ই-কার্ড ইস্যু করা হয়েছে এক লাখ ৪০ হাজার ৭৪৬ জনের। যা মোট অবৈধ লোকের মাত্র ২৩ শতাংশ।

দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগের লক্ষ্য ছিল প্রায় ছয় লাখ অবৈধ অভিবাসীকে ই-কার্ডের আওতায় নিবন্ধন করানো।

অবৈধ অভিবাসীদের নিবন্ধনের চিত্রে হতাশ ইমিগ্রেশন বিভাগের মহাপরিচালক মুস্তাফার আলী শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘ই-কার্ড নিবন্ধনের সময়সীমার ওপর আমি বহুবার জোর দিয়েছিলাম। এখন অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হবে এবং তাদের নিয়োগদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। এমনকি যারা স্টুডেন্ট ভিসা নিয়ে আসা লোকদের চাকরি দিয়েছে তারাও রেহাই পাবে না।’

তিনি আরও জানান, মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অবৈধ শ্রমিক বসবাস করছে বাংলাদেশের। এরপর ইন্দোনেশিয়া, মায়ানমার এবং নেপালের নাগরিক রয়েছে। তবে নিবন্ধনের আওতায় কতজন অবৈধ বাংলাদেশি শ্রমিক নিবন্ধিত হয়েছেন তার হিসাব এখনো পাওয় যায়নি।

এদিকে, শুক্রবার মধ্যরাতে কুয়ালালামপুরের পেটালিং জায়া ডরমিটরিতে অভিযান চালিয়ে ৫১ অবৈধ শ্রমিককে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন পুলিশ। যার নেতৃত্ব দেন ইমিগ্রেশন পুলিশের মহাপরিচালক দাতুকে সেরি মুস্তাফার আলী।

অভিযানে ২৩৯ জনের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ৫১ জনকে আটক করা হয়। যারমধ্যে বেশিরভাগই বাংলাদেশি। অভিযানের পর মুস্তাফার আলী সাংবাদিকদের বলেন, বেশিরভাগ শ্রমিক আসবাবপত্র-প্লাস্টিক উৎপাদন কারখানাগুলোতে কাজ করছিলেন। আমরা দেশের স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে এ অভিযান চালিয়েছি। ঢাকাটাইমস

বিশ্বায়ন বনাম ট্রাম্পায়ন

সাহেদ আলম :গত সপ্তাহেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেশী দেশ কিউবার সাথে ওবামার আমলে জোড়া লাগানো সম্পর্ক বলা চলে ছিন্ন করেছেন। আবার নানান রকম অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বলেছেন। বলেছেন, কিউবার রাজনৈতিক সংস্কার হতে হবে এবং সেখানে স্বীকৃত পন্থায় নির্বাচন হতে হবে। জবাবে কিউবার বর্তমার রাষ্ট্রপ্রধান রাউল ক্যাস্ট্রো বলেছেন, ট্রাম্প তুমি তোমার নিজের দেশের মানবাধিকার নিয়ে চিন্তা কর, আর কিউবা নিয়ে লেকচার বন্ধ কর।
ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন ফ্লোরিডার মিয়ামিতে এই ঘোষণা দিচ্ছিলেন, বলা বাহুল্য সেখানে উপস্থিত কয়েক হাজার কিউবান বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা বেশ উচ্ছ্বসিত ছিল। ট্রাম্পের এক সময়ের ঘোর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লোরিডা সিনেটর মার্ক রুবিও প্রশংসা করেছেন ট্রাম্পকে এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য।
মার্ক রুবিও’র পূর্বপুরুষ এসেছিলেন কিউবা থেকে। মার্ক রুবিও’র বাবা সহ প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার কিউবান নাগরিক সাগর পাড়ি দিয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। ১৯৮২ সালের দিকে কিউবার তৎকালীণ ‘কট্টরপন্থী’ সমাজতান্ত্রিক নেতা ফিদেল ক্যাস্ট্রো কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন আমেরিকা পন্থী এই এক লাখ পঁচিশ হাজার নাগরিককে। ওঁরাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ধারায় বেশ প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ আর আইন প্রণেতাদের সাথে সংশ্লিষ্ট।
ওঁরা প্রেসিডেন্ট ওবামার আমলে কিউবা’র রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়াই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে সন্তুষ্ট ছিলেন না। রাজনৈতিক কারণেই যেহেতু দেশান্তরী হতে হয়েছিল সেই লাখো মানুষকে, তাই সেখানে রাজনৈতিক পট পরিবর্তন ছাড়া কোন কিছুকেই বিকল্প মনে করেন না এই সব নাগরিকরা। যাই হোক, এই কিউবা-আমেরিকা দ্বন্দ্ব বেশ পুরনো এবং চাইলে এ নিয়েই বড় একটি লেখা লিখে ফেলা যাবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবা’র তরফে কোন রকম দ্বন্দ্ব বা উসকানি ছড়ানোর ঘটনা ছাড়াই এই ঘোষণা দিয়েছেন। এই ঘটনা বর্তমানে ট্রাম্পের রাষ্ট্রনীতির আরো একটি উলট-পালট মূলক সিদ্ধান্তের উদাহারণ। কেননা, দায়িত্ব নেয়ার এখনো ছয় মাস হয়নি, কিন্তু তিনি এরই মধ্যে অনেকগুলি ঘটনা ঘটিয়েছেন আগের বিশ্ব ব্যবস্থায়। সেগুলি আসলেই বিশ্ব ব্যবস্থার আগের স্থিতি অবস্থাকে একটি সংকটে ফেলে দিয়েছে। আর এ কারণেই, ট্রাম্পেরিকা, ট্রাম্পায়ান, ট্রাম্পি ওয়ার্ল্ড নামক শব্দগুলি নতুনভাবে সংযোজিত হয়েছে সময়ের ডিকশনারিতে।
কিউবা’র সাথে এই সম্পর্ক ছিন্ন করার আগের সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে বেশ বড় ধরনের একটি গড়বড় করে ফেলেছে ট্রাম্প প্রসাশন। তার আগের সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ন্যাটো নিয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর আগের সাধারণ রীতি নীতি ভঙ্গ করে ফিলিপাইনের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট এর সাথে ফোনালাপ, উত্তর কোরিয়ায় নতুন যুদ্ধের হুমকি এগুলো তো আছেই।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ প্রভাব বলয়ে থাকা জাতিসংঘ বেকায়দায় ফেলা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য সহায়তামূলক চুক্তি নাফটা স্থগিতের ঘোষণাসহ বেশ কিছু পদক্ষেপে, আগের প্রচলিত শব্দ গ্লোবালাইজেশন বা বিশ্বায়ন শব্দের কার্যকারিতা এরই মধ্যে বেশ ব্যাপক ভাবে খর্ব হয়েছে। সেগুলি নিয়েই এই আলোচনা।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর প্রথম বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন সৌদি আরবে। সেখানে গিয়ে বড় বাণিজ্য হয়েছে তার। আগামি ১০ বছরে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার অস্ত্র বিক্রয় চুক্তি হয়েছে সৌদি আরবের সাথে। কিন্তু এর পর পরই সৌদি আরব, তার প্রতিবেশী ধনী রাষ্ট্র কাতারকে আশে পাশের কয়েকটি দেশকে দিয়ে একটি সর্বময় অবরোধ বা নিষেধাজ্ঞার কবলে ফেলেছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেই কুটনৈতিক দ্বন্দ্বের ক্রেডিট নিয়ে পরিস্থিতেকে ঘোলা করে তুলেছেন কাতার সহ অনেক দেশের জন্য। কাতারের নিজস্ব সেনাবাহিনী আছে মাত্র ১২ হাজার, আর সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের যে সামরিক ঘাঁটি আছে সেখানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের ১২ থেকে ১৫ হাজার সেনা সদস্য। কাতার যারপরনাই বিচলিত হয়ে পরে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকেই আরো ১২ বিলিয়ন ডলারের যুদ্ধ বিমান কিনেছে।
কার সাথে যুদ্ধ করার জন্য কিনেছে তা অবশ্য পরিষ্কার নয়, তবে তারা এখন নানা দিক দিয়ে তাদের সামরিক সামর্থ বাড়াচ্ছে। এর আগের প্রসাশন গুলো সৌদি আরবের সাথে সুসম্পর্ক রাখলেও কাতারে তাদের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক অব্যাহত রেখেছিল, অনেক বিষয়কে ছাড় দিয়ে হলেও মধ্যপ্রাচ্যে আই এস বিরোধী যুদ্ধে একজন শক্ত সহযোগী হিসেবে কাতারকে কখনই বিপদে ফেলে বাণিজ্য করেনি। সেই ধারা ভেঙ্গেছেন ট্রাম্প।
বাণিজ্য হয়েছে সৌদি আরবের সাথে, সেই বাণিজ্যের জোরে কাতারকে এক ঘরে করে দেয়ার পদক্ষেপে বাহবা নিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, পরে আবার কাতারের কাছে অস্ত্র বিক্রয় করেছে। এই ঘটনায়, কাতার-তুরস্ক-ইরান-রাশিয়া একটি জোটে রূপান্তরিত হওয়ার সুযোগ তৈরী হয়েছে, কেননা আগে থেকেই তুরস্ক-রাশিয়া-ইরান সিরিয়া প্রশ্নে একটি জোটের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রেখেই। এখন, কাতারকে সাথে নিলে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এতদিনের একক প্রভাব বলয় বেশ ধাক্কা খাবে, এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়।
সৌদি সফরের পর, ইউরোপের নেতাদের সাথে বৈঠক করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নভূক্ত দেশ, যুক্তরাষ্ট্র আর কানাডার যৌথ সামরিক জোট ন্যাটোকে শক্তিশালী করার আগে, ন্যাটো পরিচালনায় পাওনা টাকা পরিশোধের ডাক দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই ডাক পছন্দ হয়নি জার্মানী-ইংল্যান্ড- ফ্রান্স সহ প্রভাবশালী দেশগুলোর।
ট্রাম্পের সামনে প্রকাশ্যে ভুরু কুঁচকিয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন নেতারা। পরের সপ্তায় ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসার পর জার্মানীর চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘আমেরিকার উপর নির্ভরশীলতা নয়, ইউরোপের নিরাপত্তা প্রশ্নে নিজেদের শক্তিশালী হতে হবে।’
অর্থাৎ ন্যাটো বেশ নড়বড়ে হয়েছে, অথবা ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের যে একক প্রভাব ছিল সেটা কমিয়ে দেয়ার পরিকল্পনায় আগাচ্ছে জার্মানী আর ফরাসি নতুন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো’র নেতৃত্ব। একদিকে ন্যাটোকে আঘাত করছেন তার প্রধান মুরুব্বি ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে, যাকে প্রতিরোধ করার জন্যেই ন্যাটোর জন্ম সেই রাশিয়া বলকান অঞ্চলে তার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেই চলেছে।
ইউক্রেনের শহর ক্রিমিয়া এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে রাশিয়া, সেখান থেকে এখন বলকান অনেক দেশের সীমান্ত বরাবর সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে। এই আচরণে ভয় পেয়ে নিশ্চয়ই ন্যাটো ভুক্ত দেশগুলো তাদের পাওনা পরিশোধ করে হলেও যুক্তরাষ্ট্রের তহবিলে আরো বেশ কিছু বিলিয়ন ডলার জমা দেবে।
এই জমা’র সাথে অবশ্য, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইউরোপের দেশগুলির বিশ্বাসের জমাট আস্তে আস্তে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এর আগে ব্রেক্সিট ভোটের সময় ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার সমর্থনে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফরাসি নির্বাচনে কট্টর অভিবাসন বিরোধী ল্যুপেনকে সমর্থন দিয়ে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ফ্রান্সকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন ট্রাম্প। এসব আচরণে নিশ্চয়ই জার্মানী ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকাকে আগের মত নিরেট বন্ধু ভাবছে না।
এর বাইরে, মেক্সিকো, কানাডা আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি রহিত করেছিলেন ট্রাম্প। সেটি নিয়েও প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে অবিশ্বাসের বড় দেয়াল রচিত হয়েছে কানাডা আর মেক্সিকোর সাথে। অভিবাসী বিরোধী রাজনীতি আর মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণ নিয়ে ইতিমধ্যে মেক্সিকোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে নাজুক অবস্থায়।
অর্থাৎ সব মিলিয়ে ট্রাম্পের এই প্রায় ছয় মাসের প্রেসিডেন্সিতে বিশ্ব ব্যবস্থা বেশ বড় ধাক্কা খেয়েছে। অথবা, আরো বড় ধাক্কার মুখোমুখি হচ্ছে বেশ নিকট ভবিষ্যতেই। সেকারণেই আমেরিকার এতদিনের মোড়লিপনা আর বিশ্ব ব্যাবস্থা শাসন করার বিপরীতে বর্তমানের আমেরিকাকে অনেকই ট্রাম্পের আমেরিকা বা ট্রাম্পেরিকা বলতে শুরু করেছেন। যেই ট্রাম্পেরিকার ফসল হতে পারে বিশ্বায়ন শব্দের যুতসই বিকল্প ট্রাম্পায়ন। এই ট্রাম্পায়নে প্রচলিত বিশ্বব্যাবস্থার বড় ব্যবচ্ছেদ হতে চলেছে, যার প্রমাণ মিলতে খুব সহসাই।
কয়েক দশক ধরে বিশেষত দ্বিত্বীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে বিশ্বব্যাবস্থা গড়ে উঠেছে সেটা আমেরিকার প্রভাব বলয়ের মধ্যেই। বিশ্বকে নিজের আয়ত্বে রাখতে কোথাও উদার নীতি কোথাও কৌশল আবার কোথাও কোথাও্ আমেরিকার জনগণের ট্যাক্সের টাকায় নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করে, ছাড় দিয়ে, অন্যদেরকে কিছুটা ভারসাম্যমূলক অর্থনীতির সুবিধা দিয়ে আমেরিকা এতদিন ধরে তার পররাষ্ট্রনীতি চালিয়ে আসছে।
বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাতিসংঘ সেসব বিশ্ব নিয়ন্ত্রণ কৌশলের একেকটি গুরুত্বপূর্ন উপাদান ছিল। নাফটার মত আঞ্চলিক ভিত্তিক নানা চুক্তিও ছিল সেসব কৌশলের অংশ। ন্যাটোর মত সামরিক জোট ছিল সেগুলির গুরুত্বপূর্ন অংশ। এই তত্ত্বের মুলকথা ছিল, বিশ্বকে একটি পরিবারের অর্ন্তভুক্ত করা। যেই পরিবারে কেউ দূর্বল থাকলে তাকে সাহায্য সহযোগিতা দিয়ে অপেক্ষাকৃত টিকিয়ে রেখে একটি পারিবারিক শক্তি জোরদার করা।
অবাধ বাণিজ্যের মাধ্যমে ক্ষুদ্র এবং উন্নয়নশীল দেশগুলিকে অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা। এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘ দিনের কূটনীতির ফসল, যেটিকে এখন ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রই ভেঙ্গে ফেলতে চাইছে। সেখানে, আমেরিকার নিজস্ব স্বার্থকে একেবারে উলঙ্গ ভাবে কড়ায় গণ্ডায় বুঝে নিতে চাইছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
সেই বুঝে নেয়ার অংশ হিসেবেই দেশে দেশে, এলাকায় এলাকায় যে স্থিতিবস্থার নীতিতে চলছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেখান থেকে বেশ সরে আসতে শুরু করেছে। নিজেদের অর্থনৈতিক শ্লথ গতি বা দৈন্যদশার মুক্তি ঘটাতেই এইসব পদক্ষেপ। কিন্তু অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটলেও এতদিনের যে প্রচলিত বিশ্বব্যবস্থা সেটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের একক নিয়ন্ত্রণের বাইরে গিয়ে আবার ৬০ এর দশকের কোল্ড ওয়ার বা স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে এসে ঠেকেছে। কিউবার সাথে সাম্প্রতিক সম্পর্ক ছিন্ন করনকে সেই কোল্ড ওয়ার যুগের আগমন বলেই বলছে স্থানীয় বিশ্লেষণগুলো।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবারই বলেছিলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে চাই, সারা বিশ্বের প্রেসিডেন্ট হতে চাই না। দায়িত্ব নেবার পর বিশ্বের নানান দেশের উপর মোড়লিপনার কূট কৌশলগুলি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার নানা পদক্ষেপ যেমন তার সেই অঙ্গীকারের ফসল, তেমনি আমেরিকাকে আবার ষাটের দশকের রাজনীতিতে ফিরিয়ে নেয়াও সেই পদক্ষেপের ফসল। যেখানে দখলদারিত্ব, একক বাণিজ্য আর অভ্যন্তরীণ ভাবে সকল বৈজ্ঞানিক গবেষণা আর সরলীকরণকে অস্বীকার করেই চালাতে চাইছেন তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে।
তিনি হয়তো ভেবেছেন বিশ্ব আসলেই আধমরা অবস্থায়। সেই আধমরা বিশ্বকে বড় বড় ঘা দিচ্ছেন। তাতে এই বিশ্বব্যাবস্থা জেগে উঠবে নাকি অস্থিতিশীলতা আরো বেড়ে যাবে সেটা সময় বলে দেবে। তবে আপাতত মনে হচ্ছে, আঞ্চলিক আর বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতার গতি বাড়তে শুরু করেছে এসব পদক্ষেপে। বাকীটা সময়ের বিশ্লেষণেই বলা যাবে।
নিউইয়র্ক ২৪ জুন
সাহেদ আলম : সাংবাদিক।

