All posts by lutfor

‘জনগণকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা না দিলেই শাস্তি’

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেছেন, জনগণকে দুর্নীতিমুক্ত সেবা দিন। অন্যথায় নিশ্চিত শাস্তি ভোগ করতে হবে, যেতে হবে কারাগারে। দুর্নীতিমুক্ত সেবা দিতেই হবে। দিস ইজ আওয়ার ডিউটি, রেসপনসিবিলিটি। দিস ইজ দেয়ার রাইট। ইফ ইউ ফেইল, ইউ হেল্ড আপ ইন জেল। ’

বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা : দুর্নীতির অভিযোগের প্রকৃতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

দুদকের আয়োজনে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. রুহুল আমীনের সভাপতিত্বে সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, দুদকের মহাপরিচালক (দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গণসচেতনা) ড. মো. মুহাম্মদ শামসুল আরেফিন, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার শংকর রঞ্জন সাহা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ইকবাল বাহার, জেলা প্রশাসক জিল্লুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি এসএম মনিরুজ্জামান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, কাস্টমস কমিশনার এএফএম আব্দুল্লাহ খান প্রমুখ। সভার শুরুতে সরকারি বিভিন্ন অফিসের বিরুদ্ধে দুদকে জমা হওয়া অভিযোগের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন দুদকের মহাপরিচালক। (দুর্নীতি প্রতিরোধ ও গণসচেতনা) ড. মো. শামসুল আরেফীন। পরে সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুদকের মামলা ক্যান্সার রোগের মত। ধরলেই আর ছাড়ে না। মামলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলে। ক্যান্সার এমন একটি রোগ যেটি রোগীকে যেমন শেষ করে দেয়, সঙ্গে রোগীর পরিবারকেও নিঃস্ব করে দেয়। দুদকের মামলাও তেমনি। এ জন্য আমরা মামলা দিতে চাই না। তবুও দিতে হয়।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করুন। জনগণের বিরুদ্ধে যেন আমরা না দাঁড়াই। জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে আপনি জিতবেন না। কেউ জিততে পারে না। তাই আমরা যেন জনগণকে সার্ভিস দেই। টাকার বিনিময়ে আমরা যদি সার্ভিস দেই একদিন, দুইদিন, তিন দিন, ১০ দিন। কাউকে ছাড় দেয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমি সবাইকে বলছি আইনটা মানেন। সরকারি কার্যালয়গুলোতে বিদ্যমান পদ্ধতি মেনে সেবা দেওয়ার পাশাপাশি তা উন্নত করতে ভূমিকা রাখেন। তিনি বলেন, ‘যে পদ্ধতি আছে তা মানেন, যদি পারেন সে পদ্ধতি উন্নতি করেন। কিন্তু পদ্ধতি থেকে বের হয়ে যাবেন না। আমি জানি আপনাদের চাপ থাকে। সে চাপ সহ্য করতে হবে। দিস ইজ আওয়ার ডিউটি। ’

নির্বাচন নিয়ে সরকার বিএনপির সাথে আলোচনা করবে না : নাসিম

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার বিএনপির সাথে কোনো ধরনের আলোচনায় যাবে না।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সাথে আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। সরকার তাদের সাথে কোনো আলোচনায় যাবে না।’

মোহাম্মদ নাসিম আজ সোমবার সিরাজগঞ্জে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মকতা এবং শহীদ এম মনসুর আলী মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে এক আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্বাবধায়ক ডা: উদয় নারায়ণ মোহন্তের সভাপতিত্বে পৌর সভার মেয়র সৈয়দ আব্দুর রউফ মুক্তা, সিভিল সার্জন ডা: শেখ মো: মনজুর রহমান, মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসার ডা: রেজাউল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, যারা দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে তাদের সাথে আলোচনার প্রশ্নই আসে না। সরকার বিএনপির সাথে কোনোভাবেই আলোচনায় যাবে না। সব দলকে নির্বাচন কমিশন আলোচনা জন্য ডেকেছে। ইসির সাথে বিএনপির আলোচনা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সংলাপ ডেকেছে। সুশীল সমাজসহ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব দলের সাথে পর্যায়ক্রমে সংলাপ হবে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব যথাসময়ে সুষ্ঠুভাবেভাবে নির্বাচন শেষ করা। সহায়ক সরকার সংবিধানের বিষয়, নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার নয়। এটি নির্বাচন কমিশনের সাথে আলোচনা করারও বিষয় নয়।

এদিকে বিকেলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কৃষি, বন বিভাগ ও জেলা প্রশাসন আয়োজিত সাত দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করেন।

জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকার সভাপতিত্বে জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা: হাবিবে মিল্লাত মুন্না এমপি, সেলিনা বেগম স্বপ্না এমপি, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইসির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের পরামর্শ সুশীল সমাজের

