All posts by lutfor

৫০০ সরকারি কর্মকর্তা থেকে ৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ভুয়া দুই ‘দুদক কর্মকর্তা’

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্মকর্তা পরিচয়ে দিয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাছ থেকে ৩৫-৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র। গতকাল ওই চক্রের দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব।

আজ রাজধানীর কাওরান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার মহিউদ্দিন ফারুকী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, দুদক একটা আস্থার জায়গা তৈরি করেছে। এটিকে কেন্দ্র করে প্রতারণার সুযোগ নিয়েছে এই চক্রটি। ২০১৪ সাল থেকে চক্রটি প্রতারণার করে আসছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ জন কর্মকর্তার কাছ থেকে প্রায় ৩৫-৪০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, গত ২৭শে জানুয়ারি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে র্যাব মহাপরিচালক বরাবর একটি চিঠি পাঠানো হয়।

ওই চিঠি ধরে অনুসন্ধান চালায় র‌্যাব। সর্বশেষ গতকাল গোয়েদা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর হাজারীবাগে অভিযান চালিয়ে আনিছুর রহমান (৩৬) ইয়াসিন তালুকদার (২৩) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের ৭-১০ টি গ্রুপ রয়েছে। তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে। তারা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা গুলো তুলে নেয়।

র‌্যাব জানায়, প্রথমে তারা অফিসে অফিসে গিয়ে পর্যবেক্ষণ করে। এক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের মোবাইল নাম্বার না পেলে ফোনে ডিরেক্টরি থেকে নাম্বার নিয়ে ফোন করে। এ চক্রের সদস্য ইয়াসিন তালুকদার হাজারীবাগের টেলিকম দোকানদার। সে অন্য মানুষের জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে সিম রেজিস্ট্রেশন ও বিকাশ খুলে।

আটককালে আনিছুর রহমানের কাছে থেকে ১৪টি বিকাশের সিম পাওয়া যায়। ওই সিমগুলো দিয়ে সে ৮ লাখ টাকা লেনদেন করে। তাছাড়া তার কাছে ১০ লাখ টাকার একটা চেক পাওয়া যায়। অন্যজন ইয়াসিনের ১২ টি বিকাশের সিমে ১ লাখ টাকা পাওয়া গেছে।

বাণিজ্য মেলায় প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিনামূল্যে বিনোদনের সুযোগ করে দিয়েছে সারিকা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ড পার্ক।

এই পার্কটির সব রাইড বিনামূল্যে উপভোগ করতে পারবে অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীরা। ইতিমধ্যে অটিস্টিক শিশুদের বিনোদনের সুযোগ করে দিয়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই পার্কটি। প্রতিদিনই অনেক অভিভাবক তাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের মেলায় নিয়ে এসে বিনোদনের সুযোগ নিচ্ছেন।

ভিন্নধর্মী এ পার্কটি বাণিজ্য মেলায় ২০১২ সাল থেকে প্রতিবছর চালু রয়েছে। পার্কটির প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, পার্কটি চালুর পর যখন দেখলাম প্রতিবন্ধী শিশুদের কোনো বিনোদনের ব্যবস্থা নেই, পার্কের কোনো রাইডে উঠতে দেয়া হয় না, তখন তাদের প্রতি সহানুভূতি থেকেই এ উদ্যোগ নেই আমি। অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য রাইডগুলো সম্পূর্ণ ফ্রি করে দেই।

মেলায় হাজার হাজার বিজ্ঞাপনের মাঝে প্রতিবন্ধীদের ফ্রি বিনোদনের বিজ্ঞাপন অনেকেরই নজর কাড়ছে। অনেকেই ভিড় জমাচ্ছেন এই পার্কে।

ডা. সানজিদা ইসলাম নামে একজন অভিভাবক বলেন, আমার একটি ছেলে আছে প্রতিবন্ধী। আমি মেলায় এলে ছেলেকে বাসায় রেখে আসতাম। কারণ ছেলের বিনোদনের কিছু ছিল না। কিন্তু সারিকা ফ্যান্টাসি ইমাজিং ওয়ার্ল্ডের এই আয়োজনের কারণে আমার ছেলেকে নিয়ে মেলায় এসেছি। অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে আমার সন্তানও কিছুটা আনন্দের সুযোগ পাচ্ছে। এ জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

গত রোববার বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী প্রতিবন্ধীদের জন্য ফ্রি বিনোদনের আয়োজন উদ্বোধন করেছেন।

গত বছর মেলায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি পার্কে এসে অটিস্টিক শিশুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। দীপু মনি শিশুদের জন্য পোশাক ও খাবারের আয়োজনও করেছিলেন। এ ছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের পার্কটি পরিদর্শন করেছেন।

এই পার্কটির ভিন্নধর্মী আয়োজনে সহযোগিতা করছে গ্লেয়ার ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, আদি বাংলা ও এশিয়ান টেক্সটাইল। মেলা চলাকালীন সময়ে অটিস্টিক শিশুদের জন্য নানা উপহারের ব্যবস্থা করেছে এই প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিনামূল্যে অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করায় রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো দুবার এই পার্কটিকে পুরস্কৃত করেছে।

ভিন্নধর্মী এ আয়োজনের প্রেরণার বিষয়ে মাহবুবুর রহমান পলাশ বলেন, আমার পার্কটিতে অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধী শিশুদের পাশাপাশি ছিন্নমূল শিশুদের জন্য বিনোদন ফ্রি। শিশুরা বিভিন্ন রাইডে উঠতে পেরে যে নিষ্পাপ হাসি দেয় তখন আমার প্রাণ ভরে যায়। এ জন্যই আমার আয়োজন। যতদিন পারি আমি অটিস্টিক ও প্রতিবন্ধীদের শিশুদের জন্য কাজ করে যাব।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের অটিস্টিকদের নিয়ে নানা কাজ আমাকে উৎসাহ প্রদান করেছে। তার কাজের প্রেরণায় আমি কাজ চালিয়ে যাচ্ছি।

ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ নেতা খুন

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মোয়াজ্জেমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোর্শেদ উদ্দিন খানকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে দশটায় উপজেলার দত্তপাড়া এলাকায় ওই ঘটনা ঘটে।

এ সময় আহত হন আরো দুইজন। এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ ।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ জানায়, কানরামপুর বাজার থেকে মোটর সাইকেলে করে নিজের বাড়ি যাচ্ছিলেন মোর্শেদ উদ্দিন। পথে হামলা করে দুর্বৃত্তরা। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ধানের জমির ওপর দিয়ে দৌড় দেন। কিন্তু এতেও শেষ রক্ষা হয়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতারি কুপিয়ে মুত্যু নিশ্চিত করে চলে যায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় নান্দাইল থানার পুলিশ ।

এদিকে মোর্শেদের হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নুরুল ও রুবেলের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নেভায়।

এ ব্যাপারে নান্দাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম মিয়া আজ শনিবার সকালে বলেছেন, ‘এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।’ এখনো এ ব্যাপারে মামলা হয়নি বলেও জানান তিনি।

৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল ডা. আকাশের স্ত্রী মিতুর মূল উদ্দেশ্য

দীর্ঘ নয় বছর প্রেম। প্রচণ্ড ভালোবাসতেন প্রেমিকাকে। বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারেন বিভিন্ন ছেলের সাথে হোটেলে রাত কাটায় তার প্রেমিকা। এরপরেও সব ভুলে বিয়ে করে শুরু করে সংসার। এর কিছুদিন পরে আবার জানতে পারে নতুন কিছু পরকীয়া প্রমিকদের সাথে রাত কাটাচ্ছে তার স্ত্রী। এতকিছু সহ্য না করতে পেরে অবশেষে নিজের জীবন দিয়ে দিলেন।

বলছিলাম চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকার মোস্তফা মোরশেদ প্রকাশ আকাশের কথা। পেশায় ছিলেন চিকিৎসক।বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত ৪টার দিকে নিজের ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ডাক্তার মুসতাফা মুরশেদ আকাশ। সেখানে নিজের আত্মহত্যার কথা জানান তিনি। স্ট্যাটাসে নিজের স্ত্রীর একাধিক বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের কথা এবং ছবি ও এসএমএসের স্ক্রিন শট পোস্ট করেন তিনি। পোস্টে আত্মহত্যার জন্য নিজের বউকে দায়ী করেন। পাশাপাশি শ্বশুর শাশুড়িকেও দায়ী করেন তিনি।

এরপর বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোর ৫ টার দিক চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও আবাসিক এলাকার ডি ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২০ নম্বরের নিজ বাসায় শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করেন তিনি।আকাশের সঙ্গে সংসার করার কোনো ইচ্ছাই ছিল না স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরী মিতুর। পরিবারের চাপ আর স্বামীর প্রচণ্ড ভালোবাসায় অনেকটা করুণা করে স্বামীকে ডিভোর্স দেননি মিতু।গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে এসব তথ্য জানান মিতু। ঘটনার পর গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যান মিতু।

বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে নগরীর নন্দনকানন এলাকায় তানজিলা হক চৌধুরী মিতুকে তার খালাতো ভাইয়ের বাসা থেকে গ্রেফতার করে সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট।এরপর মিতুর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আমানত শাহ (র.) মাজার এলাকা থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে আকাশের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি জব্দ করে পুলিশ।শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চান্দগাঁও থানায় মামলা করেছেন আত্মহত্যাকারী চিকিৎসকের মা জমিরা খানম।

মামলায় মিতু, তার বাবা আনিসুল হক চৌধুরী, মা এবং আমেরিকা প্রবাসী এক বোন ও মিতুর দুই বয়ফ্রেন্ডকে আসামি করা হয়েছে।সাত বছরের প্রেমের সূত্র ধরে তিন বছর আগে ২০১৬ সালে পারিবারিকভাবে মিতুর সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। বিয়ের পর মিতু বেশি সময় কাটিয়েছেন মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায়। মাঝেমধ্যে মিতু স্বামীর কাছে আসতেন। দেশে আসার পরও মিতু স্বামীর বাসায় নয়, বেশির ভাগ সময় থাকতেন তার বাবার চান্দগাঁও এলাকার বাসায়। মিতুও পেশায় একজন ডাক্তার। ২০১৪ সালে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন।

ডা. আকাশের এক আত্মীয় বলেন, ‘বিয়ের পর মিতুকে নিয়ে সুখে ছিল না আকাশ। বিয়ের আগে মিতু দীর্ঘ সময় মা-বাবার সঙ্গে আমেরিকায় ছিল। সে ওই দেশের কালচার মেনে চলার চেষ্টা করত। বিয়ের পর একাধিক বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে অবাধ মেলামেশা পছন্দ ছিল না আকাশের। তাদের বিয়ের কাবিননামা ছিল ৩৫ লাখ টাকা। মিতুকে ডিভোর্স দিলে আইন অনুযায়ী দিতে হতো কাবিনের সব টাকা। মিতুর বেপরোয়া স্বভাব চরিত্র এবং চালচলন পছন্দ না হলেও আকাশ বাধ্য হয়ে মুখ বুঝে মেনে নিয়েছিল। এ কারণেই বেপরোয়া জীবন যাবন করে আকাশের কাছ থেকে ডিভোর্স নিয়ে সেই ৩৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়াই ছিল মিতুর উদ্দেশ্য।’

ডা. আকাশের ছোট ভাই নেওয়াজ মোরশেদ বলেন, ‘গত ১৪ জানুয়ারি আমেরিকা থেকে দেশে ফিরে মিতু। ঘটনার দিন মিতু আকাশের সঙ্গে বাসায় ছিল। মিতুর পরকীয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আকাশের সঙ্গে বুধবার রাতে ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে মিতু রাগ করে বাসা থেকে বের হয়ে যায়। এরপর ফেসবুকে দুটি স্ট্যাটাস দিয়ে নিজ শরীরে ইনজেকশন পুশ করে আত্মহত্যা করে আকাশ। এ ঘটনায় শুক্রবার বিকালে মিতুসহ ৬ জনকে আসামি করে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।’

নগর পুলিশের উত্তর জোনের এডিসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ডা. আকাশ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে তানজিলা হক চৌধুরী মিতু, তার পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের ব্যাপারে যেসব অভিযোগ করেছেন সেসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে। মিতুকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বামীর অভিযোগের কিছু বিষয় স্বীকার করেছেন, আর কিছু বিষয় এড়িয়ে গেছেন।’এদিকে মৃত্যুর আগে আত্মহত্যার জন্য আকাশ তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে স্ত্রী তানজিলা হক মিতুকে দায়ী করেছেন।

ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক গ্রেফতার

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে জিয়াউর রহমান জিয়া নামে এক শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটককৃত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়া উপজেলার থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক। শুক্রবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় তাকে আটক করে পুলিশ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে থানাহাট পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী একই বিদ্যালয়ের বিএসসি শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার বাসায় প্রাইভেট পড়তে যায়। এসময় ছাত্রীকে একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন করেন ওই শিক্ষক। বাড়ি গিয়ে ছাত্রী তার পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি জানায়। পরে এলাকাবাসী সেই বাসার সামনে হাজির হয়।

আক্রান্ত শিক্ষার্থীর বাবা প্রথমে ইউএনও শাহ মোহাম্মদ শামসুজ্জোহার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। পরে ইউএনও তার কাছে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে সন্ধ্যায় তাকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

আটককৃত শিক্ষক জিয়াউর রহমান জিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা করেছেন ওই শিক্ষার্থীর বাবা। শনিবার (০২ জানুয়ারি) সকালে তাকে চিফ জুডিশিয়াল আদালতে নেয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জার্মানিতে আগমনে ব্যাপক প্রস্তুতি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চতুর্থ বার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিতে তিনি সম্ভাব্য ১৫ ফেব্রুয়ারি জার্মানিতে অবস্থান করবেন।

মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে সাইডলাইনে বৈঠক হতে পারে শেখ হাসিনার। জানা গেছে, নিরাপত্তা সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ অতিথিরা আসছেন।
তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। সেখানে চলমান রোহিঙ্গা সঙ্কটের বিষয়টি তুলে ধরতে পারেন তিনি।
সফরের প্রস্তুতি হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সভাপতিত্বে দুটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য এজেন্ডাগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আসন্ন জার্মানি সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জার্মানি শাখা ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
চতুর্থ বার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হবার পর শেখ হাসিনার প্রথম বিদেশ সফরে ইউরোপ আগমনে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সংবর্ধনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে । এই সফরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, জার্মানি শাখার সভাপতি বশিরুল আলম চৌধুরী (সাবু) এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদল আহম্মেদ সকল সদস্যকে মিউনিখে উপস্থিত হয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগতম জানানোর অনুরোধ করেছেন।
জার্মানি শাখার সাধারণ সম্পাদক শেখ বাদল আহম্মেদ জানান, সর্বকালের শ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সুযোগ্য কন্যা বিশ্ব মানবতার জননী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানাতে ইউরোপীয় আওয়ামী লীগ,  জার্মান আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, সেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সহ সর্ব ইউরোপের সকল অঙ্গ সংঘটন এর সকল প্রবাসীদের উপস্থিতি ও সর্বাত্মক সমর্থন জানাতে একান্ত ভাবে কামনা করছি ।

হিরো আলম এবার অনন্ত জলিলের ছবিতে

হিরো আলম ব্যতিক্রমী নাচ-গান ও মিউজিক ভিডিও দিয়ে আলোচনায় এসেছেন। এবার তিনি ডাক পেয়েছেন সিনেমায়। তাও কোন ছোট চরিত্রে নয়, বড় চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ হচ্ছে তার। জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিলের ছবিতে কাজ করতে যাচ্ছেন আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম।

নায়ক ও প্রযোজক অনন্ত জলিল তার পরবর্তী ছবিতে হিরো আলমকে কাস্ট করতে যাচ্ছেন। বিষয়টি হিরো আলম ও অনন্ত জলিল দুজনেই নিশ্চিত করেছেন।এ প্রসঙ্গে অনন্ত জলিল গণমাধ্যমকে বলেন, এখন আমি একটি যৌথ প্রযোজনার ছবি নিয়ে কাজ করছি। এতে অনেক ছোটখাটো চরিত্র রয়েছে। যেখানে হিরো আলমকে নিতে পারি না। সে যেহেতু একটা পর্যায়ে চলে গেছে তাই তাকে আগামী ছবিতে তাকে বড়
চরিত্রে নেব।

নায়ক ও নির্মাতা অনন্তের অফার পেয়ে হিরো আলমও খুশি। হিরো আলম বলেন, জলিল ভাই যেহেতু কথা দিয়েছে সেহেতু তিনি কথা রাখবেন ।দীর্ঘ বিরতির পর ইরানের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় ‘দিন-দ্য ডে’ নামে একটি সিনেমার কাজ করছেন অনন্ত জলিল। আর হিরো আলমের সাম্প্রতিক ব্যস্ততা ছিল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে। বগুড়া-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রতীকে নির্বাচন করেছেন তিনি।

দাঁতের মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধ করার কার্যকরী কয়েকটি উপায়

দাঁতের মাড়ির ইনফেকশন, গর্ভাবস্থা, ভিটামিনের ঘাটতি, স্কার্ভি, লিউকেমিয়া, মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলা বা অভ্যন্তরীণ কোন ইনফেকশনের জন্য ব্লিডিং গাম বা দাঁতের মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ার সমস্যাটি হয়। একে চিকিত্‍সা বিজ্ঞানের ভাষায় জিঞ্জিভাইটিস বা পেরিওডন্টাইটিস বলে। সাধারণত দাঁত ব্রাশ করার সময় বা থুতু ফেলার সময় বা শক্ত কিছু খাওয়ার সময় মাড়ি দিয়ে রক্ত পড়ে। মাড়ির রক্ত পড়ার সমস্যাটি প্রাথমিক ভাবে গুরুত্ব সহকারে না নিলে মাড়ির প্রদাহ বা জিঞ্জিভাইটিস হতে পারে।

প্রাথমিক পর্যায়ে মাড়ির রক্ত পড়ার সমস্যাটি প্রতিকারে ঘরোয়া কিছু উপায় অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখেঃ

১. সাইট্রাস ফল: দাঁতের মাড়ির রক্ত পড়ার অন্যতম কারণ হচ্ছে ভিটামিন সি এর ঘাটতি। টক ফল লেবু ও কমলা এবং সবজি বিশেষ করে ব্রোকলি ও বাঁধাকপি পর্যাপ্ত ভিটামিন সি প্রদান করে মাড়ির রক্ত পড়া প্রতিরোধ করতে পারে।

২. দুধ: দাঁত ও মাড়িকে শক্তিশালী করার জন্য ক্যালসিয়াম প্রয়োজন এবং দুধে উচ্চ মাত্রার ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন থাকে। তাই মাড়ির রক্ত পড়া রোধে নিয়মিত দুধ পান করুন।

৩. ধূমপান বন্ধ করুন: ধূমপানের ফলে মুখে মুক্ত অক্সিজেনের ঘাটতি দেখা দেয় ফলে কিছু ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধির জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়। তাই আপনার মুখকে ব্যাকটেরিয়া মুক্ত রাখার জন্য ধূমপান বাদ দিন। American Academy of Periodontology এর মতে, টোবাকোর ধোঁয়াতে যে টক্সিন থাকে তা মাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি সরবরাহে বাঁধা প্রদান করে ও প্রদাহ সৃষ্টিতে সাহায্য করে। ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করাটা কঠিন কিন্তু যদি আপনি আপনার মুখের ও সার্বিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা চান তাহলে এই অভ্যাস ত্যাগ করাটা গুরুত্বপূর্ণ।

৪. কাঁচা সবজি: মাড়ির রক্ত সঞ্চালন ও দাঁত পরিষ্কার রাখার জন্য কাঁচা সবজি চিবানো ভালো। তাই প্রতিদিন কিছু কাঁচা সবজি খান।

৫. বেকিং সোডা: মুখের ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে বেকিং সোডা। হাতের আঙ্গুলে বেকিং সোডা নিয়ে মাড়িতে লাগান।
৬. লবঙ্গ: দাঁতের সকল ধরণের সমস্যা বিশেষ করে মাড়ির রক্ত পড়ার সমস্যায় সবচেয়ে সহজ ও প্রাচীন পদ্ধতি। লবঙ্গ মুখে নিয়ে চুষতে পারেন বা লবঙ্গের তেল দিয়ে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন।

৭. ভুঁই তুলসি ও মেন্থল তেল: মেন্থল তেল ও ভুঁই তুলসির তেল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে মুখ পরিষ্কার ও সতেজ থাকে।

৮. স্যালাইন: ব্রাশ করার পরে উষ্ণ গরম জলে এক চিমটি লবণ বা ১ চামচ স্যালাইন মিশিয়ে কুলকুচি করলে মাড়ির রক্ত পড়া বন্ধ হয়। এতে ব্যথা ও ফোলা কমে।

৯. ফ্যাটি ফুড বর্জন করুন: চর্বি যুক্ত ও মশলাদার খাবার দাঁতের ছিদ্র তৈরিতে সাহায্য করে এবং অস্বাস্থ্যকর জীবাণুর উত্‍স। যার ফলে পর্যায়ক্রমে ব্লিডিং গাম এমনকি জিঞ্জিভাইটিসও হতে পারে। তাই ব্লিডিং গামের সমস্যায় ভুগলে যতটুকু সম্ভব চর্বি জাতীয় খাবার বর্জন করুন। University of Lowa Health Care এর মতে, ব্রাশ করা ও ফ্লস ব্যবহার করলে দাঁতে ময়লা জমে না।

এছাড়াও নিয়মিত দন্ত চিকিত্‍সকের কাছে গিয়ে দাঁত পরিষ্কার রাখা উচিত্‍। মুখের যত্ন স্বাস্থ্যকরভাবে নিলে দাঁতের মাড়ির রক্ত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি প্যারিওডন্টিস এবং জিঞ্জিভাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা রোধ করা যায়।
মনে রাখতে হবে যে, মাড়ির রোগ সংক্রমিত হতে পারে। তাই যাদের এই সমস্যা আছে, তাদের ব্যবহৃত জিনিস যেমন- ব্রাশ, জলের গ্লাস ইত্যাদি আলাদা রাখুন। তাহলে দাঁত ও মাড়ির সমস্যাগুলো থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ার কারণ: দাঁত ব্রাশ করার সময় টুথব্রাশের লোমে মাড়ি থেকে বের হওয়া রক্ত লাগলে অথবা দাঁত পরিষ্কার করার সময় মাড়ির গর্ত বা দাঁত ও মাড়ির সংযোগস্থল থেকে রক্ত বের হয়ে বেসিন রঞ্জিত হলে অবহেলা করা মোটেই উচিত নয়। কানাডিয়ান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট এবং ম্যানিটোবার ডেন্টিস্ট ডা. পিটার ডোইগের মতে, ‘মাঝে মাঝে শক্ত খাবারের সঙ্গে মাড়ির সংঘর্ষ লেগে রক্তপাত হতে পারে, কিন্তু রক্ত যদি নিয়মিত ব্রাশে বা ডেন্টাল ফ্লসে দেখা যায় তাহলে মারাত্মক কোনো অবস্থাকে দায়ী করা যায়। রিডার্স ডাইজেস্টের প্রতিবেদন অনুসারে জেনে নিন, দাঁতের মাড়ির প্রদাহের কারণ ও তার প্রতিকার।

জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ: দাঁতের প্লাক(হলুদ বর্ণের আবরণ) এবং ক্যাভিটি (দাঁতের ক্ষয়) দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এর ফলে মাড়িতে প্রদাহ হয় যাকে বলে জিনজিভাইটিস বা মাড়ির প্রদাহ। জিনজিভাইটিস হলে ব্যথা অনুভূত হয় না এবং বলতে গেলে উপসর্গমুক্ত। টুথব্রাশ বা ডেন্টাল ফ্লসে রক্তের উপস্থিতি না দেখা পর্যন্ত এ রোগের প্রাদুর্ভাব বোঝা যায় না। ডা. ডোইগ বলেন, জিনজিভাইটিস একটি উপেক্ষিত রোগ, কারণ এটি বেদনাদায়ক নয়। এটি ‘চোখের আড়াল তো মনের আড়াল’ প্রকৃতির রোগ।

জিনজিভাইটিসের চিকিত্‍সা করা না হলে এটি পেরিওডোন্টাল ডিজিজে (দাঁতের প্রদাহ) রূপ নেয় যাকে মুখ গহবরের সংকটপূর্ণ অবস্থা বলা যায়, যা মাড়ির টিস্যু ধ্বংস ও মাড়ি থেকে দাঁত আলগা হওয়ার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। সুখবর এই যে, জিনজিভাইটিস সারিয়ে তোলা যায়। জিনজিভাইটিস ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য। নির্ভুল মুখগহবর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে, নিয়মিত ব্রাশিং ও ফ্লসিং করে, দাঁত থেকে প্লাক দূর করে এবং নিয়মিত ডেন্টিস্টের সেবা নিয়ে মাড়ির রক্তাক্ততা ও জিনজিভাইটিস দূর করা যায়।

প্রতিকার: যে কোনো রোগেরই চিকিত্‍সা করার আগে সেই রোগের সত্যিকার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। অপরিচ্ছন্নতার জন্য মাড়ি আর দাঁতে জমে থাকা নরম ও কঠিন বস্তু, যথা জীবাণুর প্রলেপ ও খাদ্যকণা রোগী নিজেই পরিষ্কার করতে পারেন। তবে জীবাণুর প্রলেপ একবার শক্ত হয়ে পাথরে পরিণত হলে তা দন্তু চিকিত্‍সকের কাছে গিয়ে পরিষ্কার করিয়ে নিতে হয়। অাঁকাবাঁকা কিংবা উঁচু নিচু দাঁতের কারণে রক্ত পড়লে সে ক্ষেত্রে স্কেলিং করানোর সঙ্গে সঙ্গে অাঁকাবাঁকা দাঁতের চিকিত্‍সা ও অর্থোডেনটিস্টের সাহায্য নিতে হবে।

ডায়াবেটিস বাড়ে যেসব কারণে

যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভূগছেন চিকিৎসকরা সবসময় তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেন।কারণ এটি নিয়ন্ত্রণে চোখের রেটিনা, নার্ভ, কিডনির সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া হৃদরোগ ও স্ট্রোকেরও ঝুঁকি থাকে।

দৈনন্দিন জীবনে কিছু অভ্যাসের কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। যেমন-

বিকল্প মিষ্টি : অনেক ডায়াবেটিস রোগী চিনির পরিবর্তে চা বা কফিতে বিকল্প চিনি বা আর্টিফিসিয়াল সুইটনার ব্যবহার করেন। ২০১৪ সালে ‘ন্যাচার’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায়, বাজারে যেসব জিরো ক্যালরি নামের বিকল্প চিনি পাওয়া যায় তার প্রায় সবগুলোতেই অতিরিক্ত সোডা পাওয়া গেছে যা রক্তে শর্করার পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

ফ্যাটি ফুড : যারা টাইপ টু ডায়াবেটিসে ভূগছেন তাদের কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার ব্যাপারে সাবধান হওয়া উচিত। এছাড়া যেকোন ধরনের প্রক্রিয়াজাত কিংবা ফাস্টফুড খাওয়া তাদের এড়িয়ে চলা উচিত।

সকালের নাস্তা না খাওয়া : সকালের নাস্তা দিনের খাবারের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব ডায়াবেটিস রোগী সকালের নাস্তা এড়িয়ে যান তাদের রক্ত শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে বিশেষজ্ঞরা সকালের নাস্তায় ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত ডিম, মাশরুম , টমেটোর মতো কম কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন।

রাতে বেশি খাওয়া : গবেষণা বলছে, শুধু রাতে বেশি খাওয়া নয় কোন সময়ে খাচ্ছেন সেটা উপরও রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। অর্থাৎ রাতে খাওয়ার পর পরই ঘুমাতে গেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সকালের নাস্তা কম খান অন্যদিকে রাতের খাবার বেশি খান তাদের রক্তে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে।

শারীরিকভাবে নিস্ক্রিয় থাকা : ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উপায় হলো নিয়মিত ব্যায়াম করা। নিয়মিত ব্যায়াম করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ওজন কমে, স্ট্রোক এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

 

চাপে থাকা : পারিবারিক জটিলতা, অতিরিক্ত কাজের চাপে থাকলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে চাপ নিয়ন্ত্রণের কৌশল শিখুন। খুব বেশি মানসিক চাপে থাকলে কিছুক্ষন হাঁটাহাটি করুন অথবা লম্বা করে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ার অভ্যাস করুন।

দাঁতের সমস্যা : গবেষকরা বলছেন, দাঁতের স্বাস্থ্য খারাপ হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। এ কারণে নিয়মিত দাঁতের যত্ন নেয়া উচিত। দাঁত সুস্থ রাখতে দিনে দুইবার ব্রাশ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কম ঘুম : ন্যাশনাল স্লিপ ফাউণ্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ঘুম কম হলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে এ কারণে নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুমানো উচিত।

রাতে এসএসসি পরীক্ষা দিবে যশোর বোর্ডের রিকি

 রাতের বেলায় এসএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। শুধু ধর্মীয় কারণে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা রিকি রাতে পরীক্ষা দেওয়ার আবেদন করে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে। তার আবেদন শিক্ষা বোর্ড গ্রহণ করেছে। আজ শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রিকির এই পরীক্ষা আয়োজনে সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র এই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে বোর্ডের সিদ্ধান্ত মোতাবেক রিকিকে সকাল ১০টার মধ্যে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। এরপর অপেক্ষা করতে হবে তার পরীক্ষার জন্য বোর্ড নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। এ সময়ের মধ্যে কোনোভাবেই পরীক্ষা কক্ষের বাইরে বের হওয়া যাবে না এবং কারো সঙ্গে যোগাযোগও করা যাবে না। এ সময় তাকে খাবার ও পানি সরবরাহসহ শৌচাগার ব্যবহারে শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেওয়া হবে।

 

কুষ্টিয়ার কুমারখালী কেন্দ্রে পরীক্ষা দেবে ‘সেভেন্থ ডে অ্যাডভান্টিস্ট’সম্প্রদায়ের রিকি। এটি খ্রিস্টধর্মীয় প্রটেস্ট্যান্ট ধারার একটি উপধারা। ১৮৬৩ সালের দিকে গোড়াপত্তন হওয়া নবতর এই ধর্মীয় সম্প্রদায়ের রীতিমতে শনিবার দিন কোনো কিছু না লেখার বিধান রয়েছে।

 

রিকি কুমারখালীর পারফেক্ট ইংলিশ ভার্সন স্কুলের এসএসসি পরীক্ষার্থী। শনিবার দিনের বেলা এই সম্প্রদায়ের কোনো কিছু না লেখার জন্য ধর্মীয় বিধান রয়েছে। এ বিষয়টি তুলে ধরে রিকি শনিবার অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষাগুলো রাতে নেওয়ার জন্য বোর্ড বরাবর আবেদন করে।

 

এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মীয় বিধি বিধানের বিষয়টি আমলে নিয়ে আজ শনিবার ২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য বাংলা পরীক্ষা সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নেবে যশোর শিক্ষাবোর্ড। এছাড়াও পরবর্তী যেসব পরীক্ষা শনিবার পড়বে সেসব পরীক্ষার ক্ষেত্রেও রিকি একই সুবিধা পাবে বলে জানা যায়। বোর্ড নিযুক্ত প্রতিনিধি সব সময় তার সঙ্গেই থাকবেন। এবং এই সময়ের মধ্যে রিকি কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবে না।

 

যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মাধব চন্দ্র রুদ্র জানান, রাতে ওই পরীক্ষার্থীর পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব, হল সুপার, সহকারী হল সুপার, কক্ষ পরিদর্শক ও পুলিশসহ দায়িত্বশীল সবাই দায়িত্ব পালন করবেন।