All posts by lutfor

ডিমের ডজন ৮০ টাকা, পেঁয়াজের দাম নেমেছে ত্রিশে

করোনাভাইরাস আতঙ্কে হঠাৎ অস্বাভাবিক দাম বাড়ার পর রাজধানীর বাজারগুলোতে ধারাবাহিকভাবে কমছে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম। বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকা পর্যন্ত নেমেছে। আর ডিমের ডিজন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। বুধবার রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া ও খিলগাঁও অঞ্চলের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম কমার পাশাপশি কমেছে বিক্রির পরিমাণ। করোনাভাইরাস আতঙ্কে আগেই ক্রেতারা বাড়তি দামে অধিক পরিমাণে কিনে রাখায়, এখন দাম কমলেও সেভাবে ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিশ্বে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে আট লাখেরও বেশি মানুষ এ মহামারিতে আক্রান্ত হয়েছেন। আর মৃত্যু হয়েছে ৪২ হাজারেরও বেশি মানুষের।

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায় গত ৮ মার্চ। এর পরই মানুষের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। নিত্যপণ্য কিনে মজুত করতে থাকেন আতঙ্কিতরা।

এই সুযোগে করোনাভাইরাসের আতঙ্ককে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ৪০ টাকার পেঁয়াজের কেজি বাড়িয়ে ৮০ টাকায় নিয়ে যায়। আর ৯০ টাকার ডজনের ডিমের দাম এক লাফে হয়ে যায় ১২০ টাকা।

দাম বাড়ার এই লাগাম টেনে ধরতে মাঠে নামে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর এবং র্যাব। জরিমানা করা হয় একাধিক ব্যবসায়ীকে। ফলে পেঁয়াজের বাড়তি দামের লাগাম কিছুটা হলেও টেনে ধরা সম্ভব হয়।

অবশ্য করোনা অতঙ্কে বাড়তি কেনাকাটার পর কয়েকদিন ধরেই বাজারে ক্রেতার সংকট দেখা দিয়েছে। যার প্রভাব পড়েছে দামেও। ফলে ধারাবাহিকভাবে কমেছে পেঁয়াজ ও ডিমের দাম।

এতে ৮০ টাকায় উঠে যাওয়া পেঁয়াজ এখন বিভিন্ন বাজারে ৩০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে। অবশ্য কেউ কেউ ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন। আর ১২০ টাকা উঠে যাওয়া ডিমের ডজন নেমে এসেছে ৮০ টাকায়। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী ৯০ টাকা ডজন বিক্রি করছেন।

ডিমের দামের বিষয়ে হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. সাবু বলেন, কিছুদিন আগে যে ডিমের ডজন ১২০ টাকা বিক্রি করেছি, এখন তা ৮০ টাকায় বিক্রি করছি। সরকার ছুটি ঘোষণা করার পর থেকেই ডিমের দাম কমছে। ১২০ টাকা থেকে প্রথমে ১০০ টাকা, এরপর ৯০ টাকা আর এখন ৮০ টাকায় নেমেছে।

এই ব্যবসায়ী বলেন, ডজনে ডিমের দাম ৪০ টাকা কমলেও ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাভাবিক সময়ে দিনে যে ডিম বিক্রি হয়েছে, এখন তার দশ ভাগের একভাগও বিক্রি হচ্ছে না। ছুটির কারণে ঢাকার বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে চলে গেছেন। যারা ঢাকায় আছেন তারা করোনাভাইরাস আতঙ্কে ঘর থেকে কম বের হচ্ছেন। অবার অনেকে আগেই ডিম কিনে রেখেছেন। এসব কারণেই মনে হয় ক্রেতা কম।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মিলন বলেন, পেঁয়াজের দাম কমেই যাচ্ছে। কয়েকদিন আগে ৪০ টাকার পেঁয়াজ এক লাফে কেজি ৮০ টাকা হয়েছিল। তখন অনেক পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। কিন্তু এরপর দফায় দফায় দাম কমলেও বিক্রি তেমন একটা হচ্ছে না। এখন ৩০ টাকা কেজিতে পেঁয়াজ বিক্রি করছি। তারপরও আগে যা বিক্রি করেছে তার দশ ভাগের এক ভাগও বিক্রি হচ্ছে না।

এই ব্যবসায়ীর তথ্য অনুযায়ী, ৪০ টাকা থেকে পেঁয়াজের কেজি ৮০ টাকায় ওঠার পর কয়েক দফা দাম কমেছে। ৮০ টাকা থেকে প্রথমে ৭০ টাকা, এরপর ৬০, ৫০, ৪০ টাকা থেকে এখন ৩০ টাকায় নেমেছে।

হাজীপাড়ায় পেঁয়াজের কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হলেও খিলগাঁওয়ে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা। পেঁয়াজের দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী ফরিদ বলেন, গত শুক্রবারও এক কেজি পেঁয়াজ ৪৫ টাকা বিক্রি করেছি। এখন তা ৪০ টাকা হয়েছে। তবে সামনে পেঁয়াজের দাম আর কমবে বলে মনে হয় না।

দামে পার্থক্য থাকলেও হাজীপাড়ার ব্যবসায়ীদের মতো এই ব্যবসায়ীও বলেন, পেঁয়াজের দাম কমে অর্ধেকে নামলেও আগের মতো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না। আগে যেখান দিনে ৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে, এখন তা ৫ থেকে ১০ কেজিতে নেমেছে।

ডিমের দামের বিষয়ে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী খালেদ বলেন, দাম কমার পরও এখন মানুষ ডিম কিনছে না। করোনার ভয়ে মানুষ তো ঘর থেই বের হতে চাচ্ছে না। তবে আমাদের ধারণা ছুটি শেষে গ্রাম থেকে মানুষ ঢাকায় ফিরলে ডিমের দাম আবার বাড়বে।

সচেতনতাই হলো যক্ষ্মা প্রতিরোধের একমাত্র উপায়

গত বছর মিসেস সালেহা চৌধুরীর গলার কাছে একটি ফোড়ার মতো হয়। শুরুতে বিষয়টিকে তেমন
একটা আমলে না নিলেও পরে এতে ব্যথা শুরু হলে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানতে পারেন যে তার গলায় যক্ষ্মা হয়েছে। তিনি শুরুতেই ভেবেছিলেন এটি ব্রণের মতোই হয়তো সাধারণ কোনো ফোঁড়া যেটা দুই একটা ওষুধেই সেরে যাবে। কিন্তু গলার এই ফোঁড়ার কারণে যে যক্ষ্মা হতে পারে তিনি ভাবতেও পারেননি। পরে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নয় মাসের ঔষধ খেয়ে পুরোপুরি সুস্থ আছেন। মিসেস সালেহা চৌধুরী তার আশেপাশের মানুষকে সচেতন করেছেন যে যক্ষ্মা কেবল ফুসফুসের রোগ নয়। সুদীর্ঘকাল ধরে যক্ষ্মা বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান সংক্রামক রোগের স্থান দখল করে রেখেছে।

এ রোগে বিশ্বে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষ করে দারিদ্র এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি
সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে থাকে। ১৮৮২ সালের এ দিনে ড. রর্বাট কোচ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার, রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের পথ উন্মোচন করেন। তাকে স্মরণ করেই এই দিনটিতে যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে থাকে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য “It’s Time”।

একটা সময় বলা হতো ‘যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা’ তবে এখন ধারণাটি অনেক বদলেছে।
এরপরও যক্ষ্মা হচ্ছে। কারণ টিবি বা যক্ষ্মা একটি মারাত্মক সংক্রামক ছোঁযাচে রোগ। যা প্রধানত
ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। যক্ষ্মা বলতে সাধারণভাবে আমরা ফুসফুসের যক্ষ্মাকেই বুঝি। এই রোগ
Mycobacterium tuberculosis (MTB) এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে মানব
শরীরে ছাড়ায়। তবে ফুসফুস ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে যক্ষ্মা হতে পারে। যেমন- লসিকাগন্থি,
হাড় ও গিট, অন্ত্র, হৃদপিণ্ডের আবরণ ও মস্তিষ্কের আবরণ, লিভারে এমনকি পাকস্থলিতেও হতে
পারে।

বিশ্বে টিবি সংক্রমণে মানুষের মৃত্যুর হার দ্বিতীয় স্থানে। যক্ষ্মা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচলিত রোগ। এর মধ্যে যক্ষ্মা রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে ২২টি দেশ। যক্ষ্মা এমন একটি রোগ যেটা হাঁচি, কাশি ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি পরিবারে অনেক লোক একসঙ্গে বসবাস করে। একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যান্য লোকও আক্রান্ত হতে পারে, আর সেই জন্যই প্রতি বছর যক্ষ্মা বা টিবির নতুন নতুন রোগী তৈরি হচ্ছে।

