All posts by lutfor

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাশ করছে হাজার হাজার কোমলমতী শিক্ষার্থী (ভিডিও)

তারিক ইমন : সারা দেশের অনেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ক্লাশ করছে বলে জানা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে কোন সময় বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। প্রশাসন সহ জনপ্রতিনিধিদের কাছে ধন্না দিয়ে আশ্বাস ছাড়া কিছুই মিলছেনা বলে জানিয়েছেন শিক্ষক-অভিভাবকরা।
জানা গেছে, গ্রীষ্ম-বর্ষা কিংবা শীতের মধ্যেও গাছ তলায় বসে ক্লাশ চলে যশোরের ঝিকরগাছার হাজিরালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯৭২ সালে একটি টিনশেড ঘরে স্কুলটি চালু হয়। ২০১৩ সালে হয় জাতীয়করণ হলেও স্কুলটির ভৌত অবকাঠামো বদলায়নি। দিন দিন আরো বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
এলাকার একজন অভিভাবক বলেন, আমারা এসে দেখি আমাদের সন্তানেরা বাইরে বসে ক্লাশ করে। গরমের সময় প্রখর রোদে, বর্ষার বৃষ্টিতে ভিজে অনেক কষ্টে তারা ক্লাশ করছে। যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তাপস কুমার অধিকারী বলেন, আমাদের জানা মতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, তবে তা কার্যকর হতে একটু সময় লাগতে পারে।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় কুমিরমারা বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়েছে। বর্ষার সময় ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়। এখানকার শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, প্রশাসন ও রাজনীতিবিদদের কাছে তারা অনেক ধন্না দিয়েছেন কিন্তু লাভ হচ্ছেনা। পিরোজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ মজুমদার বলেন, আমরা মহাপরিচালক মহোদয়ের নিকট বিষয়টি অবহিত করেছি, তারা আশ্বস্থ করেছেন খুব শীগ্রই একটা ব্যাবস্থা হবে।
লক্ষীপুরে শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল রয়েছে। প্লাস্টার খসে পরে প্রায় আহত হচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী। নির্মাণের কিছু দিনের মধ্যেই ব্যবহারের অযোগ্য চাঁদপুরের এই কয়েকটি বিদ্যালয় ভবন। নির্মাণসামগ্রীর মান কেমন ছিল কেউ জানে না। পটুয়াখালীতে শতাধিক স্কুলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন রয়েছে। জীবনের ঝুঁকিতে প্রায় রয়েছে ১৭ হাজার শিক্ষার্থী।
ইনডিপেনডেন্ট টিভি

ভবিষ্যতে বাজেটের ১৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে ব্যয় হবে

সিলেট প্রতিনিধি : শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষিসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে দেশের বাজেটের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষাখাতে ব্যয় করা হবে।
বুধবার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার পিএইচজি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বিদ্যালয়ের সরকারীকরণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আধুনিক তথা বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি শিক্ষায় আরো উন্নতি করতে হবে। যথাযথ শিক্ষা দিয়ে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে। আমাদের এখনো অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এর পরও সরকার শিক্ষার্থীরেকে বিনামূলে পাঠ্যপুস্তক প্রদান, মেধাবৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান এবং শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণসহ শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্ম হচ্ছে আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা। তাই শিক্ষার্থীদেরকে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্বমানের জ্ঞান অর্জন করতে হবে। একইসাথে গড়ে ওঠতে হবে নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবেও।
শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ বলেন, সমৃদ্ধ জাতি গঠনে শিক্ষকরাই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে থাকে। শিক্ষকদের শিক্ষাদানের উপরই নির্ভর করে জাতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে। তাই শিক্ষকদেরকে নিষ্ঠা ও সততার সাথে সেই গুরুদায়িত্ব পালন করতে হবে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক বিপ্লব চক্রবর্তীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সিলেট শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান এ.কে.এম গোলাম কিবরিয়া তাপাদার, বিয়ানীবাজার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান, বিয়ানীবাজার সরকারী কলেজের অধ্যক্ষ দ্বারকেশ চন্দ্র নাথ ও বিয়ানীবাজার পৌরসভার মেয়র আবদুস শুকুর।

ভাস্কর্য সরানোয় সরকারের কোনো কৃতিত্ব নেই : মওদুদ

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেছেন, প্রধান বিচারপতি সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে ভাস্কর্য সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্তেই ভাস্কর্যটি সরানো হয়েছে। এখানে সরকারের কোনো কৃতিত্ব নেই।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর মুক্তির দাবিতে এক প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালেয় তাল্লাশি করে সরকার নতুন করে ফ্যসিবাদীর পরিচয় দিয়েছে উল্লেখ করে মওদুদ আহমেদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ এখন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রতিহিংসার রাজনীতি করে। যে কারণে তারা (আওয়ামী লীগ) নারায়ণগঞ্জের শিক্ষক শ্যামল ক্যান্তিকে মিথ্যা মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছে। আওয়ামী লীগ উগ্রবাদী রাজনৈতিক দল। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে আন্দোলনের বিকল্প নেই।

বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে অনুমতি দিচ্ছে না সরকার। এটা তাদের দুর্বলতার পরিচয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ সম্পর্কে মওদুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি সরকারের তল্পীবাহক। তারা ২০১৪ সালের মত পুনরায় একক নির্বাচন করতে চায়। সরকার নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সব কমিশন নিয়ন্ত্রণ করছে।

বরকত উল্লাহ বুলু মুক্তি পরিষদের উপদেষ্টা আকবর হোসেন ভূইয়া নান্টুর সভাপতিত্বে এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিবুন নবী সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল প্রমুখ।

প্রতিবাদ সমাবেশটির আয়োজন করে বরকত উল্লাহ বুলু মুক্তি পরিষদ।

আ.লীগের বিভাগীয় উপ-কমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব নির্বাচিত

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা গঠনতন্ত্রের ২৫(১)(চ) ধারা মোতাবেক দলের বিভিন্ন বিভাগীয় উপকমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিব নির্বাচিত করেছেন। শুক্রবার রাতে দলের পক্ষ থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ড. মশিউর রহমান, সদস্য সচিব টিপু মুন্সি এমপি। আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাম্বাসেডর জমির। আইন বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এমপি। কৃষি ও সমবায় বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ড. মির্জা এম. এ জলিল, সদস্য সচিব ফরিদুনাহার লাইলী। তথ্য ও গবেষণা উপকমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান খান, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন। ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির চেয়ারম্যান এএফএম ফখরুল ইসলাম মুন্সী, সদস্য সচিব শ্রী সুজিত রায় নন্দী।

দফতর উপকমিটির চেয়ারম্যান প্রফসর ড. আলাউদ্দিন আহমদ, সদস্য সচিব ড. আবদুস সোবহান গোলাপ। ধর্ম বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান খন্দকার গোলাম মওলা নকশবন্দি, সদস্য সচিব শেখ মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম, সদস্য সচিব ড. হাছান মাহমুদ এমপি। বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর খন্দকার বজলুল হক, সদস্য সচিব দেলাওয়ার হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. হোসেন মনসুর, সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর।

মহিলা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপিকা সুলতানা শফি, সদস্য সচিব ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এমপি। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মো. রশিদুল আলম, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি। যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান মোজাফফর হোসেন পল্টু, সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ। শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক, সদস্য সচিব শামসুন নাহার চাঁপা। শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান কাজী আকরাম উদ্দীন আহমদ, সদস্য সচিব মো. আব্দুছ ছাত্তার। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. রুহুল হক এমপি, সদস্য সচিব ডা. রোকেয়া সুলতানা।

আইন কি ধনী-গরিব বোঝে?

সারওয়ার-উল-ইসলাম:

আমাদের পুলিশ বাহিনী ইচ্ছে করলেই আসামিকে ধরতে পারে। এটা আমরা গর্ব করেই বলতে পারি। বনানীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় একে একে পাঁচ আসামিকে তারা ধরতে পেরেছে। খুব অল্প সময়েই ধরা পড়েছে এই আসামিরা। এটার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য আমাদের পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা।

ধর্ষণের ঘটনাটি মিডিয়ায় যেভাবে প্রচার পেয়েছে, আর সমাজের নানা স্তরের মানুষ যেভাবে মতামত জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়, সেটা অভাবনীয়। আমরা সমাজে ঘটে যাওয়া কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে চাই না, তা গত দুই সপ্তাহের মিডিয়া ঘাটলেই টের পাওয়া যাবে।

কে বাদ গিয়েছে? সাবেক আইনমন্ত্রী, কথাসাহিত্যিক, মানবাধিকারকর্মী,  জনপ্রতিনিধিসহ পুলিশের সাবেক আইজি। দোষীদের শাস্তি দাবি জানিয়ে তাঁরা সবাই পত্রিকায় পৃথক পৃথক মত দিয়েছেন, পাশাপাশি দোষীদের শাস্তির দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট। এর বাইরেও সমাজের বিভিন্ন স্তরের সচেতন মানুষের প্রতিবাদ ছিল নানাভাবে।

এখন দেখা যাক, সেই অপরাধী ও তাদের দোসরদের কি শাস্তি হয়। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।

কিন্তু আমাদের কি মনে পড়ে সেই ছোট মেয়েটির কথা, তার বাবার কথা? গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা। গ্রামের নাম কর্ণপুর সিটপাড়া। এ গ্রামের হজরত আলী তাঁর আট বছরের পালিত মেয়ে আয়েশা আক্তারকে নিয়ে ট্রেনের নিচে পড়ে আত্মহত্যা করেছিলেন ২৯ এপ্রিল। বখাটে কর্তৃক মেয়ের শ্লীলতাহানি ও প্রতিবেশীদের হামলার হুমকির বিচার না পেয়েই আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন হজরত আলী।

সেই ঘটনায় মামলা হলেও পুলিশ এখনো ছয় আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। বরং এখনো হামলার আশঙ্কায় হজরত আলীর বাড়িতে দিনরাত পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। আসামিরা প্রভাবশালী বলেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সাধারণভাবেই আমাদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, তা হলে কি এ মামলার ঘটনায় আসামি ধরার ব্যাপারে পুলিশের আন্তরিকতার ঘাটতি আছে?

নাকি এই যুগল আত্মহত্যার ঘটনায় দেশব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়নি বা দেশের সুশীলসমাজ প্রতিবাদ জানায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতটা তৎপরতা দেখাচ্ছে না? নাকি নিতান্তই অসহায় আর গরিব মানুষ বলে কোনোমতে চলছে আইনের চাকা।

আমরা তো সেই অমোঘবাণী ছোট থেকেই শুনে আসছি- আইনের চোখে সবাই সমান। ধনী-গরিব সবার জন্যই আইন সমান। তা হলে কেন এই যুগল আত্মহত্যার ঘটনাটি এখন প্রশ্নবিদ্ধ।

আমরা অবশ্যই স্বীকার করি বনানীতে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনাটি আমাদের কাছে মর্মস্পর্শী। কারণ এভাবে আরো কত তরুণীকে ওই সাফাত আর বন্ধু নাইম আশরাফরা নষ্ট করেছে আমরা হয়তো জানি না। হয়তো সেই তরুণীদের লোকলজ্জার ভয়ে সেগুলো আমাদের কাছে অজানাই থেকে যাবে। তাই এই অপরাধীদের দ্রুত বিচার হওয়া ছাড়া কোনো সহজ সরল পথ নেই। যেন অন্য ধনীর দুলালরা বুঝতে পারে অপরাধ করলে বাবার টাকা থাকলেও রক্ষা পাওয়া যাবে না। আইনের চাকা ধনী-গরিব বোঝে না। শাস্তি পেতেই হবে।

প্রসঙ্গে ফিরে আসি, পুলিশ বাহিনী চাইলেই সব পারে, এটা আমরা বিশ্বাস করতে চাই।

আমরা পত্রিকায় দেখেছি, খুনের আসামি জেলখানায় না থেকে আরাম আয়েশে দিন গুজরান করছে বারডেম হাসপাতালে। খুনের মামলার আরেক আসামি টাঙ্গাইলের এক সাংসদ হাসপাতালে ছিলেন। ৭৯ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত ইয়াবা ব্যবসায়ী জেলখানায় না থেকে ১৮ মাস ধরে বারডেমে বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে। এমনও শোনা গেছে, সে নাকি বাইরেও ঘুরে আবার হাসপাতালে এসেছে। এ ক্ষেত্রে অবশ্য কারা কর্তৃপক্ষ আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য পাওয়া গেছে। পরে তাদের আবার কারাগারে ফেরত নেওয়া হয়েছে।

এসব ঘটনা শুনে আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কী ধারণা জন্ম নেয় আইনের প্রতি?

তবে আমরা এখনো আশা করি, মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, আমাদের পুলিশ বাহিনী যদি মনে করে আসামি যতই প্রভাবশালী হোক না কেন তাকে আইনের কাছে সোপর্দ করবই, তা হলে তারা তা পারে। তাদের কাছে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য এক আইন।

হজরত আলীর মেয়েশিশুকে নিয়ে আত্মহত্যার পেছনে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের অতিসত্বর ধরে আইনের আওতায় আনা হবে। বনানীর ধর্ষণ ঘটনার আসামিদের পেছনে প্রভাবশালীদের চেয়ে তারা যত বড়ই হোক না কেন, তারা ধরা পড়বেই।

এই আশা আমরা করতে পারি।

লেখক : ছড়াকার ও সাংবাদিক।

উপটানে রূপচর্চা

ত্বকের যত্নে উপটানের ব্যবহার অপরিহার্য। একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে বিভিন্ন ভেষজ উপাদান মিলিয়ে ত্বকের যত্নে ব্যবহার করা হয়। তবে সব ত্বকের জন্য একই ধরনের উপটান ব্যবহার করা যাবে না। উপটান ব্যবহার করতে হবে ত্বকের ধরন বুঝে। ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপটানেও রয়েছে ভিন্নতা। চলুন জেনে নেই-

শুষ্ক ত্বকের জন্য

২ টেবিল চামচ বেসন, ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া, আধা টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ মধু, ১টি পাকা কলা, প্রয়োজনমতো তরল দুধ নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিয়মিত ব্যবহার করুন। উজ্জ্বল করার পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা ও কোমলতা বজায় থাকবে।

মিশ্র ত্বকের জন্য

২ টেবিল চামচ বেসন, ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া, আধা টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া, ২ টেবিল চামচ দুধ নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করুন। পেস্টটি ফেসওয়াশের মতো করে প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করতে ব্যবহার করুন। এক সপ্তাহ ব্যবহার করলে ত্বকের ভেতরকার ময়লা পরিষ্কার হয়ে ত্বক উজ্জ্বল হবে। এই পেস্টটি রেফ্রিজারেটরে ৩ থেকে ৪ দিন রেখেও ব্যবহার করতে পারবেন।

Rupchorcha

তৈলাক্ত ত্বকের জন্য

২ টেবিল চামচ বেসন, ১ টেবিল চামচ চন্দন গুঁড়া, আধা টেবিল চামচ হলুদ গুঁড়া, ১টি কমলার রস বা লেবুর রস, আধা কাপ দই নিন। সব কয়টি উপকরণ একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এই উপটান নিয়মিত ব্যবহারে ত্বক সুন্দর, মসৃণ ও উজ্জ্বল হবে। ত্বকের তৈলাক্ত ভাবও থাকবে না।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে

৪ টেবিল চামচ বেসন, ২ টেবিল চামচ দুধের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ তরল দুধ, ২ টেবিল চামচ লেবুর রস, দেড় টেবিল চামচ আম-গুঁড়া, আধা চা চামচ হলুদ গুঁড়া, কয়েক ফোঁটা অলিভ অয়েল, কয়েক ফোঁটা গোলাপজল নিন। সব উপকরণ একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে ফেসপ্যাক হিসেবে মুখে ও গলায় লাগান। লাগানোর সময় আলতো করে ম্যাসাজ করে নিন। প্যাকটি পুরোপুরি শুকানোর আগে তুলে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ হবে।

আমরা পুরুষ, ধর্ষক নই

জব্বার হোসেন :পুরুষ খারাপ, পুরুষ খারাপ, পুরুষ খারাপ, পুরুষ লম্পট, পুরুষ লম্পট, পুরুষ লম্পট, পুরুষ ধর্ষক, পুরুষ ধর্ষক, পুরুষ ধর্ষক- মনে হয় জগতের সকল পুরুষই খারাপ, লম্পট, ধর্ষক। নষ্ট, বদমাস, দুঃশ্চরিত্র- সকল পুরুষ। আদতে তো তা নয়। হতেও পারে না কখনও। জগতের সকল মানুষ যেমন পারে না একই রকম হতে, তেমনি  সকল পুরুষও পারে না শুধু ভালো বা মন্দ হতে। প্রত্যেকেই যে যার মত। ভালো-মন্দ ব্যক্তি, ব্যক্তি চরিত্রের উপর নির্ভরশীল। তাই একজন পুরুষ হিসেবে, পুরুষের প্রতি এই মনোভঙ্গির তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। অস্বীকার করছি। অসম্মতি প্রকাশ করছি এমন মন্তব্যের। শুধু তাই নয়, অন্য সকল পুরুষদেরও আমার মত প্রতিবাদ করা উচিত বলেই মনে করি আমি।

বেশ কিছু ধর্ষণের ঘটনা পরপর ঘটেছে এখানে। এখনও ঘটছে।  একের পর এক ধর্ষণ ঘটছেই। মনে হয় ধর্ষণের এক অবাধ ভূমিতে পরিণত হয়েছে এদেশ। আজ হোটেলে তো কাল স্টেশনে। সকালে ভেড়ামারা, বিকালে ঠাকুরগাঁও। সন্ধ্যায় ফরিদপুর তো মধ্যরাতে চাঁদপুর। কোন বয়স নেই, কিশোরী-তরুণী-যুবতী-প্রৌঢ়া-বৃদ্ধা- নিস্তার নেই কারো, ধর্ষণের হাত থেকে। এমন এক অসভ্য সময় ও পরিস্থিতি পার করছি আমরা। সম্ভবত এমন কোন নারী নেই বাংলাদেশে, যে ভেতরে ভেতরে ভীত সন্ত্রস্ত, আতঙ্কিত নয় ধর্ষণের ভয়ে।
যত অসভ্য পরিস্থিতিই হোক, যত বীভৎস ধর্ষণ দৃশ্যই ভেসে উঠুক চোখের সামনে, সকল পুরুষকে দায়ী করা যাবে, নাকি উচিত হবে ধর্ষক বলা? তবে কেন সকল পুরুষদের ধর্ষক বলছি, দায়ী করছি?

কদিন ধরে দেখছি এখানে সেখানে ধর্ষণ নিয়ে বিক্ষিপ্ত মতামত, মুক্তমত প্রকাশিত হচ্ছে বেশ। ধর্ষণ নিয়ে লোকে বেশ সবর। নারীদের লেখায় ঘুরে ফিরে একই কথা, একই মন্তব্য। পুরুষ মানেই খারাপ। পুরুষ মানেই ধর্ষক। পুরুষের হাত থেকে বেঁচে থাকো। নিরাপদ থাকো। না হয় তোমাকে ধর্ষণ করবে পুরুষ। খুবই ভুল তথ্য, তত্ত্ব- হেইট স্পিচ।

ঘৃণা বাক্য ছড়িয়ে লাভ নেই। মনে রাখতে হবে এই পুরুষই কিন্তু আমার বাবা, আমার ভাই, আমার স্বামী, আমার সন্তান। নারী ও পুরুষ কেউ কারো প্রতিপক্ষ নয়। প্রতিযোগী নয়। একের বিরুদ্ধে অন্যকে দাঁড় করিয়ে দিয়ে লাভ কী? কেন দাঁড় করাচ্ছি একের বিরুদ্ধে অন্যকে। শত্রু ভাবাপন্ন সম্পর্ক পুরুষ-নারীতে এমন তো নয়।

আমরা পুরুষ, ধর্ষক নই। তাই ‘পুরুষ ধর্ষক’  যখন ঢালাওভাবে বলা হয় তাতে আমার প্রবল আপত্তি। জগতের সকল পুরুষকে কেন আমরা ধর্ষক বানিয়ে দিচ্ছি। ধর্ষক, ধর্ষকই। অপরাধ, অপরাধই। অপরাধীকে দেখতে হবে অপরাধী ব্যক্তি হিসেবেই। সকল পুরুষতো আর ধর্ষণ করে না, যৌন হেনস্তা করে না, নির্যাতন করে না, নিপীড়ন করে না, আগুনে পোড়ায় না, পাথর ছুঁড়ে না- তাহলে সবাইকে কেন এক করে ফেলছি? আর সত্যিকারের পুরুষ কখনোই ধর্ষণ করে না, করতে পারে না। অসম্ভব। যে ধর্ষক সে কাপুরুষ।
পুরুষ ধর্ষক, তাই শাস্তি হিসেবে তার পুরুষাঙ্গটি কেটে ফেল, তাকে মৃত্যুদণ্ড দাও- এমন অযৌক্তিক সমাধান বাক্য ছুঁড়ছেন অনেকেই। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্ষকের এমন শাস্তি দাবি করে তোলপাড়। যে কোন মূল্যে তার ‘অঙ্গ’টি কেটে নিতে সরব অনেকেই। কিন্তু এতে কোন লাভ হবে বলে মনে হয় না আমার। কখনও মনেও হয়নি। খুব হটকারী ও হুজুগে আমরা। যুক্তির চেয়ে আমাদের আবেগ বেশি। ধর্ষণের জন্য পুরুষের এত ছোট দু’তিন ইঞ্চি অঙ্গটিকে দায়ী করে লাভ কী? পুরুষাঙ্গ মোটেও ধর্ষণ করে না। যদি তাই হতো তবে তো সকল পুরুষেরই এই অঙ্গ রয়েছে।

সকল পুরুষ কি ধর্ষণ করে, তা তো নয়। ধর্ষণ আসলে ‘অঙ্গ’ করে না, করে ‘মস্তিষ্ক’, ‘মানসিকতা’, ‘পুরুষতান্ত্রিকতা’। যে মানসিকতার কারণে পুরুষ ধর্ষণ করে সেটিকেই চিহ্নিত করা জরুরি। সেটিকেই দায়ী করতে হবে। মনে রাখতে হবে, বুঝতে হবে, ধর্ষকের মনোজগত, মানসিকতা আর সকল পুরুষের মানসিকতার চেয়ে আলাদা। এটি মানসিকতার একটি বিশেষ অবস্থা বা দশা। এই অবস্থাটি খুব স্বাভাবিক নয়, বিকৃত। ধর্ষকের ভালো লাগে ‘সেক্স’ নয়, ‘ভ্যায়োলেন্স’। চরম পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, ক্ষোভ, ক্রোধ, নারীর প্রতি বিরুপ, পঙ্কিল মনোবৃত্তিই ক্রিয়াশীল থাকে। ‘পুরুষাঙ্গ’ অবলম্বন মাত্র।

চারপাশ থেকে মানুষ শেখে। শৈশব, বয়ঃসন্ধি আর বেড়ে ওঠার সময়টা তার বাকি জীবনকে প্রভাবিত করে প্রবলভাবে। এ সময়ের আলোচিত ধর্ষক, সাফাতের মানসিকতা বোঝা যায় তার বাবার অশ্লীল মন্তব্যে। ‘গুড পেরেন্টিং’ বলে কিছু ছিল না সেখানে। তার বাবাও নারীদের ‘যৌনদ্রব্য’  হিসেবেই বিবেচনা করেছে, দেখে দেখে ছেলেও দীক্ষা নিয়েছে বাবার মন্ত্রে। ঘরে স্ত্রীরা দাসী বাদী, যৌনবস্তু, সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র। তাদের মতামতের মূল্য নেই। গার্হস্থ্য বাদীগিরি, যৌনদাস বৃত্তিই তাদের নিয়তি। সন্তানরা এই দেখে দেখে বড় হয়। নারী মাত্রই স্তন আর যোনির মাংসপিণ্ড, মানুষ ভাবে না সে। ফলে বস্তু, পণ্য, দ্রব্যের মতো আচরণ করে তার সঙ্গে। মানসিকতার বদল না ঘটলে, দৃষ্টিভঙ্গি না পাল্টালে শুধু আইন দিয়ে লাভ হবে না কোনও। আইনতো ছিল তখনও, আছে এখনও।

পুরুষতান্ত্রিকতার যে বিশাল জাল তা ছিড়ে ফুড়ে নারী নয় কেবল, পুরুষও বেরিয়ে আসতে চায়। বেরুতে না পারলে মুক্তি নেই কারো, না পুরুষ, না নারীর। নারীর সঙ্গে পুরুষ যেমন নানা সম্পর্কে জড়িয়ে আছে, তেমনি পুরুষও আছে জড়িয়ে, নারী পুরুষের নানা সম্পর্কে। নারীর যে অধিকার আন্দোলন, মুক্তি আন্দোলন তাতে পুরুষ কোনও না কোনওভাবে ভূমিকা রেখেছে সবসময়। ঐতিহাসিকভাবে এ কথা সত্য। এই উপমহাদেশে সতীদাহ প্রথার মতো বীভৎসতার বিরুদ্ধে পুরুষই দাঁড়িয়েছে। সহমরণের প্রতিবাদ করেছে। বিধবা বিবাহের আন্দোলন সেও তো পুরুষেরই ফসল। বিদ্যাসাগর আর রাজা রামমোহন রায়কে এই ভারতীয় উপমহাদেশ ভুলতে পারবে কোনও কালে? নারীদের পাশে তো পুরুষই দাঁড়িয়েছে।

আমি পুরুষ। আমি মানুষ। সুস্থ, স্বাভাবিক মানুষ। অমানুষ নই, ধর্ষক নই। ধর্ষণ অসুস্থতা, ধর্ষক অসুস্থ, যৌন বিকারগ্রস্থ। আমি মানবিক, আমি প্রেমিক। ধর্ষণ নারীর জন্য যতটা না লজ্জার, তার চেয়ে শত সহস্র গুণ লজ্জার পুরুষের। এতে পুরুষের সম্মানই নষ্ট নয়। সম্ভ্রমবোধে আঘাত লাগে। তাই ধর্ষণে সত্যিকারের পুরুষদেরই প্রতিবাদ করা উচিত বেশি, পুরুষ হিসেবে আমার তাই মনে হয়।

লেখক : সম্পাদক, আজ সারাবেলা। ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, মিডিয়াওয়াচ। পরিচালক, বাংলাদেশ সেন্টার ফর ডেভলপমেন্ট জার্নালিজম অ্যান্ড কমিউনিকেশন। সদস্য, ফেমিনিস্ট ডটকম, যুক্তরাষ্ট্র।
[email protected]

শিরোপায় চোখ কোহলির

মহেন্দ্র সিং ধোনির নেতৃত্বে চার বছর আগেই ইংল্যান্ডের মাটিতে স্বাগতিকদের হারিতে ট্রফি জিতেছিল ভারত। এবার দলে ধোনি থাকলেও প্রথমবারের মত বড় কোন আসরে দলকে নেতৃত্ব দিবেন বিরাট কোহলি। আর নিজের অধিনায়কত্বে এবারও শিরোপা নিজেদের ঘরেই রাখতে চান ডানহাতি এ ব্যাটসম্যান।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিকে সামনে রেখে এরই মধ্যে ইংল্যান্ড পৌঁছে গেছে কোহলি বাহিনী। প্রথমবারের মতো কোন আইসিসি প্রতিযোগিতায় ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া নিয়ে কোহলি বলেন, ‘আমি খুবি উত্তেজিত, প্রথমবারের মতো অধিনায়ক হিসেবে আইসিসির প্রধান একটি প্রতিযোগিতায় খেলতে যাচ্ছি।’

গতবার শিরোপা জয়ের তিনটি কারণ দেখিয়ে কোহলি আরও বলেন, ‘শেষবার আমরা শিরোপা জিতেছিলাম কারণ আমাদের ফাস্ট বোলাররা খুব ভালো করেছিল, স্পিনাররা ছিল দুর্দান্ত ও ওপেনিং ব্যাটসম্যানরা দারুণ খেলেছিল।’

তবে গতবারের চেয়ে এবারের দলকে আরও বেশি অভিজ্ঞ উল্লেখ করে ভারত অধিনায়ক বলেন, ‘এবারের দলটি আগেরবারের চেয়েও বেশি ফিট। চার বছর আগের তরুণ দলটা এখন অনেক বেশি অভিজ্ঞ। গেল তিন-চার বছরে তারা অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।’

র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দল খেলবে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে। তাই শুরু থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। তবে এ নিয়ে উদ্বিগ্ন নন জানিয়ে কোহলি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এই প্রতিযোগিতাটি পছন্দ করি কারণ এখানে শুরু থেকেই চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে লিগ ভিত্তিতে অনেক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়া যায়। কিন্তু এখানে খেলাগুলো হয় গ্রুপে এবং আপনি হয় সেমিফাইনালে উঠবেন নয়তো বাদ পড়বেন।’

বর্তমানে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত সময় পার করছেন কোহলি। শেষ ১২ ম্যাচে ওয়ানডেতে তার ব্যাটিং গড় প্রায় ৯০`র কাছাকাছি। তবে গত তিন বছর ধরে ইংল্যান্ডের মাটিতে নিজের সেরাটা দিতে পারছেন না কোহলি। তবে নিজেকে ফিরে পেতে মরিয়া কোহলি বলেন, ‘শেষ তিন বছরে ইংল্যান্ডে আমি দলকে ভালো কিছু দিতে পারিনি। তবে আমি জিততে চাই। আর এটাই আমাকে সফলযের পথে ফেরাতে সাহায্য করবে।’

উল্লেখ্য, নিজেদের ঝালিয়ে নিতে আগামী ২৮ তারিখে নিউজিল্যান্ড ও দুই দিন পর বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে ভারত। আর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বি গ্রুপে তাদের প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকা।

নবাবের ট্রেলারে শাকিবের বাজিমাৎ

সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত ‘নবাব’ ছবির ট্রেলার প্রকাশ হয়েছে। শুক্রবার সকালে প্রকাশ হওয়া ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ডের এই ট্রেলারে রীতিমত বাজিমাৎ করেছেন ঢাকাই ছবির এই বরপুত্র। নতুন করে আবারও দর্শক-সমালোচকদের প্রশংসায় শাকিব।

ট্রেলারে দেখা গেছে, অ্যাকশন-রোমান্স সবকিছু মিলে জমজমাট নবাবের ট্রেলার। শাকিবের ক্যারিশমা দেখেই আঁচ করা যায় এটি পুরোপুরি মসলাদার বাণিজ্যিক ছবি। ছবিটিতে শাকিবের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী।

হাইভোল্টেজ ধামাকায় ‘নবাব’ ছবিটি পরিচালনা করছে কলকাতার জয়দেব মুখার্জি। দুই বাংলার যৌথ প্রয়াসে ‘নবাব’ ছবিটি প্রযোজনা করেছে কলকাতার এসকে মুভিজ ও বাংলাদেশের জাজ মাল্টিমিডিয়া। দুই দেশের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করেছে, আগামী রোজার ঈদেই বাংলাদেশে এবং জুলাইয়ে ভারতে মুক্তি পাবে ‘নবাব’।

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত ‘নবাব’ শাকিব অভিনীত দ্বিতীয় ছবি। এই ছবিতে শাকিব-শুভশ্রী ছাড়াও অভিনয় করেছেন অমিত হাসান, খরাজ মুখার্জি, রজতাভ দত্ত, মেঘলা, সব্যসাচী চক্রবর্তী প্রমুখ।

এদিকে, কলকাতায় অনুষ্ঠিতব্য ১৬তম টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ডে সেরা অভিনেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাচ্ছেন শাকিব খান। আয়োজকদের একটি বিশ্বস্ত সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, আগামী ৪ জুন কলকাতায় দেয়া হবে এ অ্যাওয়ার্ড। যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘শিকারি’ ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য বাংলাদেশের জনপ্রিয় চিত্রনায়ক শাকিব খান পাচ্ছেন সেরা নায়কের পুরস্কার।

দুধ-ভাত, সঙ্গে দই!

প্রচণ্ড গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ। ফুড পয়জনিং ও জ্বরের মতো অসুখগুলো বাড়ছেই। এসময় সুস্থ থাকতে স্বাস্থ্যকর খাবারের বিকল্প নেই। ভাতের সঙ্গে দুধ ও দই মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি গরমে ঠাণ্ডা রাখবে শরীর।

জেনে নিন কীভাবে বানাবেন –
রান্না ভাত চটকে নিন। ভাত নরম হওয়া পর্যন্ত দুধ দিন একটু একটু করে। মিশ্রণে সামান্য দই মেশান। ঘি দিয়ে নেড়ে নিন। আদা কুচি, শুকনা মরিচ ও ধনেপাতা কুচি দিন মেশান। চাইলে শসা, গাজর কুচি অথবা ফলের টুকরা মেশাতে পারেন। স্বাদ মতো লবণ দিয়ে ঠাণ্ডা করে পরিবেশন করুন স্বাস্থ্যকর দুধ-ভাত।