All posts by lutfor

বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা কমেছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে শুক্র ও শনিবার করোনাভাইরাসের শনাক্তের সংখ্যা ছিল দুই লাখ ছুঁই ছুঁই। গত ২৪ ঘণ্টায় যা কিছুটা কমেছে।করোনাভাইরাসে নতুন রোগী শনাক্তের সংখ্যা এক লাখ ৬৩ হাজার এবং মারা গেছেন তিন হাজার ৪৫৪জন।আন্তর্জাতিক জরিপকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে করোনায় এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ৫ লাখ ৪ হাজার ৪১০ জন। আক্রান্ত হয়েছেন এক কোটি দুই লাখ ৪৩ হাজারের বেশি। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে, এরইমধ্যে ৫৫ লাখ ৫৩ হাজার ৪৯৫ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন।

রোববার সবচেয়ে বেশি (৬০২ জন) মৃত্যু দেখেছে মেক্সিকো। সবমিলিয়ে দেশটিতে ভাইরাসজনিত কারণে ২৬ হাজারের বেশি প্রাণ গেল। গত একদিনে দেশটিতে শনাক্ত চার হাজার ৪১০জন। মোট প্রায় ২ লাখ ১২ হাজারের বেশি সংক্রমিত।

লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে একদিনে এক হাজার ৫৫৫ জনের মৃত্যুর পর মোট প্রাণহানি দাঁড়ালো ৫৭ হাজার ৬৫৮ জন। এছাড়া দেশটিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১৩ লাখ ৪৫ হাজার। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টায়ই শনাক্ত ২৯ হাজার ৩১৩জন।

করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও সংক্রমণে শীর্ষে থাকা যুক্তরাষ্ট্র ২৮৫ জনের মৃত্যু দেখলো। সবমিলিয়ে দেশটিতে ভাইরাসজনিত কারণে এক লাখ ২৮ হাজারের বেশি প্রাণ গেল। হঠাৎ করে কয়েকটি রাজ্যে বেড়েছে শনাক্তের হারও। মোট প্রায় ২৬ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি সংক্রমিত।

এছাড়া একদিনের হিসাবে দেড় শতাধিক মৃত্যু দেখলো অন্যান্য লাতিন দেশগুলোও। অবশ্য ইউরোপের দেশগুলোয় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে করোনাভাইরাস। বিশ্লেষকদের শঙ্কা- দ্বিতীয় দফায় হতে পারে মহামারি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ে প্রাণঘাতী এ ভাইরাস। এই ভাইরাসটিতে এ পর্যন্ত বিশ্বের ২১৫টি দেশ ও অঞ্চল আক্রান্ত হয়েছে।

বন্যার অবনতি, বহু মানুষ পানিবন্দি

উজানের ঢল ও ভারি বর্ষণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে বিপুল মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

হাজার হাজার বসতবাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। পানিবন্দি বহু মানুষ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। বিশুদ্ধ পানি, গো-খাদ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যায় পড়েছেন বন্যা কবলিত এসব এলাকার মানুষ। অনেক পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।

সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি কমলেও এখনও বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে। জেলা শহরে বাড়িঘরে ওঠা পানি নামতে শুরু করেছে। ধরলা, ব্রহ্মপূত্র, যমুনা, ঘাঘট ও সুরমা নদীর পানি বিপদসীমার উপর প্রবাহিত হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, ধরলা ও ব্রহ্মপূত্র নদের পানি হু-হু করে বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার অনেক উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার ১৬টি নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। ফলে জেলার ৭৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫০টির নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

একদিকে করোনাভাইরাসের কারণে টানা তিনমাস ঘরে বন্দি। তার উপর বন্যার ধাক্কায় মানুষ চরম বিপাকে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি ৩৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপূত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ৩৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে এবং চিলমারী পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৭৩ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল সন্ধ্যা ৬টায়।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, বন্যায় ১ হাজার ৬৯২ হেক্টর জমির ফসল নিমজ্জিত হয়েছে। তবে বেসরকারিভাবে নিমজ্জিত বা ক্ষতির পরিমাণ ৩ হাজার হেক্টর বলে সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে জানা গেছে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান, বন্যায় ৩০২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দের পাশাপাশি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা উপজেলাগুলোতে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। রোববার সুন্দরগঞ্জ, গাইবান্ধা সদর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় সাড়ে তিন হাজার বসতবাড়িতে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। এসব বসতবাড়ির প্রায় ১৩ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি মানুষ ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। কিন্তু তারা বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যার পড়েছেন। এদিকে ঘাঘট নদীর পানির চাপে শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে।

বন্যা কবলিত ইউনিয়নগুলো হচ্ছে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা, হরিপুর, তারাপুর, কাপাসিয়া, গাইবান্ধা সদর উপজেলার কামারজানি, মোল্লারচর, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি, এরেন্ডাবাড়ি, কঞ্চিপাড়া, উদাখালী, গজারিয়া, ফজলুপুর, উড়িয়া, এবং সাঘাটা উপজেলার সাঘাটা ও হলদিয়া।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, রোববার বিকাল ৩টায় জেলার ফুলছড়ির তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৬৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। অন্যদিকে ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ৪১ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

ফুলছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান দোলন বলেন, “বাঁধে আশ্রয় নেওয়া পরিবার গুলোর সার্বক্ষনিক খোঁজ খবর রাখছি। বিশুদ্ধ পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন সমস্যার সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জানান, বন্যার পানিতে জেলায় ৮৫০ হেক্টর জমির পাট, আমন ধানের বীজতলা, শাক-সবজি ও আউশ ধানসহ রবি ফসল নিমজ্জিত হয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিশ আলী বলেন, “এ পর্যন্ত ৪০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ২ লাখ টাকা বন্যাকবলিত চার উপজেলায় বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্ব-স্ব উপজেলাগুলো ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে এসব বিতরণ করবে। রোববার বিকালে নতুন করে ৬০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি, যা পর্যায়ক্রমে বরাদ্দ দেওয়া হবে।”

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। যমুনা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্রসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত গতিতে। জেলার ২০টি ইউনিয়নের ১ লাখ ২১ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। বন্যায় দেওয়ানগঞ্জ ও ইসলামপুর উপজেলায় ১১২টি বসতঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পানি ঢুকেছে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদেও।

যমুনা, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দশানী, জিঞ্জিরাম ও ঝিনাইসহ অন্যান্য শাখা নদ-নদীর পানি বাড়ছে দ্রুত গতিতে। এতে পানি ছড়িয়ে পড়ছে নিম্মাঞ্চলে। ডুবে গেছে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট।

জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেজপাঠক আব্দুল মান্নান জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েছে ৩৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৬৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

“ইসলামপুর, দেওয়ানগঞ্জ, মেলান্দহ, মাদারগঞ্জ ও সরিষাবাড়ী উপজেলার ২০টি ইউনিয়নের নিম্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে ছুটছেন আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। অনেকেই আশ্রয় নিয়েছে উচু বাঁধ, সড়ক, সেতুর উপর।”

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করেছে।

গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার নদীর পানি ৩৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টা থেকে বিপদসীমার ৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টেও বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

পানি বৃদ্ধির ফলে বাঁধের অভ্যন্তরে থাকা নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে কয়েক হাজার মানুষ। আগাম বন্যার পানি আসায় কৃষকদের কাউন, তিল, পাটসহ আবাদি জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশের বীজতলা।

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সুরমা নদীর পানি আগের চেয়ে কমলেও বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। কমেনি মানুষের দুর্ভোগ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, সুনামগঞ্জ শহরের অনেক এলাকা থেকে কিছুটা পানি নেমেছে। শহরের আরপিননগর এলাকার রুজেল আহমদ বলেন, “আমাদের এলাকার মূল সড়ক উপছে সুরমা নদীর পানি বাড়িঘরে ঢুকে পড়েছিল। সন্ধ্যায় অনেকের বাড়িঘর থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। দ্রুত পানি না নামলে আমাদের দুর্ভোগ শেষ হবে না।”

শহরের কাজিরপন্টে এলাকার সাদিকুর রহমান স্বপন বলেন, “গত দুই দিন ধরে পানিবন্দি। আমাদের ঘরে এখনও পানি, তবে পানি অনেকটা নেমে গেছে। যদি এভাবে পানি কমতে থাকে তাহলে রাতের মধ্যে আশা করছি সব নেমে যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান জানান, রোববার সকালে সুরমা পানি বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। সন্ধ্যায় কমে ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

করোনা পরীক্ষায় ফি ২০০ টাকা নির্ধারণ

করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর শনাক্তকরণ পরীক্ষায় ফি সর্বনিম্ন ২০০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। এতদিন বিনামূল্যে করা হলেও এখন থেকে নির্ধারিত ফি দিতে হবে। সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়েল স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়েছে।

ফলে বুথ থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা, বাসা থেকে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য ৫০০ টাকা এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর নমুনা পরীক্ষার জন্য ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিপত্রে বলা হয়, করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ আরটি-পিসিআর টেস্টের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়। বর্তমানে এ পরীক্ষা সরকার বিনামূল্যে দিচ্ছে। ফলে কোনো উপসর্গ ছাড়াও অধিকাংশ মানুষ এ পরীক্ষা করানোর সুযোগ গ্রহণ করছেন। এমতাবস্থায় কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার জন্য অপ্রয়োজনীয় কোভিড টেস্ট পরিহার করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের সম্মতির পরিপ্রেক্ষিতে ফি নির্ধারণ করা হলো।পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, করোনা টেস্ট বাবদ আদায় করা অর্থ সরকারি কোষাগারে   (কোড-১-২৭১৫-০০০০-১৮৬৩) জমা করতে হবে। চিকিৎসা সুবিধা বিধিমালা-১৯৭৪ এর আওতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সংক্রান্ত সব সুযোগ বাহাল থাকবে। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা, দুস্থ ও গরিব রোগীদের চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সংক্রান্ত সরকারি আদেশ বহাল থাকবে। সব সরকারি হাসপাতালের ক্ষেত্রে এ হার নির্ধারণ করা হলো।’

গেল ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পর সর্বশেষ ২৮ জুন পর্যন্ত দেশে মোট রোগীর সংখ্যা এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। মৃত্যু হয়েছে এক হাজার ৭৩৮ জনের এবং সুস্থ হয়েছেন ৫৫ হাজার ৭২৭ জন।

চীনের ওপরে নির্ভরতা কমাতে আমদানি পণ্যের তালিকা চেয়েছে ভারত সরকার

লাদাখ সীমান্তে চীনের সঙ্গে সংঘাত বৃদ্ধির পরেই সারা ভারতে চীনা পণ্য বয়কটের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় অনেক কিছুই চীন থেকে আমদানি করতে হয়৷ আর তাই চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে তৎপর হয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। চীন থেকে যে পণ্যগুলো আমদানি করা হয়, সেসবের তালিকা চাওয়া হয়েছে। এমনকি সেসব ভারতে উৎপাদিত হলে দাম কত পড়বে, উৎপাদনের ক্ষেত্রে করসংক্রান্ত কী কী অসুবিধা রয়েছে, সেসবও শিল্পমহলের কাছে জানতে চেয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দপ্তরে হওয়া আত্মনির্ভর ভারত প্রকল্প নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে চীনের ওপরে নির্ভরতা কীভাবে কমানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়৷ এ সময় মোদি বলেন, চীন থেকে নিম্নমানের পণ্য গুলো দেশে উৎপাদন করলে দেশে উৎপাদিত পণ্যের পরিমাণও বাড়বে। ফরে দেশের অর্থনীতি আরো চাঙ্গা হবে৷

জানা গেছে, ভারতের মোট আমদানির প্রায় ১৪ শতাংশ চীন থেকে আসে। মোবাইল, প্লাস্টিকের খেলনা এবং ওষুধের কাঁচামালের জন্যই চীনের ওপর বেশি নির্ভরশীল ভারত৷

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বৃত্তি কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হয়েছে

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন সব বৃত্তি কার্যক্রম ডিজিটালাইজড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, আগে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে বৃত্তি দেওয়া হতো এবং শিক্ষার্থীদের টাকা পেতে অনেক ঝামেলা হতো।

শিক্ষামন্ত্রী সোমবার (২২ জুন) এক ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে ২০১৯-২০ অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সময়ের উপবৃত্তির টাকা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনের সময় একথা বলেন।

ভার্চ্যুয়াল মিটিংয়ে আরও যুক্ত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক ও পরিচালক মো. শাহেদুল খবির চৌধুরী, সমন্বিত উপবৃত্তি কর্মসূচির স্কিম পরিচালক শরীফ মুর্তাজা মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনলাইনে বৃত্তি কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে জিটুপি পদ্ধতিতে বৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীর মোবাইল নম্বরে পৌঁছে যাবে। ফলে শিক্ষার্থীরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের টাকা পেয়ে যাবে এবং সরকারের সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তার ফলস্বরূপ আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের কাছে জিটুপি পদ্ধতিতে বৃত্তের অর্থ পৌঁছে দিতে পারছি।

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টার সার্বিক পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে এক্ষেত্রে যে ব্যাপক সাফল্য অর্জিত হয়েছে সেজন্য দীপু মনি প্রধানমন্ত্রী ও তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, শিক্ষার্থী নির্বাচন করার পরে শিক্ষার্থীর আবেদন দাখিল, প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমোদন, প্রতিষ্ঠান প্রধানের মাধ্যমে ইউএনও’র কাছে তালিকা দাখিল, ইউএসইও অনুমোদনের পর তা স্কিম পরিচালকের কাছে দাখিল ও অনুমোদন, স্কিম পরিচালকের বিল দাখিল, মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ অফিসের বিল পাসের পর বিতরণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো, বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট মোবাইল সার্ভিস প্রোভাইডারদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মোবাইলে পৌছে দেওয়া- এই পুরো কাজটি অনলাইনে করা হবে।

উদ্বোধনী দিনে ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ১৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৮০ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩২৮ কোটি ১৪ লাখ এক হাজার ৯শ টাকা জিটুপি পদ্ধতিতে (অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে উপবৃত্তি অর্থ সরাসরি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর নির্ধারিত মোবাইল অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে) পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৪ জুন শিক্ষার্থীদের মোবাইল নম্বরে তাদের উপবৃত্তির টাকা পৌঁছে যাবে।

