All posts by lutfor

প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নারী কাউন্সিলরের কাণ্ড!

সাপের বাক্সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা বহনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় বরিশালে মান্না পাহাড়ি নামে এক সাপুড়েকে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে নগরীর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় নগরীর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপাসহ ৬ যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানায় আহত সাপুড়ে মান্না পাহাড়ির স্ত্রী কাজল বেগম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় নগরীর সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর (১৬, ১৭ ও ১৮) ইসরাত আমান রূপাকে হুকুমের আসামি করা হয়েছে।

অন্য আসামিরা হলেন- নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়কে স্থানীয় যুবলীগ কর্মী তরিকুল ইসলাম রাজা, সরজিৎ চন্দ্র রায় ওরফে সবুজ, মো. ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম বাদশা। মান্না পাহাড়ি বর্তমানে শেলেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মান্নার স্ত্রী কাজল বেগম বলেন, কয়েক মাস আগে মান্নাকে সাপের বাক্সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা বহনের প্রস্তাব দেয় যুবলীগ কর্মী রাজা ও কাউন্সিলর রূপা। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে হুমকি দেয় রাজা ও রূপা। ওই সময় মান্না কোতোয়ালি মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত সোমবার রাতে রূপার নির্দেশে রাজা ও তার সহযোগীরা মান্নাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার ওপর হামলা চালায়।

এ সময় যুবলীগ কর্মী রাজার নেতৃত্বে বাদশা, ফিরোজ, মাসুদ, সবুজ, নাসিরসহ কয়েকজন ধারাল অস্ত্র নিয়ে মান্না পাহাড়ির শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্মমভাবে কুপিয়ে জখম করে। তাকে মৃত ভেবে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পরও স্থানীয় লোকজন ভয়ে উদ্ধার করতে যায়নি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মান্নাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের সেকেন্ড অফিসার এসআই সত্য রঞ্জন খাসকেল মামলার বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের চিহিৃত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

 

সূত্র: বিডি টুয়েন্টিফোর লাইভ

চিকুনগুনিয়া রোগীরা ঘরে বসেই পাবেন বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা

চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা নিজ বাসা-বাড়িতেই বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পাবেন।

এই চিকিৎসাসেবা পেতে আক্রান্তদের ০৯৬১১০০০৯৯৯ নম্বরে ফোন করে জানালেই থেকে সংশ্লিষ্ট এলাকার কর্তব্যরত চিকিৎসক সেবা দিতে রোগীর বাসায় পৌঁছে যাবেন।

আরবান প্রাইমারি হেলথ কেয়ার প্রকল্পাধীন ২৮টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, ৫টি নগর মাতৃসদন এবং কর্পোরেশনের নিজস্ব ২টি হাসপাতাল ও ১টি মাতৃসদন কেন্দ্র থেকে আজ থেকেই এ সেবা পাওয়া যাবে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন নির্দেশে এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায় আজ একথা জানান।

তিনি বলেন, মেয়র দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকুনগুনিয়া নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে নগরবাসীদের আশ্বস্থ করেছেন। এ লক্ষ্যে বাড়ি বাড়ি চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোর কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- প্রতিটি ওয়ার্ডে স্পেশাল লার্ভি সাইডিং ও ফগিং কার্যক্রম, জনসচেতনমূলক র‌্যালী, মসজিদে বয়ান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মতবিনিময়, লিফলেট বিতরণ, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে মাইকিং ও সমাবেশের আয়োজন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন, টিভি চ্যানেলে টিভিসি সম্প্রচার, বিনামূল্যে ওষুধ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান।

একাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন

একাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন উদ্বোধন করেন।

একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির তিনটি বই- সাহিত্য পাঠ, সহপাঠ ও ইংলিশ ফর টুডে শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন শিক্ষামন্ত্রী। এ বইগুলো এনসিটিবি মুদ্রণ ও প্রকাশ করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সাশ্রয়ী মূল্যে শিক্ষাথীরা এ বইগুলো কিনতে পারবে। সাহিত্য পাঠ বইটির দাম ১১৩ টাকা, সহপাঠ বইটির মূল্য ৫৫ টাকা এবং ইংলিশ ফর টুডে বইটির দাম ৮১ টাকা রাখা হয়েছে।

এ সময় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বছরের শুরুতে প্রথম থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেয়া সম্ভব হয়েছে। এবার ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই বিতরণ করা হয়েছে। সারা পৃথিবীতে এটা এক অতুলনীয় উদাহরণ। সবার মিলিত প্রচেষ্টায় এ অবিশ্বাস্য কাজ সম্ভব হয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, জনগণ এটাকে বড় সাফল্য মনে করে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে তিনি সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহ্বান জানান।

এনসিটিবি’র চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. আলমগীর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান, এনসিটিবি’র সদস্য ড. মিয়া ইনামুল হক সিদ্দিকী, বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতির সভাপতি তোফায়েল হোসেন খান এবং বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল পাল।

ঢাকার মুঘল দুর্গ-প্রাসাদ টাকশাল-সরাইখানা

ঢাকায় মুঘল আমলের কীর্তির অভাব নেই। ঢাকা শহরে পুরাকীর্তি হিসেবে যেসব স্থাপনাকে শনাক্ত করা যায়, তার মধ্যে মুঘল আমলের কীর্তি অনেক। ঢাকায় রাজধানী থাকার সময় (১৬০৮-১৭১৭) তো বটেই, তার পরেও কোম্পানি শাসন চালু হওয়া পর্যন্ত সময়কালের কীর্তিগুলো মুঘল আমলের কীর্তি মনে করা হয়।

ঢাকায় মুঘল আমলে রাজধানী ছিল ১০০ বছরের মতো; এরপরও ১৭১৭ থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত নবাবি আমলের ঢাকায় দালানকোঠা, রাস্তাঘাট এসব নির্মিত হয়েছিল। ১৭৬৫-তে কোম্পানি শাসন চালু হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর সরাসরি ব্রিটিশ শাসন প্রবর্তিত হয়। ১৯৪৭ পর্যন্ত সেই শাসন চলে। মুঘল, কোম্পানি ও ইংরেজ আমলে ঢাকার গুরুত্ব কখনো বেড়েছে কখনো কমেছে। পুরোটা সময়ের নির্মাণ নিদর্শন ছড়িয়ে আছে শহর ঢাকার অলিগলিতে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ টিকে থাকা নিদর্শনগুলো মুঘল আমলের।

 

‘বাহারিস্তান-ই-গায়বি’র বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাজমহল, গৌড় ও ঘোড়াঘাটসহ কয়েকটি মাত্র জায়গায় ঢাকার দুর্গের মতো দুর্গ ছিল। এ দুর্গ রাজধানী হওয়ার আগে থেকেই ঢাকায় ছিল। আনুমানিক ১৬০২-১৬০৩ সালের দিকে মানসিংহের সময়ে এটি নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এ দুর্গের ভেতরে প্রথম সুবাদার ইসলাম খান (১৬১০ থেকে ১৬১৩ সাল পর্যন্ত) অবস্থান করেছিলেন বলে জানা যায়। পুরোনো সেই দুর্গকে সংস্কার করে নেওয়া হয়েছিল মাত্র। নলিনীকান্ত ভট্টশালীর মতে, দুর্গটি সংস্কার করতে দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। দুর্গটির ভেতরে ঢোকা ও বের হওয়ার পথ দুটো ছিল পূর্ব ও পশ্চিম দিকে। অনেক সুবাদারের বাসভবন ও অফিস, টাকশাল, মসজিদ প্রভৃতি ছিল এ দুর্গের ভেতরে।
বখশিবাজার, দেওয়ান বাজার প্রভৃতি জায়গায় ছিল মন্ত্রী ও আমলাদের আবাসিক এলাকা। চকবাজারে ছিল বাদশাহী বাজার। পিলখানায় হাতিশাল, মাহুতটুলীতে মাহুতদের আবাসস্থান ছিল। উর্দু রোড, আতিশখানা, নবাবগঞ্জ, সুজাতপুর, মহল্লা চিশতিয়া প্রভৃতি ছিল মুঘল ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বর্তমান হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থিত ছিল বাদশাহি বাগান ‘বাগ-ই-বাদশাহি’। আজাদ আল হোসায়নির ‘নওবাহার-ই-মুর্শিদকুলি খানি’, ডক্টর আহমদ হাসান দানির ‘ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’, যতীন্দ্র মোহন রায়ের ‘ঢাকার ইতিহাস’ প্রভৃতি গ্রন্থে মুঘল যুগের ঢাকার এসব এলাকার একটি চিত্র পাওয়া যায়।

 

ঢাকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাকশাল স্থাপিত হয়েছিল মুঘল আমলে। এর পরে অবশ্য আর কখনোই ঢাকায় নতুন করে টাকশাল স্থাপিত হয়নি। স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে সুবাদার ইসলাম খানের আমলে ঢাকার নামকরণ হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর। ঢাকার প্রথম এবং শেষ টাকশালটিরও নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর টাকশাল। জাহাঙ্গীরের আমল থেকেই এখানে মুদ্রা তৈরি শুরু হয়েছিল। যেসব স¤্রাটের আমলের মুদ্রা এ টাকশালে তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাঁদের নাম- জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব, আলমগীর-২, আহমদ শাহ, মোহাম্মদ শাহ, জাহান্দার শাহ ও শাহ আলম।

এ সম্রাটদের আমলে জাহাঙ্গীরনগর টাকশালে তৈরি রুপার গোলাকার মুদ্রা পাওয়া গেছে। মুদ্রাগুলোর ওজন সাধারণভাবে ১১.৬০ গ্রাম ছিল বলে মনে করা হয়। অবশ্য বর্তমানে আর সেই ওজন নেই। ক্ষয় হয়ে এগুলোর ওজন বর্তমানে মোটামুটিভাবে ১১.০০ গ্রাম হয়েছে। আকবরের আমলে প্রবর্তিত ইলাহি সাল ও মাসের নাম তাঁর পরবর্তীকালের জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের আমলের মুদ্রাতেও পাওয়া যায়। এসব মুদ্রায় কখনও কখনও তির, মিহির, খুরদাদ, আমারদাদ-এর মতো ইলাহি মাসের নাম যেমন পাওয়া যায়, আবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ উৎকীর্ণ মুদ্রাও পাওয়া যায়।

 

এ নামের দুটি দুর্গের বর্ণনা ও দুর্গটির অবস্থান চিহ্নিতকারী মানচিত্র সন্নিবেশিত আছে অধ্যাপক আহমদ হাসান দানির ‘ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ গ্রন্থে। মানচিত্রটি মুঘলপূর্ব ও মুঘল যুগকে নির্দেশ করেছে। মির্জা নাথানের ‘বাহারিস্তান-ই-গায়েবি’তে বুড়িগঙ্গা নামের কোনো নদীর নাম নেই। বরং আছে দুলাই নদীর নাম। অধ্যাপক আহমদ হাসান দানি তাঁর উপরোক্ত গ্রন্থে (অনুবাদ : ২০০৫, পৃষ্ঠা : ১৪) উল্লেখ করেছেন যে, বুড়িগঙ্গার পুরোনো নাম দুলাই। সেই দুলাই নদীর একটি শাখা বা খাল ডেমরার দিকে প্রবাহিত ছিল। এ খালটির দু’ধারে নদীসংলগ্ন উৎসমুখের কাছে বেগ মুরাদের দুর্গ নামের দুটি দুর্গ ছিল। সুবাদার ইসলাম খান এ দুটি দুর্গের একটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ইহতিমাম খানের ওপর, অন্যটির দায়িত্ব ছিল মির্জা নাথানের ওপর। ঢাকার যোগাযোগ, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ধোলাইখাল। এটির পশ্চিম প্রান্ত বাবুবাজারের কাছে এবং পূর্ব প্রান্ত লোহারপুলের নিচ দিয়ে মিশেছিল বুড়িগঙ্গায়।

 

বাদশাহী দুর্গ যেখানে অবস্থিত ছিল সেখানে কোম্পানি আমলের শুরুর দিকে কোতোয়ালি থানা স্থাপিত হয়েছিল। পরে কোম্পানি আমলেই ১৮৩৬ সালে এখানে জেলখানা স্থাপিত হয়েছিল। সেই জেলখানায় দক্ষিণ ও পূর্ব দিক দিয়ে চলে যাওয়া সড়কের নাম হয়েছিল জেল রোড।
কোতোয়াল সাহেব থাকতেন জেলখানার পূর্ব দিকের একটি বাড়িতে। সেই বাড়িটি কোতোয়াল সাহেবের বাড়ি নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

ধানমন্ডি ঈদগাহ

ঢাকা শহরের ধানমন্ডি এলাকায় ৬/এ এবং ৭/এ সড়ক দুটির মাঝখানে মুঘল আমলের একটি ঈদগা রয়েছে। এখন সাধারণ্যে সেটি ধানমন্ডি ঈদগা নামে পরিচিতি পেলেও প্রকৃত নাম সেটি ছিল না। ঈদগাকে ঘিরে রাখা নির্মাণ কাঠামো আধুনিক হলেও তা মুঘলশৈলীর আদলেই করা হয়েছে। তবে সংস্কারের আগেও মেহরাবসহ দেয়ালের কিছু অংশ কোনো রকমে টিকে ছিল। ঈদগাটির নির্মাণের তারিখ পাওয়া যায় মেহরাবের ওপরের শিলালেখ থেকে। সেই শিলালেখ থেকে জানা গেছে যে, ১০৫০ হিজরি মোতাবেক ১৬৪০ সালে সুবাদার শাহ শুজার দেওয়ান মির আবুল কাসেম এ ঈদগাটি নির্মাণ করেছিলেন।

 

মুঘল নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক মির্র্জা মুকিম মতিঝিল-দিলকুশা এলাকায় এক বিশাল সরাইখানা স্থাপন করেছিলেন মিরজুমলার (১৬৬০-১৬৬৩) আমলে। হাকিম হাবিবুর রহমান বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আসুদগানে ঢাকা’-তে উল্লেখ করেছেন যে, সেই সরাইখানা এলাকার পুকুরের নাম ছিল মতিঝিল। মালিকানা বদল হয়ে নবাব আবদুল গণির হাতে জায়গাটা আসার পর উনবিংশ শতকের শেষের দিকে একটি বাগানবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। সেই বাগান বাড়ি ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর প্রাদেশিক শাসকের বাসভবনের জন্য অধিগ্রহণ করে। সাতচল্লিশের দেশবিভাগের পর এখানে গভর্নর হাউস এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির বাসভবন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বঙ্গভবন নামে পরিচিত।

 

অনেকেই অনুমান করেন যে, পুরান ঢাকার শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামবাড়া হোসেনি দালানের স্থানে মুঘল আমলে একটি ইমামবাড়া ছিল। জেমস টেলরের বর্ণনা থেকে উনবিংশ শতকের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ উপাসনা কেন্দ্র হিসেবে হোসেনি দালানের নাম জানা যায়। এও মনে করা হয় যে নায়েব নাজিম জেসারত খাঁর সময়ে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি দিকে যে ইমামবাড়া নির্মিত হয়েছিল, সেটির বহু সংস্কারের পর হোসেনি দালানের বর্তমান আদলটি দাঁড়িয়েছে।

পাগলার পুল

মির জুমলার আমলে ১৬৬০ সালে ঢাকার মূল শহরের বাইরে পাগলায় ইটের তৈরি একটি পাকা পুল নির্মিত হয়েছিল। যদিও প্রথম আরাকান যুদ্ধের সময় ইংরেজরা পুলটি ভেঙে ফেলেছিল, কিন্তু এখনও এ পুলের ভাঙা অংশ এ সড়কের পাশে দেখা যায়।

 

মুঘল আমলের বাদশাহী বাগানে বাংলার সুবাদার ইসলাম খাঁ চিশতিকে সমাহিত করা হয়েছিল বলে ‘বাহারিস্তান-ই-গায়বি’তে মির্জা নাথান উল্লেখ করেছেন। অসুস্থ সুবাদার ভাওয়াল এলাকায় প্রাণত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার দেহ সেখান থেকে ফতেপুর সিক্রিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জাহাঙ্গীরের আমলে সমাধিসৌধ তৈরি করা হয়। এই বাগে বাদশাহী বা বাদশাহী উদ্যানের সামধিটির জৌলুস পরে বেড়ে যায়। কিন্তু সেখানে যে ইসলাম খাঁর সমাধি নেই তা নিশ্চিত। এখানে অনেক পরে হাইকোর্ট ভবন নির্মিত হয়েছে।

১৬৬১ সালে মির জুমলার আমলে ঢাকার উপকণ্ঠের টঙ্গীতে ইটের সাহায্যে একটি পাকা পুল নির্মিত হয়েছিল। পাগলার পুলের মতো এ পুলটিও প্রথম আরকান যুদ্ধের সময় ইংরেজরা ভেঙে ফেলেছিল। মুঘল আমলে ঢাকার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পুলটির বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

 

মুঘল ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পুল ছিল এটি। এ সেতুটির নিচ দিয়ে পা-ু নদীর ধারা প্রবাহিত হতো। এটির অবস্থান ছিল বর্তমান হাইকোর্ট এলাকার পাশের ঢাকা গেট বা মির জুমলার তোরণের খানিকটা উত্তরে। পুলটির এখন অস্তিত্ব নেই।

 

পুরান ঢাকার নারিন্দায় ধোলাই খালের ওপরে ১৬৬৪ সালে খিলানের সাহায্যে এ পাকা সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। হায়াত ব্যাপারী এটির নির্মাতা ছিলেন বলে জানা যায়। ‘তাওয়ারিখে ঢাকা’ গ্রন্থে মুনশি রহমান আলি তায়েশ (১৮২৩-১৯০৮) এ পুলের নির্মাণ সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন। সংস্কারের মাধ্যমে উনবিংশ শতকেও এটি ভালোভাবে টিকে ছিল। তবে বিংশ শতকে ক্রমে খাল ভরাট হয় এবং পুলটি নিশ্চিহ্ন হয়।

 

চকবাজারের দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর খুব কাছে বড় কাটরা নামের মুঘল আমলের এ বিশাল প্রাসাদটি অবস্থিত। ঢাকায় টিকে থাকা হাতে গোনা মুঘল আমলের প্রাসাদের মধ্যে এটি একটি। ইট ও চুন-সুরকি ব্যবহার করে খিলানের সাহায্যে এ প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল। প্রাসাদটি তিন তলাবিশিষ্ট। এর ফটকও খুব জঁাঁকজমকপূর্ণ ছিল। সুবাদার শাহ মোহাম্মদ সুজার আমলে (১৬৩৯-১৬৬০) তাঁর আদেশে ১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে দিওয়ান মির কাশিম এ প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। শিলালেখ সূত্রে এবং মুনশী রহমান আলী তায়েশের ‘তাওয়ারিখে ঢাকা’র বিবরণ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রাসাদটি নির্মাণকালে দিল্লির স¤্রাট ছিলেন শাহজাহান।

ছোট কাটরা

মুঘল ঢাকার প্রাসাদগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম। শুধু বড় কাটরাই এর চেয়ে বড়। ইমামগঞ্জের কাছে, বুড়িগঙ্গার, বড় কাটরা ধারের প্রায় ২০০ মিটার পুবে প্রাসাদটি অবস্থিত। এ প্রাসাদ ১৬৬৩ সালে শায়েস্তা খান নির্মাণ করেছিলেন। প্রাসাদ প্রাঙ্গণের চম্পাবিবির মাজারটি আসলে কার তা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ বলেন এটি শায়েস্তা খানের স্ত্রীর এবং কেউ বলেন এটি তাঁর কন্যার। তবে জনশ্রুতি আছে যে, মাজারটির নির্মাতা শায়েস্তা খান। এ ছোট কাটরায় উনবিংশ শতকে একটি ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তথ্য জানা যায়।

 

মুঘল আমলের এ দুর্গটির প্রকৃত নাম কিল্লা আওরঙ্গাবাদ। অসম্পূর্ণ এ দুর্গটির প্রকৃত নির্মাতার নাম নিয়ে মতভেদ আছে। সুবাদার শায়েস্তা খান এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সাধারণভাবে এ ধারণা প্রচলিত আছে যে, ১৬৭৮-১৬৭৯ সালের দিকে শাহজাদা আজম এটির নির্মাণ শুরু করেছিলেন। এটি একটি অনন্য মুঘল কীর্তি। দুর্গের প্রায় পেছনেই ছিল বুড়িগঙ্গা নদী। উঁচু দেয়াল ঘেরা এ দুর্গের উত্তর তোরণের চেয়ে দক্ষিণ তোরণটির বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ। তিন তলা বিশিষ্ট এ তোরণটিতে সংস্কার হয়েছে। দুর্গটিতে একটি সুড়ঙ্গ ছিল, সেটির শুরুর অংশ এখনও দেখা যায়। সিপাহি বিদ্রোহের সময় (১৮৫৭ খ্রি.) লালবাগের কেল্লার দেশীয় সিপাহিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ বিদ্রোহের মাত্র দুই দশক পরেই এখানে এসেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতœতত্ত্বের জনক স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম। তিনি লিখেছেন যে, এ দুর্গ পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৬০৯ মিটার লম্বা ও উত্তর দক্ষিণে প্রায় ২৪৩ মিটার চওড়া। এ দুর্গের ভেতরে আছে দোতলা হাম্মামখানা (¯œানাগার), পরি বিবির মাজার, লালবাগ কেল্লা মসজিদ, জলাশয় প্রভৃতি। পরিবিবির মাজার একটি অপূর্ব সমাধিসৌধ। বর্গাকার এ সৌধের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে রাজমহলের কালো পাথর দিয়ে। জয়পুরের শ্বেত মর্মর ও চুনারের বেলে পাথর ব্যবহার করে নির্মিত এ সৌধের ওপরে আছে একটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ। ভারতীয় ও পারস্যরীতির অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায় এ ইমারতে। মূল দালানের চার কোনার চারটি আট কোনাকার মিনার আছে। ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে মুঘল আমলের টাইলস। পরিবিবির মাজার থেকে ৪০ মিটারের মতো পশ্চিম দিকে লালবাগ কেল্লা মসজিদ অবস্থিত। ধারণা করা হয় যে, ১৬৬৪ সালে সুবাদার শায়েস্তা খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের পূর্ব দেয়ালে আছে তিনটি প্রবেশপথ, আর পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি মেহরাব। চার কোনায় আছে চারটি আট কোনাকার মিনার।

সারা বছর খান পাকা আমের জেলি

আমার ভরা মৌসুম এখন। বাজারে মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির রসালো আম। পাকা এই আম দিয়ে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন জেলি। যা সংরক্ষণ করে সারা বছরই খেতে পারেন। জেনে নিন পাকা আম দিয়ে কীভাবে জেলি তৈরি করবেন।

উপকরণ
পাকা আম ১ কেজি
চিনি ১ কাপ
চায়না গ্রাস অল্প পরিমানে
লবণ পরিমান মত
ফুড কালার জাফরান সামান্য
ম্যাঙ্গো এসেন্স

প্রণালি
আম খোসা ছাড়িয়ে ভালো ভাবে চটকে নিন। এবার আমের এই জুসের সঙ্গে চিনি মেশান। চুলায় গরম করুন। সঙ্গে দিন চায়না গ্রাস, লবণ, ফুড কালার এবং ম্যাঙ্গো এসেন্স। ভালো ভাবে জ্বাল দিন। ঘন না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে থাকুন। মিষ্টি চেখে নিন। জেলি চুলা থেকে নামিয়ে কাঁচের শিশি বা বোতলে একটা চামচ দিয়ে ঢেলে দিন। বোতলের মুখটা খোলা রাখুন ঠান্ডা হবার জন্য। এরপর মাঝে মধ্যে এই জেলি ভালো রাখার জন্য বোতলটি রোদে দিন। সারা বছর এই জেলি খেতে পারবেন।

পুরাকীর্তির আলোয় ঢাকার ইতিহাস-১

এ কথা ঠিক যে, মুঘল আমলে ঢাকা ছিল বাংলার রাজধানী, তবে ঢাকা শহরের পত্তন মুঘল আমলে হয়নি। তখন পুরনো একটি দুর্গকে সংস্কার করে সেনানিবাস গড়ে উঠেছিল। সেই সেনানিবাসকেন্দ্র্রিক শহর হিসেবে নতুন রাজধানীর সৃষ্টি হয়েছিল।

দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসের দিকে ইসলাম খানকে যখন বাংলার সুবাদার অর্থাৎ গভর্নর নিয়োগ করেন, তখন বাংলার রাজধানী ছিল রাজমহলে। কিন্তু জাহাঙ্গীরের আদেশেই রাজমহল থেকে রাজধানী সরিয়ে আনা হয়েছিল ঢাকায়। এর পেছনে অবশ্য কারণও ছিল।

যদিও রাজধানী ছিল রাজমহলে, কিন্তু পুরো বাংলায় মুঘল রাজত্ব তখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দিল্লির স¤্রাটরা গোটা বাংলাকে তাদের রাজত্বের মধ্যে আনার চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছিলেন, কিন্তু সফল হচ্ছিলেন না কিছুতেই। এর পেছনে প্রধান একটি কারণ ছিল বার ভূঁইয়াদের অব্যাহত বিদ্রোহ। প্রতাপাদিত্য ও ঈশা খাঁর মতো স্বাধীন শাসকরা বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে বারবার ব্যর্থ করে দিচ্ছিলেন। বাংলার বিস্তীর্ণ প্রত্যন্ত এলাকায় এসব স্বাধীন শাসকের প্রভাব এত বেশি ছিল যে সুদূর রাজমহল থেকে তা ক্ষুণ্ন করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া আরাকানি মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের অব্যাহত উৎপাতকে ব্যর্থ করে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। সেসব কারণেই ঢাকাকে রাজধানী করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সেকালের বাংলায় প্রধান যাতায়াতব্যবস্থা ছিল নৌপথনির্ভর। জঙ্গলাকীর্ণ ও খাল-নদীতে ভরা দুর্গম বাংলায় এর চেয়ে ভালো যোগাযোগব্যবস্থার কথা তখন কল্পনাও করা যেত না। ঢাকা ছিল এমন একটি জায়গা যেখান থেকে নৌপথে বাংলার সিংহভাগ এলাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব ছিল। দিল্লি থেকে প্রত্যন্ত বাংলায় যেতে হলেও বিকল্প ছিল না নৌপথের। ঢাকা ছিল নদীর পাশের শহর। সেই নদীতে ক্রিয়াশীল ছিল জোয়ার-ভাটা। সেই জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগানোরও গুরুত্ব ছিল। ঢাকার ভেতরে যোগাযোগের উপযোগী অনেক খাল ছিল। তাছাড়া নদী-তীরবর্তী সেকালের ঢাকা ছিল লালমাটিতে গড়া উঁচু জায়গা। ফলে বন্যা হতো না ঢাকায়। এসব কারণে ঢাকা রাজধানী হওয়ার যোগ্য জায়গা বলে মুঘলদের কাছে মনে হয়েছিল। আর সুলতানি যুগে বাংলার অন্যতম রাজধানী সোনারগাঁ ছিল ঢাকার বেশ কাছেই।

তো যাই হোক, ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের পর ইসলাম খান হলেন বাংলার সুবাদার। এর আগে তিনি ছিলেন বিহারের সুবাদার। তাই ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে নিযুক্তির পর ঢাকা যাত্রার জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি নিলেন তিনি। ঢাকায় আসার সময় সৈন্য-সামন্ত শুধু নয় প্রশাসনিক কাজের জন্য কর্মকর্র্তা-কর্মচারী, এমনকি চিত্তবিনোদনের জন্য সংগীত ও নৃত্যশিল্পী পর্যন্ত সাথে নিয়েছিলেন। ১৬০৮ সালের বর্ষার পর রওনা দিয়ে গৌড় হয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের কাছে তিনি পৌঁছোন এবং ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দের বর্ষা কাটিয়ে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই নাগাদ তিনি ঢাকায় পৌঁছোন। ঢাকায় পেঁৗঁছানোর পরই তিনি এখানে রাজধানী স্থাপন করেন এবং দিল্লির স¤্রাটের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। তবে ইসলাম খানের নিযুক্তির সাল ১৬০৭ ও ঢাকায় আগমন সাল ১৬০৮ বলেও একটি ধারণা প্রচলিত ছিল, যা ‘ঢাকা দ্যা মুঘল ক্যাপিটাল’ গ্রন্থে (অনু : ড. মুহম্মদ মুহিব উল্যাহ ছিদ্দিকী, বাংলা একাডেমি, ১৯৯৪, পৃ. ৭, ৮, ৯) ড. আবদুল করিম যুক্তির সাহায্যে খ-ন করেছেন। ইসলাম খানের সাথে যেসব সেনাপতি ঢাকায় এসেছিলেন তার মধ্যে একজন ছিলেন মির্জা নাথান, যিনি ছিলেন সেই ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁর লেখা ‘বাহারিস্তান-ই গায়বি’ থেকে তখনকার ঢাকা সম্পর্কে বহু কিছু জানা যায়। এতে দেখা যায় যে ঢাকা নামটা মুঘল রাজধানী হওয়ার আগে থেকেই চালু ছিল। সেখানে সেনাচৌকি ছিল এবং সেখানে সেনানায়কও ছিল।

এত গেল ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের কথা। তবে মুঘল যুগেরও বহু পূর্বেকার এমন কিছু প্রত্নকীর্তি খোদ ঢাকা শহর এলাকা থেকে পাওয়া গেছে যেগুলোর সময়কাল খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের বলে প্রমাণিত হয়েছে।

 

ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন প্রতœনিদর্শনগুলো হলো গুপ্ত অনুকৃত মুদ্রা, যা খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের বলে ধারণা করা হয়। মুদ্রাগুলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী খড়গ রাজাদের ছিল বলে জানা গেছে। ১৯১০ সালে ‘জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল’-এর ষষ্ঠ খ-ের ১৪১-১৪৩ পৃষ্ঠায় মুদ্রাগুলোর বিবরণ আছে। ‘ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ গ্রন্থে অধ্যাপক দাণিও প্রসঙ্গটির উল্লেখ করেছেন। যেখানে মুদ্রাগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেই জায়গাটা তখন নবাব রশিদ খানের বাগান নামে পরিচিত ছিল। সেটা ছিল বর্তমান ঢাকার পিলখানার সামান্য পশ্চিমে। এই পিলখানায় ছিল মুঘল-কোম্পানি-ইংরেজ আমলের হাতিশাল। দেশ বিভাগ-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এখানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দফতর। কাজেই নবাব রশিদ খানের বাগানের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ঐ মুদ্রাগুলো ঢাকার ইতিহাস জানার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি না যে ওগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে নাকি কোনো ধনী লোকের ব্যক্তিগত সঞ্চয় হিসেবে ছিল।

