All posts by lutfor

আসাম গিয়ে মার খেলেন মমতার মন্ত্রী-সাংসদরা!

আসামে ৪০ লাখ ভারতীয়কে নাগরিক তালিকা থেকে বাধ দেয়ার ঘটনায় আসামে মন্ত্রী ও সাংসদদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার আসামের শিলচর বিমানবন্দরে পৌঁছলে তাদের আটকে দেয় পুলিশ। কয়েকজন সাংসদ বলছেন, এ সময় দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি তাদেরকে মারধরও করেছে পুলিশ। হিন্দুস্তান টাইমস, আনন্দবাজার।

প্রতিনিধি দলে থাকা রাজ্য বিধায়ক সুখেন্দু শেখর রায় বলেন, ‘বিমানবন্দরে পৌঁছার সঙ্গে সঙ্গে একজন জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ আমাদেরকে ঘিরে ফেলা হয়। একজন পুলিশ সদস্য আমার আমার বুকে আঘাত করেন। অন্যদিকে কাকলি ঘোষ দাস্তিদার, মমতা বালা ঠাকুর ও মহুয়া মৈত্রকে চ্যাংদোলা করে নিয়ে যায় তারা।’

প্রতিনিধি দলের সদস্যদের আসামের শিলচর, নওগাঁ ও গোয়াহাটিতে সমাবেশে যোগ দেয়ার কথা ছিল।

প্রতিনিধি দলে থাকা পশ্চিমবঙ্গের বিধায়করা হলেন, পশ্চিমবঙ্গের নগর উন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, এমএলএ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক সুখেন্দু শেখর রায়, কাকলি ঘোষ দাস্তিদার, মমতা বালা ঠাকুর, রত্না দে নাগ, নাদিমুল হক ও অর্পিতা ঘোষ।

আসামের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৮ জনের নাম। এদের বেশিরভাগই বাংলাভাষী মুসলমান বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য এখনও দেওয়া হয় নি। এছাড়া বাদ পড়েছে অনেক বাঙালী হিন্দুর নামও। বাদ পড়াদের বাংলাদেশে পুশ ইন করা হতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

আশা করি শিক্ষার্থীরা এমন কিছু করবে না যাতে দেশের সুনাম নষ্ট হয়

আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা এমন কিছু করবে না যাতে দেশের সুনাম নষ্ট হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের সকল দাবি দাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেনে নিয়েছেন। তিনি একজন দয়ালু নেতা। আশা করি এ প্রজন্মের ছাত্র সমাজ ঘরে ফিরে যাবে এবং তারা এমন কিছু করবে না যাতে দেশের সুনাম নষ্ট হয়।’

আজ শুক্রবার সকালে শহরের গাজীপুর রোডে নিজ বাসভবনে সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারেফ হোসেন সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচনে যদি বিএনপি না আসে তবে তাদের আরো বেশি খেসারত দিতে হবে। হয়তো বিএনপি নামক দলটির অস্তিত্বই থাকবে না। বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি সংসদ নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী তাদের ডেকেছিলেন। কিন্তু বিএনপি তাতে সাড়া দেয়নি।’

তোফায়েল আহমেদ আরো বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের জন্য যা করেছেন তা অন্য কেউ করতে পারেনি। দেশ আজ অনেক উচ্চতায়। সমুদ্রসীমা, আকাশসীমা জয়সহ তার সরকারের রয়েছে ব্যাপক সাফল্য।’

সভায় জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মমিন টুলু, সহ-সভাপতি হামিদুল হক বাহালুল, যুগ্ন সাধারন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম নকিব, সাংগঠনিক সম্পাদক মইনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. ইউনূছ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মগবাজারে বাসচাপায় বাইক আরোহী নিহত, বাসে আগুন

রাজধানীর মগবাজার ওয়্যারলেস গেটের পাশে এসপি গোল্ডেন লিমিটেড নামের একটি বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়রা বাসটিতে আগুন দেয়। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বাসটিতে আগুন দেয়ার ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের দায়িত্বরত কর্মকর্তা তানারুল ইসলাম জানান, মগবাজার ওয়্যারলেস গেট সংলগ্ন একটি বাসে অগ্নিকাণ্ডের খবর আসে শুক্রবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে। আগুনের খবর পেয়ে তিনটি ইউনিট সেখানে পাঠানো হয়েছে।

আগুনের সূত্রপাত কীভাবে তা জানা যায়নি।

২৫ বছর ধরে একাই আন্দোলন করে যাচ্ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন

ইলিয়াস কাঞ্চন। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে অত্যন্ত সুপরিচিত একজন অভিনেতা। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর স্ত্রী জাহানারার। বিষয়টি মেনে নিতে কষ্ট হয় তাঁর।

১৯৯৩ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে নিরাপদ সড়ক নিরাপদ জীবন স্লোগানে আন্দোলন শুরু করেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিশচা) আন্দোলন বর্তমান বাংলাদেশে ব্যাপক ভাবে পরিচিতি লাভ করেছে এবং এর সাথে বিভিন্ন মহল একাত্মতা ঘোষণা করেছে।

১৯৮৮ সালে ইলিয়াস কাঞ্চন এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালের ২২ অক্টোবর মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তাঁর প্রথম স্ত্রী জাহানারা কাঞ্চন। নিজের জীবনের মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা এবং স্ত্রীকে হারানোর বেদনা তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে সড়ক দুর্ঘটনায় স্বজন হারানো এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে।

ইলিয়াস কাঞ্চন বর্তমানে নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রধান কান্ডারী। ২০১৫ সালের ৪ মে জাতিসংঘের রোড সেফটি ফর আওয়ার চিলড্রেন কর্মসূচিতে অংশ নেন ইলিয়াস কাঞ্চন। রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল, খিলগাঁও, কাকরাইল, উত্তরা ও ধানমন্ডির পাঁচটি স্কুলের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিয়ে এই কার্যক্রম চলে। এর স্লোগান- ভবিষ্যতের জন্য নিরাপদ সড়ক চাই। কিন্তু খুব বড় পরিসরে ইলিয়াস কাঞ্চনের সেই আওয়াজ যেন পৌঁছাচ্ছিল না কোথাও। কেননা সড়কে মৃত্যুর মিছিল থামেনি।

গত ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসচাপায় কলেজপড়ুয়া দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। পরের দিন থেকে রাজধানীর সড়ক অবরোধ করে বেপোরোয়া বাস চালকের ফাঁসি, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল এবং লাইসেন্স ছাড়া চালকদের গাড়ি চালনা বন্ধসহ ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা জোরালো কণ্ঠে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগানে আন্দোলনে পথে নামে। অথচ এই দাবি নিয়ে গত ২৫ বছর ধরে একাই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৯ দফা দাবি আদায়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে তবেই সড়কে গাড়ি নামবে: মালিক সমিতি

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়ার পর পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বলেছেন, পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হলে তবেই সড়কে গাড়ি নামাবেন তারা।

গত ২৯ জুলাই ঢাকায় বাসচাপায় দুই কলেজ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার পর থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বেশ কিছু গাড়ি ভাংচুর হয়। সমালোচনার মুখে পড়েন পরিবহণ শ্রমিকদের নেতা নৌমন্ত্রী শাজাহান খানও।

পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার প্রত্যাশা প্রকাশের পরদিন শুক্রবার সারাদেশে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন মালিক-শ্রমিকরা।

শুক্রবার সড়কে শিক্ষার্থীদের অবস্থান আগের কয়েক দিনের মতো নেই; এর মধ্যে পরিবহণ মালিক কিংবা শ্রমিক সংগঠনগুলোর কোনো ঘোষণা ছাড়াই বাস চলাচল বন্ধের কারণে সারাদেশে জনদুর্ভোগ চলছে।

বাস মালিকরা বলছেন, সড়কে ভাংচুরের কারণে পরিবহণ শ্রমিকরা বাস চালাতে চাইছেন না। অন্যদিকে পরিবহণ শ্রমিকরা বলছেন, মালিকরা বাস নামাতে নিষেধ করেছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়ত উল্লাহ শুক্রবার দুপুরে  বলেন, “ছাত্ররা বাস ভাংচুর করছে এজন্য বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।”

বাস চলাচল বন্ধের কোনো নির্দেশনা মালিকরা দিয়েছে কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ওইভাবে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। ভাংচুর করছে, তাই বাস বন্ধ রয়েছে।”

কবে নাগাদ বাস চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে- জানতে চাইলে সঠিক দিনক্ষণ না জানিয়ে এনায়েত বলেন, “ছাত্ররা ভাংচুর বন্ধ করুক, বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।”

বাস মালিক সমিতির নেতা এনায়েত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেরও নেতা। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি।

এনায়েত উল্লাহর মালিকানাধীন এনা পরিবহনের ফেনী জেলা ব্যবস্থাপক হাসান চৌধুরী বলেন, “গত কয়েক দিনে ঢাকায় আমাদের বেশ কয়েকটি বাস ভাংচুর করায় ঢাকা থেকে গাড়ি আসতে পারেনি। এজন্য আজ ভোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে কোনো বাস ছেড়ে যায়নি।”

বাস বন্ধের বিষয়ে ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম  বলেন, “আন্দোলন চলাকালে সড়কে ৩২৫টি বাস ভাংচুর করা হয়েছে, ১১টি বাস পোড়ানো হয়েছে। “আমরা এই পরিস্থিতিতে সড়কে বাস নামাতে নিরাপদ বোধ করছি না। এভাবে বাস ভাংচুর করলে, পুড়িয়ে দিলে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হই।”

শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক বলে মেনে নিয়ে কালাম বলেন, “কিন্তু সড়ক নিরাপদ কি শুধু বাস আর ড্রাইভার ঠিক হলেই হল? সড়কে জায়গায় জায়গায় গর্ত। এগুলোও তো দুর্ঘটনার কারণ। সড়কও ঠিক করতে হবে।”

বাস চলাচল কখন শুরু হবে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকার যদি বলে সড়ক নিরাপদ, তবে আমরা যে কোনো সময় বাস নামাব।”

ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে সকালে একদল পরিবহণ শ্রমিককে সড়কে অবস্থান নিয়ে গাড়ি আটকাতে দেখা গেছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা আত্মঘাতী হবে : সুজন

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়েছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। আজ শুক্রবার দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে সংগঠনটি তাদের পূর্ণ সংহতির কথা জানায়।

বিবৃতিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনের সঙ্গে পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে পরিবহন খাতে সব নৈরাজ্যের অবসান এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জোর দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন বাংলাদেশ, এমনকি বিশ্বের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। ঘাতক বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু নিয়ে নৌমন্ত্রীর অসংবেদনশীল আচরণ ও দায়িত্বহীন মন্তব্য এবং সড়ক নৈরাজ্য অবসানে সরকারের আন্তরিকতা নিয়ে সংশয়ই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটেছে এ আন্দোলনর মাধ্যমে। এই আন্দোলনের পেছনে সর্বস্তরের জনগণের সমর্থনকে সরকারের জন্যে একটি শক্তিশালী সতর্কবার্তা।

‘ইদানীংকালের আন্দোলন ও জনবিক্ষোভগুলোর প্রবণতা থেকে এটি সুস্পষ্ট যে, জনমনে একটি সাধারণ বিক্ষুব্ধতা ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। যা বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিস্ফোরিত হচ্ছে এবং বিক্ষোভের রেশ প্রলম্বিত হচ্ছে। সরকারের ক্রমশ কর্তৃত্বপরায়ণ হয়ে ওঠা, বিরুদ্ধমত ও মুক্তচিন্তা দমন, গণতান্ত্রিক পরিসরের সংকোচন এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাসহ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বিনষ্ট হওয়া তথা সার্বিক অর্থে গণতান্ত্রিক ও সুশাসনের অভাবই জনমনে আস্থার সংকট ঘনীভূত করেছে। যার বিস্ফোরণ ঘটছে নানাভাবে।’

সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং রাজনৈতিক ও নাগরিক শক্তিসমূহের ব্যর্থতার পরিপ্রেক্ষিতেই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা পথে নেমে এসেছে এবং গত কয়েক দিনে তারা রাজপথের কর্তৃত্ব গ্রহণ করে অভূতপূর্ব জনশৃঙ্খলা তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের এই ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থেকে সব মহলেরই শিক্ষা গ্রহণ করা জরুরি। তরুণতর এই প্রজন্মের এই আন্দোলন এবং তাদের দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রম আমাদের মধ্যে নতুন আশার সূচনা করেছে। এরা যেন ব্যর্থ না হয় তা সরকারসহ সব মহলকেই নিশ্চিত করতে হবে।’

সরকারের উদ্দেশে সুজনের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘এই আন্দোলন মোকাবিলায় শক্তিপ্রয়োগ থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত সরকারের প্রাজ্ঞতার পরিচায়ক। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা উৎকণ্ঠার সঙ্গে লক্ষ করেছি মিরপুর ও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর সরকার দলীয় সংগঠন ও পুলিশের হামলা। আমরা এসব হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এবং একই সঙ্গে সতর্ক করতে চাই যে, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর এই ধরনের হামলা ও নিপীড়নের ঘটনা সরকারের জন্য আত্মঘাতী হয়েই দেখা দেবে। আরো ধৈর্য, সহনশীলতা ও আন্তরিকতা নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে আমরা এর অবসানের দাবি জানাই।’

স্নেহময় আলিঙ্গনে গোটা দুনিয়ার হৃদয়ে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট

রাশিয়া বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু তার রেশ রয়ে গেছে এখনো। হয়তো এটা থাকবে অনেক দিন পর্যন্ত। আলাদা সৌন্দর্য নিয়ে এই বিশ্বকাপ মানুষের মনে যায়গা পাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ হিসাবে থাকবে ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট  কলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ এর উচ্ছ্বলতার জন্য। কারণ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর বৃষ্টিতে ভিজে দুই দলের সব খেলোয়াড়কে স্নেহময় আলিঙ্গনে জয় করে নিয়েছেন গোটা দুনিয়ার হৃদয়।

বিশ্বকাপটা ফ্রান্স জিতল নাকি জিতলেন কলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ! লুঝনিকির ফাইনালে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ ছিল ক্রোয়েশিয়া, কিন্তু কোটি মানুষের মন জয় করা ক্রোয়াট প্রেসিডেন্ট কিতারোভিচ ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। এতটাই যে খেলা শেষে বৃষ্টির মধ্যে দাঁড়িয়ে তাঁর একের পর এক খেলোয়াড়দের আলিঙ্গন করার মুহূর্তগুলোকে বলা হচ্ছে ‘বিশ্বকাপেরই সেরা দৃশ্য।’

প্রায় প্রতি ম্যাচেই ক্রোয়েশিয়া দলকে মাঠে থেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ব্রাসেলস যাওয়ায় সেমিফাইনাল মিস করেছেন। ফাইনালে আবারও তার সহাস্য উপস্থিতি। সে হাসি থামেনি ক্রোয়েশিয়া ৪-২ গোলে হেরে যাওয়ার পরও।

ক্রোয়েশিয়ার জার্সি পরে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে আসেন কিতারোভিচ। গলায় পদক পরে একে একে যখন খেলোয়াড়েরা সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন—সবাইকেই কাছে টেনে আলিঙ্গন করেছেন। ফ্রান্সের খেলোয়াড়, রেফারি-লাইন্সম্যানদেরও বাদ দেননি। ক্রোয়াট খেলোয়াড়দের প্রতি বাড়তি আবেগ থাকাটাই ছিল স্বাভাবিক।

এ সময় বৃষ্টি একটু রসিকতা করল। ফাইনাল যখন চলছিল, তখন না এসে সেটি এল কিনা তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে পুরস্কার বিতরণী মঞ্চে রেখে! পুতিনের মাথার ওপর একটু পরেই বেশ কয়েকটি ছাতা মেলে ধরা হলেও কিতারোভিচের সেটির দরকার পড়েনি। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতেই সৌহার্দ্যের সুবাস ছড়িয়েছেন।

ফাইনাল শেষে ওই দৃশ্য যেন মন ছুঁয়ে গেল সবার। কেউ লিখেছেন, ‘তিনি সমর্থকদের আরও আবেগপ্রবণ করেছেন।’ কারও মন্তব্যটাও হয়েছে আবেগময়, ‘বিশ্বকাপের সেরা দৃশ্য। মাথার ওপর ছাতা নেই…তার মধ্যেই কলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ ক্রোয়েশিয়া-ফ্রান্স দুই দলের খেলোয়াড়দেরই একের পর এক আলিঙ্গন করে যাচ্ছিলেন। এখানে ছিল না কোনো রাজনীতি, ছিল শুধুই খেলা।’

প্রেসিডেন্ট কলিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ
ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট কালিন্দা গ্রাবার-কিতারোভিচ ১৯৬৮ সালের ২৯ এপ্রিল সাবেক যুগোস্লাভিয়ার ক্রোয়েশিয়া অংশের রিজেকায় জন্মগ্রহণ করেন।

৫০ বছর বয়সী এই প্রেসিডেন্ট ছাত্র জীবনের প্রথম শুরু দিকেকেই ‘ছাত্র বিনিময় কর্মসূচী’র অংশ হিসাবে নিউ মেক্সিকোর লস অ্যালামস হাই স্কুলে এক বছর কাটিয়ে ছিলেন। পরবর্তীতে কালিন্দা গ্রাবার ভিয়েনা, ওয়াশিংটন ডিসি, জাগরেব এবং হার্ভার্ডে অধ্যয়ন করেছেন। দেশে ফেরার তিন বছর আগে তিনি ডক্টরেট ডিগ্রী পেয়েছেন।

কলিন্দা গ্রাবার ক্রোয়েশিয়া, ইংলিশ, স্পেনিশ এবং পুর্তিগিজ ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারেন। এছাড়া জার্মান, ফ্রান্স এবং ইতালিয়ান ভাষাও কিছু বুঝতে পারেন।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন যেভাবে
কলিন্দা গ্রাবার ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। তিনি দেশটির চতুর্থ প্রেসিডেন্ট এবং মহিলা হিসাবে প্রথম।

১৯৯৩ সালে তিনি ক্রোয়েশিয়া ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নে যোগদান করার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পথে চাকুরী করেছেন। পড়াশোনার খাতিরে ওয়াশিংটন ডিসি কালিন্দা গ্রাবার বলকান দেশে ফিরে আসেন এবং পার্লামেন্টে যোগদান করেন।

ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট আইভো জোসেপোভিচকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগে কলিন্দা গ্রাবার যুক্তরাষ্ট্রে ক্রোয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্বপালন করেছেন। এরআগে তিনি ন্যাটোর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসাবেও কাজ করেছেন।

তিনি বিয়ে করেছেন কবে?
কালিন্দা গ্রাবার ১৯৯৬ সালে জকোভ কিটরোভিচকে বিয়ে করেছেন। তাদের দুই সন্তান। এরমাঝে ১৭ বছর বয়সী মেয়ে ক্যাটরিনা এরই মধ্যে স্নাতক সম্মন্ন করেছে। তাদের ছেলে লুকার জন্ম হয়েছে ২০০৩ সালে।

মক্কায় এক বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু

চলতি বছর পবিত্র হজব্রত পালন করতে এসে মক্কায় মোহাম্মদ আমির হোসেন (৫৪) নামে এক বাংলাদেশি মারা গেছেন। বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মারা গেছেন বলে মক্কা হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে।

তার পাসপোর্ট নং BR0947131। ই-হজ আইডি নং ৫৪৮৮১৪৬। তিনি নারায়নগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ উপজেলার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।

আমির হোসেন আল কুতুব ট্রাভেলস এর মাধ্যমে হজ পালনের উদ্দেশ্যে গত ১৫ জুলাই সৌদি এয়ারলাইন্সের (এসভি৮০৩) ফ্লাইটে সৌদি আরব আসেন এবং তিনি ১৬ জুলাই মক্কা নগরীতে মারা যান।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে হজ পালনে সৌদি আরব এসে ১৫২ জন বাংলাদেশি মারা যান। এর মধ্যে পুরুষ ১১৯জন এবং নারী ৩৩ জন। ২০১৮ সালে হজ পালনে সৌদি আরবে এসে এটিই প্রথম কোন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু।

নড়াইলে খালেদা জিয়ার জামিন আবারো নামঞ্জুর

স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বির্তকিত বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে নড়াইলের আদালতে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে দায়েরকৃত মানহানি মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সদর আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুল আজাদ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২ জুলাই খালেদা জিয়ার পক্ষে বিএনপির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার জামিন আবেদন করলে শুনানি শেষে আদালত আজ (১৭ জুলাই) আদেশের দিন ধার্য করেন।

এদিকে, গত ৫ জুন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানি হলেও ‘নট মেইনটেনবেল বা সমর্থনীয় নয়’ উল্লেখ করে আবেদন নামঞ্জুর করেন আদালত। এছাড়া গত ১৬ এপ্রিল নড়াইলে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন করা হলে পরবর্তী দিন ৮ মে শুনানির জন্য ধার্য করেন আদালত। এরপর ৮ মে জামিন মঞ্জুর, না-মঞ্জুর কোনোটাই হয়নি বলে জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার। পরবর্তীতে ২৮ মে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ মামলাটি ‘নট প্রেসড রিজেকটেড’ (উপস্থাপিত হয়নি) বলে খারিজ করে দেন।

গত ২৮ মে আদালত বলেন, মামলাটি ওই আদালতে শুনানি করে আসুন। এ প্রেক্ষিতে খালেদা জিয়ার মামলার আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার ৩০ মে নড়াইলে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে জামিন আবেদন করলে ৫ জুন শুনানির দিন ধার্য হয়। গত ৫ জুনের শুনানিতে আদালত ‘নট মেইনটেনবেল’ বা সমর্থনীয় নয় উল্লেখ করে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম (বর্তমানে জেলা পরিষদ সদস্য) বাদী হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নামে নড়াইল সদর আদালতে মানহানি মামলা দায়ের করেন। ওই বছরেরই ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের সমাবেশে বেগম খালেদা জিয়া তার বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি। তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রচার হয়। মামলার বাদী নড়াইলের চাপাইল গ্রামের রায়হান ফারুকী ইমাম নড়াইল জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে বসে এ খবরটি পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষুদ্ধ হন। পরে রায়হান ফারুকী বাদী হয়ে ২০১৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর দুপুরে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন।

শিশুকে ধর্ষণের পর খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে ইমাম

এক ইমামের বিরুদ্ধে তৃতীয় শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার হাজারীচকে ইমাম ক্বারী মাও. হাসান আহমদ ওরফে আলী হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার (১৫ জুলাই) তাকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করে এলাকাবাসী।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জকিগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মুমিনুল ইসলাম জানান, সোমবার ওই ইমামকে জকিগঞ্জ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করার পর তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে স্কুল ছুটির পর ওই ছাত্রীকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে নিজের থাকার কক্ষে নিয়ে যান ওই ইমাম। এক পর্যায়ে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের পর অচেতন অবস্থায় তাকে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখেন।

এদিকে সময় পার হয়ে গেলেও শিশুটি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে ইমামের কক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় উত্তেজিত লোকজন আলী হোসেনকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশ সোপর্দ করে।