=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.


শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

চলে গেলেন সেই মা

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
সেপ্টেম্বর ১, ২০১৭
news-image

সন্তানদের অবহেলায় গোয়ালঘরে থাকা সেই মা মারা গেছেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার মরিয়ম নেছা (৯০) বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট সকালে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে মারা যান।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীরা তরফদার এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত রোগে মরিয়ম নেছা মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেজপাটুলি গ্রামের মরিয়ম নেছার স্বামী ২০ বছর আগে মারা যান। দাম্পত্য জীবনে তারা তিন ছেলের অধিকারী হয়েছেন। ছোটবেলায় নিজে না খেয়ে যে সন্তানদের খাইয়ে বড় করেছেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই সন্তানরা মাকে দুমুঠো ভাত দিতেন না।

ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের শেষ বয়সে হাতে তুলে নিতে হয়ে ভিক্ষার ঝুলি। মানুষের বাড়িতেও কাজ করেছেন অনেকদিন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়ার মত ক্ষমতা না থাকলে তার ঠাঁই হয়েছিল নিজের জন্ম দেয়া ছেলের গোয়ালঘরে। গত মে মাসে গোয়ালঘরে থাকা অবস্থায় রাতে শিয়াল তার শরীরে কামড় দেয়। এ খবর জানাজানি হলে গত ২৮ মে সারা দেশে খবরটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সাংসদ মোসলেম উদ্দিন এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ মরিয়ম নেছাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাদের উদ্যোগে মরিয়ম নেছাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে তাদের সন্তানেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। চিকিৎসা শেষে আবারও তাকে তার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন মরিয়ম নেছার ভরণপোষণের ভার নিয়েছিল। বৃহস্পতিবার মরিয়ম নেছা তার মেজ ছেলে মারফত আলীর বাড়িতে ছিলেন।

মায়ের মৃত্যুর পর মারফত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে মা মারা গেছেন। আমরা আমাদের ভুলের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আল্লাহর কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করে। আপনার সবাই মা এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন।