All posts by lutfor

ঘরে ঘরে অসংখ্য তসলিমা নাসরিন চাই

জেসমিন চৌধুরী :  তসলিমা নাসরিন একসময় লেখার মাধ্যমে একের পর এক বোমশেল ফাটিয়েছিলেন। পূর্ব দিকে সূর্য ওঠার মতই সত্য সব কথাবার্তা বলেছেন, যা অধিকাংশের পক্ষে মেনেও নেওয়া যায় না, আবার ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায় না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও যার অনেকটুকুকেই সত্যি বলে অস্বীকার করার উপায় থাকে না, যে কথাগুলো অমন করে আগে বা পরে কেউ বলার সাহস দেখাতে পারেনি।

যাদের চিন্তার ক্ষমতা আছে তারা তসলিমার কথাগুলো বুঝতে পেরেও তাকে মেনে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই বলে, ‘তসলিমার সবই ভালো, শুধু ধর্ম নিয়ে অহেতুক কথাবার্তাগুলো না বললেই পারতেন’। অনেকে আবার বলেন ‘এদেশে মৌলবাদকে উস্কে দেওয়ার পেছনে তার ভূমিকা এতোই বিশাল যে তার লেখা উপকারের চেয়ে অপকার করেছে বেশি’। অনেকে বলেন ‘তিনি লেখার মাধ্যমে মূলত নিজের ওপরে ফোকাস আনার চেষ্টা করেছেন তাই তার বলা কথাগুলোর চেয়ে তার কৃত কাজগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে অনেক বেশি’। অনেকে বলেন, ‘বেগম রোকেয়াও তো সমাজ পরিবর্তনে নেমেছিলেন, কই তিনি তো ধর্ম নিয়ে কিছু বলেননি’।

ওপরের কথাগুলো বেরিয়ে এসেছে কিছুদিন আগে কয়েকজন শিক্ষিত চিন্তাশীল পুরুষের সাথে তসলিমা বিষয়ে এক ড্রয়িংরুম আলোচনা থেকে এবং পরবর্তীতে এ বিষয়ে আমার একটি ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বিভিন্ন নারী পুরুষদের মন্তব্য থেকে। তসলিমাকে নিয়ে এই আলোচনার সারমর্ম হচ্ছে, ‘তিনি সাহসী এবং তার লেখার বিষয়বস্তু নিঃসন্দেহে বিবেচনার দাবি রাখে, কিন্তু তিনি একজন ফেইম সিকার যে নিজের লেখার বিষয়বস্তু থেকে নিজেকেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ করে তুলে ধরেছেন এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে ধর্মকে আক্রমণ করেছেন শুধুমাত্র দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য’।
তসলিমার সাথে আমার পরিচয় মূলত তাকে নিয়ে আমার পরিচিতজনদের সমালোচনার মাধ্যমে। তিনি যখন লেখিকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ ও খ্যাতি লাভ করেন সেই সময়টায় আমি ব্যক্তিগত জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত ছিলাম বিধায় তার লেখা আমার খুব একটা পড়া হয়নি কিন্তু তাকে নিয়ে সমালোচনা যত শুনেছি, ততই তার প্রতি আমার আগ্রহ বেড়েছে। আমি তসলিমার ভক্তও না, তাই এসব কথা শুনে একমত পোষণ না করলেও আমি খুব একটা প্রতিবাদমুখরও হয়ে ওঠি না।
কিন্তু সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে নারী পুরুষের মধ্যকার বৈষম্যের অভিজ্ঞতা এবং এর কারণ অনুসন্ধানের চেষ্টা থেকে আমি বুঝতে পারি তসলিমা কেন বেগম রোকেয়া না হয়ে তসলিমা হয়েছেন, আমারও কেন তসলিমা হওয়া উচিৎ ছিল, কেন বাংলার প্রতিটি নারীর তসলিমা হওয়া উচিৎ আর কেনইবা তসলিমা নামটির উচ্চারণও আপনাদের জন্য বিছুটি পাতার সংস্পর্শ সদৃশ যন্ত্রণাদায়ক।

বেগম রোকেয়ার সময় থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নারীর সামাজিক অবস্থানে অনেক পরিবর্তন এসেছে সত্যি, কিন্তু নারীমুক্তির মক্কা এখনও অনেক দূর। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় প্রয়োজন দেখা দিয়েছে ভিন্ন ধরনের আন্দোলনের। বেগম রোকেয়ার মতো নারীরা মুক্তির যে ধাপে নারী সমাজকে তুলে দিয়ে গেছেন, আপনারা হয়ত চান নারী সেই ধাপেই বসে থাকুক অনন্তকাল, কিন্তু আমরা সবগুলো ধাপই বেয়ে উঠতে চাই। এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে উত্তরনের জন্য নারীকে আরো দুর্বার, আরো আরো গতিময় হতেই হবে। তসলিমাদের প্রয়োজন এখানেই।

বেগম রোকেয়া লড়েছিলেন নারীর শিক্ষার অধিকারের জন্য। আজ নারীশিক্ষার প্রয়োজনের কথা যদিও তাত্ত্বিকভাবে সর্বস্বীকৃত একটা ব্যাপার, বিশ্বজুড়ে এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন আজো সম্ভব হয়নি, এবং এই হতে না পারার পেছনের কারণগুলো নিয়ে লড়তে গিয়েই নারীকে আরো অনেক কিছুর বিরুদ্ধে কথা বলতে হয়। কান টানলে মাথা আসবেই। নারী অধিকারের কথা বলতে গেলেই সমাজ, সংসার, ধর্মের কথা অবধারিতভাবে ওঠে আসে। তসলিমা নাসরিনদের জন্ম ঘটে সেজন্যই। মুচকি হেসে ফুল ছিটিয়ে বড় কোনও পরিবর্তন কখনও আসেনি, আসবেও না।

আমাদেরকে বলা হয় সুন্দরভাবে আন্দোলন করতে, ভাষার সৌন্দর্য রক্ষা করতে, প্রচলিত কোনও বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কথা না বলতে। কিন্তু আমরা যেসব মেয়েরা ভাবতে শিখেছি, নারীকে খাটো করে রাখা প্রচলিত ধর্মীয় বিশ্বাস আর সামাজিক প্রথাগুলো আমাদেরকে প্রতিনিয়ত কী পরিমাণ কষ্ট দেয় তা বিবেচনা করে দেখলে বুঝতে পারতেন কেন আমরা প্রায়ই ক্ষেপে যাই। আমাদের জায়গায় থাকলে হয়তো আপনিও ততটাই ক্ষেপতেন।

নারী আর পুরুষ- নাক, কান, হাত, পা, মগজ নিয়ে দু’জনেই মানুষ কিন্তু প্রকৃতিগতভাবে তাদের যৌনাঙ্গের গঠন ও ব্যবহারের ধরন ভিন্ন। উভয়েই মানুষ হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক কিছু গঠনের কারণে তাদের কাজকর্মের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা আছে যা মোটেই আমাদের আন্দোলনের বিষয় নয়। পুরুষ চাইলে ধর্ষণ করতে পারে, নারী পারে না। পুরুষ পথের পাশে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে পারে, নারী পারে না। সেরকম জরুরি অবস্থা দেখা দিলে তাকে বসতে হয়, এবং তখন সেটাকে অশোভন ভাবা হয়। তসলিমা তার কোনও লেখায় নারীর পথের পাশে বসে প্রস্রাব করার অধিকারের দাবি জানিয়েছেন কিনা আমি জানি না। আমি নিজে এই দাবি জানাই না। পথের পাশে বসে প্রস্রাব করে পরিবেশ দূষণে পুরুষের সঙ্গী হওয়ার ইচ্ছে নেই আমার। বরং আমার দাবি হচ্ছে সর্বত্র মূত্রালয়ের ব্যবস্থা করা হোক যাতে সকলেই সভ্য ভাবে কাজটি করতে পারে।
তবে এ ক্ষেত্রে শোভন/অশোভনের হিসেবটাতে আমার ঘোর আপত্তি রয়েছে। প্রয়োজনেও নারীর পথের পাশে বসে পড়াটা অশোভন, এই ধারণার উৎপত্তি কোথায়? পুরুষ নারীকে অনাবৃত অবস্থায় দেখলে নিজের কামলিপ্সা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, কাজেই জরুরি প্রয়োজনেও একজন নারীকে আড়াল আবডাল খুঁজতেই হবে, এবং তা না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, নিজের কিডনির বারোটা বাজিয়ে হলেও। এখানে একটা বিষয় স্পষ্ট- নারী ভোগের সামগ্রী এবং পুরুষ ভোক্তা। তা না হলে বিষয়টা উভয়ের জন্য সমান হবে না কেন? যা নারীর জন্য অশোভন তা পুরুষের জন্য অশোভন নয় কেন? মেয়েদের পথের পাশে বসাকে আপনি যতটা অশোভন ভাবেন, আপনার এই ভাবনার পেছনের কারণটা আমার কাছে তার চেয়ে অনেক বেশি অশোভন।

বেগম রোকেয়া সমাজকে মেনে নিয়ে সমাজের ভেতরে বসে সমাজকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন বলে আপনারা তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কারণ কী জানেন? তিনি যেটুকু পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছিলেন তাতে করে আপনাকে এক মিলিমিটার স্থানও নারীকে ছেড়ে দিতে হয়নি তাই আপনি খুশি ছিলেন। আজ নারী তার অবস্থানের পুরোটা অধিকার চাইছে, তাই আপনার ভালো লাগছে না। কিন্তু আপনার ভালো লাগা না লাগায় আমার কী আসে যায়? আমি কোণে বসে কাটিয়েছি হাজার বছর, এবার আপনার পালা। আমার অবস্থানে এসে কয়েকটি দিন কাটিয়ে দেখুন, বুঝে যাবেন খারাপ লাগা কাকে বলে।
একটা অল্প বয়েসী মেয়ে সেদিন ইনবক্সে মেসেজ পাঠিয়েছে, ‘এমন একটা বই লিখতে পারেন না যেটা পড়ে মানুষের ব্রেইন ওয়াশ হয়ে যাবে? যেটা পড়ে তারা মেয়েদেরকে আর ছোট ভাববে না?’ মেসেজটা পড়ে খুব মন খারাপ হলো। একটা সতেরো আঠারো বছরের মেয়েকে, যার এই বয়সে নিজের স্বপ্নের পেছনে ছোটার কথা, কেন এখন এসব কথা তার ভাবতে হয়? জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাকে ছোট করে রাখা না হলে সে কেন একজন অপরিচিত লেখককে এমন প্রশ্ন করে? কোনও ছেলেকে তো কখনও এই প্রশ্ন করতে শুনিনি।
আমি চাই ওই মেয়েটিও তসলিমা নাসরিনের মতো দুরন্ত হবে, কথা বলার সাহস দেখাবে। আমি চাই বাংলাদেশের প্রতিটি মেয়ে হবে তসলিমা নাসরিনের মত অপ্রতিরোধ্য। যে মুখ তাকে নারী হিসেবে ছোট করতে চাইবে, সেই মুখ সে থেঁতলে দেবে। শোভন/অশোভনের হিসাবের যাঁতাকলে নিজের অধিকারকে, মর্যাদাকে বিসর্জন দেবে না। বিনিময়ে হয়তো অশ্রাব্য গালিগালাজ শুনতে হবে তাকে, তবু সে তার নায্য পাওনার জন্য সাহসের সাথে লড়ে যাবে। প্রয়োজনে গৃহহারা হবে তবু বলে যাবে, ‘এই ঘরের অর্ধেকটা আমার ছিল, তুই জোর করে নিয়েছিস। তুই লম্পট। আমি নই, তুই ছোট, আমার থেকে অনেক ছোট’।

লেখক: অভিবাসী শিক্ষক ও অনুবাদক

মামলা পুনঃতদন্তে খালেদার আবেদন খারিজ

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার একাংশের পুনঃতদন্ত চেয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।আদালতে খালেদা জিয়ার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আর দুদকের পক্ষে শুনানি করেন খুরশিদ আলম খান।

এর আগে গত ৯ মার্চ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার করা আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি এম. এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় খালেদা জিয়াসহ মোট আসামি ছয়জন। অন্যরা হলেন, বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক এমপি কাজী সালিমুল হক কামাল ওরফে ইকোনো কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান।
ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান মামলার শুরু থেকেই পলাতক।

বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি: আরো দুই সপ্তাহ পেল সরকার

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করতে সরকারকে আবারো দুই সপ্তাহ সময় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার গেজেট প্রকাশে রাষ্ট্রপক্ষের সময় আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে সময় আবেদন ও এর শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
এর আগেও গেজেট প্রকাশে কয়েক দফা সময় নিয়ে সরকার তা প্রকাশ করেনি।
অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়ন না করায় আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিবকে গত ১২ ডিসেম্বর তলব করেছিলেন আপিল বিভাগ।
গত বছরের ৭ নভেম্বর বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা ২৪ নভেম্বরের মধ্যে গেজেট আকারে প্রণয়ন করতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিলেন আপিল বিভাগ।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেওয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল।

ব্যবসায়ীকে খুন করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পলায়ন

যশোরের মণিরামপুরে দুর্বৃত্তদের হামলায় এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। হামলার পর দুর্বৃত্তরা মণিরামপুর বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রতন পালের (৪৫) ব্যাগভর্তি টাকা লুটে নেয়। শনিবার রাত ১১টার দিকে মণিরামপুরের দোলখোলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। পরিমল পাল দোলখোলা এলাকার মহাদেব চন্দ্র পালের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, মণিরামপুরের কুলটিয়া মোড়ের মেসার্স পাল ব্রাদার্সের স্বত্ত্বাধিকারী তিন ভাই- রতন পাল, কার্তিক পাল ও পরিমল পাল।

প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে তারা বাড়ি ফিরছিলেন। মাইক্রোবাসে করে ব্যাগভর্তি টাকা নিয়ে তারা বাড়ির সামনে দোলখোলা মোড়ে পৌঁছান।
এ সময় গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। টাকার ব্যাগ নিয়ে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা পরিমল পালকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর তারা টাকার ব্যাগ নিয়ে বোমা ফাটিয়ে পালিয়ে যায়।

পরিমলকে আহত অবস্থায় প্রথমে মণিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হয়। যশোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
মণিরামপুর থানার ওসি মোকাররম হোসেন জানান, হামলায় আহত পরিমল পালকে হাসপাতালে রক্ত দেওয়ার পরই মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বাজারের নৈশপ্রহরী আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তিনি জানান, হামলার আগে দুর্বৃত্তরা আবুল হোসেনের সঙ্গে বাজারে গল্প করেছিলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নওগাঁয় ৬৯ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য, নাজুক স্বাস্থ্য সেবা

নওগাঁর ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের ১৯০টিই শূন্য। এ কারণে জেলায় চিকিৎসা সেবার নাজুক হয়ে পড়েছে। চিকিৎসাবঞ্চিত হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র সাধারণ মানুষ। নওগাঁ সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার ১১টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২৭৫টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৫জন অর্থাৎ জেলায় ৬৯ দশমিক ১ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৩টি পদের মধ্যে সবাই কর্মরত আছেন, মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের ২১ পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৫জন, মহাদেবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১জনের জায়গায় আছেন ৯জন, আত্রাই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০জনের স্থলে আছেন ৮জন, রানীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০জনের মধ্যে ৮জন, বদলগাছি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ পদের মধ্যে ১১জন, পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১জনের মধ্যে ৯জন, সাপাহার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১জনের মধ্যে ৭জন, নিয়ামতপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১৩জনের জায়গায় ৮জন, পোরশা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১০জনের মধ্যে ৬জন এবং ধামইরহাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২১ পদের মধ্যে ৭জন চিকিৎসক আছেন। আর জেলার ৯৯টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কোনোটিতেই বর্তমানে চিকিৎসক নেই। সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত ৪জন চিকিৎসকসহ জেলায় ২৭৫টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে মাত্র ৮৫জন কর্মরত আছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর কোনো কোনোটিতে আবার শল্যচিকিৎসকের অভাবে বড় অস্ত্রোপচার হয় না।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের সামনে রোগীদের দীর্ঘ সারি। রোগীদের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। কথা হয় উপজেলার ছোট বেলালদহ গ্রামের সানোয়ারা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘তিন দিন আগে হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পয়ে ঘুরে গেছি। তাই আজ আবার আসছি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে টিকিট কেটে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ডাক্তার নাই। দেড় ঘণ্টা ধরে শুনছি ডাক্তার আসছে। আজকে চিকিৎসা না পাইলে চিন্তা করছি আর এখানে আসুম না।’
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মনোরঞ্জন মন্ডল বলেন, প্রতিদিন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৫০ থেকে ৩০০জন রোগী সেবা নিতে আসেন অথচ ৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক মাত্র ৫জন। মান্দার মতো চিকিৎসক-সংকট রয়েছে মহাদেবপুর, পত্নীতলা, ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ৫০ শয্যার এসব হাসপাতালে মাত্র ছয়-সাতজন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রঞ্জন কুমার চৌধুরী বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কোনো চিকিৎসক না থাকায় রোগীর সব চাপ এসে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। মাত্র আটজন চিকিৎসক দিয়ে প্রতিদিন ২০০ থেকে ২৫০জন রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে নয়, চিকিৎসক-সংকট আছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর আধুনিক হাসপাতালেও। এ হাসপাতালে ৪২টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩২জন চিকিৎসক। অথচ প্রতিদিন এ হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রায় দেড় হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন।

নওগাঁ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মুনীর আলী আকন্দ বলেন, বহির্বিভাগে সকাল নয়টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত আটজন চিকিৎসক প্রতিদিন গড়ে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি রোগী দেখেন।

সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মো. এমদাদুল হক বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অস্ত্রোপচার না হওয়ায় পুরো জেলার রোগী এখানে আসে। ১০০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ১৫০জন রোগী ভর্তি থাকে। প্রায় সময়ই অনেক রোগীকে মেঝেতে থাকতে হয়।
এসব বিষয়ে নওগাঁর সিভিল সার্জন ডাঃ রওশন আরা খানম বলেন, ২০১৪ সালে ৩৩তম বিসিএসে পাস করা প্রায় ৫০জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। এরপর নওগাঁয় আর কোনো চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। দুই বছর মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের অনেকে উচ্চতর কোর্স করতে বিদেশে বা বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। এতে চিকিৎসক-সংকট প্রকট হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ‘হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে অধিদপ্তর থেকে শূন্য পদের তালিকা চেয়ে পাঠানো হয়েছে। আমরা সেই তালিকা অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছি। ৩৪ ও ৩৫তম বিসিএসএ পাস করা চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু ফল পাচ্ছি না।’

বান্দরবানে বোন হত্যার অভিযোগে বোন গ্রেফতার

বান্দরবানে বড় বোন নাছিমা আক্তারকে হত্যার অভিযোগে পুলিশ ছোট বোন সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে বান্দরবানের ভরাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে। সদর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন তাদের বাবা নুরুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত এক বছর আগে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পদুয়া এলাকার নুরুল ইসলামের মেয়ে নাছিমা আক্তারের সাথে বিয়ে হয় বান্দরবানের বালাঘাটার ভরাখালি এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের। বিয়ের পর পরই নাছিমার ছোট বোন সুমি আক্তারের দিকে নজর যায় আনোয়ারের। এ নিয়ে পরিবারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝড়গা বিবাদ লেগেই ছিল। বেশ কিছুদিন আগে আনোয়ার সুমিকে পদুয়া থেকে বান্দরবানে নিয়ে এসে অন্য একটি বাসায় তুলে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝড়গার একপর্যায়ে নাছিমাকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটায় আনোয়ার। এতে নাছিমা জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে সে মারা যায়। এই ঘটনার পর আনোয়ার নাছিমার লাশ রেখে হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়।
নাছিমার পরিবারের অভিযোগ, আনোয়ার নাছিমাকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল।
এদিকে হত্যার অভিযোগ এনে নাছিমার বাবা নুরুল ইসলাম তার জামাই আনোয়ার হোসেন ও মেয়ে সুমি আক্তারকে আসামি করে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ শনিবার বিকেলে সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনাটি নিয়ে বান্দরবানে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন হত্যাকান্ডের সময় নিহত নাছিমা আক্তারের তিন শিশু সন্তান ঘরে থাকলেও শনিবার সকাল থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। মার হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় আনোয়ার তাদের সরিয়ে রেখেছে বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের মা জয়নাব বেগম জানান, “আমার মেয়েকে সবসময় মারধর করতো, এ নিয়ে অনেকবার বিচার শালিস হয়েছে, আর কোনদিন মারধর করবেনা বলে স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর দিয়েছে, তবুও মেয়ে প্রাণে বাঁচলোনা, আমি এই হত্যার বিচার চাই।”
বান্দরবান সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ ওমর শরীফ জানান, হাসপাতালে আনার আগেই নাছিমার তার মৃত্যু হয়েছে, তবে কি কারণে হয়েছে তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলে বলা যাবে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে নিহতের আপন ছোট বোন সুমি আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গাজীপুরে যুবলীগ নেতার পেটে ছুরি মেরে হত্যা

গাজীপুরের টঙ্গীতে রেলওয়ের পরিত্যক্ত একটি ভবনের ভেতর থেকে টঙ্গী থানা যুবলীগ নেতা কামাল হোসেনের (৫০) লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় দুর্বৃত্তরা তাকে ছুরিকাঘাত করে খুন করে।
নিহত কামাল রেলওয়ের সাবেক কর্মচারী মরহুম অলিউর রহমানের ছেলে। তিনি আওয়ামী যুবলীগের টঙ্গী থানা শাখার সাবেক সহ-সভাপতি।
এলাকাবাসী জানায়,সন্ধ্যার দিকে কে বা কারা রেলওয়ের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর কামাল হোসেনকে পেটের মাঝামাঝি স্থানে একটি ছোঁড়া দিয়ে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়,ওই ভবনের ভেতরে কামাল হোসেন তার বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই আড্ডা দিতেন। দিনের বেশিরভাগ সময়ই তিনি ওই ভবনে অবস্থান করতেন।
খবর পেয়ে টঙ্গী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. ফিরোজ তালুকদার বলেন,‘এটি একটি নৃশংস খুনের ঘটনা। শিগগির এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনা হবে।’

অপহরণের ৩ দিন পর শিশু উদ্ধার

অপহরণের ৩ দিন পর নরসিংদীর চৌয়ালা থেকে ৭ মাসের শিশু সাবিকুন নাহার তোহাকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত সাবিনা আক্তার (২০) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবার ভোরে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের ডেকেরচালা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
শনিবার বিকেলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আমেনা বেগম বিপিএম সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান।
অপহৃত শিশু সাবিকুন নাহার তোহা নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকার আলমগীর হোসেনের মেয়ে। আর গ্রেপ্তারকৃত সাবিনা আক্তার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সোহাগপুর গ্রামের রাকিবুল হাসান রানার স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আমেনা বেগম জানান, গত ২৮ জুন বিকেল ৪টার দিকে নরসিংদী শহরের চৌয়ালা এলাকার একই বাড়ির ভাড়াটিয়া রাকিবুল হাসান রানা ও তার স্ত্রী সাবিনা আক্তারসহ আরও কয়েকজন শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে অপহরণকারীরা শিশুটির পরিবারের কাছে ১ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। ঘটনার পরেরদিন নরসিংদী মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়।

নরসিংদী মডেল থানার পুলিশ শিশুটির উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। তিনদিন পর গাজীপুর জেলার জয়দেবপুরের ডেকেরচালা এলাকার জনৈক গাজী বিল্লালের বাড়ির ভাড়াটিয়া আসু মিয়ার কক্ষ থেকে অপহৃত শিশু সাবিকুন নাহার তোহাকে উদ্ধার করা হয়। অপহরণের সাথে জড়িত মামলার ২য় আসামী সাবিনা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই চক্রের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) হাসিবুল আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শফিউর রহমান, নরসিংদী সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

মালয়েশিয়ায় ৫১৫ বাংলাদেশি আটক

মালয়েশিয়ায় অবৈধ বিদেশি শ্রমিকদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানের প্রথম দিন এক হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫১৫ জন বাংলাদেশি শ্রমিক রয়েছেন। রোববার মালয়েশিয়ার দ্য স্টার অনলাইন এ খবর দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আটকদের মধ্যে ১০১ জন নারী, তিনজন শিশু ও ১৬ জন স্থানীয় নিয়োগকারী রয়েছেন। মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক দাতুক সেরি মুস্তাফার আলী বলেন, ‘দেশজুড়ে ১৫৫টি স্থানে অভিযান চালানো হয়। তিন হাজার ৩৯৩ জন সন্দেহভাজন বিদেশির কাগজপত্র পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা শেষে এক হাজার ৩৫ জন অবৈধ বিদেশি শ্রমিককে আটক করা হয়।’

তিনি বলেন, ‘আটক হওয়া অবৈধ বিদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাংলাদেশিরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। এই সংখ্যা ৫১৫ জন। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার ১৩৫ জন, মিয়ানমারের ১০২ জন, ফিলিপাইনের ৫০ জন, থাইল্যান্ডের ৫ জন, ভিয়েতনামের দু’জন ও বাকিরা অন্যান্য দেশের নাগরিক।’

মালয়েশিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক জানান, ই-কার্ডের জন্য আবেদন করার সময়সীমা না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে তার বিভাগ অনড় অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আবেদনের জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে সময়সীমা নতুন করে বাড়ানোর কোনো কারণ নেই। এই বিষয়ে চাকরিদাতা ও অবৈধ শ্রমিকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এখন থেকে প্রতিদিনই অভিযান চালানো হবে।’
শুক্রবার মধ্যরাতে সাময়িক বৈধতার জন্য মালয়েশিয়া সরকার ঘোষিত এনফোর্সমেন্ট কার্ডের (ই-কার্ড) জন্য আবেদন করার সময়সীমা শেষ হয়। এরপরই বড় ধরনের অভিযানে নামে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।
এর আগে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি ই-কার্ডের জন্য আবেদন শুরু হয়েছিল।

মালয়েশিয়ার অভিবাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, দেশটিতে প্রায় ৬ লাখ অবৈধ বিদেশি শ্রমিক অবস্থান করছেন। এ পর্যন্ত আবেদন করেছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬ জন, অর্থাৎ মাত্র ২৩ শতাংশ।

সংগ্রহের পর শাক-সবজি সংরক্ষণে করণীয় : ড. মো: বাশারত আলী সরকার

সুস্বাদু খাবার পছন্দ করে না এমন মানুষ খু্ঁজে পাওয়া ভার। স্বাদে গন্ধে পুষ্টিতে দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় যদি হয় সে খাদ্য সম্ভার। সামর্থ অনুযায়ী ভোজন বিলাসী সব মানুষই। নির্ভেজাল পুষ্টিকর পরিমিত খাদ্য খেয়ে সুস্থ থাকতে চাই সবাই। তবে, পুষ্টি সমৃদ্ধ সতেজ নির্ভেজাল শাক-সবজি, ফলমূল বাজারে মেলেই না আজকাল। আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে সে সব দিনকাল যখন, সতেজ পুষ্টিকর শাক-সবজি ফলমূল সবই ছিল একদম নির্ভেজাল।

আজকাল এসব কাঁচা দ্রব্যাদির জন্য অধিকাংশ মানুষকেই হতে হচ্ছে বাজারের উপর নির্ভরশীল। কোথায় পাবো আগের মতো জমি থেকে সদ্য উঠানো সবজি-ফলমূল? ত্রুটিপূর্ণ উপায়ে সংরক্ষণ করার কারণে পুষ্টিমান ও গুণাগুণ হারিয়ে এসব মূল্যবান শাক-সবজি ও ফল, খাদ্য হিসেবে হয়ে যেতে পারে পুরোটাই বিফল।

আমাদের জনসংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ কয়েক গুণ। চাষের জমি কমেছে। খাদ্য চাহিদা বেড়েছে। তারপরও আল্লাহর রহমতে উন্নত কৃষি বিজ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগে অল্প জমিতেই ফসলের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। তবে সব ফসলের ফলন আমরা সমানভানে বাড়াতে পারিনি। বিশেষ করে ফলমূল শাক-সবজির উৎপাদন আমাদের চাহিদা-ঘোড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৃদ্ধি পায়নি। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অপরদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, কারখানা ইত্যাদি তৈরির ফলে চাষাবাদের জমি কমে যাচ্ছে। অবস্থার প্রেক্ষিতেই মানুষের পেশাও পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রাম ছেড়ে অনেক মানুষ শহরের পানে ছুটছে। শহরে বসবাসকারী এবং ভূমিহীন গ্রামবাসী তাদের শাক-সবজি, ফলমূলের জন্য কাঁচা বাজারের উপর নির্ভরশীল। পচনশীল এসব খাদ্যদ্রব্য গ্রাম থেকে শহরে পৌঁছতে নানান ধকল সামলাতে হয়। ইদানিং যে বিষয়টি স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো শাক-সবজি ফলমূল, রোগ পোকা মাকড় মূক্ত রাখার জন্য কোন কোন চাষী বা ব্যবসায়ী নির্বিচারে বিষাক্ত কীটনাশক বা রোগনাশকের ব্যবহার এবং পচনশীল শাক-সবজি, ফলমূল দীর্ঘদিন গ্রাহকের দৃষ্টিতে সতেজ দেখানোর প্রয়াসে নানান ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার। আমাদেরকে অবশ্যই এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

জমি থেকে তথা গাছ থেকে শাক-সবজি, ফলমূল সংগ্রহ করার পর এসব পচনশীল খাদ্য দ্রব্যের পুষ্টিমান ও গুণাগুণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। সদ্য সংগৃহীত এসব পচনশীল দ্রব্যের গুনাগুণের ক্রম অবনতি রোধ কল্পে আমাদের করণীয় কি সে বিষয়ে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

সতেজ শাক-সবজি, ফলমূল সংগ্রহের পর তার অভ্যন্তরে কি ঘটে?
আমরা জানি শাক-সবজি ফলমূল ইত্যাদি সংগ্রহের পর পরই গাছ থেকে এদের খাদ্য বা পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বন্ধ হয়ে য়ায়। অর্থাৎ সংগ্রহের সময় ফলমূল শাক-সবজিতে যে পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকে সেটিই সর্বোচ্চ। ফসল সংগ্রহের পর এ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ আর বৃদ্ধি পায় না। উপরন্তু ক্রমেই তা কমতে থাকে। কি হারে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ও খাদ্যোপযোগী গুণাগুণ কমবে তা বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। আমাদের মনে রাখতে হবে, গাছ থেকে ফলমূল শাক-সবজি সংগ্রহের পরও ওদের কোষগুলো জীবন্ত থাকে। অর্থাৎ এসব সতেজ দ্রব্যের শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ তখনও চলতে থাকে। আমরা জানি শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবকোষ তার খাদ্য উপাদান তথা কার্বোহাইড্রেড ভেঙে কার্বোনডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প তৈরি করে এবং এনার্জি পেয়ে থাকে। এই এনার্জি কাজে লাগিয়ে জীবকোষগুলো বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। লক্ষণীয় যে, শ্বাস- প্রশ্বাসের ফলে আমাদের সতেজ খাদ্য দ্রব্যগুলো তার অভ্যন্তরীণ উপাদান হারিয়ে ফেলে, ফলে ওজন ও গুণাগুণ হ্রাস পায়।

মাঠ থেকে তথা গাছ থেকে সংগ্রহের পর পচনশীল এসব সামগ্রী নানান ভাবে গুণাগুণ হারাতে থাকে। যেমন: কার্বোন ডাই- অক্সাইড সৃষ্টির ফলে কার্বোহাইড্রেড হ্রাস পাওয়া, জলীয় পদার্থের হ্রাস, তাপের কারণে ক্ষত হওয়া, ফসল সংগ্রহ ও স্থানান্তরের সময় আঘাৎজনিত ক্ষত হওয়া, দাগ পড়া, পোকায় খাওয়া, রোগ-জীবাণুর আক্রমণের ফলে পঁচে যাওয়া ইত্যাদি। বাতাসের আর্দ্রতা, গ্যাসীয় উপাদান, তাপমাত্রা ইত্যাদি এসব ক্ষয় ক্ষতির প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
উপযুক্ত পরিপক্ক অবস্থায় অনুকূল পরিবেশে ফসল সংগ্রহ করলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় সে ফসল ঘরে সংরক্ষণ করা যায়। অতি কচি বা অধিক পরিপক্ক অবস্থায় এসব ফসল সংগ্রহ করলে সংরক্ষণের গুণাগুণ লোপ পায় ফলে সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয় না।

শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ও ইথাইলিন গ্যাসের প্রভাব
শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া : ফসল সংগ্রহের পরও শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শুষ্ক ফসল যেমন ধান, গম ইত্যাদির তুলনায় শাক-সবজি, ফলমূল জাতীয় সতেজ ফসলের শাস প্রশ্বাসের হার অনেক বেশি। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় আমাদের সতেজ শাক-সবজি, ফলমূল বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বোহাইড্রেড ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। ফলে এসব দ্রব্যের সতেজতা হারিয়ে শুকিয়ে যায়, ওজন কমে, মিষ্টতা কমে, মচমচে ভাব হ্রাস পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এবং গ্রাহক চাহিদা প্রায় থাকেই না। শ্বাস-প্রশ্বাস হারের সঙ্গে সমান্তরাল হারে এসব দ্রব্যের গুণাগুণ হ্রাস পেতে থাকে। গাছ থেকে সংগ্রহের পর, নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল এবং গাছের Storage organ (গাছের যেসব অঙ্গ খাদ্য মজুদ করে রাখে যেমন- গোল আলু, মিষ্টি আলু ইত্যাদি) এর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ধীর গতিতে কমতে থাকে। অপরপক্ষে কাঁচা ফল ও সতেজ শাক-সবজি’র শ্বাস-প্রশ্বাসের হার (গাছ থেকে সংগ্রহের পর) দ্রুত গতিতে কমতে থাকে। কারণ, এসব দ্রব্যে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার মতো উপাদান (কার্বোহাইড্রেড)-এর মজুদ কম থাকে, যা দ্রুত নি:শেষ হয়ে যায়। অতএব, এসব দ্রব্যের Shelf life বা সংরক্ষণ কাল দীর্ঘ করার একটি প্রধান উপায় হলো সংগ্রহের পর এদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার হার কমানোর ব্যবস্থা করা।
শ্বাস-প্রশ্বাসের হার পারিপার্শিক কতকগুলো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। সাধারণ পারিপার্শিক অবস্থায় এসব দ্রব্যের শ্বাস-প্রশ্বাসের হারও স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু যে কোন ধরনের Stress বা চাপ অর্থাৎ অস্বাভাবিক কষ্টকর পরিস্থিতিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। সাধারণ আলো, রেডিয়েশন বা বিভিন্ন বিশেষ আলোক রশ্মি, গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন- ইথাইলিন গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়িয়ে দেয়), রাসায়নিক পদার্থ, তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা, শারীরিক আঘাৎ, গ্রোথ রেগুলেট এর ব্যবহার, জলীয় পদার্থের ঘাটতি, রোগ জীবাণুর আক্রমণ ইত্যাদি শ্বাস-প্রশ্বাস হারের উপর প্রভাব ফেলে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর তাপমাত্রার প্রভাব : শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর তাপমাত্রার প্রভাব এতই বেশি যে, পরীক্ষায় দেখা গেছে একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে প্রতি ১০০ সে: তাপমাত্রা বাড়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার দ্বিগুণ এমন কি ক্ষেত্র বিশেষে তিন গুণ হতে পারে। ফলে, উচ্চ তাপমাত্রায় এসব দ্রব্যের সংরক্ষণকাল কমে যায় এবং নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত হয়। কিন্তু তাই বলে ইচ্ছে মতো তাপমাত্রা কমিয়ে ডিপ ফ্রিজে নির্বিচারে আমাদের সব ফলমূল শাক-সবজি সংরক্ষণ করবো এমনটি কিন্তু সম্ভব নয়! সংরক্ষণের তাপমাত্রা খুব বেশি পরিমাণ কমে গেলে Chilling injury and Cold injury হবে অর্থাৎ ঠাণ্ডায় ক্ষত সৃষ্টি হবে। জৈব কোষ গুলোর অভ্যন্তরীণ জলীয় পদার্থ জমে Crystal form করবে অর্থাৎ বরফ হয়ে যাবে এবং কোষের আবরণ ফেটে কোষের অভ্যন্তরীণ পদার্থ বেরিয়ে আসবে। ফলমূল শাক-সবজির আসল গড়ন আর থাকবে না- মচমচে গুণ হারাবে এবং থেল থেলে হয়ে লেতিয়ে পড়বে। স্বাদ, গন্ধ ও তরতাজা আকর্ষণীয় গুণও থাকবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অবস্থায় ইথাইলিন তৈরির পরিমাণ বেড়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ে, সালোক সংশ্লেষণের হার কমে, এনার্জি তৈরি কম হয়, জীব কোষ অভ্যন্তরে বিষাক্ত পদার্থ জমে (যেমন- ইথানল, এ্যাসেটালডিহাইড) এবং কোষের গঠন নষ্ট হয়। বিভিন্ন দ্রব্যের জন্য চিলিং ইনজুরি ঘটার তাপ মাত্রার পরিমাণ এক নয়। তবে, স্বাধারণত: ১০০-১৩০ সে: এর নীচের তাপমাত্রায় উদ্যান ফসল (শাক-সবজি, ফলমূল) সংরক্ষণ করলে চিলিং ইনজুরি হয়ে থাকে।

ইথাইলিন গ্যাস ও তার প্রভাব : ইথাইলিন একটি বর্ণহীন গ্যাস যা উদ্ভিদ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করে থাকে। এটি একপ্রকার উদ্ভিদ হরমোন যা Plant growth regulator বা উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। বিশেষত: ফল পাকার ক্ষেত্রে ইথাইলিনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক উপায়ে উদ্ভিদ কর্তৃক সৃষ্ট ইথাইলিন গাছে এবং সংগ্রহ-উত্তর কালে ফল পাকতে সাহায্য করে। ফল পাকার সময় ইথাইলিন উৎপাদনের পরিমাণও বেড়ে যায়। একারণে দেখা যায় যখন দু-একটি ফল (যেমন: আম, কলা) পাকা শুরু করে তখন তা ঢেকে রাখলে তার সাথের অন্যান্য ফলগুলোও দ্রুত পেকে যায়। আর পাকা ফলগুলো বেছে আলাদা করে রাখলে কাঁচা ফলগুলো পাকতে বিলম্ব হয়। আবার ইথাইলিন গ্যাস জীব কোষের Senescence বা বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। ইথাইলিন ফল পাকতে যেমন সাহায্য করে তেমনি সবজির জীব কোষে বার্ধক্য এনে সেগুলোর সতেজতা বিনষ্ট করে পুষ্টি গুণাগুণ নষ্ট করে। ইথাইলিন গ্যাস গাছের পাতায় Senescence ঘটায় ফলে পাতা ঝরে পড়ে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, প্রাকৃতিক উপায়ে উদ্ভিদ যে পরিমাণ ইথাইলিন তৈরি করে ফল পাকাতে সাহায্য করে তা আমাদের শরীরের জীব কোষের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কৃত্রিম উপায়ে ইথাইলিন গ্যাস সৃষ্টি করে দ্রুত যে ফল পাকানো হয় তা আমাদের শরীরের জীব কোষগুলোকে দ্রুত বার্ধক্যে পৌঁছতে সাহায্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা করে দেখা খুবই প্রয়োজন।
ক্লাইম্যাক্ট্রিক (Climactric) ও নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক (Non-climactric) ফল : শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ও ইথাইলিন গ্যাস উৎপাদনের হার বিবেচনা করে ফলকে সাধারণত: দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল (Climactric fruits) এবং নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল (Non-climactric fruits) ।

ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল : কতকগুলো ফল পাকার সময় তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস বৃদ্ধির হার সুনির্দিষ্টভাবে চারটি স্তরে বিভক্ত হতে দেখা যায়। রেখাচিত্র অংকন করলে দেখা যাবে- এসব ফল পাকার শুরুতে খুব কম সময়ের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের হার কমে যায় (Pre-climactric minimum)। এরপর দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায় (Climactric rise) এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায় (Climactric peak), এরপর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার দ্রুত কমে যায় (Post climactric decline)। ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল পাকার সময় ইথাইলিন গ্যাস তৈরি করে যা ফল পাকতে সাহায্য করে। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহের পরও স্বাভাবিকভাবে পাকার প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং মিষ্টতা বাড়তে থাকে তবে, ফল নরম হতে থাকে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়- আম, কাঁঠাল, কলা, আপেল, পেয়ারা, পেপে, টমেটো, নাসপাতি, প্লাম, চেরি, এভোকাডো, পীচ, ডুমুর (ফিগ), ডুরিয়ান, ইত্যাদি ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল।
নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল : নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল, গাছ থেকে সংগ্রহের পর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ক্রমেই কমতে থাকে, কখনই তা বৃদ্ধি পায় না এবং ইথাইলিন গ্যাসও তৈরির পরিমাণও নগণ্য। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহের পর আর পাকে না, মিষ্টতাও বৃদ্ধি পায় না, বরং মিষ্টতা কমতে থাকে; অভ্যন্তরীণ জলীয় পদার্থ বাষ্পাকারে হারিয়ে যায় এবং ফল শুকিয়ে যায়। নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফলের উদাহরণ- আনারস, লিচু, তরমুজ, বাংগী, লেবু, কমলা লেবু, ডালিম, কামরাঙ্গা, রামবুটান, স্ট্রবেরি ইত্যাদি।

সংগ্রহের পর বিভিন্ন ফলমূল, শাক-সবজি’র সংরক্ষণ উপযোগী তাপমাত্রা, বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও কাংক্ষীত সংরক্ষণ কাল নিম্নে উল্লেখ করা হলো- টেবিল নং১
সতেজ ফলমূল,
শাক-সবজি’র নাম সংরক্ষণ উপযোগী
তাপমাত্রা (০ সে:) আপেক্ষিক আর্দ্রতা (%) কাঙ্খিত সংরক্ষণ কাল (দিন/সপ্তাহ/মাস)
গাজর ০ ৯০-৯৫ ২-৫ মাস
ফুল কপি ০ ৯০-৯৫ ২-৪ সপ্তাহ
বাঁধা কপি ০ ৯০-৯৫ ৩-৬ সপ্তাহ
পেঁয়াজ (শুকনা) ০ ৬৫-৭০ ১-৮ মাস
বাংগী ০-৪.৪ ৮৫-৯০ ৫-১৪ দিন
আপেল ১-৪.৪ ৯০ ৩-৮ মাস
সীম (সতেজ) ৫-৭ ৯০-৯৫ ৭-১ দিন
শশা ৭-১০ ৯০-৯৫ ১০-১৪ দিন
কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম ৭-১০ ৯০-৯৫ ২-৩ সপ্তাহ
বেগুন ৭-১০ ৯০ ১ সপ্তাহ
ঢেঁড়শ ৭-১০ ৯০-৯৫ ৭-১০ দিন
গোল আলু (সাদা) ৫-১০ ৯৩ ২-৫ মাস
মিষ্টি আলু ১২-১৬ ৮৫-৯০ ৪-৬ মাস
টমেটো (পাকা) ৭-১০ ৮৫-৯ ৪-৭ দিন
টমেটো (কাঁচা) ১২-২০ ৮৫-৯০ ১-৩ সপ্তাহ
এভোকাডো ৪.৪-১২.৫ ৮৫-৯০ ২-৪ সপ্তাহ
আম ১২ ৮৫-৯০ ২-৩ সপ্তাহ
আনারস ৭-১২.৫ ৮৫-৯০ ২-৪ সপ্তাহ
পেঁপে ৭ ৮৫-৯০ ১-৩ সপ্তাহ
সংগ্রহের পর সতেজ শাক-সবজি, ফলমূলের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি করার উপায়ঃ
১। মাঠ থেকে শাক-সবজি, ফলমূল সংগ্রহের সঠিক পরিপক্কতা : উপযুক্ত পরিপক্ক অবস্থায় অনুকূল পরিবেশে ফসল সংগ্রহ করলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় সে ফসল ঘরে সংরক্ষণ করা যায়। অতি কচি বা অধিক পরিপক্ক অবস্থায় এসব ফসল সংগ্রহ করলে সংরক্ষণের গুণাগুণ লোপ পায় ফলে সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয় না।
২। সকালের দিকে, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে দিনের যে সময় তাপমাত্রা কম থাকে, সে সময়ই ফলমূল, শাক-সবজি সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।
৩। ফসল সংগ্রহের পরই সঠিকভাবে বাছাই করে নিতে হবে। পোকা মাকড়, রোগ বালাই মূক্ত অক্ষত ও একই পরিপক্কতা বিশিষ্ট্য দ্রব্য বাছাই করে নিতে হবে।
৪। ফসল সংগ্রহের পর দ্রুত তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রৌদ্রের মধ্যে এসব দ্রব্য ফেলে রাখা ঠিক নয়। দ্রুত ছাঁয়ায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়েও এসব দ্রব্যের শারীরিক তাপমাত্রা দ্রুত কমানো যায়।
৫। সংগৃহীত দ্রব্যাদি স্থানান্তরঃ বাণিজ্যিকভাবে অধিক পরিমাণ দ্রব্য দূরে স্থানান্তর করতে হলে দ্রব্যগুলি অবশ্যই প্যাকেজ করে নিতে হবে যাতে স্থানান্তরের সময় ক্ষত না হয়। এছাড়া Cold conveyance বা ঠাণ্ডা গাড়িতে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬। গন্তব্যে পৌঁছার পর দ্রব্যগুলি সংরক্ষণের পূর্বে ভালভাবে বাছাই করে নিতে হবে যাতে কোনো পাকা ফল কাঁচা ফলের সঙ্গে না থাকে। কারণ এমনটি হলে, পাকা ফল থেকে নি:সৃত ইথাইলিন গ্যাস কাঁচা ফলকে দ্রুত পাকতে সাহায্য করবে।
৭। সংরক্ষণের কক্ষটিতে ভাল ভেন্টিলেশন এর ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে করে এসব দ্রব্য থেকে নি:সৃত ইথাইলিন গ্যাস দ্রব্যগুলোর চারিপার্শ্বে না থেকে দ্রুত তা বাহিরের বাতাসের সংগে মিশে যেতে পারে।
৮। বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণের জন্য CA (Controlled atmosphere) বা নিয়ন্ত্রিত গ্যাসীয় অবস্থায় এসব দ্রব্যাদি সংরক্ষণ করা যায়। স্বাধারণত: বাতাসে ৭৮% ভাগ নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন, এবং ০.০৩% কার্বোন-ডাই অক্সাইড থাকে। এসব দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সাধারণত: অক্সিজেন ৮% এর নীচে এবং কার্বোন ডাই-অক্সাইড ১% এরউপরে রাখা হয়।
৯। এসব সতেজ দ্রব্যাদি সংরক্ষণের উপযোগী তাপমাত্রা (০ সে:) ও বাতাসের আর্দ্রতার মাত্রায় (%) ভিন্নতা রয়েছে। প্রতিটি দ্রব্য তার জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বাতাসের নির্দিষ্ট আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করতে হবে। (উদাহরণ-উপরে উল্লিখিত: টেবিল-১)।
সতেজ ফলমূল, শাক-সবজি পুষ্টির আধার!
সংরক্ষণ করতে হলে, তা নিশ্চয়ই করতে হবে বৈজ্ঞানিক পন্থায়-
তাই, এব্যাপারে কেউ যেন আর না থাকি নির্বিকার।
লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ।