All posts by lutfor

মসজিদে বায়ুত্যাগের অপরাধে পাকিস্তানিকে মৃত্যুদণ্ড

মসজিদে অতিরিক্ত বায়ুত্যাগের অপরাধে এক পাকিস্তানিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির এক বিচারক। অতিরিক্ত বায়ু নির্গত করার কারণে তিনি ছয়টি মসজিদ থেকে অন্তত ১৭ বার বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। ইসলামাবাদ হেরাল্ডের প্রতিবেদনে জানা যায় গত রমজান মাসে মসজিদে অতিরিক্ত বায়ু নির্গত করার অপরাধে সেই পাকিস্তানি যুবককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
রমজান মাসকে মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব বর্ণনা করে সেই পাকিস্তানি বিচারক বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি মারাত্মক ধর্ম অবমাননা করেছেন। তিনি একবার ৫৩ জন মুসল্লিকে মসজিদ ছাড়তে বাধ্য করেছেন। তার কঠোর বিচার হওয়া উচিত।
তবে বিচারক শাস্তির ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখিয়েছেন! শিরোশ্ছেদ বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্যে যেকোন একটাকে বাছাই করার স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে সেই যুবককে। বিচারক মনে করেন শিরোশ্ছেদে শাস্তি কম কারণ সেখানে মৃত্যুবেদনা খুব কম সময়ের।
এদিকে মোহাম্মদ আল ওয়াহাবি নামে সেই ৩৩ বছর বয়সী যুবকের মারাত্মক পেট ফাঁপার সমস্যা রয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

যে কুকুর পিয়ানো বাজায়

বাডি মার্কারি নামে একটি বেওয়ারিশ বিগল কুকুর পিয়ানোতে সুরের ঝংকার তুলে জানিয়ে দিলো সে যে একজন গায়ক ও বাদক।মাস চারেক আগে ইউটিউবে আপলোড করার পর থেকেই বাডির ‘পারফর্ম্যান্স’ সংগীত অনুরাগীদের নজর ও কান কাড়তে শুরু করেছে৷ থাবা দিয়ে পিয়ানোর একটি করে চাবি টিপছে বাডি, যেন ওস্তাদ গাইয়ে তানপুরায় আঙুল বোলাচ্ছেন – তারপর আকাশ, মানে ছাদের দিকে মাথা তুলে বাডির সে কী সকরুণ মূর্ছনা…
ওস্তাদ আবদুল করিম খাঁ সাহেবকে নিয়ে একটি গল্প আছে। খাঁ সাহেব নাকি এক রাস্তার কুকুরকে রীতিমতো গান শিখিয়েছিলেন; নাম রেখেছিলেন টিপু মিয়াঁ। সেই টিপু মিয়াঁকে মখমলের কোট আর মোতির মালা পরিয়ে মঞ্চে নিজের পাশে বসিয়ে দু’জনে যুগলবন্দি পর্যন্ত গেয়েছেন!
এটা ওস্তাদি ঠাট্টা কিনা জানা নেই। তবে বাডির সুরবোধ দেখে আর গলা শুনে স্বয়ং আবদুল করিম খাঁ সাহেবও যে ইমপ্রেসড হতেন, তা বলে দেওয়া যেতে পারে।
উল্লেখ্য বিগল কুকুর দল বেঁধে শিকার করে৷ ভীষণ ছটফটে; পোষা দায়। ব্যাসেটও তো শিকারি কুকুর৷ কিন্তু শিকারি কুকুররা আসলে খুব দরদি, কবি টাইপের হয় – বাইরে থেকে বোঝা যায় না৷ তবে সুযোগ পেলে ওদের ভেতরকার সেই ধামাচাপা আর্টিস্ট সত্তাটি বেরিয়ে এসে মনটাকে কেমন করে দেয়!
বিশ্বাস হলো না তো? তাহলে শুনে দেখুন৷

 

ভারতে অজানা কারণে ৬৭ বাঘের মৃত্যু

চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ভারতে প্রতিমাসে ১১টি করে বাঘ মারা গেছে। তার মানে প্রতি তিন দিনে গড়ে অন্তত একটি করে বাঘ মারা গেছে। আর দেশব্যাপি প্রাণ হারানো ৬৭টি বাঘের মধ্যে মাত্র একটি বাঘের মৃত্যুর কারণ জানতে পেরেছে কর্তৃপক্ষ।

ধারণা করা হচ্ছে, বিষপ্রয়োগ থেকে শিকার এবং কখনো কখনো স্বাভাবিক মৃত্যুর কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া বিশ্ববাজারে বিশেষ করে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বাঘের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গের চাহিদা প্রবল। এটাও বাঘমৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।

প্রথম ছয়মাসের তথ্য মতে, ৫৮টি বাঘের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, বাকি নয়টি বাঘের শুধু শরীরের কিছিু অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিশ্বের ৬০ শতাংশ বাঘের বাসস্থান ভারতে সবচেয়ে বেশি বাঘের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে কর্ণাটক প্রদেশে। সেখানে ১৪টি, মধ্য প্রদেশে ১৩টি এবং উত্তরখণ্ডে ৯টি বাঘ মারা গেছে।

২০১৪ সালের দিকে বাঘশুমারি মতে, ভারতে মোট বাঘের সংখ্যা ২ হাজার ২ শ’ ২৬টি। ২০১০ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৭০৬টি এবং ২০০৬ সালে ১৪১১টি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের ২ হাজার ২ শ’ ২৬টি বাঘের মধ্যে ১০০০ বাঘই দেশের ৫০টি বাঘ অভয়ারণ্যের বাইরে বাস করে। তাই বাঘের করিডোর বানানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা খুব জরুরি।

গত বছরও ভারতে প্রায় ১ শ’ ২২টি বাঘ প্রাণ হারিয়েছিলো। ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৮০টি।

তবে বাঘের চোরাকারবারি বন্ধ করতে সবধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ভারতের পরিবেশ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতিটি বাঘের মৃত্যুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং কর্তৃপক্ষকে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ পাঠাতে বলা হয়েছে।

ইন্টারনেটের নিষিদ্ধ জগত ‘ডিপ ওয়েব’ সম্পর্কে আপনার যা অজানা

ইন্টারনেট দুনিয়ার এক অজানা অন্ধকার অধ্যায়ের নাম ‘ডিপ ওয়েব’। ডিপ ওয়েবের আরেকটি অংশ হচ্ছে ডার্ক ওয়েব বা ডার্কনেট। এই অন্ধাকার জগতটিকে ‘ইনভিজিবল ওয়েব’, ‘হিডেন ওয়েব’ ও ‘ব্ল্যাক ইন্টারনেট’ নামেও ডাকা হয়। মাদক, ভাড়াটে খুনি, ছিন্নমূল মানুষের ওপর পৈশাচিক গবেষণা, অস্ত্র বিক্রি, ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশন বিক্রি, বেটিং বা ম্যাচ ফিক্সিং স্পট, আইএস, সিআইএ, আলকায়েদা, উইকি লিকসসহ অজানা অসংখ্য কাজ করা হয় ডিপ ওয়েবের মাধ্যমে। ডিপ ওয়েব নামকরনের মূল কারণ হচ্ছে সাইবারস্পেসে এর অসীম গভীরতা যাকে মহাকাশের ব্ল্যাকহোলের সাথে তুলনা করা যায়। দি গার্ডিয়ানের তথ্যমতে আপনি গুগলের মত জায়ান্ট সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করেও ইন্টারনেট জগতের মাত্র ০.০৩% শতাংশের দেখা পান, বাকিটা রয়ে যায় আপনার দৃষ্টির অন্তরালে। ঘটনাটি কিন্তু বড়ই রোমাঞ্চকর। ডিপ ওয়েব সম্পূর্ণ ভাবে অদৃশ্য এক জগত যেখানকার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে চাইলে আপনাকেও হয়ে যেতে হবে অদৃশ্য, যার না নাম আছে না রয়েছে ঠিকানা, যে ধরা ছোঁয়ার বাইরে এক অদৃশ্য সত্তা। এক আলাদা অস্তিত্ব সম্পর্কে শুধু তাদের অনুভব করা সম্ভব যারা এই জগতের অভিজ্ঞ বাসিন্দা। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই ডিপ ওয়েবসাইট আজ পর্যন্ত কোনভাবেই আইনের আওতায় অথবা নিয়ন্ত্রণাধীনে আসেনি।

কিভাবে ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করা যায়?

ডিপ ওয়েবের নিষিদ্ধ জগতে যে কেউ চাইলেই প্রবেশ করতে পারবে না। আগেই বলা হয়েছে গুগল বা ফায়ারফক্সের মত সার্চ ইঞ্জিনের সহায়তা নেয়া এখানে পুরো মাত্রায় হবে একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা। ডিপ ওয়েবে প্রবেশ করতে চাইলে জানা থাকা চাই ডিপ ওয়েব সার্চ ইঞ্জিন অথবা ডিপ ওয়েব ব্রাউজার সম্পর্কে। ডিপ ওয়েবে প্রবেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার হচ্ছে ‘Tor’। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসের একটি সমীক্ষায় দেখা যায় জনসাধারণের মাঝে টর ব্রাউজার ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এবং তা ডাউনলোড করছে এমন মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাধারণ জনসাধারনের উপর ও তাদের ওয়েবে আদান-প্রদান করা তথ্যের উপর মাত্রাতিরিক্ত নজরদারি করাকে দায়ী করা হয়। সে সময় গোয়েন্দা সংস্থার ব্যক্তি স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ ও ওয়েব ট্রাফিকের উপর নজরদারি জনসাধারণকে ডিপ ওয়েব ব্যবহারের প্রতি নির্ভরশীল করে তোলে। নিজেদের গোপনীয় তথ্য সংরক্ষণ খুব ভালোভাবেই করা যাচ্ছিল ডিপ ওয়েবের অদৃশ্য মায়াজাল ব্যবহার করে।

আপনি কি সার্চ করছেন, আপনার আইপি অ্যাড্রেস কি, আপনার জিও লোকেশন সবকিছুই আন্ট্রেসেবল। আপনাকে খুঁজে বের করা অসম্ভবের কাছাকাছি। প্রত্যেক মানুষের কিছু কমন সার্চ হ্যাবিট রয়েছে যা ফরেনসিক এক্সপার্ট অথবা আইটি এক্সপার্টরা প্রোফাইলিং করতে পারে। যেভাবে গুগল বা ফেসবুক আপনার ইন্টারেস্ট বলে দেয় যা আপনার কুকি হিস্টোরিতে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু ডিপ ওয়েবে ‘Tor’ ব্রাউজার ব্যবহার করে আপনি সচরাচর কি সার্চ করেন তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। তাই যারা এই ডিপ ওয়েব ও ‘Tor’ ব্রাউজার সম্পর্কে জানে তারা এটি ব্যবহার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে।

ডিপ ওয়েবে যেতে প্রথম প্রয়োজন ‘Tor’ ব্রাউজার

নর্মাল ব্রাউজার অ্যাড্রেস যেভাবে ব্যবহার করেন একই ভাবে ডিপ ওয়েবের ব্রাউজার অ্যাড্রেস খুঁজে বের করতে পারবেন। খালি টাইপ করতে হবে যা আপনি খুঁজছেন আর আপনার সামনে চলে আসবে অগনিত ডিপ ওয়েব সাইটস। ডিপ ওয়েবের সকল সাইটের ডোমেইন .onion ডোমেইন নামে পরিচিত। অর্থাৎ ওয়েবসাইট প্রোভাইডার ও ইউজার উভয়ই নাম পরিচয়হীন, অজ্ঞাত। যাদের ট্র্যাক করা প্রায় অসম্ভব। কিছু ডিপ ওয়েব .onion সাইট দেখা যাবে এই ঠিকানায়।

কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে ডিপ ওয়েব?

বারবার অদৃশ্য জগত বা অদৃশ্য মানব এসব শব্দের ব্যবহারে আপনার যদি মনে হয় ডিপ ওয়েব জগতটি বেআইনি কাজ ও অপরাধের আঁতুড় ঘর, তাহলে আপনার ধারনাকে পুরোপুরি অস্বীকার করার কোন উপায় নেই। অপরাধ প্রবণতা ও বে-আইনি পণ্যের অবাধ বিচরণ রয়েছে ডিপ ওয়েবের অন্ধকার জগতে। উদাহরণ হিসেবে চাইল্ড পর্ণ গ্রাফি ভিডিও, ড্রাগসের ব্যবসায় এর কথা উল্লেখ করা যায়। তবে প্রযুক্তির ভালো ব্যবহারও কিন্তু সম্ভব। মূলত ডিপ ওয়েব আপনার জ্ঞান ভান্ডার ও অভিজ্ঞতাকে এমন ভাবে সমৃদ্ধ করবে যার চিহ্ন আপনি পাবলিক ওয়ার্ল্ড ওয়েবে কোন দিনও খুঁজে পাবেন না।

চলুন জেনে নেওয়া যাক মানুষ কিসের খোঁজ করে ডিপ ওয়েবে?

১. মেইল দিয়ে মারিজুয়ানা অর্ডার

গাঁজার নৌকা পাহাড়তলি যায়-এই অদ্ভুত গানটি তো শুনেছেন? ঠিক তেমনই আপনার গাঁজার রাজ্যে স্বাগতম জানাতে পারে ডিপ ওয়েব। কোন লুকোচুরি নেই, নেই ঠাণ্ডার মাঝে ঝুঁকি নিয়ে কোন ড্রাগ ডিলারের জন্য অপেক্ষা করার ঝামেলা, নেই কোন দর কষাকষি বা নিম্নমানের আশংকা। অর্ডার করেই ঘরে বসে নিজের পছন্দমত পরিমাণে নির্দিষ্ট দামে পাওয়া যাচ্ছে এসব। দ্রুতই পেয়ে যাচ্ছে গোল্ডেন নাগেট নামে কুখ্যাত এই মাদক। ভাবছেন কি করে এসব মাদক পৌঁছায়? পৌঁছে যাচ্ছে কোন নির্জন জায়গায় ড্রপ আউট কুরিয়ারের মাধ্যমে অথবা ডিএইচএল-এর মত কুরিয়ার সার্ভিসে (অবশ্যই ভ্যাকুয়াম সিলড প্যাকে বহু প্যাকিং এর ছদ্মবেশে)। গ্রাহকের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে ড্রপ আউট পয়েন্টের জিপিএস লোকেশন। ভাবছেন কিভাবে পেমেন্ট করে ডিপ ওয়েবে? তার জন্য ব্যবহৃত হয় বিট কয়েন পলিসি। এটি একটি আনট্রেসেবল অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি।

২. সিল্ক রোড

বড় বড় অনলাইন মার্কেট আমাজন বা ই-বেয় এর সাথে তো কম বেশি সবাই পরিচিত। ঠিক তেমনি ডিপ ওয়েব এর বিশাল অনলাইন ড্রাগ ও কেমিক্যাল মার্কেট হচ্ছে ‘সিল্ক রোড’। যে কোন কেমিক্যাল বা ড্রাগ অর্ডার করে পেমেন্ট করছে বিট কয়েনে। কিছুদিনের মধ্যে পৌঁছে যাচ্ছে আনট্রেসেবল প্যাকেজ। শুধু ড্রাগ বা ক্যামিকেল নয়, সিল্ক রোডে পাওয়া যায় না এমন কিছুর সম্ভবত অস্তিত্ব নেই। অদৃশ্য ক্রেতা-বিক্রেতার সবচেয়ে জনপ্রিয় মিলনস্থল হচ্ছে সিল্ক রোড। এখানে পণ্য বিনিময়ের সাকসেস রেট ৯৭% শতাংশ। যে কোন জিনিস প্রাপ্তির জন্য এরা এমন একটি সিস্টেম ডেভেলপ করেছে যে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকটা কিংবদন্তীর রূপ ধারণ করেছে।

৩. খুনি ভাড়া পাওয়া যায়!

ভাবছেন ভুল শুনলেন নাকি? না আপনি ঠিকই শুনেছেন। ডিপ ওয়েবে খুনিও ভাড়া করা যায়। আপনি কারো বেইমানিতে অসন্তুষ্ট, আপনার গার্ল ফ্রেন্ড বা স্ত্রীর উপর ক্ষিপ্ত, কোন সাংবাদিক অথবা ব্যবসায়িক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে চাইছেন। জনাব আপনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন যার নাম ডিপ ওয়েব সাইট। আপনার টাকা আপনাকে দেবে ক্ষমতা। শুনতে নাটকীয় বা ভয়াবহ শুনালেও এসবই সত্যি। কোন কাল্পনিক গল্পের অস্তিত্ব এখানে নেই। কন্ট্রাক্ট কিলিং এর সবচেয়ে দামী ডিপ ওয়েবসাইটের মধ্যে White Wolves ও C’Thulhu এর নাম রয়েছে।

৪. ব্যাটারি বুটলেগিং

ব্যাটারি বুটলেগিং এমন এক অদৃশ্য মানব দ্বারা সৃষ্ট যাকে ডিপ ওয়েবে সবাই চিনে DANGLER নামে। হাস্যকর হলেও সত্যি DANGLER চুরি-ডাকাতির ব্যাপারে এক অসামান্য প্রতিভা। গ্রাহক এমন কিছু পেতে চাইছেন যা কেনা সম্ভব নয় বা সেটি পাওয়াও রীতিমত অসম্ভব; ঠিক সেটি চুরি করে হোক বা ডাকাতি করে হোক গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দিবে। ডিপ ওয়েবে চুরি ডাকাতিরও অনেক পেজ খুঁজে পাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে Dangler কে কিছু চুরি করার নির্দেশ দিয়ে পরবর্তীতে পাওনা পরিশোধ না করলে সেই চুরি করা পণ্যটি তার লিস্টে দেওয়া থাকবে যেন অন্য যে কেউ সেটা নিতে পারে। এই পর্যন্ত তার চুরি করা পণ্যের লিস্ট ও তার অর্জনের যে ইতিহাস দেওয়া আছে তার ডিপ ওয়েব সাইটে তা যথেষ্ট জনপ্রিয়।

৫. মানুষের উপর গবেষণা

ভাবতেও শিউরে উঠতে হয় যে ডিপ ওয়েবে এমন সাইটও রয়েছে যেখানে মানুষের উপর গবেষণার কথা বলা হয়ে থাকে। সাধারণত ছিন্নমূল মানুষের উপর এই ধরনের মেডিকেল এক্সপেরিমেন্ট চালানো হয়ে থাকে। এই সকল মানুষের খোঁজ করার কেউ নেই। তাই গবেষণায় এদের মৃত্যু হলেও কারো কিছুই এসে যায় না। এটি এক পারফেক্ট ক্রাইম ঠিক যেন এক পৈশাচিক গল্প; তবু বাস্তব। রাস্তা থেকে তুলে আনা এসব মানুষ হয় স্যাডিজমের শিকার।

গবেষকরা যেভাবে নিজেদের পরিচয় তুলে ধরে

‘আমরা সবাই মেডিকেল পার্সোনেল। আমাদের টিমে রয়েছে ৩ জন নার্স, ৬ জন মেডিকেল শিক্ষার্থী, ২ জন ইন্টার্ন ও ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। আমরা আমাদের অবসর সময়ে গবেষণা চালাই। আমাদের টেস্ট সাবজেক্ট নির্ধারিত সেলে বন্দী অবস্থায় থাকে, প্রয়োজন অনুসারে খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়। পুষ্টি গুন বিচারের প্রশ্ন ওঠে না কারণ কেউই তারা বাঁচবে না।’ এই বিতর্কিত সাইটের অস্তিত্ব নিয়ে অনেক প্রশ্ন থাকলেও বিবেক বোধ ও মনুষ্যত্ববিহীন এদের সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কিছু বলতে বা ভাবতেও ভয় পায়।

৬. অস্ত্র বিক্রির বড় প্ল্যাটফর্ম

ডিপ ওয়েবের একটি সাইটের নাম ইউরো আর্মস। যেখানে যে কোন অস্ত্রই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। অর্ডার করলে তা পৌঁছেও যাবে গ্রাহকের দরজায়। তবে এই সার্ভিসটি বর্তমানে শুধু ইউরোপে পাওয়া যায়। ইউরো আর্মসের মত সাইট অবশ্যই নিরাপত্তায় হুমকি স্বরূপ।

৭. ক্রেডিট কার্ড ইনফরমেশন

অনলাইনে কেনা কাটায় সবচেয়ে আগে প্রয়োজন পড়ে একটি ভ্যালিড ক্রেডিট কার্ড ও সোশ্যাল সিকিউরিটি নাম্বারের। ভাবুন আপনি ছুটি কাটাতে গিয়েছেন, আপনার ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করতে গিয়ে জানলেন আপনার কার্ডে যথেস্ট পরিমাণে ব্যালেন্স নেই। কারণ অন্য কেউ আপনার কার্ড ব্যবহার করে টাকা তুলে নিয়েছে। কার্ড ক্লোনের এই ঘটনা যেন নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। এই ধরনের ডিপ ওয়েব সাইট যারা কার্ড ফ্রডের সাথে যুক্ত, ডিপ ওয়েবে যাদের বিশেষ সুনাম রয়েছে। এমন একটি .onion ডিপ ওয়েবসাইটের নাম আটলান্টিক কার্ডিং। তাদের প্রিমিয়াম সার্ভিসে রয়েছে ইনফিনিট কার্ড ইনফরমেশন। যত বেশি মূল্য তত বেশি বিট কয়েন। জেনারেল সার্ভিস পাওয়া যায় ৮০ ইউএস ডলারে। আর কি লাগে?

৮. বেটিং বা ম্যাচ ফিক্সিং স্পট

বাজী ধরতে চাইছেন বড় অংকের? ভাবছেন ম্যাচ ফিক্স করবেন? তার জন্যও রয়েছে ডিপ ওয়েব সাইট। ঘোড়া দৌড় থেকে শুরু করে যাবতীয় ম্যাচ ফিক্সিং এর জন্য গড়ে উঠেছে আলাদা আলাদা ওয়েবসাইট। কেমন করে কাজ করছে তারা তা যারা জড়িত তারাই বলতে পারবেন। তবে লেনদেনের মাধ্যম আবারও সেই বিট কয়েন।

৯. লুকোনো উইকি

এতক্ষণ ডিপ ওয়েব .onion সাইটস সম্পর্কে যা বলা হয়েছে তা বিশাল আইসবার্গের ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। গুপ্তধন তো লুকিয়ে রয়েছে হিডেন উইকিতে। ডিপ ওয়েব সম্পর্কে জানা অজানা সব রয়েছে এই ডিপ ওয়েব পোর্টালে। উইকিপিডিয়া যদি হয় তথ্য ভাণ্ডার তবে হিডেন উইকি ডিপ ওয়েবের তথ্যের মহা সমুদ্র। এতক্ষণ ধরে যা বলা হয়েছে তা এই ডিপ ওয়েব পোর্টাল থেকেই সংগ্রহ করা।

ডিপ ওয়েবে এক সাইকোরর গল্প

ডিপ ওয়েবে বিচরণ করা এক সাইকোর তথ্য তুলে ধরছি যার কথা হিডেন উইকিতে উল্লেখিত আছে। বড়লোক এক ইউরোপীয় ডাক্তার ডিপ ওয়েবে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন তিনি লাইভ সেক্স টয় বিক্রি করেন। তিনি সত্যি জ্যান্ত মানুষ বিক্রি করছিলেন। তিনি পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন অনাথ আশ্রম ঘুরে এতিম মেয়ে শিশুদের সংগ্রহ করে তাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে ফেলতেন, তাদের দাঁত উপড়ে নিতেন, সার্জারি করে তাদের অন্ধ বোবা কালায় রূপান্তরিত করতেন, তাদের গোপনাঙ্গকে সঙ্কুচিত করতেন এবং মানব সেক্স ডল হিসেবে বিক্রি করতেন। তাদের অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিয়ে লুপ তৈরি করে সো-পিস হিসেবে ব্যবহার করতেন। রাতের ঘুম হারাম করতে এই একটি রেফারেন্স যথেষ্ট। নৃশংসতার এই ঘটনা মিষ্টি ভাষায় লেখা হলেও আসল বিবরণ আরও ভয়াবহ।

১০. বর্তমান পরিস্থিতি

যদিও বলা হয়েছিল যে ডিপ ওয়েবে সহজে কেউ ঢুকতে পারে না। তবে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা একটু হলেও ডিপ ওয়েবে নাক গলাতে সমর্থ হয়েছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় ২০১৪ সালের আগস্টে যে সময় প্রায় ৫০% শতাংশ লুকোনো ডিপ ওয়েবসাইট অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল। একই ধরণের আরেক অপারেশনে যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক গ্রেফতারের শিকার হয় এক আইরিশ এরিক ওয়েন মারকুইস; যাকে ডিপ ওয়েব ব্যবহার করে শিশু পর্ণ ছড়ানোর অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। মারকুইস ডিপ ওয়েবের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের একজন যে কিনা ফ্রিডম হোস্টিং নামক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রতিষ্ঠাতা যা ডিপ ওয়েব এর অনেক .onion ওয়েবসাইটকে হোস্টিং সুবিধা দিয়েছে। এই কাজে সারা ইউরোপ জুড়ে ৫৫০টি সার্ভার ব্যবহৃত হয়েছে যা যে কাউকে ডিপ ওয়েবসাইটে স্পেস ব্যবহারের সুযোগ করে দিয়েছে।

মারকুইসের পরিবার তার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়ে বলে সে তো শুধুমাত্র ওয়েব স্পেস ভাড়া দিয়েছে। কোন অপরাধ বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে সে যুক্ত নয়। জানা যায় এফবিআই এর টেকনিক্যাল টিম টর ওয়েবসাইট হ্যাক করে মারকুইসকে ট্র্যাক করে গ্রেফতার করে। এই হ্যাকের কাজে ব্যবহৃত হয় ম্যালওয়্যার যা পিএইচপি, মাইএস্কিউএল, অ্যাপাচি দিয়ে চালানো সফটওয়্যারকে হ্যাক করতে পারে যার কারণে ফ্রিডম হোস্টিং এর সার্ভারকে হ্যাক করা সম্ভবপর হয়। ঘটনার পিছে রটনা যাই হোক না কেন এখনো পর্যন্ত ডিপ ওয়েব অজানা রহস্য হয়েই রয়েছে; যার প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি ভাঙা খুব একতা সহজ না। এ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে উইকিপিডিয়াতে।

ডেইলি-বাংলাদেশ.কমের সৌজন্যে ও ঈষৎ সম্পাদিত।

ভারতে আইফোনের দাম কমলো

ভারতের বাজারে টেক জায়ান্ট অ্যাপলের মূল্য ৭.৫ শতাংশ কমানো হয়েছে যা আগে ছিল ৪ শতাংশ। ভোক্তাদের পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) থেকে সুবিধা পাওয়ায় এই মূল্যহ্রাস হয়েছে।

১ জুন শনিবার প্রতিষ্ঠানটি তাদের ওয়েবসাইটে এই মূল্য রাসের ঘোষণা দেয়। ওয়েবসাইট অনুযায়ী ২৫৬ জিবি ব্যয়বহুল আইফোন ৭ প্লাসের দাম ছিল ৯২ হাজার রুপি যা এখন হয়েছে ৮৫ হাজার ৪০০ রুপি। আর আইফোন ৬এস ৩২ জিবি সংস্করণ ৬.২ শতাংশ কমে হয়েছে ৪৬ হাজার ৯০০ রুপি।

আর ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে তৈরি আইফোন এসই এর ৩২ জিবি মডেলের দাম কমে হয়েছে ২৬ হাজার রুপি এবং ১২৮ জিবির দাম হয়েছে ৩৫ হাজার রুপি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপল বহুদিন ধরেই ভারতের বাজার দখল করতে চাইছে। আর এই মূল্যহ্রাস আইফোনের চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা যায়।

সূত্র: গ্যাজেট নাউ

মোবাইল পরিবর্তন করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প!

বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের একজন হলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই অর্থে তার হাতে থাকা মোবাইল বা ডিভাইসটিও ক্ষমতাধর!

কী মোবাইল ব্যবহার করেন ট্রাম্প, নিরাপত্তার জন্য তিনি বিশেষ কোনো মোবাইল ব্যবহার করেন কিনা, এই ধরনের প্রশ্ন যে কারো মাথায় আসাটা স্বাভাবিক, ঠিক ততটাই অস্বাভাবিক ট্রাম্পের মোবাইল সম্পর্কে জানাটাও!

তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে থেকেই স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি এস৩ মডেলের একটি সেট ব্যবহার করেন। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার ফোনের যেসব নিরাপত্তা দরকার, তার কোনোটিই ছিল না ফোনটিতে। এজন্য এটি ব্যবহার ট্রাম্পের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

তবে ধারণা করা হচ্ছে পুরাতন মডেলের ওই মোবাইলটি তিনি সম্প্রতি পরিবর্তন করেছেন।

কারণ টুইটার ভক্ত ট্রাম্প ৮ মার্চের পর যেসব টুইট করেছেন তার সবই করা হয়েছে আইফোনের টুইটার অ্যাপ থেকে। অর্থাৎ ট্রাম্পের হাতের মোবাইলটি আইফোন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বা শুধুমাত্র টুইটার ব্যবহার করার জন্য আইফোনটি ব্যবহার করেন তিনি।

ব্র্যাকের বিরুদ্ধে ছাঁটাই হওয়া কর্মীর চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষকদের কথা গ্রাহ্য না করে প্রায় ২৫ বছর আগে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকে যোগদান করেছিলেন শরীফ তসলিম রেজা নামের এক ব্যক্তি। গত ২৭ এপ্রিল হঠাৎ করেই ব্র্যাক তাকে ছাঁটাই করে বলে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশকিছু চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগগুলো হুবহু তুলে ধরা হলো।

তসলিম লিখেছেন, ‘১৯৯১ সনের ফেব্রুয়ারি মাস, ২৬ বছর আগে ব্র‍্যাক হতে চিঠি পেলাম ২৩ শে ফেব্রুআরি ঝিনাইদহ জেলার অজপাড়াগায়ে অফিস ডাকবাংলাবাজারে যোগদানের জন্য। আমি তখন বর্তমান শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরে বাংলা হলে সিংগেল রুমে মাসে মাত্র ১২ টাকা ভাড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বতম এবং বর্তমান ভিসির (তখন হল তত্ত্বাবধায়ক) স্নেহ ও ভালবাসার প্রশ্রয়ে বিশাল আরামে থাকি। তখনকার শ্রদ্ধেয় সকল স্যারগণ (৬৩ জন) আমাকে সন্তানের মতো ভালবাসতেন এবং স্যারসহ সকল বন্ধুবান্ধব এক বাক্যে ব্র‍্যাকে যোগদান না করতে বললেন। বন্ধুরা তখন বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত (এখন তারা ১ জন রাস্ট্রদূত, ৯ জন জয়েন্ট বা ডেপুটি সেক্রেটারি, ৩ জন পুলিশের ডিআইজি, ১ জন টেক্সে ডিভিশনের জয়েন্ট কমিশনার, ১৭ জন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের কৃষি সম্পাসারণ অধিদপ্তরের ডিডি বা এডিডি), তারা আমাকে প্রচণ্ড ভালোবাসে, আমাকে ব্র‍্যাকে জয়েন করতে বারণ করল, বিসিএসে চেষ্টা করতে বলল। আমি যাতে গোপনে চলে না যাই, কয়েকজন আমার রুম রীতিমতো পাহারা দিত। মাথায় ভুত চাপল, সকলকে উপেক্ষা করে অতি ভোরে সংগোপনে রুমে তালা দিয়ে প্রিয় হল ত্যাগ করে ব্র‍্যাকের অজোপড়াগায়ের অফিস ঝিনাইদহে ব্র‍্যাকের মাঠ পর্যায়ের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার পদে যোগদান করলাম। তবে এখানে যোগদানে আমার আম্মা খুব উৎসাহ দিলেন।

এরপর ওই অফিস হতে আঞ্চলিক অফিস যশোর, জোনাল অফিস বগুড়া হয়ে ঢাকায় এলাম। এসব অফিসের সকলে আমাকে খুবই ভালোবাসতো। ঢাকা এসে তখনকার সময়ে ডাইরেক্টর পরে ব্র‍্যাকের নির্বাহী পরিচালক এবং ব্র‍্যাকের কারিগর আমিন ভাইয়ের স্নেহের মধ্য পড়ে গেলাম। উনি পোষ্ট গ্রাজুয়েশনের জন্য হল্যান্ড পাঠালেন, দেশে তখনকার সময়ের ব্র‍্যাকের কৃষি প্রোগ্রামের দায়িত্ব দিলেন এবং পরিস্থিতি বুজে ফাইনানশিয়ালি একটু আপগ্রেড হওয়ার জন্য আফগানিস্তান, পরে তানজানিয়া এবং সাউথ সুদান পাঠালেন।

শরীফ তসলিম রেজা। ছবি: ফেসবুক

আমি দেশে থাকতে স্ত্রী সন্তান ঢাকায় রেখে বাংলাদেশের একপ্রান্ত হতে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াই, ৯৬-এর বন্যায় ব্র‍্যাকের মোহম্মদপুর ইউনিটের দায়িত্ব দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়, আমার প্রথম ছেলের বয়স দুদিন, আমার বউ তখন পুরোপুরি বিছনায় সজ্জাশায়ী। আমি বন্যাদুর্গতদের রুটি বানানোর শুরুর জন্য ভোর ৫টায় বাসা হতে বের হই, রাত ১১ টায় আসি। সকলে আবেদ ভাইকে খুশী করার জন্য উনার বানিয়াচং এলাকায় ব্র‍্যাকের ২০-৩০ লাখ টাকা খরচ করে হাওড়ে দুই বছর ধান লাগাই, এক ট্রাক ধান চোর খোঁজ করতে যেয়ে আম্মার ফোন পেয়েও রাতে রওয়ানা না হয়ে, ভোরে রওয়ানা হওয়ায় আব্বার লাশটা ঠিকমতো দায়িত্ববান ছেলের মতো দাফন করতে পারিনি, যা আজও বুকটা খচ খচ করে। এভাবেই জীবনময় ব্যস্ততায় সততা সহকারে গত ২৬ বছর দেশ বিদেশে কাজ করে যাচ্ছিলাম। গত ৪-৫ বছর হয় ব্র‍্যাকের মানবসম্পদ বিভাগে আবেদ ভাইয়ের ৪র্থ স্ত্রীর ভাইয়ের মেয়ে তাহিয়া হোসেন ডাইরেক্টর হিসাবে যোগদান করে, ব্র‍্যাক কর্মকর্তাদের এতদিনের সুশৃংখলিত লেভেল বা ধাপ কী এক আজব পদ্ধতি বের করে সবাইকে ইচ্ছামত নতুন গ্রেডে পদায়ন করেন। সকলে এটায় মারাত্মক অসন্তুষ্ট হলে তাহিয়াকে আবেদ ভাই রিজাইন করতে বললে আবেদ ভাইয়ের বউ আবেদ ভাইকে ত্যাগ করার হুমকি দেন যা সকলকে আবেদ ভাইয়ের আপন একজন জানিয়ে দেন।

এই মেয়ে তাহিয়ার আগের সংস্থাও কর্মীদের এমন করায় সংস্থার ৭২০ জনের ৬০০ লোক নাকি এককসাথে সংস্থা ছেড়েছিল। ও আরেকটা কাজ হাতে নেয়, আবেদ ভাই বেঁচে থাকতে থাকতে পুরাতন সব বিশেষ করে ত্যাগী কর্মীদের বিদায় করা। এভাবে প্রথমে সকলের অতি প্রিয় ডাইরেক্টর বাবর ভাই, রাবেয়া আপা এরপর নিজ আত্মীয় মৌসুমী খান, ড. ইমরান মতিন, মো: রুমি আলী, ফুসতিনা পেরেয়ারা, তানভির রহমান সহ অনেক অনেক প্রোগ্রাম হেডসহ সকল স্তরের আর সর্বশেষে ব্র‍্যাকের নিবেদিত হিসাব বিভাগের সিএফও এস এন কৌরিকে গতকাল বিদায় দেন।

ব্র‍্যাককে বর্তমানে তিনটি ভাগ করা হয়েছে, ১টা ভাগ হলো ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে ব্র‍্যাকের ১৭ টি সরাসরি ব্যবসা, এখানে এনজিও টার্মে এটাকে বলে এন্টারপ্রাইজ, এই অংশ দেখেন আবেদ ভাইয়ের মেয়ে তামারা আবেদ। ২য় অংশ দেখেন আবেদ ভাইয়ের একমাত্র ছেলে মাইক্রোক্রেডিটসহ সকল লোন ব্যবসা। তবে আবেদ ভাইয়ের এই ছেলেটা অনেক ট্যালেন্ট ও বুদ্ধিমান। ব্র‍্যাকের এক মেয়েকে কোনো এক কারণে বিয়ে করলেও তাকে এখনও ডাইরেক্টর বানায়নি। তৃতীয় অংশ বাকি-সব দেখে তামারার স্বামী সিনিয়র ডাইরেক্টর আসিফ সালেহ। আরেকজন আছেন নির্বাহী পরিচালক উনি হলেন আবু মুসা। তিনি মাসের শেষ কর্মদিবসে ১০০-২০০ লোককে বিদায়ের চিঠি দেয়ার স্বাক্ষর করেন।

গত ২৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে হঠাৎ ব্র‍্যাকের এন্টারপ্রাইজের মানব সম্পদ দেখেন কিবরিয়া, তাকে আবার সিস্টেমে ভাই ভাই করতে হয়, সে বলে তসলিম ভাই, আপনি একটু আজিজ ভাইয়ের রুমে আসেন। তার রুমে ঢুকলে বলা হলো, আমাকে নাকি রিটেয়ারমেন্ট দিয়েছে বলে একটা চিঠি আমার হাতে দেয় (সংযুক্ত)। আমার মাথায় যেন বজ্রপাত হলো, বউ আম্মা দুজনই মারাত্মক অসুস্থ, তাদের ও আমারসহ মাসে প্রচুর টাকার ঔষধ, দুই বাবুর পড়াশোনার অসম্ভব খরচ, বাসার খরচ কী হবে, বুকটা ভেঙে কান্না এলো, বউকে হালকা করে বললাম, সেও দেখলাম চুপ বনে গেল, হয়ত কাঁদছে। বুকটা হাহাকার করে উঠল, এতদিনের পরিচিত অঙ্গন এক নিমিষে শেষ? প্রোগ্রামের কলিগদের সকলের মধ্য খবর চলে গেল, সকলের চোখে পানি, আজিজ পরদিনই যাতে আমার বিদায় অনুষ্ঠান হয়, তোরজোর শুরু করল। সে হয়ত পূর্ব হতে জানতো।

আমি আমার বাসায় আসা অনেকদিনের পরিচিত গাড়িতে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছি আর গাড়ির কলিগদের আমার চিঠি দেখাচ্ছি, কেহ কেহ চোখ মুছল। বাসায় আসলাম, দুই ছেলে আমাদের রুমে পারতোপক্ষে আসে না, আর এলেও আমাদের বিছানায় বসে না। আজ দেখলাম বাবার এই কঠিন মুহূর্তে ওরা বিছানায় এসে বসল, সবাই আমাকে করুণার চোখে দেখছে, আমি চিঠিটা ওদের পড়তে দিলাম, আমি অনেক কষ্টে কান্নাটা চেপে রাখছি, বড়বাবু বললো, আম্মু আর আমাদের দিকে না দেখে সারা জীবন ব্র‍্যাক ব্র‍্যাক করলা আর আজ এক কাগজে চাকরি শেষ? কই আমি হাত খরচ একটু বাড়ার চাপ দিব, এখন তো কি যে হয়? সবচেয়ে অবাক হলাম ব্র‍্যাকের এক সময়ের এক কম্পিউটার টাইপিস্ট আমার To whom concern পেপারে স্বাক্ষর করেছে ( সংযুক্ত)। ব্র‍্যাকের বছরের বাজেট ৪৫০০ কোটি টাকা, উদ্বৃত্ত থাকে ১৩০০ কোটি টাকা ( ২০১৫ সালের বার্ষিক রিপোর্ট), সুদের ব্যবসায় লাভ গত বছর ২০০০ কোটি টাকা, এর থেকে কর্মীদের বেতন দেয়া লাগে মাত্র ১০-১২ কোটি টাকা, কীসের অভাব ব্র‍্যাকের? সকলকে অনুরোধ আমরা এই বয়সে চাকরির জন্য কেন ঘুরব? পরিবারে, সমাজে, বন্ধুদের কাছে, আত্বীয়স্বজনের কাছে কেন আজ এতো ছোট হলাম, কি দোষ ছিল আমার ও আমাদের? একটা দোষ ব্র‍্যাক যদি দেখাতে পারে তবে মাথা হেট করে মাফ চাব। তাই সবাইকে অনুরোধ:

১. বিনা কারণে ত্যাগী, সৎ কর্মীদের ছাটাই করে আবেদ ভাইয়ের ছেলেমেয়ে ও মেয়ের জামাইয়ের আত্মীয়-স্বজন নিয়োগের প্রতিবাদ করুন, কারও কোনো ক্ষমতা থাকলে বন্ধের ব্যবস্থা নিবেন।

২. ট্যাক্স ভ্যাট ফাঁকি দেয়া গরিব লোকের ৫০০ টাকার জিনিস ৫০০০ টাকায় বিক্রিত আড়ং-এর শপিং আজ হতে বন্ধ করুন।

৩. আমি নিজে দেখেছি, ঘন করার জন্য আড়ং দুধে বস্তাভরা দুই নাম্বার গুঁড়া দুধ মিশায়। এ জন্য ব্র‍্যাকের কোনো কর্মী আড়ং দুধ বিনা পয়সায়ও খায় না। আমার ইচ্ছা ছিল গাজীপুরের আমার দোস্ত ডিসি এসএ আলমকে দিয়ে হাতে নাতে ধরাব। ও আবার বদলি হয়ে গেল। এটা ধরুন।

৪. পুরাতন বীজ নতুন প্যাকেটে ভরে বেচে এটা এবার করলে ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে বেঁধে ধরা হবে।

৫. হাট বাজার থেকে দালাল দিয়ে ব্রয়লার মুরগি কিনে ব্র‍্যাক মুরগি নামে বেচে। এটা খাবেন না।

আমি বিভিন্ন অ্যাম্বাসিতে লিখব। এখন এই ৪ জনের কাজ হলো মাসে ২০ দিন খালি বিদেশে যাওয়া এবং ব্র‍্যাকের টাকা পাচার করা, যাতে এদের ভিসা না দেয়।

সরি ফর অল, আমার এই ক্রন্তিকালে সকলে দোয়া করবেন।’

হলি আর্টিজান: উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসে রাজীব গান্ধী

গুলশানের অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসে পুলিশের কাছে নিখুঁত টার্গেট কিলিং মাস্টার হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

শায়খ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেএমবির সাধারণ কর্মী ছিল সে। ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর এক কিলিং মাস্টার হিসেবে সে নিজেতে গড়ে তোলে।

২০১৩ সালে কানাডা ফেরত তামিম চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় হয় রাজীবের। এরপর নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সামরিক কমান্ডার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সেলে ১০-১২ জন প্রশিক্ষিত জেএমবি সদস্যকে দেওয়া হয়েছিল। টার্গেট করা যে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারদর্শী হওয়ায় রাজীব হয়ে ওঠে তামিম চৌধুরীর প্রিয়পাত্র।

গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার আগে উত্তরাঞ্চল থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ওই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলা হয় তাকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের পর হলি আর্টিজানে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনার জন্য তামিম চৌধুরীর নির্দেশে ঢাকায় আসে রাজীব। গত বছরের জুনে ঢাকায় আসার পর সে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জঙ্গিদের একটি আস্তানায় অবস্থান নেয়।

সেখানে আগে থেকে ছিল জেএমবির আরেক শীর্ষ নেতা তানভীর কাদেরীর পরিবার। হলি আর্টিজানে হামলার দিন বসুন্ধরার বাসায় ছিল রাজীব। হামলা শেষ হওয়ার পরপরই বাসা ছাড়ে তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চ্যানেল জানান, ২০১৪ সাল থেকে উত্তরাঞ্চলে অন্তত ২২টি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় কোন না কোনভাবে রাজীব গান্ধীর নাম এসেছে। তার নামে মামলা রয়েছে ১৫-২০টি। তার শিকারের তালিকায় রয়েছেন বিদেশি নাগরিক, পুরোহিত ও খ্রিস্টান যাজক।

তামিম চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর পুরনো জেএমবি ছেড়ে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় রাজীব।

রাজীব গান্ধীর বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটার পশ্চিম রাঘবপুরের ভুতমারিতে। তবে সে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে বসবাস করত। একসময় রঙমিস্ত্রির কাজ করত সে, লেখাপড়া করেছে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তার বাবা মাওলানা ওসমান গনি দুটি বিয়ে করেন। তিনি একসময় মসজিদে ইমামতি করতেন। তার প্রথম পক্ষের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। জাহাঙ্গীরের বাবা চার বছর আগে মারা যান। তার মা রাহেলা বেগম সন্তানদের নিয়ে ভুতমারা গ্রামে থাকেন। তিনি পেশায় গৃহকর্মী।

এর আগে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আওয়ালের একান্ত সহকারী ছিল রাজীব। পাচক হিসেবে আওয়ালকে রান্নাবান্না করেও খাওয়াত সে। আওয়ালের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর রাজীব ধীরে ধীরে জেএমবির হাল ধরার চেষ্টা করে। জেএমবির কোন সদস্য আহত বা অসুস্থ হলে সে তাদেরকে নজরুল পরিচয়ে চিকিৎসাও দিত। তখন থেকে সে সংগঠনে ‘ডাক্তার’ নজরুল হিসেবেও পরিচিত হয়ে ওঠে।

গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার বিষয়ে জবানবন্দীতে অস্ত্র, অর্থ, সদস্য সংগ্রহ, পরিকল্পনা, বিদেশীদের হত্যা ও হামলার ছক, উত্তরাঞ্চল থেকে গুলশানে জঙ্গি সরবরাহসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে রাজীব গান্ধী।

 

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন: গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় গ্রেফতার জঙ্গিদের মধ্যে রাজীব গান্ধীরই সংগঠন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি তথ্য জানা। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৮ জন।

এর মধ্যে নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান নিহত হওয়ার পর গ্রেফতারের বাইরে যারা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। তাকে গ্রেফতার করার পর গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে এখনও গ্রেফতারের বাইরে আছে আরও পাঁচ জঙ্গি।

এ বছরের ১৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে দুর্ধর্ষ জঙ্গি রাজীব গান্ধীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে, যাদের নয়জন ইটালির নাগরিক, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন পুলিশের অনেকে।

পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়, উদ্ধার হয় তিন বিদেশীসহ ১৩ জন। চ্যানেল আই অনলাইন

হলি আর্টিজান: এখনও ধরা পড়েনি হামলায় জড়িত পাঁচ জঙ্গি

গুলশানের অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় জড়িত আটজন পরে বিভিন্ন অভিযানে নিহত হলেও পাঁচ জঙ্গি এখনও ধরা পড়েনি। তাদের মধ্যে তিনজনকে বিপজ্জনক এবং জঙ্গিবাদ দমনে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।

গোয়েন্দারা বলছেন, গুলশান হামলার পরিকল্পনা ও এর বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তামিম চৌধুরী-মেজর (অব.) জাহিদ-হাসনাত করিম-রাজীব গান্ধীসহ কয়েকজন ও সরাসরি হামলাকারীরা ছাড়াও পাঁচ জঙ্গির বড় ধরনের ভূমিকা ছিল। তারা হচ্ছে: সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, ডাক্তার রোকন ও ছোট মিজান।

গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জঙ্গি সোহেল মাহফুজ হলো গুলশান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহের মূলহোতা। সে জেএমবির মূলধারার সঙ্গে যুক্ত ছিল। জেএমবির শীর্ষ ৬ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর হলে সংগঠনটির আমির হয় সাইদুর রহমান। ওই সময় জেএমবির শুরা (নীতি নির্ধারণী) কমিটির সদস্যপদ পায় মাহফুজ। ২০১০ সালের দিকে সাইদুর রহমান গ্রেফতার হয়। এরপর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে উত্তরাঞ্চলে জেএমবিকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছিল মাহফুজ।

নারায়ণগঞ্জে নিহত নব্য জেএমবির সমন্বয়ক তামিম চৌধুরীর সঙ্গেও তার যোগাযোগ ছিল। পরে সে নব্য জেএমবিতে যুক্ত হয়। এরপর থেকে সে নব্য জেএমবির অস্ত্র কেনা, গ্রেনেড তৈরি এবং সরবরাহসহ আইটি শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

আরেক জঙ্গি রাশেদ ওরফে র‌্যাশ গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারীদের একজন। হামলাকারী ৫ জঙ্গিকে হামলার আগে রাজধানীর বসুন্ধরার যে বাসায় রাখা হয়েছিল ওই বাসায় রাশেদের নিয়মিত যাতায়াত ছিল।

জঙ্গি বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট গুলশান হামলায় দুবাই থেকে আসা ১৪ লাখ টাকা বাংলাদেশে গ্রহণ করে বলে তথ্য রয়েছে তদন্ত সংস্থার কাছে। দুবাইয়ে পলাতক মুফতি শফিকুর রহমান নব্য জেএমবিকে নিয়মিত অর্থ সহায়তা করতো। বাশারুজ্জামান ওই অর্থ সংগ্রহ করে মূল সমন্বয়ক তামিমের কাছে পৌঁছে দিতো।

ডাক্তার রোকন সপরিবার সিরিয়ায় পলাতক রয়েছে। গুলশানে জঙ্গি হামলার আগে নিউ জেএমবির তহবিলে টাকা দেয় ডাক্তার রোকন। সংগঠনটির শুরা বোর্ডের এক সদস্য টাকা গ্রহণ করে। দুই দেশ ঘুরে হাত বদল হয়ে এ টাকা বাংলাদেশে পৌঁছায়।

আরেক জঙ্গি ছোট মিজান গুলশান হামলাসহ নব্য জেএমবির দেশব্যাপী হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও গ্রেনেডের যোগানদাতা।

পুলিশ জানায়, দুই মিজানের নেতৃত্বে গুলশান হামলার অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করা হয়। তাদের দুইজনের বাড়িই চাঁপাইনবাবগঞ্জে। তাদের একজন মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান যাকে এরইমধ্যে গুলশান হামলার মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে। এখন ছোট মিজানকে খুঁজছে পুলিশ।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন: মামলাটিতে গ্রেফতার করা হয়েছে চারজনকে, আমরা এখনো পাঁচজনকে খুঁজছি, তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। ওই পাঁচজনের মধ্যে তিনজন এই মামলার তদন্তের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ আসামি।

‘হামলার পরিকল্পনা ও এটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার সাথে তাদের খুব বড় ধরনের ভূমিকা ছিল। এরা হচ্ছে- সোহেল মাহফুজ, রাশেদ ওরফে র‌্যাশ এবং বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট।’

গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে, যাদের নয়জন ইটালির নাগরিক, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় পুলিশের দু’জন কর্মকর্তা প্রাণ হারান। জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন পুলিশের অনেকে।

পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়। উদ্ধার হন তিন বিদেশিসহ ১৩ জন।

হলি আর্টিজান: জঙ্গি হামলার খরচ ৯ লাখ টাকা

গত বছরের ১ জুলাই হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় খরচ হয় প্রায় নয় লাখ টাকা। তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট চ্যানেল আই অনলাইনকে তাদের তদন্তে পাওয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেছেন: পরিকল্পনা, জঙ্গি প্রশিক্ষণ, বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র কেনা, হামলার স্থান রেকি করা, বোমা তৈরি এবং জঙ্গিদের জন্য বাড়িভাড়া বাবদ এ টাকা খরচ হয়।

গুলশান হামলায় ব্যবহার করা আগ্নেয়াস্ত্রগুলো ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার একটি অস্ত্র কারখানায় তৈরি করা হয় বলে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন।

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন: চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোর সীমান্ত পথ দিয়ে ট্রাকে আমের ঝুড়িতে করে অস্ত্রগুলো ঢাকায় আনা হয়। নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের সামরিক কামান্ডার রাজীব গান্ধীর ঘনিষ্ঠরা অস্ত্রের বাহক ছিল।

এছাড়াও সোহেল মাহফুজ, তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী চাঁপাইনবাবগঞ্জের বড় মিজান, ছোট মিজান, জয়পুরহাটের সাগর, আবু তাহের, সেলিম মিয়া, মিজানুর রহমান ও তৌফিকুর রহমান অস্ত্র ও গ্রেনেড সরবরাহ করে।

তাদের মধ্যে তাহের, মিজানুর, সেলিম ও তৌফিককে গত ২ নভেম্বর ঢাকার গাবতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

সিটিটিসি প্রধান বলেন: মিরপুরের রূপনগর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত মেজর (অব) জাহিদুল ইসলাম গাইবান্ধার একটি চরে গুলশান হামলাকারীদের নিয়ে ক্যাম্প করে প্রশিক্ষণ দেয়।

গুলশান হামলার পেছনে আন্তর্জাতিক কোন যোগাযোগ ছিল কিনা জানতে চাইলে মনিরুল ইসলাম বলেন: গুলশান হামলার মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী, মেজর (অব) জাহিদুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম মারজান এদের জীবিত গ্রেফতার করা যায়নি বলে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়টা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে। জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে, যাদের নয়জন ইটালির নাগরিক, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন পুলিশের অনেকে।

পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়।