All posts by lutfor

শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতিতে উড়বে মার্কিন যুদ্ধবিমান

আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে উত্তর কোরিয়া যখন একের পর এক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে ঠিক তখনই সামরিক ক্ষেত্রে বিপ্লব আনতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র। শব্দের চেয়েও পাঁচগুণ গতি বা এককথায় বুলেটের থেকেও দ্রুত উড়তে সক্ষম এমনই এক হাইপারসনিক জেট তৈরি করতে যাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

স্থানীয় সংবাদসংস্থা সূত্রে খবর অনুযায়ী, ২০২৩ সাল নাগাদ ওই চালকবিহীন পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমানটি পরীক্ষামূলক উড়ানের জন্য তৈরি হবে। জানা গেছে, ২০১৩ সালে হওয়া পরীক্ষামূলক হাইপারসনিক যুদ্ধবিমান ‘এক্স-৫১এ ওয়েভরাইডার’ এর মডেলের ওপর ভিত্তি করেই তৈরি করা হবে যা বুলেটের থেকেও দ্রুত গতিতে যাবে বলে আশা বিজ্ঞানীদের।

খবরে প্রকাশ, দু’বছর আগের সেই পরীক্ষায় ওয়েভরাইডার ওড়ার ৬ মিনিটের মধ্যেই ম্যাক ৫.১ (ম্যাক হল শব্দের গতি) গতি তুলেছিল। অর্থাৎ শব্দের ৫ গুণ গতি তুলতে সমর্থ হয়েছিল ওই বিমান। পূর্ব-পরিকল্পনা অনুসারে, পরে সেটিকে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপর ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

এখন সেই প্রযুক্তিগত উন্নতি ঘটিয়ে নতুন বিমানটি তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন বায়ুসেনার মুখ্য ইঞ্জিনিয়ার মিকা এন্ডস্লে। এত উচ্চ গতি সম্পন্ন বিমানের কাঠামো কেমন হবে, এখন সেই নিয়ে গবেষণা করছে মার্কিন বিমানসেনা ও সে দেশের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা, সংক্ষেপে ডার্পা।

৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। অবশিষ্ট বর্জ্যও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হবে। এ কাজ চলমান।

রোববার দুপুর দুইটায় উত্তর সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন এ কথা বলেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে দুই সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, কোরবানির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা দিয়েছিলাম। ঘোষিত সময়ের মধ্যে ৯০ শতাংশ বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। অবশিষ্ট বর্জ্যও দ্রুত সময়ের মধ্যে অপসারণ করা হবে।

‘পছন্দের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পায়তারা করছে সরকার’-রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘সরকার রাষ্ট্রপতিকে ব্যবহার সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ প্রয়োগ ও সংশোধনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

রবিবার নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এই অভিযোগ করেন।রিজভী বলেন, ‘এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবরও প্রকাশিত হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের অধীনে নিয়ে শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রাধীন করা। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা ও সাবেক দুইজন বিচারপতি যেভাবে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, তাতে দেশ ও দেশের বাইরে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি দারুণ ভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।’

বেগম জিয়ার কাছ থেকে নির্বাচনী ফতোয়া নয়: ইনু

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়ার কাছ থেকে নির্বাচনের ফতোয়া নয়, রাজাকার ও খুনীদের বর্জন করবেন কিনা সেটা জানতে চাই।

জাসদ সভাপতি ইনু বেগম জিয়ার উদ্দেশে বলেন, আপনি দেশে ফিরে নির্বাচনী পরিকল্পনা দিন, তবে তার আগে আপনাকে একাত্তরের খুনি, ‘৭৫’র খুনি ও রাজাকারদের সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন কিনা তা জানাতে হবে।

আজ রবিবার সকালে তার নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বুরাপাড়া মিটন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

ইনু বলেন, আগুনে মানুষ পোড়ানোর জন্য বেগম খালেদা জিয়ার মাফ চাওয়ার কোন জায়গা নেই। তিনি বিচারের সম্মুখীন হবেন।

কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাক আহম্মেদ, জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান, মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মহাম্মদ আব্দুল্লাহসহ দলীয় নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। -বাসস

মিটিং করতে দেয় না, ওয়াজ-মাহফিলও করতে দেয় না: ফখরুল

আন্দোলন করা নিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকার তাদের কোথাও মিটিং করতে দেয় না। এমনকি ওয়াজ-মাহফিলও করতে দেয় না। এই সরকার জনগণের বিপক্ষে চলে গেছে। জনগণের বিপক্ষে যাওয়া সরকার কোনো দিনই টিকে থাকতে পারবে না।

আজ রোববার বেলা ১২টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভেলাজান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত ছাত্র গণসমাবেশ ও ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। ভেলাজান ইউনিয়ন ছাত্রদল আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা ও সদর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ দেশের অনেক ক্ষতি আপনারা করেছেন। আর ক্ষতি না করে, জনগণের অধিকারকে কেড়ে না নিয়ে আপনারা আসুন আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কীভাবে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন করা যায় তার ব্যবস্থা করেন। আমরা বসতে রাজি আছি। আমরা বারবার বসার কথা বলছি। আসুন, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতার মাধ্যমে আমরা সব ঠিক করি। ওনারা রাজি না, কারণ বসলেই ছাড় দিতে হবে। ছাড় দিলেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। আর সেই নির্বাচন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দিলেই ওদেরকে ছেড়ে চলে যেতে হবে বঙ্গোসাগরের দূরবর্তী পথে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘৫ জানুয়ারির যেমন নির্বাচন বর্জন করেছিলেন, ঠিক তেমনি আগামী দিনের নির্বাচন হলে ভোট রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। আমাদের ভোট কাউকে নিতে দেব না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই নির্মম অত্যাচার জঘন্য। থানায় নিয়ে পায়ে গুলি করে দেয়। হাত-পা ঝুলায়ে অত্যাচার করে। তারপরও একটা লোককেও বিএনপি থেকে সরাইতে পারে নাই।’

আন্দোলন করতে না পারা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের কোথাও মিটিং করতে দেয় না। আমাদের দেশনেত্রীকে বাইর হতে দেয় না। ঢাকাতে কোনো মিটিও করতে দেয় না। আর মিটিং করবেন কি? ওয়াজ-মাহফিলগুলো-ওগুলো তো আজকাল করতে দেয় না, ধর্মীয় অনুষ্ঠান। বলে আরো কী কী পারমিশন লাগবে, কার কার লাগবে।’

ঘুষ দিয়ে চাকরি করা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘চাকরি? পুলিশের কনস্টেবলের চাকরি নেওয়ার জন্য নাকি ১৫ লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। স্কুলের পিয়নের জন্য নাকি চার-পাঁচ, নয়-দশ লাখ পর্যন্ত দিতে হয়। তো মানুষ যাবে কোথায়? ভিটাবাড়ি বিক্রি করে ফেলতেছে। এই তো এদের বাংলাদেশ। এটা নাকি উন্নয়নের রোল মডেল। এটা উন্নয়নের রোল মডেল নয়- এটা হচ্ছে হত্যা, নির্যাতন, নিপীড়নের রোল মডেল। এরা একদলীয় শাসন কায়েম করতে চায়।’

‘জনগণের বিরুদ্ধে যে যাবে, মানুষের বিরুদ্ধে যে যাবে সে কোনো দিন টিকে থাকতে পারবে না। আজকে আওয়ামী লীগ জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। জনগণের প্রতিপক্ষ হয়েছে।’

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও আসে, চিটাগাং যায়। অমুকখানে যায়। তিনদিন পর রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে। আর ওদের সেতুমন্ত্রী বলে, সব সুন্দর কোনো অসুবিধা নাই। সব ঠিক আছে। মানুষ তো বোকা না।’ন

