=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.


শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

৪৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চান ট্রাম্পের অপসারণ

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
ডিসেম্বর ২০, ২০১৯
news-image

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপসারণ চান দেশটির অর্ধেকের কিছু কম নাগরিক। মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের অভিশংসনের পর এক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইপসোস গতকাল বৃহস্পতিবার জরিপটি প্রকাশ করে। জরিপে এক হাজার ১০৮ জন মার্কিন নাগরিক মতামত জানান। তাঁদের মধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসনে ৪৪ শতাংশ একমত ও ৪১ শতাংশ দ্বিমত প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রসঙ্গে ৫৩ শতাংশ মনে করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন ট্রাম্প এবং ৫১ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্প কংগ্রেসকে বাধাগ্রস্ত করেছেন। মতামতদাতাদের মধ্যে ৪২ জন, যাঁদের সবাই ডেমোক্র্যাট, বলেছেন, ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণ করা হোক, যেহেতু সিনেটের এই ক্ষমতা আছে।

১৭ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্পকে কংগ্রেসনাল সেন্সর দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানানো উচিত। ২৯ শতাংশ মনে করেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন বাতিল করে দেওয়া উচিত। আর বাকিরা কোনো মতামত দেননি। ট্রাম্পের অভিশংসনের ক্ষেত্রে ৪৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক একমত প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ৪১ শতাংশ নাগরিক এ ক্ষেত্রে দ্বিমত প্রকাশ করেন।

ট্রাম্পের অভিশংসনের পর অনুভূতি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ২৬ শতাংশ নাগরিক জানান, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তাঁদের সমর্থন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। আর ২০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে ট্রাম্প এখন কম সমর্থনযোগ্য। অন্যদিকে ৪৮ শতাংশ মানুষ জানান, ট্রাম্পের ক্ষেত্রে তাঁদের চিন্তা-ভাবনার কোনো পরিবর্তন হয়নি।

রয়টার্স ও ইপসোসের এ জরিপ থেকে বোঝা যাচ্ছে, কম সংখ্যক মার্কিন নাগরিক চান কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেট ট্রাম্পকে অপসারণ করুক। আগামী বছরের শুরুতেই সিনেটে ট্রাম্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনে গত নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপ ইস্যুর পর আলোচনায় এসেছে ইউক্রেনের জন্য বরাদ্দ থাকা মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিতের বিষয়। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি দফায় দফায় শুনানি শেষে প্রতিবেদনও জমা দিয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে।

আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেন্সকির ওপর চাপ প্রয়োগ করে অভিশংসন তদন্তের মুখে পড়েন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টির সত্যতা ও গভীরতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। পাশাপাশি হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটিতে চলে সপ্তাহব্যাপী শুনানি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি জো বাইডেন ও তাঁর ছেলে হান্টারের বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে অভিযোগ আরোপ করার জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেন্সকির ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। জানা গেছে, ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেন্সকিকে বলেন, তিনি যতক্ষণ পর্যন্ত বাইডেন ও তাঁর ছেলের আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত না করবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সামরিক সহায়তা স্থগিত রাখা হবে। ইউক্রেনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতসহ অনেক রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পকে অভিশংসনের জন্য মার্কিন সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদ—ক্ষমতার অপব্যবহার করা ও কংগ্রেসের কাজে বাধা দেওয়া—অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়। এ দুই অভিযোগে হয় ভোটাভুটি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

প্রথমে অনুষ্ঠিত হয় ক্ষমতার অপব্যবহারের ওপর ভোটাভুটি। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টার কিছু আগে ভোটাভুটি শুরু হয়। এতে পক্ষে ২৩০টি আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৯৭টি। ডেমোক্র্যাটস দলের ২২৯ জন ও স্বতন্ত্র একজন সদস্য অভিযোগের পক্ষে ভোট দেন। বিপক্ষে ভোট দেন ১৯৫ জন রিপাবলিকান সদস্য ও দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য।

এর পর দ্বিতীয় অভিযোগে—কংগ্রেসের কাজ বাধাগ্রস্ত করা—ভোটাভুটি হয়। এতে পক্ষে ২১৪টি আর বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৫৬টি। অভিযোগের পক্ষে ভোট দেন ২১৩ জন ডেমোক্র্যাটস ও একজন স্বতন্ত্র সদস্য আর বিপক্ষে ভোট দেন ১৫৩ রিপাবলিকান সদস্য ও তিনজন ডেমোক্র্যাটস।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিশংসন নিয়ে কংগ্রেসের বিতর্কটা শুরু হয় স্পিকার ন্যান্সি পেলোসির বক্তব্য দিয়ে। প্রতিনিধি পরিষদের ওই বিতর্কে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। পেলোসি বলেন, ‘ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।’