All posts by lutfor

মালয়েশিয়া প্রবাসীদের দেখার কি কেউ নেই?

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর খোলা চিঠি লিখেছেন জহিরুল ইসলাম জহির নামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসী। চিঠিতে তিনি দেশটিতে অবস্থিত বাংলাদেশিদের দুঃখ-দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে এর প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন।

চিঠিতে জহিরুল ইসলাম জহির উল্লেখ করেন, ‘আমি একজন সচেতন মালয়েশিয়া প্রবাসী। গত কয়েকদিন আগের ঘটনা, আমার এক ছোট ভাই রহিম পাসপোর্ট আনার জন্য হাইকমিশনে যায়। অন্য হাজারও বাংলাদেশি ভাইদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়ায়। দাঁড়ানোর কিছুক্ষণ পরই বৃষ্টি শুরু হয়। কিন্তু সেখানে বৃষ্টি থেকে বাঁচার কোনো ব্যবস্থা নেই। এই হলো আমাদের মালয়েশিয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন। বৃষ্টিতে টাকা-পয়সাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ভিজে যায় রহিমসহ হাজার প্রবাসীর।’

‘প্রায় কাকভেজা শরীর নিয়ে লাইনে দাড়াঁনো, আবার লাইনের মধ্যে বিল্ডিং মালিকের নিরাপত্তাকর্মীদের নির্যাতন, ঘণ্টা দুয়েক পর ভেজা শরীর নিয়ে হাইকমিশনের ভেতর ঢুকতে গেলে বাধা দেয়া এবং প্রতিবাদ করলে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধরসহ খারাপ ব্যবহারের মুখোমুখি হতে হয়। দুঃখের বিষয় এমন পরিস্থিতি দেখার পরও হাইকমিশনের কোনো কর্মকর্তা বাইরে এসে বিষয়টি দেখারও সময় হয় না।’

চিঠিতি তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, প্রবাসীদের শেষ আশ্রয় হলো নিজ দেশের দূতাবাস, সেই দূতাবাসে গিয়ে মার খাওয়া, অপমান হওয়া- এসব কি আপনার মন্ত্রীরা খবর রাখেন? বর্তমান হাইকমিশন বিল্ডিংয়ের এক তলার অর্ধেক ভাড়া নিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অথচ মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত ৮/১০ লাখ বাংলাদেশির জন্য দূতাবাসে প্রবেশের জন্য নিজস্ব কোনো রাস্তা নেই। দূতাবাসে প্রবেশের একটি রাস্তা, সেটি শুধু ভিআইপিরা অর্থাৎ দূতাবাসের কর্মকর্তারা ব্যবহার করতে পারেন। আর সাধারণ প্রবাসীদের দূতাবাসে ঢুকতে হলে বিল্ডিংয়ের মালিকের জায়গা ব্যবহার করতে হয়। এ কারণে মালিক যাচ্ছেতাই ব্যবহার করেন, মাঝেমধ্যে রাস্তাটির গেট তালাবদ্ধ রাখা হয়, আবার জনপ্রতি এক রিংগিত করেও নেয়া হয়।’

জহিরুল ইসলাম প্রশ্ন রাখেন, ‘কেন আমরা টাকা দেব? জিজ্ঞাসা করলে, নিরাপত্তাকর্মীরা বলে, এটা তো দূতাবাসের ভাড়া করা জায়গার রাস্তা না- এই হলো মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশন।’

খোলা চিঠিতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আরও লেখেন, ‘মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্টদূত কতটুকু ভালো চান প্রবাসীদের, আওয়ামী লীগ সরকার ও আপনার ৮/১০ লাখ প্রবাসীর ভালো চাইতে গিয়ে একটা বিল্ডিংয়ের এক তলার অর্ধেক ভাড়া নেয়া হলো কার স্বার্থে? যেখানে সাধারণ প্রবাসীদের প্রবেশের নিজস্ব কোনো রাস্তা নেই? এমন স্থানে দূতাবাস করা হলো যেখানে এক লাখ প্রবাসীর সেবা দেয়ারও উপযুক্ত নয়।’

‘আমি এসব লিখলাম নিজের চোখে দেখে, নিজের কাজে গিয়েও চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে আমাকে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার কাছে আমার আবেদন, একটু ভেবে দেখবেন, ছবিও দিলাম, সত্য কি মিথ্যা- তদন্ত করে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন।’

‘এখানে যেভাবে দূতাবাস করা হয়েছে এভাবে কোনো দূতাবাস হয় না। প্রয়োজনে আপনি নিজেই একটি টিম পাঠিয়ে তদন্ত করে দেখুন। তদন্তে সাক্ষাৎকার নিতে হবে লাইনে দাঁড়ানো সাধারণ প্রবাসীদের, কোনো রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নয় এবং দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তার নয়।’

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বাংলার জনগণের কথা বলেন, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আপনার পরিশ্রম ধুলায় লুটিয়ে দিচ্ছেন মালয়েশিয়াতে অবস্থিত বাংলাদেশের রাষ্টদূত শহীদুল ইসলাম এবং অযোগ্য কিছু কর্মকর্তা। এ বিষয়ে আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।’

বাসের অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে ১৮ আগস্ট থেকে

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দূরপাল্লার বাসের অগ্রিম টিকিট দেওয়া হবে ১৮ আগস্ট শুক্রবার থেকে। ট্রেনের অগ্রিম টিকিট ছাড়ার দিন এখনো ঠিক হয়নি। ঈদের আগে ৩০ ও ৩১ আগস্ট বাস ও ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার বলেন, এবারের ঈদের অগ্রিম টিকিট ১৮ আগস্ট সকাল ছয়টা থেকে নিজ নিজ বাসের কাউন্টারের নির্ধারিত স্থানে বিক্রি হবে।

ট্রেনের অগ্রিম টিকিটের বিষয়ে জানতে চাইলে রেলমন্ত্রী মজিবুল হক বলেন, ‘এখনো ট্রেনের টিকিট ছাড়ার দিন ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে সভা করে আপনাদের জানানো হবে।’

কোন দিন টিকিটের চাহিদা বেশি থাকবে—জানতে চাইলে হানিফ এন্টারপ্রাইজের মহাব্যবস্থাপক আবদুস সামাদ   বলেন, ‘এবার আমরা ২ সেপ্টেম্বরকে ঈদ ধরে ঈদের অগ্রিম টিকিট বিক্রি করব। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে ৩০ ও ৩১ আগস্ট। এই দুই দিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকা ছাড়বেন বলে মনে করেন তিনি। ঈদের আগে শেষ কর্মদিবস হচ্ছে ৩১ আগস্ট। কেউ কেউ এই দিন ছুটি নিয়ে এক দিন আগেই, অর্থাৎ ৩০ আগস্ট ঢাকা ছেড়ে চলে যাবেন। কেউ কেউ ৩১ আগস্ট অফিস করেই ঢাকা ছাড়বেন। তাই এই দুই দিন সবচেয়ে বেশি চাপ থাকবে।’

বাস মালিকদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, এবারের ঈদে বাসের টিকিটের চাহিদা কম থাকবে। বিভিন্ন স্থানে রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে বাস সময়মতো গন্তব্যে যেতে পারছে না। ঈদের অনেক আগে থেকেই এই অবস্থা চলছে। যে বাস ১২ ঘণ্টায় ঢাকা আসার কথা, সেই বাস ৩০ ঘণ্টাও ঢাকা আসতে পারছে না। তাই এবার তারাও বাসের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে। এ জন্য এবার ট্রেনের টিকিটে বেশি চাপ থাকবে বলে মনে করেন একাধিক বাস মালিক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের চাহিদা বেশি। যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে হবে, সে জন্য শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের চাহিদা বেশি। এই সুযোগে বাসের মালিকরাও শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাসের টিকিটের দাম দ্বিগুণ করে দেন। গত ঈদুল ফিতরে লালমনিরহাট গন্তব্যের এসআর ট্রাভেলসের এসি বাসের টিকিটের দাম রাখা হয় ১ হাজার ৬০০ টাকা। অথচ অন্য সময় একই টিকিট ৭০০ টাকায় বিক্রি হয়।

ঢাকার কলেজ গেট এলাকার বাসিন্দা মাজেদুল হক বলেন, তিনি প্রতিবছর বাসে নীলফামারী যান। এবার যাবেন ট্রেনে। তিনি সম্প্রতি নীলফামারী থেকে ঢাকা এসেছেন। সময় লেগেছে ২৮ ঘণ্টা। তাই তিনি ট্রেনের টিকিট খুঁজবেন।

সরকারি চাকরিজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, ঈদের পর ছুটি কাটাবেন বলে এবার তিনি শেষ কর্ম দিবসে গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাটে যাবেন। তিনিও ট্রেনে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।

খুলনায় ২২ কোটি টাকার কোকেনসহ আটক ৬

খুলনায় সোয়া দুই কেজি (২২৫০ গ্রাম) কোকেনসহ মাদক চোরাচালান চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাব-৬ এর একটি দল। র‌্যাব দাবি করছে, উদ্ধারকৃত কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২২ কোটি টাকা। শুক্রবার রাত ১০টা থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে কোকেনসহ ৬ জনকে আটক করা হয়।

র‌্যাব-৬ এর সিনিয়র এএসপি উৎপল রায় এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, শুক্রবার রাত ১০টায় নগরীর ময়লাপোতা থেকে অভিযান শুরু করা হয়। এরপর দাকোপসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ওই কোকেন উদ্ধার ও মাদক চোরাচালান চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়। র‌্যাবের এ কর্মকর্তা দাবি করছেন, উদ্ধারকৃত কোকেনের আনুমানিক মূল্য ২২ কোটি টাকা।

তিনি জানান, এ বিষয়ে শনিবার দুপুর ১২টায় র‌্যাব-৬ এর সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে বিস্তারিত জানানো হবে।

বরিশাল বিএনপির ১২ নেতা-কর্মী আটক

বরিশালের বাকেরগঞ্জের বাংলা বাজার এলাকায় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ অভিযান থেকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শহিদ হাসানসহ ১২ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের ব্যবহৃত ৯টি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।

শুক্রবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুর রহমান।

আটককৃত অন্যরা হলেন-উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও কলসকাঠী ইউনিয়নের প্রাক্তন চেয়ারম্যান শওকত হোসেন হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক শিকদার খলিলুর রহমান, ফরিদপুর ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কবিরুল ইসলাম সন্যামত, গারুড়িয়া ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি তুহিন খান, কামাল বেগ, অলি হাসান গাজী, ইব্রাহীম হাওলাদার, আসলাম হাওলাদার, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ভিপি দুলাল, যুব নেতা এনায়েত হোসেন খান বিপু ও বশির সরদার।

স্থানীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, কেন্দ্র ঘোষিত সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজ বাংলা বাজার এলাকায় সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রম শেষ করে মোটরসাইকেলে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরছিল নেতা-কর্মীরা।

এ সময় পুলিশ সদস্যরা পথ থেকে ডা. হাসানসহ ১২ নেতা-কর্মীকে থানায় নিয়ে যায়। একই সঙ্গে তাদের ব্যবহৃত ৯টি মোটরসাইকেলও জব্দ করে।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিজুর রহমান জানান, অনুমতি না নিয়ে বিএনপির এ সকল নেতা-কর্মীরা সদস্য সংগ্রহের নামে প্রকাশ্যে মোটরসাইকেল মহরা দিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করছিল। এলাকায় বিশৃংখলা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কায় তাদের আটক করা হয়েছে।

ওসি বলেন, বিএনপির এ সকল কার্যক্রম টের পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে মোবাইলফোনে তাদেরকে অনুমতি না নিয়ে প্রোগ্রাম করতে বারণ করছিলাম। কিন্তু তারা অনুমতি না নিয়েই সদস্য সংগ্রহের নামে মহরা দিচ্ছিল। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

৩০ টাকার পেঁয়াজ ৬০ টাকা

ফিরোজ আহমেদ:রাজধানীসহ সারা দেশে টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার পর গত দুই সপ্তাহ থেকে রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। গত দুই সপ্তাহ আগে রাজধানীতে যে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল ৩০ টাকায় দরে, আজকের বাজারে সেই পেঁয়াজই দ্বিগুণ বেড়ে কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে।

আজ শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, হাতিরপুলসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবজি, মাছসহ সব ধরনের পণ্যের দাম বাড়ার জন্য অব্যাহত বৃষ্টিপাতকে দায়ী করছেন ব্যবসায়ীরা।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। এর আগে গত দুই সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজের দাম বেড়েছিল ২০ টাকা। অর্থাৎ ৩ দফায় পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ টাকা।

এছাড়া আমদানি করা ভারতীয় পেঁয়াজ গত সপ্তাহে ১২ টাকা বৃদ্ধির পর আজকের বাজারে আবারও ১৫ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ গত সপ্তাহে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হওয়া পেঁয়াজ আজকের বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে।

এদিকে গত সপ্তাহের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে কাঁচা মরিচ। আজকের বাজারে কাঁচা মরিচ কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা দরে। এছাড়া কেজি প্রতি দেশি রসুন ১০ টাকা বেড়ে ১১০ টাকা, ভারতীয় রসুন ১৩০ টাকা, আলু কেজিপ্রতি ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২৪ টাকা দরে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টির কারণে আড়তে পেঁয়াজ, রসুন ও আলু সংরক্ষণে ব্যপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন পর্যায়ের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচে।

হাতিরপুল বাজারের ব্যবসায়ী আরিফ বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে টানা বৃষ্টির কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কারণ পেঁয়াজ নষ্ট হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাইকারি ব্যবসায়ীরা। দূর্যোগপূর্ণ এই অবস্থা চলতে থাকলে পেঁয়াজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাবে।

তবে গত সপ্তাহের দামেই স্থিতিশীল রয়েছে অধিকাংশ মুদি পণ্যের দাম। আজকের বাজারে কেজি প্রতি ছোলা ৮০ টাকা, দেশি মুগ ডাল ১৩০ টাকা, ভারতীয় মুগ ডাল ১২০ টাকা, মাসকলাই ১৩৫ টাকা, দেশি মসুর ডাল ১২৫ টাকা, ভারতীয় মসুর ডাল ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দারুচিনি ৩৬০ টাকা, জিরা ৪৫০ টাকা, শুকনা মরিচ ২০০ টাকা, লবঙ্গ ১৫০০ টাকা, এলাচ ১৬০০ টাকা, চীনের আদা ১৪০ টাকা এবং ক্যারালা আদা ১১০ টাকা, হলুদ ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোজ্য তেলের দাম আগের বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। আজকের বাজারে ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের বোতল ৫৩০-৫৪০ টাকা, প্রতি লিটারে ১-২ টাকা বেড়ে ১০৭ টাকা থেকে ১০৯ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুন কেজি প্রতি ৬০-৮০ টাকা, শিম ১২০ টাকা, হাইব্রিড টমেটো ১৬০ টাকা, দেশি টমেটো ১০০ টাকা, শশা ৬০ টাকা, চাল কুমড়া ৫০-৫৫ টাকা, কচুর লতি ৬০-৬৫ টাকা, পটল ৫০-৫৫ টাকা, ঢেঁড়স ৫০-৫৫ টাকা, ঝিঙ্গা ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৫০-৫৫ টাকা, করলা ৫০-৫৫ টাকা, কাকরোল ৫০ টাকা, পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০-৫৫ টাকা, আমড়া ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রতিটি ফুলকপি ৩৫ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা এবং লেবু হালি প্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা, পালং শাক আঁটি প্রতি ২০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, পুঁইশাক ৩০ টাকা এবং লাউশাক ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট (ভালো মানের) ৫৪ টাকা, মিনিকেট (সাধারণ) ৫২ টাকা, বিআর-২৮ ৪৮ টাকা, সাধারণ মানের নাজিরশাইল ৫০ টাকা, উন্নত মানের নাজিরশাইল ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ভেদে প্রতি কেজি রুই মাছ ২৫০-৩৫০ টাকা, সরপুঁটি ৩৫০-৪৫০ টাকা, কাতলা ৩৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১৪০-১৮০ টাকা, সিলভার কার্প ২০০-২৫০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০-৩৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাঙ্গাস প্রতি কেজি ১৫০-২৫০ টাকা, টেংরা ৬০০ টাকা, মাগুর ৬০০-৮০০ টাকা, প্রকার ভেদে চিংড়ি ৪০০-৮০০ টাকা, প্রতিটি ইলিশ ৬০০-৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, প্রতি কেজি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে ১২০০ টাকা।

এদিকে সপ্তাহের ব্যবধানে ছোট দেশি মুরগির দাম আগের বাড়তি দামে প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ টাকা দরে। এছাড়া ব্রয়লার মুরগি ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

আজকের বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

শাহজালাল বিমানবন্দরের মূল ভবনে আগুন

গুরু জাকির : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মূল ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লেগেছে। শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে। তারা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার পলাশ চন্দ্র মদক জানান, শুক্রবার দুপুর ১টা ৩৭ মিনিটে আগুনের সূত্রপাত। খবর পেয়ে মোট ১০টি ইউনিট পাঠানো হয়েছে।

সবশেষ সোয়া ২টা পর্যন্ত আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ সম্পর্কে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

দেশে নদ-নদীর ৮০ স্থানে পানি বাড়ছে

নূরে আলম জিকু : দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর ৮০ স্থানে পানি বৃদ্ধি ও ১০ স্থানে হ্রাস পেয়েছে।

শুক্রবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, তিনটি স্থানে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা, গঙ্গা-পদ্মা এবং সুরমা নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে আগামী ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি আগামী ৭২ ঘণ্টা এবং সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে কুশিয়ারা নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। যা আগামী ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সুরমা নদীর দুটি পয়েন্ট কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জ এবং যদুকাটা নদীর লরেরগড় পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কানাইঘাটে ২৭ সেমি, সুনামগঞ্জে ৪৭ সেমি এবং লরেরগড়ে ১১৮ সেমি ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।

আমরা আবার দুঃসময়ে পতিত হয়েছি: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশ আবার দুঃসময়ে পতিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘আমরা আবার দুঃসময়ে পতিত হয়েছি। আমরা চক্রান্তের মুখে পড়েছি। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শেখ হাসিনার অর্জনকে পণ্ড করার জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। একটি দল বিষধর সাপের মতো সুযোগ পেলেই ছোবল মারে। তারা জনগণকে পাশে না পেয়ে আবার গর্তে ঢুকে যায়। তারা ইস্যুর পর ইস্যু খোঁজে, কিন্তু তাদের সবই ইস্যুই মাঠে মারা যায়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রায় এদের রাজনীতি পথে সংকটের দীর্ঘ ছায়া ফেলে।’

আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে গর্ত থেকে উঠে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়কে কেন্দ্র করে মনে হয় ক্ষমতার সিংহ দরজার কাছাকাছি চলে এসেছে। তারা আবার গর্ত থেকে উঠে লাফালাফি শুরু করে দিয়েছে। তাই আজ আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে হবে। দেশের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। এ অপশক্তিকে প্রতিরোধ করতে আমাদের মানসিক, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত হতে হবে।’

শুক্রবার (১১ আগস্ট) বিকালে ধানমন্ডি ৩২নং সড়কে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির শাসনামল মানেই হলো লাশের সারি। লুটপাটের হাওয়া ভবনের অপর নাম হচ্ছে বিএনপি। তারা আবার ক্ষমতায় এলে দেশ ভয়ঙ্কর অমানিশায় পতিত হবে।’

খারাপ লোকদের নিয়ে দল ভারি করার প্রয়োজন নেই মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমি জেনে খুব খুশি হয়েছি যে স্বেচ্ছাসেবক লীগে টাকা দিয়ে কোনও পদ দেওয়া হয় না। এটা খুব খারাপ। এটা যারা করে তারা দলের, নিজের ও দেশের ক্ষতি করে। আমি তোমাদের যোগ্য কর্মীদের মূল্যায়ন করতে অনুরোধ করব। দলভারি করার জন্য খারাপ লোকদের এ পার্টিতে জায়গা দেবে না।’

শোক দিবসের প্রসঙ্গ টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আগস্ট মাসে আমরা বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। শোক পালন করি, চোখের পানি ফেলি। আমাদের আজ মনে রাখতে হবে— বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আজ কোনও শোকের নাম নয়; তিনি আজ চেতনার নাম, এক শক্তির নাম। এ দিনে আমরা শপথ নেবো, বঙ্গবন্ধুর চেতনায় মানুষের মতো মানুষ হব। তার মতো কর্মী হবো, কর্মী থেকে নেতা হবো। লড়াই করব, সংগ্রাম করব। ভোগ করব না, ত্যাগ করব।’

স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওছারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ দেবনাথের সঞ্চলনায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নুর তাপস প্রমুখ।

বাস ধর্মঘটে অচল বরিশাল

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলার ৩৮ রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট চলছে।

মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ এবং মালিক সমিতির সভাপতির ওপর হামলার ঘটনায় থানা পুলিশ মামলা না নেয়ার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ধর্মঘট পালন করছে বরিশাল-পটুয়াখালী মিনিবাস মালিক সমিতি।

এদিকে ভোরে নগরীর রুপাতলী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা গেছে, পটুয়াখালী, ঝালকাঠী, পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা এবং বরিশাল জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

কোনো রুটে যেন বাস চলাচল না করে তার তদারকি করছে মালিক সমিতির লোকজন।

হঠাৎ করে বাস ধর্মঘটে সাধারণ যাত্রীরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। বাসের আশায় টার্মিনালে আশা বহু যাত্রী ফিরে যাওয়ার পাশাপাশি অনেকে আবার রিকশা-ভ্যানে কাছাকাছির গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাওছার হোসেন শিপন বলেন, ‘২ দিন আগে বরিশাল পটুয়াখালী সড়কের দপদপিয়া এলাকায় মালিক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম খানকে মারধোর করে থ্রি হুইলার শ্রমিকরা। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে তা নেয়নি বন্দর থানা পুলিশ।

সরকারিভাবে নিষেধ থাকা সত্ত্বেও মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলার কারণে এই ঘটনা ঘটার পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

তাই হামলার ঘটনায় মামলা গ্রহণ এবং মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ৩৮ রুটে বাস চলাচল বন্ধ থাকবে।’

এর আগে বুধবার বিকালে মালিক সমিতি এই ধর্মঘটের ডাক দিলেও আজ সকাল পর্যন্ত জটিলতা নিরসনে প্রশাসন কিংবা কোনো পক্ষের উদ্যোগের খবর পাওয়া যায়নি।

আদালতের রায় মাঠে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বিপজ্জনক: মান্না

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া রায় মাঠে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে সরকার। এটা খুবই বিপজ্জনক প্রবণতা। বিচার বিভাগ সামগ্রিকভাবে সরকারের বিরুদ্ধে কোনো রায় দেননি। এই ঐতিহাসিক রায়ের জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক সব ধরনের সংগঠন ও সাধারণ মানুষের উচিত বিচার বিভাগকে ধন্যবাদ দেওয়া। তাদের পক্ষে দাঁড়ানো উচিত। পক্ষ মানে দলবাজি করা নয়।

আজ বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক ঐক্য আয়োজিত ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী মামলায় সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ প্রদত্ত রায়’-এর ওপর এক গোলটেবিল আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, সরকারে যাঁরা আছেন, তাঁরা আদালত অবমাননার আওতায় পড়ে গেছেন। সংসদের বাইরে বিচার বিভাগকে হুমকি দেওয়া বিপজ্জনক। এটা কল্পনাই করা যায় না, এর পরিণতি কী ভয়াবহ হতে পারে। আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন ও গণতান্ত্রিক শাসন কিছুই থাকবে না। এর সঙ্গে তিনি যুক্ত করেন, ‘কেবল সংসদ ইমেচিউরড (অপরিপক্ব) নয়, গভর্নমেন্টও ইমেচিউরড। সরকারের পক্ষ থেকে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে বলতে পারে না। এমপি সাহেবরা আপনারা জনমত গড়ে তোলেন, এটা কীভাবে বলা যেতে পারে? ক্ষমতার দম্ভে মাথা খারাপ হয়ে গেলে এ রকম করে।’ বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করা আদালতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল বলে মন্তব্য তাঁর।

পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিষয় তুলে ধরে রব বলেন, ‘বিচার বিভাগের সঙ্গে কথা বলেন। শান্তভাবে কথা বলেন। উত্তেজিত হবেন না। উত্তেজিত হলে পাকিস্তানে কী অবস্থা হয়েছে দেখেছেন? তারপরও পাকিস্তানি সরকার চুপ হয়ে আছে, কিছু বলেনি—রায় মেনে নিয়েছে।’ তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অত্যন্ত শান্ত মাথায় পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরামর্শ দেন।

গত ২৮ জুলাই পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য অযোগ্য ঘোষণা করে রায় দেন। রায়ের কিছুক্ষণ পরই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন নওয়াজ শরিফ। পানামা পেপারসে ফাঁস হওয়া তথ্য অনুযায়ী, নওয়াজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছিল।

আলোচনা সভায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণা আমি দিয়ে শুরু হয়নি, আমরা দিয়ে। এটা আমাদের দেশ। এটা আমির দেশ নয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘…পাকিস্তানের ১৯৬২ সালের সংবিধান আমি দিয়ে শুরু হয়েছিল। এই যে আমরা আর আমিত্বের পার্থক্য, আইয়ুব খান আর মুক্তিযুদ্ধের মধ্যে যে পার্থক্য—চিফ জাস্টিসের কথা পড়ে আমার মনে হয়েছে, আমরা বোধ হয় এই পার্থক্য ভুলে গেছি। আমরা আইয়ুব খানের জমানায় ফিরে যাচ্ছি।’

এই আইনজীবী বলেন, ‘যতই দলীয় নিয়োগের কথা বলা হোক না কেন, ওখানের পরিবেশটাই ন্যায়বিচারের জন্য উদ্বুদ্ধ হতে বাধ্য করে। আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির সবাই আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ পাওয়া। এই সাতজনই কিন্তু রায়ে একমত হয়েছেন। বিচার বিভাগের যে এখনো স্বাধীনতা আছে, স্বাধীনভাবে রায় দেওয়ার দৃঢ় মনোভাব আছে, তা উচ্চভাবে প্রমাণিত হলো। ৭০ অনুচ্ছেদের ভবিষ্যৎ আমার কাছে উজ্জ্বল ঠেকছে না। হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মানতে বাধ্য। এখন দেখা যাক কী হয়।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, মন্ত্রীদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে, তাঁরা তিনটি কথা বলতে চান। একটি হচ্ছে, আদালতের এত সাহস কী করে হলো যে তাঁরা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে গড়া সংশোধনী বাতিল করে দিল। দ্বিতীয় বক্তব্য হচ্ছে, বিচারপতিদের তো আমরা নিয়োগ দিই, আমাদের ওপর কথা বলার এত সাহস তাঁরা কোথায় পান? তৃতীয় হচ্ছে, ১৯৭২ সালের সংবিধানের একটি বিধান আমরা ফিরিয়ে আনলাম সেটা কেন বাদ দিয়ে দিল, কীভাবে তাঁরা এটা করতে পারেন।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘আদালত এর আগে পাঁচটি সংশোধনী বাতিল করেছিলেন। তার মধ্যে তিনটি সংশোধনী আপনারা অত্যন্ত আনন্দিত চিত্তে গ্রহণ করেছিলেন। ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল হওয়ার পর কত খুশি হয়েছিলেন। কোনো ভোট হয়নি, কোনো নির্বাচন হয়নি। আপনারা নিজেদের কীভাবে জনপ্রতিনিধি ভাবেন?’

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক মালেকুজ্জামান, নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক এস এম আকরাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।