All posts by lutfor

বরিশাল ও বরগুনার জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার

সচিবালয় প্রতিবেদক :বরিশালের জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান ও বরগুনার জেলা প্রশাসক বশিরুল আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

সোমবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোজাম্মেল হক খান সাংবাদিকদের  এ তথ্য জানান।

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে মামলায় ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে নাজেহাল করা নিয়ে চলমান উত্তাপের মাঝে বরগুনা ও বরিশালের জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হলো।

এর আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে  মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম জানান, বরগুনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের প্রতি আইনি কোনো ব্যত্যয় হয়েছে কি না, সেটা খতিয়ে দেখতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত একজন সচিবের নেতৃত্ব পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বুধবার থেকে জিলকদ মাস শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক :বাংলাদেশের আকাশে আজ ১৪৩৮ হিজরি সনের জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। ফলে আগামীকাল ২৫ জুলাই শাওয়াল মাস ৩০ দিন পূর্ণ হবে এবং আগামী ২৬ জুলাই, বুধবার থেকে জিলকদ মাস গণনা শুরু হবে।

সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়য়ের যুগ্ম সচিব মো. হাফিজুর রহমান।

সভায় অতিরিক্ত প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফজলে রাব্বী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী, সহকারী ওয়াকফ প্রশাসক নাসির-উদ-দৌলা, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দিন আহমেদ, ধর্ম সচিবের একান্ত সচিব মো. গোলাম মওলা, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আজিজুর রহমান, স্পারসোর পিএসও শাহ মো. মিজানুর রহমান, চকবাজার শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শেখ নাঈম রেজওয়ান, লালবাগ শাহী জামে মসজিদের খতিব আবু রায়হান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মুহাম্মদ মিজানুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় ১৪৩৮ হিজরি সনের পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা সম্পর্কে সব জেলা প্রশাসন, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের  প্রধান কার্যালয়, বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়সমূহ, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২৯ শাওয়াল ১৪৩৮ হিজরি, ৯ শ্রাবণ ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৪ জুলাই সোমবার বাংলাদেশের আকাশে পবিত্র জিলকদ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার সংবাদ পাওয়া যায়নি।

বিপদে পড়তে যাচ্ছেন মাশরাফিরা!

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরে বেশ কয়েকটি নতুন নিয়ম যোগ হয়েছে। তার মধ্যে আইকন ক্রিকেটারদের ব্যক্তি স্বাধীনতার বিষয়টি অন্যতম। বিপিএলে এবার আইকন (এ প্লাস ক্যাটাগরি) ক্রিকেটারদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। ঘোষণা দেয়া হয়েছে, আইকন ক্রিকেটাররা স্বাধীন। তারা ইচ্ছানুযায়ী যে কোনো ফ্রাঞ্চাইজিতে যেতে পারবে।

ব্যাক্তি স্বাধীনতার পাশাপাশি আইকন ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিকের ক্ষেত্রেও দেয়া হয়েছে ছাড়।  এবার আর বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি তাদের পারিশ্রমিক। ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারণ হবে তাদের দাম।

আজ সোমবার (২৪ জুলাই) কল্যাণপুরে একটি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের এক সংবাদ সম্মেলনে সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক জানান, ‘এ প্লাস ক্যাটাগরির (আইকন) আট ক্রিকেটার খেলবেন আটটি দলে। তাদের পারিশ্রমিকও নির্ধারণ হবে ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে।’

সে হিসেবে আইকনদের টাকা আদায়ে কোন দায় দায়িত্ব নেবে না বিপিএল কতৃপক্ষ।  তাই বলা যায়, নতুন বিপাকে পড়তে যাচ্ছে আইকনরা।  তবে কেন আইকনদের পারিশ্রমিকের দায়িত্ব নেবে না বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের।  এ ব্যাপারে গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেন, ‘যেহেতু আইকনরা নিজেরাই দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছে, আমরা এটার (পারিশ্রমিক) দায়িত্ব নেব না। বাকি খেলোয়াড়দের টাকা বাড়েনি। গতবারের মতো এবারও তাদের শ্রেণীও একই থাকবে। তাদের দায়িত্ব আমরা নেব। এমনকি ড্রাফটের মাধ্যমে যে বিদেশিরা আসে, তাদের দায়িত্বও নেব। ড্রাফটের বাইরে অনেক বড় বড় খেলোয়াড় আসছে, তাদের দায়িত্ব বোর্ড নেবে না। আইকনদের দায়িত্বও নেবে না। যেহেতু তারা ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে সমঝোতা করে নিয়েছে। এটা ফ্র্যাঞ্চাইজি-আইকনদের ব্যাপার।’

এর আগে আইকন ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক নির্ধারণে বিসিবি বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল বলে অভিযোগ। সাকিব আল হাসানের সঙ্গে অন্য আইকনদের পারিশ্রমিকে ছিল অনেক পার্থক্য। সাকিবের পারিশ্রমিক ছিল ৫৫ লাখ। মাশিরাফি, তামিম, মাহমুদউল্লাহ এবং মুশফিকের পারিশ্রমিক ছিল ৫০ লাখ। সাব্বির ও সৌম্যের পারিশ্রমিক ছিল ৪০ লাখ করে।

এ নিয়ে তুমুল সমালোচনা হওয়ার কারণে শেষ পর্যন্ত বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইকনরা যেহেতু দর কষাকষি করেই ফ্রাঞ্চাইজিতে যাবে, সে হিসেবে তারাই পারিশ্রমিকের বিষয়টা আলোচনা করে নির্ধারণ করে নিক। এবং এ ব্যাপারে সব দায়িত্ব আইকন ক্রিকেটার ও ফ্রাঞ্চাইজির।

বাকি ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক আগের মতোই থাকবে এবং তাদের দায়-দায়িত্ব বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের। পূর্বের নিয়ম অনুযায়ী, এ ক্যাটাগরি ক্রিকেটারদের মূল্য ছিল ২৫ লাখ টাকা। ‘বি’ ক্যাটাগরির পারিশ্রমিক ১৮ লাখ, ‘সি’ ক্যাটাগরি ১২ লাখ এবং ‘ডি’ ক্যাটাগরির ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক ধার্য ছিল ৫ লাখ টাকা করে।

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের শেষের দিকে অর্থাৎ নভেম্বরের ২ তারিখে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসর।  বিপিএলের মূল পর্বের আগে ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সিজন ফাইভের প্লেয়ার্স ড্রাফট।  এবারের আসরে ম্যাচের সংখ্যা ৬০। প্রথম পর্ব, এলিমিনিটির, প্রথম কোয়ালিফায়ার, দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ও ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে।

বিপিএলের গ্রাউন্ডস স্বত্ব পেয়েছে ঢাকা কমিউনিকেশন। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বিপিএলের তিনটি আসরের সম্প্রচার স্বত্ব পেয়েছে ইমপ্রেস-মাত্রা কনসোর্টিয়াম। তাদের মাধ্যমে গাজী টিভি এবং মাছরাঙা টেলিভিশনের কাছে তিন আসরের সম্প্রচার স্বত্ব বিক্রি করেছে।

উন্নত চিকিৎসায় সিদ্দিককে চেন্নায় পাঠাচ্ছে সরকার

ঢাকা: চোখের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে ভারতের চেন্নাইয়ে নেয়া হচ্ছে। সোমবার (২৪ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সিদ্দিকুরের উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার নিয়েছে। তাই তাকে ভারতের চেন্নাই নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ ব্যাপারে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।  স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, সিদ্দিকের চোখ ভালো করতে সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।

বর্তমানে সিদ্দিকুর ঢাকার আগারগাঁওয়ে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এর আগে দুপুরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিদ্দিকুরকে দেখার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে যান। তিনি সিদ্দিকুরকে দেখার পর তাকে বিদেশ পাঠানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। এর কয়েক ঘণ্টা পরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

হাসপাতালে সিদ্দিকুরকে দেখার পর ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে সচিবালয়ে আলোচনা হয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সরকারি খরচে প্রয়োজনে দেশের বাইরে নেয়ার ব্যবস্থা করারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এছাড়া ওবায়দুল কাদের আরো জানিয়েছিলেন, সিদ্দিকুরের বিষয়টি নিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছেন। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পরই আগারগাঁওয়ে চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে গিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদের।

গত ২০ জুলাই পরীক্ষার সময়সূচির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন করে অধিভূক্ত কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে লাটিপেটা ও কাঁদুনে গ্যাস ছোড়ে পুলিশ। তখন সিদ্দিকুরের চোখে টিয়ার শেলের আঘাত লাগে।

ছেলেকে টপকে গেলেন মা-খালা

নাটোর: এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় ছেলের সঙ্গে অংশ নিয়েছিলেন একই সঙ্গে মা ও খালা। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা গেল অবাক করা ঘটনা। ছেলেকে টপকে গিয়ে মায়ের দারুণ রেজাল্ট। আর মাকে টপকে গিয়ে খালা করেছেন আরো ভালো ফলাফল।

রোববার (২৩ জুলাই) এইচএসসির ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই আনন্দের জোয়ার বইছে নাটোর শহরের মলিকহাটি এলাকার রুহুল আমিনের বাড়িতে।

রুহুল আমিনের ছেলে রাকিব আমিন চলতি বছরে কারিগরী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং ট্রেড থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলে সে জিপিএ ৩.৬৭ পেয়ে পাস করেছে।

তবে তার মা শাহানাজ বেগমের ক্ষেত্রে ঘটেছে চমকপ্রদ ঘটনা। ২২ বছর আগে কলেজ ত্যাগ করা মা এবার নাটোর মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন। তিনি অর্জন করেছেন জিপিএ-৪.৮৩। যা ছেলের ফলাফলের চেয়েও উজ্জ্বল।

অন্যদিকে, রাকিব আমিনের খালা মমতা হেনা একই কলেজে কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডে ভর্তি হন শাহনাজ বেগমের ব্যাচেই। চলতি বছরে তিনিও এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। তবে তিনি অর্জন করেছেন জিপিএ-৪.৮৮।

মা খালার এই ফলাফলে লজ্জিত হওয়ার চেয়ে দারুণ খুশি রাকিব। তাই ফলাফল পেয়েই সে মা-খালার মুখে মিষ্টি তুলে দেয়। মা খালাও ছেলেকে টপকাতে পেরে দারুণ খুশি।

এদিকে, একই পরিবারের তিনজনকে পাস করতে দেখে চমকে গেছেন অনেকেই। ফলাফল ঘোষণার পরপরই তাই তাদের একনজর দেখতে অনেকেই ভিড় করেন শহরের মলিকহাটি এলাকার রুহুল আমিনের বাড়িতে।

পরিবার সূত্রমতে, ১৯৯৫ সালে এসএসসি পাস করার পর রুহুল আমিনের সঙ্গে বিয়ে হয় শাহানাজ বেগমের। এরপর আর পড়াশোনা করায় হয়নি। বর্তমানে তিনি এক ছেলে ও মেয়ের মা। তবে সন্তানদের পড়ালেখা করাতে গিয়ে আবারো পড়াশোনার প্রতি টান অনুভব করেন শাহানাজ বেগম। তাই ২২ বছর পর ভর্তি হন নাটোর মহিলা কলেজে।

এদিকে, শাহনাজ বেগমের ফুপাতো বোন মমতা হেনা যখন দেখলেন তার মামাতো বোন এতোদিন পর ফের পড়াশোনা শুরু করেছেন, তখন তিনিও শুরু করলেন পড়াশোনা। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পাস করে গৃহবধূ হওয়ার পর হাতে বই ধরা হয়নি গেল ২৪ বছর ধরে। দুই বোনই কম্পিউটার অপারেশন ট্রেডে ভর্তি হয়ে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।

মায়ের ভালো ফলাফলে খুব খুশি ছেলে রাকিব জানায়, অর্থিক সমস্যার কারণে তার তিনটি বই কেনা হয়নি। ধার করতে হয়েছে অন্যদের থেকে। তার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করলেও কোনো কষ্ট নেই বরং আনন্দ এজন্য যে, তার মা ও খালা এতকিছুর পরও প্রমাণ করতে পেরেছেন, ইচ্ছা থাকলেই করা যায় যে কোনো কিছু।

মা শাহনাজ বেগম বললেন, এই ফলাফলের নেপথ্যে কাজ করেছে তার ইচ্ছাশক্তি। দুই সন্তানের পর নিজের পড়ালেখার খরচ চালানোর সামর্থ্য আমার ছিলো না। এগিয়ে আসেন বাবা ও ভাই। পড়াশোনার জন্য বই দেন ভাই, ফরম পূরণের টাকা দেন বাবা। স্বামী দিয়েছেন অনুপ্রেরণা। এভাবেই আমার আজকের ফলাফল।

