All posts by lutfor

ধানের পরিবর্তে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন

ধান আবাদে খরচ ও খাটনি দুটোই বেশি। ধান লাগানোর পর থেকে দুঃচিন্তায় থাকতে হয়। তার মধ্যে আবার কয়েক বছর ধরে ধানের বাজার দর খারাপ যাচ্ছে। একারণে বোরো ধান আবাদে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা। ধানের বদলে বাদাম চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
নীলফামারীর ডোমার ইউনিয়নের পূর্ব চিকনমাটি গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলাম(৪০)। চলতি মৌসুমে তিনি চিনা বাদাম আবাদ করেছেন এক বিঘা জমিতে। নিজেসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ফসল তুলতে শুরু করেছেন জমি থেকে।
তিনি বলেন, ধান আবাদে লাভতো দূরের কথা আসল টাকা তুলতেই টানাটানি হয়ে পড়ে।
রশিদুলের মতো অনেক কৃষকই বোরো ধানের পরিবর্তে রবি শস্য আবাদ করছেন।
বিগত কয়েক বছর বোরো আবাদে লোকসান হওয়ায় বাদাম ও ভুট্টা আবাদে মনোযোগ দিয়েছেন উপজেলার ডোমার সদর, বামুনিয়া, বোড়াগাড়ি, জোড়াবাড়ি, ভোগডাবুড়ি, সোনারায় ও হরিণচড়া ইউনিয়নের কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার মাটি বেলে দোঁআশ হওয়ায় বাদাম চাষের উপযোগী। যার কারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আবাদ করা হচ্ছে বাদাম।
কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাষের খরচ কম, উৎপাদন এবং বাজার দর ভালো হওয়ায় বাদাম আবাদে আগ্রহ বেড়েছে উপজেলার কৃষকদের মাঝে।

ডোমার ইউনিয়নের কৃষক আবু তালেব গত কয়েক বছর থেকে চিনা বাদাম আবাদ করছেন। এতে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানালেন।
তিনি জানান, বিঘা প্রতি বাদাম আবাদে খরচ হয় ৬ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি অন্তত ৬ মণ উৎপাদনও হয়। দুই হাজার টাকা করে মণ বিক্রি হলেও ১২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। খরচ বাদে লাভ থাকে ৬ হাজার টাকা।

আরেক চাষী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রথমবারের মতো এবার আমি ৫০ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড জাতের চিনা বাদাম আবাদ করেছি। সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না, কীটনাশক খরচও কম। নিরানি নেই, সবমিলিয়ে সহায়ক কৃষকদের জন্য শস্যটি(বাদাম)।
ডোমার সদর ইউনিয়নের পূর্ব চিকনমাটি ছোট রাউতা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, মাঠ পর্যায়ে বাদাম চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষকদের আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। প্রদর্শনী প্লট করে আবাদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, ১১৫-১২০দিনের মধ্যে বাদাম ঘরে তোলা যায়। বাজারে দামও ভালো।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, নীলফামারী জেলায় ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২২৯ হেক্টর, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৯১৭ হেক্টর এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ১০৫০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে।
অন্যদিকে গত মৌসুমের চেয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ কমেছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে বোরো আবাদ ৮৩ হাজার ৬৬৭ হেক্টরে অর্জিত হলেও এবারে অর্জিত হয় ৮২ হাজার ১১০ হেক্টরে।
জানতে চাইলে ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাফর ইকবাল বলেন, গেল কয়েক বছরে কৃষকদের মাঝে বাদাম আবাদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষকরা জমি লিজ নিয়ে বাদাম করছেন।
ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বলে জানালেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

অ্যান্টিবায়োটিকের মরণ ফাঁদ!

অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার মানুষের জীবনকে হুমকিতে ফেলেছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই পাড়া-মহল্লার দোকানে এ ওষুধ দেদারসে বিক্রি হচ্ছে। সর্দি-কাশি বা সামান্য শারীরিক সমস্যা হলেই কয়েকটি অ্যান্টিবায়োটিক ট্যাবলেট বা ক্যাপসুল কিনে খাওয়া এখন সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়া, শুরু করে শেষ না করা এবং নির্দিষ্ট মাত্রায় না খাওয়া শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই এর অপপ্রয়োগ বন্ধে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একইসঙ্গে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া ওষুধের দোকানগুলোতে এই ধরনের ওষুদ বিক্রি বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

প্রায় চার মাস আগে ৮৩ বছর বয়সের মাহবুবুর রহমান (ছদ্মনাম) মারা যান পান্থপথের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। ডায়াবেটিক, উচ্চরক্ত চাপ নিয়ে মাহবুবুর রহমান নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতাল ভর্তি হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। আবার এক মাস আগে ৬৭ বছরের প্রকৌশলী মুকুল চন্দ্র দাস (ছদ্মনাম) বৃষ্টিতে ভেজার পর জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে তার ফুসফুসে ইনফেকশন এবং নিউমোনিয়া হয়েছে বলে ধরা পড়ে। প্রথমে বারডেম এবং পরে পান্থপথের একটি নামকরা বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় তাকে। কিন্তু তার শরীরে কোনও ড্রাগ কাজ করছিল না, চিকিৎসকদের প্রাণান্ত চেষ্টা সত্ত্বেও তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

চিকিৎসকরা বলছেন, ‘ইমিউনো কম্প্রোমাইজ বা অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাওয়ার কারণেই তাকে বাঁচানো যায়নি। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়াতে এবং অ্যান্টিবায়োটিক শরীরে আর কাজ না করাতেই মৃত্যু হয়েছে দু’জনেরই।’

গবাদি পশু, মাছ এবং কৃষিক্ষেত্রেও অনিয়ন্ত্রিত অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার আশঙ্কা হারে বেড়েছে। শতকরা ৫০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার হচ্ছে কৃষি খাতে, কৃষিপণ্য এর যথেচ্ছ ব্যবহারের ফলে বাড়ছে কিডনি আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। আর এসব কারণে ২০১৫ সাল নাগাদ বিশ্বের এক কোটি মানুষ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে মৃত্যুবরণ করবে বলেও জানান চিকিৎসকরা।

অন্যদিকে, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলনের করা এক গবেষণা জরিপ থেকে জানা যায়, রাজধানীতে শতকরা ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অর্থ্যাৎ ঢাকায় মানুষের শরীরে যে রোগ জীবানুর সংক্রমণ ঘটে তার বিরুদ্ধে ৫৫ দশমিক ৭০ শতাংশ অ্যান্টিবায়োটিক কোনও কাজ করে না।

যেটা দরকার নেই, সেটাও ব্যবহার হচ্ছে, যখন দরকার নেই, তখনও ব্যবহার হচ্ছে। নিয়ম মেনেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এর কারণ হিসেবে চিকিৎসকরা মনে করেন, দেশে নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ‘এর ফলে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স মহাদুযোর্গের প্রতিধ্বনি হিসেবে শুনতে পাচ্ছি আমরা।’

অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের কারণে বাংলাদেশে কত মানুষ মারা যায় এমন কোনও জরিপ বা গবেষণা না থাকলেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বছরে ২৩ হাজার আর বিশ্বে সাত লাখ মানুষ মারা যাচ্ছে। এ ধারা চলতে থাকলে বিশ্বজুড়ে বছরে এক কোটি মানুষ মারা যাবে ওষুধ না পেয়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী যৌনরোগ গণরিয়ার চিকিৎসায় কোনও ওষুধ কাজ করছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে গণরিয়ার আর কোনও চিকিৎসাই থাকবে না।

অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হওয়ার কারণে ২০৫০ সাল নাগাদ সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা।

তিনি বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স খুবই ভয়ের কথা। যখন তখন খাওয়ার প্রবণতা যদি আমরা রোধ করতে না পারি, তাহলে আমাদের সামনে ভয়ঙ্কর দিন অপেক্ষা করছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক এবিএম ফারুক বলেন, ‘অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। আর নিয়ম না মেনে খেলে শরীরে রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়। রেজিস্ট্যান্স নানা কারণে হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবাণুকে মারার জন্য যে পরিমাণ প্রয়োজন তার চেয়ে কম সেবন, ঘন ঘন অথবা অধিক মাত্রায় সেবন এবং পুরো কোর্স সম্পন্ন না করা এবং নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করা অন্যতম কারণ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সব ধরনের হাসপাতালে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন গ্রুপের ওষুধের ব্যবহার বেশি। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ম্যাক্রোলাইড, দ্বিতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন ও পেনিসিলিন।

এছাড়া, এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের চিকিৎসায় ব্যবহারের হার সর্বোচ্চ।

গবেষণায় আর দেখা যায়, অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে ভুল ব্যবহার বেশি। আর ভুল অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের কারণে হাসপাতালে বেশিদিন অবস্থান করতে হয়, শারীরিক জটিলতার মাত্রা বেশি হয় এবং এতে মৃত্যুর হারও তুলনামূলকভাবে বেশি।

প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যথেচ্ছ ব্যবহারকে থামাতে যদি ব্যর্থ হই, তাহলে একটা সময়ে সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ অকার্যকর হয়ে যাবে আর পৃথিবীতে রাজত্ব করবে জীবানুরা। তাই যতো দ্রুত সম্ভব এ অবস্থার রাশ টেনে ধরতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. সিতেশ চন্দ্র বাছার অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সেকে বাংলাদেশের সিরিয়াস মেডিক্যাল ও সামাজিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে কারবাপেনেম শ্রেণির একটি অ্যান্টিবায়োটিক আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র চিকিৎসারত রোগীদের দেওয়া হয়। যখন তাদের অন্য সবগুলোই কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। কিন্তু যদি কোনোভাবে কারবাপেনেম ওষুধটি রেজিস্ট্যান্ট হয়, তাহলে আইসিইউ রোগীরা ওষুধ না পেয়েই মারা যাবে। খুবই আশঙ্কার বিষয় কারবাপেনেমও রেজিস্ট্যান্ট হয়ে যাচ্ছে কোথাও কোথাও।’

অধ্যাপক ড. সিতেশ চন্দ্র বাছার আরও বলেন, ‘বাংলাদেশসহ এশিয়ার ১১টি দেশের অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হয়ে পড়ছে। যার কারণে অস্ত্রোপচার ও ক্যান্সারসহ বিভিন্ন ধরনের জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যবহত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ অবস্থাকে তুলনা করেছে অ্যান্টিবায়োটিক আবিষ্কার হবার আগের যুগের সঙ্গে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারনাল মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. আবদুর রহিম বলেন, ফ্রান্স, আমেরিকাসহ বিশ্বের উন্নতদেশগুলোতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া কোথাও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি হয় না। অথচ আমাদের দেশে ফার্মেসিতে গিয়ে যা চাওয়া হয়, তাই পাওয়া যায়।’

অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলগুলোতে হাতুড়ে চিকিৎসকরা অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে শহরের চেয়েও বেশি এগিয়ে আছে মন্তব্য করেন অধ্যাপক আবদুর রহিম। তিনি বলেন, ‘আমরা যেসব অ্যান্টিবায়োটিক দিতে সাহস পাইনা, সেগুলোও তারা রোগীদের দিচ্ছেন।’

অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করার কারণে রোগীদের চিকিৎসা করাতে পারছেন না এমন কোনও রোগী পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও সে পর্যায়ে যাইনি, তবে সতর্ক না হলে সে পর্যায়ে যেতে আমাদের সময় লাগবে না।’

উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রস্রাবের ইনফেকশন একটি কমন অসুখ, এ অসুখের জন্য যখন কালচার টেস্ট করা হয় সেখানে দেখতে পাই, অধিকাংশ অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করার মতো অস্থায় নেই। দু-একটা ওষুধ ছাড়া প্রায় ড্রাগই রেজিস্টেন্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে, নয়তো মৃত্যুপথযাত্রী রোগীর জন্যও একসময় কোনও ড্রাগ থাকবে

ফাঁকা ঢাকা নিয়ে শঙ্কিত চিকিৎসকরাও

পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী‘রাস্তা ফাঁকা পেলে মাথা ঠিক থাকে না। এমনিতেই মোটরসাইকেল বেশি গতিতে চালানোর অভ্যাস আমার। কিন্তু ঢাকার রাস্তায় তো সেটা সারাবছর সম্ভব হয় না। তাই আমরা অপেক্ষা করে থাকি দুই ঈদে ঢাকা ফাঁকা হওয়ার জন্য। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। রাস্তাও ফাঁকা পেলাম। কিন্তু দুর্ঘটনাটা আর এড়াতে পারলাম না।’ কথাগুলো বলছিলেন ২১ বছরের আলভী। জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (পঙ্গু হাসপাতাল) বেডে শুয়ে থাকা আলভী বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে বন্ধুদের নিয়ে রেস করার সিদ্ধান্ত আগেই নিয়ে রেখেছিলাম। কিন্তু দুর্ঘটনাটা ঘটে যায় চোখের পলকেই। রেললাইনের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় ব্যালান্স রাখতে পারিনি, পড়ে যাই। তারপর এখানে।’

বৃহস্পতিবার (২৯ জুন) পঙ্গু হাসপাতাল গিয়ে দেখা যায়, ঈদের ছুটির সময়ে হাসপাতালে আসা প্রায় ৯০ শতাংশ রোগীই সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছেন। এর বড় একটি অংশই সিএনজি ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। চিকিৎসকরা বলছেন, ঈদের ছুটিতে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা থাকার কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা বিশেষ করে উল্লেখ করলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কথা। তারা বলেন, মোটরবাইক চালানো তরুণদের মানসিকতা বদলাতে হবে। অ্যাডভেঞ্চারের মোহে পড়ে তারা এভাবে নিজেদের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

পঙ্গু হাসপাতালের রেজিস্ট্রার বুক থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুন থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন ৬৭১ জন, এর মধ্যে ভর্তি হয়েছেন ২১৯ জন।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলভী আহত হওয়ার পর বুঝতে পারছেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালানো ঠিক না। তিনি বলেন, ‘জোর বাঁচা বেঁচে গেছি। শিক্ষা হয়ে গেছে। সেই শিক্ষা থেকে সবাইকে বলতে চাই, এভাবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কেউ রাস্তায় রেসে নামবেন না। দুর্ঘটনায় পড়ে মরে গেলে তো ভালো। কিন্তু বেঁচে থাকলে যে ভোগান্তি, সেই কষ্ট কাউকে বোঝানো যাবে না।’

আলভীর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে দেখা গেল ১৯ বছরের রাজীবকে। তার ভাই মিলন দৌড়াচ্ছিলেন রক্তের প্রয়োজনে। মিলন বলেন, ‘আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল ৯টায় চিটাগাং রোডে দুর্ঘটনা ঘটে। সিএনজিতে করে আমরা দু’জন যাচ্ছিলাম বারুদি আশ্রমে পূজা দিতে। তখনই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা আরেক সিএনজির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। আমার তেমন কিছু না হলেও গুরুতর আহত হয়েছে রাজীব।’

আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রাজীবপঙ্গু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্মরত স্টাফ নার্স পারুল মণ্ডল বলেন, ‘১৪ বছরের চাকরি জীবনের ১০ বছর কাটছে এই পঙ্গু হাসপাতালে। এই সময়ের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, দুই ঈদের সময়ে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে আসা রোগীর সংখ্যা বছরের অন্য যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি।’
পারুল বলেন, ‘‘রাস্তা ফাঁকা থাকায় তরুণদের মাথা ঠিক থাকে না। এদের সঙ্গে সিএনজি ও বাস ড্রাইভাররাও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। আবার ড্রাইভারদের বলেও লাভ হয় না। কিছু বললে বলে, ‘আপনাদের চেয়ে কি আমাদের জীবনের মায়া কম নাকি? আমার কাজ আমারে করতে দেন, বসে থাকেন চুপচাপ।’’
গত মঙ্গলবার (২৭ জুন) রাতে পঙ্গু হাসপাতালে ৩৩ জন রোগীর অপারেশন হয়েছে জানিয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শুভ প্রসাদ বলেন, ‘ফাঁকা রাস্তায় বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে ঈদের ছুটির সময়ে প্রচুর দুর্ঘটনা ঘটে। গত কয়েকদিনে ভর্তি হওয়া রোগীদের বেশিরভাগই এ ধরনের দুর্ঘটনার শিকার। এর মধ্যে আবার বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটেছে মোটরসাইকেল বা সিএনজিতে।’ ফাঁকা রাস্তায় যেকোনও ধরনের যান চলাচলের ক্ষেত্রে সাধারণ সময়ের চেয়ে বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন বলেই মনে করেন এই শুভ প্রসাদ।

ফাঁকা রাস্তায় অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চালানোকে ‘রেকলেস অ্যাটিচিউড’ বা ‘বেপরোয়া মনোভাব’ অভিহিত করে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদের এই সময়টাতে ঢাকার রাস্তা ফাঁকা পেয়ে তরুণদের অনেকেই অ্যাডভেঞ্চারে মেতে ওঠে। তাদের এই বেপরোয়া মনোভাব মস্তিষ্কে উদ্দীপনা তৈরি করে। তখন তাদের মনে হয়, পারলে আকাশ দিয়ে গাড়ি চালাবে। এসময় তাদের নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না।’
এমন মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া উচিত বলে মনে করের তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এমন অ্যাডভেঞ্চার করতে গিয়ে তাজা প্রাণ হারিয়ে যায়। আর যারা বেঁচে থাকে, পরিবারসহ তাদের পোহাতে হয় অশেষ দুর্ভোগ। তাই ঢাকার ফাঁকা রাস্তা নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। ছুটির সময়গুলো নিয়ে বিশেষ পরিকল্পনাই করা উচিত প্রশাসনের।’

শিশুদের নিয়ে বেড়াতে যাবেন যেখানে

ঈদের ছুটি চলছে। বাড়ির ছোট সদস্যকে যানজটের ঢাকায় কোথাওই ঘুরতে যাওয়া হয় না। তার উপর প্রচন্ড গরম। তার স্বাস্থ্যের কথা ভেবে ঘরই যেন সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠে। কিন্তু শিশুর মন তো চায় একটু খোলামেলা পরিবেশ, হইহুল্লোড়, ফূর্তি।

ঢাকা এখন একদম ফাকা। ঈদ উপলক্ষে সব বিনোদনকেন্দ্রই খোলা। এটাই সুযোগ শিশুকে নিয়ে ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়ানোর। যেখানে যাবেন-

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক, গাজীপুর
সাফারি পার্কের মজাটা কিন্তু ভিন্নরকম। এখানকার পশুপাখীরা খুব সাহসী। আপনার সাথে সেলফী তুলতে চলে আসবে একেকজন। হালকা বৃষ্টি হলেই ময়ূর নাচ দেখিয়ে যাবে, একদম লাজ-লজ্জা নেই!

প্রাপ্তবয়স্ক জনপ্রতি পার্কে প্রবেশমূল্য ৫০ টাকা এবং ১৮ বয়সীদের নিচে প্রবেশমূল্য ২০ টাকা। গাড়িতে করে সাফারি পার্ক পরিদর্শনের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিজনের টিকিট ১০০ টাকা। অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৫০ টাকা। প্যাডেল বোট ভ্রমণ ৩০ মিনিট ২০০ টাকা।

 

ফ্যান্টাসি কিংডম, আশুলিয়া
ছোট-বড় সকলের জন্য রোমাঞ্চকর আনন্দ উল্লাসের জায়গা ফ্যান্টাসি কিংডোম। তবে যে রাইডেই চড়ুন না কেন আপনার এবং শিশুর নিরাপত্তা বেল্টটি বেঁধে নিন ঠিকমতো।

ঈদে পার্কটি খোলা থাকবে দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত। শিশুদের প্রবেশমূল্য ৩৫০-৫০০ টাকা, বড়দের বেলায় ৬৫০-৮০০ টাকা। ওয়াটার ওয়ার্ল্ডে প্রবেশমূল্য ৬৫০-৮০০ টাকা। তবে ঈদের সময়টা বিশেষ অফারেও টিকিট বিক্রি করা হয়।

নন্দন পার্ক, আশুলিয়া
প্রতিবছর ঈদে পার্কে কনসার্টের ব্যবস্থা করা হয়।

ঈদের সময় নন্দন পার্ক খোলা থাকবে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত। সব রাইডসহ প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৪৯০ টাকা।

ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক, সায়েদাবাদ
ওয়ান্ডারল্যান্ড পার্ক ঈদের দিনগুলোতে খোলা সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ৫০ টাকা। রাইডের মূল্য ৩০ টাকা।

জাতীয় জাদুঘর, শাহবাগ
বিশাল সেই ডায়নোসরের কঙ্কাল, মূর্তিমান বাঘ, হরিণ, ময়ূর সব মিলিয়ে আমাদের জাতীয় জাদুঘর শিশুকে বিস্ময়ে হতবাক তো করবেই সাথে আছে শেখার মতো অনেক কিছু।