সাধারণভাবে বলা যায় যক্ষ্মা বা টিবি রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো- সাধারণত তিন
সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি ও জ্বর; কাশির সঙ্গে কফ এবং রক্ত আসা; বুকব্যাথা অথবা শ্বাস
নেয়ার সময় অথবা কাশির সময় ব্যথা হওয়া; ওজন কমে যাওয়া; শারীরিক দুর্বলতা ক্ষুধামান্দা বা
খাদ্যে অরুচি, অবসাদ অনুভব করা ইত্যাদি। শরীরের যে অংশে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হবে সেই
অংশটি ফুলে উঠবে। যেমন- গলার গ্রান্ড আক্রান্ত হলে গলা ফুলবে, মেরুদণ্ড আক্রান্ত হলে পুরো
মেরুদণ্ড ফুলে উঠবে। ফোলা অংশটি খুব শক্ত বা একদম পানি পানি হবে না, সেমি সলিড হবে। ফোলার
আকার বেশি হলে ব্যথাও হতে পারে। লিভারে যক্ষ্মা হলে পেটে পানি চলে আসে। তাই পেট ও অস্বাভাবিক ফুলে যায়। মাস্তিষ্কে সংক্রমিত হলে সেখানেও পানির মাত্রা বেড়ে যায়।

এছাড়াও চামড়ায় বা অন্য যেখানেই হোক না কেন সেই অংশটা ফুলে ওঠে। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ জন্মগতভাবেই যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বহন করে থাকে। তবে শরীরে জীবাণু থাকা মানেই এই নয় যে ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত। তবে জীবাণুর ধারক নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে অন্যের শরীরে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। আর সেটা যেকোনো অঙ্গেই হতে পারে।

আর এই জীবাণু থেকে তাদেরই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যাদের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী এবং এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের এই জীবাণুতে
সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। দেখা গেছে, আফ্রিকা বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা,
আফগানিস্তান, চীন, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর আমেরিকা, পাকিস্তান ভারত ও বাংলাদেশের
মানুষের যক্ষা হওয়ার প্রকোপ বেশি।
সাধারণত যক্ষ্মা বা টিবি দুই ধরনের হয়ে থাকে, ফুসফুসে যক্ষ্মা ও ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা।
এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ হলো ফুসফুসের যক্ষ্মা আর ১৫ শতাংশ অন্যান্য যক্ষ্মা। সাধারণত ১৫ থেকে
৪০ বয়সের লোকেরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের দশটি মৃত্যুজনিত কারণের মধ্যে
যক্ষ্মা অন্যতম। আর বিশ্বের এক চতুর্থাংশ মানুষের দেহে এই রোগ সুপ্ত অবস্থায় আছে, যা
সাধারণত সংক্রমণ ঘটায় না, তবে এদের মধ্যে পাঁচ থেকে পনেরো ভাগ মানুষের জীবনে যক্ষ্মার
সংক্রমণ হতে পারে।

তবে এই রোগ নিয়মিত চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। যক্ষা রোগীর প্লেট, গ্লাস,
বিছানা আলাদা করে দেওয়ার দরকার নেই। কারণ বাতাসের মাধ্যমে যক্ষা রোগের জীবানু ছাড়ায়। এ
রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়, তাই যার এ রোগ রয়েছে তাকে কিছু বিষয়ে
সর্তক হতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া, হাত দিয়ে মুখ ঢাকা অথবা এক দিকে সরে
কাশি দিতে হবে। যেখানে সেখানে কফ বা থুতু ফেলা যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের কাছাকাছি গিয়ে
কথা বললে এ রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। রোগীর কফ বা থুতু নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে তা মাটিতে পুঁতে
ফেলতে হবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে যক্ষার জীবাণু ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল হলে যক্ষার জীবাণু ফুসফুসে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং তা
রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে। বছরের পর বছর ধরে যক্ষার জীবাণু শরীরে থাকলে
পরবর্তীতে এটি সক্রিয় যক্ষায় রোগ নিতে পারে। সাধারণত বয়স, ঔষধ সেবন, অপুষ্টি, কেমোথেরাপী,
মদপান ইত্যাদির জন্য রোগ প্রতিরোধ কমে গেলে সক্রিয় যক্ষা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
যক্ষা শনাক্ত হওয়ার পর নিয়ম মেনে পূর্ণাঙ্গ ডোজ ঔষুধ সেবন করতে হয় যক্ষা রোগীকে।
কিন্তু কিছুদিন ঔষুধ সেবনের পর কিছুটা ভালো মনে হলেই ঔষধ বন্ধ করে দেন রোগীরা। অনেক রোগী
পূর্ণাঙ্গ ডোজ আর শেষ করেন না। এতে করে ঐ রোগীর নরমাল যক্ষা থেকে ঔষুধ প্রতিরোধী যক্ষার
আক্রান্তের আশঙ্কা দেখা দেয়। অর্থাৎ আগের নরমাল ঔষধগুলো ঐ রোগীর শরীরে আর কাজ
করেনা । যার কারণে আরো দামি ঔষুধের পাশাপাশি উচ্চ দামের ইনজেকশন দিতে হয় ডিআর যক্ষা
রোগীকে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ছয় হাজার যক্ষা রোগী মারা যাচ্ছে।
ডব্লিউএইচও’র সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবালটি উবায়কিজ লাসিস রির্পোট ২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে যক্ষা রোগীর সংখ্যা ৩লাখ ৫৭ হাজার । সে হিসেবে প্রতি লাখে ২২১জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। গত বছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ হাজারের । এর মধ্যে ১৯০ জনই ছিলেন এইডসে আক্রান্ত । এ ছাড়া ঔষুধ প্রতিরোধী যক্ষায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯০০।

তবে যক্ষা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এগিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এতে বলা হয় যক্ষা চিকিৎসার আওতায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে দেশে যক্ষা চিকিৎসার আওতাভুক্ত রোগীর হার ছিল ৭৫ শতাংশ । ২০২২ সাল নাগাদ এটিকে ৯০শতাংশে উর্ত্তীণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া দেশে ৯৪শতাংশ ক্ষেত্রেই যক্ষার চিকিৎসার সাফল্য মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের সকল- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল বক্ষব্যাধি ক্লিনিক
হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এনজিও ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহ বিনামূল্যে
কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষার চিকিৎসা করা হয় ও ঔষধ দেওয়া হয়। যক্ষা হলে ত্বকের
পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে পরীক্ষা অথবা সিটি স্ক্যান এবং কালাচার
টেস্টও করানো হয়ে থাকে।
যক্ষা নিরাময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি রোগীর খাদ্যাভ্যাসের দিকটিও খুব
গুরুত্বপূর্ণ। যক্ষারোগীর খাদ্য তালিকায় অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট
থাকতে হবে। কোনোভাবেই লো-কার্ব ডায়েট দেওয়া ঠিক হবে না। প্রধান খাবার হতে পারে লাল চালের
ভাত, রুটি, খিচুড়ি, হালুয়া প্রভুতি। এছাড়াও আমিষ বা প্রোটি, ভিটামিন, মিনারেলস আয়রন ও জিংক
সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
সরকার প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর। স্বাস্থ্য খাতে সমতা
আনতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সরকার বিনামূল্যে যক্ষা রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন। এ ছাড়াও
মারণব্যাধি যক্ষা নির্ণয়ে নামনো হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজিত ভ্রাম্যমান গাড়ি।
সরকার বাংলাদেশে ওষুধ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সর্বোপরি একটা কথা বলা যায় অতীতে মানুষের যক্ষা ধরা পড়লে হতাশ হয়ে জীবন যাপন
করতে হতো। কারণ তখন যক্ষার কোনো ঔষধ ছিলনা। ফলে মানুষ খুবই ভয় পেত। আজ আর সেই দিন
নেই। যক্ষার ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে এবং সঠিক নিয়মে খাদ্যবিধি মেনে চললে যক্ষা সম্পূর্ণরূপে
নির্মূল করা সম্ভব।

ডা. সাঈদ আনোয়ার

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা কায়েম করবই- কাদের

বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ ধানমন্ডি ৩২ নস্বরে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা আজ নতুন করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার শপথ নিচ্ছি। আজ থেকে দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ, মাদক, সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলে মুজিববর্ষে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে চাই।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। আরও এগিয়ে যাবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে এসে আমরা নতুন করে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা কায়েম করবই।’

দেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষা করার জন্য দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শ্রদ্ধা নিবেদন করার পর তিনি কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। প্রথমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে, পরে তিনি আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ সন্ধ্যায় জাতীয় শিশু দিবস এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।

পূর্বে ধারণকৃত ভাষণটি বেতার এবং টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হবে। মরণঘাতী করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে, কোনরকম গণজমায়েত এড়াতে ‘মুজিববর্ষ’ কর্মসূচিগুলো সংক্ষিপ্ত করা হয়।

এ উপলক্ষে, রাত ৮টায় দেশব্যাপী বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি উদ্বোধনের পরপরই রাষ্ট্রপতির ধারণকৃত ভাষণ সম্প্রচার করা হবে বলে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদিন জানান। এ ছাড়া, সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

আবেদীন আরও জানান, রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনের কর্মকর্তাদের নিয়ে সন্ধ্যা ৬টায় মিলাদ মাহফিলে অংশ নেবেন।

শুভ জন্মশতবার্ষিকী বাঙালির মহানায়ক

বাঙালি জাতির ইতিহাসে উজ্জ্বল কালান্তরের সূচনা করেছিলেন তিনি। দু’র্বা’র গ’ণ’আ’ন্দো’লন গড়ে উঠেছিল তার হাত ধরেই। যা পরবর্তী সময়ে রূপ নেয় মুক্তির আ’ন্দো’লনে। বাঙালির কাছে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু’ নামেই পরিচিত। বাঙালির পরম বন্ধু তিনি। শেখ মুজিবুর রহমান।

বেঁচে থাকলে বঙ্গবন্ধু আজ ১০০ বছরে পা দিতেন। তিনি বেঁচে নেই, তবে সময়ের ঘড়ি ঠিক ঠিক জানান দিচ্ছে কাল পরিক্রমায় এই দিনেই জন্ম হয়েছিল বাঙালি জাতির স’হ’স্র বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।

সেই শুভক্ষণ থেকেই শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধু জন্মশতবার্ষিকী পালনের সব আয়োজন। বছরব্যাপী এই উৎসবের অনুষ্ঠান শেষ হবে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর ক্ষণ শুরু হলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে নেওয়া কর্মসূচি শুরু হবে ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রাত ৮টায়। মঙ্গলবার ১৭ মার্চ রাত ৮ টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আতশবাজির মাধ্যমে শুরু হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় পিক্সেল শোর মাধ্যমে শেষ হবে বলে জানা গেছে।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতার জন্ম না হলে বিশ্বের মানচিত্রে আমরা একটি স্বাধীন দেশ পেতাম না। বঙ্গবন্ধু স্কুলজীবনেই রাজনীতিতে জ’ড়িয়ে পড়েন। গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র থাকাকালে ব্রিটিশবি’রো’ধী আ’ন্দো’লনে যোগদানের কারণে তিনি কারাবরণ করেন।

পরবর্তী সময়ে ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা স্বীকৃতির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট চলাকালীন বঙ্গবন্ধুকে গ্রে’ফ’তা’র করা হয়। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা কমিশনবি’রো’ধী আ’ন্দো’লন,

১৯৬৬ সালে ঐতিহাসিক ৬ দফা দাবি উত্থাপন, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং সর্বশেষ ১৯৭১ সালে মহান মু’ক্তি’যু’দ্ধে’র পটভূমি তৈরি ও নেতৃত্বদানের মাধ্যমে এক সাগর র’ক্তে’র বিনিময়ে স্বাধীনতার রক্তিম সূর্যকে ছিনিয়ে আনতে সক্ষম হন। এটাই সত্য যে, বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না।

বঙ্গবন্ধু শুধু একটি স্বাধীন দেশ দিয়ে যাননি, স্বাধীন বাংলায় গরিব-দুঃখীসহ তার সাড়ে সাত কোটি সন্তান যাতে বিশ্বে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন সে ব্যবস্থাও করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু এ মহতী কর্মগুলো অর্থাৎ যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে পুনর্গঠনের মহতী কর্মগুলো সম্পাদন করেন ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর।

এত কিছুর পরও এমন জ্যোতির্ময় পরিপূর্ণ সমৃদ্ধিকে, এমন বৈভবময় ইতিহাসকে হত্যা করা হলো। ঘোর অমানিশা নেমে আসে বাংলার বুকে।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীতে শুধু বাংলাদেশেই নয়; ইউনেস্কোসহ আন্তর্জাতিকভাবে ‘মুজিব জন্মশতবার্ষিকী’ উদযাপিত হবে।

মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকাল ৭টা ৮ মিনিটে ঐতিহাসিক ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বোন শেখ রেহানা এবং মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠন, বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থা প্রধান, বিশিষ্টজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ থেকে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুজিববর্ষ ঘোষণা করে সরকার।

মুজিববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় প্যারেডগ্রাউন্ডে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) বিপর্যয়ের কারণে বাংলাদেশের মানুষের জনস্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে আয়োজনটি স্থগিত করা হয়। অন্য সব জনসমাগমও বাতিল করা হয়।

“রূপনগর সমাজ কল্যাণ সমিতি”আয়োজিত রূপনগর মেধাবৃত্তি পরিক্ষা ২০১৯,অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ‘রূপনগর সমাজ কল্যাণ সমিতি’ আয়োজিত শিক্ষা কর্মসূচির আওতায়  রূপনগর মেধাবৃত্তি পরিক্ষা ১৯,চট্টগ্রামস্থ উত্তর হালিশহর আব্বাস পাড়া আলহাজ্ব আবু ছিদ্দিক চৌধুরী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২১ ডিসেম্বর ১৯ খ্রিস্টাব্দ তারিখে সকাল ১০ ঘটিকায় রূপনগর মেধাবৃত্তি পরিক্ষা  অনুষ্ঠিত হয়। এই পরিক্ষায় এবার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানের ৩৩৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বৃত্তি পরিক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন রূপনগর সমাজ কল্যাণ সমিতি,’র সভাপতি ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুব স্বেচ্ছাসেবক লীগ চট্টগ্রাম জেলা শাখার আহবায়ক জনাব ডাঃ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, রূপনগর সমাজ কল্যাণ সমিতি’র অর্থ সম্পাদক মোঃ মোশাররফ হোসেন, রূপনগর একাডেমির পরিচালক মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, রূপনগর একাডেমি স্কুলের প্রধান শিক্ষক ডাঃ মোঃ আবদুস শুক্কুর, সাংবাদিক মোঃ ইলিয়াস, সাংবাদিক শাহানাজ পারভীন, শিক্ষক রেহেনা পারভীন, শিক্ষক কানিজ ফাতেমা, সাংবাদিক মোঃ জাবেদ প্রমুখ।
রূপনগর সমাজ কল্যাণ সমিতি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিভিন্ন সমাজ সেবামুলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, এগুলোর মধ্যে রূপনগর কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র, রূপনগর একাডেমি স্কুল, রূপনগর মেধাবৃত্তি, রূপনগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, রূপনগর আইন সহায়তা কেন্দ্র, রূপনগর ব্লাড ব্যাংক,সাহায্য বিষয়ক কর্মসূচি, রূপনগর বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, রূপনগর সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, রূপনগর গণশিক্ষা কেন্দ্র সহ আরও সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রম সমূহ পরিচালনা করে।

প্রশাসনের অভিযানে তারা ভীত নয় উখিয়া সীমান্তে ইটভাটায় জ্বলছে মাটি, পুড়ছে কাঠ, বিপন্ন পরিবেশ 

বিজয় কুমার ধর, কক্সবাজার প্রতিনিধি : বর্তমান সরকারের সুশাসনে বিভিন্ন আইন কার্যকর করে শাস্তির আওতায় আনলেও ইটভাটা সংশ্লিষ্ট বা মালিকপক্ষের সম্পৃক্ত ইট ব্যবসায়ীরা ওইসব আইনের কোন তোয়াক্কাই করছে না। উপরুন্ত তারা বলে বেড়াচ্ছে প্রশাসনের অভিযানে তারা ভীত নয়। কারণ তারা সরকারি নিয়ম-নীতি ও প্রশাসনের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী ইটভাটা বাণিজ্য করে যাচ্ছে। শুষ্ক মৌসুম এলেই উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ির মাঝামাঝি এলাকায় ইটভাটা তৈরির হিড়িক পড়ে যায়। এসব ভাটা মালিকেরা চাষাবাদ উপযোগী জমি টপসয়েল ক্রয় করে ইট পোড়ানের কাজে ব্যবহার করার কারণে কৃষি নির্ভরশীল উখিয়া উপজেলার কৃষিপণ্য উৎপাদনে প্রভাব পড়তে পারে এমনটাই মনে করছেন পরিবেশবাদী সচেতন মহল। ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্টের পর থেকে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়ে স্থানীয়দের সার্বিকভাবে যে পরিমাণ ক্ষতি করেছে তার চেয়েও বেশি ক্ষতি করছে ইটভাটাগুলি। কেননা ইট বাণিজ্যের সাথে জড়িত ব্যবসায়ীরা একদিকে যেমন পাহাড় কাটছে, অন্যদিকে ধ্বংস করছে সবুজ প্রকৃতি। পাশাপাশি লোকালয়ে ইটভাটা তৈরি না করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তারা মানছে না। ঘন বসতি ও কৃষি পণ্য উৎপাদনে দৃশ্যমান এলাকা ঘুমধুমের বড়বিল থেকে হলদিয়া পাতাবাড়ি পর্যন্ত ঘুরলে দেখা যাবে ১৮/২০টি ইটভাটা থেকে কালো ধোয়া আকাশে উড়ছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। উখিয়া হাসপাতালে কর্মরত উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার রহমত এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, ইটভাটার কালো ধোয়া স্কুলপড়–য়া ছাত্র-ছাত্রী ছাড়াও বয়োবৃদ্ধদের শারিরীকভাবে মারাত্মক ক্ষতি করে। এজন্যই সরকার ইটভাটায় স্থাপন করা চিমনির উচ্চতা, প্রস্থতা নির্ধারণ করে দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, পরিবেশ সম্মত এলাকা যেখানে সাধারণ মানুষ বসবাস করে, সেখানে ইটভাটা করা মোটেই উচিত নয়। ইটভাটা আইন ২০১৩ তে উল্লেখ আছে, ফসলি জমির মাটি, বনের কাঠ, ইট তৈরির কাজে শিশুদের ব্যবহার ও পাহাড় কাটা মাটি ব্যবহার করলে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা থেকে দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান রয়েছে। উখিয়ার সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন এর সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিকদার জানান, উখিয়ার প্রায় ইটভাটাগুলি চলছে প্রশাসনের দয়ার উপরে। তা নাহলে এত অপরাধ, দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও স্বাস্থ্যহানীর মত জঘন্য কাজে লিপ্ত থাকা স্বত্তে¡ও এসব ইটভাটা মালিকদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সরেজমিন বেশ কয়েকটি ইটভাটা ঘুরে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানতে চাওয়া হলে হলদিয়া পাতাবাড়ি গ্রামের শিক্ষানুরাগী নুরুল ইসলাম, কৃষক সালামত উল্লাহ ও ছাত্র অভিভাবক ইয়াকুব আলী জানান, ইটভাটার কারণে তারা সার্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তারা উদাহরণ দিয়ে বলেন, ইট সরবরাহ কাজে ব্যবহৃত ডাম্পার গাড়িগুলো গ্রামীণ সড়ক তছনছ করে দিচ্ছে। যা সাধারণ যাত্রীবাহী গাড়ি চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। তারা আরো বলেন, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের স্কুলে পাঠাতে মা-বাবা বা অভিভাবক আতংকে থাকে, কখন তার ছেলে বাড়ি ফিরবে। এছাড়াও ইট পরিবহনের সময় ধুলোবালির যে পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। তারা বলছেন, এসব ইটভাটা গুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া খুব জরুরী হয়ে পড়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার আবু মাসুদ ছিদ্দিকী জানান, ইটভাটা মালিকেরা সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে কৃষি জমির টপ সয়েল গুলো মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনে নিয়ে যাচ্ছে ইট তৈরির কাজে ব্যবহার করার জন্য। তিনি বলেন, এমনও জমি আছে টপ সয়েল ক্রয়ের ফলে ওই জমি অপেক্ষাকৃত নিচু হওয়ার কারণে সেখানে পানি জমে থাকে। যে কারণে ওইসব জমিতে চাষাবাদ ও সবজি পণ্য উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভ‚মি) মো: আমিমুল এহছান খান জানান, উখিয়ার দুইটি ইটভাটায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ইটভাটার কার্যক্রম দেখে মনে হচ্ছিল তারা নিয়ম কানুনের তোয়াক্কা করছে না। ঝিকঝাক নাম ব্যবহার করে ইটভাটা পরিচালনা করলেও তারা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে উপরুন্ত ইট ক্রেতাদের ঠকাচ্ছে বিভিন্নভাবে। তাই বিভিন্ন অপরাধে দুইটি ইটভাটাকে প্রাথমিকভাবে ৫০ হাজার টাকা করে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্রমান্বয়ে সবগুলো ইটভাটায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হবে।

কক্সবাজার উপকূলের ত্রাস ১৭ মামলার আসামী আনোয়ার ডাকাত দলের অভ্যন্তরীণ বন্দুকযুদ্ধে নিহত,অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

বিজয় কুমার ধর, কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়ায় নেতৃত্ব ও আধিপত্য নিয়ে ডাকাত দলের অভ্যন্তরীণ বন্দুকযুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছে উপকূলের ত্রাস ১৭ মামলার পলাতক আসামী আনোয়ার হোসেন (৪২)। উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড  শান্তিপুর কালাইয়াগোদা পাহাড়ে বৃহস্পতিবার ভোর রাত ২টায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আনোয়ার চিরিঙ্গা ইউনিয়নের লাল মোহাম্মদ পাড়া ঘিলাতলীর মুজিবউল্লাহ প্রকাশ কিনাইয়ার ছেলে। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার ভোর রাত ২টায় গোলাগুলির শব্দ পেয়ে লোকজন কালাইয়াগোদা পাহাড়ে গেলে আহত অবস্থায় একজনকে দেখতে পায়। তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে থেকে গুরুতর আহত আনোয়ারকে নিয়ে ভোর ৪টায় চকরিয়া সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন। আনোয়ারকে উদ্ধারের সময় একটি এলজি বন্দুক, তিন রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৯ রাউন্ড কার্তুজের খোসা পায় পুলিশ। এ ঘটনায় থানার এসআই কামরুল হাসান বাদী হয়ে অজ্ঞাত ১৬-১৭জনসহ নিহত আনোয়ারকে প্রধান আসামী করে হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছেন। নিহত আনোয়ারের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গ থেকে ময়নাতদন্ত করে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। উল্লেখ্য ডাকাত দলের বন্দুকযুদ্ধে নিহত আনোয়ার একাধিক ডাকাত, সন্ত্রাসী দলের সর্দার ছিল। ১৯৯৫ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে খুন, ডাকাতিসহ ১৭টি মামলা হয়।তৎমধ্যে তিনবার পুলিশকে পিটিয়ে পালিয়ে যাওয়ার মামলাও ছিল। মামলাগুলোর মধ্যে ১৯৯৫ সালে প্রথম দস্যুতার অভিযোগেএকটি মামলা, তিনটি পুলিশ এসল্ট মামলা দায়ের হয় ২০১১ সালের ২১ মার্চ, একই বছরের ৩০ এপ্রিল ও
২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট। এছাড়া তার বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি ডাকাতির মামলা দায়ের হয় ২০০৬
সালের ২৪ মার্চ ২০০২ সালের ২ ডিসেম্বর, ২০০৪ সালের ১৪ ফেব্রæয়ারী। এছাড়া ডাকাতির প্রস্থুতির অভিযোগে ৬টি মামলা দায়ের হয়, ২০১১ সালের ২৮ মার্চ, একই বছরের ৪ এপ্রিল, ৩০ এপ্রিল, ২০১৩ সালের ১৩ আগস্ট, একই বছরের ১২ অক্টোবর, ২০১৪ সালের ১৫ মার্চ। পৃথক তিনটি অস্ত্র মামলা দায়ের হয় ২০০৪
সালের সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সালের ১২ অক্টোবর, ২০১০ সালে ৬ ফেব্রæয়ারী। পরোয়ানা জারী করা ১৭টি মামলার মধ্যে ১৬টি চকরিয়া থানায় ও একটি মহেশখালী থানায় দায়ের হয়।

২৬ কোটি ৬৭ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস

অনলাইনে ফাঁস হয়ে গেছে ২৬ কোটি ৬৭ লাখ ফেসবুক ব্যবহারকারীর ফোন নম্বরসহ ব্যক্তিগত নানা তথ্য। সম্প্রতি একটি ডেটাবেইস আকারে রাখা ওই তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে বলে দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

গত সপ্তাহে একটি অনলাইন ফোরামে উন্মুক্ত তথ্য হিসেবে থাকা এসব ফেসবুক ব্যবহারীর তথ্য ডাউনলোড করে রাখা যাচ্ছিল। এক পর্যায়ে অবশ্য তা সরিয়ে নেওয়া হয়। ফাঁস হয়ে যাওয়া এসব ব্যক্তিগত তথ্য স্প্যামিং ও ফিশিংয়ের মতো প্রতারণামূলক কাজে ব্যবহার হতে পারে বলে ধারণা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের।

ফেসবুকের একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে- মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য আরও ভালোভাবে সংরক্ষণের জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার আগের এসব তথ্য সংগ্রহ করা হতে পারে।

যুক্তরাজ্যের গবেষণা প্রতিষ্ঠান কম্পারিটেক বলছে, সম্প্রতি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বব ডিয়াচেঙ্কো ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হওয়ার ডেটাবেইস খুঁজে পান। এসব তথ্যে ব্যবহারকারীদের নাম, আইডি ও ফোন নম্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

অবশ্য এটিই প্রথম নয়, এর আগেও বেশ কয়েকবার ফেসবুকের ক্ষেত্রে তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত নভেম্বরেই তথ্য ফাঁস হয়ে যায় এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের। এ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাদের।