All posts by lutfor

তারকা ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করছেন কোহলি!

স্পোর্টস ডেস্ক: বিরাট কোহলি উঠতি ক্রিকেটারদের ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছেন। এমনই মারাত্মক অভিযোগ আনা হল ভারতীয় মিডিয়ায়। কোহলির ‘কুনজরে’ পড়েছেন কুলদীপ যাদব। এমনটাই বলা হচ্ছে। এমনিতেই জাদেজা ও অশ্বিনের ‘সৌজন্যে’ জাতীয় দলে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাননা তারকা ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার। তবে সীমিত সুযোগেই নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন তিনি।

আইপিএল-এ কেকেআর-এর জার্সিতে ধারাবাহিক পারফর্ম করেন তিনি। শ্রীলঙ্কা সফরে গিয়ে প্রথম দুই টেস্টে জাদেজা-অশ্বিনের কারণেই প্রথম একাদশে সুযোগ পাননি তিনি। তবে তৃতীয় টেস্টে সুযোগ পেয়েই বাজিমাত করেছেন তিনি। দারুণ পারফর্ম করেছেন।

তার পারফরম্যান্স দেখেই শ্রীলঙ্কায় সীমিত ওভারের সিরিজে রাখা হয়েছে কুলদীপকে। নির্বাচক প্রধান এমএসকে প্রসাদ কুলদীপকে নিয়ে বলতে গিয়ে জানিয়েছেন, ‘‘তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী ফলাফল নিয়ে এখন থেকেই ভাবনা চিন্তা করতে হবে। পরপর অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে খেলতে হবে ভারতকে। তারপর পরবর্তী বিশ্বকাপের জন্য দল সাজাতে হবে। কুলদীপকে তাই সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে।’’

কোহলি যে কুলদীপকে স্কোয়াডে চাননা, এ আর নতুন তথ্য নয়। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, কোহলি কুলদীপকে বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে দলে জায়গা পেতে হলে ফিটনেসের দিকে নজর দিতে হবে। এটাকেই পরোক্ষভাবে হুমকি মনে করছে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট মহল।
কারণ, এর আগে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার সময় উঠতি তারকা সরফরাজ খানকে একই পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। তার পরেই আরসিবি জার্সিতে অনিয়মিত হয়ে পড়েন ধারাবাহিকভাবে রান করে চলা সরফরাজ।

সবথেকে আশঙ্কার বিষয়, এই কুলদীপ যাদবকে দলে নেয়া নিয়েই কুম্বলের সঙ্গে খটাখটির সূত্রপাত। অস্ট্রেলিয়ার ভারত সফরের সময় কুলদীপ ইস্যুতে কুম্বলে-কোহলির এই দ্বন্দ্বই শেষমেষ ভারতীয় ক্রিকেটে সাম্প্রতিককালে সবথেকে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।

রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে জাতি উদ্বিগ্ন : মির্জা ফখরুল

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিলের পর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ করায় জাতি উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা ব্যক্ত করেন।

গতকাল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গতকাল দেখলাম প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং নিজে এ্যাটর্নি জেনারেল এবং আইন মন্ত্রীকে সাথে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গেছেন। ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পরে এভাবে সাক্ষাৎ করায় জাতি উদ্বিগ্ন এবং হতাশ। এরআগেও আমরা দেখেছি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করলেন।

তিনি বলেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের তৎপরতা রাষ্ট্রদ্রোহীতার সামিল। এজন্য ভবিষ্যতে তাদের জনগণের কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে।
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ে পর্যবেক্ষণের কথা উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা এবং দেশের মানুষ মনে করে বর্তমান রাজনীতিতে এ রায়ে যে পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। দেশের মানুষের জন্য, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য এ রায় শুধু যুগোপযোগী নয় ঐতিহাসিক। আমি মনে করি এটি একটি দলিল।
তিনি বলেন, এখানেই আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। সরকার দেখছে যে তাদের পায়ের নিচে মাটি নেই।

আওয়ামী লীগ যে অবৈধভাবে দীর্ঘ দিন শাসন চালিয়ে আসছে তার প্রকাশ ঘটেছে এই রায়ের মধ্য দিয়ে দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, বিচার বিভাগ নিজেরাই বলেছে, সরকার তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে।
সরকারের দেশের রাষ্ট্র ব্যবস্থা নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীনরা একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠা করতে রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি স্তম্ভ শাসন বিভাগ, বিচার বিভাগ, আইন বিভাগকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে।এসময়, এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে দেশের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।

বিএনপির সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের ৯৮ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলটির আয়োজন করে ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ।

পপি এখন উল্টাপাল্টা বকছে, দাবী শাকিল খানের

ঢাকা: নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে নায়িকা হিসেবে ঢাকাই চলচ্চিত্রে যাত্রা করেছিলেন চিত্রনায়িকা সাদিকা পারভীন পপি। এরপর অসংখ্য সিনেমায় অভিনয় করেছেন। তবে চিত্রনায়ক শাকিল খানের সঙ্গে প্রথম ছবিতে অভিনয়ের পরই তারা পরস্পরের প্রেমে পড়ে যান। সেসময় তারা সম্পর্কের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও সম্প্রতি সেসময়ের গুঞ্জন নিয়ে একটি টিভি অনুষ্ঠানে মুখ খুলেছেন চিত্রনায়িকা পপি। সেখানে তিনি শাকিলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিলো বলে জানিয়েছেনও, জানিয়েছেন শাকিলের সঙ্গে কেনো সম্পর্ক ভেঙে গিয়েছিলো সেটাও।

সেইসময় শাকিল খানকে জড়িয়ে পপির প্রেম বিয়ে নিয়েও বেশ রটনা ছিলো মিডিয়ায়। আর এসব বিষয় নিয়ে সম্প্রতি অভিনেতা শাহরিয়ার নাজিম জয়ের টকশো ‘সেন্স অব হিউমার’-এ কথা বলেন পপি। আর সেখানেই অকপটে বললেন সেসময়ে শোবিজ অঙ্গনে শাকিলের সঙ্গে তার প্রেম ও বিয়ের গুঞ্জন নিয়ে।

শাকিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কটাকে ‘ব্যাড এক্সপেরিয়েন্স’ দাবী করে পপি অনুষ্ঠানে জানিয়েছিলেন, শুরুর দিকে একবার একজনের সাথে প্রেম করেছিলাম। ওইটা আমার ব্যাড এক্সপেরিয়েন্স ছিল। এটা আমার বলতে সমস্যা নেই। শাকিলের সঙ্গে আমার প্রেম ছিলো, এটা বলতে বাধা নেই। বিকজ, তখন আমি অনেক ছোট ছিলামই বলা যায়।

শাকিলের সঙ্গে কী কারণে সম্পর্ক টেকেনি? এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতেই পপি বললেন, ‘শাকিল আমার জন্য সঠিক মানুষ ছিল না। আমি যতটুকু জানি শাকিলের অনেকগুলো প্রেম ছিল, অনেকগুলো বিয়েও ছিল। তাদের সাথে সে কমফোর্টেবল ছিল। অনেকের সাথে তার বিয়ে হয়েছে, বাচ্চা হয়েছে, এভাবে অনেকগুলো পর্ব গেছে। আর আমি যখন এ বিষয়গুলো জানতে পেরেছি, তখন আর রিলেশান কন্টিনিউ করেনি।

টিভি অনুষ্ঠানে পপির এমন প্রলাপকে ‘ফালতু’ বলে মন্তব্য করেছেন চিত্রনায়ক শাকিল খান। পপির সঙ্গে সম্পর্কের কথা স্বীকার করলেও পপি তাকে নিয়ে যে কথাগুলো বলেছে এগুলোকে তিনি ‘ব্ল্যাম’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। বরং পপির এমন মন্তব্যে শাকিল উল্টো প্রশ্ন রেখে বলেন, আমার এতো সন্তান, স্ত্রী এরা তাহলে এখন কোথায়? এসব উল্টাপাল্টা কথা, ফালতু বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় আমার নেই।

শাহবাগে ইমরান এইচ সরকারকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগ

রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে পিটিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, জাতীয় জাদুঘরের সামনে বন্যার্তদের জন্য ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের দাবিতে মানববন্ধন করছিলেন ইমরান এইচ সরকারসহ গণজাগরণ মঞ্চের কর্মীরা। মানববন্ধন শেষে ঢাবি জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের একদল নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা হকিস্টিক ও লাঠিসোটা দিয়ে ইমরানসহ বেশ কয়েকজনকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে।

এ প্রসঙ্গে ইমরান এইচ সরকার বলেন, ‘কতিপয় দুষ্কৃতকারী হঠাৎ আমাদের ওপর হামলা চালায়। তারা বলে, কিসের বন্যা দেশে কোনো বন্যা নেই। এই বলে পাথর ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা শুরু করে। আমিসহ আমাদের পাঁচ কর্মী আহত হয়। আমরা মামলা করব। বর্তমানে শাহবাগ থানায় আছি।’

এ প্রসঙ্গে জিয়া হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ লিমন বলেন, ‘ঘটনাস্থলে আমি ছিলাম না। আমি সিনেটে প্রোগ্রামে ছিলাম। তবে যেহেতু ইমরান এইচ সরকার দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে নিয়ে কটূক্তি করেছে সেহেতু সাধারণ শিক্ষার্থীরা এমন করতে পারে।’

বন্ধ হতে পারে ১১৩৫টি কলেজ

মাধ্যমিক পরীক্ষায় ফল খারাপ এবং শিক্ষার্থী ভর্তি না হওয়ায় এক হাজার ১৩৫টি কলেজকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড। সরকার এসব প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন জেলার ৮৭৮টি কলেজ অস্তিত্ব সঙ্কটে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬৯৭টিতে সর্বনিম্ন পাঁচজন থেকে সর্বোচ্চ ২০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। আর ১৮১টি প্রতিষ্ঠান থেকে সর্বনিম্ন পাঁচজন থেকে সর্বোচ্চ ২০ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

এছাড়া ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার ১৮৫টি কলেজে এবার কোনো ছাত্রছাত্রী ভর্তির আবেদন করেনি। বাকি ৭২টি থেকে এবারের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি বলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করবে না আবার শিক্ষার্থী ভর্তি হবে না সেসব প্রতিষ্ঠানের কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সমস্যার কারণে সরকারের নির্দেশে আমরা সম্প্রতি কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছি। এ বছরের তথ্য কয়েকদিন আগে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মতো আমরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।

জানা গেছে, যে ১৮৫টি কলেজে ভর্তির জন্য কেউ আবেদন করেনি। এর মধ্যে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ২৯টি, যশোর বোর্ডের নয়টি, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম বোর্ডের একটি করে, বরিশাল বোর্ডের আটটি, সিলেট বোর্ডের দুটি, দিনাজপুর বোর্ডের ৯০টি, রাজশাহী বোর্ডের ৩৮টি এবং মাদরাসা বোর্ডের সাতটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

তবে কারিগরি বোর্ডে আরও শতাধিক প্রতিষ্ঠান আছে। সেগুলোর সঠিক সংখ্যা এখনও জানা যায়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পরপর দু’বছর (২০১৫ ও ২০১৬ সাল) শূন্য পাসের হার এবং কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি এমন কলেজ ও মাদরাসাগুলোর বিরুদ্ধে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে।

এর মধ্যে গত ১৭ এপ্রিল ৭৯টি কলেজ বন্ধের নোটিশ দিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডকেও একই ধরনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেই হিসেবে এ বছর একই ধরনের অপরাধে চিহ্নিত প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ করে দেয়া হবে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেশকিছু আছে যারা সরকারের কাছ থেকে এমপিও (বেতনবাবদ সরকারি অনুদান পাওয়া) হিসেবে বেতন-ভাতা নেয়। এদের কারণে সরকারের বিনিয়োগ সম্পূর্ণ গচ্চা যাচ্ছে বলে তারা জানান।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, ২০১৫ সালের জুলাই থেকে এ বছরের জুন পর্যন্ত দু’বছরে ৩৮৭টি কলেজ স্থাপন বা স্কুলে কলেজ শাখা খোলার অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

এবার একাদশ শ্রেণিতে সারাদেশে ভর্তি নেয়া হয় এমন কলেজ-মাদরাসা রয়েছে নয় হাজার ১৫৮টি। এর মধ্যে ১৮৫টি কলেজে কেউ ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি। এছাড়া ৬৩টি প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ পাঁচজন করে, ১৩০টিতে ১০ জন, ২১৬টিতে ১৫ জন এবং ২৮৮টিতে সর্বনিম্ন ২০ শিক্ষার্থী আবেদন করেছে।

সারাদেশে নয় হাজার ১৫৮টি কলেজ-মাদরাসা রয়েছে। আসন রয়েছে ২৮ লাখ ৬২ হাজার নয়টি। এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪ লাখ ৩১ হাজার ৭২২ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে ১৩ লাখ ১০ হাজার ৯৪৭ জন। সেই হিসেবে ১৫ লাখ আসনই খালি থাকছে।

মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্যা এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার বোর্ডের অধীনে ছাত্র পায়নি এবং কাউকে পাস করাতে পারেনি এমন প্রতিষ্ঠান আছে ২৬টি। এসব প্রতিষ্ঠানের তালিকা করে অধিদফতরে চিঠি পাঠানো হবে। কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার আগে তাদের শোকজ করা হবে।

নির্বিচারে কলেজ-মাদরাসা খোলার অনুমতি দেয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান এভাবে ছাত্রশূন্য থাকছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। এসব প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের পেছনে রাজনৈতিক বিবেচনাসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা ঘুষ-বাণিজ্য করে অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কাউকে ভোটে আনতে মধ্যস্থতাকারী হব না : সিইসি

রাজনৈতিক দলগুলোকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনার শুধু সংলাপের আয়োজন করবে।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এক সংলাপে এসব কথা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশের গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের দ্বিতীয় দিন ছিল আজ বৃহস্পতিবার। এই সংলাপে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, অর্থাৎ টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা যে ডায়ালগ করব পলিটিক্যাল পার্টির সঙ্গে, সেটাও শুধু ডায়ালগ। তাদের কথা শুনব আর আমাদের কথা তারা শুনবে। এ নিয়ে ওই কে আসবে, না আসবে এ ব্যাপারে আমাদের কোনো ইস্যু থাকবে না।’

এ ছাড়া নির্বাচনকালীন পরিবেশ-পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের বিষয়টি। নির্বাচন কমিশন যদি প্রয়োজন মনে করে, তাহলেই কেবল সেনা মোতায়েন করা হবে বলেও জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘কে চাইবে না চাইবে, তার ওপর নির্ভর হবে না। আমরা পরিবেশ-পরিস্থিতি যদি মনে করি, আমরা তখন দরকার মনে করি, সেনাবাহিনী আসবে এবং যদি দরকার মনে না করি, সেনাবাহিনী আসবে না। সেটা সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিতে হবে।’

সংলাপ শেষে বেরিয়ে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসি নিউজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের তিন ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা শেষ হলো। মূলত প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ নির্বাচন কমিশন আমাদের ডেকেছিলেন গণমাধ্যমের বিভিন্ন যাঁরা ব্যক্তি আছেন, তাঁদের কাছ থেকে শোনার জন্য। মূলত জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে তাঁরা মনে করেন যে আমরা জনগণের কাছাকাছি কাজ করি। ফলে জনগণ কী রকম নির্বাচন চায়, নির্বাচন সুষ্ঠু করার জন্য কী কী করা দরকার এ বিষয়গুলো তাঁরা শুনতে চেয়েছেন। আমরা মূলত যেটা বলেছি যে, সাংবাদিকরা সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনের সংবাদ প্রচারের জন্য কী কী করা যায়।’

এর আগে আজ সকাল সোয়া ১০টার দিকে গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে এই সংলাপ শুরু হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সভাপতিত্বে এ সময় চার নির্বাচন কমিশনারও উপস্থিত ছিলেন।

গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের সঙ্গে ইসির সংলাপে অংশ নেন ২৬ জন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাংবাদিক নেতা। এ সময় তাঁরা সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলেন।

আমাদের মধ্যে কোনো অস্থিরতা নেই : ওবায়দুল কাদের

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমরা লাফা লাফি করছি না। আমাদের মধ্যে কোনো অস্থিরতা নেই। কারণ জনগণ আমাদের ক্ষমতার উৎস। জনগণ ক্ষমতায় রাখতে পারে, জনগণ ক্ষমতা থেকে বিদায় করতে পারে।’

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। সচিবালয় কর্মকর্তা ও কর্মচারী ঐক্য পরিষদ ওই সভার আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যাদের ক্ষমতার উৎস জনগণ নয় তারা একটা ইস্যু পেলেই লাফালাফি করে।’ বিএনপির উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘৮ বছরে ৮ মিনিট রাজপথে থাকতে পারেন না, লজ্জা করে না?’

বিএনপি ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তিন কারণে মন খারাপ বলে মন্তব্য করেছেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘প্রথম কারণ, ষোড়শ সংশোধনী রায়ে নতুন একটি ইস্যু পেয়ে এখান থেকে ফায়দা পাওয়া যাবে ব্যারিস্টার মওদুদ পরামর্শ দেওয়ার পর বিএনপিতে জগাই-মাথাই শুরু হয়ে গেছে। আজকে সেই রঙিন খোয়াবের জমিন ক্রমেই মরুময় হয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় কারণ, গত ১৫ আগস্ট ভোরে আরেকটা ১৫ আগস্ট, আরেকটা একুশে আগস্টের মতো জঙ্গিবাদী হত্যাযজ্ঞ ঘটানোর পরিকল্পনা পণ্ড হওয়ার পর বিএনপির মন খারাপ। ৫০০ লোক হত্যার পরিকল্পনা ছিল। শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল। আল্লাহ রক্ষা করেছেন। তৃতীয় কারণ, জন্মদিবসের কেক, বন্যার্তদের নাম নিয়ে মায়াকান্না দেখাচ্ছেন। আসলে জনগণের অবরুদ্ধতার মুখে কেক কাটতে না পেরে মন খারাপ।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন খারাপ করে এখন রাজনীতির বেপরোয়া ড্রাইভারের মতো হয়ে গেছে বিএনপি। যেকোন সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটাতে পারে। সবাই সতর্ক থাকবেন, সজাগ থাকবেন। আঘাতে আঘাতে আমরা স্তিমিত নই। আমরা বঙ্গবন্ধুর সৈনিক, আমরা এগিয়ে যাব।’

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে কাদের বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন করে কী লাভ হয়েছে? জিয়াউর রহমান যদি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন না করত তাহলে আরেকটি খুনি চক্র জিয়াকে হত্যার দুঃসাহস দেখাত না। যে বুলেট শেখ হাসিনাকে, শেখ রেহানাকে এতিম করেছে। সেই বুলেট খালেদা জিয়াকে বিধবা করেছে। হত্যার রাজনীতি থেকে আপনারাও রেহাই পাননি।’

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের চলমান ভয়াবহ বন্যা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে জানানো, রাষ্ট্রপতির শারীরিক অবস্থার খোজ-খবর নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ষোড়শ সংশোধনীর রায় নিয়ে সরকার ও দলীয় অবস্থান রাষ্ট্রপতিকে জানানো সরকার প্রধান হিসেবে ও দলীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব।’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কে কাকে চাপ দিয়ে কি করছে-এই গুজব কোথা থেকে আসছে? ওই পদের কাউকে চাপ দিয়ে কিছু করানো যাবে? এই কথা বলে তো তাদের ছোট করা হচ্ছে।’

নন ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় উপস্থিত ছিলেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম প্রমুখ।

রোববার দিনাজপুর ও কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে ও ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা দিতে আগামী রোববার (২০ আগস্ট) দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং ও স্থানীয় জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, বন্যার্তদের সহায়তায় দিনাজপুর ও কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বিএনএফ স্কুল প্রাঙ্গণে ত্রাণ বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে, বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে কুড়িগ্রামে। শহরের আশপাশের এলাকায় পানি কমে যাওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন মানুষ। বৃহস্পতিবার সকালে ধরলার পানি ৫৬ সেন্টিমিটার ও চিলমারি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমে বিপদসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

এরআগে বুধবার রাতে বন্যার পানিতে ডুবে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫ জন।

এবারের বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার ৬২টি ইউনিয়নের ৪ লাখ ৬৯ হাজার ২০৮ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪২ হাজার ৩৫১ হেক্টর কৃষি জমি ও ৪৪ কিলোমিটার বাঁধ।

জেলা ত্রাণ শাখা সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮৫২ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ২৩ লাখ ৫ হাজার টাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দিনাজপুরে এবারের ভয়াবহ বন্যায় তলিয়ে গেছে বিপুলসংখ্যক এলাকা। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন দিনাজপুরবাসী।

বন্যায় জেলার ১৩ উপজেলায় ৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৩টি গবাদি পশু হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০৫টি গরু, ১০৭টি মহিষ, ২ লাখ ১ হাজার ৯৩১টি ছাগল এবং ১১ হাজার ৪৭০টি ভেড়া রয়েছে। প্রচণ্ড সংকট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের।

মেয়র আনিসুল হক আইসিইউতে

লন্ডনে অসুস্থ্য হয়ে পড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হককে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। বর্তমানে তিনি লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

প্রায় এক মাস ধরে তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। চার দিন আগে অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাঁকে লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

মেয়রের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান এক মুঠোফোন বার্তায় গণমাধ্যমকর্মীদের এ তথ্য জানান।

ওই বার্তায় বলা হয়, মস্তিষ্কজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। তাঁর এই অসুখ বাংলাদেশে ধরা না পড়লেও তিনি প্রায় দুই মাস যাবৎ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন।

চিকিৎসকেরা তাঁকে স্টেরয়েডসহ বিভিন্ন ওষুধ দিয়েছেন। তিনি এখন আইসিউতে আছেন।

দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে মেয়র দোয়া চেয়েছেন বলেও ওই বার্তায় জানানো হয়।

চিকিৎসকেরা তাঁকে পুরো বিশ্রামে থাকতে ও কথা বলতে নিষেধ করেছেন।

১৭টি জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ২২ লাখ, মৃত ৩৯

দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যায় ২২ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আর বন্যার পানিতে মারা গেছেন ৩৯ জন। এমনটাই জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর।

এ ব্যাপারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজনীন শামীমা জানান, মাঠ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১৮ জেলা তথ্য পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে ১৭টি জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ লাখ ২৮ হাজার ৩১০ জন। বন্যার পানিতে মারা গেছেন ৩৯ জন।

এ ছাড়াও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে দিনাজপুর জেলায়। এ জেলার ১৩টি উপজেলার সবগুলোয় বন্যাকবলিত। এখানে ক্ষতিগ্রস্তের সংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৫৫ জন।

এও জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার নওগাঁর রানীনগর উপজেলার ঘোষগ্রামের বেড়িবাঁধ পানির তোড়ে ভেঙে যায়। এর ফলে প্লাবিত হয় নতুন এলাকা।

এ ছাড়াও কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, রাঙামাটি, নীলফামারী, গাইবান্ধা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, ময়মনসিংহ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ১৬০টি উপজেলার মধ্যে ৯০টি উপজেলা এখন বন্যায় প্লাবিত।

এদিকে আগামী দুই দিন সীমান্তসংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বের কয়েকটি প্রদেশ এবং বাংলাদেশে ভারি বৃষ্টির আভাস থাকায় দেশের উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির শঙ্কা করা হচ্ছে।

উত্তর-উত্তর পূর্বাঞ্চলে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা জানিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল ও বিহারে আগামী দুই দিন ভারি বর্ষণের শঙ্কা রয়েছে। এ সময় দেশের ভেতরও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে। এ অবস্থায় বিরাজমান বন্যার আরও অবনতি হবে।