All posts by lutfor

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে বীর শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।সোমবার সকাল ৬টা ৩৪ মিনিটে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। এ সময় বিউগলে বেজে ওঠে করুন সুর। তিন বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার দেন। এ সময় এক মিনিট নিরবতা পালন করে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়।

মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিক, সরকারের পদস্থ সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।এরপর আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসেবে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পর জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ সন্তানরা। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

জ্বীন যেসব রুপ ধারণ করতে পারে

মহান আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীতে শুধু মানব জাতিকেই সৃষ্টি করেননি, মানব জাতির সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি করেছেন জ্বীন জাতিকেও। ইসলাম ধর্মের মহাপবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনে জ্বীন জাতি সম্পর্কে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি এ নিয়ে একটি সম্পূর্ণ সূরাও নাযিল হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জ্বীন আগুনের তৈরি। তাদের বেশ কিছু বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে যা আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষকেও দেননি।

জ্বীনরা মানুষদের দেখতে পায়, তবে মানুষ জ্বীনদের দেখতে পায়না যতক্ষণ না তারা নিজে থেকে দেখা দেয়। তারা মানুষের মতোই জীবন-যাপণ করে। তাদেরও সংসার ও সন্তান রয়েছে।

জ্বীনদের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। এই ধরণ অনুযায়ী তারা বিভিন্ন রকমের কাজ ও রুপ ধারণ পারে। নিম্নে ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত ১০ ধরনের জ্বীনের বর্ণনা দেয়া হলোঃ

১. হিন
হিন হচ্ছে এমন এক প্রজাতির জ্বীন যারা দেখতে অনেকটা পশুর মতো হয়ে থাকে। এরা সাধারণত কুকুরের বেশে চলাফেরা করে। মুসলিম দার্শনিক জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাজওয়ানি তার ‘দ্য বুক অব জ্বীন’ –এ দাবি করেছেন যে, তিনি সৌদি আরব, পারস্য ও ভারতে অনেকবার হিন দেখেছেন।

২. গৌল
গৌল হচ্ছে বিশেষ প্রজাতির এক জ্বীন। এরা নিজেদের রুপ পরিবর্তন করতে পারা ছাড়াও মানুষের মাংস ভোক্ষণ ও রক্ত পান করে থাকে। এরা মূলত ভ্রমণকারী ও শিশুদেরকে তাদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। এছাড়া এরা কবর থেকেও মানুষের লাশ চুরি করে।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে বলা হয়েছে, গৌলরা হলো জ্বীন জাতির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতির। এদের মধ্যে নারী গৌলরা মানুষের রুপ ধারণ করতে পারে। তারা সাধারন নারীর রুপ ধারণ করে পুরুষদের শিকার করে থাকে।

ফারসি বিভিন্ন বইয়ে বলা হয়েছে যে, গৌলদের বাস্তব রুপে গাধার মতো পা ও ছাগলের মতো শিং থাকে।

৩. জ্যান
জ্যানরা মূলত মরুভূমি অঞ্চলে বসবাস করে থাকে। এরা সাধারণত ঘূর্ণিবায়ু বা সাদা উটের বেশ ধারণ করে চলাফেরা করে।

জ্যানদের সঙ্গে গৌলদের চরম শত্রুতা রয়েছে। তারা মানুষের প্রতি বন্ধুত্যপূর্ণ আচরন করে থাকে। এছাড়া বলা হয়ে থাকে, জ্যানরা হলো জ্বীন জাতির মধ্যে সর্বপ্রথম যারা মানবজাতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলো।

৪. মারিদ
মারিদ হলো জ্বীনদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজাতি। ইসলাম পূর্ববর্তী সময়কাল থেকেই আরবের বিভিন্ন লোককথায় এর অস্তিত্বের কথা জানা যায়।

আরবি ভাষায় ‘মারিদ’ শব্দের অর্থ হলো –দানব। সুবিশাল আকৃতি ও শক্তিমত্তার জন্য তাদেরকে এই নামে ডাকা হয়। তারা নিজেদের খেয়াল-খুশী মতো সবকিছু করে থাকে। তবে এরা প্রচন্ড শক্তিশালী ও বিশাল আকৃতির হওয়া স্বত্তেও এদেরকে বশ করার মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেয়া যায়।

৫. ইফ্রিত
ইফ্রিতরা নিজেদের ক্ষমতা ও চতুরতার জন্য সুপরিচিত। এদের বিশাল ডানা থাকে ও এরা আগুন ছুঁড়তে সক্ষম। এরা সাধারণত স্বভাবে হিংস্র ও দুষ্ট হয়ে থাকে।

ইফ্রিতরা ভূগর্ভে বসবাস করে বলে বলা হয়। এরা সাধারণত অন্যান্য জ্বীনদের বিয়ে করলেও কখনো কখনো মানুষদেরও বিয়ে করে থাকে।

এরা জাদুর ব্যবহার করতে পারে। সাধারণ কোনো অস্ত্র তাদের ক্ষতি করতে পারেনা। তবে মানুষ চেষ্টা করলে তাদের বশে আনতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে।

৬. শিক
জ্বীন জাতির মধ্যে অন্যতম একটি প্রজাতি হলো শিক। এরা কিছুটা দানবীয় আকৃতির হলেও তুলনামূলক ভাবে দূর্বল হয়ে থাকে। এ কারণে শিকদের নিম্ন প্রজাতির জ্বীন বলে গণ্য হয়।

৭. নাসনাস
জ্বীনদের মধ্যে দূর্বল আরেকটি প্রজাতি হলো নাসনাস। শিক ও মানুষের মিলনের ফলে এদের সৃষ্টি বলে বলা হয়ে থাকে। এরা দেখতে অর্ধেক মানুষের মত ও বাকি অর্ধেক পশুর মতো।

‘এক হাজার এক রাত’ বইয়ে বলা হয়েছে যে, নাসনাসদের মুখমণ্ডলের একাংশ, এক হাত ও এক পা মানুষের মত হয়ে থাকে। বাকিটা হয়ে থাকে পশুর মতো।

৮. পালিস
পালিসরা সাধারণত মরুভূমিতে বসবাস করে। এরা মানুষকে ঘুমের মধ্যে আক্রমণ ও পায়ের পাতা চাটার মাধ্যমে রক্ত শোষণ করে থাকে বলে বলা হয়। এদের বুদ্ধিমত্তা খুবই কম থাকায় খুব সহজেই এদের বোকা বানানো যায়।

৯. সি’লাত
সি’লাত প্রজাতির জ্বীনেরা খুবই বুদ্ধিমান হয়ে থাকে। এরা খুব সহজেই মানুষের রুপ ধারণ করতে পারায় মানুষের অনেক ক্ষতি করে থাকে। পারস্য লোককথায় এ প্রজাতির জ্বীন নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে।

১০. শয়তান
শয়তান হচ্ছে জ্বীন জাতির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর প্রজাতি। ইসলাম ধর্মে এই জ্বীনের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে হযরত আদম (আঃ)’কে সেজদা করতে রাজি না হওয়া ও তাকে এবং বিবি হাওয়া’কে বিভ্রান্ত করে গন্দম খেতে উৎসাহিত করা ইবলিস এই শয়তান প্রজাতিরই।

জ্বীন প্রজাতির মধ্যে এরা বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভুলপথে নিয়ে যাওয়া এদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সূত্র: লাইফ ইন সৌদি এরাবিয়া ডটনেট

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করায় গর্বিত বোধ করছেন ওয়াটসন

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এসিএ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক তারকা অলরাউন্ডার শেন ওয়াটসন। সোমবার সিডনিতে বার্ষিক সাধারণ সভায় ওয়াটসনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এ তারকা ক্রিকেটার বলেন, এসিএ’র প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় আমি গর্বিত। অনেক যোগ্য লোকদের সঙ্গে লড়াই করে আমাকে এই পর্যায়ে আসতে হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দাপুটে ক্রিকেট খেলে অবসরে যাওয়া ওয়াটসন আরও বলেন, এটা আমার জন্য খুবই পরম পাওয়া। আমি খুবই আনন্দিত। ক্রিকেট থেকে আমি অনেক কিছু পেয়েছি। এখন খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি আরও গর্বিত। এসিএ ‘র ১০ সদস্যের বর্ধিত বোর্ডে শেন ওয়াটসনসহ নিয়োগ পেয়েছেন জাতীয় দলের বর্তমান ক্রিকেটার প্যাট কামিন্স, ক্রিস্টেন বিমাস ও সাবেক ক্রিকেটার লিসা স্থেলকার।

প্রসঙ্গত, শেন ওয়াটসন ২০০২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দাপুটে ক্রিকেট খেলেন। দেশের হয়ে ৫৯ টেস্ট, ১৯০ ওয়ানডে আর ৫৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ১৪টি সেঞ্চুরির সাহায্যে ১০ হাজার ৯৫০ রান সংগ্রহ করেন। আর মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ে জাতীয় দলের হয়ে ৩০৭ ম্যাচে শিকার করেন ২৯১ উইকেট।

প্রথম যে বাবরি মসজিদে আঘাত করেছিলো সেই আজ মুসলিম

৬ ডিসেম্বর ১৯৯২ ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ভে’ঙে ফেলে একদল বিপথগামী মানুষ। তাদের দাবি, এটি ‘ভগবান রাম’-এর জন্মভূমি এবং মসজিদের পূর্বে এখানে রামমন্দির ছিল। বিক্ষুব্ধ সেই জনতার অনেকেই পরে তাদের ভুল বুঝতে পারেন এবং অনুতপ্ত হন। কেউ কেউ ইসলাম গ্রহণ করে বিস্ময় সৃষ্টি করেন। তেমনই একজন বাবরি মসজিদে প্রথম আঘাতকারী বলবীর সিং। ইসলাম গ্রহণের পর তাঁর নাম হয় মুহাম্মদ আমের। বর্তমানে তিনি একটি জুনিয়র হাই স্কুলের পরিচালক। পাশাপাশি ইসলাম প্রচারক হিসেবেও কাজ করছেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণের ঘটনা বিশ্বের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়েছে। তাঁকে নিয়ে লিখেছেন আবরার আবদুল্লাহ

ইসলাম গ্রহণের আগে আমার নাম ছিল বলবীর সিং। ৬ ডিসেম্বর ১৯৭০ হরিয়ানা প্রদেশের পানিপথে আমার জন্ম। বাবা ছিলেন এক স্কুল শিক্ষক এবং অসাম্প্রদায়িক মানুষ। পানিপথেই আমার শৈশব ও কৈশোর কেটেছে। তখন মুম্বাইয়ের পর পানিপথই ছিল শিবসেনার সবচেয়ে মজবুত কেন্দ্র। যুবকদের মধ্যে তারা কাজ করত। এক বন্ধুর অনুরোধে আমি শিবসেনায় নাম লেখাই। পানিপথের বিভিন্ন যুদ্ধের কাহিনি শুনিয়ে মুসলমানের বিরুদ্ধে আমাদের ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা করত তারা। বিশেষত মুসলিম সম্রাটদের বিরুদ্ধে অন্যায় ও অবিচারের অনেক অভিযোগ ছিল তাদের। বিষয়টি আমার বাবা জানার পর তিনি আমাকে ফেরানোর চেষ্টা করেন। বাবা মুসলিম শাসকদের ন্যায়পরায়ণতা ও জনকল্যাণমূলক কাজের বিবরণ আমার সামনে তুলে ধরেন। তিনি সম্রাট বাবরের কথাই বেশি বলতেন এবং ১৯৪৭ সালে শিবসেনার ভূমিকাও আমাকে স্মরণ করিয়ে দেন। কিন্তু বাবার সব চেষ্টাই বিফলে যায়। আমি দিন দিন শিবসেনার কার্যক্রমে সক্রিয় হয়ে উঠি এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষম হই।

’৯০ সালে লালকৃষ্ণ আদভানি রথযাত্রায় আমাকে পানিপথের কর্মসূচি সফল করতে বিশেষ দায়িত্ব দেন। তারা নানাভাবে আমাদের ক্ষুব্ধ করে তোলে এবং আমাদের মধ্যে ঘৃণার আগুন জ্বালিয়ে দেয়। আমি শিবজির নামে শপথ গ্রহণ করি, যা-ই ঘটুক না কেন, আমি একাই গিয়ে রামমন্দিরের ওপর থেকে জুলুমের বোঝা (মসজিদ) ভেঙে গুঁড়িয়ে দেব। আমার কর্মতৎপরতার পুরস্কার হিসেবে আমাকে শিবসেনার যুব শাখার সহসভাপতি নির্বাচন করা হয়। আমি আমার যুব টিম নিয়ে ৩০ অক্টোবর অযোধ্যায় পৌঁছি। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও আমরা বাবরি মসজিদের কাছে পৌঁছতে পারলাম না। প্রচণ্ড রাগ হলেও অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় ছিল না। ’৯২ সালের ১ ডিসেম্বর প্রথমে অযোধ্যা যাই। আমরা ৬ ডিসেম্বরের আগের রাতে বাবরি মসজিদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যাই এবং মসজিদের সামনে মুসলমানদের বাড়ির ছাদে রাত কাটাই।

আমাদের ভয় ছিল, না জানি ৩০ অক্টোবরের মতো আজও রামের সম্মান উদ্ধার না করে ফিরে যেতে হয়! নেতা আমাদের বাধা দিলেন এবং শৃঙ্খলার সঙ্গে থাকতে বললেন। কিন্তু আমি তাঁর ভাষণ শুনতে শুনতে ঘরের ছাদ থেকে নেমে এলাম এবং কোদাল হাতে বাবরি মসজিদ ভাঙতে অগ্রসর হলাম। আমি সবার আগে মসজিদের ছাদে উঠলাম এবং মধ্যখানে গম্বুজে কোদাল দিয়ে আঘাত করলাম। আমার দেখাদেখি অনেকেই মসজিদ ভাঙায় অংশ নিল এবং মুহূর্তের মধ্যে তা গুঁড়িয়ে দিল। এরপর এক বিরাট সভা হয় এবং সবাই আমার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। মানুষের প্রশংসায় আমারও আনন্দের সীমা ছিল না। কিন্তু আমার বাবা খুব অসন্তুষ্ট হন। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দেন, আমি যেন বাড়ি ছেড়ে চলে যাই। তাঁকে আমি কোনোভাবেই বোঝাতে পারিনি। অবশেষে তিনি বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তখন আমি বাধ্য হয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে আসি।

বাবরি মসজিদ ভাঙায় বাবা খুব আঘাত পেয়েছিলেন। আমি ঘর ছেড়ে চলে আসার পরও তিনি মর্মপীড়ায় ভুগতেন। বলতেন, মালিক আমাকে মুসলিম বানালেন না কেন? মুসলিম হলে অন্তত আমি অবিচারকারীদের দলভুক্ত হতাম না। ৯ মার্চ ১৯৯৩ বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তিনি আমার পরিবারের সদস্যদের বলে যান, ‘আমি মারা গেলে আমার লাশের কাছে যেন বলবীর না আসে, প্রথা অনুযায়ী আমাকে যেন পোড়ানো না হয়।’ পরিবারের সদস্যরা তাঁর অন্তিম ইচ্ছা পূরণ করে। বাবা মারা যাওয়ার আট দিন পর তাঁর মৃত্যুসংবাদ পাই। বাড়ি গেলে বাবার কথা স্মরণ করে মা বলেন, ‘তুই এত ভালো মানুষটাকে মেরে ফেললি!’ এমনিতেই তখন বাবরি মসজিদ ভাঙার কাজে অংশ নেওয়ায় আমার মধ্যে অনুশোচনা হতে শুরু করেছে, তার ওপর বাবার মৃত্যু আমাকে আরো ব্যথিত করে।

আমার এক বন্ধু যোগিন্দর বাবরি মসজিদ ভাঙার পর সেখান থেকে কয়েকটি ইট নিয়ে আসে। সে ছিল জমিদারের ছেলে। এলাকায় ফিরে সে মসজিদের ইটের ওপর মানুষকে প্রস্রাব করার আহ্বান জানায়। এই ঘটনার পর সে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। অনেক চিকিৎসা করেও সে যখন ভালো হলো না, তখন তার বাবা এক মাওলানার পরামর্শে মুসলিম হন। এবং যোগিন্দর সুস্থ হয়ে যায়। যোগিন্দরও ইসলাম গ্রহণ করে এবং বাবা-ছেলে দুজনই তাবলিগে চলে যায়। জুন মাসে যোগিন্দর (এখন ওমর) তাবলিগ থেকে ফিরে এসে আমাকে ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানায় এবং তার পরিণতি থেকে শিক্ষা গ্রহণের অনুরোধ করে।

ওমর ২৩ জুন সোনিপথের যে মাওলানার হাতে ইসলাম গ্রহণ করে তাঁর সঙ্গে আমাকে দেখা করারও পরামর্শ দেয়। আমার বন্ধুই আমাকে সেখানে নিয়ে যায় এবং মাওলানার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। তিনিও আমাকে মুসলিম হওয়ার পরামর্শ দেন। আমিও মুসলিম হওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম, কিন্তু প্রকাশ করলাম না। দুই দিন আমি মাওলানার সঙ্গে থাকলাম। ২৫ জুন ১৯৯৩ জোহরের নামাজের পর আমি ইসলাম গ্রহণ করি। মাওলানা আমার নাম রাখেন মুহাম্মদ আমের। পরে আমার মাও মুসলিম হন।

নূর হোসেনের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় তার (নূর হোসেন) মায়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি। মঙ্গলবার এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নূর হোসেনের পরিবারসহ সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা চিঠিতে উল্লেখ করেন, ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ের মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঘরোয়াভাবে আয়োজিত গণতন্ত্র দিবসের আলোচনা সভায় আমার কিছু বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহল এবং বিশেষ করে নূর হোসেনের পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতি বছর নূর হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে কয়েকটি সংগঠনের আলোচনা, বক্তব্য ও বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। এমনকি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালও করা হয়। এর ফলে জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পরিপ্রেক্ষিতে কর্মীদের উত্তেজনার মধ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার মুখ থেকে নূর হোসেন সম্পর্কে কিছু অযাচিত কথা বেরিয়ে গেছে। যা নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের মনে আঘাত করেছে। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।

নূর হোসেনের পরিবারের প্রতি আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদও সমব্যথী ছিলেন। অতএব, অসতর্কভাবে বলে ফেলা আমার বক্তব্যে যে আঘাত লেগেছে তার জন্য আমি নূর হোসেনের মায়ের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে আমার যে বক্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সেসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

আমি আশা করি এই বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

প্রসঙ্গত, রোববার গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ ও ‘ফেনসিডিলখোর’ বলে আখ্যায়িত করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার রাতে যমুনা টিভির ‘টকশো’তে অংশ নিয়ে দু:খ প্রকাশ করেন তিনি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা যমুনা টিভিকে বলেন, যেহেতু সে সময় ইয়াবা, ফেনসিডিল ছিল না, সেহেতু আমার এ ধরনের বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি।

কিন্তু, বিষয়টি ছিল এমন যে, ওই দিনের কর্মসূচি ছিল আমাদের দলের একান্ত কর্মসূচি এবং সেটা বাইরে কোথাও নয়। আর পরিস্থিতিটা ছিল এমন যে, ওইদিন (রোববার) নূর হোসেন চত্বরে আওয়ামী লীগ সমবেত হয়েছিল।

সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়েছিল- এরশাদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে। আর নেতারাও এরশাদকে স্বৈরাচার বলে সমালোচনা করেছেন।

আমাদের নেতাকর্মীরা সেসব দেখে এসে আমাকে জানানোর পর বক্তৃতায় অনেকটা আবেগতাড়িত হয়ে এমন কথা বলেছি। এখানে নূর হোসেন সম্পর্কে ইয়াবা বা ফেনসিডিলখোর ছাড়া অন্য কোনো কথার কেউ ভুল ধরছে না। আর এ কথাটি আমার বলাও উচিত হয়নি- এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

রোববার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের আয়োজনে ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় নূর হোসেনকে ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর উল্লেখ করে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি।

তাদের কাছে ইয়াবা-ফেনসিডিলখোর ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বেশি। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র আজ নির্বাসনে সুন্দরবনে, যদি বিশ্বজিৎ ও আবরারকে হত্যা করা না হতো তাহলে বলতাম গণতন্ত্র রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের দাবি উঠেছে- যমুনা টিভির এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন আমার এলাকার জনগণ।

তারা যদি চান; তাহলে আমি পদত্যাগ করব। তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আমি তাদের জন্য কাজ করছি; বাইরের কারও কথায়তো আমি পদত্যাগ করতে পারি না।

রেল চালকদের প্রশিক্ষণের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে চালকদের প্রশিক্ষণ এবং রেল সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ ধরনের দুর্ঘটনা বন্ধে সতর্ক থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঙ্গলবার সকালে তার কার্যালয়ে (পিএমও) বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষের (বেপজা) গভর্নর বোর্ডের ৩৪ তম সভার আগে ভাষণে একথা বলেন। খবর বাসসের।

চালকদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, রেলে যারা কাজ করেন তাদের আরও দক্ষ করা উচিত এবং সেইসঙ্গে আমাদের রেল চালকদের প্রশিক্ষণের প্রয়োজন।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জানি না কেন শীত মৌসুম আসলেই কেবল আমাদের দেশেই নয়, সমগ্র বিশ্বেই রেলের দুর্ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়।

ট্রেন দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা বুলবুলের মত সেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও নিজেদের রক্ষা করতে পারলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য যে, এ ধরনের একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেল। যে দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ১৬ জনের প্রাণহানি এবং বহু আহত হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

রেল যোগাযোগটা সম্পূর্ণ নিরাপদ এবং তার সরকার এর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা রেলের বহরে নতুন নতুন ট্রেন যোগ করে রেলকে সম্প্রসারিত করে দিচ্ছি। কারণ মানুষ এবং পণ্য পরিবহনে রেল সবথেকে নিরাপদ যান।

উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে সোমবার রাত পৌনে ৩টার দিকে সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস এবং চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তুর্ণা নিশীথার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

বেপজা বোর্ড অব গভর্নর্স’র সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিনের সভায় সভাপতিত্ব করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, বস্ত্র এবং পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বেগম মুন্নুজান সুফিয়ান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এবং সংশ্লিষ্ট সচিবরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রামমন্দির হবে বাবরি মসজিদের জায়গায় : দাঙ্গা মোকাবেলায় পুলিশ মোতায়েন

বাবরি মসজিদের বি’তর্কিত ওই জমি সরকার পরিচালিত একটি ট্রাস্টের হাতে তুলে দেয়া হবে এবং তারা সেখানে একটি রামমন্দির নির্মাণ করবেন। আর মসজিদ নির্মাণের জন্য শহরের অন্য কোনো জায়গায় মুসলমানদের ৫ একর জমি দেওয়া হবে। আজ শনিবার ভারতে বহু প্রতীক্ষিত অযোধ্যার বাবরি মসজিদ মা’মলার এই রায় দেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি এই মা’মলার রায় পড়া শুরু করেন। রায় উপলক্ষ্যে উত্তরপ্রদেশসহ ভারতজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ১৬ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক বেঞ্চে অযোধ্যা জমি বি’তর্কের শুনানি শেষ হয়। অযোধ্যায় ২ দশমিক ৭৭ একর জমির দাবি জানিয়েছিল হিন্দু এবং মুসলিম উভয়পক্ষই। ১৯৮০ সাল থেকেই এই ইস্যুটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে উঠেছে। ১৯৯২ সালের ১৬ শতকের বাবরি মসজিদ গুঁ’ড়িয়ে দেয় দক্ষিণপন্থি সংগঠন। তাদের বিশ্বাস, ভগবান রামচন্দ্রের জন্মভূমির ওপর তৈরি পুরোনো মন্দিরের ভগ্নাবশেষের ওপর করা হয়েছে সেটি। সেই সময়ে হিং’সার ঘটনায় সারা দেশের ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃ’ত্যু হয়। সেই জায়গায় মন্দির তৈরি করতে চায় হিন্দুরা, মুসলিম সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, মসজিদের ধ্বং’সাবশেষের ওপর মসজিদ তৈরির কোনো প্রমাণ নেই।

এদিকে এই রায়কে ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবেলায় অযোধ্যার আশপাশে অনেক গ্রামেই উড়ছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের বিশেষ ড্রোন। ৩০টি বোম্ব স্কোয়াড গেছে বৃহস্পতিবার রাতেই। অযোধ্যার অধিকাংশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। চলবে ডিসেম্বরের শেষ পর্যন্ত।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সেখানে ৪ হাজার আধা-সামরিক বাহিনীর জওয়ান পাঠিয়েছে। সেইসঙ্গে ১৬ হাজার পুলিশকর্মী। থমথমে শহরের অনেকে অশান্তির ভ’য়ে আগে থেকেই বাড়ির শিশু ও মহিলাদের সরিয়ে দিয়েছেন অন্যত্র। সোশ্যাল মিডিয়া এ নিয়ে কোনো পোস্ট দেওয়া নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছেন অযোধ্যার প্রশাসন। আশপাশের প্রতিটি গ্রামে ১০ জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা হয়েছে। কোনো রকম উ’ত্তেজক অবস্থা হলে তারা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানাবে। সাম্প্রদায়িক দিক থেকে স্প’র্শকাতর এলাকায় অনেক বেশি নিরাপত্তা বাহিনী মো’তায়েন করা হয়েছে। ভারতীয় রেল তাদের কর্মীদের জন্য সাত পাতার নির্দেশিকা জারি করেছে। সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর মধ্যেই তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের জানিয়ে দিয়েছেন, তারা যেন প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অত্যন্ত সংযত থাকেন।

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী রোববার

মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি পরলোকগমন করেন।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। দেশের মুসলিমরা এ দিন বিশেষ ইবাদত করবেন।

দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা ও কোরআন খতমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদ্রাসা।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়ে দেশের জনগণ ও বিশ্বের মুসলমানদের ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সূত্র : ইউএনবি।

সুন্দরবনে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’

সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের অগ্রবর্তী অংশ সুন্দরবনের সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট অংশে আঘাত হানতে শুরু করেছে।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্রেমেই বাড়ছে ঝড়ের তিব্রতা। ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বইছে। একই সাথে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ ফুট পানির উচ্চতা। তছনছ করে দিয়েছে দুবলার চরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী।

ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির (সিপিপি) দুবলারচর ভিএইচএফ স্টেশনের অপারেটর মো. কাশেম এসব তথ্য জানিয়ে বলেন, বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের দুবলারচরের অস্থায়ী শুঁটকি পল্লী এলাকার আলোরকোল, মেহেরআলীর চর, মাঝেরকেল্লা, অফিসকিল্লা ও শেলারচরে ২২ বছর আগে নির্মিত হওয়া জরাজীর্ণ ৫টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে ৬ হাজারেরও বেশি জেলেরা আশ্রয় নিতে পেরেছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রে স্থান সংকুলন না হওয়ায় শুঁটকি পল্লীসহ ঝড়ের কারণে সাগর থেকে আসা আরো কয়েক হাজার জেলে নৌযানে করে ছোট-ছোট খালে আশ্রয় নিয়েছে। ঝড়ের তীব্রতা বাড়ায় নৌযানে করে সুন্দরবনের খালে আশ্রয় নেয়া জেলেদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুলের প্রভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগে আগামী ৩০ ঘণ্টায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এরইমধ্যে আজ (শনিবার) দুপুর থেকে ঢাকায় বৃষ্টির মাত্রা বেড়েছে। সঙ্গে বইছে দমকা হাওয়া।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপকূল অতিক্রমকালে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও খুলনা জেলা এবং তাদের অদূরবর্তী চর ও দ্বীপগুলোতে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ১০০-১২০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া/ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দরে নয় নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি হয়েছে। আর কক্সবাজারে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা যাচ্ছে।

খুলনা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম নদীবন্দরে ৪ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। দেশের অন্য নদীবন্দরগুলোকে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা যাচ্ছে।

বুলবুল মোকাবিলায় মাঠে থাকবে আ. লীগ : কাদের

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় আওয়ামী লীগসহ এর সহযোগী সব সংগঠনের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (৯ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের জানান, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সরকারের পাশাপাশি দল ও দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দলের নেতাকর্মীরা সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবেন। তারা জান-মাল রক্ষা এবং ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় জনগণকে সার্বিক সহযোগিতা দেবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নেতাকর্মীরা প্রস্তুত রয়েছে। তারা জানমাল রক্ষা ও জলোচ্ছ্বাস মোকাবিলায় সার্বিকভাবে সহযোগিতা দেবে। দলীয়ভাবে মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হবে। টিমের কর্মীরা জরুরি ত্রাণ পৌঁছানোর কাজ করবেন।

এ দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, মোংলা ও পায়রা বন্দরের খুব কাছে অবস্থান করছে বুলবুল। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আঘাত আনতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।