All posts by lutfor

চলে গেলেন সেই মা

সন্তানদের অবহেলায় গোয়ালঘরে থাকা সেই মা মারা গেছেন। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার মরিয়ম নেছা (৯০) বৃহস্পতিবার, ৩১ আগস্ট সকালে বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগে মারা যান।

ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লীরা তরফদার এ খবর নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বার্ধক্যজনিত রোগে মরিয়ম নেছা মারা গেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমরা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার তেজপাটুলি গ্রামের মরিয়ম নেছার স্বামী ২০ বছর আগে মারা যান। দাম্পত্য জীবনে তারা তিন ছেলের অধিকারী হয়েছেন। ছোটবেলায় নিজে না খেয়ে যে সন্তানদের খাইয়ে বড় করেছেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই সন্তানরা মাকে দুমুঠো ভাত দিতেন না।

ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের শেষ বয়সে হাতে তুলে নিতে হয়ে ভিক্ষার ঝুলি। মানুষের বাড়িতেও কাজ করেছেন অনেকদিন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে বাড়ির বাইরে যাওয়ার মত ক্ষমতা না থাকলে তার ঠাঁই হয়েছিল নিজের জন্ম দেয়া ছেলের গোয়ালঘরে। গত মে মাসে গোয়ালঘরে থাকা অবস্থায় রাতে শিয়াল তার শরীরে কামড় দেয়। এ খবর জানাজানি হলে গত ২৮ মে সারা দেশে খবরটি ভাইরাল হয়ে পড়ে।

পরে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সাংসদ মোসলেম উদ্দিন এবং জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ মরিয়ম নেছাকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাদের উদ্যোগে মরিয়ম নেছাকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরে তাদের সন্তানেরা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চান। চিকিৎসা শেষে আবারও তাকে তার সন্তানদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে ফুলবাড়িয়া উপজেলা প্রশাসন মরিয়ম নেছার ভরণপোষণের ভার নিয়েছিল। বৃহস্পতিবার মরিয়ম নেছা তার মেজ ছেলে মারফত আলীর বাড়িতে ছিলেন।

মায়ের মৃত্যুর পর মারফত আলী বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে মা মারা গেছেন। আমরা আমাদের ভুলের জন্য মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আল্লাহর কাছেও ক্ষমা চেয়েছি। আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করে। আপনার সবাই মা এবং আমাদের জন্য দোয়া করবেন।

রোহিঙ্গা নিয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতি আটকে দিল চীন: ওআইসির উদ্বেগ

