All posts by lutfor

বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে অর্থবিল ২০২০ পাস

বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই জাতীয় সংসদে অর্থবিল-২০২০ পাস হয়েছে। সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে পাস করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অর্থবিল ২০২০ জাতীয় সংসদে পাসের জন্য ভোটে দিলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

এর আগে, সকালে সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হলে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা বাজেটের ওপর আলোচনা করেন। পরবর্তীসময়ে সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নেন।

এছাড়া সংসদ সদস্য মো. মুজিবুল হক অর্থ বিলের দফা-১৭, ১৮, ৩৯, ৪৩ এবং তফসিল ২ এ যে সব সংশোধনী প্রস্তাব। সংসদ সদস্য আবুল হাসান মাহমুদ আলীর অর্থ বিলের দফা-১৮ এবং ৫১। সংসদ সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ অর্থ বিলের দফা-৫৪, ৬২, ৭০, ৭১ এবং সংসদ সদস্য মো. মসিউর রহমান রাঙ্গা অর্থ বিলের দফা-১৫, ৭৩, ৭৬, ৮০, ৮১ তে যে সব সংশোধনী এনেছেন সেগুলো গ্রহণ করেছি। পরবর্তীসময়ে এগুলো ভোটে দিলে তাও কণ্ঠভোটে পাস হয়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্যরা অনেক স্ট্যাডি করে অর্থ বিল-২০২০ এর উপর বিভিন্ন সংশোধনী এনেছেন। আমি তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। যে সংশোধনীগুলো গ্রহণ করা হয়েছে সেগুলো হলো- সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান অর্থ বিলের দফা-৮, ১৬ এবং ৫৪ এর সংশোধনী প্রস্তাব। সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ অর্থবিলের দফা- ৮, ১৬, ১৮, ৫৪ এর সব সংশোধনী প্রস্তাব।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ এর কারণে সারা বিশ্ব একটি ক্রান্তিকাল পার করছে যেখান থেকে আমরাও পরিত্রাণ পাইনি। পৃথিবীর অর্থনৈতিক এলাকায় সময়টি একটি অস্বাভাবিক সময়। স্বাভাবিক সময় হলে আমরা সদস্যদের প্রস্তাবনার অনেক কিছু বিবেচনা করতে পারতাম। কিন্তু এবারের পরিস্থিতির সার্বিক বিবেচেনায় সদস্যদের আনা বাকি সংশোধনী প্রস্তাবগুলি গ্রহণ করতে পারলাম না বলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত।

অর্থ বিলের বিভিন্ন অংশে কিছু সংশোধনী প্রস্তাব এনে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের সরকারি ও বিরোধীদলীয় সদস্যরা। সংসদ সদস্য পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশিদ, মুজিবুল হক, আবুল হাছান মাহমুদ আলী, আলী আশরাফ, মশিউর রহমান রাঙার অর্থ বিলের ওপর আনা কয়েকটি সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণ করেন অর্থমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট পাস হবে। এবং ১ জুলাই বুধবার থেকে নতুন বাজেট কার্যকর হবে।

সংকটে অসহায় মানুষের পাশে থাকাই আ. লীগের ঐতিহ্য : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, অসহায় মানুষের পাশে থাকাই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। সংকটে অসহায় মানুষের পাশে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই আওয়ামী লীগের ঐতিহ্য। দুর্যোগে সবার আগে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ায় আওয়ামী লীগ। জন্মলগ্ন থেকে আজ অবধি বিগত সত্তর বছর মানুষের পাশে থেকে আস্থা অর্জন করেছে মাটি ও মানুষের দল আওয়ামী লীগ।

সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে টিএসসিতে ডাকসুর সদস্য তানভীর হাসান সৈকত কর্তৃক আয়োজিত বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও করোনার এই দুর্যোগে গত ১০০ দিন ধরে অসহায় ভাসমান মানুষের প্রতিদিন ২ বেলা খাবার বিতরণ কর্মসূচিতে তার বাসা থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন সরকারের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ করোনা সংকটে সারা দেশের অসহায় কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দলের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এ পর্যন্ত ১ কোটি ২৫ লাখেরও বেশি পরিবারকে খাদ্য সহায়তার পাশাপাশি ১০ কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ প্রদান করেছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন করোনা প্রতিরোধে চশমা, মাস্ক, পিপিই, সাবান, সেনিটাইজার, স্প্রে মেশিনসহ বিভিন্ন সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় জীবনে যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে তরুণরা এগিয়ে এসেছে, তাদের সম্মিলিত তারুণ্য অসহায় মানুষের সাহস জোগাবে। করোনাকালে দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবনের মায়াকে তুচ্ছজ্ঞান করে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে, এজন্য অধিক সংখ্যক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। দলীয় নেতাকর্মী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের ৬ জন নেতা, মন্ত্রী পরিষদের সদস্য, দলীয় সংসদ সদস্যসহ দেশের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছে।

এই সংকটে সাহসী ও পরীক্ষিত নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিনরাত পরিশ্রম করছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন সংকটকালে মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে, মতামত নিয়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, করছেন সমন্বয়, তার নেতৃত্বে সবার সহযোগিতায় এ সংকট কাটিয়ে উঠবো ইনশাআল্লাহ।

কোনো পাটকল বন্ধ করেনি সরকার : তথ্যমন্ত্রী

সরকার কোনো পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং পাটকলগুলোকে আরও ভালোভাবে চালু করার লক্ষ্যে সংস্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (২৯ জুন) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।পাটকল বন্ধ করা হয়েছে- বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার কোনো পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়নি, বরং পাটকলগুলোকে আরও ভালোভাবে চালু করার লক্ষ্যে সংস্কারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন আদমজী জুটমিলসহ অনেকগুলো পাটকল বন্ধ করে দিয়েছিল। ফলে আদমজী জুটমিলের ৬০ হাজার এবং অন্যান্য পাটকলের লক্ষাধিক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর এবং পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সরকার গঠন করার পর দু’বারেই অনেকগুলো করে পাটকল চালু করা হয়েছিল এবং শ্রমিকদেরকে পাটকলের মালিকানায় অংশীদার করা হয়েছিল, মনে করিয়ে দেন তথ্যমন্ত্রী।

হাছান মাহমুদ বলেন, যেকোনো বিষয় ভালো করে পড়ে মন্তব্য করাই হচ্ছে দায়িত্বশীল বিরোধী দলীয় নেতার কাজ, যেটি তারা করতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

উল্লেখ্য, ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলোর প্রায় পঁচিশ হাজার স্থায়ী শ্রমিককে স্বেচ্ছা অবসরে (গোল্ডেন হ্যান্ডশেক) পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর বিরোধিতায় সারা দেশের ২৬টি পাটকলের শ্রমিকদের আন্দোলনের ঘোষণার মধ্যেই বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী রোববার (২৮ জুন) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানান।

তিনি বলেন, পাটকলগুলোতে লোকসান হচ্ছে, এজন্য সরকার চিন্তা করেছে শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দিয়ে এই খাতকে এগিয়ে নিতে।গোলাম দস্তগীর গাজী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে শ্রমিকদের চাকরির অবসান করতে। পাটকল শ্রমিকদের গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেয়ার পর পিপিপির (সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব) আওতায় পাটকলগুলোর আধুনিকায়ন করে উৎপাদনমুখী করা হবে। তখন এসব শ্রমিক সেখানে চাকরি করার সুযোগ পাবেন।’

সাপ্তাহিক আজকের সূর্যোদয় পত্রিকার সম্পাদক খোন্দকার মোজাম্মেল হকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী।

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান তার শোকবার্তায় মোজাম্মেল হকের কর্মময় জীবনের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি প্রয়াতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন ও শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গেদুচাচা’ খ্যাত কলামিস্ট, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য সাংবাদিক খোন্দকার মোজাম্মেল হক সোমবার বিকাল ৪টার দিকে রাজধানীর এএমজেড হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেলেন জাবেদ পাটোয়ারী

সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারীকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তিনি বর্তমান রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহের স্থলাভিষিক্ত হবেন।

মোহাম্মদ জাভেদ পাটোয়ারী ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসে (বিসিএস) পুলিশ ক্যাডারের সদস্য হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। যেখানে তিনি মেধাতালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

চাকরি জীবনে তিনি পুলিশ সার্ভিসে সর্বোচ্চ পদে অধিষ্ঠিত হন। চলতি বছরের এপ্রিলে চাকরি থেকে অবসর গ্রহণের আগে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি পুলিশ মহাপরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে তিনি প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের লিসেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপরাধ বিচার ও পুলিশ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেন।

জাবেদ পাটোয়ারী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগ থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল, ‘বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘অপরাধ বিচার শিক্ষা’ বিষয়ে সার্টিফিকেট অব অ্যাচিভমেন্ট অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের ব্রামশিলের পুলিশ স্টাফ কলেজ থেকে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার এফবিআই ন্যাশনাল একাডেমি থেকে উচ্চতর পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হাবার্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইউএস সাউথ এশিয়া লিডার এনগেজমেন্ট প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছেন।

তিনি ক্রোয়েশিয়া, সিয়েরা লিওন, কসোভো এবং সুদানের জাতিসংঘ মিশনে শান্তিরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নিবেদিত সেবার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি যে সব মিশন পরিবেশন করেছেন সে বিষয়ে তাকে জাতিসংঘ পদক প্রদান করা হয়ে।

বিটিআরসির বিধিনিষেধ ঠেকাতে হাইকোর্টে জিপির আবেদন

অনুমোদন ছাড়া কোনো নতুন সেবা, অফার বা প্যাকেজ দিতে পারবে না। এখনকার অফার অথবা প্যাকেজও আবার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। গ্রামীণফোনের (জিপি) ওপর বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আরোপ করা এমন বিধিনিষেধ স্থগিতের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আরোপ করা বিধিনিষেধ ঠেকাতে দেশের উচ্চ আদালত হাইকোর্টে আবেদন করেছেন আইনজীবী ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান। রিট দায়েরের বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।

রিটে বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) আইনজীবী ব্যারিস্টার খন্দকার রেজা-ই রাকিব বলেন, আমরা জেনেছি হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহীমের বেঞ্চে একটি আবেদন করা হয়েছে। তবে হাতে কোনো কপি পাইনি।

এর আগে বিটিআরসি গত ২১ জুন গ্রামীণফোনের ওপর দুটি বিধিনিষেধ জারি করেছিল। তা ঠেকাতে গতকাল রোববার (২৮জুন) হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ।

তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী বা এসএমপি (সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার) অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনকে দুটি বিধিনিষেধ দিয়েছিল বিটিআরসি। নতুন বিধিনিষেধ অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই থেকে গ্রামীণফোন আগাম অনুমোদন ছাড়া কোনো ধরনের নতুন সেবা, অফার বা প্যাকেজ দিতে পারবে না। এখনকার অফার অথবা প্যাকেজও আবার অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

এ ছাড়া নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে লকিং পিরিয়ড হবে ৬০ দিন। অন্যদের ক্ষেত্রে যা ৯০ দিন। এর মানে হলো, গ্রামীণফোন সহজে ছাড়া যাবে।

বিটিআরসি গ্রামীণফোনের ওপর এসব বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতা প্রবিধানমালার (২০১৮) অধীনে। এর আওতায় সংস্থাটি গত বছর ১০ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনকে তাৎপর্যপূর্ণ বাজার ক্ষমতাধারী (এসএমপি) অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করে।

কোনো মুঠোফোন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকসংখ্যা, রাজস্ব অথবা তরঙ্গ—এ তিন ক্ষেত্রের একটিতে ৪০ শতাংশের বেশি বাজার হিস্যাধারী হলে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণা করা যায়। গ্রামীণফোন গ্রাহকসংখ্যা ও অর্জিত বার্ষিক রাজস্বের দিক দিয়ে ৪০ শতাংশ বাজার হিস্যাধারী।

