All posts by lutfor

দোষীদের দ্রুত বিচারের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের ওপর হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

শনিবার রাজধানীর ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে ওয়াহিদা খানমের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের তিনি একথা জানান।মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা জেনেছেন- এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুই-একজন ধরা পড়েছে। রাষ্ট্রব্যবস্থায় অনেক সময় অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।

এগুলো আমাদের জীবনেও ঘটে। সবকিছুর ওপর তো আমাদের নিয়ন্ত্রণ থাকে না। কিন্তু আমাদের কাজ হলে এগুলো প্রতিরোধ করা।উল্লেখ্য, গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ ক্যাম্পাসে ইউএনওর বাসভবনের ভেন্টিলেটর দিয়ে বাসায় ঢুকে ওয়াহিদা ও তার বাবা ওমর আলীর ওপর হা’ম’লা হয়।

গুরুতর আহত ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিকালে হেলিকপ্টারে তাকে ঢাকার এনে নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।ওয়াহিদাকে প্রথমে রংপুরে ও পরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় আনা হয়। বর্তমানে তিনি ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ৩ সেপ্টেম্বর রাতে তার অ’স্ত্রো’প’চার সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) হাকিমপুর উপজেলার কালীগঞ্জ থেকে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতা আসাদুল ইসলামসহ তিনজনকে আ’ট’ক করা হয়। আটক অপর দুজন হলেন নবীরুল ইসলাম ও সান্টু কুমার বিশ্বাস।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হরণ করেছে। এই গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা এখন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ১১টায় শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করা। বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এই দেশ একাত্তর সালে যে চেতনা নিয়ে সংগ্রাম করেছিলো, লড়াই করেছিলো একটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র নির্মাণ করা, মানুষের অধিকারগুলেকে ফিরিয়ে দেয়া সেই জায়গায় ফিরে যেতে হবে এবং গণতন্ত্রকে আবার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।তিনি বলেন, আজকে যে, আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হরণ করেছে, জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। যে ভয়াবহ একদলীয় শাসনব্যবস্থা ফ্যাসিজমের কায়েম করেছে তার বিরুদ্ধে জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে এবং জনগণের শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবে ইনশাআল্লাহ।এসময় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়ন পেতে নেতাকর্মীদের নিয়ে নাজমা আক্তারের অবস্থান

প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা সাহারা খাতুনের আসনে উপ-নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে শতাধিক নেতাকর্মীকে নিয়ে দলের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে অবস্থান নিয়েছেন নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী নাজমা আক্তার।পাঁচটি শূন্য আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ১৪১ জনের মধ্য ঢাকা-১৮ আসন থেকেই মনোনয়ন কিনেছেন যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমাসহ ৫৬ জন।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গত রোববার দলের সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের সভার পর পাবনা-৪ আসনের মনোনয়ন ঘোষণা করা হলেও ঢাকা-১৮ সহ বাকি চারটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়নি।এর মধ্যেই ঢাকা-১৮ আসন থেকে আহসান হাবীব মনোনয়ন পেয়েছেন বলে আজ মঙ্গলবার গুঞ্জন শুরু হলে নাজমা আক্তার দলবল নিয়ে সভানেত্রীর কার্যালয়ে অবস্থান নেন।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ধানমন্ডিতে দলের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে গেলে যুব মহিলা লীগের কয়েকজন নেত্রী তার সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এরপর থেকে কয়েকশ নেতাকর্মী নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছেন নাজমা আক্তার। তিনি বলেন, আমি এসেছিলাম ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে। মেয়েরা উনার সঙ্গে দেখা করে মনোনয়নের ব্যাখ্যা চাইতে গিয়েছিল, তিনি (ওবায়দুল কাদের) দেখা করেননি। কেন মনোনয়ন পাব না, এর ব্যাখ্যা চাইতেই মেয়েরা অবস্থান নিয়েছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক তাহেরা খাতুন লুৎফা বলেন, আমরা প্রয়োজনে পদত্যাগ করে ঘরে ফিরব, তবুও আমাদের ত্যাগী নেত্রী নাজমা আপার মনোনয়নের সমাধান চাই।

কঠোর হচ্ছে ফেসবুক, জেনে নিন নতুন নিয়ম

বর্ণবাদী, অশালীন ও উষ্কানীমূলক কনটেন্টের ব্যাপারে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ফেইসবুক।মঙ্গলবার নিজেদের টার্মস ও সার্ভিসে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে সোশ্যাল মিডিয়াটি। এক নোটিফিকেশনে তারা জানায়, আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩.২ ধারায় এ পরিবর্তন কার্যকর হবে।এর আওতায় ফেইসবুক চাইলে ব্যবহারকারীর কনটেন্ট ডিলিট বা অ্যাক্সেস রেস্ট্রিক্ট করে দিতে পারে। কনটেন্টের কারণে আইনী জটিলতায় জরানোর আশংকা থাকলে ফেইসবুক এই ধারার প্রয়োগ ঘটাতে পারে।এর আগে ফেসবুক প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, ফেসবুক ব্যবহারকারীদেরকে নিরাপদ রাখতে, ক্ষতিকর রাজনৈতিক কনটেন্ট বা সাইবার হামলা প্রতিরোধ করতে প্রতিদিনই তাদেরকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।সবার সঙ্গে সুস্থ বন্ধুত্ব, বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা ছাড়াও উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় প্লাটফর্ম এখন ফেসবুক। এজন্য সব সুবিধা পেতে ফেসবুক ব্যবহারের সময় বিদ্বেষমূলক কমেন্ট, ভুয়া তথ্য ও উস্কানিমূলক প্রচারণা যেন নিজের অ্যাকাউন্ট থেকে করা না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

রেকর্ড ৩৯ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ১ সেপ্টেম্বর দিনের শুরুতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৯ দশমিক ৪০ বিলিয়ন, বা তিন হাজার ৯৪০ কোটি ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ তিন লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।বৈধপথে রেমিট্যান্স আসা, আমদানি ব্যয়ের চাপ কম থাকা, দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও জাইকার বৈদেশিক ঋণসহায়তা এবং বিশ্ব সংস্থার অনুদানের কারণে রিজার্ভ বেড়েছে বলে মনে করেন ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট মাসের ২৭ দিনে প্রবাসীরা ১৭২ কোটি ৫৮ লাখ ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। গত বছরের পুরো আগস্ট মাসে পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১৪৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন ২৫৯ কোটি ৯৫ লাখ ডলার সমপরিমাণ। একক মাস হিসাবে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণ।

জানা গেছে, গত অর্থবছর রেমিট্যান্সের ওপর ঘোষিত ২ শতাংশ প্রণোদনা ঘোষণা করে সরকার। এরপর থেকেই বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে। চলতি (২০২০-২১) অর্থবছরেও রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা অব্যাহত রয়েছে। এ কারণেই বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়তে থাকে।

প্রণব মুখার্জির শেষকৃত্য সম্পন্ন

পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় নয়াদিল্লিতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে দিল্লির লোদি রোড মহাশ্মশানে প্রণবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।গত ৯ আগস্ট দিল্লির রাজাজি মার্গে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাথরুমে পড়ে গিয়ে মাথায় চোট পান প্রণব মুখার্জি। প্রায় তিন সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল সোমবার তার মৃত্যু হয়।

ভারতের ১৩তম এই রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে দেশটিতে সাত দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পরিচিত ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতির প্রয়াণে বাংলাদেশেও একদিনের শোক পালিত হচ্ছে আজ।

চিকিৎসাধীন থাকাকালীন প্রণব মুখার্জির করোনা ভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট এসেছিল। যে কারণে তার শেষকৃত্য কোভিডের সমস্ত প্রোটোকল মেনে করা হয় বলে জানিয়েছে কলকাতাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকা।

রাজাজি রোডে প্রণবের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য রাখা হয়েছে তার একটি ছবি। সেই ছবিতেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান সবাই। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও প্রয়াত রাষ্ট্রপতিকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন উপ-রাষ্ট্রপতি ভেঙ্কাইয়া নাইডু, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ বিপিন রাওয়াত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, কংগ্রেসের লোকসভার নেতা অধীর চৌধুরী, কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালসহ অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ।

৫০৫৪ নার্স নিয়োগ কেন অবৈধ নয় : হাইকোর্ট

সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ করা পাঁচ হাজার ৫৪ জন সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রিট আবেদনকারী ৫১ জনের নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্বাস্থ্য সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, পিএসসির চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।এ সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার হাইকোর্টের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুল জারির আদেশ দেন।

আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন ব্যারিস্টার অনিক আর হক ও ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জেসমিন সুলতানা সামসাদ।

রিট আবেদনে বলা হয়, চার হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের জন্য ২০১৭ সালের ১০ আগস্ট বিজ্ঞপ্তি জারি হয়। ওই বিজ্ঞপ্তির আলোকে ১৬ হাজারের বেশি আবেদনকারী পরীক্ষায় অংশ নেন। পিএসসি ২০১৮ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি লিখিত পরীক্ষার ফল প্রকাশ করে। এতে উত্তীর্ণ হন ১১ হাজার ৩৫৭ জন। এরপর সংশ্লিষ্টদের সনদ যাচাই শেষে ২০১৮ সালের ১১ জুন এক হাজার ১৭ জনের ফল বাতিল করে নোটিশ দেয় পিএসসি। ফলে চূড়ান্তভাবে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দেখানো হয় ১০ হাজার ৩৪০ জনকে। পরবর্তীতে তাদের মধ্যে মেধা তালিকা অনুসারে পাঁচ হাজার ১০০ জনকে নিয়োগ দিতে পিএসসি ২০১৮ সালের ১৯ আগস্ট সরকারকে সুপারিশ করে। ওই সুপারিশ অনুযায়ী সরকার তাদের নিয়োগ দেয়।

পরবর্তীতে গত মার্চে করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রেক্ষাপটে সরকার ছয় হাজার নার্স নিয়োগের জন্য পিএসসির কাছে চাহিদাপত্র দেয়। এর আলোকে ২০১৭ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৫০৫৪ জনকে নিয়োগের জন্য গত ৩০ এপ্রিল সরকারের কাছে সুপারিশ করে পিএসসি। এরপর সরকার তাদের সকলকে নিয়োগ দেয়। নিয়োগ পাওয়াদের মধ্যে অযোগ্যতার কারণে পাঁচজনের আবেদনপত্র ২০১৮ সালের ১১ জুন বাতিল করে পিএসসি। এ অবস্থায় ২০১৭ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন রিট আবেদন করেন।

শুনানি নিয়ে নার্স পদে ৫০৫৪ জনকে নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং রিট আবেদনকারী ৫১ জনকে নিয়োগ দিতে কেন নির্দেশ দেয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একনেকে আরও ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৬ হাজার ৬২৮ কোটি ৯৯ লাখ টাকা খরচে আরও ৬টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে দুই হাজার ৭১ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় হবে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে আর ৪ হাজার ৫৯৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ব্যয় হবে বৈদেশিক উৎস্য থেকে পাওয়া ঋণ সহায়তার মাধ্যমে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে এবং রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে মন্ত্রী ও সচিবরা একনেক সভায় অংশ গ্রহণ করেন।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জাহিদ মালেক, মৎস্যমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা অংশ নেন।পরে সাংবাদিকদের এতথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

৬টি প্রকল্প হচ্ছে- ১. সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের মতলব-মেঘনা-ধনাগোদা-বেড়ীবাঁধ জেড-১০৬৯) সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প। ২. সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্প। ৩. স্থানীয় সরকার বিভাগের সারাদেশে পুকুর, খাল, উন্নয়ন (প্রথম সংশোধনী) প্রকল্প। ৪. খাদ্য বিভাগের আধুনিক খাদ্য সংরক্ষাগার নির্মাণ (দ্বিতীয় সংশোধিত) প্রকল্প। ৫. পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) এলাকায় নিস্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (দ্বিতীয় পর্যায়) (প্রথম সংশোধনী) প্রকল্প এবং ৬. মৎস্য প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য চাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ (দ্বিতীয় পর্যায়) (দ্বিতীয় সংশোধনী) প্রকল্প।

গণপরিবহনে বাড়তি ভাড়া নিলে আইনগত ব্যবস্থা

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রতিটি বাসে সরকার অনুমোদিত ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের বিধান রয়েছে। এ বিধান কার্যকর করতে আমি বিআরটিএ ও মালিক সমিতিকে অনুরোধ করছি। যারা সরকারি নির্দেশনা মানবে না তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন।ওবায়দুল কাদের বলেন, আজ থেকে গণপরিবহন করোনাকালের জন্য সমন্বয় করা ভাড়ার পরিবর্তে আগের ভাড়ায় ফিরছে। জনস্বার্থে এবং যাত্রীদের স্বার্থে আমি সরকারের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকসহ সব স্টেকহোল্ডারের সহযোগিতা কামনা করছি।তিনি বলেন, গণপরিবহনে ভ্রমণকালে যাত্রীসহ পরিবহনসংশ্লিষ্ট সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে। যত আসন তত যাত্রী অর্থাৎ দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা যাবে না। সাবানপানি কিংবা হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে পর্যাপ্ত।মন্ত্রী বলেন, ট্রিপের শুরু এবং শেষে পরিবহনকে ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। সারা দেশে পরিবহন সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি জনস্বার্থে এ নিয়ম বা শর্ত মেনে বাস-মিনিবাস চালানোর অনুরোধ করছি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিশেষ করে ডিএমপি, হাইওয়ে পুলিশ, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে সক্রিয় থাকার অনুরোধ জানাচ্ছি।

উপসচিব হলেন বিলুপ্ত অর্থনৈতিক ক্যাডারের ২২০ কর্মকর্তা

বিলুপ্ত অর্থনৈতিক ক্যাডার থেকে প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত হওয়া ২২০ কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। সিনিয়র সহকারী সচিব ও সমমর্যাদার এসব কর্মকর্তাকে উপসচিব পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এই পদোন্নতি দিয়ে আদেশ জারি করা হয়েছে। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের মধ্যে বিদেশে থাকা ৩ জন সিনিয়র সহকারী সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাও রয়েছেন।২০০৬, ২০০৯, ২০১০, ২০১২, ২০১৩, ২০১৫, ২০১৬, ২০১৭, ২০১৮ সাল থেকে উপসচিব হিসেবে এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ধরা হয়েছে।তবে নতুন পদোন্নতি পাওয়া এসব উপ-সচিবদের পদায়ন করে আদেশ জারি করা হয়নি। তাদেরকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।২০১৮ সালের ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) অর্থনৈতিক ক্যাডারকে প্রশাসন ক্যাডারে একীভূত করে আদেশ জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অর্থনৈতিক ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উপসচিব পদে পদোন্নতির বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে ঝুলেছিল।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, পদোন্নতির পর এখন উপ-সচিবের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে এক হাজার ৭৮০ জন।জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উপ-সচিবের নিয়মিত পদ এক হাজারের কিছু বেশি।সরকারের উপসচিব, যুগ্ম-সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতি বিধিমালা, ২০০২ অনুযায়ী উপসচিব পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে ৭৫ শতাংশ প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ও ২৫ শতাংশ অন্যান্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের বিবেচনায় নিতে হবে।উপসচিব পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পদোন্নতি/জ্যেষ্ঠতা কার্যকরের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন জারির আগে কোনো আর্থিক সুবিধাদি পাবেন না। তবে ইতোমধ্যে প্রাপ্ত সুবিধাদি বহাল থাকবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।পদোন্নতিপ্রাপ্তদের অনলাইনে যোগদান করতে হবে। তাদের [email protected] ই-মেইলে যোগদানপত্র পাঠাতে হবে।