ঈদের সময় জাদুঘর খোলা থাকবে বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। টিকিটের মূল্য ৩ থেকে ১২ বছর বয়সীদের জন্য ৫ টাকা, ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ১০ টাকা এবং বিদেশি দর্শনার্থীদের জন্য ৭৫ টাকা।

 

শিশুপার্ক, শাহবাগ
‘আমাদের দেশটা স্বপ্নপুরী’ গানের তালে আনন্দে মেতে ওঠার জন্য যথাযথ জায়গা শিশুপার্ক। রেলগাড়ি, নাগরদোলা, এরোপ্লেন কি নেই এখানে? শিশুকে নিয়ে ঘুরে আসুন এখানেই।

প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে শিশুদের জন্য ঈদ আয়োজন করে শিশুপার্ক কর্তৃপক্ষ। ঈদে শিশুপার্ক খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। প্রবেশমূল্য ৮ টাকা। তবে প্রতিটি রাইডে উঠতে হলে ৬ টাকার আলাদা আলাদা টিকিট কাটতে হবে।

জাতীয় চিড়িয়াখানা, মিরপুর
ঢুকতেই বানরের খাঁচা, আছে নানান রকম পাখি। বইয়ে ছবিতে দেখা অজগর, জ্যান্ত বাঘ, সিংহ সবই আছে এখানে। চিড়িয়াখানা শুধু শিশুদেরকেই না, আনন্দ দেয় বড়দেরকেও। ঈদের ছুটিতে আদরের সন্তানকে নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন এখানে।

ঈদের সময় জাতীয় চিড়িয়াখানা খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত। প্রবেশমূল্য জনপ্রতি ১০ টাকা। দুই বছর পর্যন্ত শিশুদের জন্য টিকিট লাগবে না।

অপরিকল্পিত বাঁধ, রাস্তায় নষ্ট হচ্ছে হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ

অপরিকল্পিতভাবে বাঁধ ও রাস্তা নির্মাণের কারণে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে প্রাকৃতিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ক্ষতি হচ্ছে জীববৈচিত্র্যের। হাওরের চরিত্র বুঝে প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হাতে নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

হাওরে ফসল ও গ্রাম রক্ষার জন্য স্থানীয়ভাবে নির্মিত হয় এসব বাঁধ, যা রাস্তা হিসেবেও ব্যবহার করেন স্থানীয়রা। এসবের বেশিরভাগই ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সরকারি অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। এবার অকাল বন্যায় আগেভাগেই বাঁধ উপচে হাওরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক স্থানে বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। নষ্ট হয়েছে বোরো ফসল। অপরিকল্পিত এসব বাঁধ কতটা কার্যকর এ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।

হাওরে পানি ওঠা-নামার সময় বুঝে বাঁধগুলোর উচ্চতা নির্ধারণ করে তা রক্ষণাবেক্ষণে স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করার কথা বলছেন এই পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত। হাওরে যে কোন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রকৃতির সঙ্গে মিল রেখে করার পরামর্শও দেন তিনি।

এরকম বিশাল বিশাল হাওরের সাথে যুক্ত হয়েছে এমন অসংখ্য নদী। এটিই হাওরের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট।কিন্তু এর মধ্যে নির্মাণ করা এসব বাঁধ বা রাস্তার কারণে হাওরের জীববৈচিত্র্য আজ ধ্বংসের মুখে, মনে করছেন পরিবেশ কর্মীরা। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে হাওরের উন্নয়ন কাজে হাত দেয়া উচিৎ বলে মনে করছেন তারা।

আরও দেখুন থেকে নিচের ভিডিও রিপোর্টে:

 

দক্ষিণাঞ্চলে লবণাক্ততা বেড়ে চলেছে

দক্ষিণাঞ্চলের পরিবেশে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়েই চলেছে। অপরিকল্পিত চিংড়ি ঘের ও অবকাঠামো নির্মাণসহ নানা অব্যবস্থাপনার কারণে লবণের আগ্রাসন বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য।

কয়েকটি নদীর মিষ্টি পানিপ্রবাহের চাপ কমে যাওয়ায় সমুদ্র থেকে উঠে আসছে নোনা পানি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবাদী জমিতে নোনা পানি আটকে রেখে চিংড়ি চাষ করার কারণেও লবণাক্ততার মাত্রা বাড়ছে।

দক্ষিণাঞ্চল জুড়ে এই লবণাক্ততা যে দিন দিন বেড়েই চলেছে তা উঠে এসেছে মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের জরিপে। দক্ষিণের ১১টি জায়গার মাটি ও পানির পরীক্ষা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তরও। তারা বলছে, লবণাক্ততা বাড়ার কারণে মাটির ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে চিংড়ি চাষকে সুষ্ঠু পরিকল্পনার আওতায় নিয়ে আসার কথা বলছেন এই কর্মকর্তা। লবণাক্ততা রোধে মিঠাপানির নদীগুলোতে নিয়মিত ড্রেজিং করার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:

শব্দদূষণ: নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ

স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে তীব্র এবং তীক্ষ্ণ শব্দ প্রতিনিয়ত আমাদের শ্রবণশক্তির ওপর প্রভাব ফেলছে। যার ফলে নানান জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। শব্দদূষণ কমিয়ে আনতে এক কর্মসূচির সমাপনীতে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, সবার মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে শব্দদূষণ কমিয়ে আনা সম্ভব।

শব্দদূষণের মাত্রা নির্ণয়ে আটটি বিভাগীয় শহরে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক কর্মসূচি চালায় পরিবেশ অধিদপ্তর। জরিপে শব্দদূষণের উৎস চিহ্নিত করা, হর্ন গণনা, জনমত যাচাই এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া হয়েছে।পাশাপাশি প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে বিশ হাজার মানুষকে। কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন ছিলো রাজধানীর এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে।

অনুষ্ঠানে প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু বলেন, মানুষের অসীম প্রাণশক্তিকে নীরবে নিঃশেষ করে দিচ্ছে নীরব ঘাতক শব্দদূষণ ।

এছাড়া দূষণ প্রতিরোধে জনগণের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির তাগিদের পাশাপাশি চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং কার্যক্রমের প্রশংসা করেন বিশিষ্টজনেরা।

বিধিমালা ২০০৬ বাস্তবায়নে বিআরটিএ, পুলিশ, সিটি কর্পোরেশন এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে কাজ করার কথা জানায় পরিবেশ অধিদপ্তর।

 

 

বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি যাচ্ছে পদ্মা-মেঘনায়

বুড়িগঙ্গা নদীর দূষিত পানি পৌঁছে যাচ্ছে ইলিশের অন্যতম বিচরণক্ষেত্র পদ্মা- মেঘনায়। দূষণের কারণে নদীতে মাছ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়বে বলে আশংকা করছে মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।

শিল্প বর্জ্যসহ নানান দূষণে বিপর্যস্ত বুড়িগঙ্গা নদীর পানি যাচ্ছে ভাটির দিকে। আর এই ভাটিতে চাঁদপুরের ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার এলাকা ইলিশের প্রজনন ও বাচ্চা ইলিশের বিচরণ ক্ষেত্র।

প্রতি মাসে হাজার হাজার মেট্রিক টন মাছের এই উৎস পদ্মা-মেঘনায় বুড়িগঙ্গার দূষিত পানি মিশে যাওয়ার কথা জানান বিজ্ঞানীরা।

নদী গবেষকরা আরও জানিয়েছেন, পদ্মা-মেঘনায় দূষণের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। পানিতে ক্ষতিকর এমোনিয়ার কারণে দেখা দিচ্ছে মাছের খাদ্য ঘাটতি।

পদ্মা-মেঘনা নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

বিশেষজ্ঞ ও পরিবেশবিদদের আশংকা, বুড়িগঙ্গার দূষণ রোধ না করা গেলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছ উৎপাদন আরও কমতে থাকবে।

বিস্তারিত দেখুন ভিডিও রিপোর্টে:

৬.৩ ইঞ্চি ২কে ডিসপ্লে নিয়ে আসছে স্যামসাং গ্যালাক্সি নোট ৮

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান স্যামসাং এর নোট ৮ ফোন উন্মুক্ত হতে এখন অনেক বাকি। তবে এর মধ্যেই ফোন নিয়ে নানা তথ্য ফাঁস হতে শুরু করেছে। সর্বশেষ চীনা সোশ্যাল মিডিয়া উইবো’তে একজন ব্যবহারকারী নতুন তথ্য ফাঁস করেছেন।

ওই ব্যবহারকারীর তথ্যমতে, গ্যালাক্সি নোট ৮ স্মার্টফোনে থাকবে ৬.৩ ইঞ্চি ২কে সুপার অ্যামোলেড কার্ভড ডিসপ্লে। থাকবে স্ন্যাপড্রাগন ৮৩৫ প্রসেসরে ও ৬ জিবি র‍্যাম। এছাড়াও বলা হয়েছে, ডুয়েল রিয়ার ক্যামেরার নোট ৮ এস পেন এবং ডিইএক্স সমর্থন করবে। আর ফোনটিতে রয়েছে ৩ হাজার ৩০০ এমএএইচ ব্যাটারি যা স্যামসাং এর এস৮ প্লাসের চেয়ে কিছুটা কম।

অন্যদিকে আরেকটি রিপোর্টে দাবি করা হয়, ৬৪ জিবি এবং ১২৮ জিবি এই দুই সংস্করণে আসবে গ্যালাক্সি নোট ৮। এই রিপোর্টে স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের বরাত দিয়ে বলা হয়, বাজার ভেদে এই ফোনের দাম ১ হাজার থেকে ১১০০ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে এ সকল গুজব ছড়ালেও আসলেই কি নোট ৮ ফোনে তা দেখার জন্য প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ব্যস্ত সড়কে আচমকাই পড়ল বিমান (ভিডিও)

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যস্ত সড়কে আচমকাই ভেঙে পড়লো বিমান। ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন সকালে ক্যালিফোর্নিয়ার অরেঞ্জ কাউন্ট্রির মহাসড়কে যানবাহন চলছিল নিয়মিত ছন্দে। কিন্তু হঠাৎ করে আকাশ থেকে সড়কে ভেঙে পড়ে বিমান। বিধ্বস্তের সঙ্গে সঙ্গে সেটিতে আগুন ধরে যায়। আর সেই দুর্লভ মুহূর্তের ছবি ক্যামেরাবন্দি করেন এক গাড়িচালক। খবর আল আরাবিয়ার।

ভয়াবহ সেই বিধ্বস্তের ঘটনায় অবশ্য কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে আহত হয়েছেন দু’জন। গাড়িচালক পরে তার মোবাইলে ধারণ করা ভিডিওটি স্থানীয় কেএবিসি টিভি’তে সম্প্রচারের জন্য পাঠান। সেই সুবাদে ভয়ানক ভিডিওটি দেখে ফেলেন অনেকে।
দেশটির ফেডারেল এভিয়েশন দপ্তরের মুখপাত্র ইয়ান গ্রেগর জানান, দুই ইঞ্জিন বিশিষ্ট সেসনা ৩১০ বিমানটির জরুরী অবতরণের জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার মহাসড়ককেই বেছে নেয় তার চালক। কেননা সান্তা এনার জন ওয়েন বিমানবন্দর ছাড়ার পরই চালক বুঝতে পারেন বিমানে গণ্ডগোল রয়েছে। কন্ট্রোল টাওয়ারকেও চালক ইঞ্জিনের গণ্ডগোলের কথা জানান। তবে রানওয়ে ত্যাগের হাজার ফুটও পেরোতে পারেনি বিমানটি, তার আগেই সেটি মাটিতে নেমে আসে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে দুর্ঘটনাটি ঘটে। চালক প্রথমে চেয়েছিলেন বিমানটিকে বন্দরে ফিরিয়ে নেবেন। কিন্তু তার পক্ষে তা সম্ভব হয়নি।
অরেঞ্জ কাউন্ট্রির ফায়ার সার্ভিসের ক্যাপ্টেন ল্যারি কুর্টজ জানান, “বিমানটি সড়কে উপর ভেঙে পড়ে। এরপরই সেটিতে আগুন ধরে যায়। তবে ভাগ্য ভালো যে, কেউ হতাহত হয়নি।”

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও অগ্নিযোদ্ধারা উদ্ধার কাজ চালায়। স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায় রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে বিমানের খণ্ডিত অংশ। দুর্ঘটনাস্থলের আগুন আর ধোঁয়া দূর থেকেও দেখা যাচ্ছিল।

অরেঞ্জ কাউন্ট্রি শেরিফের মুখপাত্র জানান, বিমানের ভেতর থেকে আহত অবস্থায় দু’জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের একজন পুরুষ ও অপরজন নারী। তাদের মারাত্মক আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।