একই সময়ে শিক্ষামন্ত্রী জিটুপি পদ্ধতিতে ২০১৯ সালের পিইসি এবং জেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃত্তিপ্রাপ্ত ৮৩ হাজার ৯৬৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৬ হাজার ৩৮৫ টাকা দেওয়ার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

প্রতি অর্থবছরে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এক লাখ ৮৭ হাজার ৩৮৪ জনকে ১৮৭ কোটি টাকার বৃত্তি দেওয়া হয়। বৃত্তিপ্রাপ্ত অন্য শিক্ষার্থীদের বরাদ্দ অর্থ পর্যায়ক্রমে অনলাইনে পাঠানো হবে বলে জানায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনলাইনে বৃত্তির এ সেবাটি মুজিববর্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হয়েছে।

রেড জোনে সাধারণ ছুটি কঠোরভাবে পালনের আহ্বান সেতুমন্ত্রীর

করোনার বিস্তার রোধে ঝুঁকি বিবেচনায় সরকার যেসব এলাকা রেড জোন চিহ্নিত করে লকডাউন বা সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে তা কঠোরভাবে পালনের আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় নিজের বাসভবন থেকে নোয়াখালীতে কোভিট রোগীদের জন্য চিকিৎসা সারঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এই আহবান জানান।

সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার নতুন করে করোনার উচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় বেশ কিছু জেলা ও সিটি করপোরেশনের সুনির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এ সকল এলাকার জনসাধারণকে কঠোরভাবে সরকারি নির্দেশনা প্রতিপালনের আহ্বান জানাচ্ছি। অনুরোধ করছি, ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করার।’

এ সময় নোয়াখালীতে স্থাপিত কোভিড হাসপাতালের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে দু’টি আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর হস্তান্তর করে ওবায়দুল কাদের। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল হামিদ আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর দু’টি গ্রহণ করেন।

এদিকে দেশবাসীকে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য সচেতন হতে আবারো আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার নানান সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও টেস্টিং ক্যাপাসিটি এবং চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে ইতোমধ্যে ৬০টির অধিক কেন্দ্রে টেস্ট করা হচ্ছে যদিও আমাদের আরও টেস্ট সেন্টার বাড়ানো প্রয়োজন।

তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যে চিকিৎসা সরঞ্জাম, সুরক্ষা সামগ্রী সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যত প্রস্তুতিই নেয়া হোক না কেন বিশ্বব্যাপী আজ একটি অভিন্ন কথাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন- সেটি হলো নিজের সুরক্ষা; করোনা প্রতিরোধের সবচেয়ে সেরা কৌশল হিসেবে নিজেকে সচেতন রাখতে হবে, সুরক্ষা দিতে হবে। তাই আসুন, কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা হিসেবে আমরা সুরক্ষার প্রাচীর গড়ে তুলি, নির্মাণ করি সচেতনতা দুর্গ।

কাদের বলেন, আপনারা জানেন- বাংলাদেশ সফররত চীনা বিশেষজ্ঞ দলটি সরকারের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীর দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন। নমুনা পরীক্ষা কম হচ্ছে বলে তারা মত প্রকাশ করার পাশাপাশি জনগণের সচেতনতার অভাবের কথা বলেছেন। আমি আবারো সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছি। মনে রাখবেন, এক সেকেন্ডের অবহেলা, হাত ধোয়ার ২০ সেকেন্ডের অলসতা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

দেশবাসীকে উদ্দেশ্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, লক্ষণ দেখা দিলে গোপন করবেন না। নিকটস্থ কেন্দ্রে পরীক্ষা করান। অনেকে লক্ষণ গোপন করে স্বাভাবিক চলাফেরার কারণে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। দয়া করে সবার স্বার্থে ঝুঁকি নেবেন না। অনেকে ফেসবুকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাওয়া প্রেসক্রিপশন ফলো করে ভয়ানক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রয়োজনে হটলাইনে যোগাযোগ করুন, টেলিমেডিসিন সেবা গ্রহণ করুন। অযথা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চিকিৎসা ফলো করবেন না, আপনার সমস্যা অন্যের সাথে নাও মিলতে পারে এতে আপনি ঝুঁকিতে পড়বেন।

পদ পেয়েও নিলেন না আইজিপি বেনজীর

বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতি পদে দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানালেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ। পদাধিকার বলে, এ দায়িত্ব তার নেয়ার কথা থাকলেও; সে পথে হাঁটেননি পুলিশের নতুন আইজিপি। রেওয়াজ অনুসারে পুলিশের আইজিপি কাবাডি ফেডারেশনের সভাপতির পদ অলঙ্কৃত করে থাকেন।

আর এতোদিন ধরে এভাবেই চলে আসছিলো সব কিছু। কিন্তু এতো বছরের রেওয়াজে এবার বাধ সাধলেন বেনজীর আহমেদ। র‌্যাবের মহাপরিচালক থেকে পুলিশের আইজিপি হলেও কাবাডি ফেডারেশনের দায়িত্ব নিতে চাননি তিনি।

