ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়মণি এলাকায় যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে ১৬ জন।
আজ শনিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে শিশু তন্ময় ঘোষের (৫) পরিচয় পাওয়া গেছে। সে ত্রিশাল পৌরসভা এলাকার সুভাষ ঘোষের ছেলে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামানের ভাষ্য, ঘটনাস্থলে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিদের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের মৃত্যু হয়।
All posts by lutfor
সাভারে ফের ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ শুরুর প্রস্তুতি চলছে, এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি
সাভার প্রতিনিধি : সাভারে ঘেরাও করে রাখা পৃথক দুটি জঙ্গি আস্তানায় শনিবার সকালে ফের অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বোমা ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছলে ‘অপারেশন হিট ব্যাক’ নামে এ অভিযান আবারো শুরু করা হবে পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
এদিকে দুটি জঙ্গি আস্তানার আধা কিলোমিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি রয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে সাভার পৌর এলাকার মধ্যগেন্ডা মহল্লার সাকিব মিয়ার বাড়িতে এ জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পায় পুলিশ।
কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে ওই বাড়ির জানালা কেটে জঙ্গি মনির ও অন্য এক জঙ্গি পালিয়ে গেছে।
সাভার মডেল থানার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাঁচ তলা বিশিষ্ট বাড়িটির নিচ তলার ফ্ল্যাটে জঙ্গিদের আস্তানা। ওই বাড়িট থেকে এক নারীকে আটক এবং দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমাদের ধারণা, ওই বাড়িতেই জঙ্গি মনির ও তার এক সহযোগী থাকতো। তারা আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে রুমের জানালা কেটে পালিয়ে গেছে।’
তিনি এই প্রতিবেদককে আরো জানান, গ্রেপ্তারকৃত নারীর তথ্য অনুযায়ী ওই বাড়ির কয়েকশ গজ দূরে থাকা অন্য আরেক একটি বাড়িতে অভিযান শুরু হয়েছে। ৬তলা ওই বাড়ির দ্বিতীয় ও নিচতলায় অভিযান চলছে।
বাড়িটি ঘেরাও করার পর আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশনা দিয়েছে পুলিশ। ধীরে ধীরেই বাড়ানো হচ্ছে পুলিশের সদস্য সংখ্যা।
বর্তমানে ওই এলাকাতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। প্রথমে ঘেরাও করা বাড়িটির মালিক স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল আজীম।
চিকিৎসায় অরাজকতা, আর সংঘাত নয়
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভুল চিকিৎসা কিংবা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এর পাশাপাশি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে একপেশে সংবাদ পরিবেশনের অভিযোগ আনছেন চিকিৎসকেরা। আসলেই কি হাসপাতালে কোনো রোগীর মৃত্যু হলে সব ক্ষেত্রে চিকিৎসকই দায়ী? একজন চিকিৎসক কি হত্যাকারী? তিনি কি ফৌজদারি দ-বিধিতে অভিযুক্ত হবেন? চিকিৎসক, চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং আপামর জনগণÑসবার মধ্যে আজ এমন প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে।
প্রথমেই জানা যাক, চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীর মৃত্যুর কী কারণ থাকতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগের স্বাভাবিক পরিণতিতে রোগীর মৃত্যু হয়। এক রোগের চিকিৎসা চলাকালীন হঠাৎ অন্য কোনো প্রাণঘাতী রোগে, যেমন হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়েও মৃত্যু হতে পারে। চিকিৎসা কিংবা অপারেশনের জটিলতা বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও রোগীর মৃত্যু হতে পারে। ভুল চিকিৎসা বা অবহেলায়ও মৃত্যু ঘটা অসম্ভব নয়। এ ছাড়া উপযুক্ত চিকিৎসা উপকরণ বা ওষুধের অভাব, দক্ষ চিকিৎসক বা নার্সের অভাব, রোগীর ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মেটানোর অসামর্থ্য, রোগীর আত্মীয়স্বজনের অনাগ্রহ বা অবহেলাও এ ক্ষেত্রে মূল নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। অথচ কোনো রোগীর মৃত্যু হলে প্রায়ই চিকিৎসককে দায়ী করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন রোগীরও মৃত্যু হবে না, এর নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবে না, পৃথিবীর কোথাও না। অনেক রোগ পূর্ণ নিরাময় সম্ভব নয়, যেমন ক্যানসার বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে গেলে, লিভার, কিডনি বা হৃৎপি- নষ্ট হয়ে গেলে রোগী মারা যায়।
চিকিৎসায় ভুল হতেই পারে। অনেক উন্নত দেশের হাসপাতালেও চিকিৎসকদের অনিচ্ছাকৃত ভুলে রোগী মারা যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী ব্যক্তিদের যথাযথ শাস্তি প্রদান করে, বিপুল অঙ্কের অর্থ জরিমানা করা হয়, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়। তাই বলে রোগীর মৃত্যু হলে চিকিৎসককে দায়ী করে ভাঙচুর করা হয় না।
অথচ আমাদের দেশে মৃত্যু হলেই ঢালাওভাবে চিকিৎসককে দায়ী করা হয়, চিহ্নিত করা হয় হত্যাকারী হিসেবে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলা হয়, যদিও চিকিৎসকের এই ‘ভুল’ নির্ণয় করার কোনো যোগ্যতা তাদের নেই। এমন অনুমাননির্ভর, আবেগপ্রসূত, উদ্দেশ্যমূলক অভিযোগের ভিত্তিতে শুরু হয় ভাঙচুর, গালাগাল, মারধর, মামলা-মোকদ্দমা। কোনো রকম তদন্ত ছাড়াই চিকিৎসককে গ্রেপ্তার, রিমান্ডে নেওয়া আর নাজেহাল করা হয়। এসব ঘটনা ফলাও করে পত্রিকায় প্রচার করা হয়, যার বেশির ভাগই খ-িত সত্য।
একজন চিকিৎসক সব সময় চেষ্টা করেন রোগীকে সুস্থ করতে, যা তাঁর পেশাগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কেউ যদি এ দায়িত্ব পালন না করেন, তার জন্য চিকিৎসক সমাজকে ঢালাওভাবে দায়ী করা যায় না। গুটি কয়েক চিকিৎসকের অবহেলা বা ভুলের জন্য সব চিকিৎসককে দায়ী না করে চিকিৎসাব্যবস্থার মূল সমস্যাগুলোয় দৃষ্টি দেওয়া দরকার। আমাদের দেশে জনসংখ্যা বেশি, তাই রোগীও বেশি। সে তুলনায় দক্ষ লোকবল ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা অপ্রতুল, ভালো চিকিৎসক তৈরির পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই। যত্রতত্র মেডিকেল কলেজের অনুমোদন, নোংরা রাজনৈতিক দলাদলি ও দুর্নীতি ভালো চিকিৎসক তৈরি বাধাগ্রস্ত করছে। এত কিছুর মধ্যেও অনেক চিকিৎসক চেষ্টা করেন রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দিতে।
অস্বীকার করার উপায় নেই, সাধারণ মানুষ নানাভাবে হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছে। কিন্তু প্রতিকার মিলছে না। দেশে আইন, প্রশাসন ও বিচারব্যবস্থা আছে, ভুক্তভোগীরা সুফল পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতি চিকিৎসাক্ষেত্রেও বিরাজমান। কারণ, তারা এ সমাজেরই অংশ। অবহেলা আর অনিয়মের ব্যাধি ক্যানসারের মতো সমাজে বাসা বেঁধেছে। শুধু একটি পেশার মানুষকে দোষ দিয়ে মুক্তি কি সম্ভব?
এ কথা সত্য, অবহেলার সব অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। চিকিৎসাক্ষেত্রেও অনিয়ম হচ্ছে, ভুল চিকিৎসা বা অবহেলার ঘটনা ঘটছে, এর বেশির ভাগই ঘটছে অনুমোদনহীন যত্রতত্র গড়ে ওঠা হাসপাতাল বা ক্লিনিকে। আবার নামীদামি হাসপাতালেও এ ধরনের অঘটন ঘটছে। অদক্ষ, দুর্নীতিপরায়ণ ও ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিসম্পন্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা বিএমডিসির রয়েছে। ক্লিনিক আর হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি বিভাগ রয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা, অভিযোগ আমলে না নেওয়ার প্রবণতা আর বিচার না হওয়ার প্রথা এসব অন্যায়কে প্রশ্রয় দিচ্ছে। এতে প্রকৃত অন্যায়কারীর পাশাপাশি ঢালাওভাবে কর্তব্যপরায়ণ চিকিৎসকেরাও অপমান ও হামলার শিকার হচ্ছেন।
এর সমাধানকল্পে পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি। এ জন্য চিকিৎসক-রোগীর সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে হবে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভূমিকাই মুখ্য। রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সঠিক যোগাযোগ এবং তাদের সঙ্গে মার্জিত ব্যবহারের মাধ্যমে অনেক অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব। এ বিষয়ে চিকিৎসকদের আরও আন্তরিক হওয়া দরকার। সেই সঙ্গে চিকিৎসা-শিক্ষাক্রমে এ বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। উন্নত বিশ্বে চিকিৎসাশিক্ষার শুরুতেই শেখানো হয় রোগীদের সঙ্গে পেশাগত সুসম্পর্ক রচনার কৌশল। রোগীর মৃত্যু হলে স্বজনদের প্রতি কীভাবে সহমর্মী হতে হয়, সে শিক্ষাও দেওয়া হয়। আমাদের কারিকুলামে এ বিষয়টি অবহেলিত।
মনে রাখা উচিত, কিছু চিকিৎসকের ভুল বা অবহেলার জন্য যেমন সব চিকিৎসককে দায়ী করা যায় না, তেমনি দু-একজন রোগী বা তার আত্মীয়স্বজনের অপকর্মের জন্য অন্যান্য রোগীকে অসহায় অবস্থায় ফেলে ধর্মঘট করাও অনৈতিক। উচ্ছৃঙ্খল কিছু লোকের আচরণে অন্য রোগীকে জিম্মি করা আর দুর্ভোগ বাড়ানো অমানবিক। মনে রাখতে হবে, চিকিৎসাসেবা অন্য পেশার মতো নয়, এর সঙ্গে মানুষের জীবন-মৃত্যু জড়িত। স্বজনের মৃত্যুতে আবেগপ্রবণ হওয়াটাই স্বাভাবিক। এ অবস্থায় চিকিৎসকের কাছে মানবিক আচরণ না পেলে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটবেই।
রোগী মারা গেলে অরাজকতা না করে কারণগুলো খতিয়ে দেখা দরকার। চিকিৎসকের পাশাপাশি রোগী ও তার আত্মীয়স্বজনকেও নিজেদের দায়বদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। অসহিষ্ণু হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ভালো সেবা আদায় করা অসম্ভব। ব্যক্তি বা গোষ্ঠীবিশেষের কারণে কোনো হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাব্যবস্থা বিঘিœত করা কারও কাম্য নয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে চিকিৎসক-রোগী ছাড়াও চিকিৎসক-সাংবাদিক সম্পর্কটিও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। গণমাধ্যমের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, চিকিৎসাক্ষেত্রে যেসব সাফল্য রয়েছে, তাকে উপেক্ষা করে শুধু গুটি কয়েক অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ফলাও করে প্রচার করার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসা দরকার। চিকিৎসাক্ষেত্রে বিরাজমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এর ভালো দিকগুলো তুলে ধরার দায়িত্ব মিডিয়ার রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা যে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, সেগুলো সঠিকভাবে প্রচার করা দরকার। বিভিন্ন হাসপাতালে অনেক জটিল রোগের চিকিৎসাসহ শত শত অপারেশন সফলভাবে করা হচ্ছে। কিডনি প্রতিস্থাপন, হৃদ্রোগের বাইপাসসহ রিং পরানো, বোনম্যারো প্রতিস্থাপন, নিউরোসার্জারি ইত্যাদি আধুনিক চিকিৎসা উন্নত দেশের মতোই হচ্ছে। এসব বিষয়ে রিপোর্ট করা দরকার। আমাদের দেশে ভালো মানের চিকিৎসক আছেন। তাঁরা রোগীর অধিকার এবং নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু সর্বদা যদি দোষ দেওয়া হয়, ভালো কাজের স্বীকৃতি না দেওয়া হয়, তবে কেউ ভালো কাজ করতে উৎসাহী হবেন না। চিকিৎসক ও রোগীর পরস্পরের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়, এমন নেতিবাচক খবর প্রচারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা দরকার। দু-একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে অতিপ্রচার যেন না করা হয়, সে দিকটাও দেখতে হবে।
চিকিৎসকেরা অবশ্যই তাঁদের পেশাদারি বজায় রাখবেন, মানবিকতা ও সুশিক্ষার পরিচয় দেবেন। অন্যদিকে হাসপাতালে যারা সেবা নিতে আসবে, তারাও চিকিৎসকদের সীমাবদ্ধতা ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকবে, হাসপাতালে সংঘাত-সংঘর্ষের পরিস্থিতি সৃষ্টি থেকে বিরত থাকবেÑএটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ: ডিন, মেডিসিন অনুষদ, অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। প্রথম আলো
বিএনপিকে নিয়ে কানাডার আদালতের মন্তব্যের প্রভাব কী?
কানাডার একটি আদালতের দুটি রায়ে বিএনপিকে বলা হয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠন। জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে জোট নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে তখন এই রায় দলটির জন্য নতুন কোনো সমস্যা তৈরি করবে কি না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের এক নেতার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে কানাডার ফেডারেল কোর্টের এক রায় প্রকাশ হয়েছে গত ১২ মে। এতে বিএনপি নেতার আবেদন নাকচ করে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা হয়।
এর আগেও বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদনে ফেডারেল কোর্টের বিচারক জাস্টিস ব্রাউন বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
২০১২ ও ২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এবং ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতা হয়। বিএনপি এসব সহিংসতার জন্য সরকারের এজেন্টদের দায়ী করলেও সরকার বিএনপিকেই দায়ী করেছে। আর কানাডার আদালতের রায়ে এসব সহিংসতার কথাই বলা হয়েছে।
বিদেশি কোনো আদালতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এর আগে কোনো দলের বিষয়ে এমন মন্তব্য করা হয়নি। দুইবারই বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ছিল রক্ষণাত্মক।
বুধবার বিএনপিকে দ্বিতীয়বারের মত সন্ত্রাসী সংগঠন বলার সংবাদ প্রকাশ পায় বাংলাদেশে। এ সময় অন্য একটি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন দলের নেতা রুহুল কবির রিজভী। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি দেশের আদালত কিছু বলে দিলে তাতে সবকিছু প্রমাণ হয়ে যায় না। আর একজন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায় না।’
কানাডার আদালতে রায় বিএনপির জন্য নতুন কোনো সমস্যা তৈরি করবে কি না-জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না। কারণ আমরা তো রায়ের কপি এখনো পাইনি। কী রায় দিল, কীসের ভিত্তিতে তারা রায় দিল সেটা তো আমাদের আগে বুঝতে হবে। এরপর আমরা এ বিষয়ে কথা বলব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মনে করেন এমনিতে বিপাকে থাকা বিএনপির জন্য এই রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। সরকার এই সুযোগ কোনোভাবেই ছাড়বে না। তারা এখন বিদেশিদের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি বারবার তুলে ধরবে।
এই জামালউদ্দিন বলেন, ‘কানাডার আদালত যখন কোনো রায় দেয় তখন সেটাকে কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। কারণ তাদের গ্রহণযোগ্যতা অন্য উচ্চতায়। এ কারণে সেদেশের আদালত যখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলেছে, সেটি বিএনপিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাকফুটে নিয়ে যাবে।’
অবশ্য একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার মনে করেন, কানাডার আদালতের রায়ের রাজনৈতিক তেমন প্রভাব পড়ার কথা না। তিনি বলেন, ‘রায় এসেছে কানাডায়, কিন্তু বিএনপি তো আর সে দেশে রাজনীতি করে না। যারা বিশ্ব মোড়ল আছে তারা তাদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলবে। তারা কোন আদালতের রায়ে কী বলল সেটা নিয়ে ভাববে না। বিশ্ব মোড়লরা মূলত জঙ্গি এবং যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বেশি কনসার্ন। তারা এসব নিয়ে মাথা ঘামাবে না।’
শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় মাহেন্দ্র রাজাপাক্ষের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত হয়েছে। এর ছয়মাসের মাথায় তিনি দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তার উপর তো আন্তর্জাতিক প্রেসার কাজ করেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব নিয়ে আসলে কোনো প্রেসার থাকে না।’
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, কানাডার আদালতের রায় এক তরফা হয়েছে। সেখানে বিএনপির কোনো আইনজীবী ছিল না। এ জন্য এই রায় আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রভাব ফেলবে না।
ভারতে গরু ও অন্যান্য গবাদি পশু হত্যা ও বিক্রি নিষিদ্ধ
আশিস গুপ্ত, নয়াদিল্লি : সরাসরি নয়। একটু ঘুরিয়ে গোটা দেশে গো-হত্যা নিষিদ্ধ করে দিলো ভারত সরকার। দেশজুড়ে গোহত্যা সংক্রান্ত বিতর্কের মধ্যেই নতুন এ সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় সরকারের।
রাজ্যগুলির গোহত্যা সংক্রান্ত আইন থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রণালয় শুক্রবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। যাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, দেশের কোনো বাজারে গরু বিক্রি করা যাবেনা। নির্দেশিকায় গরু মোষ বাছুরসহ গবাদি পশুর হত্যা ও বিক্রয়তে নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি কোনো গরুকে বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারে আনা যাবেনা বলেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাজারে গরু বা অন্য গবাদি পশু আনতে গেলে আগাম অনুমতি নিতে হবে। যাতে কৃষি ও পশুপালনের কথা উল্লেখ করলেই ছাড় পাওয়া যাবে। এমনকি এর অন্যথা হলে বাজার কমিটিকেও দায়ী করা হবে বলে ওই নির্দেশিকায় জানায় কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়।
তাছাড়া গরু ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতার কৃষক পরিচয়পত্র থাকতে হবে। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ২৫কিলোমিটারের মধ্যে কোনো পশু বাজার রাখা যাবেনা। প্রসঙ্গত, আচমকা কেন্দ্রের এই নির্দেশ নিয়ে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পশু পালন রাজ্যের বিষয় হওয়া সত্ত্বেও কেন্দ্র কিভাবে তাতে নাক গলাতে পারে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে বিরোধীরা।
গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে গোহত্যা বন্ধের জন্য আলোচনা শুরু করেছিলো কেন্দ্রীয় পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়। তখন কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আবেদন জানায় হিমাচল সরকার। বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যায়। তখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলো, “এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবার অধিকারী রাজ্য সরকার। কেউ চাইলে নিষিদ্ধ হবে। কেউ না চাইলে নিষিদ্ধ হবেনা। আমরা এতে হস্তক্ষেপ করবোনা। “বর্তমানে ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ২২টি রাজ্যে গোহত্যা নিষিদ্ধ।
তৃণমূলে মেলবন্ধনের উদ্যোগ আওয়ামী লীগে
উচ্ছাস: আপাতত রাজপথে সক্রিয় কোনো কর্মসূচি না রেখে মাহে রমজানকে দল পুনর্গঠনের প্রস্তুতির উপযুক্ত সময় হিসেবে দেখছেন আওয়মাী লীগ নেতা-কর্মীরা। রমজানের ‘ইফতার রাজনীতি’ পুঁজি করে তৃণমূলে মেলবন্ধন সৃষ্টি করতে চান ক্ষমতাসীন দলটির নেতা-এমপি-মন্ত্রীরা। রাজধানীসহ মহানগরী ও জেলা-উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইতিমধ্যে শুরুও হয়েছে তোড়জোড়। গুরুত্ব বাড়তে শুরু করেছে তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের। রমজানে ইফতার রাজনীতির পাাশাপাশি আগাম প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকতে চায় আওয়ামী লীগ। দলের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে তার সরকারি বাসভবন গণভবনে রোজার মাসজুড়েই থাকবে ইফতার আয়োজন। রোজার প্রথম দিন গণভবনে এতিম ও দুস্থদের সঙ্গে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়া জোটের শরিকদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নতুন মিত্র খোঁজা হবে এবারের ইফতার রাজনীতিতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় রমজান এলেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে ইফতার মাহফিল আয়োজনের হিড়িক পড়ে। এখন তা পরিণত হয়েছে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে। রমজানে সংযম চর্চার কারণে রাজনৈতিক কর্মসূচি তেমন থাকে না। তাই কর্মীদের চাঙ্গা রাখতে নেতারা প্রায় মাসজুড়ে আয়োজন করেন ইফতার অনুষ্ঠানের। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা এবারও আয়োজন করেছেন ইফতার অনুষ্ঠানের। দলীয় সূত্রমতে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পৌনে দুই বছর বাকি থাকলেও মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা।
এবারের রমজানকে অন্যতম টার্গেট তাদের। ইফতারের আয়োজন ও অংশগ্রহণের পাশাপাশি জাকাত বিতরণের মাধ্যমে সাধারণ ভোটারদের মন জয় করতে চান তারা। এজন্য প্রস্তুতি শুরু করেছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। জানা গেছে, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ ইফতার কর্মসূচি না রাখলেও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় প্রতিদিনই গণভবনে ইফতারের আয়োজন রেখেছেন। এতে পর্যায়ক্রমে অংশ নেবেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিল্পী, সাহিত্যিক, কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, আলেম-ওলামাসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নিকটাত্মীয়, সরকারি কর্মকর্তা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গেও আলাদাভাবে ইফতার করবেন প্রধানমন্ত্রী। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মাসব্যাপী ইফতার অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কার্যত দল ও দলের সহযোগী সব সংগঠনের নেতা-কর্মীকে চাঙ্গা করা হবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমরা দলকে সুসংগঠিত এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিন ধরে মাঠে আছি। রমজানে সাধারণত বড় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় ইফতারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নেতা ও দলের এমপি-মন্ত্রীরা নিজ নিজ এলাকায় যাব। দলকে আরও বেশি সংগঠিত করব। ’ জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বিভিন্ন ইফতার আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কর্মীদের সঙ্গে মিলিত হবেন। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত না এলেও ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ ইফতারকেন্দ্রিক রাজনীতি করবে রমজানজুড়েই। ঢাকা মহানগরী আওয়ামী লীগ প্রতিদিন বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইফতারের আয়োজন রাখবে। মহানগরী আওয়ামী লীগের প্রতিটি থানা ও ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগরী নেতারা। এ প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলে ৮ জুন মহানগরী দক্ষিণের ইফতারের আয়োজন করা হতে পারে। ’ তিনি বলেন, ‘দক্ষিণের সব থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। এতে মহানগরীর সভাপতি-সম্পাদক ছাড়াও নগরীর নেতারা উপস্থিত থাকবেন। মূলত এর মাধ্যমে নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা রাখা এবং সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে। ’ আওয়ামী লীগ মনে করছে, ইফতারকেন্দ্রিক সাংগঠনিক কর্মসূচিতে দল চাঙ্গা হবে।
এসব কর্মসূচিতে সরকারের সিনিয়র মন্ত্রীরাও অংশ নেবেন। ইফতার অনুষ্ঠানের আলোচনায় দলের নীতিনির্ধারকরা সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনার পাশাপাশি দলকে দিকনির্দেশনাও দেবেন। অন্যদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশীরাও রমজানকে টার্গেট করেছেন। তারা জাকাত বিতরণ ও ইফতার পার্টির মাধ্যমে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করবেন। কুষ্টিয়া-৪ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী মিজানুর রহমান বিটু বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘সারা বছর মানুষের কাছাকাছি থাকি। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াই। রমজানে মানুষের কাছে যাওয়ার আরও সহজ উপায় ইফতার পার্টি ও জাকাত বিতরণ। ’ প্রতি বছরের মতো এবারও রমজানে জাকাত বিতরণ করবেন তিনি। ঢাকা-৫ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও বর্তমান এমপিপুত্র মশিউর রহমান মোল্লা সজল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ঢাকা-৫ আসনের নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে দলের ইফতার আয়োজনে অংশ নেব। অন্য যে কোনো মাসের চেয়ে মানুষের কাছাকাছি যাওয়ার উত্তম সময় হচ্ছে রমজান। ’ রমজানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকলেও ইফতার রাজনীতির মাধ্যমে দল আরও বেশি চাঙ্গা ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কর্নেল মুহম্মদ ফারুক খান (অব.)। বাংলাদেশ প্রতিদিনকে তিনি বলেন, ‘রমজানে নেতৃস্থানীয় নেতা ও দলের এমপি-মন্ত্রীরা তৃণমূলে যাবেন। ইফতার পার্টির মাধ্যমে মানুষের কাছে যাব। মূলত তৃণমূলের সঙ্গে মেলবন্ধন সৃষ্টি করা হবে ইফতার রাজনীতির মাধ্যমে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
ব্রিটেনে ম্যানচেষ্টার বোমা হামলার বিরুদ্ধে মুসলিমদের শান্তি মিছিল
রাশিদ রিয়াজ: ব্রিটেনের ম্যানচেষ্টারে বোমা হামলায় ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হবার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুসলিম নারী পুরুষ ও শিশুরা শান্তি মিছিল করেছে। মুসলিম পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্লাকার্ড, নিহতদের স্মরণে তাদের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে ফুল হাতে রাস্তায় নেমে আসে। ব্রিটিশ মিডিয়া মিরর অনলাইনে এ খবরটি শীর্ষ সংবাদ হিসেবে পোস্ট করে শান্তি মিছিলের একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।চিথ্যাম হিল এলাকার নর্থ ম্যানচেষ্টার জামিয়া মসজিদ এ শান্তি মিছিলের আয়োজন করে। আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসলিম পরিবারগুলো তাদের একাত্মতা প্রকাশ করে।
শুক্রবার ম্যানচেষ্টারে আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে হামলার প্রতি নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে শত শত মুসলিম নারী, শিশু ও পুরুষরা ম্যানচেষ্টার এ্যারেনা এসে নিহতদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। সেখানেই ওই বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন। একইভাবে মুসলিম পরিবারগুলো নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং ম্যানচেষ্টারের এলাকাবাসির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫’শ নারী, শিশু ও পুরুষ ছিল। ম্যানচেষ্টারের বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা এসে উডল্যান্ড সড়কের একটি মসজিদে জড়ো হন তারপর শান্তি মিছিল করে ম্যানচেষ্টার এ্যারেনায় আসেন। তাদের হাতে ছিল ফুল, বেলুন ও ‘আই লাভ ম্যানচেষ্টার’ লেখা প্ল্যাকার্ড । তারা অমুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করে।
মইন আজমি যিনি মসজিদটির মুখপাত্র, তিনি বলেন, মুসলিম তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং তাদের নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটা দেখার মত জিনিস যে সন্ত্রাসের
বিরুদ্ধে সকলের সঙ্গে মুসলিম নারী, শিশু ও পুরুষরা রয়েছেন। আমরা আমাদের এ অভিন্ন পরিচয় তুলে ধরতে চাই। সমাজের অংশ হিসেবে মুসলিমরাও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার প্রচার করতে চাই। শিশুরা খুবই মর্মাহত কারণ ম্যানচেষ্টার বোমা হামলায় অনেক শিশু মারা গেছে এবং তারা তা জানতে পেরে খুবই মুষড়ে পড়েছে। শিশুরা কনসার্টে আনন্দ করতে যেয়ে মারা গেছে তারা তা মেনে নিতে পারছে না। এসব মুসলিম শিশুরা সমাজের অভিন্ন অংশ হিসেবেই একাত্মতা দেখাচ্ছে।
মুুসলিম পরিবারের সঙ্গে অনেক পথচারী তাদের শান্তি মিছিলে যোগ দেন। চিথ্যাম হিল সড়ক থেকে তারা ৪০ মিনিট ধরে হেঁটে এসে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। মইন আরো জানান, মুসলিম শিশুদের জন্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এভাবে শান্তি মিছিলে আসা জরুরি। কারণ যারা মারা গেছে তারা তাদের সুন্দর ভবিষ্যত হারিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক তরুণ, তরুণী, শিশুও রয়েছে। মুসলিম শিশুরা উপলব্ধি করার সুযোগ পাচ্ছে যে তারা এখানে এসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। যা ঘটছে তার মধ্যে সে সঠিক অবস্থানে আছে।
মসজিদের ইমাম আরশাদ মিসবাহি বলেন, এই শান্তি মিছিল কনসার্টে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার বিরুদ্ধে। বোমা হামলা করে মানুষ হত্যা ইসলামের শিক্ষার বিরুদ্ধে। এজন্যে আমরা এখানে একাত্মতা জানাতে এসেছে। নারী ও শিশুদের এখানে নিয়ে এসেছি। শিশুরা স্কুলে এসে এধরনের বর্বর বোমা হামলা কেন হয়েছে তা জানতে চায়, মসজিদে মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনুভব করেছি যে আমাদের সহানুভূতি দেখানো উচিত নিহতদের প্রতি, তাই আমরা এখানে এসেছি। বিভিন্ন মসজিদে ‘আই লাভ ম্যানচেষ্টার’ পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মিরর
দেশে ক্ষমতা-অর্থের রাজনীতি চলছে: আমির খসরু
শেখ রিয়াল: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশে ক্ষমতা এবং অর্থের রাজনীতি চলছে। দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে যেভাবে হেলাফেলা করা হচ্ছে তার কোনো জবাবদিহিতা নেই। এই অনির্বাচিত সরকার জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি করে না। সংসদেও জবাবদিহিতার কোনো আলোচনা হয় না।
শুক্রবার রাজধানীর ‘পূর্বাণী হোটেলে’ এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রাক-বাজেট ২০১৭-১৮ শীর্ষক অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে এমবিএ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ম্যাব)।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যে দেশে নির্বাচিত সরকার নেই সে দেশে বাজেট আলোচনা করে কোনো লাভ নেই। দেশে মুক্ত বাজার অর্থনীতি নেই। যেটি চলছে ক্ষমতা এবং অর্থ একীভুত হয়ে অর্থনীতি। ক্ষমতা এবং অর্থের রাজনীতি অর্থনীতির জন্য ভয়ানক হতে পারে।
আমির খসরু বলেন, সরকার দেশের প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ বলছে। বিনিয়োগ ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের সব কিছু নি¤œ গামী হতে থাকে তাহলে দেশের প্রবৃদ্ধি আসবে কোথা থেকে। বাংলাদেশের হাজার হাজার মানুষ ইউরোপে যেতে পানিতে ভাসছে। যে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭.২৪ সে দেশের মানুষকে জীবনবাজি রেখে ইউরোপে যেতে হয় কেন। বিদেশ থেকে সে দেশে মানুষ আসবে। অনির্বাচিত সরকার দিয়ে দেশের প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
একই অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, উন্নয়নের নামে, উৎপাদনের নামে যা করা হচ্ছে তা লুটপাট এবং চৌর্যবিত্তের মত। যে উন্নয়নে দেশের মানুষ বেকার হচ্ছে সেটি কিসের উন্নয়ন। হ্যাঁ উন্নয়ন হয়েছে এক টাকার কাজ ১০০ টাকায় করে ক্ষমতাসীনদের উন্নয়ন হচ্ছে। এ সরকার দেশের উন্নয়ন বায়োস্কোপের আকারে ঊর্দ্ধমুখী করছে। প্রকৃত উন্নয়নের কিছ্ ুহয়নি।
প্রাক-বাজেট অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এছাড়া আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, অর্থনীতিবীদ ফরহাদ মাজহার প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
হেফাজতের চাপেই ভাস্কর্য অপসারণ হয়নি : শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক (ভিডিও)
সারোয়ার জাহান : সুপ্রীম কোর্ট প্রাঙ্গনে ভাস্কর্য স্থাপন এবং রাতের আধারে অপসারণের পেছনে অন্য কোনো রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি আছে বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। শুক্রবার বিকালে এটিএন নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেন।
শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, হেফাজতে ইসলামের চাপ আছে সেই চাপকে আমরা অবশ্য অবজ্ঞা করব। কারণ হেফাজত ইসলামের চাপে দেশ চলবে না এবং তাদের কথা মতো কোনো কিছু ঘটবে না। আমি মনে করি না এই ভাস্কর্যটি হেফাজতে ইসলামের কারণে অপসারণ করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, প্রধান বিচারপ্রতি অনেক কথাই বলছেন যেগুলো রাষ্ট্র এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর। এরই মধ্যে তিনি বলেছেন, এই সরকার বিচার বিভাগকে পঙ্গু করে দিয়েছেন। সুপ্রীম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই গুলোর আলোকে বিষয়টি দেখতে হবে। সূত্র : এটিএন নিউজ।
https://youtu.be/XFUHCBtT3j0
রক্তপাত ঘটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না
আল-আমীন আনাম: সরকারকে হুঁশিয়ার করে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, রক্তপাত ঘটিয়ে জীবন কেড়ে নিয়ে ভীতির সৃষ্টি করে ক্ষমতায় টিকে থাকা যাবে না। জনগণ আর বসে থাকবে না, দুঃশাসন মোকাবেলায় অব্যাহত রক্তপাতের কর্মসূচিকে সম্মিলিত শক্তি দিয়ে প্রতিহত করবে।
খুলনায় বিএনপি নেতা আলাউদ্দিন মিঠুকে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই হত্যাকা- কাপুরুষোচিত। দেশব্যাপী বিএনপির নেতা-কর্মীদের হত্যার মাধ্যমে হাত রক্তে রঞ্জিত করে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রটিকে এখন গোরস্থানে পরিণত করা হয়েছে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে খুলনা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিঠুকে বৃহস্পতিবার রাতে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। এতে তার এক সহযোগীও নিহত হন।
খালেদা জিয়া বলেন, মিঠুকে নির্মম কায়দায় হত্যা সরকারের ধারাবাহিক প্রাণঘাতী নৃশংসতারই আরেকটি বহিঃপ্রকাশ।