All posts by lutfor

ষোড়শ সংশোধনী: সংবাদ সম্মেলনে আসছেন আইনমন্ত্রী

ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায়ের প্রতিক্রিয়া জানাতে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম জানান, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে গণমাধ্যম থেকে আইনমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে তিনি বলেছিলেন, আদালতের পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে এ বিষয়ে কথা বলবেন। এজন্যই বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে নিতে ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ৯৬ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়, যা ষোড়শ সংশোধনী হিসেবে পরিচিত।

এরপর সুপ্রিম কোর্টে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ২০১৬ সালে সংবিধানের ওই সংশোধনী ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকে, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গত ১ আগস্ট প্রকাশ হয়।

৮০টি দেশকে ভিসামুক্ত সুবিধা দিচ্ছে কাতার

কাতার ৮০ টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা মুক্ত সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ৩৩টি দেশের নাগরিকরা ১৮০ দিন দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। বাকি ৪৭টি দেশের নাগরিকরা ৩০ দিন অবস্থান করতে পারবেন।

নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিবেচনায় এই সুবিধা দেওয়া হবে বলে দেশটি জানিয়েছে। গতকাল বুধবার দেশটি এই ঘোষণা দেয়।

কাতারের পর্যটন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হাসান আল ইবরাহিম জানান, পর্যটনে সরকার ঐতিহাসিক পরিবর্তন আনতে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন দেশের নাগরিকরা কাতারে এধরনের ভিসা মুক্ত সফরের সুবিধা পাবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। সেটি করতে রীতিমত কাতারের সঙ্গে বিভিন্ন দেশগুলোর সম্পর্ক পর্যালোচনা করেই তালিকা তৈরি করা হবে।ওই তালিকায় আরো নতুন দেশও যুক্ত হতে পারে।

হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের পাসপোর্ট বিভাগের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ রাশিদ আল মাজরোই জানান, প্রাথমিকভাবে এই ৮০টি দেশের নাগরিকদের কাতার সফরে ভিসা ফি দিতে হবে না। তবে তালিকায় ৮০টি দেশের স্থান দেওয়ার ব্যাপারে সফরকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা ও তার অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনা করা হবে। এছাড়া কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতাও এ ব্যাপারে কাজে লাগানো হবে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

খালেদা জিয়ার ডান চোখে সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন

লন্ডন যাওয়ার ২৪ দিন পর বিখ্যাত মরফিল্ড চক্ষু হাসপাতালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ডান চোখের অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। লন্ডন সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অপারেশনের তিন ঘণ্টা পর তিনি তাঁর বড় পুত্র ও বিএনপির সিনিয়র ভাইসচেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় ফেরেন। বেগম জিয়া সুস্থ আছেন এবং দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে তিনি পুর্নবিশ্রামে রয়েছেন।

এর আগে ২০১৫ সালের ১ অক্টোবর লন্ডনের একই চক্ষু হাসপাতালে খালেদা জিয়ার বাম চোখের অস্ত্রোপচার করা হয়। অতঃপর কয়েক মাস পরে ডান চোখেও অপারেশন করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু তিনি ওই বছরের ২১ নভেম্বর লন্ডন হতে দেশে ফেরেন। তার প্রায় দুই বছর পর লন্ডন গিয়ে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ডান চোখে অপারেশন করালেন। অস্ত্রোপচারসহ সার্বিক চিকিৎসা প্রক্রিয়া সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন তারেক রহমান। পুত্রবধূ ডা. জোবায়দা রহমান ও শর্মিলা রহমানও বেগম জিয়াকে সার্বক্ষণিক দেখভাল করছেন।

লন্ডন থেকে বিএনপির চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার জানান,বেগম খালেদা জিয়া সুস্থ আছেন এবং দ্রুত আরোগ্য লাভের জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেছেন। তারেক রহমানও তার মায়ের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

গত ১৫ জুলাই খালেদা জিয়া চোখ ও পায়ের চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান। তিনি পুরোপুরি চিকিৎসা শেষ করেই দেশে ফিরবেন। সেখানে সন্তান, দুই পুত্রবধূ ও নাতনীদের সাথে ঈদ উদযাপন করবেন।

অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে সাংবাদিকতার শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ

সেই ১৯৬২ সাল থেকে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা শেখাচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ। আজ সেই বিভাগেরই একজন শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের বিরুদ্ধে অপসাংবাদিকতায় লিপ্ত হয়েছে কয়েকটি গণমাধ্যম।

সেই অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন বিভাগের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এতে অংশ নিয়ে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন বিভাগের কয়েকশ শিক্ষক, ছাত্র ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে মানববন্ধন করেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ এবং বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এই মানববন্ধনের আয়োজন করে।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বিভাগের সাবেক চেয়ারপারসন ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম, বর্তমান চেয়ারপারসন ও অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও আইন বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ, সিনেট সদস্য ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. আ জ ম শফিউল আলম ভূঁইয়া, নীল দলের সাবেক আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন, দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক আনিস আলমগীর, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস ও সামিয়া রহমান প্রমুখ।

এ সময় অধ্যাপক শেখ আবদুস সালাম বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক অভিন্ন সত্তা। আমাদের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল নেতৃত্বদানকারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান দেশ ও জাতির পথপ্রদর্শক। কিন্তু গত কয়েকদিন আগে থেকে আমরা লক্ষ করছি কয়েকটি গণমাধ্যম এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা সাংবাদিকতার নামে একধরনের অপপ্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যমের বস্তুনিষ্ঠতাকে হারাচ্ছে।’ বস্তুনিষ্ঠতা সাংবাদিকতাকে বাদ দিয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আবদুস সালাম আরো বলেন, একধরনের সাংবাদিক আছেন যাঁরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট অধিবেশনের আহ্বান ও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ না জেনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রহমত উল্লাহ বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজ বিনির্মাণে এর অবদান সবচেয়ে বেশি। কিন্তু সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে যাঁরা দেশ নির্মাণ করতে চান, তাঁরাই আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং এ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করছেন। তাঁরা আইন বোঝেন না, সংবিধান বোঝেন না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিককে সৎ ও সত্যের প্রতীক আখ্যায়িত করে অধ্যাপক রহমত উল্লাহ বলেন, তিনি (আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক) হচ্ছেন মানবতা ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তাঁর যে মহত্ত্ব ও আদর্শ তা অতি অসাধারণ। অথচ আজ কিছু মিডিয়া তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার করছে।

সাংবাদিকতা নিজে আক্রান্ত হচ্ছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টেলিভিশন, ফিল্ম অ্যান্ড ফটোগ্রাফি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. আ জ ম শফিউল আলম ভূঁইয়া বলেন, সম্প্রতি উপাচার্যকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম যে সংবাদ প্রচার করছে তাঁর দ্বারা সাংবাদিকতা নিজে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়কে আক্রান্ত করছে। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।

শফিউল আলম ভূঁইয়া আরো বলেন, উপাচার্যের কী দোষ যে তাঁর বিরুদ্ধে আজ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আজ বিশ্ববিদ্যালয় শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো সেশনজট নেই। এখানে কোনো ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয় না। এগুলোই তাঁর দোষ? আর এসব সহ্য করতে না পেরে কিছু সুযোগসন্ধানী তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র শিক্ষক সমিতি শক্তভাবে মোকাবিলা করবে বলে উল্লেখ করেন সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম ভূঁইয়া।

উপাচার্যকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে

মানববন্ধনে মানবকণ্ঠের সম্পাদক আনিস আলমগীর বলেন, এটা এমন একটা সময় যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর উপাচার্যকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হচ্ছে। বিশেষ করে উপাচার্যের নাম ধরে ব্যঙ্গ করছে আমাদেরই খুব কাছের লোক, সেটা নিন্দনীয়। তিনি বলেন, কেউ ২৪ ঘণ্টা টেলিভিশন চালিয়ে যদি সেখানে চার ঘণ্টা নিজের চেহারাই দেখায়, তাহলে রাস্তার মানুষও সো কলড (তথাকথিত) সেলিব্রিটি হতে পারে। ঘরে ঘরে নাম পাওয়া মানেই সেলিব্রিটি না।

গণমাধ্যম একটা এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে

বর্তমান পরিস্থিতিতে মানববন্ধনের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সামিয়া রহমান। তিনি বলেন, গণমাধ্যম কয়েকদিন ধরে যে কাজ করছে সেটা একটা এজেন্ডা বাস্তবায়ন। যারা করছে তাদের ব্যাকগ্রাউন্ড যদি দেখেন দেখা যাবে দেশের ১/১১ সময় তাদের ভূমিকা একই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গত কয়েক বছরে একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। সেশনজট নেই। ঠিকমতো ক্লাস না নিলে আমাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ব্যবস্থা নেওয়ারও সুযোগ আছে।

তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে চায়

মানববন্ধনের সঞ্চালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক মফিজুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে অপশক্তিগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সেই সক্রিয় হওয়ার লক্ষ্যেই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তুলতে চায়। সে জন্য তারা গণমাধ্যমকে ব্যবহার করছে। আমরা লক্ষ করছি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বিভিন্ন রকম অপপ্রচার চালাচ্ছে। তখন আমরা ব্যথিত হই, শঙ্কিত হই।’

মফিজুর রহমান বলেন, ‘গণমাধ্যমের যে সামাজিক ভূমিকা পালন করার কথা, সেটা যেমন কোনো কোনো গণমাধ্যম করছে আবার বিভিন্ন রকম উদ্দেশ্য দ্বারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। আজ আমরা সেই প্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে এখানে দাঁড়িয়েছি।’

সরকারি চাকরিজীবীদের মৃত্যুর পরও স্ত্রী-সন্তান ১৫ বছর ভাতা পাবেন

এখন থেকে শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী (পেনশনের পুরো টাকা তুলে নেয়া) অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা স্বামী ও প্রতিবন্ধী সন্তান চিকিৎসা ভাতা ও বছরে দুটি উৎসব ভাতা পাবেন। তবে দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী এ সুবিধা পাবেন না।

সোমবার এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, বিপত্নীক স্বামী সর্বাধিক ১৫ বছর অর্থাৎ শতভাগ পেনশন সমর্পণকারী কর্মচারীর অবসর গ্রহণের তারিখ থেকে ১৫ বছর মেয়াদ পূর্তির কোনো সময় অবশিষ্ট থাকলে শুধু ওই সময় পর্যন্ত মাসিক চিকিৎসা ভাতা ও বছরে ২টি উৎসব ভাতা পাবেন। তবে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলে বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী এ সুবিধা পাবেন না। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কেউ শতভাগ পেনশন সমর্পণ না করলে যে পরিমাণ মাসিক নিট পেনশন পেতেন সে ভিত্তিতে উৎসব ভাতার পরিমাণ নির্ধারিত হবে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, শতভাগ পেনশন সমর্পণকারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামী ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারির আগে কোনো চিকিৎসা ভাতা বা উৎসব ভাতা উত্তোলন করে থাকলে তা তাদের পরবর্তী সময়ে পাওয়া চিকিৎসা বা উৎসব ভাতা থেকে সমন্বয় করা হবে। এ সুবিধা ২০১৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাল আমদানির শুল্ক কমে পাঁচ শতাংশ করা হচ্ছে

চালের আমদানি শুল্ক কমিয়ে পাঁচ শতাংশ করা হচ্ছে বলে সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এর আগে চালের আমদানির ওপর ২৮ শতাংশ শুল্ক থাকলেও তা কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারের নতুন সিদ্ধান্তে চালের আমদানি শুল্ক দাঁড়াবে মাত্র পাঁচ শতাংশ।

মঙ্গলবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

একই সঙ্গে বৈঠকে পেঁয়াজের দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বন্যাকে দায়ী করে বলা হয়েছে, বন্যার কারণেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এখন দাম কম রয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, ভারত থেকে বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়ে থাকে। বর্তমানে বন্যার কারণে ভারতেও পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। তাই বাংলাদেশেও দাম কিছুটা বাড়ছে।

বৈঠক শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, চালের আমদানি শুল্ক নতুন করে আরও পাঁচ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শিগগির এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চালের মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টানতে আমদানি বাড়ানোর লক্ষ্যে ঈদের আগে শুল্ক হার ২৮ শতাংশ থেকে এক লাফে ১০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। ঈদের ছুটির পর ১ জুলাই থেকে ১০ শতাংশ শুল্ক চাল আমদানি শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। আমদানি বাড়াতে আরও পাঁচ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনা হচ্ছে।

কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে মঙ্গলবারের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রীতোফায়েল আহমেদ, মোতাহার হোসেন, এনামুল হক, আ ক ম বাহাউদ্দীন, ছানোয়ার হোসেন, লায়লা আরজুমান বানু এবং মোহাম্মদ হাছান ইমাম খান।

বৈঠক শেষে কমিটির সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দীন বলেন, চাল, পেঁয়াজ, লবণসহ সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে কমিটিকে জানানো হয়েছে, বন্যার কারণে পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে সব কিছু এখন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। আমাদের এখানে বন্যা হলে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি করে থাকি। কিন্তু এবার সেখানেও বন্যার কারণে দাম বেড়ে গেছে। ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া সামনে কোরবানি। এ কারণেও কিছুটা দাম বেড়েছে।

গত বছর একই সময়ের তুলনায় এবার পেঁয়াজের দাম কম রয়েছে দাবি করে বাহাউদ্দীন বলেন, দাম বৃদ্ধির বিষয়টি মšúণালয় মনিটর করছে। শিগগিরই সব ঠিক হয়ে যাবে।

চাল আমদানিতে শুল্ক আরও এক দফায় কমানোর সরকারি সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে কমিটির সদস্য বলেন, চালের শুল্ক আগের ২৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছিল। মঙ্গলবার আরও ৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন আমদানি শুল্ক থাকছে মাত্র ৫ শতাংশ। আশা করা যায় এতে চালের দাম আরও কমে আসবে।

এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, চালের দাম বাড়ার তো কোনো কারণ নেই। চালের যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। বন্যায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও কিছু লোকের কারসাজির কারণে দামটা বেড়ে গেছে।

পেঁয়াজের দামের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম খুবই পড়ে গিয়েছিল। এখন এটা একটু বেড়ে গেছে। সবাইকে বলব ধৈর্য ধারণ করুন, কিছু দিনের মধ্যেই দাম কমে যাবে।’

জেএমবির ১৪ সদস্যের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

টাঙ্গাইলে সিরিজ বোমা হামলা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) ১৪ সদস্যকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার প্রথম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আবুল মনসুর আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন। কারাদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

দণ্ডিত আসামিরা হলেন- টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার মাদারকোল গ্রামের মোসলেম উদ্দিনের ছেলে ইয়ামিন মিয়া, মোল্লা মিয়ার ছেলে হাবিল, মধু মিয়ার ছেলে রুস্তম, আব্দুল্লাহেল বাকির ছেলে তারিকুল, সবুর মাস্টারে ছেলে মিজান, রাজ্জাক মুন্সীর ছেলে আব্দুল আহাদ, কালিহাতী উপজেলার বল্লা গ্রামের আখম আজাদের ছেলে আরমান, একই গ্রামের মৃত নুরুজ্জামানের ছেলে আব্দুলাহ আল মামুন ও রাসেল, বাসাইল উপজেলার হাবলা দক্ষিণপাড়া গ্রামের শাজাহান মিয়ার ছেলে হাবিবুর রহমান, গোপালপুর উপজেলার পলসিরা গ্রামের সুলতান হোসেনের ছেলে জিয়াউর রহমান, নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার টেকপাড়া গ্রামের দীন মোহাম্মদের ছেলে দেলোয়ার হোসেন, বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার তোরাববেফা গ্রামের মোতাহার আলীল ছেলে শহীদুল ইসলাম ও ঢাকার ধামরাই উপজেলার শরিফবাগ গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে আব্দুল্লাহ আল তাসমিন। এদের মধ্যে আরমান, রাসেল, তারিকুল ও আব্দুল্লাহ আল তানমিন পলাতক রয়েছে।

জেএমবির প্রতিষ্ঠাতা শায়েখ আব্দুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান ওরফে বাংলা ভাইয়ের অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এবং হাবিল নামক অপর এক আসামির কারাগারে মৃত্যু হওয়ায় তাদের তিনজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, দণ্ডিত আসামিরা ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট টাঙ্গাইল শহরের বেবীস্ট্যান্ড, কোট চত্ত্বর, শহীদ জগলু রোডে বোমা বিস্ফোরণ ঘটান। পরে টাঙ্গাইল সদর থানার এসআই বোরহান উদ্দিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ২৭ ডিসেম্বর ১৭ জনের নামে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন, অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট মনিরুল ইসলাম খান। আসামিদের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট শামীম চৌধুরী দয়াল।

খুলবে কী সালমান মৃত্যুর রহস্যজট?

ঢাকাই ছবির অমর নায়ক তিনি। কেউ বলেন এদেশীয় চলচ্চিত্রের রাজ্যের রাজকুমার। কেউ কেউ ভালোবাসার নন্দিত আসনে বসিয়ে হানায়ক বলতেও দ্বিধা করেন না। যে যাই বলুন, যে যেভাবেই সম্বোধন করুন- সালমান শাহ যে আজও এদেশের চলচ্চিত্রের দর্শকদের মনে অনন্য হয়ে আছেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

ধুমকেতুর মতো তিনি হাজির হয়েছিলেন আমাদের সিনেমার আসমানে। কাঁপিয়ে দিয়ে গেলেন ক্ষণজন্মা এই অভিনেতা। অল্প কিছু ছবি করতে পেরেছিলেন। সেগুলোর নব্বই ভাগই ছিলো সুপার ডুপার হিট। মৌসুমী ও শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি জনপ্রিয়তার আকাশ ছুঁয়েছিলো। তবে লিমা, শাবনাজ, শ্যামা, শিল্পী, সোনিয়াসহ আরও বেশ ক’জন নায়িকার সঙ্গে সফল হয়ে সালমান প্রমাণ দিয়েছিলেন তিনি কোনো গন্ডিতে আবদ্ধ নন।

তার হাসি, কান্না, ফ্যাশন, চলন, বলন, দুষ্টুমি, প্রেম- সব কিছুই লুফে নিয়েছে তার প্রজন্মের দর্শক। বিশেষ করে মাথায় কাপড় বেঁধে কালো চশমার সালমান হয়ে উঠেছিলেন সারা বাংলার যুবকের আইকন। আজও সেই স্থান নিতে পারেননি কোনো নায়ক কিংবা তারকা।

শুধু তাই নয়, আজকালকার সুপারস্টারেরা যখন দর্শকপ্রিয়তা নষ্ট হয়ে যাবার ভয়ে বিয়ে করা বউকে লুকিয়ে রাখে তখন সালমান ছিলেন ভিন্ন উদাহরণ। তিনি বিয়ে করেছিলেন সেটা জানতো সবাই। ইন্ডাস্ট্রির মানুষ ও দর্শকেরাও। তবু এদেশের তরুণীদের কাছে সালমান ছিলেন আরাধ্য। সেই প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলো সালমান শাহের মৃত্যুর পর দেশের নানা প্রান্তের তরুণীরা যখন জীবন বিসর্জন দিয়েছিলেন প্রিয় নায়কের শোক সইতে না পেরে। এমন গল্প কেবল সিনেমাতেই মানায়। কিন্তু সালমান দেখিয়ে গেলেন সিনেমার চেয়েও বাস্তব তিনি। তার কাছে হেরে যায় রুপকথার রাজপুত্ররাও।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। আর দশটা দিনের মতোই শুরু হবার কথা ছিলো দিনটা। কিন্তু হয়নি। সকালের রঙ বদলে দুপুর না গড়াতেই সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লো ভয়ংকর এক সংবাদ। চলচ্চিত্র সুপারস্টার সালমান শাহ আর নেই। তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিমিষেই যেন চমকে গেল সব, থমকেও গেল। হাটে, মাঠে, ঘাটে-গঞ্জে, নগর-বন্দরে, স্কুল-কলেজ, চায়ের দোকান, বাস, ট্রাক, রেল, লঞ্চ, ধনী-গরীব আর মধ্যবিত্ত, প্রেমিক-প্রেমিকা, নববধুর বাসররাত- সবখানে বিষাদের আলো ছড়ানো একই আলোচনা; আর নেই সালমান শাহ। আর কখনোই তাকে নায়িকার প্রেমের জন্য পাগলামী করতে দেখা যাবে না। আর কখনোই প্রেমিকার পত্র পেয়ে আনন্দ অশ্রু ঝড়িয়ে পড়েতে দেখা যাবে না। কেয়ামত থেকে কেয়ামত পর্যন্ত তিনি থাকবেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

অনেক সময় লেগেছিলো চলচ্চিত্রপ্রেমী দর্শকের সালমান হারানোর দুঃখ ভুলতে। তবে একটা আক্ষেপ থেকেই গেছে সবসময়। সেটি হলো, সত্যি কী সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন? তবে কেন? নাকি সালমানের মা নীলা চৌধুরীর দাবিটাই যৌক্তিক; খুন করা হয়েছে সালমান শাহকে। অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনায়, জঘন্যতমভাবে। সিআইডি, পুলিশ, র‌্যাব- বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংস্থাকে দেয়া হয়েছে এই মামলা তদন্তের দায়িত্ব। সবাই ঘেঁটেঘুটে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এটি আত্মহত্যাই। তবে সালমানের মা ও সালমান পাগল ভক্তরা এইসব রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও আপত্তি জানান।

সালমানের মা আদালতে রিট করেন একের পর এক। তারই প্রেক্ষিতে গেল বছরের মাঝামাঝিতে আদালত এই খুনের তদন্তের দায়িত্ব দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনস (পিবিআই)। নতুন করে স্বপ্ন দেখেন নীলা চৌধুরী ও সালমানের ভক্তরা। তবে দিনে দিনে মরচে পড়ে গিয়েছিলো এই স্বপ্ন দেখায়।

সালমান প্রয়াণের ২১ বছর পূর্তি হবে আসছে আগস্টের ৬ সেপ্টেম্বর। দুই দশক পেরিয়ে গেলেও এই রহস্যের জট যখন খুলছিলো না ঠিক তারই প্রাক্কালে বোমা ফাটিয়ে হাজির হলেন সালমান খুনের দায়ে মামলার ৭ নম্বর আসামি রাবেয়া সুলতানা রুবি। সম্প্রতি আমেরিকা প্রবাসী এই নারী একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে হৈ চৈ ফেলে দিলেন সারা বাংলাদেশ জুড়ে। তিনি সালমানের মাকে ভাবী সম্বোধন করে বারবার আকুতি জানিয়ে বলেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেননি। তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। সালমান শাহকে খুনে জড়িত ছিলেন তার স্বামী যিনি চীনা নাগরিক চ্যান লিং চ্যান ওরফে জন চ্যান নামে বাংলাদেশে পরিচিত। ধানমন্ডির সাংহাই রেস্টুরেন্টের মালিক তিনি।

চীনাদের দিয়ে এই খুন করানো হয়। এতে জড়িত ছিলেন সালমান শাহের স্ত্রী সামিরার পরিবারও। এই খুনের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানেন। বিষয়টি যেভাবেই হোক, আবার যেন তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। তিনি যেভাবেই পারেন আদালতে সাক্ষী দেবেন।

এই ভিডিও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দিলো সারা দেশে। গতকাল সোমবার, ৭ আগস্ট ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায় অনলাইনে। প্রায় কয়েক লক্ষবার এটি শেয়ার হয়েছে ফেসবুকে। গতকালই অনলাইন ও ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ হয় ভিডিওটি এবং তার প্রেক্ষিতে সালমান মায়ের বক্তব্য। জানা যায়, সালমান খুনের আসামী রুবির সঙ্গে যোগাযোগ করছে মামলা তদন্তের দায়িত্বে থাকা পিবিআই-ও।

নতুন করে যেন নতুন স্বপ্ন কিংবা সম্ভাবনার শুরু হলো। গভীর অন্ধকারে থাকা সন্দেহ বুঝি এবার আলোতে আসছে চাইছে। সালমান ভক্তদের ভাষায় প্রকাশ হতে চলেছে ‘সত্যের মৃত্যু নেই’। সবাই ভাবছেন রুবি নামের ওই ভিডিওবার্তা প্রকাশকারী নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেই বেরিয়ে আসবে সালমানের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের জট।

নতুন করে আবারও সবখানে সালমান শাহ ও তার মৃত্যু রহস্য। অনলাইন তো বটেই বাসা, অফিস, ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান, রাস্তা, পার্ক, বাস, ট্রেন, মার্কেট- সবখানেই কাল থেকে সালমানের মৃত্যু নিয়ে আলোচনা। নতুন রহস্যে বেশ রোমাঞ্চিতও সবাই। এফডিসিতে গিয়েও কাল দেখা গেল সালমানমুখর সবাই। এই আলোচনার মূল বিষয় কে এই রুবি, কেন এতদিন চুপ থেকে হঠাৎ মুখ খুললেন। কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন সালমানের মা এই ভিডিওর প্রেক্ষিতে? এই ভিডিও দেখে কী ভাবছেন সালমানের স্ত্রী সামিরা? সত্যি কী সালমানের শ্বশুর শফিউল হক হীরার বক্তব্য অনুযায়ী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত রুবি? এই ভিডিও সূত্র করে নতুন করে কী হবে সালমান খুনের মামলার তদন্ত? কী হবে তার ফলাফল?

এমনি অনেক প্রশ্ন নিয়ে ঘুরছেন এখন চলচ্চিত্র প্রেমীরা। সবাই চাইছেন রাবেয়া সুলতানা রুবিকে আইনের আওতায় আনা হোক। তাকে পুলিশি হেফাজতে এনে সব তথ্যের জট খোলা হোক। মীমাংসা হোক একুশ বছরের মামলার।

‘রঙিন খোয়াব তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বিএনপির উদ্দেশে বলেছেন, ‘সংসদ ভেঙে দিয়ে বিদেশিরা বা আদালত ক্ষমতায় বসাবে, এমন দিবাস্বপ্ন যারা দেখছেন, তাদের সেই রঙিন খোয়াব তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাবে। কাদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন, আমরা সব জানি।’

সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমতায় বসাতে পারে এ দেশের জনগণ। সেই শক্তি শেখ হাসিনার সঙ্গে আছে। কোনো ষড়যন্ত্র আমাদের উন্নয়নের মহাসড়কে চলার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন এখন টেমস নদীর তীরে বেগম জিয়ার ভ্যানিটি ব্যাগে। বিএনপি আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে শেখ হাসিনার সরকারকে হটাতে ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছে। নির্বাচনে আপনারা আসেননি, সেটা কি নির্বাচনের দোষ? সহায়ক সরকার হবে শেখ হাসিনা সরকার। নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এটাই সংবিধানে আছে। আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনে, বাস্তবতার প্রয়োজনে আমাদের কৌশল পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু আমাদের বিশ্বাসের জায়গা থেকে এক চুলও আমরা সরে যাইনি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে মুজিব পরিবারই হচ্ছে সততা, আদর্শের প্রতীক। এই পরিবারকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কম হয়নি। এদের কোনো হাওয়া ভবন নেই, ক্ষমতার বিকল্প সেন্টার নেই। সজীব ওয়াজেদ জয় দেশে আসেন। দুই-একটি সৃজনশীল অনুষ্ঠান ছাড়া তাকে আর কোথাও দেখা যায় না।’

ছাত্রলীগের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগস্ট মাসে বিলবোর্ডের নামে বাড়াবাড়িটা ছাত্রলীগ করছে না, এটা ভালো লাগছে। ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি করে আগস্টের কর্মসূচি পালন করছে, এমন অভিযোগ পাইনি।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘ছাত্রলীগের সম্মেলন যথাসময়ে হবে। অনেক সময় বাস্তব কিছু সুবিধা-অসুবিধা থাকে। সম্মেলন করার ক্ষেত্রে সাংগঠনিক কিছু ঘাটতি আছে। ঘাটতিগুলো পূরণ করতে ছাত্রলীগকে বলা হয়েছে। আর একটু সময় লাগবে। তাদেরকে কানে কানে সম্মেলনের একটা মোটামুটি সময় বলে দেওয়া হয়েছে। দেখবেন হঠাৎ করে ছাত্রলীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্রলীগকে আমরা সুনামের ধারায় পরিচালিত করার চেষ্টা করছি। বিশ্বজিৎ হত্যায় দণ্ডিত রাজনের মতো কর্মী ছাত্রলীগের দরকার নেই। বগুড়ার তুফান সরকারের মতো তুফান কর্মী আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।’

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি আবিদ আল হাসান সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন- শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তান ডা. নুজহাত চৌধুরী, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন প্রমুখ।

টাঙ্গাইলে রাজন হত্যায় ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে রাজন মিয়া (২৪) নামে এক যুবককে হত্যার দায়ে ১২ জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক ওয়াহেদুজ্জামান সিকদার এ রায় দেন।