কারণ, র‌্যাবের মহাপরিচালক থাকার সময় থেকেই বাংলাদেশ দাবা ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন তিনি। একই সঙ্গে নবগঠিত দক্ষিণ এশিয়ান দাবা কাউন্সিলরেরও প্রথম সভাপতি তিনি। আর এ কারণেই দুটি ফেডারেশনের দায়িত্ব নিতে চাননি বেনজীর। তার এবং আন্তর্জাতিক দাবা সংস্থা (ফিদে)’র অনুরোধে দাবা’তেই রেখে দেয়া হচ্ছে বেনজীর আহমেদকে। একই সঙ্গে আগের কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ায়, নতুন অ্যাডহক কমিটি দিয়েছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ।

ফলে যেখানে সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে থাকছেন আগের দায়িত্বরতরাই। সহ সভাপতি হিসেবে থাকছেন ৪ জন, আর যুগ্ম সম্পাদক ২ এবং কোষাধ্যক্ষ পদে একজনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কার্যনির্বাহী বোর্ডের সদস্য হিসেবে আছেন ১৭ জন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধ

আজ দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই
দিনে স্মরণ করছি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যদের,
যাঁদের অসাধারণ দূরদর্শিতার ফলে এই দিনে ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে দেশ ভাগের পর প্রথম
রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ, পরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এবং সব
শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে এই উপমহাদেশের একমাত্র
রাজনৈতিক দল, যেটির নেতৃত্বে একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিদের একটি স্বাধীন
রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। এই স্বাধীনতার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই ৩০ লাখ শহীদের প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
দেশের একটি কঠিন সময়ের মধ্যে এই বছর ঐতিহাসিক দলটি তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
করছে। হয়তো চিরাচরিত কোনো অনুষ্ঠান হবে না। সাধারণত এদিন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ হাসিনা দলের নেতাদের নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে
সম্মান জানান। এবার হয়ত হবে না কোনো সভা-সমাবেশ। হতে পারে তিনি কিছু কাজ ভিডিওর মাধ্যমে
করবেন। এমন কঠিন সময় শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বে এর আগে কখনো আসেনি। আওয়ামী লীগের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় পালন করা হয়নি, কারণ তখন তা করার পরিবেশ ছিল না।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া যখন আওয়ামী লীগের নাম নেওয়াকে
অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখনো দলের কিছু নিবেদিত প্রাণ নেতা ও কর্মী দিনটিকে
ঘরোয়াভাবে পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ একবারেই এ দেশেই শুধু নয়, সারা ভারতবর্ষে একমাত্র জাতীয় দল, যার জন্ম
এই মাটিতেই এবং তার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয় এক
ইংরেজ বেসামরিক আমলা অ্যালেন অক্টোবিয়াস হিউম দ্বারা ১৮৮৫ সালে। উদ্দেশ্য ভারতীয়দের
সঙ্গে শাসক গোষ্ঠীর সম্পর্কোন্নয়ন। ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব আর বনেদি বিত্তশালীরা গঠন
করেন মুসলিম লীগ তাঁদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। রাশিয়ার বলসেভিক
বিপ্লবের পর ভারতে গঠিত হয় কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২০ (মতান্তরে ১৯২৫ সালে) সালে মার্ক্সবাদ-
লেনিনবাদের চিন্তধারার মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া
কম্পানি ভারত দখলপ্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তী ১০০ বছরে তারা নানা ছলচাতুরি ও বিশ্বাসঘাতকতা
করে বস্তুতপক্ষে সারা ভারতবর্ষ দখল করে নেয়। ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের পর
(ইংরেজ ঐতিহাসিকরা বলেন সিপাহি বিদ্রোহ) ভারতের শাসনভার কম্পানি থেকে ব্রিটিশ
রাজপরিবারের কাছে চলে যায়। ১৮৫৭ সালের পর ইংরেজরা বুঝতে পারে দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে
ভারতীয়রা তাদেও কারণে যে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাতে সাধারণ জনগণের মাঝে
ইংরেজদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য তারা
বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে ভারতীয়রা শিক্ষাদীক্ষায়
একটু উন্নতি লাভ করলে তারা বুঝতে পারে ইংরেজ শাসকরা কিভাবে এবং কত উপায়ে তাদের শোষণ
করছে। তখন প্রথমে কংগ্রেস এই শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। পাকিস্তানের
প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ বিলাত থেকে পড়া লেখা শেষ করে এসে প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দেন; কিন্তু তাদের
সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগের মতো একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে
অনেকটা ছিনতাই করে তাকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরমে রূপান্তর করেন।
জিন্নাহ অত্যন্ত চালাক ও ধূর্ত ছিলেন। আর ছিলেন চরম ক্ষমতালোভী। ভারত ভেঙে
পাকিস্তান সৃষ্টি হলে তিনি একাধারে পাকিস্তানের বড়লাট ও সংসদের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার)
হয়েছিলেন। খুব করুণ অবস্থায় জিন্নাহর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর শেষ দিনগুলো জানতে হলে পড়তে হবে

তাঁর বোন ফাতেমা জিন্নাহর লেখা জিন্নাহর জীবনী ‘মাই ব্রাদার’। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
লিয়াকত আলী খানের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাস ভূমি চাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তাঁদের বিশাল
পারিবারিক জমিদারি রক্ষা করা। এই জমিদারি পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
বাংলার মুসলমানরা এই পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন এটি চিন্ত করে, নিজেদের
জন্য একটি পৃথক আবাস ভূমি হলে তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। পলাশীর
যুদ্ধের পর বাঙালি মুসলমানরা শিক্ষাদীক্ষাসহ সব কিছুতেই পিছিয়ে পড়েছিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে
কৃষি ভূমির মালিক ছিল হিন্দু জোতদার জমিদার, মহাজনরা। বেশির ভাগ মুসলমান তাদের জমিতে
বর্গাচাষ করত। নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন আবাস ভূমির স্বপ্ন দেখে তারা নিজেদের
ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সৃষ্টি হলে তারা দেখেছিল তাদের সেই
স্বপ্ন ছিল ভ্রান্ত আর অনেকটা কল্পনা বিলাস। মুসলমানদের জন্য যখন পৃথক আবাস ভূমি নিয়ে
ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে জিন্নাহ দেনদরবার করছেন, তখন ১৯৪০ সালের লাহোর মুসলিম লীগের
সম্মেলনে প্রস্তাব উত্থাপিত হয় যে উপমহাদেশে যেসব প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল,
প্রতিটি পৃথক রাষ্ট্র হবে এবং পরবর্তীকালে প্রয়োজনে কনফেডারেশনও করতে পারে। বর্তমান
পাকিস্তানের কোনো প্রদেশই তখন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল না একমাত্র অবিভক্ত বাংলা
ছাড়া। জিন্নাহর এক প্রতারণার মাধ্যমে ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে মুসলিম লীগের এক বিশেষ কাউন্সিল
সভায় লাহোর প্রস্তাবকে পরিবর্তন করে মুসলমানদের জন্য একাধিক নয়, একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার
প্রস্তাব করে, যার

ফলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় । অথচ কলকাতায় যেসব মুসলমান
বাঙালি একাধিক পৃথক আবাস ভূমির জন্য আন্দোলন করছিলেন (তরুণ শেখ মুজিব তখন রাজপথের
একজন কর্মী) তাঁদের ধারণা ছিল অবিভক্ত বঙ্গ পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, কারণ তখন সমগ্র
ভারতবর্ষে এই বঙ্গই একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল। বাংলার মুসলিম লীগ নেতারা
মেনে নিলেন, কারণ তাঁদের ধারণা, স্বাধীন হলে বদলে যাবে তাঁদের ভাগ্য। তখন বঙ্গের প্রধানমন্ত্রী
(মুখ্যমন্ত্রী) ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সভাপতি
হয়েছিলেন (ভারপ্রাপ্ত)। কিছুদিনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও।
পাকিস্তানের বাঙালি মুসলমানদের মোহ ভাঙতে বেশিদিন সময় লাগেনি। ১৯৪৮ সালের মার্চ
মাসে জিন্নাহ ঢাকা এসে রমনা রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ইংরেজিতে ঘোষণা করলেন,
পাকিস্তানের ৬ শতাংশ মানুষের ভাষা, যারা মূলত উত্তর প্রদেশ ও বিহার থেকে পাকিস্তানে মোহাজের
হিসেবে এসেছে তাদের ভাষা উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, যার অর্থ হচ্ছে রাতারাতি
বাকি ৯৪ শতাংশ মানুষ সরকারি সব কাজকর্ম থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল। এর প্রথম প্রতিবাদ সেই
জনসভায়ই হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে জিন্নাহর সংবর্ধনা সভায় তিনি
আবারও একই কথা বলেন। এবার উপস্থিত ছাত্ররাই, যাঁর মধ্যে তরুণ শেখ মুজিবও ছিলেন জিন্নাহর
এই বক্তব্যে প্রতিবাদ করেন। বস্তুতপক্ষে ১৯৪৮ সালেই শুরু হয় বাঙালির জাতীয় মুক্তির
আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলন করতে চাই সংগঠন। শেখ মুজিব অন্য ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠন
করলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ছাত্রদের সংগঠন নিয়ে কোনো রাষ্ট্রীয় আন্দোলন বেশি
দূর নিয়ে যাওয়া কঠিন মনে হয়েছিল তরুণ ছাত্রনেতাদের। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয় পূর্ব
পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল শেখ মুজিবের। সভাপতি
মওলানা ভাসানী, আর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিব। শুরু থেকেই
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায় ও সেই লক্ষ্যে
পাকিস্তানের এই অংশসহ প্রতিটি প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি এ বছর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে এক ভিন্ন
পরিস্থিতিতে। এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ। অনেক বড় ধরনের বছরব্যাপী
অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সব কিছু এখন অনেকটা তোলা আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তো
আর তোলা থাকতে পারে না। এই ৭১ বছরে এই দলটি হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও যা অর্জন করেছে
তা এই উপমহাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অর্জন করতে পারেনি। ভেঙেছেও একাধিকবার।
নিষিদ্ধ হয়েছে অন্তত ছয়বার। ১৯৫৪, ১৯৫৬ বা ১৯৭০ নির্বাচনের প্রদেশ কিংবা কেন্দ্রে জয়লাভ
করেও পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক আমলাদের ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষমতায় যেতে পারেনি।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অনেকের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা
রাজপথে বুকের রক্ত দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে এই দলটির নেতৃত্বে বাঙালি নিজের মাতৃভূমি স্বাধীন
করার জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল। এই দলই জাতিকে উপহার দিয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম বড় কীর্তি ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির
সনদ ছয় দফা ঘোষণা, যার ভিত্তিতে ১৯৭০-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ যখনই নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছে তখনই মানুষ কিছু পেয়েছে। ১৯৭০-এর
নির্বাচনের পর বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন
সাড়ে তিন বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পুরো
পরিবারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। বেঁচে যান বিদেশে থাকা তাঁর দুই কন্যা আজকের
ক্রান্তিকালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর
জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দলটিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অর্জন আছে অজস্র। কিন্তু অনেক সময় কাছের মানুষরাই
অনেক কিছু পণ্ড করে দিয়েছেন। আশা করব ৭১তম জন্ম বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা সব প্রতিকূল
পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশকে আরো উন্নত শিখরে নিয়ে যাবেন। এই দিনে জাতির জনক
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের প্রতি অভিবাদন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি রইল ভালোবাসা। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে
বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা এক বিস্ময়কর স্থানে নিজেদের জন্য জায়গা করে
নিয়েছেন। সেই স্থানটুকু তাঁদের জন্য নির্ধারিত যেমন ভাবে অনিবার্য ছিল আওয়ামী লীগের জন্ম।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক : আবদুল মান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
২১.০৬.২০২০
পিআইডি নিবন্ধ

১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বহন করছে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পৃথিবীর ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর অন্যতম একটি। সেই বাংলাদেশকে এখন বহন করতে হচ্ছে ১১ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা।

বিশ্ব শরণার্থী দিবস আজ। ২০০০ সালের ৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ৫৫/৭৬ ভোটে অনুমোদিত হয় যে, ২০০১ সালে থেকে জুন মাসের ২০ তারিখ আন্তর্জাতিক শরণার্থী দিবস হিসেবে পালন করা হবে। সে থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশ এখন বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর বোঝা বহনকারী একটি দেশ। মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্যাতনের মুখে ১৯৭৮ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পালিয়ে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে বাংলাদেশে। এমনিতেই নানা জটিলতায় এসব শরণার্থীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না, নতুন করে তার সাথে যুক্ত হয়েছে করোনা সংকট।

বিশেষ করে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর ভয়াবহ নির্যাতনে পালিয়ে এসে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয় ৮ লাখের বেশি রোহিঙ্গা। নতুন পুরাতন মিলে এখন ১১ লাখ ছাড়িয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গারা এই শরণার্থী জীবন থেকে মুক্তি ও স্বদেশে ফিরতে চান ।

উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পের ডি-৫ ব্লকে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, ‘মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছি। কেউ নিজ দেশ ভিটে-মাটি ফেলে আসে না, আসতে বাধ্য করা হয়েছে। এখন এই জীবন থেকে মুক্তি চাই। বিশ্ববাসীর কাছে অনুরোধ আমাদের অধিকার, সম্মান ও নাগরিকত্ব দিয়ে দ্রুত স্বদেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দিন।’

শুধু উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্পে নয়, এখন কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪০টি আশ্রয় শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের একটিই দাবি- অধিকার, সম্মান ও নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া।

উখিয়ার মধুরছড়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুরুল করিম বলেন, ‘আমাদের শরণার্থী জীবন ভালো লাগে না। আমরা দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে চাই, ভালভাবে বাঁচাতে চাই।’

বালুখালী ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নুর হোসেন বলেন, ‘এত বছর ধরে শরণার্থী জীবন যাপন করছি। তার একমাত্র কারণ অধিকার, সম্মান ও নাগরিকত্ব নিয়ে নিজ দেশে ফেরার জন্য। বিশ্ববাসী মিয়ানমারকে দ্রুত চাপ দিক যাতে মিয়ানমার আমাদেরকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।’

বছরের পর বছর অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের কারণে নিরাপত্তাহীনতাসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত স্থানীয়রা। তাই করোনা মহামারিকে পুঁজি করে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত না করতে মিয়ানমারকে বিশ্ববাসীর চাপ অব্যাহত রাখার দাবি তাদের।

