All posts by lutfor

জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার হাতিয়ার সংস্কৃতি

সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন, দেশে জঙ্গিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সেটা আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। দেশীয় সংস্কৃতির মাধ্যমেই একমাত্র জঙ্গিবাদ প্রতিহত করা সম্ভব।

শুক্রবার বিকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘রঙ্গে ভরা বঙ্গ’ এর আয়োজনে দুইদিন ব্যাপি ‘লোকমেলার পার্বণ উৎসব’ অনুষ্ঠানের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জঙ্গিবাদ প্রতিহত করার একমাত্র হাতিয়ার হচ্ছে দেশীয় সংস্কৃতি। শুধু মুখে বললেই হবে না, সর্বস্তরে আমাদের সংস্কৃতির চর্চা করে তা প্রতিহত করতে হবে।’

দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা আমাদের দেশীয় অনুষঙ্গ দিয়ে করতে হবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে গেলে আমাদের শিল্পীরা বিদেশি বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করেন। এতে আমাদের সম্মান বাড়ে না বরং কমে। বিদেশিরা এটি ভালোচোখে দেখে না। সুন্দর, সুস্থ সমাজ সমাজ গঠনের জন্য আমাদের দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা বেশি বেশি করে করতে হবে।’

‘লোকমেলার পার্বণ উৎসব’ অনুষ্ঠানের প্রথম দিন পরিবেশিত হয় গাজীরপট, লালকাঁচ ও ভাষার গান। নরসিংদীর ফজল আলীর দল পরিবেশন করে গাজীরপট, বিক্রমপুর থেকে আসা অজিৎ গোস্মামীর দল-লালকাঁচ ও টাঙ্গাইল থেকে আসা রহিম বাদাইমার দল ভাসান গান পরিবেশন করে।

‘লালকাছ’ দলের পরিবেশনার শুরুতে ঢাকের বাড়িতে মাতিয়ে তোলে প্রাঙ্গণ। সঙ্গে ছিল দলীয় নৃত্য। লাল রঙ মেখে হাতে তলোয়ার নিয়ে ঢোলের তালে তালে শিল্পকলা একাডেমির প্রাঙ্গণ মাতিয়ে তোলা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান খান কবির, শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন শিল্পী নিসার হোসেন, বাংলা একাডেমির ফোকলোর বিভাগের পরিচালক সাহিদা আক্তার, লোক গবেষক মোহাম্মদ আসাদ, রঙ্গে ভরা বঙ্গের পরিচালক ইমরাম উজ-জামান, জাহিদ হোসেন।

শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া লোকমেলার পার্বণ উৎসবের আয়োজন শেষ হবে আগামীকাল শনিবার। বিকাল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হবে রাত ৮টায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের দুর্লভ ছবি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৌহিত্র ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ৪৭তম জন্মদিন আজ ২৭ জুলাই বৃহস্পতিবার। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ২৭ জুলাই অবরুদ্ধ ঢাকায় পরমাণু বিজ্ঞানী এমএ ওয়াজেদ মিয়া ও শেখ হাসিনার প্রথম সন্তান জয়ের জন্ম হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধ জয়ের পর তার নাম ‘জয়’ রাখেন নানা শেখ মুজিবুর রহমান।

জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের নেতারা ফেসবুকে ছবিসহ জয়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এমনই একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম লিখেছেন, ‘মা-বেটা! কত শত বাধা আর চক্রান্ত গত ৪৫ বছর ধরে তারা পাড়ি দিয়ে আসছেন। মহান আল্লাহতালা রাব্বুল আল আমিন তাদের সহিসালামতে রাখুন।’

এদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় ফেসবুকে লিখেছেন, ‘জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আলাদাভাবে উত্তর দিতে না পারায় আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। সকলের জন্য আমার শুভ কামনা।’

হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী গ্রেপ্তার

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী নব্য জেএমবির নেতা রাশেদ (২৪) ওরফে আবু জাররাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নাটোরের সিংড়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার গ্রামের বাড়ি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলায়।

বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী জানান, বগুড়া জেলা পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে নাটোরের সিংড়া বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আবু জাররাকে গ্রেপ্তার করে। তিনি নব্য জেএমবির নেতা। এ ছাড়া তিনি রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী। দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিন আর নেই

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী এবং ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) জিয়াউদ্দিন আহমেদ আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শুক্রবার ভোরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মেজর জিয়াউদ্দিনের ভাই কামালের বন্ধু দুলাল এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মেজর জিয়াউদ্দিনের অনেকদিন থেকেই অসুস্থ ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১ জুলাই তাকে ভর্তি করা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। আইসিইউতে রাখার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে কেবিনে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্ট্রোক করলে ১১ জুলাই সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় স্বাধীনতার এই সূর্য সন্তানকে।

পরে মেজর জিয়ার স্ত্রী কানিজ মাহমুদা জানিয়েছিলেন, তার লিভার সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। দ্রুত লিভার প্রতিস্থাপন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প পথ নেই। দেশে সম্ভব না হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়।

বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন পিরোজপুর জেলা শহরের সাবেক পৌর চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দীন আহম্মেদের ছেলে। ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন এবং সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট পদে যোগদান করেন। তিনি ১৯৭১ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে পশ্চিম পাকিস্তানে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে জুলাই মাসে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে যোগ দেন মহান মুক্তিযুদ্ধে। দায়িত্ব পান ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন অঞ্চলের সাব সেক্টর কমান্ডার হিসেবে। মুক্তিবাহিনীর জেড ফোর্সের অধীনে প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

বীরত্বের সঙ্গে সুন্দরবন অঞ্চলকে শত্রুমুক্ত রাখার জন্য তাকে সুন্দরবনের ‘মুকুটহীন সম্রাট’ বলা হয়। সুন্দরবন রক্ষার জন্য তিনি ‘সুন্দরবন বাঁচাও’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন। কখনও জেলেদের নিয়ে, কখনও প্রশাসনের সহায়তায় ওই অঞ্চলে ডাকাত নির্মূলে তিনি ভূমিকা পালন করেন। ডাকাতরা কয়েকবার তাকে হত্যার চেষ্টা করে।

আগামী নির্বাচনে পদ্মা সেতু দিয়ে প্রধান মন্ত্রী পতাকা উড়িয়ে দক্ষিন অঞ্চল সফর করবেন চরফ্যাসনে উপমন্ত্রী জ্যাকব……….

সিরাজ মাসুদ, ভোলা ॥
বন ও পরিবেশ উপমন্ত্রী আব্দুলা আল ইসলাম জ্যাকব বলেছেন,
আগামী নির্বাচনের আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেখ
হাসিনা তার নির্বাচনী পতাকা উড়িয়ে ঐ পদ্মা সেতু দিয়ে
দক্ষিণঅঞ্চল সফর করবেন। তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে চরফ্যাসন
উপজেলা সেচ্ছা সেবক লীগ আয়োযিত সেচ্চাসেবক লীগ
সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে টাউন হল
রুমে প্রধান অতিথীর বক্তব্যে এ কথা বলেন। জ্যাকব আরো বলেন,
২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে আমি চরফ্যাসন উপজেলার
প্রতিটি গ্রামে, প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ এর আলোতে
আলোকিত করে দিব।
এ সময় উপজেলা চেয়ারম্যান জয়নাল আবদীন আখন, উপজেলা
আওয়ামীলীগের সভাপতি নুরুল ইসলাম ভিপি, পৌর মেয়র শ্রী
বাদল কৃঞ্চ দেবনাথ, সেচ্চাসেবক লীগ সভাপতি ইঞ্চিনিয়ার
আব্দুল মান্নান সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া ও ইউনিয়ন সারাধন সম্পাদক প্রভাষক আবুল
বাশার,রসুলপুর ইউনিয়ন সভাপতি মাস্টার সাইদুর রহমান,
উপজেলা সেচ্চা সেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান,
সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মান্নান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

ধর্মপাশায় প্রাণীস্পদ সেবা কেন্দ উদ্বোধন।

মিঠু মিয়া র্ধমপাশা (সুনামগঞ্জ) প্রতনিধিি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার প্রাণিসম্পদ
অদিদপ্তরের এ টু আই প্রজেক্টের আওতাধীন ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রাণীসম্পদ সেবা কেন্দ্র উদ্বোধন ও
অবহিতকরণ কর্মশালা মধ্যনগরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১২টায় ধর্মপাশা উপজেলা প্রাণিসম্পদ
অদিদপ্তর এই কর্মশালার আয়োজন করে। এ উপলক্ষে স্থানীয় কৃষকদের ১৫০টি গরু-বাছুরকে বিনামূল্যে
তরকা ও বাদলা রোগের ভ্যাকসিন প্রদান এবং কৃমি নাশক টেবলেট বিতরণ করা হয়েছে। উক্ত অবহিতকরণ
সভায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম মিয়া,
মধ্যনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রবির বিজয় তালুকদার, মধ্যনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব মোঃ
সেলিম নেওয়াজ, এসআই বাবু দিপঙ্কর সরকার, মধ্যনগর বাজারের সুধীজন সূর্যলাল মাষ্টার,অফিস
সহকারি আব্দুল কাইয়ুম তালুকদার প্রমুখ

‘জিহাদি’ সংগ্রহের চেষ্টায় নব্য জেএমবি

ধারাবাহিক অভিযানে জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবি দুর্বল হয়ে আসলেও তারা সদস্য সংগ্রহের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগে গ্রেপ্তারদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এমন সব তথ্য বেরিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

বুধবার রাজধানীতে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখায় র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বাড্ডায় গ্রেপ্তার জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের তিন সদস্য সংগঠনের পক্ষে কর্মী ও অর্থ সংগ্রহ, জিহাদে উদ্ধুদ্ধকরণ ও হিযরতের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক নেয়ার দায়িত্বে ছিল।

বুধবার সকালে বাড্ডার আফতাবনগর এলাকায় গোপন বৈঠক করার সময় এই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরা হলেন মুশফিকুল হক, বিপ্লব হোসেন ওরফে সুন্নাহ কামাল ওরফে মাওলানা কামাল হোসেন বিপ্লবী ও মামুনুর রশিদ ওরফে আবু ইউশা।

র‌্যাব কর্মকর্তা তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, এই তিন জন ইমাম মেহেদী নামে একজন বড় ভাইয়ের তত্ত্বাবধানে জেএমবির সারোয়ার তামিম গ্রুপের পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত ছিল।

এ ছাড়া গত ১০ এপ্রিল র‌্যাবের একটি দল মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের একটি বাড়িতে আভিযান চালিয়ে ফাতেমা আক্তার রুমা এবং উত্তরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে  জাইদুল হক জিহান নামে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের দুইজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই এ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতদের বরাত দিয়ে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, মুশফিকুল হক বিগত ২০১২ সাল থেকে ‘রিটার্ন টু ইসলাম’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। সংগঠনটি উগ্র মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ ছিল। এই সংগঠনের অন্যতম পৃষ্ঠপোষক মামুনুর রশিদ ওরফে কাজল ওরফে ইবনে আজিজুর রহমান প্রথমে তাকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের আদর্শে অনুপ্রাণিত করে।

মামুনুর রশিদ ওরফে কাজল গত ছয় থেকে সাত মাস যাবৎ নিজ এলাকা সিলেট থেকে নিখোঁজ রয়েছেন।

র‌্যাবের দাবিম মুশফিকুল মহাখালীতে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য ঢাকায় আসলে ইমাম মেহেদী, বিপ্লব হোসেন কামাল ওরফে সুন্নাহ কামাল ওরফে মাওলানা কামাল হোসেন বিপ্লবী, তাওহীদসহ কয়েকজন তাকে মহাখালী কেন্দ্রিক সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য হিসাবে প্রথমে অনুবাদক হিসেবে নিয়োজিত করে।

মুশফিকুল র‌্যাবকে জানান, সাজিদ হাসান, তৌহিদ এবং পূর্বে গত ১০ এপ্রিল গ্রেপ্তার জাইদুল হক জিহান এবং ২০১৬ সালে গাজীপুরে জঙ্গি অভিযানে নিহত জঙ্গি অপুসহ কয়েকজন মিলে তারা ঢাকায় ফার্মগেটের একটি বাসায় নিয়মিত জঙ্গিবাদের গোপন মিটিংয়ে মিলিত হতেন। মুশফিকুল মোবাইলে বিভিন্ন সাংকেতিক বার্তা সংশ্লিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট বার্তা আদান প্রদান, জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ভিডিও, বিভিন্ন আর্টিকেলের পিডিএফ কপি এবং জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ফান্ডের অর্থায়নে সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি সর্বদাই বিভিন্ন সাংকেতিক বার্তার মাধ্যমে অত্যন্ত গোপনীয়ভাবে জঙ্গি সংগঠনের অর্থায়নসহ সংগঠকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

গ্রেপ্তারকৃত মামুনুর রশিদ ওরফে আবু ইউশা জানান, তিনি ইমাম মেহেদী এবং তাওহিদের মাধ্যমে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে জঙ্গিবাদি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। আরবি ভাষায় দক্ষতা থাকায় তিনি সাংকেতিক বার্তা সংশ্লিষ্ট অ্যাপসের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি সংশ্লিষ্ট আর্টিকেল সংগ্রহ করে অনুবাদের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।

জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কাজে ব্যবহার করার জন্য ইমাম মেহেদীকে বেশকিছু ভূয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করা সিম দেন এবং ইন্টারনেট থেকে জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ভিডিও সংগ্রহ ও সরবরাহ করতেন।

বিপ্লব হোসেন কামাল ওরফে সুন্নাহ কামাল জানান, তিনি ইমাম মেহেদী, সাজিদ, তাওহিদ এবং অন্যান্যদের মাধ্যমে হলি আর্টিজান ঘটনার পূর্ব থেকেই জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সদস্য হিসেবে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণ ও অংশগ্রহণের জন্য কর্মী সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত ছিল। একটি আইটি কোম্পানিতে চাকরির সুবাদে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি সংশ্লিষ্ট ভিডিও, পিডিএফ বই, আর্টিকেল ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ ও সরবরাহের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এগুলো পরে বাংলায় অনুবাদ করা হতো। তিনিও দেশিও প্রবাসীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সংগঠনকে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা করছিলেন।

কামাল জানান, পরিবারের কাউকে কোনো কিছু না বলে বেশ কিছুদিন আগে তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান।

খালেদা জিয়া লন্ডন যাবার পর সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে : রিজভী

সরকার আবারো ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যাওয়ার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের এজেন্সিগুলো বিএনপির সিনিয়র নেতাদের উদ্ধৃত করে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এবার সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অবিশ্বাস্য কল্পকাহিনী প্রচার করা হচ্ছে। মূলত বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাবার পর সরকারের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। তাদের জনপ্রিয়তা শুণ্যে চলে আসায় এখন দেশবাসী ও বিএনপির সাধারণ নেতাকর্মীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টির জন্য সরকারী এজেন্সিগুলোকে মাঠে নামিয়ে দেয়া হয়েছে।
নয়া পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের নামে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বিবৃতি একটি ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। দু’দিন আগেও তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে ভাইস চেয়ারম্যান এম মুর্শেদ খানের নাম ব্যবহারের মাধ্যমে বানোয়াট, অসত্য, মনগড়া বক্তব্য একটি ওয়েবসাইটে প্রচার করা হয়েছে। যার সাথে মুর্শেদ খানের কোনো সম্পর্কই নেই। তারা বিএনপি নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা করছে। ১/১১এর সরকারওতো কত অপচেষ্টা করেছিল কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আপনারাও পারবেন না।
রিজভী বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর নিয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা কতই না প্রলাপ বকছেন। তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন গেছেন। অথচ প্রথমে আওয়ামী লীগের নেতারা বললেন-বেগম খালেদা জিয়া মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন, এখন তারা বলছেন-বেগম জিয়া ষড়যন্ত্র করতেই লন্ডন গেছেন। এরপর হয়তো তারা আবার আরেক নতুন তত্ত্ব দিবেন।
তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন জোটের মন্ত্রী ও নেতারা মুনাফা, নগদ লাভ ইত্যাদির জন্যই প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করতেই লন্ডনে দেশনেত্রীর চিকিৎসা নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াতেই ষড়যন্ত্রতত্ত্বে মেতেছেন। দেশে তাদের সৃষ্ট দারিদ্র, অবিচার, নিষ্ঠুর নিপীড়ণ আর গুম, খুন ও লাশ ফেলার রাজনীতি ঢেকে ফেলার জন্যই এরা লন্ডনে চিকিৎসাধীন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
রিজভী বলেন, মামলার ভয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন এই আওয়াজ তুলে আওয়ামী নেতৃবৃন্দ নিজেরাই এক্সপোজ হয়ে গেছেন। বিপদের মূহুর্তে পলাতক কারা। কারা বারবার জনগণের সাথে বেঈমানী করেছে, সেটি জনগণ খুব ভাল করে জানে। গায়ের জোরে ইতিহাস লেখানো হলেও মানুষের অন্তরে সত্য ইতিহাস উদ্ভাসিত। আর আওয়ামী লীগের একটি স্বকীয় পরিমার্গ হচ্ছে-চক্রান্ত। আওয়ামী লীগের কর্মকান্ডের মাধ্যমেই এদেশের মানুষ চক্রান্ত শব্দটির সাথে পরিচিত হয়েছে।
তিনি বলেন, এরাই প্রথম বহুদলীয় গণতন্ত্রকে নির্মমভাবে দড়িতে লটকিয়ে ১ নম্বর বাকশাল কায়েম করে বাক-ব্যক্তি ও সংবাদত্রের স্বাধীনতাসহ নাগরিক স্বাধীনতাকে সমাধিস্থ করে। এরা এরশাদের অধীনে নির্বাচনে না যাবার অঙ্গীকার করে এরশাদের সাথে মিলে চক্রান্তের মাধ্যমে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সেই নির্বাচনে অংশ নেয়ার ঘোষনা দিয়ে জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে। এরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য রক্তক্ষয়ী তান্ডব চালিয়ে আবারো চক্রান্তের মাধ্যমে সেটিকে বাতিল করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। সংবিধান ও গণতন্ত্রকে পাথরচাপা দিতে যারা ভূমিকা রেখেছিল সেই মঈনউদ্দিন-ফখরুদ্দিন এর সরকারকে তাদের আন্দোলনের ফসল হিসেবে উল্লেখ করে তাদের সাথে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে ২ নম্বর বাকশাল কায়েম করে। ’৭১ এবং এর পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে পলায়ন ও আত্মসমর্পণের ইতিহাস শুধুই আওয়ামী লীগের। বর্তমান শাসকদল নির্দয়কর্তৃত্ত্ববাদী, কুৎসারটনাকারী, মিথ্যুক।
রিজভী আরো বলেন, আমি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-বিএনপি নয়, ষড়যন্ত্র করছেন আপনারা। তার উপর আপনাদের সাথে আছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাহেব। সুতরাং ষড়যন্ত্রের ব্যাপকতা কত ভয়াবহ হতে পারে তা দেশবাসী প্রত্যক্ষ করছে।
আর সেই কারনে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিগুলোকে মাঠে নামিয়ে মিথ্যা কল্পকাহিনী রচনা করে বিএনপি’র সিনিয়র নেতাদের নামে বদনাম ও কুৎসা রটানোর অপচেষ্টা করছে। এসব ষড়যন্ত্রমূলক রটনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ৫ জানুয়ারীর মতো একতরফা নির্বাচন করা। তাতে কোনো লাভ হবে না। নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনেই আগামী সাধারণ নির্বাচন হবে।
তিন বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ইস্পাতকঠিন মনোবলে ঐক্যবদ্ধ। কাজেই চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র-নীল নকশা করে আর পার পাওয়া যাবেনা। চারিদিকে আপনাদের বিদায়ের সুর ধ্বণিত হচ্ছে। পরিবর্তনের বাতাস বইছে সর্বত্র। এটি ঠেকানো যাবে না। জুলূম-নির্যাতন ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে কোন স্বৈরাচার ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারেনি, পারবেনা।

এখন আর সংবিধান সংশোধনের কোনো সুযোগ নেই : ওবায়দুল কাদের

এখন আর সংবিধান সংশোধনের কোন সুযোগ নেই মন্তব্য করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সহায়ক সরকার তো থাকবেই। শেখ হাসিনার সরকার সহায়ক সরকার হিসেবে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা দেবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন দরকার। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ হলে নির্বাচনও নিরপেক্ষ হবে। সরকারের এখানে দায় দায়িত্ব যেটা সেটা নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করা।

তিনি আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

বিএনপির আন্দোলন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক এজেন্ডা, কোনো কর্মসূচি ঠিক থাকছে না। বেগম খালেদা জিয়া ঈদ পরবর্তী দুর্বার আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই আন্দোলন এখন লন্ডনে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে।

বর্ষার বৃষ্টিপাতকে সড়কের ক্ষতির কারণ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রবল বর্ষণে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব সড়ক ব্যবহার উপযোগী রাখা। কোনোভাবে রাস্তা বন্ধ থাকবে না। এজন্য প্রয়োজনে প্রকৌশলীদের ২৪ ঘন্টা রাস্তায় থাকতে হবে, এটা আমার নির্দেশ।

আগস্টে দেশে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা : পানিসম্পদ মন্ত্রী

পানিসম্পদমন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, বাংলাদেশে প্রকৃত বন্যা বলতে যা বোঝায় সেটি এখনও হয়নি। এ বছরের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে- আগামী আগস্ট মাসে দেশে বড় ধরনের বন্যা হতে পারে। সেই আশঙ্কা আমাদের আছে। বেশিরভাগ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে থাকলেও আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে বড় বন্যার আশঙ্কা করে তা মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থেকে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বন্যার আগে বাঁধগুলো মেরামত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গতকাল (আজ বুধবার) সকাল সাড়ে ১২টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সভাকক্ষে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয়দিনের তৃতীয় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। অধিবেশন শেষে বের হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পানিসম্পদ মন্ত্রী তার এ আশঙ্কার কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলমের সভাপতিত্বে সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই কার্যঅধিবেশনে অংশ নেন।
ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, প্রকৃত বন্যা বলতে যা বোঝায় সেটি এখনও আমাদের দেশে হয়নি। যখন পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা নদীর পানি এক সঙ্গে বাড়ে তখনই প্রকৃত বন্যা হয়। তবে বন্যা হয়েছে ভারতে, সেখানে মানুষ মারা গেছে। কিন্তু আমাদের দেশে এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, বেশিরভাগ নদীর পানি বিপদসীমার নিচে আছে। জলাবদ্ধতা আর বন্যার পার্থক্য কিন্তু আপনাদের বুঝতে হবে। সাধারণত বড় বন্যা হয় যখন যমুনার পানি, পদ্মার পানি এবং মেঘনার পানি এক সাথে বাড়ে। সাথে যদি সাগরে তখন অমাবস্যা থাকে, তখন বন্যার প্রকোপ হয়। এবার ইতোমধ্যে দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়েছে। সেজন্য আমরা একটা ওয়ার্নিং দিয়ে রাখছি যে (বড় বন্যার) একটা সম্ভাবনা আছে।
ডিসিদের কী নির্দেশনা দিয়েছেন- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পানিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ডিসিরা বন্যার বিষয়ে কোনও কথা বলেননি। তারা নদী ভাঙন রোধ নিয়ে আলোচনা করেছেন। আমরা তাদের বলেছি, এখন থেকে মন্ত্রণালয়ের যে বরাদ্দ থাকে তার অর্ধেক ব্যয় করবো নদী শাসন কাজে। এ কাজ করতে ডিসিদের কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া পানি নেমে গেলে বাঁধ সংরক্ষণ করতে ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছি। ডিসিরা নদী ভাঙন নিয়ে কথা বলেছেন জানিয়ে আনিসুল ইসলাম বলেন, নদী ভাঙবেই, নদীর একটা জিনিস আমরা বুঝতে চাই না, নদীগুলোর ক্যাচমেন্ট এরিয়ার ৯৩ ভাগ কিন্তু বাংলাদেশের বাইরে। তিনি বলেন, এখন দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে পানি বেড়েছে তা মূলত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পানি। আমাদের দেশে সাধারণত বন্যা হয় আগস্ট মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে। কিন্তু এবার যেটা হয়েছে তা মূলত বৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির ফল। ইতোমধ্যে অন্য বছরের তুলনায় ২/৩ গুণ বৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে অনেক জায়গায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
আনিসুল ইসলাম বলেন, বন্যা অর্থ যেটা আমরা বোঝাই, সেই বন্যা কিন্তু এখনও কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। যেটা হচ্ছে সেটা হচ্ছে বাঁধের বাইরের জায়গা যেগুলো আছে সেগুলো এবং এই জায়গাগুলো কিন্তু রাখা হয়েছে নদীর পানি প্রবাহের জন্যই। বন্যা হয়েছে যমুনার যে চরগুলো আছে সেখানে, বন্যা এখন হচ্ছে চট্টগ্রামের দিকে। তিনি বলেন, ভাঙনের যে সমস্যাগুলো আছে সেগুলো আমরা দেখছি। ভাঙন প্রতিরোধ করা খুব ব্যয়সাদ্ধ বিষয়। যে রিসোর্স আছে সেই রিসোর্সের মধ্যে করার চেষ্টা করছি। আমরা বিভিন্ন জায়গায় প্রকল্প নিয়েছি। এর সঙ্গে খনন ও ড্রেজিং যোগ করেছি। আগামীতে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মোট বাজেটের অর্ধেক অর্থ ড্রেজিংয়ের জন্য ব্যয় করা হবে বলেও জানান তিনি