সবার আস্থা অর্জনে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করে নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের পরামর্শ দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে বিতর্কিত ইভিএম থেকে সরে সেনাবাহিনীকে ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ভোটে কালো টাকা ও পেশী শক্তির ব্যবহার ঠেকাতে ইসির ক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার করে একাদশ সংসদ নির্বাচনকে ভয়মুক্ত ও সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার আহবান জানান তারা।
আজ সোমবার বেলা ১১টা থেকে নির্বাচন ভবনে ইসির সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এ পরামর্শ দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে এ বৈঠক শুরু হয়। এতে অন্তত ৩০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠক থেকে বের হয়ে পরে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন অনেকে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডির) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে ইসির করার কিছু নেই- এমন বক্তব্যকে আমরা অনেকে গ্রহণ করিনি। এখন থেকে ইসির অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে। ইসিকে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে। তাদের দৃঢ়, স্বাধীন ভূমিকা নিয়ে মানুষের কাছে দৃশ্যমান হতে হবে এবং তা প্রমাণ করতে হবে। ইসি নির্বাচনী আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে অনেক দুর্বলতা দেখিয়েছে। প্রশাসন কীভাবে নিরপেক্ষ থাকবে এবং তাদের নিরপেক্ষ রাখতে ইসি কীভাবে ভূমিকা রাখবে তা দেখতে হবে।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে রাখতে হবে। ‘না’ ভোট চালুর বিষয়ে ব্যাপক ঐক্যমত রয়েছে। পাশাপাশি এ দুটি বিষয়ে ভিন্নমতও এসেছে আলোচনায়। নির্বাচনী ব্যয়কে নিয়ন্ত্রণে আনতে আরো বেশি স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা রাখতে হবে। প্রয়োজনে আলাদা আইন করতে হবে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচনে ভয়মুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে সেনা মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনের আগে বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। এ বিষয়ে সুশীল সমাজের বেশির ভাগ প্রতিনিধি ঐকমত্য পোষণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন, সহায়ক সরকার দরকার। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হওয়া দরকার। সবাই খোলামেলা মত দিয়েছে। অনেক বিষয় মতৈক্য হয়েছে, কিছু বিষয় নিয়ে ভিন্নমত হয়েছে। কমিশনের নিজের উচিত সক্রিয় হওয়া। নিকট অতীতে দেখেছি ইসি নিজস্ব ক্ষমতা প্রয়োগে অনীহা দেখিয়েছে, যেটা সুষ্ঠু নির্বাচন অর্জনে কাজে দেয়নি। ইসি নিজে যেন সক্রিয় হয়। আমরা লিখিত মতামতও দিচ্ছি। রিটার্নিং অফিসারের নিয়োগ অত্যন্ত গুরুত্ব বিষয়। এক্ষেত্রে নিজস্ব লোকও হতে পারে অথবা ইসির চিহ্নিত জেলা প্রশাসকও হতে পারে। কর্মকর্তা নিয়োগেও সক্রিয় থাকতে হবে। ইসির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। অভিযোগ আমলে নেয়া হয় না বা প্রতিকার নেই। এটাতে সক্ষমতা প্রমাণ হয় না। এজন্য সক্ষমতা দেখানো জরুরি। অভিযোগ আমলে নিয়ে সঠিক পদক্ষেপ নিলে অনেক অনিয়ম রোধ হতো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেন, কমিশনকে সক্রিয় হতে হবে। সব দলকে নির্বাচনে নিয়ে আসতে হবে। সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করতে হবে। প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও ভোটারদের মনে যে ভয়ভীতি রয়েছে তা দূর করতে হবে- এটা নিয়ে কারো দ্বিমত ছিল না। নিজে পক্ষে থাকলেও সাবেক আমলাদের অনেকে সেনাবাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংজ্ঞায় না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানান আসিফ নজরুল।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে যদি ফিলিং স্টেশন, রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা যায়, তাহলে কেন নির্বাচনে দায়িত্বপালনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না। এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে যাতে সবাই নির্বাচনে আসতে পারে। প্রার্থী, পোলিং এজেন্টদের ভয় দূর করতে হবে। সহায়ক সরকার নিয়ে আলোচনা উঠলেও অনেকে পক্ষ-বিপক্ষ নিয়েছেন। প্রশাসনকে ঢেলে সাজানো, ভয়ভীতি দূর করতে ইসি আসলে কোনো পদক্ষেপ নেয় কি-না তা সবার দেখার বিষয় হয়ে রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন এ নিয়ে ইসির কথা বলা উচিত নয়। আমাদেরও কথা বলা উচিত নয় বলে কেউ কেউ বলেছেন। ইসি চেষ্টা করেছে সবার বক্তব্য শোনার। সবচেয়ে বড় কথা হলো- এখন ইসি কী পদক্ষেপ নেয় তা দেখা। এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা যায় কিনা বিবেচনা করার জন্যে বলা হয়েছে। যেহেতু জেলা প্রশাসকরা (ডিসি) রিটার্নিং অফিসার থাকেন, সেক্ষেত্রে বিভিন্ন সরকারের সময়ে সুবিধাভোগী কর্মকর্তাদের বাদ দেওয়া যেতে পারে।

এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, সব দলকে ভোটে আনতে হবে এবং এজন্য সবার জন্যে সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে। প্রয়োজনে আইনে ঘাটতি থাকলে তা সংশোধনের ব্যবস্থা নেবে ইসি। নাগরিক প্রতিনিধিরা সাথে থাকবেন। আগামী সংসদ নির্বাচনে এক কোটি প্রবাসী নাগরিককে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করে ভোট দেয়ার সুযোগ তৈরি করে দেয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

সংলাপে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অধিকাংশ বিষয়গুলোতে একমত হলেও ভিন্নমত পোষণ করেছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত অলিউর রহমান।

তিনি বলেন, সহায়ক সরকারই তত্ত্বাবধায়ক সরকার। অনেকে বলেছেন, তত্ত্বাধায়ক সরকার আনা হোক। আমরা বলছি- এটা আনা সম্ভব নয়, এটা ডেড ইস্যু। আর্মি নিয়ে আসার কথা বলা হচ্ছে। আমরা বলেছি- তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেয়া ঠিক হবে না, আর্মিকে ভোটে আনার দরকার নেই। পার্লামেন্টে ভেঙে দেয়ার কথা তুলেছেন অনেকে। আমরা বলেছি- ভেঙে দেয়া যাবে না। ইচ্ছাকৃতভাবে একটি গোষ্ঠী সমালোচিত বিষয়গুলোকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেছে বলেও অভিযোগ করেন সাবেক এই রাষ্ট্রদূত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর তাসনীম আরিফা সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচন কমিশনের কাজই জনগণের মতকে তুলে ধরা। সেটা করতে গিয়ে বাধা আসবেই। ইসি যদি জনগণের অধিকার রক্ষায় কাজ করে তাহলে জনগণ তাদের পছন্দ করবে। নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কথা বলেন তিনি।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, নির্বাচন হচ্ছে সুপার পলিটিক্যাল ইভেন্ট। এ নির্বাচনের মাধ্যমে দলগুলো ফল ঘরে তোলে। কিন্তু এখনকার সংকট দূর করে নির্বাচনী কৌশলে আসতে হবে।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা এম হাফিজউদ্দিন আহমেদ খান বলেন, যেসব আইনে দুর্বলতা আছে সেগুলো আইন সংস্কার করা দরকার। ইসির উচিত সরকারকে বলা তারা কী করতে চায়। এ ছাড়া তারা বলে যে তফসিল ঘোষণার আগে কিছু করার নেই। এই কথাটি ঠিক না। এ বিষয় নিয়ে নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য তাদের কাজ করতে হবে। প্রয়োজনে নিজেদের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে। যারা অভিবাসী তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার জন্য কমিশনকে উদ্যোগ নিতে হবে।

বেশির ভাগই সেনা মোতায়েনের পক্ষে : সিইসি
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের বেশির ভাগই নির্বাচনকালীন সময়ে সেনা মোতায়েনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদা।

সোমবার বিকেলে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে সংলাপ শেষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা জানান।

তিনি বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনায় সেনা থাকবে কী থাকবে না এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা হয়েছে। সেখানে বেশিরভাগই নির্বাচনকালীন সময়ে সেনাবাহিনী থাকার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সেনাবাহিনীকে বাহিনী হিসেবে রাখলে অন্য বাহিনীর ক্ষমতা খর্ব হবে, তাদের কাজ ব্যাহত হবে এমনও মত দিয়েছেন কয়েকজন বলেও জানান তিনি।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে নুরুল হুদা বলেন, আমরা অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি। দিক নির্দেশনা পেয়েছি। নির্বাচন কমিশন কিভাবে স্বাধীনতা ঠিকভাবে পালন করবে সে পরামর্শ দিয়েছেন। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে ভোট দিতে পারেন, ভোটার তালিকায় মাইনরিটি জনগণ যাতে বাদ না যায় সে পরামর্শ দিয়েছেন। নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মাপকাঠি থাকা উচিত কি উচিত না সেটা নিয়েও পরামর্শ এসেছে। জাতি নির্বাচন কমিশনের কাছে কঠোরভাবে নির্বাচন পরিচালনা প্রত্যাশা করে এটাও কমিশনকে মনে করিয়ে দিয়েছেন। আমরা আশ্বস্ত করছি আইনের আলোকে নির্বাচন কমিশন ক্ষমতা পালন করে সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেয়ার চেষ্টা করবে।

তিনি বলেন, ‘না’ ভোটের বিষয়টি অনেকেই বলেছেন। যেমন যারা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করবেন তাদের কাউকেই পছন্দ না করলে না ভোটের বিধান থাকতে পারে।

প্রবাসে অবস্থানরত প্রায় এক কোটি ভোটারকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, প্রবাসী ভোটারের বিষয়টা জটিল। এগুলো করা যাবে কি না বলতে পারবো না। তবে আমরা চেষ্টা করবো ভোটারতালিকার আওতায় আনা যায় কি-না।

মনোনয়ন জমা দেয়ার সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার বিষয়টি নিয়ে পরামর্শ এসেছে। নির্বাচনকে সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে মিডিয়াকে ব্যবহার করা যায় কি না তা নিয়েও আলাপ হয়েছে।

ভোটার তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করার পক্ষে সুশীল সমাজ থেকে মতামত এসেছে জানিয়ে বলেন, ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে এমন পরামর্শ এসেছে। মোবাইল নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের না যাওয়ার বিষয়টি নিয়েও পরামর্শ এসেছে। যাতে ভোট দেয়ার পর প্রার্থীকে ছবি দেখাতে না হয়। কোনো মিডিয়া যাতে প্রার্থীদের নিয়ে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করতে না পারে এ বিষয়টি নির্বাচনী আচরণবিধিতে অন্তর্ভূক্ত করার প্রস্তাব এসেছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নুরুল হুদা বলেন, এই সংলাপে সরকারের কাছে তাদের জনগণের এবং সুশীল সমাজ যারা নির্বাচন নিয়ে ভাবেন, তাদের যে বার্তা এই বার্তা তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। এবং যারা বিরোধী দলে আছেন অথবা সংসদে বিরোধী দলে নেই তাদের কাছে পৌঁছে যাবে। তারা একটা সমঝোতায় আসতে পারবেন। আমার ধারণা প্রভাব পড়বে। কিন্তু আমরা বাধ্য করতে পারবো কিনা জানি না।

অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যা যা বলেছেন জানুয়ারির মধ্যে প্রতিবেদন আকারে আমরা প্রকাশ করবো। প্রকাশ করে সরকারের কাছে পাঠিয়ে দেবো। এমনকি প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠিয়ে দেবো।

নাগরিক সমাজের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিদের মধ্যে সংলাপে অংশ নেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী, এম হাফিজ উদ্দিন খান, সাবেক সচিব এ এইচ এম কাশেম, সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব আলী ইমাম মজুমদার, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক শামসুর রহমান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ওয়ালিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ।

এছাড়া সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, সাবেক রাষ্ট্রদূত এ এফ গোলাম হোসেন, সাবেক সচিব রকিব উদ্দিন মণ্ডল, অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, প্রথম আলোর যুগ্মসম্পাদক মিজানুর রহমান খান, টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান, সিপিডির সম্মানিত ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, অধ্যাপক এমএম আকাশ, অধ্যাপক অজয় রায়, অধিকারকর্মী খুশী কবির, সাইফুল হক, সঞ্জীব দ্রং, ফিলীপ গায়েন, ব্রতীর প্রধান নির্বাহী শারমিন মুর্শিদ, অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমদ, অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন, কবি লুবানা হাসান আলোচনায় অংশ নেন।

পরে এসে সংলাপে যোগ দেন সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী, পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান সা’দত হুসাইন, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক আসিফ নজরুল ও অধ্যাপক তাসনিম সিদ্দিকী।

কলকাতার নাইট ক্লাবের পার্টিতে বাংলাদেশি অভিনেত্রী!

টিভি নাটকের সঙ্গে দীর্ঘদিনের পথচলা অভিনেত্রী লারা লোটাসের। খণ্ড, ধারাবাহিক নাটক ও বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করে চলেছেন তিনি। তবে এই মুহূর্তে তিনি কলকাতায় অবস্থান করছেন। ঠিক কী কাজে তিনি সেখানে গিয়েছেন তা না জানা গেলেও ফেসবুকে বেশ কিছু ছবি দিয়েছেন তিনি। যা দেখে বোঝা যাচ্ছে সেখান তিনি বেশ ভালই আছেন। এবং আনন্দ উল্লাসের মাধ্যমে সময় পার করছেন।

তিনি যে ছবি আপলোড করেছেন সেখানে দেখা যায় তিনি একটি নাইট পার্টিতে আছেন। কলকাতার জনপ্রিয় ক্লাব ‘সিসি এন্ড এফসি ক্লাব’র সেই পার্টিতে তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।

শুধু লারা লোটাস নয় সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের তারকাদের ভারত যাতায়ত বেড়ে গেছে। বিশেষ করে কলকাতায় একটু বেশিই দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের তারকাদের। ঘোরাঘুরি শেষে খুব শিগগিরই লোটাস কলকাতা থেকে দেশে ফিরবেন বলে জানা যায়।

অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন ২৬ হজ্জ যাত্রী

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের বহির্গমন র‌্যাম্পে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেলেন ২৬ হজ্জ যাত্রী।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে হজ্জযাত্রী বহনকারী একটি যাত্রীবাহী বাস টার্মিনালের দোতালায় উঠার সময় হঠাৎ ব্রেক লক অকেজো হয়ে গেলে এ বাসটি পিছনের দিকে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে টার্মিনালের রেলিং ভেঙ্গে বাসটি প্রায় ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে যায়। বাসের হজ্জ যাত্রীদের মধ্যে আতংক শুরু হয়। অনেকটা সিনেমায় দেখানো দৃশ্যের মতো। বাসের ভিতর যাত্রীরা একটু নড়াচড়া করলেই বাসটি দুলতে থাকে।

এ ধরণের একটি দুর্ঘটনায় টার্মিনাল এলাকায় শতশত দর্শনার্থী ভিড় করে। সিভিল এভিয়েশনের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কাজী ইকবাল দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি উদ্ধারে র‌্যাবের সহায়তা চান। র‌্যাব সদর দফতর থেকে একটি উদ্ধারকারী টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে অত্যন্ত কৌশল অবলম্বন করে বাস থেকে যাত্রীদের নামিয়ে এনে। এরপর একটি র‌্যাকার দিয়ে বাসটিকে টেনে উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া অ্যান্ড লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক কামন্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, র‌্যাব অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে হজ্জ যাত্রীদের উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। উদ্ধার করার সময় কৌশল অবলম্বন করার ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেছে।

টালিউডের দুই সুপারস্টার জিৎ ও দেবকে টপকে গেলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান

টালিউডের দুই সুপারস্টার জিৎ ও দেবকে টপকে গেলেন ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান। ইন্টারনেট মুভি ডাটাবেজ (আইএমডিবি)’র রেটিংয়ে জিতের ‘বস-টু’ এবং দেবের ‘চ্যাম্প’কে হটিয়ে এগিয়ে গেলো শাকিবের ‘নবাব’।

সোমবার (৩১ জুলাই) ‘নবাব’র কলকাতা অংশের প্রযোজক এসকে মুভিজ ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আইএমডিবি’র রেটিং অনুসারে জিতের ‘বস-টু’ পেয়েছে ৪.৯ পয়েন্ট এবং দেবের ‘চ্যাম্প’র পয়েন্ট ৭.২। কিন্তু ৮.৩ পয়েন্ট নিয়ে দেব ও জিতকে টপকে গেলেন শাকিবের ‘নবাব’।

এ প্রসঙ্গে শাকিব খান বলেন, খুব ভালো লাগছে। দেশে ফিরেই আনন্দের সংবাদ পেলাম। ছবি মুক্তির দুইদিন পর শুনেছিলাম রেটিং ৮ ছিল। দিন দিন বাড়ছে। আশা করছি, এই ছবিটি বাংলাদেশের মতো কলকাতায়ও রেকর্ড গড়বে।

এদিকে গত ২৮ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের শতাধিক সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে ‘নবাব’। মুক্তির পর মাত্র দুই দিনেই ছবিটি ১৩ লাখ রুপি আয় করেছে বলে জানা গেছে। দিন দিন দর্শক সমাগমও বাড়ছে। এর ফলে কলকাতার বাজারেও ‘নবাব’ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করবে বলে মনে করছেন ছবিটির সংশ্লিষ্টরা।

জয়দীপ মুখার্জির পরিচালনায় ‘নবাব’-এ শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন কলকাতার জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী। এছাড়াও রয়েছেন অমিত হাসান, সব্যসাচী চক্রবর্তী, রজতাভ দত্ত, খরাজ মুখার্জি ও মেঘলা প্রমুখ। বাংলাদেশের হয়ে ছবিটি প্রযোজনা করেছে জাজ মাল্টিমিডিয়া।

টঙ্গী সরকারি কলেজের ছাত্রলীগ সভাপতির কাণ্ড

ঘটনাস্থল গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি কলেজ। ক্যাম্পাসের একটি গাছ থেকে ‘আমরুজ পেড়ে খাওয়া’র অভিযোগে এক ছাত্রীকে পিটিয়েছেন ওই কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী মঞ্জুর। ওই ছাত্রীর নাম লাইজু। তার অভিযোগ, তাকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়। শুধু মঞ্জুরই নন, তার সহযোগীরাও মারধর করেন। ঘটনার শিকার লাইজু থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তবে ঘটনার পর নিজেকে বাঁচাতে ওই ছাত্রলীগ নেতা দাবি করেছেন, তরুণীর সঙ্গে ‘আপসরফা’ হয়ে গেছে। উল্লেখ্য, লাইজু নিজেও ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কর্মী লাইজুকে রোজার ঈদের কয়েক দিন আগে মারধর করার ঘটনাটি ঘটে। এটি সে সময় মোবাইল ফোনে ধারণ করেছিলেন প্রত্যক্ষদর্শী কোনো শিক্ষার্থী। ধারণকৃত ভিডিওচিত্রের একটি কপি এসেছে আমাদের সময়ের হাতে। এতে দেখা যায়, লাইজুকে মারপিট করা হচ্ছে। এর পর কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাইজু বলছেন, কলেজ ক্যাম্পাসের একটি গাছ থেকে ফল পেড়ে খাওয়ার পর আমাকে ডেকে আনেন কাজী মঞ্জুর। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন, তুই কেন ফল খাবি? জবাবে আমি বলি, অন্য শিক্ষার্থীরা তো কলেজের গাছ থেকে ফল পেড়ে খায়। আমিও এই কলেজের ছাত্রী। তাই আমি খেয়েছি। এ কথা বলার পর কাজী মঞ্জুরের ছেলেরা আমাকে মারতে থাকে। তিনিও আমাকে মেরেছেন। আমাকে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়েটিকে ঘটনার বিচার চাইতে দেখা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঘটনার পর লাইজু টঙ্গী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। এ ছাড়া গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের নেতাদের কাছেও অভিযোগ করেন। ঘটনার বেশ কয়েক দিন পর সমঝোতা করা হয়। সম্প্রতি লাইজুকে গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের উপছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক করা হয়েছে।
গত শনিবার এ বিষয়ে কথা হয় ভিকটিম লাইজুর সঙ্গে। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, আমাকে মারধর করা হয়েছিল। তবে বিষয়টির এক ধরনের সমাধান করেছেন সিনিয়র ভাইরা (মহানগর ছাত্রলীগ নেতারা)। আমাকে কারা নির্যাতন করেছিলেন, সেটি টঙ্গী এলাকার সবাই জানেন।
লাইজুকে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে কাজী মঞ্জুর আমাদের সময়কে বলেন, সে (লাইজু) অন্যায় করেছিল। আমি তাকে থাপ্পড় দিয়ে শাসন করেছি।

এ বিষয়ে জানতে কথা হয় গাজীপুর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম দীপের সঙ্গে। তিনি আমাদের সময়কে বলেন, লাইজু আমাদের মহানগর ছাত্রলীগের উপছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক। তার সঙ্গে মঞ্জুর কথা কাটাকাটি হয়েছে। মারামারির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা পরে বিষয়টি মিটমাট করে দিয়েছি।
টঙ্গী থানার ওসি ফিরোজ তালুকদার আমাদের সময়কে বলেন, ছাত্রীকে মারধরের কোনো অভিযোগ নিয়ে কেউ থানায় আসেনি। আমাদের বিষয়টি জানা নেই।

আরও কিছু অন্যায়-অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কাজী মঞ্জুরের বিরুদ্ধে। মাস দেড়েক আগে টঙ্গী এলাকায় তিনজনকে ইয়াবাসহ আটক করে পুলিশ। ‘তদবির’ করে তাদের ছাড়িয়ে এনেছিলেন কাজী মঞ্জুরÑ এমন অভিযোগ রয়েছে। তবে কোনো ইয়াবা ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে কাজী মঞ্জুর বলেন, আটক ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ছাড়িয়ে এনেছি এমন অভিযোগ সঠিক নয়। দৈনিক আমাদের সময়।

প্রতারক স্বামীর খোঁজে কক্সবাজারে সৌদি নারী

সৌদি নারী ইয়াসমিন। সৌদিতেই সংসার পেতেছেন বাংলাদেশি যুবকের সঙ্গে। তাদের ঔরসে জন্ম নেয় ফুটফুটে ৫ সন্তান। স্বামী সিদ্ধান্ত নেন, তারা বাংলাদেশে ফিরে যাবেন এবং বাংলাদেশেই স্থায়ী হবেন। স্বামীর পরামর্শে বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রীও। সেই মতে, বসবাস উপযোগী বাড়ি তৈরি করার কথা বলে দেশে চলে আসেন স্বামী। স্ত্রীও তার জমানো সব অর্থকড়ি স্বামীর হাতে তুলে দেন। আর স্বামী বাংলাদেশে এসেই আরেক নারীর ফাঁদে পড়েন। বিয়েও করেন তাকে। এ খবর শুনে সৌদিতে থাকতে পারেননি স্ত্রী ইয়াসমিন আরা। ৫ সন্তান নিয়ে চলে আসেন বাংলাদেশে। কিন্তু যে স্বামীর আশা ভরসায় এসেছেন, সে স্বামীই দ্বিতীয় স্ত্রীর ভয়ে পালিয়ে থাকছেন স্ত্রী সন্তানদের কাছ থেকে! স্বামীর শ্যাম রাখি না কুল রাখি ভূমিকায় অচেনা মানুষের দেশে চরম অসহায় হয়ে পড়েছেন ইয়াসমিন। যে যেদিকে পথ দেখাচ্ছেন, সেদিকেই দৌড়াচ্ছেন। চোখের পানিকে সাথী করে অবুঝ ৫ সন্তান নিয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তিনি।

গতকাল কক্সবাজার আদালত এলাকায় পরিপাটি স্কুল ড্রেসপরা ১০ থেকে ২ বছর বয়সী ৫ ছেলেমেয়ে নিয়ে অসহায় এক ভদ্র মহিলাকে উৎসুক লোকজন দেখছিলেন। আর সবার দিকে ফেল ফেল করে থাকাচ্ছিলেন তারা। ছেলেমেয়েদের চোখে পানি ছল ছল করছে। ছোট ৩ ছেলেমেয়ে আব্বু, আব্বু করে কান্না করছে। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেল এক হৃদয়বিদারক কাহিনী।

৫ সন্তানের জননী ইয়াসমিন আরা জানান, সৌদি আরবে পারিবারিক শানশওকত ব্যবসা ছেড়ে ৫ সন্তান নিয়ে স্বামীর কাছে এসেছেন। তিনি জানান, পবিত্র মক্কা নগরীতে স্বামী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে ২০০৩ সালের ৭ই এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়। তাদের সুখের সংসারে জন্ম নেয় ৫ সন্তান। এক সময় এসে স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাংলাদেশে স্থায়ী হওয়ার প্রস্তাব দেয় স্বামী। স্বামীর প্রস্তাবে রাজি হন স্ত্রী। বাংলাদেশে বসবাস উপযোগী বাড়ি তৈরি করার কথা বলে সচ্ছল স্ত্রী থেকে বিপুল অর্থকড়ি নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন স্বামী। দেশে এসে নিয়মিত যোগাযোগও রাখেন প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে। বাড়ি নির্মাণকাজের কথা বলে সরলমনা স্ত্রীর কাছ থেকে কয়েক দফায় হাতিয়ে নেন প্রায় অর্ধকোটি টাকা। এদিকে স্বামীর আচরণগত পরিবর্তন, স্ত্রী ছেলেমেয়েদের দিকে অমনোযোগী ও প্রায়শ টাকা চেয়ে বসায় সন্দেহ হয় স্ত্রীর। তিনি স্বামীর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে ইয়াসমিন নিশ্চিত হন, তসলিমা নামের আরেকজনকে বিয়ে করেছেন তার স্বামী। এ খবর শুনে তিনি নিজেকে স্থির রাখতে পারেননি। অবুঝ ৫ সন্তান নিয়ে গত বছরের ৮ই এপ্রিল বাংলাদেশে চলে আসেন।

 

বাংলাদেশে আপনজন বলতে স্বামী ছাড়া কেউই ছিল না তাদের। নতুন পরিবেশে নানান সমস্যা পাড়ি দিয়ে অবশেষে কক্সবাজার পৌঁছান ইয়াসমিন। উঠেন কক্সবাজার শহরের ঐতিহ্যবাহী আবাসিক হোটেল প্যানোয়ায়। সেখানে এসে স্ত্রী সন্তানদের সঙ্গে দেখা করেন স্বামী। স্বামীর পরামর্শে শহরের সিনেমা রোডে বাসা ভাড়া নেন। সে বাসাতেও যাতায়াত ছিল স্বামী মোহাম্মদ আলীর। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই ছন্দপতন ঘটে স্বামীর এ আসা যাওয়ায়। দ্বিতীয় স্ত্রী তসলিমা প্রবাসী স্ত্রীর দেশে ফেরা ও গোপনে ওই স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার ঘটনা জানতে পারেন। তিনিও বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি। তিনি আত্মীয়স্বজন ও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে ইয়াসমিনের ভাড়া বাসায় হানা দেন। প্রথম স্ত্রীকে দুশ্চরিত্রা বলে স্বামীর সামনেই মারধর করেন। শুধু তাই নয়, স্বামীকে টেনেহেঁচড়ে তার দখলে নিয়ে যান। তখন থেকে আর স্বামীর দেখা মিলছে না। এদিকে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে ১লা নভেম্বর ’১৬ তারিখ আদালতে মামলা করেন ইয়াসমিন। এ মামলা দায়েরের পর অব্যাহত হুমকির মুখে গত ৬ই জুলাই কক্সবাজার থানায় একটি সাধারণ ডাইরিও করেছেন তিনি। একদিকে স্বামীর পালিয়ে থাকা, অন্যদিকে দ্বিতীয় স্ত্রীর নির্যাতন, হুমকি, থানা কোর্টে মামলা নিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাছেন ইয়াসমিন। তার কথা একটিই সন্তানরা বাবা ফিরে পেলে আর কিছু চান না তিনি। উৎস : মানবজমিন।

চোখের আলো আর ফিরবে না সিদ্দিকুরের

ভারতের চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন তিতুমীর কলেজের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমানের অস্ত্রোপচারের পরও চোখের আলো ফিরবে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। সোমবার চেন্নাইয়ের শঙ্কর নেত্রালয়ে সিদ্দিকুর রহমানের চোখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন চিকিৎসক লিঙ্গম গোপাল।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক লিঙ্গম গোপাল জানান, অস্ত্রোপচার করেও কিছু হবে না।

ঢাকায় অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমান তার ডান চোখে কোনো আলো দেখছিলেন না। বাঁ চোখে এক দিক থেকে আলো ফেললে আলোর উপস্থিতি টের পাচ্ছিলেন। বাঁ চোখের অবস্থা কি তা জানতেই সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানালেন, অস্ত্রোপচারেও কিছু হবে না।

সিদ্দিকুর রহমানের বন্ধু, সহপাঠী শেখ ফরিদ বলেন, সোমবার বেলা ১টা ৪০ মিনিট থেকে ২টা পর্যন্ত সিদ্দিকুর রহমান ও সঙ্গে থাকা বড় ভাই নায়েব আলীর সঙ্গে মেসেঞ্জারে কথা হয়েছে। অস্ত্রোপচার করেও কিছু হবে না—চিকিৎসক এ কথা জানানোর পর দীর্ঘক্ষণ কক্ষে বসে কান্নাকাটি করেছেন সিদ্দিকুর রহমান। তারা ভেঙে পড়েছেন। সিদ্দিকুর রহমান সবার দোয়া চেয়েছেন বলে জানান শেখ ফরিদ।

সিদ্দিকুরের সঙ্গে আছেন জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল আহসান। তিনি বলেন, রিপোর্ট আর চিকিৎসকের মতামত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সিদ্দিকুরের দুই চোখে অস্ত্রোপচার হয়। এর পরেই ওই হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক ইফতেখার মো. মুনির বলেছিলেন, ‘অস্ত্রোপচারের পর সিদ্দিকুর রহমান তার ডান চোখে কোনো আলো দেখছেন না। বাঁ চোখে এক দিক থেকে আলো ফেললে আলোর উপস্থিতি টের পাচ্ছেন।’ বাঁ চোখের অবস্থা কি তা জানতেই সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকেরা জানালেন, অস্ত্রোপচারেও কিছু হবে না।

সময়সূচিসহ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণার দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে গিয়ে ‘পুলিশের কাঁদানে গ্যাসের শেলের’ আঘাতে সিদ্দিকুরের দুই চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার দিনই সিদ্দিকুরকে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে গত বৃহস্পতিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য সিদ্দিকুরকে চেন্নাইয়ে পাঠানো হয়। সিদ্দিকুরে সঙ্গে যান বড় ভাই নায়েব আলী এবং জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে সহকারী অধ্যাপক জাহিদুল আহসান।

প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মামলা

বিলাসবহুল গাড়িতে ২.১৭ কোটি টাকা শুল্ক ফাঁকি ও সুইস ব্যাংকে ৯৬ হাজার কোটি টাকার অস্বচ্ছ হিসাব দাখিলের অভিযোগে ব্যবসায়ী প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সোমবার গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে এ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জানা গেছে, শুল্ক গোয়েন্দার সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) মো. জাকির হোসেন বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ২৮। মামলাটি শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃক তদন্ত করা হবে।

শুল্ক গোয়েন্দাদের অনুসন্ধানে প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা রেঞ্জ রোভার গাড়ি ভোলা বিআরটিএ-র কতিপয় কর্মকর্তার যোগসাজসে ভূয়া কাগজ দিয়ে রেজিস্ট্রেশন এবং বেনামে অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং এর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়।

প্রিন্স মুসা ১৭ লক্ষ টাকা শুল্ক পরিশোধ দেখিয়ে ভুয়া বিল অব অ্যান্ট্রি প্রদর্শন করে গাড়িটি বেনামে রেজিস্ট্রেশন করেন। কিন্তু শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে দেখা যায়, গাড়িতে ২.১৭ কোটি টাকার শুল্ক করাদি জড়িত।

তবে শুল্ক গোয়েন্দার জিজ্ঞাসাবাদে প্রিন্স মুসা লিখিতভাবে জানান, সুইস ব্যাংকে তার ৯৬ হাজার কোটি টাকা গচ্ছিত আছে। কিন্তু তিনি এই টাকার কোনো ব্যাংক হিসাব বা বৈধ উৎস দেখাননি। কয়েকবার নোটিশ দিলেও তিনি তা জমা দেননি।

প্রিন্স মুসা বিন শমসেরের গুলশানের বাড়িতে শুল্ক গোয়েন্দা অভিযান চালিয়ে গত ২১ মার্চ রেঞ্জ রোভার গাড়িটি আটক করে। গাড়িটি কার্নেট সুবিধায় আনা হয়েছিল। তবে এই সুবিধার অপব্যবহার করে এবং ব্যক্তিগত আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া শুল্ক পরিশোধের কাগজ দিয়ে গাড়িটি তিনি ব্যবহার করছিলেন।

এর আগে শুল্ক গোয়েন্দা এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টম হাউসে শুল্ক ফাঁকির মামলা দায়ের করেছিল। অন্যদিকে, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির সংযোগ থাকায় তা পৃথকভাবে তদন্তের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে দুর্নীতি দমন কমিশনকে অনুরোধ করা হয়েছে।