All posts by lutfor

বিএনপি ও মির্জা ফখরুল বেপরোয়া গাড়িচালকের মতো : সেতুমন্ত্রী

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বেপরোয়া গাড়িচালকের সঙ্গে তুলনা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ শুক্রবার বিকেলে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও চালকদের গাড়ির কাগজপত্র পরীক্ষার অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুর কাদের বলেন, বিএনপি ও ফখরুল বেপরোয়া গাড়িচালকের মতো বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। তারা গত ৯ বছরে ৯ মিনিটের আন্দোলন করতে পারেনি। তারা কোটা আন্দোলনের ওপর ভর করে ব্যর্থ হয়েছে, ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলনের ওপর ভর করে ব্যর্থ হয়েছে, নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের ওপর ভর করেও সফলতার মুখ দেখেনি। তাই আন্দোলনে হতাশ বিএনপি নেতাকর্মীদের চাঙা করার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে।

আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিক্ষার্থরা সড়কে সাত দিন ছিল। আর আমি সাত বছর ধরে আছি। তবে যতটুকু সাফল্য আসা দরকার ছিল সেই সাফল্য থেকে এখনো আমরা অনেক দূরে রয়েছি। এখনো গাড়ি চেকিং করতে যাই, সেখানে হয় গাড়ির ফিটনেস নেই, কারো ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এগুলো পরিবর্তন করতে আরও সময় লাগবে।

কাদের বলেন, মালিক-শ্রমিকদের, পুলিশের এবং বিআরটিএ-এর নিরবিচ্ছিন্ন সমন্বিত প্রয়াস নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা এ মুহূর্তে একটি ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছি, সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা সারা দেশে বিআরটিএ-এর অফিস লাইসেন্স প্রদান ও নবায়ন করবে। এতদিন যারা আলস্যে দিন কাটিয়েছে তাদের মধ্যে সচেতনতা, সতর্কতা ফিরে এসেছে যে, নবায়ন, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। অনিয়মের মধ্যদিয়ে সড়ক পরিবহনের শৃংখলা বিনষ্টের যা ক্ষতি হয়েছে এই ক্ষতি অব্যাহত থাকলে সড়কের ক্ষতি, পরিবহনের ক্ষতি, দেশ ও জনগণের ক্ষতি।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় তত্ত্বাধায়ক প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান, সাসেক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. ইসহাকসহ সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে রাজনৈতিক অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বিএনপি চাইছে এই আন্দোলনকে পুঁজি করে মাঠ ঘোলা করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করতে। গোয়েন্দারা সব তথ্য নিচ্ছে।

আজ শনিবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা শেষে কাদের সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। সভায় দেশের পরিস্থিতি ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে চলমান ছাত্র আন্দোলন নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবির সবই পূরণ করা হয়েছে। তবে ফিটনেসবিহীন গাড়ির রুট পারমিট বাতিলে সময় লাগবে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) জনবলের সংকট রয়েছে। আমরা বসে নেই। কাজ শুরু হয়েছে।’

কাদের বলেন, শিক্ষার্থীদের এ আন্দোলনকে কেউ কেউ দলীয়ভাবে রূপ দিয়ে ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করছে। কেউ কেউ এ আন্দোলনকে সরকারবিরোধী আন্দোলনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, দুই শিক্ষার্থী হত্যার দায়ে বাসের চালক ও হেলপারসহ এর মালিককেও গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দুই পরিবারের সদস্যদের ডেকে এনে সান্ত্বনা দিয়েছেন। দুই পরিবারের দায়দায়িত্ব নিয়েছেন তিনি। ছাত্রছাত্রীদের রাজপথ ছেড়ে ঘরে ফিরে পড়ালেখায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলার বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হয়। এ ছাড়া আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিহত শিক্ষার্থীরা হলো শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী দিয়া খানম মিম ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র আবদুল করিম রাজীব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে এরই মধ্যে ২০ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছেন। নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের পক্ষ থেকেও পাঁচ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এরপর থেকে ঢাকার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোয় বাস চলাচল একেবারেই কমে যায়। এমনকি আন্তজেলা বাস চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নয়টি দাবি করেছে। তাদের সব দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালও বলেছেন, শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। এখন তাদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার উচিত বলে জানান তিনি।

এরই মধ্যে গণপরিবহন মালিক-শ্রমিক সমিতির নেতারা বলেছেন, নিরাপদ বোধ না করা পর্যন্ত তারা রাস্তায় বাস নামাবেন না। ফলে অঘোষিত ধর্মঘট চলছে। গতকাল থেকেই আন্তজেলা বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

অশিল্পী সুলভ আচরণের জন্য ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হলেন সারিকা

মডেল অভিনেত্রী সারিকাকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। অশিল্পী সুলভ আচরণের জন্য সারিকাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলে সংবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

গত ২৮ জুলাই সংঠগঠনটির কার্যনির্বাহী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সারিকাকে নিষিদ্ধ কার্যকর শুরু হয়েছে গত ১ আগস্ট থেকে।

জানা যায়, গত ২১ মার্চ নাটকের শুটিংয়ে নেপাল যাওয়ার কথা ছিল অভিনেত্রী সারিকার। সে অনুযায়ী সারিকা সিডিউল দিয়েছিলেন। অগ্রিম পারিশ্রমিক ৫০ হাজার টাকা, রিটার্ন টিকেট ও নাটকের চিত্রনাট্য দেওয়া হয়েছিল তাকে।

আগেরদিন ২০ মার্চ সারিকার সাথে শুটিং ইউনিট যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সময়মতো বিমানবন্দর পৌঁছুবেন। যথারীতি ২১ মার্চ শুটিং ইউনিট নেপালে রওনা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দর গেলে সারিকাকে পাওয়া যায়নি। তখন যোগাযোগ করলে সারিকার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

তারপর সারিকা ছাড়াই শুটিং ইউনিট নেপাল পৌঁছায়। কিন্তু তিনি না থাকায় তাকে নিয়ে পরিকল্পনা করা নাটকগুলো নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রযোজক আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হন।

নাটকগুলো নির্মাণের কথা ছিল নির্মাতা দীপু হাজরা ও আসাদুজ্জামান আসাদের৷ পরে নেপাল থেকে ফিরে প্রযোজক বোরহান খান টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশনে সারিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন এবং অ্যাক্টর ইকুইটি নানাভাবে সারিকার সাথে যোগাযোগ করলেও কোনো সদ-উত্তর পায়নি। বাধ্য হয়ে সারিকাকে নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস্ অ্যাসোসিয়েশন।

সংগঠনটি থেকে পরিস্কারভাবে লিখিত আকারে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করে সারিকাকে নিয়ে নাটক, মিউজিক ভিডিও, বিজ্ঞাপনসহ এ ধরনের কাজ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাবালে নূর বাস মালিকের ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন

রাজধানীতে বাসচাপায় নিহত শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে পারিবারিক সঞ্চয়পত্র দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহত দিয়া খানম মিম ও আব্দুল করিমের পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন।

তার প্রেস সচিব ইহসানুল করিম জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী এ সময় উভয় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের হাতে ২০ লাখ টাকার পারিবারিক সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কের কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সামনে এমইএস বাসস্ট্যান্ডে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসচাপায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় মিম ও করিমের। এছাড়া আহত হয় ১০-১৫ শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় দিয়ার বাবা ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা করেন।

দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকেই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার তাদের আন্দোলনের পঞ্চম দিনেও রাজধানী ঢাকা স্থবির হয়ে রয়েছে।

কানাডা ভ্রমণে সেরা ১০ শহর

উত্তর আমেরিকার উত্তরাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকা জুড়ে থাকা দেশ কানাডা। আয়তনে দিক থেকে এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। তবে জনসংখ্যায় এর অবস্থান ৩৮তম। দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রতিবছর হাজার হাজার দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন। আজ কানাডা ভ্রমণে পর্যটক প্রিয় সেরা ১০টি শহর সম্পর্কে জানাবো:

১. ভ্যানকুভার:

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশে তথা কানাডার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে অবস্থিত একটি শহর ‘ভ্যানকুভার’। এটি জর্জিয়া প্রণালীর তীরে, কোস্ট পর্বতমালার পাদদেশে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সীমান্ত থেকে ৪৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত। ১৯৮৬ সালের বিশ্বমেলার পর থেকে পর্যটকদের জন্য শহরটি আকর্ষণীয় গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্ক ও লসঅ্যাঞ্জেলেসের পরেই ভ্যানকুভার উত্তর আমেরিকার তৃতীয় বৃহত্তম চলচ্চিত্র শিল্পশহর। ভ্যানকুভারকে ‘উত্তরের হলিউড’ নামেও ডাকা হয়। ভ্যানকুভার শহরটি ব্রিটিশ নাবিক ও ক্যাপ্টেন জর্জ ভ্যানকুভারের নামে নামকরণ করা হয়েছে। বর্তমানে ভ্যানকুভারে কানাডার সর্ববৃহৎ বন্দরটি অবস্থিত।

২. হুইসলার:

কানাডার সমুদ্র পার্শবর্তী একটি শহর ‘হুইসলার’। এটি ‘হুয়াই ৯৯’ নামেও পরিচিত। কানাডায় দর্শনার্থী প্রিয় শহরগুলোর মধ্যে এর অবস্থান দ্বিতীয়। এখানে ভ্রমণপিঁপাসুদের জন্য রয়েছে বরফময় পাহাড়, স্নোবর্ডিং, কল্পকাহিনী যুক্ত গ্রাম, বিখ্যাত সব রিসোর্ট। যা পরিবার, বন্ধু-বান্ধব, কিংবা ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বেড়াতে এলে অন্যরকম মুহূর্ত তৈরি হয়। গ্রীষ্মের ছুটিতে অসংখ্য মানুষ এখানে বেড়াতে যান। যেসব দর্শনার্থীরা শীতকালীন আবহাওয়া ভালোবাসেন তাঁরা কখনো এটা মিস করতে চাইবেন না।

৩. ভিক্টোরিয়া:

কানাডার আরেকটি দর্শনার্থী প্রিয় শহর ‘ভিক্টোরিয়া’। এটি ‘গার্ডেন সিটি’ নামেও পরিচিত। শহরটি পূর্বের বহু ইতিহাসের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ। ব্রিট্রিশ কলম্বিয়ার সংসদভবন এখানে আসা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। তাছাড়া এখানে রয়েছে বাটচার্ট গার্ডেন ও গোল্ডস্ট্রিম প্রোভিনশিয়াল পার্ক। শীতকালে এখানকার সমুদ্র সৈকতও দর্শনার্থীদের সমাগমে জমজমাট হয়ে ওঠে।

৪. টোফিনো:

কানাডার পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত একটি জেলা ‘টোফিনো’। গ্রীষ্মকালে এটি দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে যারা মাছ ধরতে পছন্দ করে, বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখতে পছন্দ করে, ক্যাম্প করে সারারাত মজা করতে ভালোবাসে, সব মিলিয়ে যারা প্রকৃতি পছন্দ করে তাদের জন্য স্থানটি জনপ্রিয়। এছাড়াও এখানে সমুদ্র সৈকত ও বিভিন্ন পার্ক রয়েছে। যা দর্শনার্থীদের বারবার এখানে নিয়ে আসে।

৫. কুইবেক:

ফরাসি কানাডিয়ান সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু হলো ‘কুইবেক’ শহর। শহরটি উত্তর আমেরিকার সবচেয়ে পুরানো বসতিগুলোর মধ্যে একটি এবং কানাডার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রতিবছর এখানে হাজার হাজার দর্শনার্থী ঘুরতে আসে। এখানে রয়েছে পুরানো কুইবাক অধিবাসীদের কবরস্থান, ১৭ শতকের ঘর-বাড়ি, গীর্জা, ক্যাফে, বিস্ট্রোস, ম্যানিকিউরেটেড স্কোয়ার এবং চটিউ ফ্রন্টেন্যাকের মতো ঐতিহ্যবাহী দর্শনীয় স্থান। তাছাড়া এটি ইউনেস্কো কর্তৃক ঘোষিত ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট।

৬. মন্ট্রিয়ল:

কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম ও কুইবেক প্রদেশের বৃহত্তম শহর ‘মন্ট্রিয়ল’। এটির মূল নাম ভিলা মারি বা মেরির শহর। শহরটির বর্তমান নামটি এসেছে শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত পর্বতচূড়া মন্ট-রয়্যাল থেকে, যা শহরের কাছে অবস্থিত আইল্যান্ড অফ মন্ট্রিয়ল থেকে দেওয়া হয়েছে। শহরটি খাবার, গ্যালারি, জাদুঘর এবং বিস্ময়কর সব স্থাপনার জন্য বিখ্যাত। এই শহরে পাসপোর্ট না থাকলেও কোনো সমস্যা হয় না। সব মিলিয়ে শহরটি কানাডায় ঘুরতে আসা মানুষের কাছে জনপ্রিয়।

৭. অটোয়া:

কানাডার রাজধানী ‘অটোয়া’। জনসংখ্যার বিচারে অটোয়া দেশটির চতুর্থ বৃহত্তম নগরী। শহরটি পাবলিক পার্ক, জাদুঘর ও ভিক্টোরিয়ান যুগের স্থাপনার জন্য বিখ্যাত। শহরটির কেন্দ্রস্থলে রয়েছে পার্লামেন্ট হিল, যেখানে গ্র্যান্ড ন্যাশনাল গ্যালারী অবস্থিত। তাছাড়া এখানকার বরফশীতল আবহাওয়া ও গ্রীষ্মকালে নৌকায় করে ট্রি-লাইন রাউডাউ খালে ঘুরে বেড়ানো দর্শনার্থীদের কাছে ভীষণ প্রিয়।

৮. ব্যানফ:

কানাডার একটি ক্ষুদ্র রিসোর্ট শহর ‘ব্যানফ’। এখানে রয়েছে মনোরম পরিবেশের সব রিসোর্ট, জাদুঘর, ন্যাশনাল পার্ক ও বরফময় পাহাড়। তাছাড়া এখানকার রিসোর্টগুলোতে এমন নিখুতভাবে খাবার পরিবেশন করা হয়, যা আপনাকে বিলাসিতার অন্যরকম স্বাদ দেবে। খরচ একটু বেশি হলেও স্থানটি দর্শনার্থীদের জন্য জনপ্রিয়।

৯. লেক লুইস:

ব্যানফ শহর থেকে মাত্র ৪০ মিনিটের দুরত্বে ‘লেক লুইস’ অবস্থিত। এটি তাঁর হিমবাহ, স্বচ্ছ পানির লেক ও অসাধারণ পর্বতমালার জন্য বিখ্যাত। ভ্রমণকারীরা শীতকালে এখানে স্কিইং, স্নোবোর্ডিং ও আইস স্কেটিং এবং গ্রীষ্মকালে মাছ ধরার জন্য আসেন।

১০. টরন্টো:

কানাডার দক্ষিণ-পূর্ব অংশে অবস্থিত অন্টারিও প্রদেশের রাজধানী শহর ‘টরন্টো’। অর্থনৈতিকভাবে কানাডার সবচেয়ে সমৃদ্ধ প্রদেশ অন্টারিও-র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহর বলে এটি দেশটির আর্থিক ও ব্যবসায়িক প্রাণকেন্দ্র। টরন্টো শহরটি অন্টারিও হ্রদের উত্তর-পশ্চিম তীরে অবস্থিত। নগরকেন্দ্রেই সেন্ট জেমস অ্যাংলিকান ক্যাথিড্রাল এবং সেন্ট মাইকেল রোমান ক্যাথলিক ক্যাথিড্রাল দুইটি ধর্মীয় স্থাপনা উল্লেখ করার মতো। শহরটি চলচ্চিত্র নির্মাণ, টেলিভিশনের জন্য অনুষ্ঠান প্রযোজনা এবং সংবাদ সম্প্রচারের জন্য বিভিন্ন গণমাধ্যম টরন্টো শহরেই অবস্থান নিয়েছে। টরন্টোতে থাকা বহু জাদুঘর, নাট্যশালা ও অন্যান্য সাংস্কৃতিক সেবাগুলো পর্যটকদের কাছে শহরটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। শহরকেন্দ্রের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আর্ট গ্যালারি অফ অন্টারিও, রয়াল অন্টারিও মিউজিয়াম, হকি হল অফ ফেম এবং দ্য বেল লাইটবক্স, যেখানে টরন্টো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রধান কার্যালয়টি অবস্থিত। টরন্টো শহরে সবুজ উদ্যানেরও অভাব নেই; কুইন্স পার্ক ছাড়াও এখানে আছে ৪০০ একর আয়তনবিশিষ্ট হাই পার্ক, যার ভেতরে হাঁটার পথ, খেলাধুলার জায়গা এবং একটি চিড়িয়াখানাও আছে।

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের পাবলিক কোম্পানি ‘অ্যাপল’

অবিস্মরণীয় উত্থানে বিশ্বের প্রথম এক ট্রিলিয়ন ডলারের(১লাখ কোটি টাকার)পাবলিক কোম্পানি হলো অ্যাপল(অ্যাপল ইনকর্পোরেটেড)।

গত মঙ্গলবার(৩১জুলাই) প্রকাশিত কোম্পানিটির মার্চ থেকে ৩০জুন ২০১৮ সালের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এরপর থেকে আইফোন তৈরির এই কোম্পানি শেয়ারের দাম ২০৭ দশমিক ৪০ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে নিউইয়র্কের পুঁজিবাজারে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর ফলে অ্যামাজন এবং মাইক্রোসফট কোম্পানিকে ছাড়িয়ে শীর্ষে উঠলো অ্যাপল।

২০০৭ সালে বাজারে আসা কোম্পানির শেয়ার বাজারে দামে হঠাৎ বড় উত্থান হয়েছে। এময়ে কোম্পানির শেয়ারের ১ হাজার ১০০ শতাংশ আয় বৃদ্ধির হয়েছে। যা গত ২০ বছরের মধ্য সর্বোচ্চ মুনাফা। এর মধ্যে সর্বশেষ বছরের চেয়ে মুনাফা তিনগুণ বেশি। মুনাফার অধিকাংশ আয় এসেছে আইফোন ৮ ও এক্স পণ্য বিক্রি থেকে। এই দুটি পণ্য সবচেয়ে বিক্রি হয় চীন এবং জাপানে।

১৯৭৬ সালে অ্যাপল কম্পিউটার ইনকর্পোরেশন নামে যাত্রা শুরু হলেও কোম্পানির বর্তমান নাম ‘অ্যাপল’। বিখ্যাত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী কোম্পানিটি চীনের সাংহাই ও নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত রয়েছে।

গণিতের নতুন সূত্র আবিষ্কার করেছেন জাকির

গণিতের সূত্র ও কৌশল আবিষ্কার করে শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন জাকিরুজ্জামান (৩১) নামের এক তরুণ। বিগত সময়ের গণিত গবেষকদের পঞ্চাশটিরও বেশি বইয়ের সূত্র আয়ত্ত করে নিজেই সূত্র আবিষ্কার করেন তিনি। তার এই আবিষ্কৃত নতুন সূত্র দিয়ে শিক্ষার্থীরা সহজেই অংক করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

জানা গেছে, রংপুর জেলার নজিরের হাট এলাকার পূর্ব গোপীনাথপুর গ্রামের খালেকুজ্জামানের দ্বিতীয় পুত্র জাকিরুজ্জামান। বর্তমানে তিনি ম্যাথ জাকির নামেও বেশ পরিচিত। মধ্যবিত্ত পরিবারে জাকিরের জন্ম হলেও একসময় গণিত বিজ্ঞানী হবেন এমনটাই স্বপ্ন দেখতেন নিজেকে নিয়ে। স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দিতে অদম্য ইচ্ছা শক্তিকে কাজে লাগান তিনি। সূত্র নিয়ে পঞ্চাশেরও বেশি গণিত বিজ্ঞানীর জীবনী ও বই অনুশীলন করেন। পরে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে শুরু হয় নতুন সূত্র আবিষ্কারের গবেষণা।

এরপর ২০১০ সালে গবেষণামূলক বিভিন্ন প্রতিকূলতা কাটিয়ে কয়েকটি সূত্র আবিষ্কার করেন এই তরুণ। তবে তার এই সূত্র ও কৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য বেশ সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

মো. জাকিরুজ্জামান ২০০২ সালে রাধাকৃষ্ণপুর উচ্চ বিদ্যালয় হতে এসএসসি পাস করেন। এরপর ২০০৮ সালে রংপুরের তাজহাট কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট হতে কৃষি বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা উত্তরার আই.ইউ. বিএটি ইউনিভার্সিটি হতে বিএসএজি ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে শিক্ষকতা পেশায় নিজেকে নিযুক্ত করেন তিনি।

রাজবাড়ীতে দাদি-নাতনিকে গলা কেটে হত্যা

রাজবাড়ী সদর উপজেলার মূলঘর ইউনিয়নের পশ্চিম মূলঘর গ্রামে দাদি-নাতনিকে গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আজ শুক্রবার দুপুরে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার দুটি করে পুলিশ।

নিহতরা হলো দাদি সাহিদ বেগম (৫০) ও তাঁর নাতনি লামিয়া (৫)। তাঁদের বাড়ি পশ্চিম মূলঘর গ্রামে।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার আসমা সিদ্দিকা মিলি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিব খান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সুপার জানান, কেন ও কারা এ দুজনকে হত্যা করেছে, তা জানা যায়নি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। এ ছাড়া তদন্তের স্বার্থে এ চেয়ে বেশি কিছু বলা এখন সম্ভব নয়।

রিয়াল মাদ্রিদকে ইনস্টাগ্রামে ‘আনফলো’ রোনালদোর!

রিয়াল মাদ্রিদে পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো নয়টা বছর কাটিয়েছেন। রিয়াল ছেড়ে নতুন ক্লাব জুভেন্টাসে আসার সময় সাবেক ক্লাবের জন্য শুভকামনা জানিয়ে এসেছেন। কিন্তু রোনালদো এখন পুরো দস্তুর জুভেন্টাসের। আর সেজন্য তিনি রিয়াল মাদ্রিদকে একটু একটু করে ভুলে যাওয়া শুরু করেছেন।

ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রাম থেকে রিয়াল মাদ্রিদকে অনুসরণ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। এছাড়া রিয়ালের অনেক নতুন-পুরনো ফুটবলার ছিলেন রোনালদোর ইনস্টাগ্রামে। তাদেরকেও এক এক করে আনফলো করছেন রোনালদো।

আর ইনস্টাগ্রামে রোনালদো তার নতুন ক্লাব জুভেন্টাসকে অনুসরণ করা শুরু করেছেন। জুভেন্টাস সতীর্থ ডগলাস কস্তা, বেনটাকুর, পাউলো দিবালা, সাবেক রিয়াল এবং বর্তমান জুভ সতীর্থ স্যামি খেদিরাদের অনুসরণ করা শুরু করেছেন তিনি।

তবে রোনালদোর ইনস্টাগ্রাম থেকে যারা ছাঁটাই হচ্ছেন তারা পর্তুগিজ তারকার সরাসরি রিয়াল সতীর্থ নন। রিয়ালের সঙ্গেই সম্পৃক্ত কিন্তু রোনালদো যাদের সঙ্গে খেলেননি তাদেরকেই আনফলো করছেন তিনি।

সাবেক এবং বর্তমান সতীর্থদের সঙ্গে রোনালদো ইনস্টাগ্রামেই থাকছেন। এছাড়া সাবেক কোচদের কেউ কেউ থাকছেন সিআরসেভেনের ইনস্টাগ্রাম তালিকায়। বিশেষ করে প্রিয় গুরু কার্লো আনচেলত্তি এবং জিনেদিন জিদানকে অনুসরণ করবেন রোনালদো।

৬২ কোম্পানির ভ্যাট ফাঁকি ১৫ হাজার কোটি টাকা

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। সম্প্রতি অনুসন্ধানে কয়েকটি কোম্পানির মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে। তাতে দেখা গেছে মোবাইল কোম্পানি, সরকারি প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি শিল্পখাত, ব্যাংক—বীমা, সিমেন্ট প্রভৃতি খাত রয়েছে। এসব খাতের ৬২ কোম্পানির উদঘাটিত ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ১৫ হাজার ২শ’ কোটি টাকা। এরমধ্যে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা এখনো অনাদায়ী।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র জানায়, ফাঁকি উদঘাটনে নিরীক্ষা কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড় আকারের ভ্যাট-ট্যাক্স পরিশোধকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভ্যাট অফিসে দাখিল করা কাগজপত্র, প্রতিষ্ঠানে রক্ষিত নথি, শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষিত আর্থিক বিবরণী কিংবা ব্যাংক ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রদেয় বিবরণী বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

সূত্রমতে, ভ্যাট ফাঁকির প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, বাড়তি রাজস্ব আয়ের চাপ রয়েছে রাজস্ব প্রশাসনের ওপর। তবে ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটনের ঘটনার পর কেউ কেউ উচ্চ আদালতে কিংবা ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠান আংশিক ফেরত দিতে শুরু করেছে। উচ্চ আদালতে চলমান মামলাগুলোর মধ্যে ৪টি মোবাইল কোম্পানির সিম রিপ্লেসমেন্ট ও স্থান, স্থাপনা ভাড়া সংক্রান্ত এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকের স্থান, স্থাপনা ও ভাড়া সংক্রান্ত মোট ১১টি মামলায় জড়িত রাজস্ব প্রায় ২ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা।

গ্রামীণ ফোনের ভ্যাট ফাঁকি উদঘাটন ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকার, রবি ১ হাজার ৫৮৬ কোটি, বাংলা লিংক ৬১৪ কোটি, এয়ারটেলের ৩৯৩ কোটি টাকার। মোবাইল কোম্পানিগুলো আংশিক পরিশোধ করলেও বড় অংকের রাজস্ব পাওনা রয়েছে এবং উচ্চ আদালতে বিচারাধীন।

ভ্যাট খাতে বৃহত্ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) পরিদর্শনে দেখা যায়, নানা উপায়ে কোম্পানিগুলো ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। উপকরণ ও উত্পাদিত পণ্য ভ্যাট রেজিস্টারে আইন ও বিধি অনুযায়ী যথাযথ সংরক্ষণ না করে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে। এ প্রক্রিয়ায় ভ্যাট ফাঁকি দেয়া কোম্পানি হচ্ছে এএসটি বেভারেজ লিমিটেড। কোম্পানিটির ভ্যাট ফাঁকির পরিমাণ ১৪৭ কোটি ত্রিশ লাখ টাকা। অন্যত্র কোম্পানিটির আরো ২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ফাঁকি রয়েছে। ফুড এন্ড বেভারেজ খাতে ফাঁকির তালিকায় আকিজ ফুড এন্ড বেভারেজও রয়েছে।

সিমেন্ট শিল্প খাতের সিমেক্স সিমেন্টের ১২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা ভ্যাট ফাঁকির তথ্য উদঘাটিত হয়েছে। প্রিমিয়ার সিমেন্ট ৯৫ কোটি ৮১ লাখ, মদিনা সিমেন্ট ২ কোটি টাকা, এমআই সিমেন্ট ৪ কোটি টাকা, মীর সিমেন্ট ৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা ফাঁকি দিয়েছে। মদিনা ও এমআই সিমেন্টের কাছ থেকে ফাঁকি দেয়া অর্থ আদায় করেছে এনবিআর। সেভেন সার্কেল বাংলাদেশের ফাঁকি ৭ কোটি টাকা উদঘাটিত হয়েছে।

বেসরকারি খাতের প্রাইম ব্যাংক ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে ৩০ কোটি ৬১ লাখ টাকা। ঢাকা ব্যাংক সাড়ে ৯ কোটি টাকা, সাউথইস্ট ব্যাংক ৫ কোটি টাকা ফাঁকি দিয়েছে। এই তালিকায় আরো রয়েছে ব্যাংক এশিয়া, ডাচ—বাংলা, ইসলামী ব্যাংক, এইচএসবিসি, ন্যাশনাল ব্যাংক। বীমা কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে রূপালী ইন্সুরেন্স, ফিনিক্স, সাধারণ বীমা, গ্রিন ডেল্টা, ইস্টল্যান্ড, রিলায়েন্স, প্রগতি, পাইওনিয়ার প্রভৃতি।

ঢাকা টোব্যাকোর ভ্যাট ফাঁকি প্রায় ১৮ কোটি টাকা। বাটা সু কোম্পানির ফাঁকি উদঘাটিত হয়েছে প্রায় ৯ কোটি টাকার। এই তালিকায় আরো রয়েছে এমএল এরিকসন, ইউনিক হোটেল, ওয়েস্টিন, সিনহা প্রিন্টার্স, গ্লোবাল হেভি কেমিকেলস, ন্যাশনাল পলিমার, চায়না—বাংলা সিরামিকস, লিবরা ইনফিউশন, এপোলো ইস্পাত প্রভৃতি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে তিতাস গ্যাস, কর্ণফুলি গ্যাস, বাখরাবাদ গ্যাস, ডেসকো, পিডিবি, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ঢাকা ওয়াসা, বিআরটিসি, ডিপিডিসি প্রভৃতি সংস্থার কাছে পাওনা রয়েছে বিপুল অংকের ভ্যাটের অর্থ।