খালা মমতা হেনা খুশিতে কেঁদে ফেলে বলেন, ‘নতুন করে পড়াশোনা করতে গিয়ে উৎসাহ পেয়েছি আমার ভাই ও মেয়ের থেকে। আর বাকিরা করেছে উপহাস বিদ্রুপ। পড়তে গিয়ে আর্থিক টানাপোড়েন পোহাতে হয়েছে প্রচুর। নতুন বই কিনতে পারিনি, পুরাতন বই কিনেছি। দুই বোন মিলে একসেট বই কিনে পড়েছি। বড় মেয়ের টাকায় ফরম পূরণ করেছি।

মমতা হেনার মেযে সুরাইয়া সূচি বলেন, গত বছর আমি এইচএসসি পাস করার পর আমার মাকে আবারও পড়তে বলি। কেননা আমি যখন মায়ের গর্ভে তখন আমার জন্য তিনি পড়ালেখা ছেড়েছিলে। আজ আমার মায়ের জন্য আমরা গর্বিত।

মেয়ে ও নাতির ভালো ফলাফলের সংবাদে খুশি শাহানাজ বেগমের বাবা হাজী শাহজাহান আলী বলেন, জীবন সায়াহ্নে এসে এমন ঘটনা তাকে গর্বিত করেছে।

স্ত্রী-সন্তানের ফলাফলে খুশি রহুল আমিন বলেন,‘একজন স্বামী ও বাবা হিসেবে আমি গর্বিত। ছেলের সঙ্গে মায়ের পড়ার সময় অবাক হয়েছিলাম। ভাবনা ছিল পারবে কি না। অথচ সব শঙ্কা দূর করে আর দশজনের মত রাকিবের মাও ভালো ফলাফল নিয়ে পাস করলো।

‘না খেয়ে থাকতে পারি, কিন্তু যৌনতা ছাড়া নয়’

অনলাইন ডেস্ক: তামিল ও তেলেগু ছবির জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু। যারা ‘মাক্ষি’ সিনেমাটি দেখেছেন, তাদের কাছে পরিচিত মুখ এই নায়িকা।  সম্প্রতি একটি ম্যাগাজিনের জন্য ফটোশুট করেন তিনি। সেখানে এক সাক্ষাৎকারে যৌনতা বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন নায়িকা।

ম্যাগাজিনের জন্য ফটোশুটে ফিউশনলুকে দেখা যায় তাকে। এথেনিক গয়নার সঙ্গে ওয়েস্টার্ন টুইস্ট দিয়েছিলেন। ম্যাগাজিনের ওই লুক নিয়ে যত না বেশি সমালোচনা করা হয়, তার থেকে অনেক বেশি আলোচিত হয় সামান্থার সাক্ষাৎকার। ম্যাগাজিনের জন্য ফটোশুট করতে করতেই তাকে একটি গেম খেলতে হয়। এই খেলায় তাকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা। কিন্তু তার উত্তর চিন্তা-ভাবনা করে দেওয়া যাবে না বলে জানানো হয়। যেই উত্তরই মাথায় আসুক না কেন সেটাই তাকে বলতে বলা হয়।  খেলার সময় তাকে প্রশ্ন করা হয় যে, যৌনতা ও খাবার এর মধ্যে কোনটাকে বেছে নেবেন সামান্থা। কোনও চিন্তা না করে সামান্থার অকপট উত্তর, ‘অবশ্যই যৌনতা। না খেয়ে আমি থাকতে পারি।’ এদিকে চলতি বছরের নভেম্বরে অভিনেতা নাগা চৈতন্যর সঙ্গে বিয়ে হবে সামান্থার। কিন্তু মনে মনে ইতিমধ্যেই চৈতন্যকে বিয়ে করে নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এছাড়া আপকামিং ছবি নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন সামান্থা। সূত্র: নিউজ ন্যাশন

‘গিভ অ্যান্ড টেক ছাড়া কিছু হয় না’

খুব অল্প সময়ে বলিউডে নিজের একটি ভালো অবস্থান তৈরি করেছেন ইয়ামি গৌতম। ‘সানাম রে’, ‘কাবিল’, ‘সরকার থ্রি’ ছবিগুলোতে কাজ করে দারুণভাবে সফলতা পেয়েছেন তিনি।

তারই স্বীকৃতিস্বরূপ সম্প্রতি ভারতের চেম্বার অব কমার্সের ‘ওমেন্স অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন তিনি। এটি পেয়ে দারুণ আনন্দিত ইয়ামি। সেই সঙ্গে বলিউড ও নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কিছু সত্য কথাও বলেছেন তিনি, সচরাচর যা অভিনেত্রীরা বলতে চান না। এ অ্যাওয়ার্ড গ্রহণের পর ইয়ামি বলেন, মুম্বইতে আমার কোনো গডফাদার নেই।

তাছাড়া বড় কোনো ব্যাকআপও নেই। এমনকি আমাকে এক্ষেত্রে সাহায্য করার মতোও কেউ ছিল না। এসব ছাড়াই আমি মডেলিং ক্যারিয়ার শুরু করেছিলাম। এরপর অভিনয়ে আসি। কিন্তু অনেক নেতিবাচক অভিজ্ঞতার মুখোমুখিও আমাকে হতে হয়েছে এখানে। সত্যি বলতে গিভ অ্যান্ড টেক ছাড়া কিছু হয় না। বলিউডও সেরকম একটি জায়গা। কিন্তু আমি এসবে অভ্যস্ত নই। তাছাড়া মেধা দিয়েই এগুতে চেয়েছি।

সেদিক থেকে বলতে পারি আমি যতটুকু এসেছি তার জন্য আমার পরিবার সব থেকে বেশি উৎসাহ আমাকে দিয়েছে। আমার চেষ্টাটাও ছিল শতভাগ। এই চেষ্টাটা সামনেও অব্যাহত থাকবে, এতটুকু কথা দিচ্ছি।

পরীর এক রাতের গল্প

বিনোদন প্রতিবেদক :ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। বেশকিছু সিনেমার শুটিং নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। আলোচিত এই নায়িকা বিভিন্ন সময় দর্শকদের চমক দিয়ে থাকেন। রোববার (৯ জুলাই) এক নাটকীয়তার মাধ্যমে নতুন সিনেমায় যুক্ত হলেন পরী।

এই নাটকীতার কিছু অংশ পরী তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে  ভক্তদের জন্য শেয়ার করেছেন।

পাঠকদের জন্য তা হুবুহু তুলে ধরা হলো- ঘুম থেকে উঠে মোবাইলটা হাতে নিতেই ‘কল মি আরজেন্ট’ লেখা একটা মেসেজ!  আমি কল করলাম। ওপাশ থেকে পরিচালক রানা স্যারের ‘হ্যালো- পরী আজ রাতটা আমাকে দিতে হবে।

সে তোমার যতই কাজ থাকুক।’

-জ্বী!!!

‘-হ্যাঁ, রাত ছাড়া ব্যাপারটা জমবে না।’

‘-কিহ্???’

‘-ওরে বাপ এখন কি কি করিস নাতো। রাতে দেখা হচ্ছে- আসছি আমি ১১ টার মধ্যে।’

ফোন রেখে দিলেন। আমি অনুভূতিহীন…………। রাত ১১টা ৪মিনিট। ইন্টারকম…রানা স্যার। আমিই দরজা খুললাম। তাড়াহুড়ো করে ঘরে ঢুকলেন। বসতে বসতে আমাকে বললেন- ‘বড় মগে করে আদা চা দিতে।’ 

………দিলাম। চা হাতে নিয়েই শুরু করলেন তার এক রাতের কাহিনি………..।  

তার পরের ছবির গল্প। স্যার গল্প বলছিলেন- আর আমি শুনছিলাম না শুধু, স্যারের বলার মধ্যেই যেন আমি পুরো ছবি দেখতে পাচ্ছিলাম। রাত ৩ টা প্রায়… একটা ইন্টারকম। কে এত রাতে!

স্যার বললেন, ‘আমার লোক আসতে বলো-’

স্যার দরজা খুললেন আর ভেতরে নিয়ে এলেন তার এক রাতের হিরোকে। কে এই চমক?!

ছবিতে তার একটা হাত, পুরোটা আসছে খুব শিগগির।

হা…হা, এক রাতের গল্প এই শুরু………..।

যুগল নির্মাতা অপুর্ব রানা পরিচালিত ‘এক রাতের জন্য’ নামের সিনেমার সঙ্গে পরীর ‍যুক্ত হওয়ার শুরুটা এভাবেই হয়েছে। পরীমনির বিপরীতে কে কাজ করবেন তা খুব শিগগির জানানো হবে বলে নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে।

ইউএনওর বিরুদ্ধে মামলাকারী আ.লীগ নেতা বহিষ্কার

বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃতির অভিযোগে বরিশালের আগৈলঝড়ার সাবেক (বর্তমানে বরগুনা সদর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারেক সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করা বরিশাল আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ ওবায়েদউল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান দলের  সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, ওবায়েদউল্লাহ সাজুকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না জানতে চেয়ে নোটিশ দেয়া হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে অতি উৎসাহী ওবায়দুল্লাহ সাজু মামলা করেছেন অহেতুক। আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্রের ৪৭ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউএনও নির্দোষ। তিনি বরং বাচ্চাদের আঁকা সবচেয়ে ভালো ছবিটাই ব্যবহার করেছেন। অতি উৎসাহী হয়ে মামলা করে সাজু দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে। আওয়ামী লীগ ইউএনওর পক্ষে।

বহিষ্কৃত ওবায়েদউল্লাহ সাজু বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি।

গত ৭ জুন ইউএনও তারেক সালমানের বিরুদ্ধে মামলা করেন ওবায়েদউল্লাহ সাজু। মামলায় অভিযোগ বলা হয়, গত বছর আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে ছাপানো আমন্ত্রণপত্রে পঞ্চম শ্রেণিপড়ুয়া এক শিশুর আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবি ব্যবহার করেন। এজন্য বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে ওই ইউএনওর বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন সাজু। জানাজানি হলে বিষয়টি নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে সক্রিয় মসলা সিন্ডিকেট

 পবিত্র ঈদুল ফিতর শেষ হলো মাত্র কয়েকদিন। ঈদুল আজহা অর্থাৎ কোরবানির ঈদ আসতে দেড় মাসেরও বেশি সময় বাকী। কিন্তু এরই মধ্যে কোরবানির ঈদের অন্যতম প্রয়োজনীয় পণ্য মসলা নিয়ে শুরু হয়ে গেছে তেলেসমাতি কারবার।

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের তরফ থেকে অভিযোগ উঠেছে, কৃত্রিম সঙ্কট দেখিয়ে দাম বাড়ানোর লক্ষ্যে এখন থেকেই সক্রিয় হচ্ছে মসলার সিন্ডিকেট। তারা সরকারের বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে থেকেই তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মসলা সিন্ডিকেট এবার টার্গেট করেছে রসুন ও আদাকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদে প্রায় সব মসলার দামই বাড়তি থাকে। বলতে গেলে এটা একরকম নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে মসলার বাজারে এবার উত্তাপ ছড়াবে রসুন ও আদা- এ আশঙ্কা করা হচ্ছে। মসলা আমদানিকারক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের আলোচনাতেও এ আশঙ্কার কথা প্রকাশ পেয়েছে। যদিও তারা বলছেন, এই দুটি পণ্যের সাথে যোগ হবে সয়াবিন তেল, শুকনো মরিচ ও হলুদ। অবশ্য, এরই মধ্যে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। কোরবানীর ঈদের আগে এসব পণ্যের দাম আর কমবে না।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মসলা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য থাকে সারা বছরের লাভ কোরবানীর ঈদ মৌসুমেই তুলে নেওয়া। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় কোরবানির ঈদে গরম মসলার চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, আদা ও শুকনা মরিচের চাহিদাও বাড়ে। চাহিদা বাড়ায় ব্যবসায়ীরা আমদানিও বাড়ান। চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জোগানও বাড়ে। কিন্তু বাড়তি চাহিদাকে পুঁজি করে ইচ্ছেমতো এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন অসাধু ব্যবসায়ীরা। এবারো তেমনটিই ঘটতে যাচ্ছে। রোজার ঈদের সময় মসলার দাম সেই যে বেড়েছে, তা এখন পর্যন্ত কমেনি। দিনে দিনে দাম কেবল বাড়ছেই।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকেই মসলা ও বিভিন্ন পণ্যের দাম আরও বাড়তে শুরু করবে বলে তারা ধারণা করছেন।

বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির নেতা হাজি এনায়েতুল্লাহ প বলেন, ‘ঈদ সামনে রেখে ব্যবসায়ীদের প্রস্তুতি আরো আগেই শুরু হয়ে গেছে। কারণ, মসলার বাজার অনেকটাই আমদানি নির্ভর। সেক্ষেত্রে এলসি সংক্রান্ত প্রক্রিয়া আগে থেকেই শুরু করতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘কোরবানির ঈদে মসলার চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানি ও সরবরাহ বাড়াতে হয়। এ কারণে অনেক সময় বাড়তি দামেও এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। এবারো চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে আমদানি হচ্ছে। ঘাটতির কোনো আশঙ্কা নেই।’

দাম বৃদ্ধির বিষয়ে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, ‘ভারতের বাজারে মসলার দাম গত বছরের মতো এবারো বাড়তি। এই প্রভাব দেশের বাজারে পড়তে পারে। তবে সবকিছু বলা যাবে আগস্টের শেষ দিকে।’

এদিকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সীমান্তে গরু ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি মসলার চোরাচালানীরাও সক্রিয় আছে। এ বিষয়ে বিজিবিকে যথেষ্ট সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সীমান্তের পরিস্থিতি আরো নাজুক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের দুয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

রাজধানীর দুয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এরই মধ্যে কিছু পণ্যের দাম বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে প্রতি কেজি আদার দাম বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। রসুনেরও একই অবস্থা। প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকা। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি কেজি লবঙ্গ ১৫০, জিরা ৪০, এলাচ ১২০ ও ধনে ১০ টাকা করে বেড়েছে।

পাইকারি বাজারে বৃহস্পতিবার দুপুরে দেখা গেছে, চীনা রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৬৭ টাকা দরে। অথচ খুচরা পর্যায়ে ২০০ টাকার কমে রসুন পাওয়া যাচ্ছে না। ভোক্তাদের অভিযোগ অস্বাভাবিক লাভ করছেন দোকানিরা। একই অবস্থা চীনা আদার ক্ষেত্রেও। পাইকারিতে যে আদা ৯০ থেকে ১০০ টাকা, সেটি খুচরায় ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি বাজারে বার্মিজ আদা ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে বৃহস্পতিবার প্রতি কেজি লবঙ্গ ১৩০০, জিরা ৪৫০, এলাচ ১৯০০, দারুচিনি ৩০০, কিসমিস ৩৫০ ও ধনে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়। দেশী পেঁয়াজ ৪৫ থেকে ৪৮, আমদানি করা পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫, দেশী রসুন ১৬০ থেকে ১৭০, আমদানি করা চীনা রসুন ১৯০ থেকে ২০০ ও আদা বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে। মোকাম থেকে বেশি দামে কিনতে হয় বলে দাম বেড়েছে এমনটি জানান বিক্রেতারা।

ভারত থেকে দুই ধরনের শুকনা মরিচ আমদানি হয়। একটির ঝাল বেশি, অন্যটির তুলনামূলক কম। বৃহস্পতিবার বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় শুকনা মরিচ (ঝাল বেশি) বিক্রি হয় ১২৫-১২৮ টাকায়। ঈদের পর পরই বাজারে একই মানের মরিচ ১০০-১০৫ টাকায় বিক্রি হয়। সেই হিসাবে তিন সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে প্রায় ২০ টাকা। ঈদের পর বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় শুকনা মরিচ (ঝাল কম) বিক্রি হয় ৭৮-৮০ টাকা দামে। কেজিতে প্রায় ২৫ টাকা বেড়ে বর্তমানে এ জাতের মরিচ ১০৫-১০৭ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে।

বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, কোরবানির ঈদে মসলার যে পরিমাণ চাহিদা থাকে, তা সারা বছরের চাহিদার চেয়ে বেশি। সুযোগ বুঝে অতিরিক্ত মুনাফার লোভে মসলা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এ সময় বেশ তৎপর হয়ে ওঠে। এবারো বাজারের চাহিদাকে পুঁজি করে তারা তৎপর। দফায় দফায় বাড়ছে মসলার দাম। অথচ আমদানিকারকেরা মসলার চাহিদার দিকে দৃষ্টি রেখে যথেষ্ট পরিমাণ আমদানি করেছেন যেন ঘাটতি না পড়ে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের বাজারে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নেই, ব্যবসায়ীদের নৈতিকতাও নেই। ক্যাবের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হচ্ছে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য। কিন্তু উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি নেই। ফলে সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীরা বেপরোয়া হচ্ছে। আশঙ্কা রয়েছে এবারো।

যদিও আশার বাণী শুনিয়েছেন বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু। ‘কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে মসলা ও অন্যান্য পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির উদ্দেশে কোনো পণ্য মজুত করে রাখতে না পারে সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর বাজার মনিটরিং আরো জোরদার করবে। যে কেউ এ ধরনের অপতৎপরতার সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।