ঠিক এরকম গুপ্ত অনুকৃত মুদ্রা ঢাকার কাছাকাছি সাভার থেকে পাওয়া গেছে। আরও পাওয়া গেছে বৌদ্ধবিহার, স্তূপ প্রভৃতির ধ্বংসাবশেষ। এগুলো খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের বৌদ্ধধর্মাবলম্বী খড়গ বংশীয় রাজাদের কীর্তি বলে মনে করা হয়। ঢাকার উল্টোপাশে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার আশরাফপুরে পাওয়া গেছে খড়গ বংশীয় রাজা দেব খড়গ-এর দুটো তা¤্রলেখ। যেহেতু ঢাকা থেকে প্রাপ্ত মুদ্রাগুলো খড়গ যুগীয় এবং ঢাকা শহর হলো সাভার ও আশরাফপুরের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত, তাই ঢাকায় খড়গ বংশীয় বৌদ্ধ রাজাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল বলে ধারণা করা যায়।

 

ঢাকায় সেন বংশের রাজাদের শাসন যে প্রতিষ্ঠিত ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং এর পক্ষে প্রত্ন প্রমাণ রয়েছে। তবে পাল যুগেও ঢাকায় স্থাপনা থাকার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এককথায় বলা যায়, বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার আগেই ঢাকায় নগর জনপদের অস্তিত্ব ছিল। হোক না সেটা ছোট শহর কিন্তু সে শহরে পাকা মন্দির ছিল, যে মন্দিরে স্থাপিত ছিল পাথরে তৈরি প্রতিমা। ১৯০৬ সালে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা মসজিদের প্রাঙ্গণে পাথরে তৈরি একটি বাসুদেব মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রথম ঢাকা ট্রেজারিতে ও পরবর্তীকালে কলকাতার জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়েছিল। এ মূর্তিটি ছাড়াও ঢাকা শহর থেকে আরও অন্তত তিনটি পাথরে তৈরি মূর্তি আবিষ্কার হয়েছে। বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর পাথরের তৈরি অমন দেব-দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই মোট চারটি মূর্তি হলো-

তেজগাঁও এলাকায় পুরনো জলাশয়ে প্রায় ত্রিশ ইঞ্চি উঁচু কালো ক্লোরাইট পাথরে তৈরি ‘হরিশঙ্করা’ মূর্তি। যেই জলাশয় থেকে মূর্তিটা পাওয়া গিয়েছিল সেটি তেঁজগাও রেলস্টেশনের উত্তর দিকে রেললাইনের ওপরকার ওভারব্রিজের কাছে।

চুড়িহাট্টার বাসুদেব মূর্তি

মহাখালী থেকে প্রাপ্ত মূর্তি। আর ডালবাজারের মন্দিরে রক্ষিত চণ্ডীমূর্তি। এ মূর্তিটি আদতে ঢাকার নিকটবর্তী বিক্রমপুর এলাকায় পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা যায়। এটি লক্ষ্মণ সেনের তৃতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

‘ঢাকা: এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ গ্রন্থে আহমদ হাসান দানি, ‘আকনোগ্রাফি অব বুদ্ধিস্ট অ্যান্ড ব্রাহমানিক্যাল ইমেজেস অব ঢাকা মিউজিয়াম’ গ্রন্থে ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী, ‘বিক্রমপুরের ইতিহাস গ্রন্থে শ্রীযোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত প্রমুখের আলোচনা থেকে এসব তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। কাজেই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠারও আগে ঢাকায় পাকা ইমারত ছিল, মন্দির ছিল এবং প্রতিমাও ছিল। এ সবই প্রমাণ করে যে, ঢাকায় অন্তত সেন যুগেও একটি নগর জনপদ ছিল। তবে সেই জনপদের দালানকোঠা টিকে নেই।

 

বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বেই ছিল সুলতানি শাসন। সেই সময়ে বাংলায় রাজত্ব করতেন স্বাধীন সুলতানরা। বলাই বাহুল্য, এই শাসকদের পদবি ছিল সুলতান। বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগ টানা চলেছিল ২০০ বছর। ১৩৩৮ সালে তা শুরু হয়েছিল এবং শেষ হয়েছিল ১৫৩৮ সালে। তবে এর আগে-পরেও স্বাধীন রাজাদের অস্তিত্ব ছিল। সুলতানি যুগের প্রথম সুলতান ছিলেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ। তাঁর রাজধানী ছিল ঢাকার নিকটবর্তী সোনারগাঁয়। ঢাকায় সুলতানি যুগের যে ইমারতগুলোর কথা জানা যাচ্ছে, সেগুলো ইসলাম ধর্মসংশ্লিষ্ট এবং ধর্মকেন্দ্র। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সুলতানি ইমারতের মধ্যে রয়েছে-

নসওয়াল গলি মসজিদ

ঢাকা শহরের নসওয়াল গলি মহল্লায় একটি মসজিদ ছিল। সেটিকে নসওয়াল গলি মসজিদ বলা হচ্ছে। এখানকার আদি ইমারতটি নেই। সেটি ধ্বংসের পর পুনর্নির্মিত মসজিদটিও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিলালেখ পাওয়া গেছে (ইংরেজি অনুবাদ : অধ্যাপক দানি, ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’, বাংলা : আবু জাফর, ২০০৫, পৃ. ১২)। সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ্-এর আমলে ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন তারিখে (২০ শাবান, ৮৬৩ হিজরি) একটি মসজিদে তোরণ নির্মাণ ও মসজিদ সুদৃঢ় করার কথা শিলালেখতে আছে। মসজিদটি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তখন সংস্কার করা হয়েছিল বলে শিলালিপির বর্ণনা থেকে জানা যায়। অনুমান করা হয় যে, মূল মসজিদটি অন্তত আরও পঞ্চাশ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। জীর্ণ হয়ে পড়ার পরই তা সংস্কারের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই হিসেবে ১৪৫৯ সালের পঞ্চাশ বছর আগে অর্থাৎ ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোন সময়ে মসজিদটি তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা চলে। এ শিলালেখতে মুবারকাবাদ নামটি পাওয়া যায়। এই নাম ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের নাম থেকে এসেছে বলেও ধারণা করা যায়।

 

ঢাকার মাণ্ডায় একটি পুরনো মসজিদ ছিল। ডক্টর নলিনীকান্ত ভট্টশালী মসজিদের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিলালেখটি আবিষ্কার করে ঢাকা জাদুঘরে সংরক্ষণ করেছিলেন। এই শিলালেখটি প্রকৃতপক্ষে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির থেকে সংগ্রহ করা প্রতিমার পেছন পিঠে খোদাই করা হয়েছিল। প্রতিমাটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত, তবে তা বিষ্ণুর বলে অনুমান করা যায়। ‘করপাস অব অ্যারাবিক অ্যান্ড পারসিয়ান ইনস্ক্রিপশন্স অব বেঙ্গল’, (১৯৯১, পৃ. ১০৫-১০৯) গ্রন্থে আরবি ভাসার শ্লথ রীতির শিলালেখটির অনুবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. আবদুল করিম। চার লাইনে এই শিলালেখ থেকে দেখা যায় যে, ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারিতে জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ্-এর আমলে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের রাজত্বকাল ছিল ১৪১৫ থেকে ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

 

ঢাকায় সুলতানি যুগের টিকে থাকা ইমারতের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে এটিই সবচেয়ে পুরনো। যদিও এটির বহু সংস্কার হয়েছে এবং ধ্বংস করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কোনোরকমে এটির অংশবিশেষ টিকে আছে। এটি এখন ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং এর গা ঘেঁষে একটি বহুতল মসজিদ নির্মিত হয়েছে। শিলালিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্য (অনুবাদ: অধ্যাপক দানি, ঢাকা: এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস) অনুযায়ী ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের আমলে মারহামাতের কন্যা মোসাম্মৎ বখ্ত বিনত এটি নির্মাণ করেছিলেন। মূল মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট ছিল। পরে মসজিদটির আয়তন বৃদ্ধিকালে আরও একটি গম্বুজ সংযোজন করা হয়েছিল।

 

এখন যেটি শাহ্ আলী বোগদাদির মাজার, সেটি প্রকৃতপক্ষে একটি মসজিদ ছিল। মৃত্যুর পর শাহ্ আলী বোগদাদিকে মসজিদের ভেতরে সমাহিত করা হয় এবং মসজিদটি সমাধিসৌধের মর্যাদা পায়। এখানে যে শিলালেখ পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে যে, বাংলার সুলতান ইউসুফ শাহের আমলে ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে খাকান-ই মোয়াজ্জেম এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদটি বহু সংস্কার হয়েছে। তবে এর ২.৪২ মিটার পুরু দেয়াল বুঝিয়ে দেয় যে, এটি একটি বহু পুরাতন স্থাপনা।

ঢাকায় সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলের (১৪৯৩-১৫১৯) একটি মসজিদের শিলালেখ পাওয়া গেছে। এটি এ আমলের প্রথম ও একমাত্র শিলালেখ। পুরান ঢাকার বাবুবাজার মসজিদে কালো পাথরের তৈরি এ শিলালেখটি সংরক্ষিত থাকলেও সে মসজিদের অবস্থানস্থল সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। (চলবে)

সতেজ থাকতে কাজের ফাঁকে একটু যত্ন

বিউটি এক্সপার্টদের মতে দিনের বড় একটা সময় যেহেতু অফিসেই কেটে যায়, সে কারণে অফিসে বসেই সেরে নেওয়া উচিত ত্বক ও রুপের যত্ন। এ কথাও সত্যি যে চাইলে অফিসে বসেই এক খণ্ড অবসর বের করে নেওয়া সম্ভব। পুরোটাই নির্ভর করছে নিজের মাইন্ড সেটআপের উপর। একবার মাইন্ড সেটআপ করে নিলে দেখা যাবে ব্যাপারটা রুটিন ওয়ার্কের মতো হয়ে গেছে। আর রুপচর্চার ব্যাপারটা যে খুব কঠিন বা সময় সাপেক্ষ তা কিন্তু নয়। খুব অল্প সময়ে নিজেকে রিফ্রেশ করে নেওয়া সম্ভব। তেমনি বেশ কয়েকটি সহজ টিপস্ দেয়া হলো।
সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় বেসিক একটা মেকআপ সবাই করে থাকে। সেই বেজ মেকআপ ঠিক রাখতে হলে বার বার মুখে হাত দেওয়া যাবে না।
ঠিক তেমনি ভাবে বারবার চুলেও হাত দেওয়া উচিত নয়। এতে করে চুলের বাউন্সিভাব নষ্ট হয়ে যায়
দিনের বেশির ভাগ সময় যেহেতু এসির মধ্যে কাজ করতে হয় সেহেতু তৈলাক্ত ত্বক আরও বেশি তৈলাক্ত হয়ে পড়ে। একারণে হাতের কাছে সব সময় টিস্যু রাখতে হবে। তবে ওয়েট টিস্যু কখনই নয়।
আবার অন্যদিকে শুষ্ক ত্বক আরও বেশি ড্রাই বা শুষ্ক হয়ে যায়। তাই মাঝে মধ্যেই টোনার স্প্রে করা উচিত।
কাজের ফাঁকে মাঝে মধ্যে ঠোঁটে মশ্চারাইজ গ্লস ব্যাবহার করা উচিত। এতে ঠোঁট ফাটবে না।
দুপুর বেলা কিংবা বাইওে থেকে আসার পর ফেশ ওয়াশ দিয়ে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এরপর মশ্চারাইজিং ক্রিম এবং সানস্ক্রিন ব্যাবহার করতে হবে। ইনহাউসে সানস্ক্রিনের প্রয়োজন রয়েছে।
হাত ধোয়ার পর হ্যান্ড লোশন লাগিয়ে নিতে হবে। তা না হলে ত্বক রুক্ষ হয়ে যাবে।
অফিসে থাকা অবস্থায় দেড় থেকে দু লিটার পানি পান করা উচিত। এতে করে ত্বক ভালো থাকবে।
কাজগুলো হাটতে চলতেই করা যায়। খুব বেশি টেনস নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সারাদিন সতেজ থাকাই কাম্য।
তথ্য ও ছবি : ইন্টারনেট

ইসলামে বিনোদন ও রসিকতার সীমারেখা

আব্দুল্লাহ আল মামুন : রসিকতা করা সুন্নত। বিনোদনের উদ্দেশ্যে রাসুল (সা.) সাহাবিদের সঙ্গে নানা সময়ে রসিকতা করতেন। তবে তার রসিকতায় একটা সীমা নির্ণয় করা ছিলো। যে-কোনো ধরনের রসিকতা ইসলাম অনুমোদন করে না। রসিকতার ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায়, অনেকেই মাত্রা হারিয়ে ফেলেন। তা-ই শরিয়তের বিধান অনুসারে রসিকতাকে তিনভাগে ভাগ করা যায় ।

অনুমোদিত ও প্রশংসাযোগ্য রসিকতা, দুই. বৈধ রসিকতা, তিন. নিন্দনীয় রসিকতা। এর মধ্যে অনুমোদিত ও প্রশংসাযোগ্য রসিকতা হলো, যে-রসিকতা রাসুল (সা.) করেছেন। এ-ধরনের রসিকতা করাই সুন্নত বিধির অন্তর্ভুক্ত ।

আয়েশা (রা.) এর হাদীসে এসেছে, কোনো এক সফরে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাথে ছিলেন। আয়েশা (রা.) বলেন, আমি রাসূলের সাথে দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রবৃত্ব হলাম এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে পিছনে ফেলে দিলাম। অতঃপর যখন আমার শরীর মোটা হয়ে গেল আবার প্রতিযোগিতা করলাম রাসূল বিজয়ী হলেন। তখন বললেন, এই বিজয় ঐ বিজয়ের পরিবর্তে (শোধ)। (আবু দাউদ, হাদিস ২২১৪)

আর যে-রসিকতা যার কোনো সঠিক উদ্দেশ্য নেই, ভালো নিয়তও নেই, কিন্তু শরীয়তের নির্ধারিত গÐি থেকে বের হতে হয় না এবং নিয়মও ভঙ্গ করা হয় না, সে-ধরনের রসিকতা করা বৈধ। এমন রসিকতা প্রশংসাযোগ্যও নয় আবার নিন্দাযোগ্যও নয়। সুতরাং এর ভেতরে কোনো পুণ্য নেই। কারণ পুন্য পাওয়ার যে নীতিমালা অর্থাৎ সঠিক উদ্দেশ্য এবং সৎ নিয়ত তা এখানে পাওয়া যায়নি। অনুরূপভাবে কোনো গুনাহও হবে না কারণ শরীয়তের বিরুদ্ধাচারণ করা হয়নি বা কোনো নীতি ভাঙ্গা হয়নি।

কিন্তু যদি রসিকতা করা হয় মন্দ উদ্দেশ্যে এবং অসৎ নিয়তে অথবা শরীয়তের নির্ধারিত রীতি ভঙ্গ করে সম্পাদন করা হয়। যেমন, মিথ্যা মিশ্রিত রসিকতা, অথবা অন্যকে কষ্ট দেওয়ার উদ্দেশ্যে রসিকতা করা হয়, তবে তা অবশ্যই নিন্দনীয় ও হারাম বলে বিবেচিত হবে। লেখক: মাদরাসার শিক্ষক

যে দোয়া পড়লে অসুস্থতা থেকে মুক্তি মিলে

জাকারিয়া হারুন : সুস্থতা মহান আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। আর অসুস্থতাও মহান আল্লাহর অনুগ্রহ। মুমিনের জীবনে অসুস্থতার মাধ্যমে পাপ মোচন হয়। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মানব জীবনের সব সমস্যার সমাধানে দিয়েছেন গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা। পবিত্র কুরআনে এসেছে, ‘এবং (তিনি) প্রবৃত্তির তাড়নায় কথা বলেন না।’ (সুরা নজম) সুতরাং হাদিসের ওপর আমল করা জরুরি। হাদিসে এসেছে, অসুস্থ্য ব্যক্তিকে দেখতে গেলে তার জন্য আল্লাহর দরবারে কীভাবে দোয়া করতে হবে। তা নিম্নে উল্লেখ করা হলো

*. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন কোনো রুগ্ন মানুষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে, যার এখনো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়নি এবং তার নিকট সাতবার এই দোয়াটি বলবে-
উচ্চারণ : আসআলুল্লাহাল আজিম, রাব্বাল আরশিল আজিম, আঁইয়্যাশফিয়াক’ অর্থাৎ আমি সুমহান আল্লাহ, মহা আরশের প্রভুর নিকট তোমার আরোগ্য (সুস্থতা) প্রার্থনা করছি আল্লাহ তাকে সে রোগ থেকে মুক্তি দান করবেন।’ (তিরমজি, আবু দাউদ)

*. হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে আরো বর্ণিত আছে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একজন বেদুঈনকে দেখতে গেলেন। আর তাঁর নিয়ম এই ছিল যে, যখন তিনি কোনো রোগীকে দেখতে যেতেন তখন বলতেন-
লা- বা’সা তুহু-রুন ইনশাআল্লাহ।

অর্থ : ‘ভয় নেই, আল্লাহর মেহেরবানীতে আরোগ্য লাভ করবে ইনশাআল্লাহ (বুখারি, মুসলিম)

*. হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমাদের মধ্যে কেউ যখন অসুস্থ হতো তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর ডান হাত রোগীর শরীরে বুলাতেন এবং বলতেন-

আজহাবিল বা’সা রব্বান না-সি, ওয়াশফি আনতাশ শা-ফি-, লা শিফাআ’ ইল্লা- শিফা-উকা শিফা-আ’ লা ইউগাদিরু সুক্বমা।
অর্থ : ‘হে মানুষের প্রতিপালক! এ রোগ দূর কর এবং আরোগ্য দান কর, তুমিই আরোগ্য দানকারী। তোমার আরোগ্য ব্যতিত কোনো আরোগ্য নেই। এমন আরোগ্য, যা বাকী রাখে না কোনো রোগ।’ (বুখারি, মিশকাত)

অসুস্থ ব্যক্তির জন্য প্রত্যেকের দোয়া করা উচিত। যেভাবে দোয়া করতে শিখিয়েছেন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। মহান আল্লাহ আমাদের সকলকে কুলআন সুন্নাহ অনুযায়ি জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দেন। আমিন।