=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.


শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রমজান এলেই বাড়ে পণ্যের দাম

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
জুন ৩, ২০১৭
news-image

রমজান মাস এলেই বাড়ে নিত্যপণ্যের দাম। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। রমজানের শুরুতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘোরেন এই প্রতিবেদক। এর এক সপ্তাহ পরে আবার সেই বাজারগুলোতে পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে ও পরে দামের পার্থক্য বেশ।

রমজানের ইফতারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ছোলা। এই ছোলার দাম রোজার শুরুতে ছিল ৮০ টাকা। এক সপ্তাহ পরে এই পণ্যের দাম হয় ৮৫ টাকা। একইভাবে চিনির দাম রোজার শুরুতে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা হলেও এখন তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।
এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের শাহ জালাল জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মো. হৃদয় বলেন, ‘ছোলা আর চিনির দাম আমরা বাড়াইনি। এটি পাইকারি বাজারে বেড়েছে বলে আমাদের বেশি দামে বেঁচতে হচ্ছে।’
আর পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথা, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে বলে তাঁদেরও বাড়াতে হয়েছে। কারওয়ান বাজারে জনতা স্টোরের পাইকারি বিক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘প্রতি বস্তা ছোলা ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমার লাভ সামান্য। বস্তাপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা লাভ করছি। এ ছাড়া চিনিতেও লাভ কম।’ তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে। তাই তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর এ জন্যই তিনি বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এদিকে রমজান উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কম দামে নানা পণ্য বিক্রি করছে। সেখানে ৭০ টাকা কেজি দরে ছোলা আর ৫৫ টাকা দরে দেশি চিনি বিক্রি হচ্ছ।
নিত্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা রসুনের দাম। রোজার শুরুতে এই রসুন প্রতি কেজি ২৮০ টাকা ছিল। এখন সেই রসুন প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুনের দাম অপরিবর্তিত। বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের রসুন বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে গেলে দোকানের মালিকেরা বলেন রসুনের আমদানি নাই, মাল কম আহে তাই দাম বেশি।’ তিনি বলেন, চার দিন আগে তিনি ১০ কেজি রসুন এনেছেন, বিক্রি করেছেন মাত্র ২ কেজি। বেশি দামের কারণে মানুষ রসুন কম কিনছেন বলে তাঁর মত।
ইফতারে বেগুনির চাহিদা বেশি থাকায় রোজায় যেসব পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তার মধ্যে অন্যতম বেগুন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা হয়েছে।
রোজার আগে কাঁচা মরিচ ছিল ৩০ টাকা কেজি, আর এখন তা ৪০ টাকা। শসা ছিল ২০ টাকা, এখন তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। ধনেপাতা ছিল ১২০, এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, লেবু এক হালির দাম ছিল ২০ টাকা। এখন তা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পণ্যের দাম বাড়ছে কেন জানতে চাইলে হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আবুল হাসেম বলেন, ‘রোজায় এগুলোর চাহিদা বেশি থাকে। আর মাল কম আসে বইলাই দাম বেশি। এতে আমাগো করার কিছুই নাই।’ তাঁর দাবি, দাম বেশি বলে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কম। এতে তাঁরাও বেশি লাভ করতে পারছেন না।
ইফতারের অন্যতম আরেক পণ্য হচ্ছে খেজুর। এই খেজুর রোজার আগে বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ১১০ টাকায়। সেই খেজুর এখন ১২০ টাকা।
আজ সকালে কাঁঠালবাগান বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের বাসিন্দা গৃহিণী আফসানা খান। তিনি বলেন, ‘রমজান শুরু হলেই আমাদের দেশে পণ্যের দাম বাড়ে, এটি নতুন নয়। তবে শুনেছি অন্য দেশে বিভিন্ন উৎসবে দাম কমে। এই দাম বৃদ্ধির সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদারকি নিয়মিত করতে হবে।’

সূত্র : প্রথম আলো