‘শেখ হাসিনার সরকারই আগামী নির্বাচনে সহায়ক সরকার’

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সহায়ক সরকার সংবিধানেই আছে। শেখ হাসিনার সরকারই আগামী নির্বাচনে সহায়ক সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে বলেন, খালেদা জিয়া আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে চলে গেলেন লন্ডনে টেমস নদীর তীরে। বিএনপির আন্দোলনের কথা শুনলে মানুষ বলে এ বছর না ওই বছর, আন্দোলন হবে কোন বছর? বিএনপির আন্দোলন এখন বেগম খালেদা জিয়ার ভ্যানেটি ব্যাগে। আগে দেশে ফিরে আসুক, তারপর দেখা যাবে। দুই ঈদ পার হয়ে গেল, বিএনপি কোনো আন্দোলনে যেতে পারেনি।

রোববার দুপুর ১২টায় তার নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে এএইচসি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদ পুনর্মিলনী ও শিক্ষক সম্মাননা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। স্কুলটির ১৯৯০ থেকে ২০১৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আওয়ামী লীগের জন্মের পর থেকে চট্টগ্রাম বিভাগের কেউ দলের সাধারণ সম্পাদক হতে পারেনি। আমি অজপাড়া গাঁয়ের এই স্কুলের ছাত্র হয়ে এ পর্যায়ে এসেছি। আমি আশা করি তোমরাও আমার চাইতে অনেক বড় পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবে। যোগ্যতা অর্জনে লেখাপড়ার কোনো বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, শুধু ছেলেরা নয়, মেয়েদেরকেও এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী একজন নারী হয়ে আজ সারা বিশ্বে প্রশংসিত। বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রধানমন্ত্রীর পৃষ্ঠপোষকতায় আমরা ক্রিকেট বিশ্বে সুনাম অর্জন করেছি। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি এমনকি খেলাধুলার অবস্থানও পাল্টে যাবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, শিক্ষিত, মেধাবী ও আদর্শবান লোকজন রাজনীতিতে আসলে রাজনীতি নষ্ট হবে না। খারাপ লোকেরা রাজনীতিতে আসলে রাজনীতি নষ্ট হয়ে যাবে, তারা এমপি মন্ত্রী হলে আমাদের অসম্মান হবে।

তিনি তরুণদের উদ্দেশ্যে বলেন, তরুণরা অনিয়মের কাছে মাথা নত করে না, কারণ তরুণরা ঝলমলে সকালের সূর্য্য। সততাকে অন্তরে লালন করে জীবন সংগ্রাম করলে কখনও পরাজিত হবে না।

এ সময় তিনি তরুণ ও ছাত্র সমাজকে মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান।

এর আগে মন্ত্রী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে ডাক্তার ও নার্সের অনুপস্থিতি ও সার্বিক পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেলা সিভিল সার্জনকে কারণ দর্শানোর আদেশ দেন।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও পুনর্মিলনী কমিটির আহ্বায়ক আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী-৩ (বেগমগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মামুনুর রশিদ কিরণ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নুরুল আমিন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী, বিদালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ।

রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের আহ্বান

মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে চলা অব্যাহত গনহত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তেনিয়ো গুতেরাস। রাখাইন রাজ্যে সংবরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।অন্যথায় পরিস্থিতি একটি মানবিক বিপর্যয়ের দিকে যাবে বলে সতর্ক করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব।
শুক্রবার জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে তার এ উদ্বেগের কথা জানান।

ওই বিবৃতিতে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আরো জানান, এটি মিয়ানমার সরকারের দায়িত্ব হবে যে রাখাইন রাজ্যে এবং বাংলাদেশে জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য সহযোগী মানবিক সাহায্য সংস্থার নির্বিগ্নে মানবিক সহযোগিতার কাজ পরিচালনা করার জন্য নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করা।
সহিংসতার মোকাবেলায় একটি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের দেয়া সুপারিশগুলো যথাযথ বাস্তবায়নের প্রতি জোর আরোপ করেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তেনিয়ো গুতেরাস।
উল্লেখ্য গত সপ্তাহের শুরুতে কফি আনানের নেতৃত্বাধীন এডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেইট মিয়ানমারের পশ্চিমা লের রাজনৈতিক , আর্থ-সামাজিক এবং মানবিক উন্নয়নে একটি সুপারিশ-সংবলিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা করবার জন্য বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় জনগণের প্রশংসা করেছেন মহাসচিব গুতেরাস। এছাড়া রোহিঙ্গাদের কাছে মানবিক সাহায্য পৌছাতে জাতিসঙ্ঘ ও অন্যান্য সংস্থাগুলোকে সহায়তা করতে বাংলাদেশ সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নেবার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব।
৮ দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৬০ হাজার রোহিঙ্গা

জাতিসঙ্ঘ জানিয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে গত আট দিনে সহিংসতার কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজারে পৌঁছেছে।
জাতিসঙ্ঘ শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার বা ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তা ভিভিয়ান ট্যান বলেছেন, যে ভাবে লোক আসছে তাতে আর কয়েক দিনেই সীমান্তে যে শিবিরটি আছে তা পুরো ভরে যাবে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসঙ্ঘ মহাসচিব আন্তনিও গুটেরেস সেখানে একটি মানবিক দুর্যোগ তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী গত সপ্তাহে সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা জঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে, কিন্তু বাংলাদেশে পালিয়ে আসা লোকেরা বলছে, সৈন্যরা তাদের বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে এবং তাদের ওপর গুলি চালিয়েছে। মিয়ানমারের সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করছে।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আজ বলেছে, সেখানে কেবল একটি রোহিঙ্গা গ্রামেই সাতশো বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে বলে তারা স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবিতে দেখতে পাচ্ছে।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়িপ এরদোয়ান যেভাবে রোহিঙ্গা মুসলিমদের হত্যা করা হচ্ছে তাকে রীতিমত গণহত্যা বলে বর্ণনা করেন।
সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, এখনো প্রতিদিনই হাজার হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ পালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘের সর্বশেষ হিসেবে আজকে পর্যন্ত ৫৮ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে।

যদিও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বিজিবি এবং কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, রোহিঙ্গারা যাতে বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য তারা সীমান্তে তৎপর রয়েছেন। কিন্তু গত দু’দিন ধরে সীমান্তে কিছুটা শিথিলতা দেখানো হচ্ছে বলে সূত্রগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে বলছে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলছিলেন, একেবারে দুস্থ মহিলা এবং শিশুদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে মানবিক দিক বিবেচনা করা হচ্ছে।
“আমরা তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছি। ফিরিয়ে দেয়ার পরও মানবিক দিক বিবেচনা করে যারা নিতান্তই অসুস্থ বা বৃদ্ধ মহিলা, শিশু এবং বেশ কিছু আহত, তাদেরকে তো আমাদের আশ্রয়, খাদ্য, চিকিৎসা, এগুলো না দিলেই নয়। এটা আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগেও বলেছেন, এখনো আমরা সেটা দিযে চলেছি।”
এইচ টি ইমাম আরও বলেছেন, “মিয়ানমারের অভ্যন্তরে যারা এই আক্রমণের শিকার,তাদের নিরাপত্তা দিতে হলে মিয়ানমারের মধ্যেই দিতে হবে। এটা আন্তর্জাতিক রেড ক্রসই করতে পারে।”

হাজার হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে ঢুকে আশ্রয় এবং খাবারের জন্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
কক্সবাজার থেকে রেড ক্রিসেন্ট এর সহকারি পরিচালক সেলিম আহমেদ বলছিলেন, গত ২৫ শে অগাষ্ট মিয়ানমারে সংঘাত শুরুর পর পরই রোহিঙ্গা যারা বাংলাদেশে ঢুকেছে, তাদের বেশির ভাগই উখিয়ার কুতুপালং এ নিবন্ধিত এবং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নিয়েছে।

রোহিঙ্গা গ্রামের ৭০০ বাড়িতে আগুন
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, মিয়ানমার থেকে পাওয়া নতুন উপগ্রহ-চিত্রে দেখা যাচ্ছে যে একটি রোহিঙ্গা মুসলিম গ্রামের ৭০০-রও বেশি বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে।
সংস্থাটি বলছে, এসব ছবি গভীরভাবে উদ্বেগজনক, এবং এতে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে যে রাখাইন প্রদেশের উত্তরাঞ্চলে ধ্বংসলীলার মাত্রা আসলে আগে যা ভাবা হয়েছিল তার চাইতে অনেক বেশি।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এবং সন্দেহভাজন রোহিঙ্গা জঙ্গীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর গত সপ্তাহে হাজার হাজার সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে ঢুকেছে।
পালিয়ে আসা এই শরণার্থীরা বলছে, মিয়ানমারের সৈন্যরা তাদের বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে।
তবে মিয়ানমারের সরকার এ কথা অস্বীকার করেছে। সরকার বলছে, তাদের নিরাপত্তা বাহিনী গত মাসে ঘটা একটি আক্রমণের মোকাবিলা করছে – যাতে রোহিঙ্গা জঙ্গীদের হাতে ২০টি পুলিশ ফাঁড়ি আক্রান্ত হয়েছিল।
জাতিসঙ্ঘের অনুমান অনুযায়ী এ পর্যন্ত ৫৮ হাজার শরণার্থী বাংলাদেশে ঢুকেছে। অন্য আরো প্রায় ২০ হাজার লোক সীমান্ত এলাকায় নাফ নদীর তীর বরাবর আটকে রয়েছে।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর অফিস বলছে, রাখাইন রাজ্যের সহিংসতায় এ পর্যন্ত ৪০০ লোক নিহত হয়েছে – যার অধিকাংশই রোহিঙ্গা মুসলিম।

‘হাইড্রোজেন বোমার বিস্ফোরণে উত্তর কোরিয়ায় ভূমিকম্প’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর কোরিয়ায় বড় আকারের ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য নতুন হাউড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়েছে রোববার এমন দাবির পর এ ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেলো।

ভূমিকম্পের মাত্রা রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৩ ছিল বলে জানিয়েছে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)। সংস্থাটি বলছে, ভূমিকম্পের গভীরতা ছিল ২৩ কিলোমিটার। পারমাণিক বোমার সম্ভাব্য বিস্ফোরণের ফলে উত্তর কোরিয়ার উত্তর-পূর্ব অংশে এ ভূমিকম্প হয়েছে। খবর- বিবিসির।

হাইড্রোজেন বোমা তৈরি ও তা ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য- কিম জং উনের এমন ঘোষণা দেওয়ার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে এ ভূমিকম্পের খবর পাওয়া গেলো।

উত্তর কোরিয়ার যে অংশ ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, কিলজু প্রদেশের ওই এলাকাতেই উত্তর কোরিয়া আগের পারমাণবিক অস্ত্রগুলোর পরীক্ষা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার।

এ ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রেসিডেন্ট সিকিউরিটি কাউন্সিলের জরুরি বৈঠক ডাকেন। পরে দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ দাবি করেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক পরীক্ষার কারণে এ ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে।

এদিকে, চীন দাবি করেছে তারা উত্তর কোরিয়ায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার দ্বিতীয় আরেকটি ভূমিকম্প শনাক্ত করেছে। প্রথম ভূ-কম্পনের ৮ মিনিট পর দ্বিতীয় ভূ-কম্পন অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে চীনের ভূমিকম্প প্রশাসন।

অন্যদিকে, জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও এক বিবৃতিতে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ষষ্ঠ পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার কারণে বিস্ফোরণে এ ভূমিকম্প হয়েছে।

এরআগে সকালে ‘ব্যাপক ধ্বংসাত্মক ক্ষমতাসম্পন্ন’ একটি হাইড্রোজেন বোমা তৈরি করা হয়েছে বলে জানান কিম। তিনি আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রে বহনযোগ্য ওই বোমাটি পরিদর্শনও করেন।

উরুগুয়ের সঙ্গে ড্রতে শঙ্কাতেই আর্জেন্টিনা

স্প্যানিশ সুপার কাপে রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে পাওয়া চোট এক মাসের জন্য ছিটকে ফেলেছিল লুইস সুয়ারেজকে। কিন্তু ইনজুরির অবস্থা ভালো হওয়ায় বিশ্বকাপ বাছাইয়ে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নেমে সবাইকে বিস্মিত করেছেন উরুগুয়ে এ তারকা। ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্রয়ে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে রুখে দিয়েছে উরুগুয়ে।

আজ ভোরে মন্টেভিডিওতে গোলশূন্য ড্রয়ের কারণে সরাসরি বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ নিয়ে শঙ্কা কাটল না আর্জেন্টিনার। কনমেবল অঞ্চলের বাছাইপর্বে এখনও পয়েন্টে টেবিলের পঞ্চম স্থানেই রয়েছে দুই বারের বিশ্বকাপজয়ী দলটি। সরাসরি রাশিয়া বিশ্বকাপে খেলতে হলে পয়েন্ট টেবিলের চারে থেকে শেষ করতে হবে হোর্হে সাম্পাওলির দলকে।

ঘরের মাঠে ম্যাচের ৩৭তম মিনিটে সের্হিও রোমেরোর নৈপুণ্যে এগিয়ে যেতে পারেনি উরুগুয়ে। ক্রিস্তিয়ান রদ্রিগেসের জোরালো শট ঠেকানোর পর বল গিয়েছিল সামনে দাড়িয়ে থাকা এডিনসন কাভানির কাছে। তবে পিএসজি স্ট্রাইকারের শটও ঠেকিয়ে দেন আর্জেন্টিনা গোলরক্ষক। ফলে বিপদ হয়নি মেসিদের। বিশ্রামে যাওয়ার কিছু আগে ডি-বক্সে বল পেয়ে মেসির নেওয়া শট বাঁকানো শট ঠেকিয়ে দেন স্বাগতিক দলের গোলরক্ষক।

বিরতির পর ম্যাচের ৫৯ মিনিটে মেসির জোরালো ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ঠেকান উরুগুয়ে গোলরক্ষক মুসলেরা। দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণে অপেক্ষাকৃত এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে উরুগুয়ের শক্তিশালী রক্ষণ ভেদ করে গোল করতে না পারায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দু’দলকে।

গুম-খুন-সন্ত্রাসে বিএনপির রেকর্ড কেউ ভাঙ্গতে পারবে না : কাদের

গুম-খুন-সন্ত্রাসে বিএনপির নজিরবিহীন রেকর্ড কেউ ভাঙ্গতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আজ শুক্রবার সকালে নোয়াখালী যাওয়ার পথে ফেনীর মহিপাল এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেতুমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী এসময় বলেন, ঈদ যাত্রায় মহাসড়কে এবার ভয়-ভীতি ছিলো অনেক বেশি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রকৌশলীরা ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কে সর্বাত্মক কাজ করেছে। স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী সাতদিন ধরে বিষয়টি মনিটরিং করছেন।

সম্প্রতি চলতি বাসে গণধর্ষণের শিকার হন ঢাকার কলেজছাত্রী রুপা। আইন বিষয়ে অধ্যয়রত ছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রুপার এডভোকেট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ না হওয়া দুঃখজনক। খারাপ লোকরা যেন ড্রাইভার-হেলপার না হতে পারে সে বিষয়ে মালিকদের সচেষ্ট থাকতে হবে।