All posts by lutfor

সৌদির ১ কোটি চাকরি বিদেশিদের দখলে!

মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশ সৌদি আরবের মোট শ্রমশক্তির সবচেয়ে বড় অংশটাই বিদেশি। বেশ কয়েকটি সূত্রের বরাতে আল-আরাবিয়া জানায়, সৌদির মোট শ্রমশক্তির এক কোটি বিদেশিদের দখলে।

বিদেশিদের মধ্যে আছে ভারতীয়, পাকিস্তানি, মিশরীয়, ইয়েমেনি ও বাংলাদেশি। দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১২ লাখ।

এছাড়া ৩০ লাখ শ্রমিক নিয়ে শীর্ষে আছে ভারত। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের চিরশত্রু পাকিস্তান। পাকিস্তানের শ্রমিকের সংখ্যা ২৫ লাখ। এছাড়া মিশরীয় আছে ২২ লাখ আর ইয়েমেনির সংখ্যা ১৪ লাখ।

দেশটির শ্রমশক্তি জরিপে দেখা যায়, ২০১৭ এর প্রথমাংশে সৌদিতে কর্মরত বিদেশি শ্রমিকের সংখ্যা ১ কোটি ৮৫ হাজার।

সৌদি আরবে মোট কর্মজীবীর সংখ্যা ১ কোটি ৩৮ লাখ ৮৯ হাজার ১৩৭ জন। তার মানে, দেশটির শ্রমশক্তিতে সৌদি নাগরিকদের সংখ্যা মাত্র ৩৮ লাখ।

ডিজিটাল যুগে কোনও তথ্যই আর গোপন নয়, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

আপনার অনলাইন তথ্য কতটা সুরক্ষিত? প্রতি দিন বেড়ে চলা সাইবার ক্রাইমের ঘটনায় প্রশ্নটা মনে ঘুরপাক খেতে শুরু করেছে নিশ্চয়ই। কিঞ্চিত্ কপালে ভাঁজও পড়েছে। সাইবার হানা ঠেকানোর জন্য নানা রকম উপায়ও বের হচ্ছে। কিন্তু হ্যাকাররা ঠিক বিকল্প পথ খুঁজে বের করে নিচ্ছে সঙ্গে সঙ্গে। রূপ বদলে হামলা চালাচ্ছে।

গত মে মাসেই যে ভাবে ওয়ানাক্রাই র‌্যানসমওয়্যার এবং তার পর পরই পেটিয়া ভাইরাস হামলা চালিয়েছিল বিশ্বের শতাধিক দেশে, এর পর আপনার দেওয়া অনলাইন তথ্য কতটা সুরক্ষিত প্রশ্ন থেকেই যায়। যেমন, ভারতে আধার কার্ডের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া নিয়ে নানা রকম তথ্য উঠে আসছিল মাঝেমধ্যেই। তীব্র প্রতিবাদও হয়েছিল এই যুক্তিতে যে, এই বায়োমেট্রিক সিস্টেমে সাধারণ নাগরিকের কোনও তথ্যই নাকি গোপন থাকবে না! সরকার অবশ্য নাগরিকদের তথ্য গোপন রাখার নিশ্চয়তা দিয়েছে। কিন্তু এর পরেও কি অনলাইন তথ্য ফাঁস হওয়া আটকানো যাবে? প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

পিরিয়ড চলাকালীন কি প্রেগন্যান্ট হওয়া সম্ভব?

মাত্র দেড় বছর হল বিয়ে হয়েছে। এখনই সন্তান চাননি পরী আর রোকন। কোনও ভাবে অসাবধানও হননি তারা। পিরিয়ডের সময়টা সেক্সের জন্য নিরাপদ ভেবেছিল ওরা। অধিকাংশ দম্পতিই যেমন ভেবে থাকেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও এমনটা হল কী ভাবে? প্রায় দেড় মাস অপেক্ষা করেও পিরিয়ড না হওয়ায় পরী জানতে পারে সে পাঁচ সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট। ব্যস্ত জীবনে আমাদের সাহায্য করতে ফিমেল কন্ডোম, বার্থ কন্ট্রোল পিলের মতো বহু সুবিধা থাকলেও সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোলের ডেটা জানাচ্ছে, ৪৯ শতাংশ প্রেগন্যান্সিই এখনও অপরিকল্পিত। মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না থাকার জন্যই এমনটা হয়ে থাকে।

মেনস্ট্রুয়েশন, ওভিউলেশন ও প্রেগন্যান্সি সাধারণ ভাবে আমরা ধরে নিই যে মেনস্ট্রুয়েশন সাইকেল চলাকালীন প্রেগন্যান্ট হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পিরিয়ডের সময় জরায়ুর লাইনিং ভেঙে যাওয়ার কারণে রক্তপাত হয়। তাই আমরা ধরে নিই ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বানু এখনও নিঃসৃত হয়নি। চিকিৎসকরা কিন্তু বলেন, এই সময়ও ডিম্বাণু সক্রিয় থাকতে পারে। তাই পিরিয়ডের সময়ে ইন্টারকোর্সের ক্ষেত্রে খুব সামান্য হলেও ডিম্বাণু নিষিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকেই যায়। কনসিভ করার চেষ্টা করছেন? যদি কনসিভ করার চেষ্টা করেন তা হলে জেনে রাখা ভাল, পিরিয়ডের আশেপাশের দিনগুলোতে ফার্টিলাইজেশনের সম্ভাবনা খুব বেশি থাকে না। এই সময় ডিম্বাণু অত বেশি সক্রিয় থাকে না। যদি প্রেগন্যান্সি এড়িয়ে চলতে চান এ ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময়টা নিরাপদ হলেও সামান্য ঝুঁকি থেকেই যায়। যে ভুলগুলো হতে পারে অনেক ক্ষেত্রে ওভিউলেশনের সময় হালকা রক্তপাত হয়ে থাকে।

একে মিড-সাইকেল বা ওভিউলেটরি ব্লিডিং বলে। অনেক সময়ই যা পিরিয়ড বলে ভুল করে থাকি আমরা। এ ক্ষেত্রে কিন্তু পিরিয়ড হচ্ছে তাই আপনি নিরাপদ ভেবে সেক্স করলেই বিপদে পড়বেন। এই সময়টা সাইকেলের সবচেয়ে উর্বর সময়। কী ভাবে দিন সম্পর্কে নিশ্চিত হবেন নিজের সাইকেল বুঝুন মেনস্ট্রুয়াল সাইকেল সাধারণ ভাবে ২১-৩৫ দিনের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ওভিউলেশনের আগের সময়টা ১৩-২০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত ওভিউলেশনের ১৪-১৬ দিনের মধ্যে পিরিয়ড হয়। তাপমাত্রা ওভিউলেশনের তিন দিন আগে থেকে শরীরের তাপমাত্রা একটু বেড়ে যায়। পিরিয়ডের পর আস্তে আস্তে কমে যায়।

এই তাপমাত্রার পরিবর্তন এতটাই সূক্ষ্ম হয়ে যে শুধুমাত্র বিশেষ থার্মোমিটারেই তা ধরা পড়ে। ০.৪-০.৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বাড়ে তাপমাত্রা। তাপমাত্রা যখন সবচেয়ে বেড়ে যায় তার ২-৩ দিন আগে থেকে তাপমাত্রা নামতে থাকার ১২-২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত গর্ভধারণের সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে। সার্ভাইকাল মিউকাস সার্ভাইকাল মিউকাস খেয়াল করলেও বুঝতে পারবেন কখন আপনার গর্ভধারণের সেরা সময়।

যখন সবচেয়ে পরিষ্কার, পিচ্ছিল, ডিমের সাদা অংশের মতো হবে, বুঝতে হবে তখন আপনার শরীর সবচেয়ে উর্বর। ওভিউলেশনের ৪-১১ দিনের মধ্যে মিউকাস আবার ঘোলাতে ও চটচটে হতে শুরু করে। পিরিয়ড ডেট চার্ট যদি আপনার সাইকেল ছোট হয় তা হলে পিরিয়ডের দিন থেকে ১৮ দিন বাদ দিন। সেই দিনটাই আপনার সবচেয়ে উর্বর দিন। এই ভাবেই পরের উর্বর দিন বুঝে নিন ও ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রাখুন। যদি লম্বা সাইকেল হয় তা হলে একই ভাবে ১১ দিন বাদ দিন। সেই অনুযায়ী বুঝে যাবেন আপনার পরবর্তী উর্বর দিন।

চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১শ’ মরিচ খেয়ে যা হল যুবকের!

ইন্ডিয়ান, মোগলাই, চাইনিজ থেকে ইটালিয়ান, জাপানিজ– খাবার যাই হোক না কেন যেখানে ঝাল সেখানেই স্বাদ। যারা ঝাল খেতে ভালবাসেন, তারাই এর কদর জানেন।

কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভাল নয়। ঝাল তো একদমই নয়। এই শিক্ষা হাতেনাতে পেলেন ইন্দোনেশিয়ার এক ভিডিও ব্লগার ওরফে ভ্লগার। তিনি ঝাল খাওয়ার ফল পেলেন হাতেনাতে।
ভিডিও ব্লগার হওয়ার সুবাদে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেন সুমাদিভিরিয়ার। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর সারা জীবন মনে থাকবে। কী করেছিলেন এই ভ্লগার? চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১০০টি ঝাল বার্ড’স আই চিলি সম্বলিত নুডলস খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। আর ঝালের চোটে হয়ে গিয়েছিলেন বধির। টানা দু’মিনিট এমন অবস্থা ছিল তাঁর। কানে কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না ইন্দোনেশিয়ার ওই যুবক। ঝাল সইতে না পেরে শেষে পুরো মাথাই ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে দেন। তখন কিছুটা রেহাই মেলে। তারও কিছুক্ষণ পরে সব ঠিক হয়।

কিন্তু কেন এমনটা হল বেনের? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মুখগহ্বরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কান ও নাক। ঝালের চোটে যেমন নাক দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, তেমনই কানও বন্ধ হয়ে যেতে পারে সাময়িকভাবে। ঠিক ঠাণ্ডা লাগলে যেমনটা হয়। আর বেন খেয়েছিলেন ১০০টি বার্ড’স আই চিলি সম্বলিত নুডলস। যা বিশ্বের অন্যতম ঝাল লঙ্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।

হালাপিনোর থেকেও ৪৫ গুণ বেশি ঝাল। সে কারণেই তাঁর এমন অবস্থা হয়েছে। আর অতিরিক্ত ঝাল খেয়ে মুখগহ্বরের পাশাপাশি খাদ্যনালী ঝলসে যাওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝালপ্রিয় খাদ্যরসিকদের একটু সাবধানে চলার পরামর্শই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর কেউ মানুন আর না মানুন, বেন তো এবার থেকে এই পরমর্শ নিশ্চয়ই মেনে চলবেন!

উপমহাদেশে শিল্পকলার উন্নয়ন : মুঘল সম্রাটদের ভূমিকা

বিশ্ব শিল্পের ইতিহাসে মুঘল শিল্পের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। মুঘল মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র চিত্র বিশ্বের বিস্ময়। ক্যালিগ্রাফি চিত্রের ক্ষেত্রেও সুখ্যাতি পৃথিবীজুড়্ আের এসবের মূলে রয়েছে মুঘল সম্রাটদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সহযোগিতা। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বাবর স্বল্প সময় রাজত্ব করলেও এবং মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত ততটা পাকাপোক্ত করতে না পারলেও শিল্পকলার উন্নয়ন যে তখন থেকেই শুরু হয়েছে তা বিভিন্ন চিত্রে স্পষ্ট। ভোজসভা বা ভোজ উৎসবে সম্রাট বাবর নামক চিত্র এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। মূলত মুঘল সম্রাটগণ তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্য এবং সভাসদদের কর্মকাণ্ডের চিত্র আঁকিয়ে নিতেন শিল্পীদের দিয়ে। এ জন্য শিল্পী নিয়োগ দেয়া হতো এবং তাদেরকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা হতো রাষ্ট্রীয়ভাবে। মুঘল সাম্রাজ্যের বিখ্যাত পণ্ডিত বা ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার গ্রন্থ আইন-ই-আকবরিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেছেন। তিনি লিখেছেন- সম্রাট আকবর শিল্পকর্ম নির্মাণের জন্য এক শ’ চিত্রশিল্পীকে তার দরবারে নিয়োগ দিয়েছিলেন, যারা পারস্যের দু’জন শিল্পী মীর সৈয়দ আলী এবং আব্দুস সামাদের অধীনে কাজ করতেন। ফলে সম্রাট আকবরের সময়কালে এসব শিল্পীর মাধ্যমে ভারতীয় এবং ইসলামিক ধারার সংমিশ্রণে বিশেষ ধরনের এক নবধারার শিল্পের সৃষ্টি হয়। যাকে মুঘল ধারা বা মুঘল ঐতিহ্যের শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নতুনভাবে সৃষ্ট এই মুঘল ঐতিহ্যের চিত্রকর্মে ঐশ্বরিক বা আধ্যাত্মিকতার অনুভূতি যেমন স্পষ্ট, তেমনি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। সম্রাট আকবর চেয়েছেন শিল্পী অঙ্কিত চিত্রে একজন দর্শক যেন পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা এবং ইসলামের নীতি আদর্শের সন্ধান লাভ করতে সক্ষম হন। সম্রাট আকবরের এই ইচ্ছার প্রতিফলন যাতে চিত্রের সর্বত্র প্রকাশিত হয় সে চেষ্টাই করতেন দরবারের শিল্পীরা।
সম্রাট আকবরের মুক্তমনা বৈপ্লবিক চিন্তাচেতনা এবং নীতি আদর্শ গোড়া ধর্মীয় ধ্যান ধারণার পরিবর্তে উদারতার শিক্ষার প্রবর্তন করে জীবনের সব ক্ষেত্রে। ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার গ্রন্থ আইন-ই-আকবরিতে উল্লেখ করেছেন যে, সম্রাট আকবর একদিন এক জনসমাবেশে যারা চিত্রাঙ্কনকে নিরুৎসাহিত করেন, অনুমোদনহীন বলেন তাদের এ বক্তব্যকে যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বরং বলেন যে, শিল্পীরা চিত্রকর্ম করতে গিয়ে নিজ ক্ষমতা এবং বুদ্ধির সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করে লজ্জিত হন এবং মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করেন। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের কথা অনুভব করেন। এভাবেই শিল্পীরা আল্লাহর প্রতি অনুগত হন। সম্রাট আকবর আরো বলেন, শিল্পী যখন চিত্র চর্চা করেন তখন তিনি কোনো কিছুর আকার, আকৃতি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা কর্ম নিয়ে ভাবেন, সেভাবেই কাজ করেন, কিন্তু তার পরেও তারা মহান সৃষ্টিকর্তার মতো রূপারোপ করতে না পারার বিষয়টি মর্মে উপলব্ধি করেন এবং সেই সাথে সেগুলোতে জীবন দান করার অক্ষমতার কথাও ভাবেন। এভাবেই শিল্পীরা তাদের চিত্রকর্মের মাধ্যমে আল্লাহ এবং তার অসীম ক্ষমতার কথা বারবার স্মরণ করেন।

সম্রাট আকবার চিত্রকর্মকে ভাষা হিসেবে গণ্য করতেন। তাই তিনি চিত্রের মাধ্যমে বিষয় উপস্থাপনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে বিশাল গ্রন্থে অসংখ্য কাহিনী ও বক্তব্য প্রধান চিত্তাকর্ষক চিত্রের সমাহার ঘটেছে। যেমন দাস্তান-ই-আমির হামজা, আকবরনামা প্রভৃতি। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য শিল্পী এসব হস্তলিখিত গ্রন্থ (ম্যানস্ক্রিপ্ট) অলঙ্করণের কাজ করতেন। দাস্তান-ই-আমির হামজার চিত্রাঙ্কনের কাজ সম্পন্ন করতে একদল শিল্পীর সময় লেগেছে ১৫ বছর। হস্তলিখিত এ গ্রন্থে ১৪০০ চিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। এসব চিত্রে নানা ধরনের কাহিনী বিধৃত হয়েছে। যেসব চিত্র দর্শনেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাহিনী বা গল্পের বক্তব্য। আকবরনামার একটি চিত্রের নাম ‘সম্রাট আকবরের হরিণ শিকার’। কোনো এক পাহাড়ি জঙ্গলে সম্রাট আকবর তার পরিবারের সদস্য ও অসংখ্য অনুচরদের নিয়ে হরিণ শিকারে ব্যস্ত। সম্রাটসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট। অনেকেই বন্দুক-বল্লম হাতে হরিণকে তাড়া করছেন। ভীত সন্ত্রস্ত হরিণ সম্মুখ পানে ছুটে চলেছে। কোথাও বা সিংহ হরিণ ভক্ষণে ব্যস্ত। সম্রাট আকবর একটি হরিণকে লক্ষ করে ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছেন। হরিণের সঙ্গে জঙ্গলের অন্যান্য ছোট বড় জীবজন্তুও ছুটছে প্রাণ বাঁচাতে। সব মিলে অপূর্ব শিকার দৃশ্যের চিত্র। এ চিত্রে কে কোথায় কী ভূমিকা পালন করছেন তা স্পষ্ট। এ চিত্রের বিষয় অনুধাবন করতে গ্রন্থে লেখা কোনো কাহিনী পড়ার প্রয়োজন পড়ে না। চিত্র দেখেই বোঝা যায়, চিত্র দেখেই অনুধাবন করা যায় ঘটনার পরম্পরা। কারণ প্রতিটি চিত্রে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র এবং গুরুত্বহীন বিষয়কেও এতটাই গুরুত্ব দিয়ে তুরে ধরা হয়েছে যে, যেকোনো অক্ষর জ্ঞানহীন দর্শকও চিত্রে কী ঘটছে তা স্পষ্টরূপে অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। শিল্পীরা কখনো কোনোরূপ সমস্যা অনুভব না করার কারণেই এতটা সূক্ষ্মভাবে প্রতিটি চিত্র অঙ্কন করতে সক্ষম হয়েছেন। সক্ষম হয়েছেন সম্রাটদের অকৃপণ উদারতার কারণে।

সম্রাট আকবর যে, শুধু ইসলামি চিত্রকলা নিয়েই ভেবেছেন তা নয়, তিনি হিন্দু ধর্ম নিয়েও ভেবেছেন এবং সে বিষয়েও চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গ্রন্থ ‘রজম-নামা’ অর্থাৎ মহাভারতের চিত্রাঙ্কনেরও ব্যবস্থা করেছেন। রজম-নামাতে ১৬৯টি দৃষ্টিনন্দন চিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। এই গ্রন্থের কাজ সম্পন্ন হয় ১৫৮৯ সালে। শিল্পী দাসোয়ন্তের নেতৃত্বে একদল শিল্পী এ কাজ সম্পন্ন করেন। কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সম্রাট আকবর চার লাখ রুপি শিল্পীদের প্রদান করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

সম্রাট আকবরের আর এক স্মরণীয় কীর্তির নাম ‘আকবর-নামা’। আকবর-নামা মূলত আকবরকে নিয়ে রচিত হস্তলিখিত (ম্যানস্ক্রিপ্ট) গ্রন্থ। গ্রন্থে সম্রাট আকবরের প্রশাস্তি গাওয়া হয়েছে। সম্রাট আকবরের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বলা যায় সম্রাট আকবরের শাসনকালের পুরো ঘটনা এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। আর এসব ঘটনার বর্ণনা করতে অসংখ্য শিল্পী অপূর্ব সুন্দর চিত্র এঁকেছেন। এ গ্রন্থে মুঘল সাম্রাজ্যের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্রাট আকবর ১৫৭৪ এ এক রেকর্ড অফিস স্থাপন করেন এবং তার দরবারের অভিজ্ঞ প্রবীণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করেন। ঐতিহাসিক পণ্ডিত আবুল ফজল এ গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি এ গ্রন্থের প্রথম অংশ সম্পন্ন করে ১৫৯৬ সালে সম্রাট আকবরের হাতে অর্পণ করেন। সম্রাট আকবর এ গ্রন্থ রচনার সময় নিজেও খোঁজখবর রাখতেন। গ্রন্থের চিত্রগুলো কতটা সম্পন্ন হলো, চিত্রগুলো কেমন হলো, কী হওয়া উচিত, ইত্যাকার বিষয়ে শিল্পীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিতেন। পণ্ডিত আবুল ফজল সম্রাট আকবরের পরামর্শ কিংবা দিকনির্দেশনার কতটা বাস্তবায়ন হলো সে বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে সম্রাট আকবরকে জানাতেন এবং গ্রন্থের অংশগুলো উপস্থাপন করতেন। এসব তথ্য লাভের পর সম্রাট নিজে এসব বিষয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন এবং চিত্রের নান্দনিক বিষয়ে এবং রঙ প্রয়োগের যৌক্তিকতা বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। ফলে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীসহ সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সব কাজ সম্পন্ন করতেন। সম্রাট আকবর তার সময়কালে ২৪ হাজার ম্যানস্ক্রিপ্ট সংগ্রহ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন। এসব ম্যানস্ক্রিপ্টের প্রতিটি সুন্দরভাবে লিখিত এবং অলঙ্কৃত ছিল। এসব ম্যানস্ক্রিপ্টের মধ্যে ছিল সম্রাটের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং সভাসদদের বিষয়ে বর্ণনামূলক অ্যালবাম। অ্যালবামের চিত্রগুলো চির বাস্তবধর্মী এবং জীবন্ত। চিত্রগুলোতে যৌবনদীপ্ত অভিব্যক্তি এবং নান্দনিক বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হতো। চিত্রের ব্যক্তির শরীরী সৌন্দর্য, উচ্চতা এবং অনুপাতকে গুরুত্ব দিয়ে অঙ্কন করা হতো। মাথার চুল এবং দাড়িও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিত্রিত হতো। যাতে কোনোরূপ অস্বাভাবিকতার কারণে ব্যক্তিবিশেষের চেহারার বিকৃতি না ঘটে। ফলে চিত্রগুলো জীবন্ত ও প্রাণবন্ত। হয়েছে যথাযথ এবং রসসিক্ত।

সম্রাট আকবর স্বর্ণ মুদ্রা প্রবর্তন এবং মুদ্রায় ক্যালিগ্রাফি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। সম্রাট আকবর চিত্রকর্মের ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি গুরুত্ব দিয়েছেন স্বর্ণমুদ্রার ক্ষেত্রেও। এসব মুদ্রা বিভিন্ন আকৃতির হতো। গোলাকার, বর্গাকার, আয়তাকার। এ ছাড়াও এক ধরনের মুদ্রা হতো যাকে মেহরাবি মুদ্রা বলা হয়। মুদ্রা প্রচলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সম্রাটদের নাম অমর করে রাখা। এ জন্য মুদ্রায় সম্রাটদের নাম খোদাই করা থাকত। এ ছাড়া চার খলিফা আবু বকর, ওমর, ওসমান এবং আলীর নামসংবলিত মুদ্রার প্রচলনও ছিল সে সময়। পবিত্র কুরআনের আয়াত অর্থাৎ কালেমার সাহায্যেও সুন্দর ক্যালিগ্রাফি সৃষ্টি করা হতো। কোনো রাজ্য কিংবা দেশ, শহর কিংবা দুর্গ দখল করলেও সেই বিজয় উপলক্ষেও নতুন নতুন মুদ্রার প্রচলন করা হতো। যাতে লতাপাতা-ফুল এবং পাখির চিত্র থাকত। এর অপর প্রান্তে থাকত সন, তারিখ এবং টাঁকশালের নাম। অপূর্ব সুন্দর হতো এসব মুদ্রা।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণকারী সম্রাট আকবর সর্বক্ষেত্রে মুঘল সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠা করার কারণে তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীরকে মুঘল সাম্রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনোরূপ বেগ পেতে হয়নি। ফলে তিনি শিল্প সংস্কৃতির উন্নয়নে মনোনিবেশ করার যথেষ্ট সময় এবং সুযোগ পেয়েছিলেন। বাবার মতো তিনিও অত্যন্ত শিল্পানুরাগী সম্রাট ছিলেন। ফলে চিত্রকলার উন্নয়নে শিল্পীদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিত্রকর্ম ইরানের প্রভাবমুক্ত হয়ে পুরোমাত্রায় মুঘল ধারায় রূপান্তরিত হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্যালিগ্রাফি চিত্রের ব্যাপক প্রচলন করেন এবং ইসলামি শিল্পকলারও উন্নয়ন ঘটান।

ম্যানস্ক্রিপ্ট এবং প্রতিকৃতি চিত্রের যেমন উন্নয়ন সাধন করেন, তেমনি দেয়াল চিত্রেরও প্রচলন করেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। সম্রাট জাহাঙ্গীর তার প্রাসাদের দেয়ালে শিল্পীদের দ্বারা চিত্রাঙ্কন করিয়েছিলেন। রাজপুত্র হিসেবে জাহাঙ্গীর তার বাবা সম্রাট আকবরের শিল্পীদের ওয়ার্কশপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে বাবার আদর্শে যেমন নিজেকে গড়ে তুলেছেন, তেমনি শিল্পীদের প্রতিও অধিক শ্রদ্ধাশীল হতে পেরেছিলেন। শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি শিল্পীদের মূল্যায়নও করেছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত শিল্পী হিসেবে ইরানের শিল্পী আগা রেজাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি দক্ষ শিল্পীদের পুরস্কৃত বা সম্মানিত করতেন। তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরি স্বার্থকভাবে অলঙ্কৃত করার জন্য তিনি শিল্পী আবুল হাসানকে সম্মানিত করেছেন।

বাজপাখি মুঘল সম্রাটদের অতি প্রিয় পাখি। সম্রাট জাহাঙ্গীর এই পাখি খুব পছন্দ করতেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর পারস্য দেশ থেকে একটি বাজপাখি সংগ্রহ করেছিলেন। এই বাজপাখির সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, এই পাখির রঙ এতই মনোমুগ্ধকর, এতই সুন্দর যে, ভাষায় তা প্রকাশ করা যায় না। বাজপাখির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর তার প্রিয় শিল্পী মনসুরকে সেই বাজপাখির চিত্র আঁকতে বলেন। সম্রাটের নির্দেশ পেয়ে তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বাজপাখির চিত্র এঁকেছিলেন। অপূর্ব সুন্দর হয়েছিল। পাখির চিত্রটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে। শিল্পী মনসুর অসংখ্য পাখির চিত্র এঁকেছেন। কারণ সম্রাট জাহাঙ্গীর পশুপাখি খুব পছন্দ করতেন। তিনি পছন্দ করতেন বলেই শিল্পী মনসুরকে দিয়ে সেগুলোর চিত্র আঁকিয়ে নিতেন। সাদা বক, তুর্কি মোরগ, হরিণসহ বহু চিত্র এঁকেছেন মনসুর এবং এসব চিত্র এঁকে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে তার প্রচেষ্টায় মুঘল শিল্পকলার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ে মুঘল শিল্পের সুখ্যাতি। মুঘল সম্রাটদের প্রায় সবাই শিল্পকলার উন্নয়নে কমবেশি সহযোগিতা করেছেন।

কে বড় পণ্ডিত(গল্প)

শালবনের কিনারা ঘেঁষে সারি সারি দাঁড়িয়ে আছে অনেকগুলো কাঁঠালগাছ। গাছভরা কাঁঠাল। একটি গাছের একটি কাঁঠাল আগাম পেকেছে। ম-ম গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে।
বিকেল বেলায় একটি খ্যাঁকশিয়াল শালবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় টের পেল পাকা কাঁঠালের গন্ধ। কাঁঠাল-খিদেয় পেট তার চোঁ চোঁ করে উঠল। লোভী চোখে তাকিয়ে ভাবল—কাঁঠাল পাকলে খ্যাঁকশিয়ালের কী! যেমন বেল পাকলে কাকের কী!

না না! কাককে তো সে এ বছরই বেল খেতে দেখেছে! কোথায়, কোথায়! হ্যাঁ, মনে পড়েছে। সেবার একটি গাছপাকা বেল বাতাসে টুপুস করে শক্ত মাটিতে পড়েই ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছিল। সেই বেল খেয়েছিল কাকটি। এমন কোনো সুযোগ কী আছে পাকা কাঁঠালের ক্ষেত্রে? অবশ্য কাঁঠালের বোঁটা যা শক্ত! পেকে-পচে কাঁঠালের কোয়া-ভুচরা মাটিতে পড়ে যেতে পারে, তবুও বোঁটাটা ছিঁড়বে না। ভাবতে ভাবতে তার চোখ আটকে গেল পাকা কাঁঠালের ওপর—কাঁঠালের মুখে ছিদ্র করার চেষ্টা করছে দুটো পুঁচকে কাঠবিড়ালি! তাই তো! যে ডালের আগায় পেকেছে কাঁঠাল, সেটা তো বলতে গেলে মাটির দিকেই নেমেছে। চেষ্টা করলে ওই গাছে তো ওঠা যায়! ভাবতে না ভাবতেই দৌড় দিয়ে সে কাঁঠালগাছটার গোড়ায় গেল। বেশ কসরত করে কিছুটা ওঠার পর দিব্যি হেঁটে হেঁটে নুয়ে পড়া ডাল হয়ে পৌঁছে গেল পাকা কাঁঠালটির কাছে। কাঠবিড়ালি দুটো ছিদ্র প্রায় করেই ফেলেছিল, খ্যাঁকশিয়াল দেখে ভয়ে ওরা পালিয়ে গেল। খ্যাঁকশিয়াল উবু হয়ে শুয়ে প্রথমে ছিদ্র করল কাঁঠালটার মুখের কাছে, তারপরে মজা করে খেতে শুরু করল মধুর রসে ভরা কোয়া। নিচের দিকে তাকিয়ে ভয় অবশ্য করছে অল্প অল্প। মাটি থেকে ১০ ফুট উঁচু তো হবেই। কাঁঠালগাছের মালিক যদি এসে পড়ে, লাফ দিতে হবে। হাড্ডিগুড্ডি ভেঙেও যেতে পারে! তা যাক। কতকাল যে পাকা কাঁঠাল খায় না সে!

শালবনের ভেতর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে এল একটা ধাড়ি পাতিশিয়াল, প্রচণ্ড খেপে হাঁক দিল, ‘ব্যাটা পুঁচকে খ্যাঁকশিয়াল! সাহস তো কম নয় তোর? রোজ সকাল-বিকেল এসে আমি দেখে যাই কাঁঠাল পাকল কি না! আর তুই কিনা আমার সেই কাঁঠাল গিলছিস গাছে চড়ে! ব্যাটা খেকু, তোর আজ ঘাড় মটকাব।’

খ্যাঁকশিয়াল তার কাশফুলের মতো ঝোপালো লেজটি নিচের দিকে ঝুলিয়ে দিয়ে বলল, ‘ওরে পাতু! তুই আমার এই লেজটারও কিছু করতি পারবিনে।’
পাতিশিয়াল খেপে একেবারে কাই হয়ে চিত্কার দিল, ‘খেকুরে! বেশি খ্যাঁক খ্যাঁক করলি কিন্তু আমি এখনই দূরের ওই গেরস্থ বাড়ির সামনে গিয়ে ‘হুক্কা হুয়া’ ডাক শুরু করব। অমনি ওই বাড়ির বাঘা বাঘা কুকুরগুলো ধাওয়া করবে আমাকে। আমি দৌড়ে এই কাঁঠালতলায় এসে দেখিয়ে দেব তোকে। বুঝবি তখন ঠ্যালা!’

এবার খ্যাঁকশিয়ালটি ‘খ্যাঁক খ্যাঁক’ শব্দে হাসতে শুরু করল। মুখ থেকে ছিটকে বেরোল কাঁঠালের একটি বিচি, পড়ল গিয়ে পাতি শিয়ালটির নাকের ডগায়। তারপরে হাসতে হাসতেই বলল, ‘বোকা পাতুরে! কী বুদ্ধি তোর! বাঘা কুকুররা বুঝি তোকে ছেড়ে দেবে! তুই যেমন গাছে চড়তে পারিসনে, তেমনি কুকুরও গাছে চড়তে পারে না। ডেকে আন তোর দোস্তদের।’

পাতিশিয়াল এবার কাকুতি ভরা কণ্ঠে বলল, ‘তুই না আমার জাতভাই! একাই খাবি? আমাকেও দে না দু-পাঁচটা কোয়া। অত বড় কাঁঠালটা তুই তো আর একা খেয়ে শেষ করতে পারবিনে। পাশের ওই বড় বড় কাঁঠাল দুটোও তো মনে হচ্ছে পেকেছে। দে না ছোট ভাই।’

খেকু এবার সোজা হয়ে ডান থাবা বাড়িয়ে পরখ করল বাকি দুটো কাঁঠাল। তারপর বলল, ‘এ দুটো ভালো করে পাকবে আজ রাতেই। কাল সকালে আমি আমার তিন ছেলেমেয়ে ও তাদের মাকে নিয়ে আসব। গাছে চড়ে মজা করে কাঁঠাল খাব। এটুকু বলে মুখ থেকে একটা বিচি নিচের দিকে ছুড়ে দিয়ে বলল, ‘নে পাতু, কাঁঠালের বিচি গিলে খা। বিচিতে ভাইটামিন আছে।’

বিচিটা কপালের মধ্যিখানে পড়তেই খেপে একেবারে আগুন হয়ে পাতু বলল, ‘পণ্ডিতের সঙ্গে ফাজলামো! জানিস, আমার মাথার খুলির মধ্যে আছে ৬৪ রকমের বুদ্ধি! শিয়াল পণ্ডিত আমি!’

বিচি ফেলে আরেকটি কোয়া গলার ভেতরে চালান করে বলল এবার খেকু, ‘তুই আমার কচু করবি। আসল পণ্ডিত হলাম আমি।’
পাতু বলল, ‘যুগ যুগ ধরে আমিই শিয়াল পণ্ডিত। তুই আবার পণ্ডিত হলি কবে?’

‘আরে মূর্খ পাতু, বইটই তো পড়িসনি জীবনে, যাসনি পাঠশালায়, জানিস না ইতিহাস-ভূগোল। আমাদের পাঠশালায় পড়ে কত কুমিরছানা-মুরগিছানা-ছাগলছানা মানুষ হয়ে গেল! তা ঈশপের নাম শুনেছিস তো, মূর্খ!’

পাতু এবার প্রচণ্ড আক্রোশে দুটো লাফ দিয়ে চিত্কার করে বলল, ‘ওই ব্যাটা ঈশপই তো মূর্খ। মূর্খ না হলে সে সিংহকে বনের রাজা বলে! তোর মতো ইঁদুরমুখো খেকুদের বলে পণ্ডিত! ছ্যা, ছ্যা!’

‘গায়ের জোরে কিন্তু ইতিহাস বদলানো যায় না। ঈশপ হচ্ছে একটা দলিল।’

‘দলিল না ছেঁড়া কাঁথা! ঝড়ে ছেঁড়া কলার পাতা! আরে বোকা খেকু, ওই ঈশপ ব্যাটা তো জীবনে সুন্দরবনের বাঘ দেখেনি, পাতিশিয়ালও দেখেনি। দেখেছে ইঁদুরমুখো খেকুদের আর গরুলেজা-ঘোড়াকেশী সিংহদের। আরে, আমাদের সুন্দরবনের বাঘ দেখলে তো ঈশপ মাথা ঘুরে পড়ে যেত! “মহারাজ” খেতাব দিত বাঘকে। আমাকে খেতাব দিত “মহাপণ্ডিত”!’

খেকু আবারও হাসল খ্যাঁক খ্যাঁক করে। বলল, ‘তা কে বড় পণ্ডিত, প্রমাণ তো তুই দেখতেই পাচ্ছিস! আমি গাছে বসে আরামে কাঁঠাল খাচ্ছি। আর তুই জিভে লালা ঝরাচ্ছিস।’
‘আমি কিন্তু গরু-ছাগলের দড়ি দাঁতে কাটতে পারি। মানুষের মাটির ঘরে সিঁদ কাটতে পারি। তুই কি পারবি ওই কাঁঠালের বোঁটা কাটতে? দেখি তোর দাঁতের ধার!’
‘পারব না মানে! দ্যাখ তবে!’ বলেই খেকু প্রবল জেদে দাঁত দিয়ে কেটে দিল আধখাওয়া কাঁঠালটির বোঁটা। প্রচণ্ড শব্দে কাঁঠালটি পড়ল তলায়। পাতু কিন্তু চুপচাপ দাঁড়িয়েই বলল, ‘ওরে ও খেকু। জীবনে আমি ৩০ বার গরু-ছাগলের দড়ি কেটেছি। তুই অন্তত তিনটি কাঁঠালের বোঁটা কেটে দেখা! তাহলে শুধু আমি কেন, বাংলাদেশের শিয়ালসমাজ তোকেই পণ্ডিত বলে মেনে নেবে। আমাদের ছেলেমেয়েদের তোর স্কুলে পাঠাবে।’

অমনি খেকু জিদ দেখিয়ে অন্য দুটি পাকা কাঁঠালের বোঁটাও কেটে দিল। পড়ল তলায়। এতক্ষণে পাতু ঘাড়-মাথা উঁচিয়ে গলা ছেড়ে ডাকতে শুরু করল হুক্কা হুয়া! দেখতে না দেখতে শালবনের মাটির তলার সুড়ঙ্গ থেকে বেরিয়ে এল ছানাপোনাসহ এক ডজন শিয়াল। দৌড়ে এসে সবাই মিলে পাকা কাঁঠাল ভেঙে খেতে শুরু করল হুটোপুটি করে।

‘কমেন্টের আগে ভাবো আমিও তো কারও বোন, কারও মেয়ে…’

গেল রোজার ঈদে মুক্তি পাওয়া ‘বস টু’ সিনেমার একটি গান নিয়ে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েন অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। ‘আল্লাহ মেহেরবান’ শিরোনামে এটি ছিল একটি আইটেম গান। এতে ফারিয়া পারফর্ম করেছেন কলকাতার নায়ক জিৎ-এর সঙ্গে। গানটিতে খোলামেলা পোশাক আর আবেদনময়ী নাচের কারণে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।

পরে অবশ্য গানটি ইউটিউব থেকে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেয় আদালত। এসব নিয়ে বিভিন্ন সময় নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেছেন ফারিয়া। ভক্তদের উদ্দেশ্যে আবারও নিজের অবস্থানটাও পরিস্কার করলেন এই নায়িকা।

বন্ধু ও ভক্তদের প্রশংসা করে ফারিয়া বলেন, আমাকে নিয়ে নানা সমালোচনা হচ্ছে। আমি কখনোই আমার সমালোচকদের হিট ব্যাক করবো না। কারণ আজ যে নুসরাত ফারিয়া আপনার সামনে বসে কথা বলছে, এটা শুধু তাদের কারণেই সম্ভব হয়েছে। তারা একটা আরজেকে সিনেমা কর, সিনেমা কর, সিনেমা কর বলে আজকে মুভি করিয়েছে। তাই আজ আমি যা, তার জন্য আমি আমার ফ্যানদের কাছে দায়বদ্ধ।

ফারিয়া আরো বলেন, ‘আমি হয়তো অস্ট্রেলিয়া চলে যেতাম, পড়াশোনা করতাম বা অন্যকিছু একটা। আমি ফ্যানদের একটা কথাই বলবো। তোমরা আমাকে বানিয়েছো, তোমাদেরই দায়িত্ব আমাকে মনিটর করা। তবে আমাকে নিয়ে কমেন্ট করার আগে যদি ভাবো আমিও তো কারও বোন, কারও মেয়ে…।’

সদ্যোজাত কন্যাকে কুরিয়ারের মাধ্যমে অনাথ আশ্রমে পাঠাল ‘মা’! (ভিডিও)

আমাদের মতো দেশসহ বিদেশেও এই ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিংবা সেই উপায় না থাকলে, নবজাতক কন্যা সন্তানের জায়গা হয় নোংরা-আবর্জনা, ডাস্টবিন কিংবা অনাথ আশ্রম।

সেরকমই আরও একটি ঘটনা সামনে এল সম্প্রতি, যেখানে সদ্যোজাত কন্যা সন্তানকে অনাথ আশ্রমেও নিয়ে যেতে রাজি হয়নি তার মা। নিজের হাতেই আপন শিশুকন্যাকে প্লাস্টিকে মুড়ে কুরিয়ার করে অনাথ আশ্রমে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে সেই মায়ের বিরুদ্ধে।

শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই ঘটেছে ভারতের প্রতিবেশী দেশ চীনে। তবে শিশুর কান্নার আওয়াজ পেয়ে তাকে উদ্ধার করেছে কুরিয়ার সংস্থার এক কর্মী। খবর দেওয়া হয় পুলিশেও। গোটা ঘটনার ভিডিওটি সম্প্রতি সামনে এসেছে, যেখানে কালো প্লাস্টিক থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে শিশুটিকে। সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল।

জানা গেছে, চীনের ফিঝোউ প্রদেশের ২৪ বছর বয়সের এক নারী নিজের কন্যাসন্তানকে মানুষ করতে চাননি। পাঠাতে চেয়েছিলেন অনাথ আশ্রমে। আর তাই একটি কালো প্লাস্টিকে মুড়ে একটি কুরিয়ার সংস্থা মারফত সেই নবজাতককে পাঠিয়েছিলেন ফিঝোউ চিলড্রেন্স ওয়েলফেয়ার ইনস্টিটিউশন নামে ওই অনাথ আশ্রমে। এমনকী ডেলিভারি নেওয়ার সময় কুরিয়ার সংস্থার কর্মীকে প্যাকেটটি খুলতেও মানা করেছিলেন তিনি।

এরপর অনাথ আশ্রমে সেই প্যাকেটবন্দি শিশুটিকে পৌঁছে দেওয়ার সময় কান্নার আওয়াজ শুনতে পান সংস্থার কর্মী। এরপরই কৌতূহলবশত প্লাস্টিক খুলে দেখেন তাতে রয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে জন্মানো এক শিশু। এরপরই তিনি পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। শিশুটির শারীরিক অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল।

বাংলাদেশী যুবকের প্রেমের টানে ব্রিটিশ তরুণী বাংলাদেশে!

মেয়েটির নাম ক্যাটরিনা স্যান্ড্রা (কাসা)। সে পোল্যান্ডের অধিবাসি। থাকে লন্ডনে। চাকুরী করে। বাবা নেই মারা গেছেন। মা আছেন পোল্যান্ডে।
ছেলেটি আমাদের এই সবুজের দেশ বাংলাদেশের ছেলে। নাম শামীম আহম্মদ। বাড়ী রাজারবাগ। বাবা সরকারী চাকুরীজীবী। শামীম অনেক চেষ্টা করে লন্ডনে পড়তে গিয়েছিলো।

সেখানে পড়ালেখা করে বাবা কে সাহায্য করার জন্য লুকিয়ে চাকুরী করতো কিন্তু এইভাবে লুকিয়ে কতদিন? এর ভিতরেই তার সাথে এফবি তে পরিচয় হয় কাসার সাথে। তারা শুধুই বন্ধু, কেউ কাউকেই দেখেনি।

এদিকে শামীমের জন্য লন্ডনে এইভাবে লুকিয়ে থাকা বিনা চাকুরীতে আর সম্ভব হচ্ছিলো না তাই সে দেশে ফেরার জন্য ওখানকার পুলিশের কাছে ধরা দেয়।
কাসা দুইদিন শামীমের খবর না পেয়ে খুঁজতে থাকে। এক সময় কাসা পৌছে যায় শামী (শামী কাসার দেয়া নাম) যেখানে থাকতো সেইখানে জানতে পারে সব। এর পর কাসা ছুটে যায় জেলখানায় শামী র কাছে।

কাসা শামী কে বলে, তুমি কি আমাকে তোমার ফ্রেন্ড ভাবলে এক রকম আর যদি তোমার জীবনে জড়াতে চাও তাহলে আলাদা। শামী বলে তার মা বাবা আছেন উনারা যা বলবেন তাই হবে। শামী র কথা শুনে কাসা মুগ্ধ হয় কারন এখনো আমরা মা বাবাকে প্রাধান্য দেয়।

কাসা শামী র বাবার সাথে কথা বললে বাবা বলেন যাতে শামীমের ভালো হবে তাই করুক। এরপর কাসার চেষ্টা তে শামী কে দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কথা ছিলো কাসা বাংলাদেশে আসবে ১.৭.১৭ তে। কিন্তু সে আসেনি তাই সবাই ধরে নেই আসবে না সে আর।

কিন্তু গত ৫.৮.১৭ বিকেল ৪ টায় কাসা বাংলাদেশে চলে আসে। পারিবারিক বিভিন্ন সমস্যার কারনে কাসা কে নিয়ে আমাদের বাসায় এসে শামীমের সাথে কাসার বিয়ে হয় গতকাল ৬.৮.১৭ ইং রাত ১১.৪৫ টাতে। বিয়ের আগে কাসা নিজের ইচ্ছায় মুসলমান হয়। চলে যাবে আগামী ১৬.৮.১৭ ইং।

দেশে গিয়ে সে সেখান থেকে শামীর কাগজ রেডি করে আগামী নভেম্বরে এসে শামীম কে নিয়ে যাবে। আপনারা সবাই এই নতুন দম্পতীর জন্য দোয়া করবেন প্লিজ । তারা যেন জীবনে সুখি হয়।

দশ হাজারের বেশি কোরবানির স্পট নির্ধারণ

কোরবানির পশু জবাই ও বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে এ বছর ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী পরিবেশ দূষণরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারাদেশে দশ হাজারেরও বেশি কোরবানির স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে স্থানীয়রা তাদের কোরবানির পশু জবাই করবেন।

রাস্তাঘাট ও উন্মুক্তস্থানে পশু জবাই নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাড়ির আঙিনা এবং নির্ধারিত স্পট ছাড়া আর কোথাও কোরবানি করা যাবে না। এ উদ্দেশ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণসহ ব্যাপক প্রচারণা কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা শহরে দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের প্রস্ততি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জবাইখানায় কোরবানি করা হলে পরবর্তী ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে বর্জ্য অপসারণ সম্ভব হবে। নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোরবানির পশু জবাই না করার জন্য এবং যেখানে সেখানে কোরবানির বর্জ্য না ফেলার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

বুধবার আসন্ন কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সভায় এসব বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানানো হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তথ্যসচিব মরতুজা আহমদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান তথ্য অফিসার কামরুন নাহার, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মহাপরিচালক মো. আবদুল হালিম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম, এটিসিও’র পরিচালক ফারজানা মুন্নী, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উভয় সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা জানান, দ্রুততম সময়ের মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণে তারা ব্যাপক প্রস্ততি নেওয়া হয়েছে। বিগত দুই বছরে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হবে না।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে ইতিমধ্যে ৫টি করে জবাইখানা নির্ধারণ করা হয়েছে। দক্ষিণের প্রতিনিধি জানান, দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মোট ৬২৫টি জবাইখানা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যসচিব মরতুজা আহমদ নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোরবানির পশু জবাই না করার জন্য নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য মাইকিং, ইমামদের মাধ্যমে প্রচার, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপক প্রচারের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান।