All posts by lutfor

মসজিদে এসি বিস্ফোরণ : নিহত বেড়ে ১৮

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত বেড়ে ১৮ জনে দাড়িয়েছে। এই তালিকায় আছে এক শিশু ও মসজিদের মুয়াজ্জিন।শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন-  মো. নয়ন (২৭) ও কাঞ্চন হাওলাদার (৫৩), রিফাত (১৮), মোস্তফা কামাল (৩৪), জুবায়ের (১৮), সাব্বির (২১), কুদ্দুস ব্যাপরী (৭২), হুমায়ুন কবির (৭০), ইব্রাহিম (৪৩), মুয়াজ্জিন দেলোয়ার হোসেন (৪৮), জুনায়েদ (১৭), জামাল (৪০), জুয়েল (৭), জয়নাল আবেদিন (৪০) ও মাইনুদ্দিন (১২)। নিহত ১৮ জনের এখন পর্যন্ত ১২টি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, বেশিভাগ রোগীর অবস্থাই সংকটাপন্ন। রোগীদের প্রায় সবারই ৩০ শতাংশের বেশি পুড়ে গেছে। সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে যথাযথ চিকিৎসা দেয়ার। রোগীদের চিকিৎসায় প্রচুর রক্তের প্রয়োজন। সে কাজে এরইমধ্যে যোগ দিয়েছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীরা।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার পশ্চিমতল্লা এলাকার বাইতুস সালাত জামে মসজিদে এসি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে মসজিদের ভেতরে থাকা প্রায় ৫০ জনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হুড়োহুড়ি করে বের হওয়ার চেষ্টা করেন তারা। তাদের মধ্যে দগ্ধ অবস্থায় ৩৭ জনকে উদ্ধার করে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

দলে ফিরলেও আপাতত নেতৃত্ব পাচ্ছেন না সাকিব

আগামী ২৯ অক্টোবর আইসিসির নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হতে যাচ্ছেন সাকিব আল হাসান। তার আগে আজ থেকেই তিনি বিকেএসপিতে শুরু করেছেন ব্যক্তিগত অনুশীলন। শ্রীলঙ্কা সফরের দ্বিতীয় টেস্ট থেকে যে তিনি খেলবেন, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। নিষিদ্ধ হওয়ার আগে টেস্ট এবং টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক ছিলেন সাকিব। তবে দলে ফিরলেও তিনি কোনো ফরম্যাটেই আপাতত নেতৃত্ব ফিরে পাচ্ছেন না।

সাকিব নিষিদ্ধ হওয়ার পর টি-টোয়েন্টি দলের দায়িত্ব পেয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। আর সাদা পোশাকে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন মুমিনুল হক। করোনার কারণে নিজেদেরকে প্রমাণের তেমন সুযোগ তারা পাননি। সাকিবকে অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হবে কিনা- এমন প্রশ্নে গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ক্রিকেট অপারেশনস চেয়ারম্যান আকরাম খান বলেছেন, না, এখনই ক্যাপ্টেন্সি বদলানোর কোনও ভাবনা নেই। মুমিনুল আছে, সেই থাকবে। নেতৃত্বে পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।ভারতীয় এক বুকির ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব আইসিসিকে না জানানোয় ২ বছর নিষিদ্ধ (১ বছর স্থগিত) হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। বিশ্বসেরা অল-রাউন্ডারের এই পরিণতিতে পুরো ক্রিকেটবিশ্ব হতভম্ব হয়ে গিয়েছিল। নির্বাসনের আগে তিনিই ছিলেন অধিনায়ক, দলের সেরা তারকা। কামব্যাকের পরেও সেরা তারকা তিনিই থাকবেন। নেতৃত্বের মুকুট ফিরে পান বা নাই পান, সাকিব থেকে যাবেন ক্রিকেটপ্রেমীর হৃদয়ে। তার প্রত্যাবর্তনটা হবে সাবেক অজি অধিনায়ক স্টিভ স্মিথের মতো, সাধারণ ক্রিকেটার হিসেবে।

৫ ভারতীয় যুবককে ধরে নিয়ে গেছে চীনা সেনাবাহিনী!

পূর্ব লাদাখে উত্তেজনার মধ্যে পাঁচ ভারতীয় যুবককে চীনা সেনাবাহিনী তুলে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন ভারতের অরুণাচল প্রদেশের কংগ্রেস সংসদ সদস্য নিনং এরিং।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এক টুইট বার্তায় নিনং এরিং জানান, ভোরে রাজ্যের আপার সুবর্ণসিরি জেলার নাচো সার্কল এলাকা থেকে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সেনারা তুলে নিয়ে যায় ওই পাঁচ ভারতীয় যুবককে। তাঁরা ওই এলাকায় মাছ ধরতে গিয়েছিল। অপহৃতরা সকলেই স্থানীয় তাজিন সম্প্রদায়ের।

অরুণাচল পুলিশের ডিজি আর আর উপাধ্যায় জানিয়েছেন, শনিবার ভোরে নাচো সার্কলের সেরা-৭ এলাকার একটি জঙ্গল থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করা হয়েছে। তবে অপহৃতদের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাদের উদ্ধারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানায়, ওই যুবকরা শনিবার ভোরে সেরা-৭ এলাকার জঙ্গলে মাছ শিকার করতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাদের অপহরণ করা হয়েছে। অপহৃতরা হলেন- তনু বাকার, প্রশাত রিংলিং, নগরু দিরি, দোংতু এবিয়া ও তচ সিংকম।

অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ সূত্রে খবর, যেই স্থান থেকে পাঁচ যুবককে অপহরণ করা হয়েছে সেই সেরা-৭ এলাকা থেকে ভারত-চীন প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা ১০০ কিলোমিটার দূরে।

অপহৃতদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে তথ্য নেওয়ার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাহায্য চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অরুণাচল প্রদেশের পুলিশ। সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।

শিল্পখাত করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে : শিল্পমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ নেতৃত্ব ও ঘোষিত প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাত ধীরে ধীরে করোনার নেতিবাচক প্রভাব কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত বৈশ্বিক উৎপাদন এবং শিল্পায়ন সম্মেলনের অংশ হিসেবে নীতি নির্ধারকদের চ্যালেঞ্জ: মন্দার মধ্য দিয়ে যাত্রা শীর্ষক উচ্চ পর্যায়ের অধিবেশনের সম্মানিত আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের সবচেয়ে বড় ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাত।বিশ্বব্যাপী লকডাউনের প্রথম পর্যায়ে এখাতে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও চলতি বছরে জুলাই থেকে এটি আবার সচল হতে শুরু করেছে। চলতি বছরের ০১-২২ আগস্ট বাংলাদেশ দুই দশমিক চার বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৫ দশমিক আট শতাংশ বেশি।কোভিড-১৯ উত্তরণে উৎপাদনশীল শিল্পখাতে ভ্যালু চেইনের উন্নয়নে বিশ্ব সম্প্রদায়ের করণীয় নির্ধারণের লক্ষ্যে জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থা (ইউনিডো) এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্বালানি ও শিল্প মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ সম্মেলন আয়োজন করে।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারির ফলে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন ও উৎপাদনশীল শিল্পখাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এমএসএমই খাতের সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশ করোনার নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় শুরু থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে শিল্প উৎপাদন চালু ও নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন অব্যাহত রাখার কৌশল গ্রহণ করেছে। এর ফলে দেশীয় উৎপাদনমুখী শিল্পখাত ক্রমেই ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। আগামী ছয় মাসের পর থেকে বাংলাদেশ করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সক্ষম হবে বলে ইউনিডো পরিচালিত সাম্প্রতিক সমীক্ষার সঙ্গে তিনি একমত পোষণ করেন।

উৎপাদনমুখী শিল্পখাতে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সুফল উল্লেখ করে শিল্পমন্ত্রী বলেন, এ শিল্প বিপ্লবের ফলে উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় ডিজিটাল টেকনোলজির ব্যবহারের বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশে এ খাতে কয়েকটি পাইলট উদ্যোগ ইতোমেধ্যে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাত শ্রমঘন হওয়ায় বাংলাদেশের মতো জনবহুল দেশে ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পখাত করোনা পরবর্তীতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

প্রতি বছর ২০ লাখ মানুষ দেশের কর্মবাজারে প্রবেশ করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী এ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বর্তমান সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রযুক্তিগত সুবিধা কাজে লাগাতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে বলে তুলে ধরেন। একই সঙ্গে উন্নত ও উন্নয়নশীল নির্বিশেষে বিশ্বের সব রাষ্ট্রে উৎপাদনমুখী শিল্পখাতের বিকাশে গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) সহায়তা জোরদার, হাইটেক সার্ভিস সহজলভ্যকরণ এবং অদক্ষ ও আধাদক্ষ জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চমানের দক্ষতা সম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের ওপর গুরুত্ব দেন।

প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সিএনএন ইন্টারন্যাশনালের বিজনেস এমার্জিং মার্কেটস এডিটর মি. জন কে. ডেফটারিয়স এর সঞ্চালনায় এ অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৌদি আরবের শিল্প ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী বান্দার বিন ইব্রাহীম আল-খোরায়েফ।এতে রাশিয়ার সলকোবো ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মি. আরকাদি দোভোরোভিচ, ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্রসম্পদ ও বিনিয়োগ বিষয়ক মন্ত্রী জেনারেল (অব.) লুহুত বিনসার পাণ্ডজায়ান এবং রুয়ান্ডার বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী সোরায়া হাকুজিয়েরেমি আলোচনায় অংশ নেন।

অ্যাটর্নি জেনারেলের করোনা পজিটিভ, সিএমএইচএ ভর্তি

রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলম করোনা পজিটিভ। চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টের একাধিক আইনজীবী বলেন, হ্যাঁ, আমরা শুনেছি ওনার করোনা পজিটিভ। কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত অ্যাটর্নি জেনারেল সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি হয়েছেন বলেও জানান তারা।শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে তার শরীরে জ্বর দেখা দেয়। পরে চিকিৎসক তাকে হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন।আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, করোনা আক্রান্ত হয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল সিএমএইচ-এ চিকিৎসা নিচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানকার কর্মরত ডাক্তাররা সার্বক্ষণিক তার চিকিৎসায় নিয়োজিত আছেন।এর আগে অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল হিসাবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এসএম মুনির।ওইদিন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমের নেতৃত্বে দুই অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল (মুরাদ রেজা ও মোমতাজ উদ্দিন ফকির), ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলসহ শতাধিক আইনজীবী বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন, ড. বশির উল্লাহ, গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, আসাদুজ্জামান মনিরসহ অন্যান্য আইনজীবীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর আধুনিকায়নে ৪০০০ কোটি ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

শিল্পায়নের মাধ্যমে দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে কাজ করছে সরকার। ২০১৫ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় গড়ে তোলা হচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর। শিল্প নগরটি আরও অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে বিএসএমএসএন-২ জোনে প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এন্টারপ্রিনিউরশিপ (প্রাইড) ফর বেজা প্রজেক্ট শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। এটি বাস্তবায়নে মোট খরচ প্রস্তাব করা হয়েছে চার হাজার ৩৫৬ কোটি ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা। তার মধ্যে সরকার দেবে ৩৮৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা ঋণ। বিশ্বব্যাংক ঋণ হিসেবে দেবে তিন হাজার ৯৬৯ কোটি ৯২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই ও জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে গেছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির ওপর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সভায় পরিকল্পনা কমিশন মতামতে বলেছে, এ প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত প্রদেয় তথ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরর ওপর প্রণীত মাস্টার প্ল্যান, যা ২০১৯ সালের ৬ নভেম্বর অনুমোদিত হয়েছে, সেটি রেফার করা হয়েছে। পরিকল্পনা বিভাগ থেকে ২০১৬ সালের অক্টোবরে জারি করা পরিপত্র ৪.১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার ওপর প্রাক্কলিত ব্যয়সম্পন্ন সব বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।ফলে বিশ্বব্যাংকের প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ঋণের এ প্রকল্প সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়া গ্রহণ করা আইনসম্মত নয় বলে মনে করছে পরিকল্পনা কমিশন।পাশাপাশি পিইসি সভায় এও বলা হয়েছে, সরকার থেকে ১ শতাংশ সুদে ৩৮৬ দশমিক ২৭ কোটি ঋণ গ্রহণের বিষয়ে আগেই অর্থ বিভাগের সম্মতি গ্রহণ করা আবশ্যক।পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরের বিএসএমএসএন-২ জোনকে অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার মাধ্যমে দেশীয় বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকরণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পণ্য বহুমুখীকরণের মাধ্যমে রফতানি আয় বৃদ্ধি ও সর্বোপরি মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সুযোগ তৈরি হবে। এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পুরুষের পাশাপাশি নারীদের ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন সহায়ক হবে।প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বেজা সূত্র বলছে, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিল্পায়ন করে দ্রুত দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বিভিন্ন স্থানে ২০১৫ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ১৬ বছরে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনে কাজ করছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চল আইন-২০১০ অনুযায়ী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলছে। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বেজার গভর্নিং বোর্ডের প্রথম সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক, চট্টগ্রামের মীরসরাই ও সীতাকুণ্ড উপজেলা এবং ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় প্রায় তিন হাজার একর জমিজুড়ে দেশের সর্ববৃহৎ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ চলমান। এই অর্থনৈতিক অঞ্চলকে পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর হিসেবে নামকরণ করা হয়। এ শিল্প নগরের উন্নয়নে বিশ্বব্যাংক ২০১৪ সাল থেকে বেজাকে সহযোগিতা করে আসছে।২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের জানুয়ারি মেয়াদে বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-১ শীর্ষক প্রকল্পটি বেজা কর্তৃক বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পটি বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের স্বাক্ষরিত প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট প্রজেক্ট (পিএসডিএসপি) ঋণচুক্তির আওতায় গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইকোনমিক জোন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট ফেজ-১ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামের মীরসরাই ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগর’র তিনটি জোনের অর্থাৎ বিএসএমএসএন-১ (৫৪৮ একর), বিএসএমএসএন-২ এ এবং বিএসএমএসএন-২বি (৪৭৪ একর) এর প্রায় দুই হাজার একর জমিতে ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় ইউটিলিটি সুবিধাদি সৃষ্টির মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের জন্য শিল্প ইউনিট স্থাপনের উপযোগী করে তোলা হয়েছে। বিএসএমএসএম-২ (বিএসএমএএন-২এ ও বিএসএমএসএন-২বি জোনে মোট ১০৪টি শিল্প ইউনিট বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। একটি সুপার ডাইক, ব্রেক-ওয়াটার ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে বিএসএমএসএন-২ জোন পর্যন্ত একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের মাধ্যমে ওই জোনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে।এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের ৪৬৭ দশমিক ০৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ প্রায় তিন হাজার ৯৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ঋণ সহায়তায় ‘প্রাইভেট ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড ডিজিটাল এন্টারপ্রিনিউরশিপ (প্রাইড) ফর বেজা প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আরও কিছু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যেমন- জোনের অভ্যন্তরে ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনবিশিষ্ট সড়ক, পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা বেষ্টনী, প্রশাসনিক ভবন, সিইটিপি, ডিজেলাইজেশন প্ল্যান্ট, স্টিম নেটওয়ার্ক, সলিড ওয়াস্ট ম্যানেজমেন্ট প্ল্যান্ট, বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট, ওয়াস্ট সরটিং অ্যান্ড মেটেরিয়াল রিকোভারি, রুফটপ এবং ফ্ল্যাটিং সোলার ভৌত অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে বিএসএমএসএন-২ কে একটি গ্রিন ইকোনমিক জোন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে বিনিয়োগকারীদের কাছে এটিকে অধিকতর আকর্ষণীয় হিসেবে গড়ে তোলা যায়।উল্লিখিত ভৌত কার্যক্রমের মধ্যে ছয়টি কাজ পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) প্রক্রিয়ায় বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটিতে বিভিন্ন ধরনের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সমীক্ষা বা স্টাডি ও পরামর্শক সেবা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে বলেও জানায় বেজা সূত্র।

প্রধানমন্ত্রীকে বিএনপির ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন ছিল : তথ্যমন্ত্রী

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দলটির ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন ছিল জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বিএনপি ধন্যবাদ জানানোর সংস্কৃতিটা লালন করে না। এজন্য তারা ধন্যবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) নিজ বাসভবনে টিভিসংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের বিভিন্ন সংগঠনের জোট ফেডারেশন অব টেলিভিশন প্রফেশনালস অর্গানাইজেশন (এফটিপিও) নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ কথা জানান।

বেগম জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ালেও বিএনপির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত ধন্যবাদ জানানো হয়নি- এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নজিরবিহীনভাবে একজন শাস্তিপ্রাপ্ত আসামি (খালেদা জিয়া), যিনি ১০ বছর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তাও এতিমের টাকা আত্মসাতের কারণে দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, তাকে নজিরবিহীনভাবে সিআরপিসি ৪০১ ধারার ক্ষমতা বলে তিনি মুক্তি দিয়েছেন। ছয় মাসের জন্য প্রাথমিকভাবে মুক্তি দেয়া হয়েছে, পরে আরও ছয় মাস বাড়ানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এই প্রথম সিআরপিসির ৪০১ ধারায় যে প্রদত্ত ক্ষমতা সেটা প্রধানমন্ত্রী প্রয়োগ করেছেন। এতে বিএনপির ধন্যবাদ জানানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে বিএনপি ধন্যবাদ জানানোর সংস্কৃতিটা লালন করে না। এজন্য তারা ধন্যবাদ জানাতে ব্যর্থ হয়েছে।

আমার প্রশ্ন বিএনপির কাছে, বেগম খালেদা জিয়া যদি প্রধানমন্ত্রী থাকতেন, এ পরিস্থিতি যদি উল্টোভাবে ভাবি, বেগম খালেদা জিয়া কি শেখ হাসিনার জন্য এ ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন? আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি করতেন না। কারণ যিনি ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করার জন্য হত্যাকারীদের উৎসাহিত করার জন্য নিজের জন্মের তারিখটাই বদলে দিয়ে ১৫ আগস্ট কেক কাটেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী তার দরজায় গিয়ে ১৫ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর দরজা খোলেননি, যার জ্ঞাতসারে তার পুত্র ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালায়, শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব কিছু ভুলে এই মহানুভবতা দেখিয়েছেন, এটি নজিরবিহীন।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কথা বলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা দেখেছি বিএনপি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে যেভাবে ভোট বানচাল করার চেষ্টা করেছে, ৫০০ ভোটকেন্দ্র জ্বালিয়ে দিয়েছে। শত শত মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। এমনকি পোলিং অফিসারকে হত্যা করেছে। এই যদি তাদের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নমুনা হয়, প্রকৃতপক্ষে বিএনপি হচ্ছে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।

এফটিপিও নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের পণ্যের বিজ্ঞাপনে বিদেশি দ্বিতীয় শ্রেণির শিল্পী কলাকুশলীদের দিয়ে বানিয়ে এনে প্রদর্শন করা হয়। এতে বাংলাদেশের শিল্পীরা বঞ্চিত হচ্ছেন, শিল্প বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা যারা অভিনয় করে যারা বিজ্ঞাপনে মডেল হয়, তারা কিন্তু অনেক স্মার্ট, দেখতে সুন্দর। কিন্তু এরপরও কোনো কোনো বিজ্ঞাপনী সংস্থার সবসময় প্রবণতা থাকে আশপাশের দেশ থেকে এগুলো বানিয়ে আনা। সেটি আমরা বন্ধ করব না কিন্তু এটার ওপর একটি নিয়মনীতি আরোপ করতে হবে। সেই নিয়মনীতি আমরা আরোপ করতে যাচ্ছি।

মুক্তবাজার অর্থনীতিতে যে কাউকে দিয়ে বানাতে পারে, কিন্তু আমাদের দেশের শিল্পী ও শিল্পকে রক্ষার জন্য কেউ যদি বিদেশি শিল্পী দিয়ে বিজ্ঞাপনচিত্র বানায় তবে প্রতি শিল্পীর জন্য সরকারকে কয়েক লাখ টাকা সরকারকে কর দিতে হবে। একই সঙ্গে এ বিজ্ঞাপন যখন টেলিভিশনে প্রদর্শিত হবে, সেই প্রদর্শনের জন্য মিনিট অনুযায়ী বা সেকেন্ড অনুযায়ী একটা ফি সরকারের কাছে জমা দিতে হবে। এটি দিয়ে যারা করতে চাইবে করবে। এটি আমরা খুব সহসাই করতে যাচ্ছি।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন,শিল্পীদের জন্য শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আছে, সেই কল্যাণ ট্রাস্টের সবাই অ্যাক্সেস করতে পারেন। টেলিভিশন, মঞ্চ, যাত্রার জন্য তো আলাদা শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট করা যাবে না। শিল্পীদের জন্য একটি শিল্পী কল্যাণ ট্রাস্ট আছে। সেটি পরিচালনার দায়িত্ব হচ্ছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের। ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী চলচ্চিত্র শিল্পীদের জন্য চলচ্চিত্র শিল্পী ট্রাস্ট গঠন করেছেন। এই দুটির মধ্যে কীভাবে টেলিভিশন শিল্পীরাও এর থেকে সহায়তা পায় সেটা নিয়ে আমরা কাজ করছি। যাতে সব শিল্পীই এখান থেকে সহায়তা পান। চিন্তা-ভাবনা করে আমরা একটি সিদ্ধান্তে উপনীত হবো ইনশাআল্লাহ।

টিআরপি ব্যবস্থাকে নিয়মনীতির মধ্যে আনতে গিয়ে তিন মাস আগ থেকে তথ্য মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি সুপারিশ করবে কীভাবে বিজ্ঞানসম্মতভাবে বা অন্যান্য দেশে যেভাবে টিআরপি নির্ধারণ করা হয়, সে পদ্ধতিতে আমাদের দেশে কীভাবে টিআরপি নির্ধারণ করা যায়।

পরিকল্পিত হা’মলা হয়েছে ইউএনও ওয়াহিদার ওপর

চুরি করতে গিয়ে দেখে ফেলায় ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলা করা হয়নি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। তাদের দাবি, ইউএনও ওয়াহিদা খানমের ওপর পরিকল্পিত হামলা হয়েছে। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা এ দাবি করেন।

বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমেদ বলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ইউএনও ওয়াহিদার ঘরে হামলাটি ছিল পরিকল্পিত।এ ঘটনায় সারা দেশে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরাপত্তায় ব্যাটালিয়ন আনসার নিয়োগের দাবি তুলেছেন তিনি।

হেলালুদ্দীন বলেন, কোনো কোনো মহল ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য বিচ্ছিন্ন ও চু’রি’র ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়ার অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, এটি কোনো চুরির ঘটনা নয়। কারণ দু’র্বৃ’ত্তরা কোনো প্রকার জিনিস চুরি করেনি বা খোয়া যায়নি।এটি একটি পরিকল্পিত আক্রমণের ঘটনা এবং এর সঙ্গে আরও অনেক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে।

তিনি বলেন, ইউএনও ওয়াহিদাকে সৎ ও নির্ভীক কর্মকর্তা। বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল বেআইনি তদবিরে ব্যর্থ হয়ে প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে মনে করেন এই সিনিয়র সচিব।

বিস্ফোরণ নাকি নাশকতা তা তদন্ত হচ্ছেঃ ওবায়দুল কাদের

নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ হয়েছে নাকি এটি কোনো নাশকতার ঘটনা তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।শনিবার জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মসজিদে এসি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।বঙ্গবন্ধু বাঙালির চেতনার বাতিঘর শীর্ষক অনলাইন আলোচনার আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে। হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও মাজহারুল তোকদারের সঞ্চালনায় শনিবার সকালে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. হারুন অর রশিদ,বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সামছুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এএইচএম মোস্তাফিজুর রহমান, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর জালাল উদ্দিন।

কাল কঠোর সতর্কতায় বসতে যাচ্ছে নবম সংসদের অধিবেশন

সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও কাল রবিবার বসছে জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশন। সকাল ১১টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এ অধিবেশন শুরু হবে। অধিবেশন পরিচালনার ক্ষেত্রে কঠোর সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, অধিবেশনের শুরুতেই চলতি সংসদের সদস্য মো. ইসরাফিল আলমের মৃ’ত্যু’তে শো’ক প্রস্তাব উত্থাপন ও তা নিয়ে আলোচনা হবে। পরে অধিবেশন মুলতবি করা হবে। চলতি অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের কথা রয়েছে।বর্তমানে ১৪টি বিল সংসদে পাসের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে স্বল্প সময়ের এই অধিবেশনে বিলগুলো পাস করা কঠিন হবে। কারণ বিগত দুটি অধিবেশনের মতো এই অধিবেশন সংক্ষিপ্ত হবে। যা সর্বোচ্চ পাঁচ দিন চলতে পারে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে যেকোনো ধরনের ঝুঁকি এড়াতে সংসদ সদস্য ও সংসদ ভবন এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অধিবেশনে দায়িত্ব পালনকারী সবাইকে নমুনা পরীক্ষার মাধ্যমে করোনাভাইরাস নেগেটিভ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে সংসদে যোগদানকারী সংসদ সদস্যদেরও করোনার নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত আগস্ট মাসেই আটজন সংসদ সদস্য ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হন। এ পর্যন্ত ৩৫ জন সংসদ সদস্য ক’রো’নায় আ’ক্রা’ন্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গত ১৩ জুন ও নওগাঁ-৬ আসনের মো. ইসরাফিল আলম ২৭ জুলাই মারা যান। এ ছাড়া সংসদ সচিবালয়ের দুই শতাধিক কর্মকর্ত-কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হন।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মকর্তা জানান, ঝুঁ’কি এড়াতে ক’রো’না টেস্ট ছাড়াও শারীরিকভাবে অসুস্থ ও বয়স্কদের অধিবেশনে যোগ না দিতে বলা হয়েছে। অধিবেশনে এমপিদের উপস্থিতি যাতে কোনোভাবেই তিন অঙ্কে না পৌঁছে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

অধিবেশনের আসনবিন্যাসও গত দুটি অধিবেশনের মতোই থাকছে। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সংসদ সদস্যরা বসবেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হবে।অংশগ্রহণকারী সবার জন্য মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আর সবাইকে ডিসইসফেকশন চেম্বার দিয়ে প্রবেশ করতে হবে। মূল ভবনে প্রবেশের ক্ষেত্রে থার্মাল স্ক্যানারে তাপমাত্রা মেপে নিতে হবে।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণেই কড়াকড়িভাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষার দিকটা বিবেচনা করা হচ্ছে। বাজেট অধিবেশনের মতোই স্বাস্থ্যবিধি মানা হবে। প্রয়োজন ছাড়া কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না। অধিবেশনে সাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে।

উল্লেখ্য, এর আগে কঠোর সতর্কতার মধ্যে গত ১০ জুন শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশন মাত্র ৯ কার্যদিবসে ৯ জুলাই সমাপ্ত হয়। একটি অধিবেশন শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে পরবর্তী অধিবেশন বসার বাধ্যবাধকতা থাকায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এই অধিবেশন আহ্বান করেন।