হলি আর্টিজানে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা

গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গিদের হাতে নিহত দেশি-বিদেশিদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করা হচ্ছে। দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ এই হামলার এক বছর পূর্তিতে শনিবার সকাল থেকে রাজধানীর গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের এ রেস্তোরাঁয় শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে। সকাল থেকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসেন বিদেশি কূটনীতিক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, নিহতদের পরিবারের স্বজনসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ।
শ্রদ্ধা নিবেদনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত চার ঘণ্টা হলিজান আর্টিজান রেস্তোরাঁ সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হবে।
সকাল আটটার কিছু পরে প্রথমে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন জাপানের রাষ্ট্রদূত মাশাতো ওয়ানাতাবে এবং জাইকার বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি মিকিও হাতাডেয়া। তারা শ্রদ্ধাস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে হলি আর্টিজান ত্যাগ করেন।
রেস্তোরাঁয় যাওয়ার তিনটি পথেই ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। পুলিশের গাড়ি ও সীমিত কয়েকটি গাড়ি ছাড়া আর কোনো গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।
সড়কের মোড়ে গণমাধ্যমকর্মীরা রয়েছেন। তাদের ভেতরে যেতে দেওয়া হয়নি।
গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনরত পুলিশের উপকমিশনার (ডিসি) মো. জসীমউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘ছবি না তোলার জন্য ‘বিদেশিরা ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আবেদন করছেন। এজন্য তাদের ছবি না তোলায় উত্তম।’

এ সময় তিনি জানান, জাপানি রাষ্ট্রদূত ও জাইকার প্রতিনিধি সকালে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। ইতালির রাষ্ট্রদূতের আসার কথা। তাদের দলের সঙ্গে নিহত একজনের স্বজন থাকার কথা রয়েছে।
এছাড়া গুলশান থানা আওয়ামী লীগ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ, শ্রমিক লীগের নেতাকর্মীরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডের এ রেস্তোরাঁয় জঙ্গিরা অতর্কিত হামলা চালায়। তারা রেস্তোরাঁয় থাকা ২০ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৩০-৩৫ জনকে জিম্মি করে রাখে এবং রাতভর হত্যাযজ্ঞ চালায়।
পরের দিন সকালে রেস্তোরাঁয় জিম্মিদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযান শুরু করে যৌথ বাহিনী।
তবে এর আগে শুক্রবার রাতেই জঙ্গিদের সঙ্গে গোলাগুলিতে ডিবির সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খান নিহত হন।
অভিযান শেষে যৌথ বাহিনী বিদেশি নাগরিকসহ মোট ১৩ জনকে জীবিত এবং মোট ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত ২০ জনের মধ্যে দু’জন বাংলাদেশি, একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকান, নয়জন ইতালিয়ান, সাতজন জাপানি ও একজন ভারতীয় নাগরিক ছিলেন।

সব দলের সঙ্গে সংলাপ করবে না ইসি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নিলেও সব দলের সঙ্গে সংলাপ করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। শুধু্ নিবন্ধিত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করবে ইসি।

আগামী আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপের প্রাথমিক সূচি রাখা হয়েছে। তবে বর্তমানে ৪০টি রাজনৈতিক দল নিবন্ধিত থাকলেও আরও কিছু দল নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ পাবে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসির সচিব মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ্ জাগো নিউজকে বলেন, কমিশনের নিবন্ধনে ৪০টি দল আছে। এর বাইরের কাউকে আমরা চিনি না। তাই নিবন্ধনের বাইরের কোনো দলের সংলাপে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েকটি রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের জন্য ইতোমধ্যে কমিশনে আবেদন করেছে। তাদের বিষয়ে পর্যালোচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ইসির সহকারী সচিব রৌশন আরা বেগম বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আগে কেউ আবেদন করলে তা গ্রহণ করা হবে না। এখন কেউ নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার পর তাদের নতুন করে আবেদন করতে হবে বলে তিনি জানান।

তবে এরই মধ্যে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ (বাকশাল), বাংলাদেশ জালালী পার্টিসহ কয়েকটি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছে বলে ইসি সূত্র জানিয়েছে। জাগোনিউজ

মুক্তিযুদ্ধে ‘মামা বাহিনী’র প্রধান শহীদুল হক মারা গেছেন

চলে গেলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে রাজধানীর মিরপুর- মোহাম্মদপুর এলাকার মুক্তিযুদ্ধের দুর্ধর্ষ গেরিলা গ্রুপ ‘মামা বাহিনী’র প্রধান বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদুল হক মামা। কাতারের রাজধানী দোহার আলুয়াকার হাসপাতালে গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ১২ টায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) তিনি।
গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার তার ভেরিফাই করা ফেসবুক পেজে এ কথা লিখেছেন। শহীদুল হক মামা’র শ্যালিকা শরিফুন্নেসা তাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বলে জানিয়েছে ইমরান এইচ সরকার।
শহীদুল হক মামা’র মরদেহ দোহা থেকে সুইডেনে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সেখানেই দাফনকার্য্য সম্পন্ন করা হবে। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে তিনি সুইডেনে সপরিবারে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরে দেশ স্বাধীন হলেও ঢাকার মিরপুর- মোহাম্মদপুর এলাকায় বিহারী ও হানাদার বাহিনী থেকেই গিয়েছিল। এরপর মিরপুর- মোহাম্মদপুরকে স্বাধীন করতে তখন শহীদুল হক মামার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল দুর্ধর্ষ গেরিলা গ্রুপ ‘মামা বাহিনী’। মিরপুর হানাদার মুক্ত হয়েছিল ১৯৭২ সালের ৩১ জানুয়ারি। আর মোহাম্মাদপুরে এখনো বিহারীদের বংশধররা বসবাস করছেন।
একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা, রাজাকার ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের দ্বিতীয় সাক্ষী ছিলেন।

ঋতুকালীন যন্ত্রণা প্রতিরোধে করণীয়

ঋতুকালীন কষ্ট বা যন্ত্রণাদায়ক মাসিক হলো ডিসমেনোরিয়া। মাসিক শুরু হওয়ার আগে থেকে বা মাসিকের শুরুতে অথবা মাসিক চলাকালীন তলপেটের ভীষণ ব্যথা বা যন্ত্রণাই হলো ডিসমেনোরিয়া।
সাধারণত অল্পবয়সী মেয়েদের এ ধরনের ব্যথা বেশি হয়ে থাকে। ব্যথা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যেতে পারে। অনেক সময় বিয়ের পর এই ব্যথা থাকে না বললেই চলে।
কারণ:
মাসিক সম্পর্কে ভুল ধারণা, ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন হরমোনের মধ্যে সঠিক ভারসাম্যের অভাবে প্রজেস্টেরন হরমোন বেড়ে গেলে, কোনো কারণে জরায়ুর মধ্যে স্রাবের রক্ত জমাট বেঁধে গেলে ও জরায়ু বারেবারে সংকুচিত হতে থাকলে, রক্তস্বল্পতা, রুগ্ন ও দুর্বল (উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হলে ), মনের দিক থেকে অত্যন্ত দুর্বল, স্পর্শকাতর, ভাবপ্রবণ, যারা সবকিছুতেই বিরক্ত বোধ করে, খুব বেশি আদরের বা অবহেলার মেয়ে হলে, মানসিক দুশ্চিন্তা।
লক্ষণ:
ঋতুস্রাব শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টা আগে থেকে ব্যথা হয়। তলপেটে প্রচণ্ড ব্যথা, বমিবমি ভাব, মাথা ঘোরা, মাথা ব্যথা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা পায়খানা হতে পারে, কখনো কখনো দুই উরু পর্যন্ত ব্যথা হতে পারে, অনিদ্রা, অস্বস্তি।
পরামর্শ:
মাসিক সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেওয়া, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা, উচ্চতার তুলনায় ওজন কম হলে পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যয়াম করা, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবনযাপন করা, গরম পানিতে গোসল করা, ব্যথা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল জাতীয় পেইন কিলার খাওয়া যেতে পারে।
অনেক সময় জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল খেলে ডিসমেনোরিয়া দূর হয়ে যায়। তবে তা খেতে হবে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
চিকিৎসা: যদি ব্যথা বা সমস্যা সহ্যের বাইরে চলে যায়, তবে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগযোগ করা উচিৎ।
তথ্য ও ছবি: ইন্টারনেট