বিটিআরসি গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটর হিসেবে ঘোষণার পর গত বছর ১৮ ফেব্রুয়ারি চারটি বিধিনিষেধ জারি করে। বিধিনিষেধগুলো ছিল মাসিক কলড্রপের সীমা ২ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা, দেশজুড়ে কোনো প্রচার বা মার্কেট কমিউনিকেশন না করা, এমএনপির (নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদল) ‘লক ইন পিরিয়ড’ ৩০ দিনে কমিয়ে আনা ও অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একক বা স্বতন্ত্র চুক্তি না করা। পরে আবার এসব বিধিনিষেধ তুলেও নেওয়া হয়। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল। আরও একবার বিষয়টি আদালতে গড়াল।

বাজারের বড় অপারেটরের প্রতিযোগিতা বিরুদ্ধ আচরণ ঠেকিয়ে বাকি অপারেটরগুলোকে সুরক্ষা দিতে বিভিন্ন দেশে কোনো অপারেটরকে এসএমপি হিসেবে ঘোষণার নজির রয়েছে।তবে গ্রামীণফোন বলছে, তাদের কোনো আচরণ প্রতিযোগিতা পরিবেশ বিনষ্ট করছে না। গ্রামীণফোনের পরিচালক ও হেড অব পাবলিক অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স হোসেন সাদাত এক লিখিত বিবৃতিতে ২১ জুন বলেন, বাংলাদেশের মোবাইল খাত যথেষ্ট প্রতিযোগিতামূলক। এখানে গ্রামীণফোন সময়োচিত বিনিয়োগ, নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও ব্যবসায়িক পরিচালন দক্ষতার মাধ্যমে প্রসার লাভ করেছে। তিনি বলেন, সর্বশেষ বিধিনিষেধ এসএমপির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে অসংগিতপূর্ণ। কেননা বাজার বিনষ্ট হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে এটি আরোপ করা হয়নি।

হোসেন সাদাত আরও বলেন, আরোপিত এই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিধিগুলোই মূলত প্রতিযোগিতাবিরোধী, যা গ্রাহকস্বার্থের পরিপন্থী। এটা জাতীয় রাজস্ব, বিনিয়োগের পরিবেশের ওপর ব্যাপকভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামীণফোন চিঠিটি পর্যালোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবে।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  :   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ইরান। একই সঙ্গে মার্কিন এই প্রেসিডেন্টকে গ্রেফতারে সহায়তা করতে ইন্টারপোলের সহায়তা চেয়েছে দেশটি। সোমবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কয়েক মাস আগে দেশটির সামরিক বাহিনীর অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাশেম সোলেইমানিকে বাগদাদ বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যার দায়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ বলছে, ট্রাম্প ছাড়াও আরও দুই ডজনেরও বেশি মার্কিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে খুন এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ এনেছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান।

তেহরানের প্রসিকিউটর আলী আলকাসিমেহর বলেছেন, গত ৩ জানুয়ারি ড্রোন হামলা চালিয়ে জেনারেল কাশেম সোলেইমানিকে হত্যার সঙ্গে ট্রাম্প ছাড়াও আরও ৩০ জনের বেশি মার্কিন কর্মকর্তা জড়িত। তাদের বিরদ্ধে খুন এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ট্রাম্প ছাড়া অন্য অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে কিনা সে ব্যাপারে জানাতে পারেননি আলকাসিমেহর। তবে ইরানি এই প্রসিকিউটর জোর দিয়ে বলেছেন যে, ট্রাম্পের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা এই মামলা চালিয়ে যাবেন।

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে ফ্রান্সের লিঁওভিত্তিক পুলিশের আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারপোলের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আলকাসিমেহর বলেন, ট্রাম্প এবং অন্যদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করতে ইন্টারপোলের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে ইরান।

লকডাউন বাতিলের দাবিতে ঢাবি অধ্যাপকের রিট

 সরকার ঘোষিত রেড জোনগুলোতে ঢালাওভাবে লকডাউন বাতিল করে স্বাভাবিক চলাচলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশব্যাপী স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে।

রোববার (২৮ জুন) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিমের পক্ষে হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল বেঞ্চে আবেদনটি করা হয়। সোমবার (২৯ জুন) রিটকারীর আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ রিট দায়ের করার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রিটে ক্যাবিনেট সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক (ডিজি) ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) বিবাদী করা হয়েছে।

রিট পিটিশনে বলা হয়, সরকার সম্প্রতি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে ঢালাওভাবে লকডাউন জারি করেছে। বাংলাদেশে প্রচলিত ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮’-এর অধীনে কেবল সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চলাচল, বসতবাড়ি কিংবা ব্যবহৃত দ্রব্যাদিতে সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। অসুস্থ মানুষদের কারণে পুরো এলাকা কিংবা পুরো শহর লকডাউন করার কোনো আইনগত এখতিয়ার সরকারের নেই।

তাছাড়া কোভিড-১৯ রোগকে এখনো বাংলাদেশ সরকার উক্ত আইনের অধীনে ‘সংক্রামক ব্যাধি’ হিসেবে ঘোষণাও করেনি। এমতাবস্থায় করোনাভাইরাসের নামে সুস্থ-সবল নাগরিকদের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত পেশার স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আইনগত কর্তৃত্ব সরকারের নেই।

রিট আবেদনে আরও বলা হয়, লকডাউন করোনার মৃত্যুহার থামাতে পারে- এমন ধারণার কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ সারা বিশ্বে যেসব দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি হারে মৃত্যু হয়েছে (মিলিয়ন জনসংখ্যায় মৃত্যুহার হিসাবে) তার প্রথম ১০টিতেই লকডাউন হয়েছিল। অন্যদিকে লকডাউন না হয়েও সুইডেন মৃত্যুহারের দিক থেকে ১১তম অবস্থানে আছে। আবার অনেক দেশে লকডাউন তুলে নেয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ ব্যাপারে গত ২২ মে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দি সান’ পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মাইকেল লেভিট আরও প্রায় দুই মাস আগেই বলেন, করোনাভাইরাস মহামারি রোধে বিশ্বব্যাপী জারিকৃত লকডাউন ‘বিশাল ভুল’ ছিল। এতে সমাজের বড় ক্ষতির পাশাপাশি কোনো ধরনের হার্ড ইমিউনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

হার্ড ইমিউনিটি হলো এ ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষার একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত উপায়। দেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে সুস্থ-সবল নাগরিকদের চলাচলের ওপর বেআইনিভাবে আরোপকৃত সব বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে। তাই ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন, ২০১৮ অনুসরণে কেবল অসুস্থ ও দুর্বল লোকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাকি নাগরিকদের ওপর থেকে লকডাউনের নামে আরোপকৃত যাবতীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য রিটে আবেদন জানানো হয়েছে।

ঢামেকে ২০ কোটি টাকার খাবারের বিল ‘অস্বাভাবিক’, পরীক্ষা হচ্ছে

 ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের খাবারের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা ঠিকই বলেছেন, ২০ কোটি টাকা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এটা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনো অনিয়ম হয় আমরা ব্যবস্থা নেব।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এর আগে, আলোচনায় সংসদ উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের হাসপাতালের খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

করোনাভাইরাস মোকাবিলায় আরও চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমরা আরও চার হাজার নার্স নিয়োগ দিচ্ছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। শিগগিরই এই নার্স নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা চার হাজার নার্স নিয়োগ দেব। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে দিয়েছি। তাদের শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সাথে স্বাস্থ্য খাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ চিকিসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, থাকা-খাওয়ায় একমাত্র মেডিকেল কলেজের (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) হিসাব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেটা বলেছেন, এটা স্বাভাবিকভাবে অস্বাভাবিক মনে হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হলো? এখানে কোন অনিয়ম হলে আমরা তার ব্যবস্থা নেব।

সংসদনেতা বলেন, যন্ত্রপাতি, টেস্ট কিট, সরঞ্জামাদি কেনাসহ চিকিৎসা সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা দ্রুততম সময়ে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। আরও একটি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে করোনা মোকাবিলায় আমাদের সামর্থ্য আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।সর্বশেষ গত ২৭ জুনের বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, এই সময়ে বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ২ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন পাঁচ লাখ এক হাজার ৬৪৪ জন। অর্থাৎ মৃত্যুর হার ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। সেই তুলনায় আমাদের আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। এক হাজার ৭৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ৫৫ হাজার ৭২৭ জন সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন।

করোনা মোকাবিলায় আরও চার হাজার নার্স নিয়োগ হচ্ছে

করোনা মহামারি মোকাবিলায় আরও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীর পদ সৃষ্টি এবং নিয়োগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, আমরা আরও চার হাজার নার্স নিয়োগ দিচ্ছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে এ বিষয়ে নির্দেশ দিয়েছি। শিগগিরই এই নার্স নিয়োগ দেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের জন্য অল্প সময়ের মধ্যে দুই হাজার ডাক্তার ও ছয় হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা চার হাজার নার্স নিয়োগ দেব। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতোমধ্যে দিয়েছি। তাদের শিগগিরই নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সাথে স্বাস্থ্য খাতে তিন হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ চিকিসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে, থাকা-খাওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের সেবাদানকারী চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এক মাসের বিল ২০ কোটি টাকা কী করে হয়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় উপনেতা ঠিকই বলেছেন, ২০ কোটি টাকা অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে। এটা আমরা পরীক্ষা করে দেখছি। এত অস্বাভাবিক কেন হবে? যদি কোনো অনিয়ম হয় আমরা ব্যবস্থা নেব।

সংসদ নেতা বলেন, যন্ত্রপাতি, টেস্ট কিট, সরঞ্জামাদি কেনাসহ চিকিৎসা সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা দ্রুততম সময়ে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। আরও একটি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে করোনা মোকাবিলায় আমাদের সামর্থ্য আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন। এর আগে, আলোচনায় সংসদ উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের হাসপাতালের খাবারের বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার কম সর্বশেষ গত ২৭ জুনের বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, এই সময়ে বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা এক কোটি ২ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন পাঁচ লাখ এক হাজার ৬৪৪ জন। অর্থাৎ মৃত্যুর হার ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। সেই তুলনায় আমাদের আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। এক হাজার ৭৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। ৫৫ হাজার ৭২৭ জন সুস্থ হয়ে ফিরে এসেছেন।

‘কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়’ মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুর হার এক দশমিক ২৬ শতাংশ। ভারতে তিন দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ, পাকিস্তানে ২ দশমিক শূন্য ৩, যুক্তরাজ্যে ১৪ দশমিক শূন্য ৩ এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৫ শতাংশ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করায় বাংলাদেশে আমরা করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যুর হার কম রাখতে সক্ষম হয়েছি। যদিও আমরা চাই না কেউ মৃত্যুবরণ করুক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে এই বাজেটে আমরা কর্মস্থানের ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ণ করা হয়েছে। জুলাই থেকে তা বাস্তবায়ন শুরু হবে। লক্ষ্য হবে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গতিশীল করা।

‘বিগত ১২ বছরে এক দশমিক ৪ শতাংশ হারে দারিদ্র্য বিমোচন হয়েছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর ফলে দারিদ্র্যের হার ৪০ শতাংশ থেকে ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছিল। আশা ছিল এবার আরও কমিয়ে ফেলব। কিন্তু দুর্ভাগ্য, কোভিড-১৯ মহামারির প্রভাবে চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) দারিদ্র্য বিমোচনের ধারায় কিছুটা ছন্দপতন হতে পারে। এই মহামারির কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম থমকে যাওয়ায় আমাদের দারিদ্র্যের সীমা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা কেউ কেউ করছেন। কিন্তু অত্যন্ত দ্রুততার সাথে আমরা সুবিশাল যে আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা দিয়েছি তার মাধ্যমে এই আশঙ্কা অনেকটাই রোধ করতে সক্ষম হব বলে বিশ্বাস করি। আগামী অর্থবছরে স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যখন শুরু হবে তখন আমরা দারিদ্র্য বিমোচন পূর্বের হারে নামিয়ে আনতে সক্ষম হব। বাংলাদেশকে দারিদ্র্য-মুক্ত করতে পারব।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মোকাবিলায় অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমরা গতানুগতিক বাজেট হতে সরে এসে সরকারের অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছি। স্বাস্থ্য খাতকে এবার সর্বাপেক্ষা গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে এ খাতে অতিরিক্ত বরাদ্দ, প্রণোদনা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোভিড-১৯ মোকাবিলায় চিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করে জনজীবনকে সুরক্ষার লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল প্রিপার্ডনেস অ্যান্ড রেসপন্স প্ল্যান’ প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

কোডিড-১৯ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের আওতায় পাঁচ হাজার পাঁচ কোটি টাকার বিশেষ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হচ্ছে। এছাড়া্ ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বাজেটে বরাদ্দের দিক থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের অবস্থান পঞ্চম। এটি গত অর্থবছরে অষ্টম স্থানে ছিল।

শ্রমিক-মজুর-কামার-কুমার সবার জন্য এ বাজেট : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, কোভিডের কারণে যারা কাজ হারিয়েছেন, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীসহ কৃষক, শ্রমিক, মজুর, কামার, কুমার, জেলে, তাঁতি, বেদে, স্বাস্থ্যকর্মী, ভ্যান চালক, রিকশাওয়ালাসহ সব পেশার মানুষ, পান দোকান, চা দোকান, মুদি দোকান থেকে শুরু করে ক্ষুদ্র, কুটির ও ছোট-বড় সকল ব্যবসায়ী, সকল শ্রেণি ও নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ, যারা কষ্টে আছেন তাদের সবার জন্য এ বাজেট।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে ও সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, কাউকে বাদ দিতে পারলে বাজেটের আকার অবশ্যই ছোট রাখা যেত, ছোট রাখা যেত বাজেট ঘাটতিও। তবে আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। করোনা ভাইরাসের কারণে উদ্ভুত বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে রক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেট। বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এ ক্রান্তিলগ্নে প্রাধিকার পেয়েছে দেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী এরই মাঝে তাদের জন্য লক্ষাধিক কোটি টাকার ১৯টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এবারের বাজেটে সঙ্গত কারণেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য খাতকে। স্বাস্থ্যখাতে আগামী অর্থবছরে ২৯ হাজার ২৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মোকাবেলায় অতিরিক্ত ১০ হাজার কোটি টাকার একটি থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেট প্রণয়নের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী আমাদের শিকড়ের সন্ধানে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের শিকড় হলো আমাদের কৃষি, আমাদের গ্রামীণ অর্থনীতি। এজন্য কৃষি খাতকেও বাজেটে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যেখান থেকে এখনও আমাদের শতকরা ৪০ ভাগের মতো কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস এই কৃষি খাতই হতে পারে আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক মৌলিক এলাকা। নিজেদের চাহিদা  মিটিয়ে আমরা এ অঞ্চলের অনেকের খাদ্যের যোগান দিতেও সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।

কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাজেটটি বাস্তবায়নযোগ্য নয়। কিন্তু আমরা বাজেট বাস্তবায়নের ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে আমরা বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম আমাদের প্রকৃত অর্জন প্রতি বছরই তার চাইতে বেশি ছিল। গত ১০ বছরে জিডিপিতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৮৮ শতাংশ যা বিশ্বে সকলের উপরে। আমাদের কাছাকাছি ছিল চায়না ১৭৭ শতাংশ নিয়ে এবং ভারত ১১৭ শতাংশ। গত ১১ বছরে আমাদের জিডিপি’র আকার বেড়েছে ৩ গুণ।

মুস্তফা কামাল বলেন, দ্যা ইকোনমিস্টের গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশ রয়েছে ৯ম শক্তিশালী অবস্থানে। এছাড়া এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক আগামী অর্থবছরের জন্য বাংলাদেশের জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি প্রক্ষেপণ করেছে ৭.৫ শতাংশ যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ৮.২ শতাংশের একেবারে কাছাকাছি। এতে প্রতীয়মান হয় আমরা বাজেটটি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হবো ইনশাআল্লাহ।