All posts by lutfor

বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি ডলার দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস মহামারী থেকে সৃষ্ট সংকটে অর্থনৈতিক অভিঘাত মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০৫ কোটি ডলার সহায়তা দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও মহামারী প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি প্রকল্পে এ অর্থ ব্যয় করা হবে বলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

‘প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল অনট্রাপ্রেনারশিপ’ (প্রাইড) প্রকল্পে ৫০ কোটি ডলার, ‘এনহ্যান্সিং ডিজিটাল গভর্নমেন্ট অ্যান্ড ইকনোমি’ প্রকল্পে ২৯ কোটি ৫ লাখ ডলার ও ও ‘সেকেন্ড প্রোগ্রামেটিক জবস্ ডেভলপমেন্ট পলিসি ক্রেডিট’ প্রকল্পে ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন এক বিবৃতিতে বলেন, নজিরবীহিন সংকট মোকাবিলায় ব্যতিক্রমী এ পদক্ষেপের ফলে জনসাধারণের আয় ও জীবিকা ্তিবাচক প্রভাব ফেলবে। প্রকল্পগুলো দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করে বাংলাদেশের অর্থনীতির পুনরুদ্ধারে সহায়তার পাশাপাশি ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত গড়বে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৫০ কোটি ডলারের প্রাইড প্রকল্পটি প্রায় ২০০ কোটি ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ টানবে; নির্ধারিত অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং সফটওয়্যার প্রযুক্তি পার্কে সামাজিক ও পরিবেশগত মান জোরদার করবে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে একলাখ ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে সফটওয়্যার পার্কের ৪০ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চলের ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান হবে নারীর।

এই প্রকল্প মিরসরাই-ফেনী অঞ্চলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর -২ এর উন্নয়ন করবে যার মধ্যে থাকবে বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাসহ সড়ক নেটওয়ার্ক, সৌর বিদ্যুতের সড়ক বাতি স্থাপন ও জলবায়ু-সহনশীল পানি, স্যানিটেশন ও বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক স্থাপন।

প্রকল্পটি জনতা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে ঢাকার প্রথম ‘ডিজিটাল অনট্রাপ্রেনার হাব’ গড়ে তুলে এটিকে একটি সবুজ ভবনে পরিণত করবে। তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) ও তথ্য প্রযুক্তি সমর্থিত সেবাসহ (আইটিইএস) স্থানীয় ও বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে প্রকল্পটি কোভিড-১৯ এর প্রভাব মোকাবিলায় অর্থনীতিকে সহায়তা করবে।

২৯ কোটি ৫০ লাখ ডলারের প্রকল্প সরকারের সব সংস্থার জন্য একটি সমন্বিত, অংশীদারিত্বভিত্তিক এবং ক্লাউড-কম্পিউটিং ডিজিটাল প্লাটফর্ম স্থাপন করবে এবং সাইবার নিরাপত্তার উন্নতি ঘটাবে, যা সরকারি আইটি বিনিয়োগে ২০০ মিলিয়ন ডলারের খরচ বাঁচাবে। এছাড়া ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জনের জন্য প্লাটফর্ম সরকারকে কার্যকরভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেবা সরবরাহ করতে সক্ষম করবে।

এই প্রকল্পের মাধ্যমে একলাখ লোকের কর্মসংস্থান হবে যার এক-তৃতীয়াংশ হবে নারী ও একলাখ তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল ও নতুন প্রতিস্থাপন প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেবে। এটি তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ৩০ কোটি ডলার আয় বাড়াতে সহায়তা করবে এবং স্থানীয় আইটি কোম্পানিগুলোকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সহায়তা করবে; মহামারির ঝুঁকি কমাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় আনবে।

আর ২৫ কোটি ডলারের প্রকল্পটি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সরকারের স্বল্প-মেয়াদি বিভিন্ন পদক্ষেপের সহায়তার জন্য সরকারের আর্থিক সংস্থানের পাশাপাশি অর্থনীতির পুনরুদ্ধার ও ভবিষ্যতের অভিঘাত মোকাবিলায় শ্রমজীবি ও দুর্বল জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করবে।

এই অর্থায়ন নারী, যুব জনগোষ্ঠী, অভিবাসী শ্রমিক এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীর জন্য বাংলাদেশে বৃহৎ পরিসরে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। এটা বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ব্যবস্থার আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় সংস্কারে সহায়তা করবে এবং দুর্বল জনগোষ্ঠীকে অধিকতর উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে সহায়তা করবে। এছাড়া এর লক্ষ্য হচ্ছে সম্প্রসারিত একটি সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর শক্তিশালী ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বিশেষত মহামারীর সময় শ্রমিকদের ঝুঁকি কমানো।

দেশে করোনায় মৃত্যু এখনো অনেক কম : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করায় এখনো মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কম আছে।শনিবার (২০ জুন) বিকেল পৌনে ৪টায় ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জয়নুল হক সিকদার উইমেন্স মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালকে ‘কোভিড-১৯ হাসপাতাল’ হিসেবে অনুষ্ঠানিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা সরকারিভাবে আমাদের হাসপাতালগুলো কোভিড রোগীদের জন্য ব্যবস্থা করেছি। প্রতিটি হাসপাতাল এখন করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আমরা আরও আনন্দিত, প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলো এগিয়ে এসেছে করোনা চিকিৎসায়। আমরা আরও খুশি হলাম, সিকদের গ্রুপের সিকদার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালটি আজকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হলো।

তিনি বলেন, এ হাসপাতালে কোভিভ, নন-কোভিড রোগীরা যেন ভালো চিকিৎসা পায় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। পাশাপাশি রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীরা যেন পর্যাপ্ত সুরক্ষা সামগ্রী পায়। তারা যদি আক্রান্ত হয়ে যায় তাহলে কারা চিকিৎসা দেবে সেটাও খেয়াল রাখতে হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে ক্রিটিক্যাল রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। আইসিইউ, ভালো অক্সিজেনের ব্যবস্থা নিশ্চয়ই থাকবে। যারা এখানে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেবে তারা যাতে সঠিক চিকিৎসা পায়। তাদের সাধ্যের মধ্যে থাকে। তারা যেন চিকিৎসা নেওয়ার মতো অবস্থায় থাকে।

তিনি বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে যা সহযোগিতা লাগে অবশ্যই আমরা সেটা করব। আমরা অবশ্যই আছি। আশা করি সবাই মিলে কাজ করলে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হব। আমরা করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নিয়ে আসতে পারবো।

তিনি বলেন, পৃথিবীর প্রায় থেমে গেছে। মানুষ কাজ করতে পারছে না। মানুষ বাড়ি যেতে পারছে না। কর্মস্থলে যেতে অসুবিধা হচ্ছে। স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। মানুষ মানুষকে দেখে ভয় পাই। এই পরিস্থিতি থেকে আমরা তাড়াতাড়ি বের হয়ে আসবে। আমরা প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলাপ করি। তিনি নির্দেশনা দেন একটি লোকও যেন স্বাস্থ্য সেবার বাইরে না থাকে। আজকে আর একটি বেসরকারি হাসপাতাল যুক্ত হয় আমাদের শক্তি আরও বৃদ্ধি পেল।

মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট সেবায় কর প্রত্যাহারের বিষয় বিবেচনায় আছে

পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইলফোন ও ইন্টারনেট সেবার ওপর বাড়তি কর প্রত্যাহারের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় আছে।

শনিবার (২০ জুন) বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে আয়োজিত বাজেট ২০২০-২১ ভার্চ্যুয়াল সংলাপে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন।পরিকল্পমন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাসের বিষয়টি মাথায় নিয়েই এবারের বাজেট তৈরি করা হয়েছে। তাই এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণ নেই।

বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ পুনর্বিবেচনার প্রশ্নে তিনি বলেন, কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিক্ষাসহ মানবসম্পদ উন্নয়ন। এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার প্রস্তুত। যেখানে যতটুকু প্রয়োজন তার প্রয়োগ ঘটানো হবে।

বিভিন্ন আর্থিক খাতে সংস্কার প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, সংস্কার প্রতিদিন হচ্ছে। এটা অব্যাহত থাকবে। সরকারের মানসিকতাই হচ্ছে সংস্কারের মাধ্যমে উন্নয়ন। যেখানে সবার সমতা থাকবে। সুষম উন্নয়ন হবে। আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড বাড়বে। রাজস্ব খাতেরও প্রয়োজনীয় সংস্কারে কাজ করছে সরকার।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অনেকে প্রবৃদ্ধি, রাজস্ব, ব্যয় সক্ষমতা নিয়ে নানা কথা বলছেন।সরকার পরিচালনায় একটা শক্তিশালী নেতৃত্ব রয়েছে, এটা তাদের মাথায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, দেশে এখন রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা আছে। সরবরাহ পরিস্থিতি ভালো। কৃষিতেক ভালো ফলন হয়েছে। প্রবাসী আয় বাড়তে শুরু করেছে। রিজার্ভে একটা সন্তোজনক অবস্থা রয়েছে। সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী। এখানে বিদ্যুতের ছোঁয়ায় সব কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন মেগা প্রকল্পও আমাদের আশা জাগাচ্ছে। আমরা আশা করছি, এ পরিস্থিতিতেও এই বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারব।

২০০ কোটি করোনা প্রতিষেধক আসছে : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

পরবর্তী বছর শেষের আগেই তৈরি হয়ে যাবে ২০০ কোটি করোনা প্রতিষেধক। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বিজ্ঞানী ড. সৌম্য স্বামীনাথন জেনেভায় সংবাদমাধ্যমকে এ কথা বলেন।শুক্রবার তিনি আরও বলেন, এ মুহুর্তে আমাদের কাছে প্রমাণিত কোনও প্রতিষেধক নেই। তবে আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা এই বছরের শেষেই সাফল্য পেতে দেখব এই বিষয়ে।

এর আগে গ্লোবাল ফার্মাসিউটিক্যালসের ফিজার জানিয়েছিলেন, অক্টোবরের শেষেই করোনা প্রতিষেধক তৈরি হয়ে যাবে।তবে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, করোনার জন্য কার্যকরী প্রতিষেধক পেতে এখনও ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগবে।

প্রসঙ্গত, সারা বিশ্বে ১০০টি প্রতিষেধকের ওপর বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। কিন্তু সুফল নিয়ে করোনার সঙ্গে লড়াই করবে এমন প্রতিষেধকের খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় নির্মিত প্রতিষেধক আশা দেখাচ্ছে। কিন্তু কবে প্রতিষেধক প্রয়োগে কোভিড আতঙ্ক থেকে মুক্তি মিলবে তা এখনও অনিশ্চিত।

সন্তানসহ ইউএনও তানিয়া করোনায় আক্রান্ত

পটুয়াখালীতে দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. তানিয়া ফেরদৌস ও তার পাঁচ বছরের শিশু সন্তানসহ নতুন করে আরও ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২৩৩ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৬ জন। করোনায় ১১ জন মারা গেছেন। বর্তমানে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৭৬ জন।

শিশু সন্তানসহ ইউএনও’র করোনায় আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পানা কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান।

তিনি জানান, গত ১৮ জুন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া ফেরদৌস ও তার পাঁচ বছরের শিশু সন্তানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে তাদের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এ পর্যন্ত উপজেলায় ১৬ জনের শরীরে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। সুস্থ হয়েছেন পাঁচজন।

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম শিপন জানান, নতুন আরও নয়জনসহ জেলায় মোট ২৩৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৬ জন। করোনায় মারা গেছেন ১১ জন।

সাড়ে ছয় হাজারের বেশি গর্ভবতীকে সেনাবাহিনীর সেবা

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ৬ হাজার ৬৫৬ জন গর্ভবতী মা’কে সেবা দিয়েছে সেনাবাহিনী। এরমধ্যে ৩৫ জনের করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।শনিবার (২০ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর মাসব্যাপী গর্ভবতী মায়েদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত এই স্বাস্থ্যসেবা চলমান থাকবে বলে আইএসপিআর বিজ্ঞপ্তিতে জানায়।

প্রধানমন্ত্রীর মতো আলেম-ওলামাদের জন্য কেউ ভাবেন না

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার মতো দেশের আলেম-ওলামাদের জন্য কেউ ভাবেন না বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর মিন্টু রোডের সরকারি বাসভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে নিজ নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাঁচ শতাধিক মসজিদের ইমাম-ওলামাদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালেও আলেম-ওলামাদের কথা ভাবেনি। কিন্তু নির্বাচনের সময় তারা ঠিকই ধর্মকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছে। অপরদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা আলেম-ওলামাদের জন্য যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি করে মসজিদ নির্মাণ, এক লাখ মসজিদে সাড়ে চার হাজার টাকা মাসিক ভাতায় একজন শিক্ষকসহ মক্তব স্থাপন, কওমি মাদরাসার সর্বোচ্চ পর্যায়ের শিক্ষাকে স্বীকৃতি, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সব মসজিদের জন্য পাঁচ হাজার টাকা করে বরাদ্দসহ বিভিন্ন মাইলফলক উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক ভাবনারই ফসল।

মন্ত্রী এ সময় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও সাংবাদিক কামাল লোহানী এবং তথ্য অধিদফতরের সাবেক উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও সাহিত্যিক জাফর আলমের সদ্যপ্রয়াণে গভীর শোক ও তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।

রাঙ্গুনিয়া প্রান্তে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফখরুল ইসলাম। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ফিল্ড সুপারভাইজার মো. মোকাম্মেলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক জসিম উদ্দিন তালুকদার।

অনুষ্ঠানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে রাঙ্গুনিয়ার ৫০৪ মসজিদের প্রত্যেকটির ইমাম-ওলামাদের মাঝে করোনা পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার নগদ পাঁচ হাজার টাকা করে বিতরণ করা হয়।

স্বাস্থ্যের ডিজি আতঙ্ক ছড়ানোর তত্ত্ব কোথায় পেলেন: রিজভী

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সহসাই নির্মূল হচ্ছে না, করোনা পরিস্থিতি তিন বছর বা তার চেয়েও বেশি স্থায়ী হবে’ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে সিএমএইচে দুই-তিন সপ্তাহ করোনা চিকিৎসা শেষে ডা. আজাদ দেশে আতঙ্ক ছড়ানোর এই তত্ত্ব কোথায় পেলেন?

তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে জনগণের মধ্যে ভীতি ছড়ানোর অধিকার আবুল কালাম আজাদের নেই। বরং চিকিৎসক হিসেবে মানুষকে অভয়বাণী শোনানোই তার দায়িত্ব ছিল।

শনিবার (২০ জুন) সকালে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয় থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ভবিষ্যদ্বাণী দিতে গেলেও এর সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকতে হয়। কিন্তু স্বাস্থ্যের ডিজি তা করেননি। এমন কথাবার্তা কী এই সময়ে ডিজি সাহেবকে মানায়? করোনা চিকিৎসায় সুচিকিৎসা, মানুষকে সচেতন করা ও প্রকৃত সত্য তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ কাজটি স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের। কিন্তু মহামারির সময় দুনিয়া জুড়ে সবাই যেখানে আজকের পরিস্থিতি আজকেই সামাল দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত সেখানে ডিজি আছেন দুই তিন বছরের চিন্তায়!

তিনি বলেন, দেশের জনগণ ক্ষমতাসীনদের কাছ থেকে আর কোনো চটুল বক্তব্য শুনতে রাজি নয়। পরিস্থিতি সামাল না দিতে পেরে অবান্তর কথা, অন্যের ওপর দোষারোপ করে নিজেদের অজ্ঞতা-অযোগ্যতাকে আড়াল করার চেষ্টা করছে ক্ষমতাসীনরা। জনগণ ক্ষমতাসীনদের অজ্ঞতা-অযোগ্যতার বলি হতে পারে না।

রিজভী বলেন, এই সরকারের আমলে দুর্নীতি সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এই মহামারির সময়েও অবিশ্বাস্য গতিতে চলছে দুর্নীতির এক্সপ্রেস ট্রেন। এই দ্রুত গতির ট্রেন থামানোর বদলে নানাভাবে প্রশ্রয় দিয়ে আসা হচ্ছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। দুর্নীতিবাজদের শাস্তির বদলে রক্ষার চেষ্টায় অনিয়ম বাড়ছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অনেক মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে কেনাকাটায় পুকুর চুরির খবর থেকে বোঝা যায় আমাদের স্বাস্থ্য খাত বালির বাঁধের মতো হয়ে আছে। বৃহৎ দেখালেও মূলত এর ভেতরটা সারশূন্য। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি কাদের জন্য এ জিজ্ঞাসা এখন সবার। দুদক মূলত বর্তমান একচক্ষু সরকারের প্রতিহিংসা পূরণের যন্ত্র।

দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা অনুমোদন

দেশে মানসম্মত কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও চাকরি হারানোর ঝুঁকি মোকাবিলায় ১ দশমিক ০৫ বিলিয়ন বা ১০৫ কোটি ডলার (প্রতি ডলার ৮৬ টাকা দরে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা) অর্থ ছাড় করেছে বিশ্বব্যাংক। তিনটি পৃথক প্রকল্পের আওতায় এই অর্থ ছাড় করা হয়েছে। প্রকল্প তিনটির মাধ্যমে সরাসরি সাড়ে তিন লাখ কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। অবদান রাখবে পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও।

শনিবার (২০ জুন) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিস থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

মহামারি থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে তিনটি প্রকল্পে এই অনুমোদন।

চলমান সংকটে প্রকল্পগুলোকে অসাধারণ উদ্যোগ উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি টেম্বন বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিটি দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে গভীরভাবে বিপদে ফেলেছে। প্রকল্পগুলো ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও বেশি উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিশেষায়িত অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রত্যক্ষ বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে চাঙা করবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক করোনায় আক্রান্ত

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডা. ইকবাল কবীর।গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছোট ভাই সাংবাদিক নজরুল কবীর। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার পরীক্ষায় ইকবাল কবীরের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।তিনি তার বাসায় চিকিৎসাধীন আছেন। শারীরিকভাবে তার তেমন কোনো সমস্যা নেই। তিনি অনেকটাই সুস্থ ও ভালো আছেন।এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আবুল কালাম আজাদও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন।তিনি সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়েছেন ।