All posts by lutfor

ভারতে বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে বাংলাদেশে কোনো উ’ত্তেজনা নয়

পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, বাবরি মসজিদের রায় নিয়ে বাংলাদেশ কোনো উ’ত্তেজনার মধ্যে থাকবে না। আমরা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করব। আজ শনিবার রাজধানীতে সাউথ এশিয়ান কারাতে চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৯ এ যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মুসলিম হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ একসঙ্গে মিলেমিশে একত্রে এক সাংস্কৃতিক আবহে বসবাস করি। এখানে উ’ত্তেজনার কোনো স্থান নেই। উ’ত্তেজনা যেন সৃষ্টি না হয় এ জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ দেশে সংশ্লিষ্ট বিভাগ সক্রিয় রয়েছে।

স্বাধীনতা ভালো তবে বালকের জন্য নহে: প্রধানমন্ত্রী

দেশের বিভিন্ন স্থানে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান আ’ন্দো’লন ও তার সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সতর্ক করে বলেন, ‘স্বাধীনতা ভালো, তবে তা বালকের জন্য নহে।’ শনিবার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শ্রমিক লীগের ১৩তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা দেখি অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নাকি আমরা বুঝি না। যারা কথা বলছেন তারাই বোঝেন। বি’শৃ’ঙ্খলা সৃষ্টি করেন তারাই বোঝেন। পড়াশোনা নষ্ট করে স্ট্রাইক করে দিনের পর দিন কর্মঘণ্টা নষ্ট করবেন, যারা ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া ব্যাহত করবেন তারাই বোঝেন। আর বুঝব না আমরা। এটা তো হয় না। অর্থ দেবে সরকার, সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে। সেটা নিতে খুব ভালো লাগবে আর সরকার সেখানে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না- এটা কখনও হতে পারে না।

তিনি বলেন, অর্থ সরকার দেবে, সব রকম উন্নয়ন প্রকল্প সরকার করবে, সেটা নিতে ভালো লাগবে আর সরকার সেখানে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবে না। এটা কখনও হতে পারে না। কথায় বলে, স্বাধীনতা ভালো, তবে তা বালকের জন্য নহে। এটাও মাথায় রাখতে হবে। সুতরাং আমি বলব, এই রকম বালকসুলভ কথাবার্তা না বলাই ভালো। বরং ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করবে তাদের সেই সময় যেন নষ্ট না হয়। উপযুক্ত সময়ে ভালো রেজাল্ট করবে সেটাই আমরা চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, উ’স্কানি দিয়ে ছাত্রদের বিপথে নেয়া আর এখানে মুখরোচক কথাবার্তা এটা কেউ কখনও মেনে নিতে পারে না। আর যদি সেটা করতে হয় তাহলে নিজেদের অর্থ নিজেরা জোগান দিতে হবে। নিজেদের বেতন নিজেদের যোগাড় করতে হবে। নিজেদের খরচ নিজেরা চালাবে। সরকার সব টাকা বন্ধ করে দেবে। কারণ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, টাকা পাবলিক দেবে, সরকার কেন খরচ করবে। সেটাও তাদের চিন্তা করতে হবে তারা কোনটা করবে।

তিনি আরও বলেন, ইদানিং দেখা যাচ্ছে কথা নেই, বার্তা নেই- ব্যবস্থা নেয়ার পরও অহেতুক অভিযোগ তুলে। সেটা সত্য অ’ভিযোগ না মিথ্যা অ’ভিযোগ? আমাদের আইনে আছে কেউ যদি কারো বি’রুদ্ধে কোনো মিথ্যা অ’ভিযোগ আনে আর তা যদি প্রমাণিত না হয়; তাহলে অভিযোগকারীর সাজা হবে। কাজেই যারা কথা বলছেন আইনগুলো ভালো করে দেখে নেবেন। কিছু কিছু পাকা পাকা কথা শুনি, এ জন্য আমরা এই ধরনের কথা বলতে বাধ্য হই।

যে বিশেষ ২ গুণের কারণে সুনিশ্চিত জান্নাত পাবেন নারীরা

বিবাহিত ঈমানদার নারীরা বিশেষ ২টি গুণের কারণে লাভ করবে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাদের জন্য জান্নাতের মধ্যে নির্মাণ করা হবে আলাদা ঘর। যেখান থেকে তারা আল্লাহর দিদার লাভ করবে। নারীদের সে গুণ দুটি হলো-

স্বামীর দোষ প্রচার না করা তার প্রশংসা ও সহযোগিতা করা। অর্থাৎ অন্য মানুষের কাছে স্বামী দোষ বা কুৎসা বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা।
স্বামীকে অভিশাপ না দিয়ে তাদের জন্য কল্যাণে দোয়া করা। অর্থাৎ স্বামীর জন্য বদদোয়া বা তাদের কথা ও কাজের অকল্যাণ কামনা না করা।

আর স্ত্রীরা কারণে-অকারণে স্বামীদের সঙ্গে এ দুটি কাজই বেশি করে থাকে। সামান্য কারণেই স্বামীকে দোষারোপ করে কিংবা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কেননা এ দুইটি কারণই একজন ঈমানদার নারীকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে পয়গাম্বর নূহ ও লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে বলেন-

‘আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তারা আমার দুই নেককার বান্দার স্ত্রী ছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বামী সঙ্গে খেয়ানত করেছিল। তারা (নূহ ও লূত আলাইহিস সালাম) আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (স্ত্রীদের) কোনো কাজেই আসতে পারেনি। দুই জনকে বলে দেয়া হয়েছে যাও, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও প্রবেশ কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১০)

এ আয়াতে খেয়ানত বলতে নবীদের স্ত্রীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এটি বুঝানো হয়নি বরং তারা নবিদের সঙ্গে ঈমানের পথে হাটেনি বরং তারা নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করেছিল।

নবিদের কাছে যারা ঈমান নিতে আসতো তাদের তথ্য অন্যের কাছে দিয়ে দিতো। নবিদের ব্যাপারে লোকদের বলে বেড়াতো- এ লোক একজন পাগল। তারা তাদের স্বামী নামে চোগলখুরী করতো। তাদের নামে কুৎসা রটনা বা বদনাম বলে বেড়াতো। যার ফলে নবীদের সঙ্গে সংসার করা সত্বেও তারা জাহান্নামী।

পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের (নারীদের) উদ্দেশ্যে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যিনি ফেরাউন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন ঠিকই ফেরাউনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা বদদোয়া করেনি। আবার তার কোনো দোষও বলে বেড়াননি। আল্লাহ বলেন-

‘আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। যখন সে দোয়া করলো- হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার খারাপ কাজ-কর্ম থেকে রক্ষা করো এবং আমাকে অত্যাচারি সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায় যে, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া স্বামী অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাপারে বদদোয়া করেনি এবং তার কোনো দোষও বর্ণনা করেনি বরং তার অত্যাচার ও দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার হওয়ার আবেদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা স্বামীদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাসী নারীদের জন্য এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে- ফেরাউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। তিনি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন। ফেরাউন তার হাত ও পায়ে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে মাথার ওপ গরম তেল ঢেলে দিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার চুল ও চামড়াগুলো ওঠে গিয়েছিল। সে সময় ফেরেশতারা তার সামনে জান্নাতের দৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফেরাউনের শাস্তি তার কাছে সহজ হয়েগিয়েছিল। আর তখন তিনি আল্লাহর কাছে উল্লেখিত দোয়া করেছিলেন।

সুতরাং প্রত্যেক ঈমানদার নারীর উচিত যে, স্বামীর ব্যাপারে চোগলখুরী না করা। স্বামীদের দোষ বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা। স্বামীর জন্য বদদোয়া বা অভিশাপ না দেয়া। বরং স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞপনের পাশাপাশি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ফলে তারা পাবে সুনিশ্চিত জান্নাত।

ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের শান্ত থাকার অনুরোধ সাকিবের

সাকিব আল হাসানের নিষেধাজ্ঞার খবর এখন পুরনো। বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারকে ছাড়াই বাংলাদেশ দল ভারত পৌঁছেছে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। তারপরও ভক্তদের অন্তরে বিঁধে থাকা কাটা খোঁচাচ্ছে তাদের। তারই প্রতিফলন ঘটছে প্রতিনিয়ত সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে। এই অবস্থায় ভক্তদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন দেশের ক্রিকেটের প্রাণভোমরা সাকিব আল হাসান।

শুক্রবার রাতে দেয়া এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘‘শুরুতেই বলতে চাই, এই খারাপ সময়ে সকল ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষী যে নিঃস্বার্থ সমর্থন, ভালোবাসা নিয়ে আমার এবং আমার পরিবারের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন তাতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি। শেষ কয়েকদিনে দেশের হয়ে মাঠে নামার গুরুত্ব আমি আরও ভালোভাবে অনুধাবন করতে পেরেছি৷ সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমার ওপর শাস্তি আরোপিত হওয়ায় ক্ষুব্ধ সকল ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ধৈর্য ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি।  প্রিয় ক্রিকেটারের নিষেধাজ্ঞায় অনেকেই বিসিবিকে দায়ী করে আসছে। এ বিষয়ে তিনি লেখেন, ‘‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, আইসিসি আকসুর পুরো তদন্তটাই ছিলো অত্যন্ত গোপনীয় এবং আমার উপর শাস্তি আরোপিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে বিসিবিকে আমি এ ব্যাপারে জানাই। দেরিতে জানলেও এমন পরিস্থিতিতে বিসিবিই আমাকে সবচেয়ে বেশি সমর্থন দিয়েছে। তাই, বোর্ডের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নিজের অবহেলার কথার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন সাকিব আল হাসান, ‘‘যারা এই কঠিন সময়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে এসেছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। মনে রাখতে হবে, পুরো ব্যাপারটিই একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই সম্পন্ন হচ্ছে। যেহেতু ওই সময়ে আমি আমার দায়িত্ব ঠিকঠাক পালন করতে পারিনি তাই আমিও আমার ওপর আরোপিত শাস্তি মাথা পেতে নিয়েছি।’’

সবশেষে ছিলো ফেরার দৃঢ় প্রত্যয়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের হয়ে আবার মাঠে নামার কথা ছাড়া এই মুহূর্তে আর কিছুই ভাবছি না আমি। ততদিন পর্যন্ত আপনাদের দোয়া আর প্রার্থনায় আমাকে রাখবেন বলেই আশা করছি।

ফ্রান্সের লরি থেকে এবার ৩১ অভিবাসী উদ্ধার

ফ্রান্সের একটি লরি থেকে ৩১ অভিবাসীকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এরা সবাই পাকিস্তানি নাগরিক। ফ্রান্সের দক্ষিণাঞ্চলের একটি লরিতে লুকিয়ে ছিলেন ওই অভিবাসীরা। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ধরা পড়েন তারা।শনিবার স্থানীয় প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ওই লরিটির চালকও পাকিস্তানি নাগরিক। তাকে আটক করা হয়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই বেলজিয়ামে একটি রেফ্রিজারেটর ট্রাক থেকে ১২ অভিবাসীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।এদের মধ্যে ১১ জনই সিরিয়ার নাগরিক এবং বাকি একজন সুদানের নাগরিক। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা সবাই পুরুষ। পুলিশ জানিয়েছে, ফল এবং শাক-সবজির একটি রেফ্রিজারেটর ট্রাক থেকে ওই অভিবাসীদের উদ্ধার করা হয়।এই ঘটনার আগে গত মাসে পূর্ব লন্ডনের একটি রেফ্রিজারেটর ট্রাক থেকে ৩৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনা তদন্ত করছে পুলিশ। নিহতদের মধ্যে বেশিরভাগই ভিয়েতনামের নাগরিক। লন্ডনের ট্রাক থেকে উদ্ধার হওয়া ৩৯ অভিবাসীর মধ্যে আটজন নারী এবং ৩১ জন পুরুষ।শুক্রবার ফ্রান্স ও ইতালির সীমান্তে রুটিন মাফিক নজরদারির সময় একটি লরি থেকে ৩১ জন পাকিস্তানি অভিবাসীকে দেখতে পায় পুলিশ। এদের মধ্যে তিনজন কিশোর। এদের সবাইকে ইতালি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

খোকাকে দেশে ফেরাতে সরকারের সহায়তা চান ফখরুল

নিউ ইয়র্কের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহায়তা চেয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি আয়োজিত দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তিনি (সাদেক হোসেন খোকা) আমাদেরকে বলেছেন, তার বন্ধুদের বলেছেন যে, দেশের মাটিতেই যেন তার কবর হয়। আজকেও তার ছেলে সকাল বেলা ফোন করে বলেছে, তার বাবার এই এক ইচ্ছা আমরা পূরণ করতে চাই। আমরা আহ্বান জানাতে চাই সরকারের কাছে যে, তিনি যেন দেশে ফিরতে পারেন, সেই ব্যবস্থা তাদের গ্রহণ করা উচিত বলে আমরা মনে করি।’

সাদেক হোসেন খোকার রোগমুক্তি কামনায় এ দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়। ১৮ অক্টোবর থেকে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে তার চিকিৎসা চলছে। খোকার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, ২০১৭ সালে তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে তার এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্যের কোনো পাসপোর্ট সরকার দেয়নি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সাদেক হোসেন খোকা দুরারোগ্যে ক্যান্সারে ভুগছেন। চিকিৎসার জন্য তিনি বিদেশে অবস্থান করছেন। আমি নিউইয়র্কে গিয়ে কয়েকবার তার সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি বলেছেন, যদি অসুস্থ না থাকতেন, প্রতি সপ্তাহে মনিটর করতে ডাক্তারের কাছে যেতে না হতো, তাহলে দেশে গিয়ে জেলে যেতাম, মানুষের সঙ্গে থাকতাম।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আজ দুঃশাসনের যে যাতাকলে আমরা পড়েছি, শুধু সাদেক হোসেন খোকা নন, আমাদের অনেক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, অনেকেই শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন। আমাদের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া অত্যন্ত অসুস্থ, শাহজাহান সিরাজ অসুস্থ। এভাবে দেখবেন, চারদিকে আমাদের যারা বয়স্ক মানুষ আছেন, তারা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দেশের এই অবস্থার কারণে।

আয়োজক সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সি বজলুল বাছিদ আঞ্জুর সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, কাজী আবুল বাশার, আহসান উল্লাহ হাসান, নবী উল্লাহ নবী প্রমুখ। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা শাহ মোহাম্মদ নেসারুল হক।

অভিযান অব্যাহত থাকবে: প্রধানমন্ত্রী

সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে জেলহত্যা দিবসের এক আলোচনা সভায় একথা জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে। দেশের মানুষ সুন্দরভাবে জীবনযাপন করবে। যারা খুনিদের দোসর, তাদের স্থান বাংলাদেশে নেই।

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, একটা দল; যার চেয়ারপারসন এতিমের টাকা আত্মসাতের মামলায় জেলে, এত নেতা থাকতে যে মামলায় সাজাপ্রাপ্ত তাকে বানাল ভারপ্রাপ্ত প্রধান। যারা বিএনপি করে তাদের মেরুদণ্ড আছে কিনা এটাই আমার সন্দেহ।

তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে ক্ষমতা এসেছি। বাবা-মায়ের কাছে শিখেছি; দেশকে ভালোবাসা মানুষকে ভালোবাসা। দেশকে ভালোবাসলে দায়িত্ব পালন করা যায়। মানুষের সমর্থন পাওয়া যায়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, সারা বিশ্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের এক বিস্ময়। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়বোই।

যে কারনে পবিত্র কোরআনে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে

কিছুটা উপকার না থাকলে মদের প্রতি মানুষের এতটা আকর্ষণ থাকত না। কিছুটা লাভ না হলে মানুষ জুয়ার প্রতি আসক্ত হতো না। এই চরম বাস্তবতা উপস্থাপনের অতুলনীয় দর্পণ মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এদিকে ইঙ্গিত করেছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, লোকেরা আপনাকে মদ-জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলে দিন, এতে মহাপাপ। যদিও কিছুটা উপকার আছে। কিন্তু উপকারের তুলনায় অপকারই বেশি। (বাক্বারাহ ২১৯)

কিছু সময়ের জন্য হৃদয় আনন্দানুভূতি, নিজেকে মনে মনে রাজার আসেন আসীন করা, ডান-বাম বাহুর দিকে তাকিয়ে নিজেকে বীরবল, শক্তিধর মনে করা, চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ ফুটে ওঠা, কৃত্রিম উন্মত্ততায় উগ্র নারী সংশ্রবকে পরম পাওয়া মনে করা মদের উপকারিতার আওতায় পড়ে।

বিনা পরিশ্রমে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হাজার থেকে লাখপতি, লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়ে যাওয়া কার না পছন্দ? কোরআনের এই স্বীকারোক্তিতে আপনি খুশিতে আটখানা হবেন না, কারণ, বাহ্যিক উপকারটুকু উপস্থাপনের পর তার অপকারটা যে চরম তাও কিন্তু কোরআন সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।

মাদক মানুষের শারীরিক, পারিবারিক এবং সামাজিক সব অপকারের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

শারীরিক অপকার

১) মদ পানকারীর খাদ্যের চাহিদা কমে যায় ভীষণভাবে।

২) হজম শক্তি কমে যায় আস্তে আস্তে।

৩) চেহারায় বিকৃতি আসে একটা সময়।

৪) সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে দেহের স্নায়ুগুলোর। প্রাথমিকভাবে স্নায়ুগুলো উত্তেজিত করে দেহে শক্তি বর্ধন করে দেয়। উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর এই শক্তি আর স্থায়ী থাকে না। অনেকটা বেলুনের মতো এর উপকার। দেখবেন, বেলুন ফুলানোর আগে কত মসৃণ থাকে, ফোলানোর পর বাতাস ছেড়ে দিয়ে বেলুনের দিকে তাকাবেন, খসখসে হয়ে যায়।

প্রায় একই রকম হয় মদ্যপের অবস্থা। মদ পান করার আগে দেহটা যে সার্ভিস দিত, মদ পানে অভ্যস্ত হওয়ার পর মদ ছাড়া আর এই সার্ভিসটা দেয় না, তখন মদখোড় মদের কাছে অসহায় হয়ে যায়। এই অসহায়ত্বকে আমরা বলি নেশা।

৫) ৪০ বছর বয়সে নিজেকে অকর্মণ্য হিসেবে আবিষ্কার করতে পারে, যেমনটা হয়ে থাকে ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের বেলায়।

৬) বড় রকমের আঘাত পড়ে লিভারে।

৭) কিডনি অকেজো হওয়া নৈমত্তিক ব্যাপার।

৮) যক্ষ্মা রোগ নাকি মদ্যপের অনিবার্য পরিণতি। ইউরোপজুড়ে যক্ষ্মার আক্রমণ নাকি মদপান থেকেই শুরু হয়েছে।

৯) মদপান অবস্থায় জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। এই প্রভাবটা মদপান করার পর দীর্ঘক্ষণ, এমনকি জীবনভর চলতে থাকে।

১০) মদ্যপরা স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারে না। কেউ কেউ তো পাগল হয়ে যায়।

১১) মদ রক্তের সঙ্গে মিশে না। আলাদা থেকে যায়। পয়জন হিসেবে জমা হতে থাকে। এক সময় এই জীবাণু রোগ সৃষ্টি করতে এগিয়ে আসে।

১২) মদের প্রথম আক্রমণটা হয় গলা-শ্বাসনালীতে। শ্বাসনালীতে ক্ষতের সৃষ্টি করে।

১৩) ওদের গলার স্বর মোটা হয়ে যায়। অধিকাংশ মদ্যপ চিহ্নিত হয় এই মোটা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে।

১৪) এই অভিশাপ শুধু মদ্যপ নয়, তার সন্তানের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে। মধ্যবিত্তের সন্তানরাও মদ্যপানের প্রতি আগ্রহী হয়।

১৫) এমনকি সন্তান দুর্বলদেহী হয়ে জন্ম নেয়।

১৬) কোনো সন্তান নির্বংশ হয়ে জন্ম নেবে। ওর কোনো সন্তান জন্মাবে না।

১৭) মদ্যপদেরকেই সমাজে পুতুলের সতো উপহাসের পাত্র হিসেবে দেখা হয়।

পারিবারিক অপকার

মদ্যপদের মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যায়। মানবতা, উদারতা, সামাজিকতা রক্ষা করে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এর শুরুটা হয় পরিবার থেকে। স্ত্রীদের সঙ্গে তাদের রুঢ় আচরণ, মাতা-পিতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পাড়া-প্রতিবেশীদের হুমকি-ধমকি তাদের নৈমত্তিক ব্যাপার।

নেশা করতে যেখান থেকে বাধা আসে তাকেই প্রতিহত করতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। সাধারণত এই বাধাটা আসে পরিবার থেকে। এ জন্য মাতা-পিতাকে খুন করা, স্ত্রী-সন্তানকে আঘাত করা তাদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার।

ড্রাগ এডিক্টেড কন্যা ঐশী কর্তৃক ডিবি অফিসার মাহফুজুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এর সুস্পষ্ট উদাহরণ।

এ দেশে স্বল্প আয়ে পরিবার চালান যারা তাদের আমরা হুজুর বলে চিনি। দাম্পত্য কলহের বড় কারণ অভাব। কিন্তু অভাব থাকা সত্ত্বেও হুজুরদের পরিবারে এই কলহ থাকে না। কারণ সেখানে মাদকের উপস্থিতি নেই।

সামাজিক সমস্যা

১) মদপানকারীরা সমাজে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনিতে মজা পায়।

২) যিনা-ব্যাভিচার তাদের প্রথম পছন্দ।

৩) একটা পরিবারের ব্যয় নির্বাহ যে পরিমাণ হয়, একটা মদ্যপের পকেট খরচ এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। এ জন্য নবীজি মদকে সব অশ্লীলতা ও কদর্যতার মূলমন্ত্র বলেছেন।

এক জার্মান ডাক্তার বলেছেন আপনি আমাকে দেশের চলমান সরাবখানার অর্ধেকটা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিন, আমি আপনাকে অর্ধেক হাসপাতাল ও জেল অপ্রয়োজনীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেব।

জুয়ার নেশা মানুষকে চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি এমনকি খুনাখুনিতে লিপ্ত করে। এক দিয়ে বহু গুণ পাওয়ার আশায় ওরা হারাতে থাকে সঞ্চিত সব সম্পদ। বিক্রি করতে থাকে স্ত্রীদের গহনাঘাটি। এমনকি জুয়ায় হেরে স্ত্রীকে জুয়ার দানে ধরার উদাহরণ পত্রিকায় আমরা দেখছি।

বর্তমান ক্যাসিনো সংস্কৃতি মদ-জুয়াকে দিয়েছে দুর্ধর্ষ গতি। জুয়ার আধুনিক সংস্করণ ক্যাসিনোর মাধ্যমে গোটা জাতির অর্থ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক জুয়াড়ি লকারে। শত শত কোটি টাকা অচল হয়ে পড়ে আছে ওদের গুদামঘরে। এই টাকাগুলো কুক্ষিগত না হলে সচল হয়ে জাতীয় জীবনে অনেক সমৃদ্ধি নিয়ে আসত।

ক্যাসিনো সংস্কৃতির কবলে পড়ে আজ জাতীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে। সরকারের বহুবিধ উন্নয়ন ম্লান করে দিয়েছে জুয়াড়িদের এই ক্যাসিনো সংস্কৃতি।

তবে আশার কথা যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন। মদ ও জুয়ার আসর ধ্বংসে নামিয়েছেন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী। দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে এর বিকল্প ছিল না। কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি যেন এই অভিযান ব্যাহত না হয়।

 

মেঝেতে স্ত্রীর লাশ, চেয়ারে স্বামীর

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ঘরের ভেতর থেকে স্বামী-স্ত্রীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার সকালে পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া এলাকা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- নজরুল ইসলাম ম্যানা (৫৫) ও তার স্ত্রী রুমি (৩৩)।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, সকাল থেকে নিহত দম্পতির তিন বছরের ছেলে ঘরের মধ্যে কান্না করছিল। পরে প্রতিবেশীরা গিয়ে দরজা খুলে শিশুটিকে উদ্ধার করে।

এ সময় ঘরের মেঝেতে শিশুটির মায়ের লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পাশের ঘর থেকে চেয়ারে বসা অবস্থায় তার বাবার লাশ পাওয়া যায়।

পুলিশ আরও জানায়, নিহত দুজনের গলার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তবে কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনও জানাতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনাস্থল থেকে নাগেশ্বরী থানার ওসি মো. রওশন কবির  বলেন, খবর পেয়ে লাশ দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যার কারণ এখনও জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।

মালয়েশিয়ায় ৪,০০০ বাংলাদেশী বানিয়েছে সেকেন্ড হোম

মালয়েশিয়া সরকারের রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ‘মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম’ এ বাংলাদেশের ব্যবসায়ী, সরকারের বিভিন্নপর্যায়ের আমলা, রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে নানা পেশার চার হাজারের বেশি নাগরিক ইতোমধ্যে নাম লিখিয়েছে। এরমধ্যে অনেকে সপরিবারে ব্যবসাবাণিজ্যের পাশাপাশি দেশটিতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছে।

মালয়েশিয়ার মিনিস্ট্রি অ্যান্ড ট্যুরিজম আর্টস অ্যান্ড কালচারের ওয়েব সাইটের সর্বশেষ তথ্য (২০১৮ সালের জুন) অনুযায়ী পৃথিবীর ১৩০টি দেশের ৪০ হাজার নাগরিক ‘মাইয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে’র (এমএম২এইচ) বাসিন্দা হয়েছে। যারা দেশটিতে সেকেন্ড হোমের বাসিন্দা হয়েছে তার মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে চীনা ও দ্বিতীয় জাপানীরা। আর তালিকার তৃতীয় স্থানেই রয়েছে বাংলাদেশের নাম।

পরিসংখ্যানে ঘেঁটে দেখা গেছে, মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে চাইনিজ ১১ হাজার ৮২০ জন। জাপানিজ চার হাজার ১৮ জন। আর বাংলাদেশীর সংখ্যা চার হাজার ১৮ জন। এরপর যথাক্রমে ব্রিটেন দুই হাজার ৬০৮ জন, দক্ষিণ কোরিয়া দুই হাজার ৬৯ জন, সিঙ্গাপুর এক হাজার ৪২১ জন, ইরান এক হাজার ৩৮১ জন, তাইওয়ান এক হাজার ৩৪৭ জন, পাকিস্তান এক হাজার ১৭ এবং ভারতের এক হাজার আটজন।

‘মাই এক্সপার্ট’ নামক ওয়েব সাইটে বাংলাদেশীদের বর্তমান শেয়ার সর্বোচ্চ ১০ পারসেন্ট অফ দ্য টোটাল মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম (এমএম২এইচ) প্রকল্পের বেনিফিশিয়ারি বলে উল্লেখ রয়েছে। মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোমে আবেদনের ক্রাইটেরিয়ার মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের বয়স ৫০+ (বেশি) তাদের জন্য লিকুইড এসেট-এর পরিমাণ থাকতে হবে সাড়ে তিন লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত। বাংলাদেশী টাকায় ৭৩ লাখ টাকা।

সাথে মাসিক আয় দেখাতে হবে ১০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত। অপর দিকে আবেদনকারী যাদের বয়স ৫০ এর নিচে তাদের জন্য লিকুইড এসেট থাকতে হবে পাঁট লাখ মালয়েশিয়ান রিংগিত। সাথে মাসিক আয় ১০ হাজার রিংগিত। ভিসা পারমিট পাওয়ার আগে যাদের বয়স ৫০ এর নিচে তাদের জন্য মালয়েশিয়ান ব্যাংকে তিন লাখ রিংগিত ফিক্সড ডিপোজিট জমা করতে হবে। আবেদনকারী এক বছর পর সেখান থেকে দেড় লাখ রিংগিত উত্তোলন করতে পারবে।

তবে দ্বিতীয় বছরে অবশ্যই একই পরিমান ব্যালেন্স লেনদেনের পর জমা থাকতে হবে মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ড হোম প্রোগ্রাম পর্যন্ত। অপর দিকে আবেদনকারী ৫০-এর ওপরে হলে দেড় লাখ রিংগিত দিয়ে ব্যাংকে ফিক্সড ডিপোজিট রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে এক বছর পর আবেদনকারী তার জমা রিংগিত থেকে ৫০ হাজার রিংগিত উত্তোলন করতে পারবে। এই তালিকার আবেদনকারীকে অবশ্যই এক লাখ রিংগিত ব্যাংকে ব্যালান্স টাকা জমা রাখতে হবে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনেই ২০০২ সাল থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত মোট দেশটিতে চার হাজার ১৮ জন বাংলাদেশী সেকেন্ড হোম প্রকল্পের বাসিন্দা হয়েছেন।

সেই হিসেবে দেশ থেকে শুধু হুন্ডির মাধ্যমে সেকেন্ড হোম প্রজেক্টে নগদ টাকাই পাচার হয়েছে প্রায় চার হাজার ২১৯ কোটি টাকার মতো। যদিও মালয়েশিয়া মাই সেকেন্ডে হোম প্রজেক্টটি দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম হওয়ার কারণে কোন কোন দেশের কতজন নাগরিক সেকেন্ড হোমের মালিক হয়েছেন সেই তথ্য মালয়েশিয়া সরকার অদ্যাবধি গোপন রেখেছে।

তবে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাংলাদেশ থেকে ক্ষমতাসীন দল এবং সরকার বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, সরকারি আমলা বিভিন্ন দফতর সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী পেশাজীবী এমনকি দেশটিতে শ্রমিক হিসেবে পাড়ি জমানোদের মধ্যে অনেকে সেকেন্ড হোমের স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন এবং দেশটিতে বসবাসের পাশাপাশি ব্যবসাবাণিজ্য করছেন। কেউ কেউ আবার ফ্ল্যাট কিনে ভাড়া দিয়েছে।

মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর শহরের একটি কনডোনিয়ামের ভেতরে ৮-১০ জন বাংলাদেশীর সেকেন্ড হোমের বাসিন্দা হওয়ার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যেখানে ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা এবং ট্রাভেল এজেন্সির মালিকসহ অন্য পেশার বাংলাদেশীর নাম পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সির মালিক কামরুল হুদা দুই হাজার স্কয়ার ফিটের একটি ফ্ল্যাট কিনে ফেলে রেখেছেন। বাকি যাদের নামে ওই কনডোনিয়ামে ফ্ল্যাট রয়েছে তাদের মধ্যে দু’জন পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে।

মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোম প্রজেক্ট ছাড়া বিপুল বিত্ত বৈভবের সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ কামরুল হুদার নামে দুই বছর আগেই দুর্নীতি দমন কমিশনে অভিযোগ জমা পড়ে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি দমন কমিশনে ২০১৭ সালের ১২ নভেম্ব^রে ২৭/১ তিলপাড়া ঢাকার ফাইজুল্লাহ হাসান নামক ব্যক্তি উল্লেখ করেন, কামরুল হুদা একজন আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারকারী, মাফিয়া ডন ও অবৈধ সম্পদের অধিকারী।

তিনি দেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম বিক্রি করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, চীন, যুক্তরাজ্যে ও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অর্থ পাচার করছেন। বিশ্বের বিভিন্ন ব্যাংকে তার একাউন্ট আছে। অথচ তার দৃশ্যমান বৈধ আয়ের কোনো উৎস নাই। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় তার সেকেন্ড হোম (ফ্ল্যাট) রয়েছে। অভিযোগের পর কামরুল হুদাকে দুদকে তলবও করা হয়েছিল। সর্বশেষ কামরুল হুদার প্রতারণার শিকার হন গুলশানের অটো গ্যালাক্সির মালিক।

উল্লেখ্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ঢাকাসহ সারা দেশে দুর্নীতি বিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে। ক্যাসিনোর সন্ধানে র্যাব পুলিশের বিশেষ অভিযানে ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠন যুবলীগ নেতাদের হেফাজত থেকে বস্তা বস্তা টাকা আর ফিক্সড কোটি কোটি টাকার ব্যাংকের ডিপোজিট উদ্ধার হয়েছে।

এখন সময় এসেছে মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের যেসব দেশে বাংলাদেশীরা সেকেন্ড হোম গড়ে তুলেছেন তাদের পরিচয় উদঘাটনের পাশাপাশি কিভাবে কাদের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের টাকা ‘নিরাপদে’ দেশ থেকে পাচার হয়েছে সেই রহস্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার উদঘাটন করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।