উখিয়ার স্থানীয় বাসিন্দা নুর আহমদ বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের কারণে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এই রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে দ্রুত ফেরত পাঠিয়ে উখিয়া-টেকনাফে স্থানীয় জনগণকে বাঁচানোর দাবি জানাচ্ছি।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সংগ্রাম পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘এই করোনা পরিস্থিতির মাঝেও মিয়ানমারের সাথে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে সরকারের আলোচনা অব্যাহত থাকুক। এটা চলমান রাখা উচিত। কারণ, মিয়ানমার যাতে বার বার সুযোগ না পায়। বাংলাদেশে অবস্থানরত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে তাদের নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ারমারের যে অনীহা, এটা তারা যাতে প্রকাশ করতে না পারে।’

বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অনুরোধ করে মাহামুদুল হক চৌধুরী বলেন, ‘করোনাকে পুঁজি করে মিয়ানমার যাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত না করে। করোনার এই সময়েও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া যতটুকু সম্ভব এগিয়ে নেয়া যায় তার জন্য সকলের প্রতি দাবি জানাচ্ছি।’

এ ব্যাপারে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, ‘প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া তো সরকারের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত। এটা সরকার নানাভাবে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমাদের মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রত্যাবাসন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে সরকারের যেদিন সিদ্ধান্ত হবে সেদিনই প্রত্যাবাসন শুরু হবে। যার জন্য আমরা সবসময়ই প্রস্তুত। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তাদের দেখভাল করা।’

মো. মাহবুব আলম তালুকদার আরও বলেন, করোনার কারণে পুরো বিশ্ব এখন স্থবির। সুতরাং করোনার কারণে প্রত্যাবাসন যে বাধাগ্রস্ত সেটা বলবো না, এটা চলমান রয়েছে। আর বিশ্ব শরণার্থী দিবসে উখিয়া ও টেকনাফের আশ্রয়শিবিরে রোহিঙ্গাদের সকল অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। সবার সাথে আলোচনা করেই করোনা পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

হঠাৎ তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে

উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের টানা বর্ষণে তিস্তার পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে লালমনিরহাটের তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল বন্যায় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার।

শনিবার(২০ জুন) সকাল ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৮ সেন্টিমিটর। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০সেঃমি) বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে হঠাৎ বাড়তে থাকে তিস্তার পানি প্রবাহ। যা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়ে শনিবার সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও ৩ ঘণ্টা পরে কিছুটা কমে সকাল ৯টায় বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শুকিয়ে যাওয়া মৃত প্রায় তিস্তা আবারো ফুলে ফেঁপে উঠে ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপ। হেঁটে পাড়ি দেয়া তিস্তায় চলতে শুরু করেছে নৌকা। হাঁকডাক বেড়েছে মাঝি মাল্লাদের। কর্মব্যস্থতা দেখা দিয়েছে তিস্তাপাড়ের জেলে পরিবারে।

অপরদিকে পানি প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় তিস্তার তীরবর্তী জেলার ৫টি উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, ইউনিয়নের তিস্তা নদীর তীরবর্তি নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়ে।

এ দিকে হঠাৎ তিস্তা নদীতে পানি বৃদ্ধি দেখে তিস্তাপাড়ের মানুষ বড় বন্যার আশঙ্কা করলেও বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দাবি এবার বড় ধরনের বন্যার কোন আশঙ্কা নেই। বৃষ্টির কারণে উজানের ঢেউয়ের ফলে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। উজানে ভারতে পানি প্রবাহ কমে যাচ্ছে। তাই ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ কমে যাবে বলে দাবি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখা।

পলি ও বালু জমে তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্যতেই তিস্তার পানি প্রবাহ লোকালয়ে প্রবাহিত হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে। তবে আতঙ্কিত না হতে পরামর্শ দিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

তবে হঠাৎ তিস্তায় পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় সৃষ্ট বন্যায় চরাঞ্চলের সবজি, বাদাম ও ভুট্টাসহ ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা। তিস্তার তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের পানিবন্দি পরিবারগুলো শিশু বৃদ্ধ ও গবাদি পশুপাখি নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

চরাঞ্চলের রহিম ও আমেনা বেগম জানান, গত কয়কদিনের টানা বৃষ্টিতে বৃদ্ধি পায় তিস্তার পানি। শুক্রবার রাতে প্রচণ্ডগতিতে পানি প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে তারা পনিবন্দি হয়ে পড়েন। এতে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ফেরদৌস আলম বলেন, এ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন তিস্তার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদকে বলা হয়েছে। তালিকা পেলে বরাদ্দ নিয়ে ত্রাণ বিতরণ করা হবে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ শুক্রবার রাতে থেকে বাড়তে থাকে। শনিবার(২০ জুন) সকাল ৬টায় বিপদসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল ৯টায় কমে গিয়ে বিপদসীমার ১৮সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে।