All posts by lutfor

৪৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চান ট্রাম্পের অপসারণ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপসারণ চান দেশটির অর্ধেকের কিছু কম নাগরিক। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের অভিশংসনের পর এক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোস গতকাল বৃহস্পতিবার জরিপটি প্রকাশ করে। জরিপে এক হাজার ১০৮ জন মার্কিন নাগরিক মতামত জানান। তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনে ৪৪ শতাংশ একমত ও ৪১ শতাংশ দ্বিমত প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রসঙ্গে ৫৩ শতাংশ মনে করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প এবং ৫১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। মতামতদাতাদের মধ্যে ৪২ জন, যাঁদের সবাই ডেমোক্র্যাট, বলেছেন, ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হোক, যেহেতু সিনেটের এই ক্ষমতা আছে।

১৭ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্পকে কংগ্রেসনাল সেন্সর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো উচিত। ২৯ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বাতিল করে দেওয়া উচিত। আর বাকিরা কোনো মতামত দেননি। ট্রাম্পের অভিশংসনের ক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক একমত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ৪১ শতাংশ নাগরিক এ ক্ষেত্রে দ্বিমত প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের অভিশংসনের পর অনুভূতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ২৬ শতাংশ নাগরিক জানান, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তাঁদের সমর্থন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এখন কম সমর্থনযোগ্য। অন্যদিকে ৪৮ শতাংশ মানুষ জানান, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তাঁদের চিন্তা-ভাবনার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

রয়টার্স ও ইপসোসের এ জরিপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, কম সংখ্যক মার্কিন নাগরিক চান কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ট্রাম্পকে অপসারণ করুক। আগামী বছরের শুরুতেই সিনেটে ট্রাম্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনে গত নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ইস্যুর পর আলোচনায় এসেছে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ থাকা মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিতের বিষয়। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি দফায় দফায় শুনানি শেষে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে।

আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেন্সকির ওপর চাপ প্রয়োগ করে অভিশংসন তদন্তের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টির সত্যতা ও গভীরতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পাশাপাশি হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে চলে সপ্তাহব্যাপী শুনানি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জো বাইডেন ও তাঁর ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আরোপ করার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেন্সকির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। জানা গেছে, ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকিকে বলেন, তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত বাইডেন ও তাঁর ছেলের আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত রাখা হবে। ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ অনেক রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য মার্কিন সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ—ক্ষমতার অপব্যবহার করা ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়া—অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়। এ দুই অভিযোগে হয় ভোটাভুটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় ক্ষমতার অপব্যবহারের ওপর ভোটাভুটি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে ভোটাভুটি শুরু হয়। এতে পক্ষে ২৩০টি আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯৭টি। ডেমোক্র্যাটস দলের ২২৯ জন ও স্বতন্ত্র একজন সদস্য অভিযোগের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ১৯৫ জন রিপাবলিকান সদস্য ও দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য।

এর পর দ্বিতীয় অভিযোগে—কংগ্রেসের কাজ বাধাগ্রস্ত করা—ভোটাভুটি হয়। এতে পক্ষে ২১৪টি আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৫৬টি। অভিযোগের পক্ষে ভোট দেন ২১৩ জন ডেমোক্র্যাটস ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য আর বিপক্ষে ভোট দেন ১৫৩ রিপাবলিকান সদস্য ও তিনজন ডেমোক্র্যাটস।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কংগ্রেসের বিতর্কটা শুরু হয় স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বক্তব্য দিয়ে। প্রতিনিধি পরিষদের ওই বিতর্কে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পেলোসি বলেন, ‘ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’

বার বার এক কোম্পানিকে কাজ দেয়া যাবে না: অর্থমন্ত্রী

প্রকল্প বাস্তবায়নে একই কোম্পানিকে একাধিকবার না দিয়ে অন্যসব কোম্পানিকেও কাজ দেয়া হলে কাজের মান ভালো হয়। একই কোম্পানি বিভিন্ন সময় অনেক কাজ আটকে দেয়। এ জন্য এক কোম্পানিকে বার বার কাজ দেয়া যাবে না। কোনো কোম্পানি কাজ নিয়ে গাফিলতি করলে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার মহাসড়কের লাইফ টাইম: চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এ সব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, প্রকল্পের সংখ্যা বেশি নেয়ার চেয়ে এর বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি চলমান প্রকল্পগুলো টেকসইভাবে বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে। অর্থাৎ কাজের সংখ্যা না বাড়িয়ে গুণগত মান বাড়াতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে ওই সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, সড়কের টোল পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে সয়ংক্রিয় করতে হবে। এই পদ্ধতি নামমাত্র বা বা অর্ধেক বাস্তবায়ন করা যাবে না। পুরোপুরি নিশ্চিত করতে হবে।

আর টোল আদায়ের নামে গাড়ি আটকে সময় নষ্ট ও জ্যাম তৈরি করা যাবে না। প্রতিটি গাড়ির জন্য প্রিপেইড মিটারের ব্যবস্থা করতে হবে। নির্দিষ্ট সীমা পার হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল পরিশোধ হবে। টোল প্লাজায় কোনো যানজট হবে না। প্রধানমন্ত্রীও স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিটি মহাসড়কে টোল আদায়ের ব্যবস্থার নির্দেশনা দিয়েছেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে মোহাম্মদ ফজলুল করীম। এতে তিনি বলেন, গত অর্থবছরে সড়ক সংস্কার ও অবকাঠামো সংরক্ষণে সংস্থাটির দরকার ছিল ১১ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা। বিপরীতে বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ হাজার ২২৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা। এর আগের ৯ অর্থবছরের কোনোবারেই পর্যাপ্ত অর্থ মেলেনি।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ভালো সড়ক তৈরি করেছে সিঙ্গাপুর, সেগুলো তো আমরা দেখেছি, সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে।

তেলের পরিবর্তে যদি পরিবহন সেক্টরে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো যায়, তাহলে বছরে ২ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হবে। বিশ্বের অনেক দেশের পরিবহন খাত বিদ্যুতে চলে যাচ্ছে। শুধু আমরাই পারছি না।

বুয়েটের অধ্যাপক ড. শামসুল হক বলেন, মহাসড়ককে টেকসই করার জন্য ওভারলোডিং কমাতে হবে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী সড়ক-মহাসড়কের রাস্তা নির্মাণ করতে হবে। রাস্তার পাশে যাতে পানি না জমে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। সমন্বিত উপায়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে সড়কের লাইফ টাইম নিশ্চিত হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সাবেক এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনসহ প্রমুখ।

আ’লীগকে নীতি আদর্শের কারণে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নীতি আদর্শের কারণে আওয়ামী লীগকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি।শুক্রবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে  আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সবাইকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।পরে শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা পাকিস্তান আমল থেকেই। জাতির পিতার হাতে গড়া বলেই এই দলকে কেউ ধ্বংস করতে পারেনি।

নেতাকর্মীদের তৃণমূল পর্যায় থেকে সংগঠনকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, যিনি ত্যাগ স্বীকার করতে পারেন, তিনিই সফল হবেন। আর এই কাজটা আওয়ামী লীগই সবচেয়ে বেশি করেছে। এর জন্যই জনগণ কিছু পেয়েছে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় এসেছে, মানুষকে কিছু দিয়েছে। অসহায় মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য বঙ্গবন্ধু কাজ করে গেছেন।

এর আগে বিকাল ৩টা ৫ মিনিটে সম্মেলন স্থলে উপস্থিত হয়ে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শেখ হাসিনা। এরপর আওয়ামী লীগের দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলটির সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

পরে শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা।উদ্বোধনের পর ২৫ মিনিট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলে। এতে দলীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।সম্মেলনকে সামনে রেখে সকাল থেকেই জনসমাগম হতে থাকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পদাচরণে মুখর হয়ে ওঠে উদ্যান।

প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সম্মেলন মঞ্চে উপস্থিত হলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে দলের সভাপতিকে স্বাগত জানান।সম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সঞ্চালনা করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

প্রতিবাদ চলবে তৃণমূলের, বিভেদকামী শক্তিকে পরাস্ত করতে এককাট্টা হতে ডাক মমতার

রানী রাসমনির সভা থেকে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বার্তা দিয়েছিলেন, আগুন জ্বালাবেন না। বরং দেশের আগুন নেভানোর দায়িত্ব আপনার। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে আগুন জ্বলছে। আপনি ব্যবস্থা নিন। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারপরও দেশের সার্বিক পরিস্থিতি একটুও পাল্টায়নি। তাই এবার তৃণমূল ভবনে দলের সবাইকে নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘‌দেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় এবার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছি। পেশিশক্তি না দেখিয়ে গণতন্ত্রের কাছে মাথানত করতে হয়। আমি হাতজোড় করে আপনার কাছে আবেদন করছি গোটা দেশ জ্বলছে। সেটা নেভানোর ব্যবস্থা করুন। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ফেরত নিন।’‌
শুক্রবার টুইটারে মমতা লিখেছেন, ‘‌আন্তর্জাতিক মানবতা সংহতি দিবসে আমাদের বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের উদ্‌যাপন করুন। এটা আমাদের শক্তি। যাঁরা ধর্ম, জাতপাতের ভিত্তিতে বিভাজন করতে চাইছে, তাঁদের পরাজিত করতে একজোট হয়ে কাজ করুন।’‌ এদিন তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক থেকে তিনি ফের জানিয়ে দেন, এই কালা আইনের বিরুদ্ধে আবারও পথে নামবে তৃণমূল। তবে তিনি বলেন, ‘‌তৃণমূল কংগ্রেস বন্‌ধ–অবরোধ সমর্থন করে না। জনজীবনে শান্তি বজায় রেখে তৃণমূল আন্দোলন করবে। রামচন্দ্র গুহকে যেভাবে হেনস্থা করা হয়েছে সেটা কী গণতন্ত্রের পরিচয়?‌’‌
গোটা রাজ্যে এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি কর্মসূচিও সাজিয়ে দেন। তিনি জানান, আগামী ২৩ ডিসেম্বর প্রত্যেক মহকুমায় মিছিল হবে। ২৪ ডিসেম্বর সিমলা রোড থেকে বেলেঘাটা পর্যন্ত মিছিল হবে। ২৬ তারিখ দমদম কামারহাটিতে মিছিল হবে। ২৭ ডিসেম্বর সিঙ্গুর থেকে কৃষকদের মিছিল হবে। ২৮ এবং ২৯ ডিসেম্বর সব বিধানসভা কেন্দ্রে ধর্না কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আজকাল

ফের উত্তপ্ত যোগীর রাজ্যের সাতটি জেলা!‌ পাথর ছোড়া, গাড়ি জ্বালানোর ছবি উঠে এল, বন্ধ ইন্টারনেট

 ‌গতকালের পর আবার উত্তাল যোগীর রাজ্য। সংশোধিত নাগরিক আইনের প্রতিবাদে ফের বিক্ষোভের ছবি উঠে এল উত্তরপ্রদেশের সাতটি জেলা থেকে। বৃহস্পতিবার তুমুল অশান্তি শুরু হয়েছে মুজজরফরনগর, বাহরাইচ, বুলন্দশহর, গোরক্ষপুর, ফিরোজাবাদ, আলিগড় এবং ফারুকাবাদে। বিক্ষোভের জেরে বিভিন্ন জায়গায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যোগীর সরকার। এর মধ্যে বুলন্দশহরে অনির্দিষ্টকালের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। বাকি শহরগুলিতে শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। এদিনের বিক্ষোভ থেকে পাথর ছোড়া, পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার ছবি সামনে এসেছে। পাল্টা কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। গতকালও বিক্ষোভ চলাকালীন লখনউয়ের মাদেগঞ্জে জনতা–পুলিশ খণ্ডযুদ্ধ বাধে। সেইসময় একটি পুলিশ ফাঁড়ির বাইরে একাধিক গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। সম্ভলে আক্রান্ত হয়েছে একটি থানাও। জ্বালানো হয়েছে সরকারি বাস। এই হিংসাত্মক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গা থেকে আন্দোলনকারীদের মধ্য থেকে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ, যার মধ্যে লখনউতে ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে গতকালই উত্তরপ্রদেশের সর্বত্র ১৪৪ ধারা জারি হয়েছিল। এ দিনও তা জারি রয়েছে। শুক্রবার রাত ১০টা পর্যন্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে লখনউ, গাজিয়াবাদ, পিলভিট, সম্ভল, বরেলি এবং মেরঠের একাধিক জেলায়। সেখানে এসএমএস পরিষেবাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।  নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি  সংলগ্ন এলাকায়। ‌

সূত্র: আজকাল

আলোয় চলবে নতুন যুগের কম্পিউটার

বর্তমানে ‘কোয়ান্টাম সুপ্রিমেসি’র মাহেন্দ্রক্ষণে দাঁড়িয়ে তামাম বিশ্ব। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন একটাই — তাহলে কি আজকের যুগের সাধারণ ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের বদলে খুব শীঘ্রই বাজারে আসতে চলেছে ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটার’? না, কোটি কোটি টাকা ঢাললেও সেরকম সম্ভাবনা এখনই নেই। বিজ্ঞানীরা অথবা গুগল, আইবিএমের মতো বহুজাতিক সংস্থাগুলির ধারণা কিন্তু এমনটাই। কেন? প্রথমত, এই কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এখনও একদমই সূচনা-পর্বে। সুপার কন্ডাক্টিং পদার্থ দিয়ে তৈরি এই কম্পিউটার শুধুমাত্র অতিশীতল (প্রায় শূন্য কেলভিন) উষ্ণতায় সঠিকভাবে কাজ করবে যা আপনার আমার ধরা ছোঁয়ার বাইরে। শুধুমাত্র ল্যাবরেটরিতেই সম্ভব। দ্বিতীয়ত, মজার ব্যাপার হল কোয়ান্টাম কম্পিউটারের অলৌকিক দক্ষতার পরিসর সীমিত। ব্যাঙ্কিং, ই-কমার্স বা কিছু বিশেষ গবেষণায় কোয়ান্টাম কম্পিউটার দক্ষ হলেও দৈনন্দিন অতিসাধারণ সব কাজ, যা বাড়ির ডেস্কটপ বা ‘পিসি’ দিয়ে করা যায়, সেই কাজে এই কম্পিউটার আজকের ইলেকট্রিক কম্পিউটারগুলির থেকে আদৌ পারদর্শী হবে কি না তর্কসাপেক্ষ। বরং ইলেকট্রনিক কম্পিউটারের বদলে শীঘ্রই যা বাজারে আসতে চলেছে তা হল ‘ফোটনিক কম্পিউটার’। আনতে চলেছে ইনটেল, আইবিএম অ্যাপলের মতো বড় বড় সংস্থাগুলি। ইলেকট্রনিক্সের সঙ্গে এর তফাতটা কোথায়?
ভেবে দেখুন, আমাদের হাতের মুঠোয় বন্দি তন্বী স্মার্ট ফোন, ডেস্কের উপর রাখা ছিমছিমে টেলিভিশন কিংবা ল্যাপটপ, এই ইলেকট্রনিক যন্ত্রগুলো সবই চলে তড়িৎ শক্তিতে। সে বোঝে শুধু ভোল্টেজের ওঠানামা। যদি ভোল্টেজ কম দেওয়া হয় তবে বোঝে ‘০’ আর বেশি দিলে (সাধারণত ৫ ভোল্ট) ‘১’। যা কিছু কাজ, জটিল গাণিতিক হিসেব-নিকেশ, রকেট উৎক্ষেপণ থেকে গেম খেলা, চ্যাট বা সিনেমা দেখা, সবই হয় এই ‘০’ ও ‘১’-এর কম্বিনেশনে। শুধুমাত্র দুটি ‘বিট’ ০ এবং ১ এর সমন্বয়ে তৈরি এহেন গাণিতিক শাখাকে বলে ‘বাইনারি সিস্টেম’, যা ডিজিটাল ইলেকট্রনিক্সে ব্যবহার হয়।
ইলেকট্রনিক যন্ত্রে উপযুক্ত সেমিকন্ডাক্টিং মাধ্যম যেমন সিলিকন-এ তড়িৎ বা ইলেকট্রনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে তাকে নিজের সুবিধা মতো কাজে লাগানো হয়। যন্ত্রগুলির মধ্যে থাকে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ‘স্যুইচ’ বা ট্রানজিস্টার। যা ভিতরের সার্কিটের মধ্যে তড়িৎ প্রবাহের পরিমাণ ও অভিমুখকে আমাদের প্রয়োজন অনুসারে নিয়ন্ত্রণ করে। বাইরে থেকে কি-প্যাডের মাধ্যমে আমরা আসলে এই স্যুইচগুলোই অন বা অফ করে সার্কিটের ভোল্টেজে নিয়ন্ত্রণ করে থাকি। আজকের উন্নত কম্পিউটারে এরকম কয়েক কোটি স্যুইচ বা ট্রানজিস্টার থাকে। যেগুলিকে আমরা বাইরে থেকে নিমেষের মধ্যে অন বা অফ করতে পারি।
কম্পিউটারের স্পিড কত বেশি হবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে কত দ্রুত এই স্যুইচগুলো অফ বা অন করা যায়। এককথায় কম্পিউটারের ক্লক-স্পিড-এর উপর। যেমন, আমাদের কম্পিউটারের এই ক্লকগুলির স্পিড সাধারণত গিগা (১০৯) হার্ৎজ হয়। যার অর্থ হল, এই কম্পিউটারের কন্ট্রোলিং স্যুইচগুলি সেকেন্ডে প্রায় ১০৯ (একশো কোটি) বারের বেশি অন-অফ করা যায়। ‘Windows’-এর ‘run’-এ গিয়ে ‘dxdiag’ টাইপ করলেই প্রসেসর স্পিড কত তা দেখা যায়। বুঝতেই পারছেন, সেকেন্ডে কয়েকশো কোটি সংখ্যাটা নেহাতই ছোট নয়। কিন্তু, সাতশো কোটি মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা এতেও মেটে না।
কী করে এই কম্পিউটারগুলিকে আরও ছোট, গতিশীল ও সুদক্ষ করে তোলা যায়, তার জন্য নিরন্তর গবেষণা চলছে। সমস্যা এখানেই। ইলেকট্রন ধাতব তারের মধ্যে দিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গতিতে চলাচল করে। এই গতি আলোর বেগের কয়েকশো ভাগের এক ভাগ। আবার ইলেকট্রনিক সার্কিট ইচ্ছেমতো ছোট করা সম্ভব না। কারণ, যখনই দু’টি ইলেট্রনিক সার্কিট কাছাকাছি আসে, তখন তাদের মধ্যে তড়িৎ-কণা বা চার্জ জমিয়ে রাখার ক্ষমতা বহুগুণ বেড়ে যায়। এই ঘটনাকে বলে ধারকত্ব বা Capacitance. এরা তখন পাত্রের মতো ইলেকট্রনগুলিকে এদের মধ্যে বন্দি করে ফেলে। ফলে, আমরা যতই তাড়াতাড়ি বাইরে থেকে স্যুইচগুলিকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি না কেন, বন্দি ইলেকট্রনগুলি সহজে নড়াচড়া করতে পারে না। তাই কম্পিউটারের স্পিডও তার আকার যত ছোট হয়, তত কমতে শুরু করে। এই সমস্যার সমাধানেই আজ আমরা আলোকবিজ্ঞানের একটি শাখা ফোটোনিক্স বা আলোক-কণা বিজ্ঞানের শরণাপন্ন।
ইলেকট্রনিক্সের মতোই আলোকবিজ্ঞানের ব্যবহার সর্বত্র। হাজার কোটি আলোকবর্ষ দূরে দুই দানবিক যমজ কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষে তৈরি অতি দুর্বল মহাকর্ষীয় তরঙ্গের পরিমাপ থেকে অতিক্ষুদ্র অণু-পরমাণুর কম্পনের মাধ্যমে এক সেকেন্ডের এক কোটি ভাগের এক ভাগ সময় মাপার নিখুঁত ঘড়ি তৈরি পর্যন্ত বিস্তার আলোকবিজ্ঞানের। আবার সমুদ্রের নীচে পাতা মাইলের পর মাইল দীর্ঘ অপটিক্যাল ফাইবার কেবলের সৌজন্যে আজ আমাদের বাড়িতে দ্রুত-গতি ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যা আমার আপনার নিত্যসঙ্গী। আলোক ঝলমল পুজো প্যান্ডেলের LED লাইট, ছানি অপারেশনে ব্যবহৃত লেসার রশ্মি বা আপনার টেবিলে অযত্নে লালিত ধুলোমাখা সিডি, সবই আলোকবিজ্ঞানের দান।
খামখেয়ালি আলোর দ্বৈতসত্তাও রয়েছে। সে কখনও তরঙ্গধর্মী, আবার কখনও কণাধর্মী। যে কোনও বস্তু থেকে যখন আলো তরঙ্গের মতো প্রতিফলিত হয় তখন আমরা বস্তুটিকে দেখতে পাই। আবার আলোককে ছোট ছোট একগুচ্ছ কণা বা ফোটনের সমন্বয় হিসেবে না ভাবলে আলোক-তড়িৎক্রিয়ার ব্যাখ্যা করা সহজসাধ্য হয় না। আইনস্টাইন এই আলোক-তড়িৎক্রিয়া আবিষ্কারের মাধ্যমে আলোক কণাধর্ম প্রমাণ করেই ১৯২১ সালে পদার্থ বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পান। এই আলোক-কণা বা ফোটন ভরহীন, চার্জবিহীন এক ধরনের বোসন কণা যা আলোর বেগে ছুটে চলে।
ফোটোনিক কম্পিউটারগুলিতে থাকে ছোট ছোট লেজার। লেজার অন থাকলে ১, আর বন্ধ থাকলে ০ বোঝায়। নিরলস গবেষণায় আবিষ্কৃত হয়েছে অপিটক্যাল ট্রানজিস্টার বা স্যুইচ। যা আলোর গতিবিধি এবং লেজারগুলির অন-অফ নিয়ন্ত্রণ করে। শুরুতে তামার তারের বিকল্প হিসেবে আসে, অতিসূক্ষ্ম কাচের তার। যাদের বলে অপটিক্যাল ওয়েভ গাইড। এরা মানুষের চুলের প্রায় ১০০ ভাগের এক ভাগ হলেও বিনাবাধায় আলোকে সার্কিটের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিমেষে পৌঁছে দেয়। দেখা যায়, ফোটনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে আরও ছোট আকারের কম্পিউটার তৈরি করা যায়, যার ক্লক-স্পিড কমপক্ষে কয়েক হাজারগুণ বেশি (১০১২ বা টেরা-হার্ৎজ)। এছাড়াও ফোটন ভর ও চার্জহীন হওয়ায়, ফোটোনিক্স সার্কিটে খুব কম তাপ উৎপন্ন হয়। ফলে শক্তির অপচয় কমে।
নতুন যুগের কম্পিউটারে ইলেকট্রনিক্সের বদলে যে ফোটোনিক্স আসতে চলেছে, তা বুঝতে পেরেছে আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড, জামার্নি, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, চীন, জাপান, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলি। সেজন্য সেখানকার বিশ্ববিদ্যালগুলিতে পুরোদমে শুরু হয়েছে ফোটনিক্সের গবেষণা। ভারতের প্রথম সারির গবেষণাকেন্দ্র এবং আইআইটি গুলিতেও ফোটোনিক্স নিয়ে পড়াশোনা ও রিসার্চ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, কয়েক ধাপ এগিয়ে এই ফোটোনিক্সই আমাদের উন্নততর ‘কোয়ান্টাম কম্পিউটার’ তৈরির লক্ষ্যে বিপ্লব আনতে চলেছে। এক কথায় ইলেকট্রনিক যুগের অবসান অবশ্যম্ভাবী। নতুন যুগের সূচনা হবে আলোকবিজ্ঞানের হাতেই।
(লেখক: খড়্গপুর আইআইটির ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক)
সূত্র: বর্তমান

প্রতিবাদের ঝড়ে বেসামাল রাজধানী

সকালে লালকেল্লা, রাতে যন্তরমন্তর। নাগরিকত্ব আ‌ইন ও এনআরসি বিরোধী আন্দোলনে বৃহস্পতিবার কার্যত বিক্ষোভ নগরীতে পরিণত হল রাজধানী দিল্লি। সকালে লালকেল্লা থেকে মান্ডি হাউস, হাজার হাজার প্রতিবাদকারী ১৪৪ ধারা অমান্য করে রাস্তায় নেমে পুলিশের হাতে আটক হন। মেট্রো বন্ধ, ইন্টারনেট বন্ধ, মোবাইল পরিষেবা বন্ধ। দিনভর অবরুদ্ধ শহর। যন্তরমন্তরে ছাত্রছাত্রীদের স্লোগানে গলা মেলালেন অরুন্ধতী রায় থেকে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপকরাও। আজ দিনভর দিল্লির আন্দোলন প্রবল চাপে ফেলেছে বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারকে। কারণ ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন ক্রমেই গণআন্দোলনে পরিণত হওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একইভাবে মুম্বইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে জনসমুদ্র। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ছাত্রছাত্রীরা তো বটেই, নেমে এলেন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির তারকারাও। বেঙ্গালুরুতে মহাত্মা গান্ধীর পোস্টার হাতে মিছিলে নামা ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহকে টেনেহিঁচড়ে আটক করে তোলা হল পুলিশ ভ্যানে। বারাণসী থেকে পাটনা। মেঙ্গালুরু থেকে চেন্নাই। কলকাতা থেকে পাটনা। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন ও এনআরসির প্রতিবাদে দেশজুড়ে আন্দোলনে রীতিমতো বেসামাল মোদি সরকার।
দিল্লির বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে এই গণআন্দোলনের রূপ দেখে বিজেপির ভীত হওয়ার কারণ একটাই। আজ যে ভাবে দিল্লির রাস্তায় এবং যন্তরমন্তরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ আছড়ে পড়েছে, সেই দৃশ্য অবিকল আট বছর আগের আন্না হাজারের আন্দোলনকেই মনে করাচ্ছে। দুর্নীতির প্রতিবাদে এভাবেই আন্দোলন হয়েছিল দিল্লিতে। টার্গেট ছিল দ্বিতীয় ইউপিএ সরকার। হুবহু সেই ফরম্যাটেই জাতীয় পতাকা নিয়ে ছাত্র যুবদের নেতৃত্বে এনআরসি ও নাগরিকত্ব আইন বিরোধী আন্দোলনের ছবি দেখা যাচ্ছে দিল্লিতে। এবার নিশানায় মোদি সরকার। আর মাত্র দেড় মাস পরই দিল্লিতে বিধানসভা ভোট। ইতিমধ্যেই সেই ভোটপ্রচার শুরু হয়েছে। কিন্তু ৩৭০ থেকে রামমন্দির, যাবতীয় ইস্যুকে ছাপিয়ে আচমকা এই নাগরিকত্ব আইনই প্রতিবাদ ও চর্চার ভরকেন্দ্র হয়ে উঠেছে। জামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমানা ছাড়িয়ে আজ লালকেল্লা থেকে এবং মান্ডি হাউস পর্যন্ত দুটি পৃথক প্রতিবাদ মিছিল যাওয়ার কথা ছিল শহিদ পার্কে। দিল্লি পুলিশ অনুমোদন দেয়নি। উল্টে ১৪৪ ধারা জারি করে সব সমাবেশকে বেআইনি ঘোষণা করে দেয়। এরপরই প্রতিবাদকারীরা তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ততক্ষণে একে একে ২০টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একাধিক এলাকায় ইন্টারনেট বন্ধ দেওয়া হয়। রুট মার্চ করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স। মিছিল করা যাবে না কেন এই প্রশ্ন তুলে রাস্তায় বসে পড়ে বিক্ষোভ দেখানো শুরু হয়।
দিল্লির বিস্তীর্ণ অংশ সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। দলে দলে আন্দোলনকারীকে আটক করে পুলিশ। এরপর যন্তরমন্তরে চলে আসে বিক্ষোভকারী জনতা। শুরু হয় নতুন করে বিক্ষোভ ও ধর্না। দিন যতই বেড়েছে সেখানে ভিড়ও বেড়েছে। পার্লামেন্ট স্ট্রিট অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দিল্লির কেন্দ্রস্থল বস্তুত পুলিশ নগরীতে পরিণত হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক দফায় দফায় বৈঠক করে নর্থ ব্লকে। স্বয়ং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার পর্যালোচনায় নেমেছেন। রাজ্যগুলিকে বলা হচ্ছে, আন্দোলনে আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নেওয়া হোক। দরকারে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী পাঠানো হবে। বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী জি কিষাণ রেড্ডি বলেন, ‘আমরা প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বোঝাতে রাজি আছি। আন্দোলনকারীরা এই আইন না জেনে, না পড়েই বিভ্রান্ত হচ্ছেন।’ কিন্তু সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ আসেনি। একটাই দাবি ওঠে রাত পর্যন্ত, আইন প্রত্যাহার করতে হবে। প্রধান স্লোগান ছিল, ‘নো এনআরসি, সেভ ডেমোক্রেসি’।

সূত্র: বর্তমান

চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদমর্যাদা পাবেন গ্রাম পুলিশ

সারা দেশের ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশকে সরকারি চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর পদমর্যাদা দিয়ে জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।রোববার এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রায় দেন।

রিটকারি আইনজীবী ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, এই রিট মামলায় আগামী মঙ্গলবার আরও নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দেবেন আদালত।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার মোজাম্মেল হক। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওয়েস আল হারুনী।২০১৭ সালের ৩ ডিসেম্বর গ্রাম পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের ৪র্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারীদের স্কেলের সমপরিমাণ বেতন কেন দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

তার আগে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার ধামরাইয়ের টুপিরবাড়ির হাটকুশারা এলাকার বাসিন্দা গ্রাম পুলিশ লাল মিয়াসহ ৫৫ জন গ্রাম পুলিশ এ রিট দায়ের করেন। বর্তমানে প্রায় ৪৭ হাজার গ্রাম পুলিশের একজন দফাদার বেতন পান তিন হাজার চারশ’ এবং মহালদার পান তিন হাজার টাকা।

আইনজীবী হুমায়ন কবির বলেন, ব্রিটিশ আমল থেকে এ বাহিনী বিভিন্ন আইনের অধীনে কাজ করে আসছে। সর্বশেষ স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ সালে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এ আইনের অধীনে ২০১৫ সালে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) গ্রাম পুলিশ বাহিনীর গঠন, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা ও চাকরির শর্তাবলী সম্পর্কিত বিধিমালা তৈরি করা হয়।

কিন্তু এ বিধিতে তাদের কোনো শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়নি। এক দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৮ সালের স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গ্রাম পুলিশকে ৪র্থ শ্রেণির স্কেল নির্ধারণে অর্থ বিভাগকে চিঠি দেয়। কিন্তু কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়ায় তারা হাইকোর্টে রিট করেন।রোববার রায়ের পর, গ্রাম পুলিশ বাহিনী রিট বাস্তবায়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মো. উজ্জ্বল খান, সাধারণ সম্পাদক সায়েদুল দেওয়ান সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সোমবার ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী।এ সময় তিনি স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের নিয়ে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শেখ হাসিনা। এরপর দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এর আগে মহান বিজয় দিবসের ভোরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। ভোর ৬টা ৩৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।এ সময় তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে।

১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা প্রকাশ

বিজয়ের ৪৯ বছরে এসে এবার স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক পর্যায়ে ১০ হাজার ৭৮৯ রাজাকারের তালিকা ঘোষণা করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। একই সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি তালিকাও প্রকাশ করেন তিনি।

পর্যায়ক্রমে অন্য ঘাতক বাহিনীর সদস্যদের তালিকাও প্রকাশ করা হবে বলে জানান মন্ত্রী। আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী রাজাকারদের নাম, পরিচয় ও ভূমিকা সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে জানানোর জন্যই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য রাজাকারদের নামও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি এবং ওয়ার ক্রাইমস ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির তথ্যানুযায়ী, একাত্তরের মে মাসে মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালি নিধনে পাকিস্তানি সেনাদের সহায়তা দিতে গঠিত হয় রাজাকার বাহিনী। খুলনায় খান জাহান আলী রোডের একটি আনসার ক্যাম্পে ৯৬ জন পাকিস্তানপন্থি কর্মী নিয়ে রাজাকার বাহিনী গঠন করা হয়।

পরে দেশের অন্যান্য অংশেও গড়ে তোলা হয় এই বাহিনী। প্রথম পর্যায়ে রাজাকার বাহিনী ছিল এলাকার শান্তি কমিটির নেতৃত্বাধীন। একাত্তরের ১ জুন পাকিস্তানের জেনারেল টিক্কা খান পূর্ব পাকিস্তান রাজাকার অর্ডিন্যান্স জারি করে আনসার বাহিনীকে রাজাকার বাহিনীতে রূপান্তরিত করেন। তবে এর নেতৃত্ব ছিল পাকিস্থানপন্থি স্থানীয় নেতাদের হাতে। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক অধ্যাদেশবলে রাজাকার বাহিনীর সদস্যদের সেনাবাহিনীর সদস্যরূপে স্বীকৃতি দেয়। এর সংখ্যা ছিল অন্তত ৫০ হাজার।

এ ছাড়াও পাকিস্তান সরকার বাঙালি নিধনে একইভাবে আলবদর ও আলশামস বাহিনীও গঠন করে। তখন গ্রামগঞ্জে মেম্বারদের রাজাকার বাহিনীতে লোক সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী, নেজামে ইসলাম, মুসলিম লীগ, জামায়াতে ওলামাসহ পাকিস্তানের সমর্থক অনেক দলের নেতাকর্মীরা রাজাকারসহ অন্যান্য বাহিনীতে যোগ দেয়। তবে স্বাধীনতাবিরোধী এই বাহিনীগুলো সাধারণ অর্থে রাজাকার হিসেবেই পরিচিতি পায়।

স্বাধীনতার পর থেকেই এসব বাহিনীর তালিকা প্রণয়ন ও প্রকাশের দাবি ওঠে। অবশেষে স্বাধীনতার ৪৯ বছরে এসে সেই দাবি বাস্তবায়নের পথে সরকারিভাবে কিছুটা হলেও অগ্রগতি হয়েছে। তালিকা প্রকাশের উদ্যোগ শুরু হয় ২০১৪ সালে। জানা গেছে, প্রকাশিতব্য তালিকায় পাকিস্তান সরকারের বেতনভোগী ৩৯৯ জনের নামও থাকছে।