All posts by lutfor

সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশে নায়করাজ

নায়ক রাজ রাজ্জাক মারা গেছেন ( ইন্নানিল্লাহে…… রাজেউন) চিত্রপরিচালক মনতাজুর রহমান আকবর রাজ্জাকের পরিবারের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তাঁর মরদেহ ইউনাইটেড হাসপাতালে রাখা আছে।

তিনি বলেন, ভর্তি থাকা অবস্থায় আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে ইউনাইটেড হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। রাজ্জাক সাহেবের ছোট ছেলে সম্রাট আমাকে ফোন করে জানিয়েছে। আমরা ইউনাইটেড হাসপাতালের উদ্দেশ্যে যাচ্ছি।

বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তী অভিনেতা রাজ্জাক ‘নায়করাজ’ হিসেবে নামে সুপরিচিত। ষাটের দশকের মাঝের দিকে তিনি চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। ষাটের দশকের বাকি বছরগুলোতে এবং সত্তরের দশকেও তাঁকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।

রাজ্জাক পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতার খানপুর হাইস্কুলে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় স্বরসতী পূজা চলাকালীন সময়ে মঞ্চ নাটকে অভিনয়ের জন্য তার গেম টিচার রবীন্দ্রনাথ চক্রবর্তী তাঁকে বেছে নেন নায়ক অর্থাৎ কেন্দ্রীয় চরিত্রে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে লেখা নাটক বিদ্রোহীতে গ্রামীণ কিশোর চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়েই নায়ক রাজের অভিনয়ে সম্পৃক্ততা।

১৯৯০ সাল পর্যন্ত বেশ দাপটের সাথেই ঢালিউডে সেরা নায়ক হয়ে অভিনয় করেন রাজ্জাক। এর মধ্য দিয়েই তিনি অর্জন করেন নায়করাজ রাজ্জাক খেতাব। অর্জন করেন একাধিক সম্মাননা। এছাড়াও, রাজ্জাক জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের শুভেচ্ছা দূত হিসেবে কাজ করেছেন।

‘পশুর হাট ও চামড়া নিয়ে কোনো নৈরাজ্য হতে দেওয়া হবে না’

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে পশুর হাট ও চামড়া নিয়ে কোনো নৈরাজ্য হতে দেওয়া হবে না বলে জানান ডিএমপি কমিশনার মোঃ আছাদুজ্জামান মিয়া বিপিএম-বার, পিপিএম। কোরবানি পশুর হাটের নিরাপত্তা সংক্রান্তে এক সমন্বয় সভায় এ কথা বলেন তিনি।

আজ সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে ঢাকা মহানগর এলাকায় কোরবানির পশুর হাট সমূহের নিরাপত্তা, মানি এস্কর্ট, জালনোট সনাক্তকরণ, কাঁচা চামড়া ক্রয় বিক্রয়কালে নিরাপত্তা ও অবৈধ পাচার রোধ সংক্রান্তে এক সমন্বয় সভার আয়োজন করা হয়। এবারের ঈদে ঢাকা মহানগরের সিটি করপোরেশনের অনুমোদিত মোট ২৩ টি পশুর হাট বসানো হবে। যার মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩টি ও উত্তর সিটি করপোরেশনে রয়েছে ১০টি পশুর হাট ।

এবারের ঈদ-উল আযহা উপলক্ষে পশুর হাটে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। তার মধ্যে পশুর হাট কেন্দ্রিক, মানি এস্কর্ট ও জালনোট সনাক্তকরণ এবং চামড়া ক্রয়-বিক্রয় ও পাচার রোধ সংক্রান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পশুর হাটের নিরাপত্তা সম্পর্কে ডিএমপি কমিশনার বলেন- আমাদের সবার সাথে সমন্বয় করে একটি সুন্দর কোরবানির পশুর হাটের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা শহরে অনুমোদিত ২৩ টি পশু হাটে থাকবে পুলিশের কঠোর নজরদারি। পশুবাহী ট্রাক যেখানে যেতে চাই তাকে সেখানে যেতে দিতে হবে। কোন অবস্থায় তাকে বাধা দেয়া যাবে না।

এটা সরকারি নির্দেশ। প্রত্যেকটি ট্রাক তার গন্তব্য স্থানের নাম বড় করে ব্যানার বানিয়ে ট্রাকের সামনে ঝুলিয়ে দিবে। কোন ভাবেই এক হাটের পশু অন্য হাটে জোর করে নামানো যাবে না। যদি এমন কেউ করে তাকে চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের অপরাধে আইনের আওতায় আনা হবে। ঈদে পশুর হাট চলবে তিন দিন। ঈদের ৩ দিন আগে কোরবানির হাট ও তার ২ দিন আগে থাকবে প্রস্তুতি।
তিনি বলেন, নির্ধারিত হাসিলের অতিরিক্ত আদায় করা যাবে না। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে মনিটরিং করা হবে। পুলিশের মানি এস্কর্ট ছাড়া কোন নগদ টাকা বহন করা যাবে না। বাহিরের ভ্রাম্যমান দোকান ও হকার হাট এলাকায় ঢুকতে পারবে না। ইজারাদাররা নির্দিষ্ট দোকান ঠিক করে দিবেন এবং পাইকারদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায় করবেন না।

তিনি গরু ব্যবসায়ীদেরকে আহবান জানিয়ে বলেন, প্রত্যেক গরু ব্যবসায়ী নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট খুলবেন। নগদ টাকা পুলিশের সহায়তায় নিজ একাউন্টে জমা করবেন। এতে আপনাদের টাকা নিরাপদে থাকবে।

উক্ত সমন্বয় সভার আলোচনায় আরও উঠে আসে- প্রত্যেক পশুর হাটে থাকবে পর্যাপ্ত সংখ্যক সাদা পোশাকে ও ইউনিফর্মে পুলিশ। ইজারার চৌহদ্দির বাহিরে কোন অননুমোদিত হাট বসতে দেয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের আগে পশুর হাটে পশু আনতে হবে। প্রত্যেক হাটে থাকবে পুলিশের কন্ট্রোল রুম ও ওয়াচ টাওয়ার। পশুর হাটে ও তার আশপাশে জনসচেতনতামূলক ব্যানার দৃশ্যমান স্থানে টানানো ও প্রচার প্রচারণা করতে হবে। জালটাকা সনাক্তকরণের জন্য পুলিশ কন্ট্রোল রুমে থাকবে জালটাকা সনাক্তকরণ মেশিন।

এছাড়াও হাট এলাকায় বসানো হবে সিসি ক্যামেরা । ইজারাদাররা উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন জেনারেটরের ব্যবস্থা নিবেন। হাসিলের হার বড় করে দৃশ্যমান স্থানে টানাতে হবে। হাটের চৌহদ্দি বাঁশ দিয়ে ঘেরাও করে রাখতে হবে। পর্যাপ্ত সংখ্যক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিবেন ইজারাদাররা। যাতে করে হাট ব্যবস্থাপনা সুষ্টু থাকে। কোরবানি পশুর হাটে সিটি করপোরেশন ও ইজারাদার কর্তৃক সার্বক্ষণিক মেডিকেল টিম রাখতে হবে।

চামড়া ক্রয়-বিক্রয় এবং পাচার রোধে যে সমস্ত ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে- কাঁচা চামড়া ক্রয় বিক্রয়ে জন্য ব্যবসায়ীদের নগদ অর্থ বহনে সার্বক্ষণিক থাকবে পুলিশের মানি এস্কর্ট সেবা। কাঁচা চামড়া পাচার রোধে ঢাকা হতে বহিঃগমন পথগুলোতে বসানো হবে চেকপোস্ট ও নদী পথে বাড়ানো হবে নৌ পুলিশের টহল। ঢাকার বাহির থেকে শুধুমাত্র কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে। কোন কাঁচা চামড়াবাহী যানবাহন ঢাকা থেকে বাহিরে যেতে পারবে না। চামড়া ক্রয় বিক্রয়ে যাতে কেউ সিন্ডিকেট তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে রয়েছে কঠোর নজরদারি।

উক্ত সমন্বয় সভায় ডিএমপি’র উর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ গোয়েন্দা সংস্থার ও সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধি, হাট ইজারাদার, চামড়া ব্যবসায়ীসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

– ডিএমপি নিউজ

পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা কিছুতেই সহ্য করব না

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেছেন, সব সহ্য করা যায় কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে, আমরা কিছুতেই সহ্য করব না।

সোমবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সূচনা বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, পাকিস্তানের রায় দেখে কেউ ধমক দেবে- সব সহ্য করা যায় কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করলে এটা আমরা কিছুতেই সহ্য করব না। এক্ষেত্রে জনগণের কাছে বিচার দাবি করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, আজকে কেন পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনা করবে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কেন তুলনা করবে? ওই হুমকি আমাকে দিয়ে লাভ নেই। আমরা আইয়ুব খান দেখেছি, জিয়া, এরশাদ, খালেদা জিয়া…।

তিনি আরো বলেন, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট চুরি করে যে সংসদ সদস্য হয়েছিল তার মধ্যে একজনকে তো খালেদা জিয়া বিচারক বানিয়েছে। কই চিফ জাস্টিস তো তাকে বের করে দেয়নি। খালেদা জিয়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোট চুরি করে দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। জনগণের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করতে হয়েছে বাধ্য হয়েছে। কারণ সে ভোট চুরি করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে তো আন্দোলন করতে গিয়েছিল, বরং জনগণ উল্টো তাদেরকে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের ফলে জনগণই বাধা দিয়ে ঘরে তুলে দিয়েছে।

শেখ হাসিনা দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরো বলেন, যে পাকিস্তানকে আমরা যুদ্ধ করে হারিয়েছি, যে পাকিস্তান ব্যর্থ রাষ্ট্র, আজকে সেই পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের তুলনা কেন করবে? আমরা আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি, আজকে দেশের উন্নয়ন হচ্ছে। আওয়ামী ক্ষমতায় আছে বলেই তো করতে পেরেছি।

তিনি আরো বলেন, সংবিধান লঙ্ঘন করে কেউ ক্ষমতায় এলে সেটাই উন্নয়ন হবে? সেটা হবে না এই বাংলাদেশে। সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে যেটা এখন আছে, কেউ যদি অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করে তাহলে তার বিচার হবে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের আদালতের বিচারই বড় বিচার, সেটাও চিন্তা করতে বলব। ২১ আগস্ট হত্যার চেষ্টা হয়েছে। একবার না বারবার এবং এখনো প্রতি মুহূর্তে থ্রেট আছে। জীবন দেওয়ার মালিক আল্লাহ, নেবার মালিকও আল্লাহ। মাথা নত করে আল্লাহর কাছে সেজদা দেই। আর কারো কাছে মাথা নত করি না।

এই দেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছে। এদেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন করা, এটাই হচ্ছে আমার লক্ষ্য। আমরা প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছি। প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠান যেন ভালভাবে চলতে পারে, সে ব্যবস্থা করে দিয়েছি। স্বাধীনভাবে চলতে পারে সে ব্যবস্থা করে দিয়েছি।

প্রধান বিচারপতির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতা ভাল, তবে তা বালকের জন্য নয় বলে একটা কথা আছে। কাজেই ওই বালকসুলভ আচরণ, এটা আমরা আশা করি না। আমরা চাই, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা থাকুক। আর সেই ধারাবাহিকতা থাকবে আওয়ামী লীগ থাকলে, মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের শক্তি থাকলেও। ওই রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটির মেম্বার, এরা ক্ষমতায় এলে এদেশে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা কোনোদিন ছিল না, থাকবেও না। ২১ বছর এদেশের মানুষ সেই কষ্ট ভোগ করেছে। পুনরায় এই দেশের মানুষ সেই কষ্ট ভোগ করুক তা আমরা চাই না।

জনগণের অধিকার সংরক্ষণ করা, জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন করে তাদের একটা উন্নত মর্যাদাশীল জীবন দেওয়া এটাই আমাদের লক্ষ্য।বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশ একটা মর্যাদা ও সম্মান পেয়েছে। বাংলাদেশ আজকে উন্নয়নের রোল মডেল। কাজেই বাংলাদেশের উন্নয়নের এই গতিধারা অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।

জঙ্গিমুক্ত দেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একুশে আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে সন্ত্রাস ও জঙ্গিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে দেশের সব নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একুশে আগস্টের হামলাকারী, পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা এবং মদদদাতাদের সুষ্ঠু বিচারের মাধ্যমে দেশ থেকে হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের চির অবসান হবে। আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত হবে। এই দিনে এটাই আমার প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে রবিবার দেয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান।

আগামীকাল একুশে আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় দিন। ২০০৪ সালের এ দিনে তৎকালীন বিরোধিদলীয় নেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বিএনপি জামায়াত জোট সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় ঢাকায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আয়োজিত সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদবিরোধী সমাবেশে বর্বরতম গ্রেনেড হামলা চালানো হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, চারিদিকে যখন গ্রেনেড বিস্ফোরিত হচ্ছে, তখন দলের নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীরা মানববর্ম সৃষ্টি করে তাঁকে রক্ষা করেন। তিনি অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেও সন্ত্রাসীদের গ্রেনেড হামলায় বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি বেগম আইভি রহমানসহ ২৪ নেতা-কর্মী নিহত হন। আহত হন পাঁচ শতাধিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক ও নিরাপত্তাকর্মী। অনেকে আজও পঙ্গুত্বের অভিশাপ বহন করছেন। অনেকে দেহে স্প্লিন্টার নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।

তিনি বলেন, এ হামলার মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, শান্তি ও উন্নয়নের ধারাকে স্তব্ধ করে দেয়া। বাংলাদেশকে নেতৃত্বশূন্য করে হত্যা, ষড়যন্ত্র, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দুঃশাসনকে চিরস্থায়ী করা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করাই ছিল এই হামলার উদ্দেশ্য ।

শেখ হাসিনা বলেন , এ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে বিচার করা ছিল সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তা না করে হত্যাকারীদের রক্ষার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করে। হামলাকারীদের পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। অনেক আলামত ধ্বংস করে। তদন্তের নামে এই নৃশংস ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে।

জনগণকে ধোঁকা দিতে ‘জজ মিয়া’ নাটক সাজানোর মতো ঘৃণ্য কাজ করতেও দ্বিধা করেনি তারা জানিয়ে তিনি বলেন, কিন্তু সত্য কখনো চাপা থাকে না। পরবর্তীকালে তদন্তে বেরিয়ে আসে বিএনপি-জামায়াত জোটের অনেক কুশীলব এই হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যখনই ক্ষমতায় থাকে তখনই জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের মদদ দিয়ে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত থাকে। বিএনপি-জামাতের সকল অপচেষ্টা ও ষড়যন্ত্রকে নস্যাৎ করে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জনগণের বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে।

শেখ হাসিনা বলেন,‘২০০৯ সালে দায়িত্ব নেয়ার পর বিশ্বমন্দাসহ নানাবিধ প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে আমরা বাংলাদেশকে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা নিম্ন-মধ্যমআয়ের দেশে উন্নীত হয়েছি। আমাদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই নয়, আওয়ামী লীগ সরকার দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। ‘আমরা জাতির পিতা হত্যার বিচার করে রায় কার্যকর করেছি। দেশ-বিদেশের সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে কুখ্যাত অনেক যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হয়েছে। গত সাড়ে আটবছরে আমাদের সরকার সকল সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিহত করে দেশে শান্তি ও গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে।’

সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বর্তমান সরকার বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হবে বলে শেখ হাসিনা প্রত্যাশা করেন।

প্রধানমন্ত্রী একুশ আগস্টের সকল শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

গরুর মাংসের দাম হবে মাত্র ২৫০ টাকা যদি শুধু…

গরুর হাটে পশুপ্রতি খাজনা নামমাত্র ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে সারা বছরই সর্বোচ্চ ২৫০ টাকা কেজিতে গরুর মাংস সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন রাজধানীর মাংস ব্যবসায়ীরা। আজ শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন আশ্বাস দেন বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম।

তিনি বলেন, পাঁচ-ছয় হাজার টাকা খাজনা দিয়ে গরু কিনে এনে পশুপালনে উন্নয়ন সম্ভব না, অবাস্তব। গাবতলীর গরুর হাটে খাজনা নামমাত্র ১০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে আমরা মাংস ব্যবসায়ীরা আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, সর্বোচ্চ আড়াইশো টাকা কেজিতে সারাবছর গরুর মাংস খাওয়াবো।

রবিউল আলম বলেন, হাটের ইজারাদাররা শর্ত মানে না। গাবতলী পশুর হাটে র্যারব ও পুলিশের ক্যাম্পে গিয়ে অভিযোগ করলেও কোনো সুরাহা পাওয়া যায় না। কারণ ইজারাদার ইজারার শর্ত বাস্তবায়ন করছে কিনা তা দেখার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়নি। আমাদের দাবি, র্যা ব-পুলিশকে এই ক্ষমতা দেওয়া হোক।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ব্যবসায়ীরা বলেছিলেন, গাবতলী হাটের ইজারাদার, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা বেশি টাকা আদায় করছে। দেশের সাধারণ মানুষকে এর মাসুল দিতে হচ্ছে।এ সব সমস্যার সমাধান করলে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৩০০-৩৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ৫০০ টাকায় বিক্রি করা সম্ভব।

তখন রবিউল আলম বলেন, গাবতলী হাটের ইজারাদার, হুন্ডি ব্যবসায়ীরা আমাদের কাছ থেকে বেশি টাকা আদায় করছে। দেশের সাধারণ মানুষকে এর মাসুল দিতে হচ্ছে। এখন ভোক্তাদের থেকে অতিরিক্ত দাম নিয়ে সেই অর্থ ইজারাদার, হুন্ডি ব্যবসায়ীদের দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, আদালতের আদেশ, সিটি কর্পোরেশনের শর্ত কোনো কিছুর তোয়াক্কা করে না গাবতলী গরুর হাটের ইজারাদাররা। মাংস ব্যবসায়ীদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে বিচারের নামে চাঁদাবাজি করছে ইজারাদারদের নিযুক্ত বাহিনী। রাত ১২টার আগে হাট থেকে গরু বের হতে দিচ্ছে না তারা।

রবিউল আলম বলেন, এসব সমস্যার সমাধান করলে কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করা সম্ভব হবে।

জঙ্গিবাদ দমনে পুলিশ বদ্ধপরিকর: আইজিপি

মাদক ও জঙ্গিবাদ সমাজের জন্য ভয়ঙ্কর অভিশাপ বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক এ কে এম শহীদুল হক। তিনি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ দমন ও মাদক নির্মূলে পুলিশ বদ্ধপরিকর। সমাজকে জঙ্গিবাদ ও মাদক থেকে রক্ষার জন্য আমরা কঠোর কার্যক্রম গ্রহণ করেছি।’ শনিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ‘৩৫তম বহিরাগত ক্যাডেট এসআই ২০১৬ ব্যাচের’ প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তিনি পুলিশের জনবল বৃদ্ধিসহ বাংলাদেশ পুলিশকে একটি বিশ্বমানের বাহিনীতে পরিণত করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। তাই পুলিশ বাহিনীকে সেবার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে।’

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসআইদের উদ্দেশে পুলিশ প্রধান বলেন, ‘পুলিশের তদন্তের ওপর ভিত্তি করে অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হবে এবং ভিকটিম তার প্রতিকার পাবে। তাই পুলিশ সদস্যদের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে অপরাধ তদন্ত করতে হবে।’ এসময় তিনি সব লোভের ঊর্ধ্বে থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এসআইদের প্রতি আহ্বান জানান।

পুলিশের প্রধান দায়িত্ব আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা উল্লেখ করে এ কে এম শহীদুল হক বলেন, ‘দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা পুলিশের কাজ। জনগণের সঙ্গে সবসময় ভালো আচরণ করতে হবে পুলিশ সদস্যদের। মনে রাখতে হবে জনগণই পুলিশের প্রকৃত বন্ধু।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে জঙ্গিবাদ, সাইবার ক্রাইম, ট্রান্স-ন্যাশনাল ক্রাইম সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করতে হবে। নিজেদের কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করতে হবে, নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রেখে দেশের স্বার্থে কাজ করতে হবে। এ বছরই প্রথম আনআর্মড কমব্যাট প্রশিক্ষণে অধিক গুরুত্ব দে্ওয়া হয়েছে, যেন তৃণমূল পর্যায়ে আরও দক্ষতা দেখানো সম্ভব হয়।’

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ৩৫ জন নারীসহ ১ হাজার ৩২১ জন বহিরাগত ক্যাডেট এসআই তাদের মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণে বেস্ট একাডেমিক শেখ রাশিদুল হাসান, প্যারেডে তানজির আহমেদ, পিটি ও বাধা অতিক্রমে সুখবিন্দু রায়, মাসকেট্রিতে মাসুদুর রহমান, রাইডিংয়ে মোহাম্মদ আলী শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। বেস্ট ক্যাডেট নির্বাচিত হয়েছেন শেখ রাশিদুল হাসান। অনুষ্ঠানে একাডেমির প্রিন্সিপ্যাল মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, রাজশাহী মেট্রোপলিটন, রেঞ্জ ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থীদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

অবরোধের মধ্যেই ২০২২ বিশ্বকাপের প্রস্তুতি কাতারের

সৌদি জোটের অবরোধের মধ্যেই ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। তবে অবরোধের কারণে কিছুটা সমস্যার কথা জানিয়েছেন ২০২২ বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজক কমিটির প্রধান। খবর অাল জাজিরার।

আল জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান আল থাওয়াদি জানান, আটটি স্টেডিয়াম, ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মেট্রো রেল চালুসহ নানা ধরনের নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

অবরোধের কারণে যে অসুবিধা হচ্ছে, সে কথা মেনে নিতে তিনি বিন্দুমাত্র আপত্তি করেননি। তবে অসুবিধার মধ্যেও কাজ চালিয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা খুব শিগগিরই প্ল্যান বি’র কাজ শুরু করব। সেক্ষেত্রে আমরা কাঁচামাল আমদানির ভিন্ন উপায় খুঁজছি।

প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সমর্থন, অর্থায়ন ও লালন-পালনের অভিযোগে গত ৫ জুন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে সৌদি জোট।

সম্পর্ক ছিন্নের পর কাতারে বিরুদ্ধে আকাশপথ, স্থলবন্দর ও সমুদ্রবন্দর বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে তাদের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে অাসছে দোহা।

‘২০২১ সালে রপ্তানি আয় হবে ৬০ বিলিয়ন ডলার’

বিশেষ প্রতিবেদক :বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনে বাংলাদেশ কাজ করছে। দেশীয় শিল্পের সুরক্ষা দিয়ে বাংলাদেশ আমদানি ও রপ্তানি নীতি গ্রহণ করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ৬০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

‘বাংলাদেশ ইন রিজিওনাল ট্রেড অ্যান্ড কানেকটিভিটি : এ পলিটিকো-ইকোনমিক অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

সিজিএসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এম আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ এম শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন গেস্ট অব অনার প্রাক্তন মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ। আরো বক্তব্য রাখেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের প্রেসিডেন্ট আ স ম আব্দুর রব, এফবিসিসিআইর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট মীর নাসির হোসেন, এনবিআরের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডান্ট্রিজের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আসিফ ইব্রাহীম, অ্যাম্বাসেডর আশফাকুর রহমান, বিআইআইএসএসের প্রেসিডেন্ট মুন্সী ফয়েজ আহমেদ।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ডব্লিউটিওর দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা গ্রহণের জন্য পেপারলেস বাণিজ্যে সক্ষমতা অর্জনের প্রস্তুতি চলছে। শ্রীলঙ্কার সাথে ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) স্বাক্ষর করা হচ্ছে। ডব্লিউটিওর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চীন ও ভারতসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের দেওয়া বাণিজ্য সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক বাণিজ্যের ভলিউম বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ চট্টগ্রাম, মংলা বন্দরের পাশাপাশি পানগাঁও ও পায়রা সমুদ্রবন্দর চালু করেছে। রাস্তাঘাট সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। বৈদেশিক বাণিজ্য বাড়াতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের বিকল্প নেই। বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপাল (বিবিআইএন) এবং বাংলাদেশ, চীন, ভারত ও মিয়ানমার (বিসিআইএম) কানেকটিভিটি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছে বাংলাদেশ।

তোফায়েল আহমেদ বলেন, মোট বিশ্ব বাণিজ্যের মাত্র ৫ ভাগের কম বাণিজ্য হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও চীনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। আমাদের প্রয়োজনেই মেশিনারিজ ও পণ্যের কাঁচামাল সেখান থেকে বেশি আমদানি করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমেরিকা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, চিলি, জাপান, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে বাংলাদেশ বেশি পণ্য রপ্তানি করে থাকে। যেসব দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বেশি তাও বলা উচিৎ। বাংলাদেশ সার্ভিস সেক্টর বাদে গত বছর প্রায় ৩৪ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করেছে। এ বছর ৩৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সার্ভিস সেক্টর মিলে মোট রপ্তানি ধরা হয়েছে ৪১ বিলিয়ন ডলার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ অন্য দেশকে কোনো ধরনের বাণিজ্য সুবিধা দিচ্ছে না। দেশের শিল্প সুরক্ষা দিয়ে বাণিজ্য করছে, এ নীতির ফলে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে সিমেন্ট, রড, পেপার, টিনসহ অনেক পণ্যের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতা অর্জন করেছে। কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ভারত বাংলাদেশের পাটজাত পণ্যের ওপর কাউন্টার ভেলিং ডিউটি আরোপ করেছে। কিন্তু কাঁচা পাট আমদানির ওপর কোনো ডিউটি আরোপ করেনি। বাংলাদেশ সবসময় নিজেদের শিল্পের সুরক্ষা দিচ্ছে। আগামী ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে।

বার্সেলোনায় হামলা,নিহত ৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্পেনের বার্সেলোনার একটি পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের ভিড়ের মধ্যে চলন্ত গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, তারা এ ঘটনাকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, ভিড়ে ভ্যান চালিয়ে কয়েকজনকে আঘাতের পর চালক হেঁটে পালিয়ে গেছে। এছাড়া ওই এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে লোকজনকে জিম্মি করে রেখেছে দুই বন্দুকধারী। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের এ হামলায় অন্তত চার জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।

টুইটারে বার্সেলোনা পুলিশ জানিয়েছে, বড় ধরনের হতাহতের আশঙ্কা রয়েছে। ঘটনাস্থল প্ল্যাকা কাতালুনিয়া এলাকায় মানুষকে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। স্থানীয় মেট্রো ও রেলস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, এলাকাটিতে অনেক পর্যটক চলাফেরা করেন। ভ্যান ভিড়ের মধ্যে চালিয়ে দেওয়ার ফলে আতঙ্কিত মানুষেরা কাছের দোকান ও ক্যাফেগুলোতে আশ্রয় নিয়েছেন।

বার্সেলোনায় বসবাসকারী ২০ বছরের একজন শিক্ষার্থী মার্ক এসপার্সিয়া। তিনি জানান, বেশ জোরে একটি শব্দ শোনা যায়। এরপর মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটতে শুরু করেন। অনেক মানুষ, অনেক পরিবার উপস্থিত ছিলেন। এটি বার্সেলোনার অন্যতম পর্যটন এলাকা। আমার কাছে মনে হচ্ছে, অনেকেই আহত হয়েছেন।

এখনও পর্যন্ত ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়নি। ২০১৬ সালের জুলাই থেকে ইউরোপজুড়ে ভিড়ের মধ্যে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করা হয়েছে। ফ্রান্সের নিস, জার্মানির বার্লিন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও সুইডেনের স্টকহোমে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি।

২৭ বছর পর ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দিচ্ছে সৌদি

২৭ বছর পর ইরাকের সঙ্গে আরার সীমান্ত খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ১৯৯০ সালের পর এর আগে কখনও এই সীমান্ত পুরোপুরি খোলা হয়নি। গত ২৭ বছরে হজ¦ যাত্রী আসা-যাওয়ার জন্য সৌদি-ইরাক সীমান্তের কেবলমাত্র একটি দরজা খুলে দেয়া হতো।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কুয়েতে ইরাকের আগ্রাসনের পর থেকে এই সীমান্ত আর ব্যবহার করেনি দুই দেশ। প্রসঙ্গত, ২৫ বছর পর ২০১৫ সালে সৌদি আরব বাগদাদে তাদের দূতাবাস চালু করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-যুবাইর বাগদাদ সফরে যান। সম্প্রতি আরার সীমান্ত পরিদর্শনে গিয়েছিলেন দুই দেশের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ইরাকের সঙ্গে যৌথ বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সৌদি মন্ত্রিসভা সীমান্ত খুলে দেওয়ার ব্যাপারে সোমবার এই সিদ্ধান্ত নেয়।

ইরাকের আনবার প্রদেশের গভর্নর সোহাইব আল-রাঈ বলেন, আরারে সীমান্ত খুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তারা নিরাপত্তা জোরদার করেছেন। এই পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নে মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ইরাক ও সৌদি আরবের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের জন্য এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’ আল জাজিরা।