=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.


শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমরা যা করার তা করবো : ট্রাম্পের হুঙ্কার

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
অক্টোবর ২, ২০১৭
news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করার অর্থ হলো সময় নষ্ট করা। আর সে কারণে টিলারসনকে কর্মশক্তি অপচয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নিজের কর্মশক্তি সঞ্চয় করো রেক্স, আমরা যা করার তা করবো।”
শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানান, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করুক। উত্তর কোরিয়া গত বেশ কিছু দিন ধরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসেই দেশটি ক্ষুদ্রতম হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই বোমা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর সংযুক্ত করা যাবে। তাদের এই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।
এই প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র -চীন সফরে এমনটাই জানিয়েছেন টিলারসন।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে, আলোচনার এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন নাও হতে পারে।
রোববার এক টুইট বার্তায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বলেছি, তিনি ক্ষুদ্র রকেট মানবের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে তার সময় নষ্ট করছেন”।
তবে “আমাদের যা করার করবো”-এই কথাটি তিনি কেন বলেছেন, কী অর্থে বলেছেন সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি ট্রাম্প।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মন্তব্যের বিপরীতের ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের মন্তব্যের মধ্যে বৈপরিত্য দেখা গেছে।
গত অগাস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘন্টা পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী দু’দেশের উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেন এই বলে যে- কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হতে চলেছে।
১০ তারিখে উত্তর কোরিয়ার হামলা শুরু!
আগামী ১০ অক্টোবর হামলা চালাতে পারে উত্তর কোরিয়া। এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ওই দিন থেকে জাপানে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। সে দেশের বিশেষ দিনটিকে টার্গেট করেই মিসাইল হামলা চালাতে পারেন উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম জং উন, আশঙ্কা ইসুনরি অনোদেরার। গত ৩ সেপ্টেম্বর পিয়ং ইয়ং তাদের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষাটি করার পর থেকে রাতের ঘুম উড়ে গেছে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের।
ওই দুই দেশই রাষ্ট্রসংঘের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসনের উপর রাশ টানার। এমনকী খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার কড়া ভাষায় পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করলেও লাভের লাভ হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার ক্যালেন্ডারে বিশেষ বিশেষ দিনগুলি বেছে নিয়ে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন কিম। ঠিক যেমন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সে দেশের প্রতিষ্ঠা দিবসে চালানো হয় বৃহত্তম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা। আর এখানেই ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছে জাপান। কারণ, সে দেশে যখন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে, উত্তর কোরিয়াতে সেই ১০ অক্টোবর কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবস। ট্র্যাডিশন বজায় রেখে সেদিনও পিয়ংইয়ং ভয়ানক কিছু করলে জাপানে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে হতে পারে।
ইসুনরি অনোদেরা বলছেন, ‘আমরা জানি ১০ অক্টোবর দিনটি উত্তর কোরিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ওই দিনের জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকছি। আমরা হাই অ্যালার্টে রয়েছি।’ জাপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মতো আশঙ্কায় ভুগছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চাং ইউ অং। বৃহস্পতিবার তিনি প্রেসিডেন্ট মুনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সেরেছেন। একইসঙ্গে, পিয়ং ইয়ংয়ের শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার জেরে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
কোরীয় উপদ্বীপে এই মুহূর্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া যাই দাবি করুক না কেন, তারা যে পরমাণু অস্ত্রের গবেষণায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, সেই বিষয়ে একমত আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এবার আমেরিকা পালটা হামলা চালালে, কিমের সমর্থনে এগিয়ে আসতে পারে রাশিয়া ও চীন। ফলে শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।