চীনের আপত্তির কারণেই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের রুদ্ধদার এ বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি। চীনের আপত্তির কারণেই জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের রুদ্ধদার এ বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা কাউন্সিলের বিবৃতি আটকে দিয়েছে চীন। চীনের আপত্তির কারণে রাখাইনে সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিল আলোচনার পর বিবৃতি দিতে পারেনি। বৃটেনের উদ্যোগে এই আলোচনার সূত্রপাত হয়।
শুধু এবারই নয়, গত বছর অক্টোবরে রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন অভিযান শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে নিরাপত্তা কাউন্সিলে আলোচনা হলেও বিবৃতি আটকে দিয়েছিল চীন। চীনের আপত্তির কারণেই রুদ্ধদার এ বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়া সম্ভব হয়নি। পর্দার অন্তরালে কূটনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশই রাখাইন ইস্যুতে বৃটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে আলোচনা সূত্রপাতের উদ্যোগ নিয়েছিল।
গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চি ক্ষমতায় আসার আগে মিয়ানমার কয়েক দশক সামরিক জান্তার হাতে নিয়ন্ত্রিত ছিল। এ সময় বহির্বিশ্ব মিয়ানমারের ওপর অর্থনৈতিকসহ নানাবিধ অবরোধ আরোপ করলেও প্রতিবেশী রাষ্ট্র চীন তাদের সমর্থন দিয়ে গিয়েছিল। আন্তর্জাতিক চাপে নির্বাচনের মাধ্যমে সু চি ক্ষমতায় এলেও রাষ্ট্রের মূল কলকাঠি এখনো মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হাতেই রয়েছে।
গত শুক্রবার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ শুরু করেছে মিয়ানমার নিরাপত্তা বাহিনী। এবারও চলছে হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে আগুনের লেলিহান শিখা বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেই চোখে পড়ে। নিপীড়নের হাত থেকে বাঁচতে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশ সীমান্তে জড়ো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের বাধা দিচ্ছে। এর মধ্যেও সাড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
আইওএমের হিসাব মতে, গত অক্টোবরের পর থেকে রাখাইনে নতুন করে সহিংসতা শুরুর আগ পর্যন্ত ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল।
সরকারের মতে, প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা বৈধ-অবৈধভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে বাস করছে। তাদের ফিরিয়ে নিতে এবং রোহিঙ্গাদের জন্য রাখাইনে বসবাসের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
আজ বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিরাপত্তা কাউন্সিল বুধবার মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা নিয়ে আলোচনা করেছে। যেখানে সংঘাত ও সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানে রাখাইন রাজ্য থেকে সাড়ে ১৮ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রুদ্ধদ্বার এ বৈঠকের পর কোনো বিবৃতি দেয়া হয়নি।
তবে জাতিসঙ্ঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত ম্যাথিউ রাইক্রোফট বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছেন পরিষদের সদস্যরা।
এ বৈঠক আহ্বান করেছিল ব্রিটেন।
কিন্তু রাখাইন সঙ্কটে জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের জড়িত হওয়ার বিষয়ে ঘোর বিরোধিতা করেছে চীন। নিরাপত্তা পরিষদে এ আলোচনা হলেও পরবর্তীতে আর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আগামী মাসে জাতিসঙ্ঘের বার্ষিক সাধারণ অধিবেশনে বিশ্ব নেতারা সমবেত হলে ইস্যুটি আলোচনায় আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত রাইক্রোফট বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদ এখনও শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অং সান সুচিকে সমর্থন করে। মিয়ানমার সরকার পরিচালনায় তিনি নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আমাদের মধ্যে অনেকেই তাকে সমর্থনকারী মিত্র। আমরা চাই তিনি সঠিক কথা বলুক। একটি সমঝোতার পথ বের করে আনুক। মিয়ানমারের সব মানুষের মঙ্গলের জন্য এই সমস্যা সমাধান করে উত্তেজনা প্রশমন করা জরুরি হয়ে পড়েছে। জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে আরোপিত নাগরিকত্ব ও চলাচলের বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে মিয়ানমারে জাতিগত সহিংসতার শিকার রোহিঙ্গাদের রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) মহাসচিব ড. ইউসুফ আল ওতাইমিন। জাতিসঙ্ঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান ও মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি’র কাছে লেখা পৃথক দুটি চিঠিতে তিনি এ আহ্বান জানান।
চিঠিতে ওআইসি মহাসচিব বলেছেন, রাখাইনে বেসামরিক মানুষের ওপর নির্বিচারে শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এতে অঞ্চলজুড়ে এক অসহনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা অসংখ্য মানুষের ওপর প্রভাব ফেলেছে।
ওতাইমিন রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ ও রোহিঙ্গাদের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসঙ্ঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি ও কার্যকরভাবে ইস্যুটি সমাধান করতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সু চিকে লেখা চিঠিতে মহাসচিব রাখাইন পরিস্থিতিতে ওআইসির উদ্বেগের কথা জানান। তিনি অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, উদ্বাস্তুদের তাদের ঘরে ফিরতে দেয়া এবং মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে দুর্গতদের সহায়তার অনুমতি দেয়ার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
রোহিঙ্গাদের প্রতি বৈষম্য, ন্যয়বিচার ও নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া না হলে চলমান সংকট পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ওআইসি মহাসচিব আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

‘আধুনিক সমাজ গড়তে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে’

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, আধুনিক সমাজ গড়তে বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, সজাগ দৃষ্টি রাখে। যাতে নির্বাহী বিভাগ আইনের ভিতরে থাকে এবং আইন বিভাগ আইনের ভিতরে থাকে।

মিথ্যাচার, অপসংস্কৃতি, অশ্লীলতা গণমাধ্যমের পবিত্রতা ভঙ্গ করে। আজ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাজার এলাকার জেড. এইচ. সিকদার শপিং সেন্টারে ২টি মিনি সিনে কমপ্লেক্স ও রেস্তোরাঁ উদ্বোধন কালে তিনি এসব কথা বলে।
মন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতির মাঠটিকে রাজাকার, জঙ্গি থেকে মুক্ত রাখতে হবে। নির্বাচনের নামে খুনিদের, জঙ্গিবাদের, রাজাকারদের ও তাদের পৃষ্ঠপোষক বেগম খালেদা জিয়াকে হালাল করার চেষ্টা করবেন না। কোন অজুহাতে কোন খুনি ও তার পৃষ্ঠপোষককে হালাল করা যায় না।

এসময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন- মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসক সায়লা ফারজানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা নিবার্হী অফিসার তানবীর মোহাম্মদ আজিম প্রমুখ।

রাশিয়ার কনস্যুলেট গুঁটিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ফ্রান্সিস্কো থেকে রাশিয়ার কনস্যুলেট গুঁটিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

রাশিয়া থেকে মার্কিন কূটনীতিক বহিষ্কারের জবাবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কনস্যুলেটের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটনে রাশিয়ার দুটি বাণিজ্যিক মিশন বন্ধ করারও নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শনিবারের মধ্যেই এগুলো বন্ধ করতে হবে রাশিয়াকে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং ইউক্রেন থেকে ক্রিমিয়াকে বিছিন্ন করে নেওয়ার অভিযোগে সম্প্রতি রশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র।

এর আগে রাশিয়ার ৩৫ কূটনীতিককে বহিষ্কার করে মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট বারাকা ওবামা ক্ষমতা ছাড়ার আগে ওই ৩৫ রুশ কূটনীতিককে বহিষ্কার করেন। সেই সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার দুটি গোয়েন্দা অফিসও বন্ধ করে দেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নের আগ্রহ দেখালেও মার্কিন কংগ্রেস এর বিরোধী। যে কারণে সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট পুতিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫৫ কূটনীতিক বহিষ্কার করেন। বহিষ্কৃতদের আজ রাশিয়া ছাড়ার কথা। এর একদিন আগে রাশিয়ার স্যান ফ্রান্সিস্কোর কনস্যুলেট বন্ধ করে দিল যুক্তরাষ্ট্র।

তথ্যসূত্র : বিবিসি অনলাইন

৩০,০০০ রোহিঙ্গা ঢুকেছে, ৪১২ জন হিন্দু সম্প্রদায়ের

রাখাইনে চলমান সহিংসতা থেকে প্রাণে বাঁচতে ৩০ হাজারের বেশি মিয়ানমার নাগরিক বাংলাদেশে ঢুকেছেন বলে ধারণা দিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

এদিকে স্থানীয় সূত্রগুলোর বরাতে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, এবারে কেবল রোহিঙ্গা মুসলমান নয়, রাখাইনে আক্রান্ত হচ্ছেন হিন্দুরাও।

রাখাইন রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে আসা ৪১২ জন হিন্দু নারী-পুরুষ-শিশু কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির থেকে দুই কিলোমিটার দূরে পশ্চিম হিন্দুপাড়ার একটি মুরগির খামারে আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁরা সবাই রাখাইনের মংডুর ফকিরাবাজার গ্রামের বাসিন্দা। নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছেন আরও দুই শতাধিক হিন্দু। তাঁরাও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় আছেন।

রাখাইন রাজ্যের মংডু শহরের কোয়াছং হিন্দুপাড়া থেকে স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে পালিয়ে আসা স্বর্ণকার দীজেন্দ্র শর্মা বলেন, গত ছয়-সাত দিনে ফকিরাবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় গুলি ও আগুনে পুড়ে ৮৬ জন হিন্দুর মৃত্যু হয়েছে।

ফকিরা বাজার থেকে পালিয়ে আসা মিলন মল্লিক বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের সঙ্গে তাঁদের (হিন্দুদের) কোনো বিরোধ নেই। অতীতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কোনো দাঙ্গাহাঙ্গামাও হয়নি। গত বছরের ৯ অক্টোবর রাখাইন রাজ্যে তিনটি সীমান্তচৌকিতে হামলার পর টানা তিন মাস রাখাইন রাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালায় সেনা ও পুলিশ। এ সময় কয়েক শ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। ধর্ষণের শিকার হন বহু রোহিঙ্গা নারী। এ সময় ৯০ হাজারের মতো রোহিঙ্গা রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করে বাংলাদেশ আশ্রয় নিলেও তখন কোনো হিন্দু পরিবার দেশ ত্যাগ করেনি। কিন্তু এবার একযোগে সীমান্তচৌকিতে হামলার জন্য হিন্দুদেরও সন্দেহ করছে মিয়ানমার। তাই এত অত্যাচার-নির্যাতন। উদ্দেশ্য রাখাইন রাজ্য ত্যাগ করা।

এ পর্যন্ত ৭০ টি পরিবারের ৪১২জন হিন্দু রাখাইন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন । কুতুপালং এর হিন্দুপাড়ায় তারা আশ্রয় নিয়েছেন। এর মধ্যে ৮টি হিন্দু পরিবার তাদের ৬২ জন স্বজন নিহত হওয়ার কথা জানা গেছে। ওই হিন্দু পরিবারের বেঁচে ফেরা ১৬ জন নারী শিশুর কক্সবাজার এলাকায় তাদের নিকট আত্মীয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের দাবি শতাধিক হিন্দু পরিবার এখনও সীমান্তের ‘নো ম্যান্স ল্যান্ডে’ অবস্থান করছে। তাদের বাড়ি ঘরে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি ওই সব পরিবারের।

ঈদ জামাত কোথায় কখন

নূরে আলম জিকো:যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য পরিবেশে আগামী ২ সেপ্টেম্বর শনিবার সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এ উপলক্ষে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে দেশের প্রধান ঈদ
জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে।
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আযহার নামাযে ইমামতি করবেন বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ঢাকার মিরপুরস্থ জামেয়া আরাবিয়া’র শায়খুল হাদীস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহিদুয্যামান।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যায়ক্রমে পাঁচটি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টা, দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা, তৃতীয় জামাত সকাল ৯টা, চতুর্থ জামাত সকাল ১০টা এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০.৪৫ টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতি করবেন- প্রথম জামাতে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মাওলানা মুহিব্বুল্লাহিল বাকী নদভী, দ্বিতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুহাদ্দিস মাওলানা ওয়ালিয়ুর রহমান খান, তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মাওলানা মুহাম্মদ আবদুস সালাম, চতুর্থ জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতী মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাতে মহাখালী হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. মাওলানা নজরুল ইসলাম আল মা‘রূফ। সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদুল আযহার নামায আদায়ের জন্য মুসল্লীদের সুবিধার্থে বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদে পর্যাপ্ত পানি ও নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এছাড়া ইসলামবাগ ঈদগাহ ময়দানে তিনটি জামাত যথাক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা এবং ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
প্রথম জামাতের ইমামতি করবেন, জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদরাসার প্রিন্সিপাল ও শাইখুল হাদীস এবং ইসলামবাগ বড় মসজিদের খতীব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করবেন জামেয়া ইসলামিয়া ইসলামবাগ মাদরাসার মুহাদ্দিস ও দ্বীনের আলো মসজিদের খতীব মুফতি বশীরুল হাসান খাদিমানী এবং তৃতীয় জামাতের ইমামতি করবেন ইসলামবাগ জান্নাতুল বাকী মসজিদের ইমাম ও খতীব মাওলানা হাফিজুর রহমান।
দারুস সালামের ফুরফুরা দরবারের মসজিদ কমপ্লেক্সে সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ফুরফুরার মরহুম পীরের ছোট সাহেজাদা মাওলানা ফতেহ আলী আয়াতুল্লাহ সিদ্দিকী আল কুরাইশী।
মোহাম্মদপুর লালমাটিয়া ব্লক জিতে অবস্থিত মসজিদ এ বায়তুল হারামে সকাল ৭টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন মসজিদের খতিব মাওলানা কাজী আবু হোরায়রা।
কামরঙ্গিরচরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে দুটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথমটি সকাল সাড়ে ৭টায় এবং দ্বিতীয়টি সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম জামাতে অংশগ্রহণ করবেন।
ধানমন্ডি ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায়, কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টা এবং সোয়া ৯টায়, সায়েদাবাদের চিশতিয়া সাইদিয়া দরবার শরীফ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, ফার্মগেটে বায়তুল শরফে সকাল ৮টায়, পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেব ময়দান খানকা শীফ জামে মসজিদে সকাল সোয়া ৭টায়, নুরানী বাজার জামে মসজিদে সকাল ৮টায়, মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার তাহেরিয়া জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, মোহাম্মদপুর জয়েন্ট কোয়ার্টারস্থ মসজিদে এ তৈয়্যেবিয়ায় সকাল সাড়ে ৭টায়, পশ্চিম আগারগাঁও দারুল ঈমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

আজ বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ। চার দিকে হতাশা, ােভ, না পাওয়ার বেদনা এবং শাসকযন্ত্রের প্রতি অতিষ্ঠ জনগণের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে ১৯৭৮ সালের এই দিনে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে জন্ম হয় দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটির। দীর্ঘ পথপরিক্রমায় দলটি যেমন তিনবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছে, তেমনি সীমাহীন প্রতিকূল পরিস্থিতিও মোকাবেলা করেছে বহুবার।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত এক-এগারোর সরকারের আমল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১ বছর ধরে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি বেশ কঠিন সময় পার করছে। জরুরি সরকারের সময়ে দলটির ওপর যে মামলা, হামলা, জেল, জুলুম শুরু হয়েছিল তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। দলটির তথ্যানুযায়ী সহস্রাধিক নেতাকর্মী হত্যা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ শীর্ষ থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত। দল ভাঙনের চেষ্টা চলছে ক্রমাগত। এ রকম নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সংগঠনকে গতিশীল রেখে একটি সুষ্ঠু ও অবাধ জাতীয় নির্বাচনের পথ তৈরিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠার আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট গঠন করেছিলেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন এগিয়ে এলে জিয়া বিএনপি গঠন করে এর সাথে জাগদলকে একীভূত করেন। রাষ্ট্রপতি জিয়া এই দলের সমন্বয়ক ছিলেন এবং প্রথম চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী ছিলেন বিএনপির প্রথম মহাসচিব।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য এবং জনগণের মধ্যে স্বনির্ভরতার স্বপ্ন জাগিয়ে তোলাই ছিল জিয়াউর রহমানের মূলমন্ত্র। এর ফলে প্রতিষ্ঠার অল্প সময়ের মধ্যেই অভূতপূর্ব সাফল্য এসে ধরা দেয়। জিয়াউর রহমান স্বল্প সময়ের অকান্ত কর্মের মধ্য দিয়ে যেন ছড়িয়ে পড়েন পুরো বাংলাদেশে। জনগণ তাকে গ্রহণ করেন তৎকালীন সময়ের বিকল্প এক রাজনীতিবিদ হিসেবে। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সাথে ইসলামি মূল্যবোধের মিশ্রণ তার দলকে আরো জনপ্রিয় করে তোলে। তার ঘোষিত ১৯ দফা দল ও সরকার পরিচালনার েেত্র এক ‘রাজনৈতিক দর্শন’ হিসেবেই আখ্যায়িত করা হয়। জিয়াউর রহমানের শাহাদতের কিছু পর স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে উত্থান ঘটে বেগম খালেদা জিয়ার। সেই সময় থেকে বিএনপির নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনিই।
বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশিবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল বিএনপি। ১৯৯০-এর গণতন্ত্রায়নের পর ২০০১ সাল পর্যন্ত দেশে মোট চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি তিনটিতেই জয়লাভ করে। ১৯৯১-এর নির্বাচনে বিএনপি ১৪২টি আসন লাভ করে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্র“য়ারি নির্বাচনেও বিএনপি জয়লাভ করে। তবে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে আন্দোলনমুখী হওয়ায় ৪৫ দিনের মাথায় বিএনপি সরকার একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে আবার নির্বাচন করার জন্য মতা তুলে দেয়। ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি-সহ চার দল প্রায় দুই- তৃতীয়াংশ আসনে জয়লাভ করে। তবে এক-এগারোর সরকারের দুই বছর পর ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটির ভরাডুবি হয়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনের নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়ায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনে অংশ নেয়নি তারা।
দীর্ঘ ১১ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপির নেতারা বলছেন, রাজনীতিতে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হয়। এ পথে হেরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৌশল পরিবর্তন করেই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে হয়। বিএনপিও এখন সেই কৌশল নিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নিরপে নির্বাচনের দাবিতে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের আন্দোলন সফল না হওয়ায় বিএনপি তাদের কর্মকৌশল পরিবর্তন করে ধীরে চলা নীতি গ্রহণ করে। দল পুনর্গঠন ও গণসম্পৃক্ততার দিকেই নজর দেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
গত বছরের ১৯ মার্চ ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নির্বাহী কমিটি ঘোষণা করেন বেগম খালেদা জিয়া। এরপর পর্যায়ক্রমে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, মহিলা দল, জাসাস, ঢাকা মহানগর উত্তর-দণি বিএনপি, চট্টগ্রাম মহানগরসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলকে নতুন আঙ্গিকে সাজাতে শুরু করে বিএনপি। জেলা কমিটিগুলোও থানা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটিগুলোকে ঢেলে সাজাচ্ছে। দায়িত্বশীল নেতারা বলেছেন, দল পুনর্গঠনের ৭৫-৮০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে।
তৃণমূল থেকে তথ্য নিয়ে দলের হাইকমান্ডের সমন্বয়ে দলটিকে বেশ কিছু পরিকল্পিত কর্মসূচি প্রণয়ন ও তার সফল বাস্তবায়নও করতে দেখা যায়। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সরকারের ব্যর্থতা তুলে ধরে- ‘বাজারে আগুন, জনজীবন বিপর্যস্ত’ শিরোনামে একটি পোস্টার দেশব্যাপী লাগানো। দেশে গণতন্ত্রহীন সংস্কৃতি, সরকারের অপশাসন ও অন্যায়-অত্যাচার তুলে ধরে বেগম খালেদা জিয়ার নাগরিক সচেতনতামূলক একটি গণচিঠি তৃণমূলপর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে দেয় দলটি। ‘ভিশন-২০৩০’ তুলে ধরেন বেগম খালেদা জিয়া। এ ভিশনে ঘোষিত ২৫৬ দফা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। দলটি ভিশনের ১০ লাধিক কপি ইতোমধ্যেই দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি এক কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি হাতে নেয় বিএনপি। স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। দলের মহাসচিবের নেতৃত্বে উত্তরাঞ্চলের প্রায় প্রতিটি থানা ও ইউনিয়নে ত্রাণতৎপরতা চালানো হচ্ছে।
দলের একাধিক নেতার সাথে আলাপকালে জানা যায়, বিএনপি তার একাধিক সার্ভে টিমের মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জনগণের দাবি ও মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে চলছে। জনগণকে সাথে নিয়ে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলনে আবারো মাঠে নামার ল্য তাদের।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকারের দমন-পীড়ন নতুন নয়। আগেও ছিল এখনো চলছে। প্রতিনিয়ত হামলা-মামলা চলছে। গোটা দেশকে বন্দিশালায় পরিণত করা হয়েছে। তারপরও আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চলছে। নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে বন্ধন অটুট রেখেছেন। সরকারের কোনো ফাঁদ বা উসকানিতে বিএনপি পা দেয়নি ভবিষ্যতেও দেবে না। আমরা জাতীয় কাউন্সিল করেছি। ইতোমধ্যে বহু জেলা কমিটি ও কয়েকটি অঙ্গসংগঠনের নতুন কমিটিও হয়েছে। তারপর আমাদের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আগামী দিনে বাংলাদেশকে কিভাবে পরিচালিত করা হবে সে সম্পর্কে একটি রূপকল্প ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণা করা হয়েছে, যা দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এ সংক্রান্ত বই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয় বিএনপি একটি আধুনিক ও উদারপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।
ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবারের লক্ষ্য : খালেদা জিয়া
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশসহ দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় বিএনপির বলিষ্ঠ ভূমিকা জনগণ কর্তৃক সমাদৃত হয়েছে। এই কারণেই বিএনপি দেশবাসীর কাছে এখন সর্বাধিক জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল। জনগণের আস্থা ও বিশ^াস অক্ষুণœ রেখে দেশ ও জনগণের সেবায় বিএনপি আগামী দিনগুলোতেও বলিষ্ঠ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, আজ দেশে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে। ৫ জানুয়ারির তামাশার নির্বাচনের পর গণতন্ত্র এখন মৃতপ্রায়। দেশবিরোধী নানা চুক্তি ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বর্তমান সরকার জাতীয় স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে চলেছে। দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দেশজুড়ে গণহত্যা, গুম, গুপ্তহত্যা, নারী ও শিশুদের ওপর পৈশাচিকতা, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, নিপীড়ন ও নির্যাতনের মহোৎসব চলছে।
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে এবং দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপি জনগণকে সাথে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। তাই এবার আমাদের আন্দোলনের লক্ষ্য হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনা এবং বাক-ব্যক্তি ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ জনগণের মানবিক মর্যাদা সুরক্ষা করা।
অপর এক বাণীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশবাসীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
কর্মসূচি : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছেÑ আজ সকাল ১০টায় দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ এবং আগামী ৯ সেপ্টেম্বর আলোচনা সভা।

ঝুঁকি নেওয়ার সাহস রাজনীতিকের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশকে বর্তমান বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সব প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করে আওয়ামী লীগ তিনবার সরকার গঠন করেছে বলেই এটা সম্ভব হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটা এমনি এমনি হয়নি। যে শিক্ষা পেয়েছি বাবার কাছ থেকে যে শিক্ষা পেয়েছি মায়ের কাছ থেকে-দেশকে ভালোবাসা, দেশের কল্যাণে কাজ করা, দেশের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করা, দেশের জন্য যেকোন ঝুঁকি নেওয়ার মত সাহস রাখা-একজন রাজনীতিকের জীবনে যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

বৃহস্পতিবার আগস্টের শেষদিনে জাতির পিতার ৪২তম শাহাদৎবার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভার ভাষণে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ছাত্রলীগের বার্ষিক প্রকাশনা ‘জন্মভূমি’র মোড়ক উন্মোচন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ’৭৫ এর পরে বাংলাদেশ বললে কি হতো-বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, দুর্ভিক্ষ, দেশের মানুষের কোন আশা নাই ভরসা নাই এই দেশ স্বাধীনই থাকবে না এরকম একটা চিন্তাভাবনা বিদেশের মানুষের মনে ছিল। এভাবেই সকলের কাছে বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা হয়েছিল। এটাই ছিল সবচেয়ে বড়ো দুর্ভাগ্য।

তিনি বলেন বলেন, ‘২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার ফলে বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৫ আগস্ট তারা কি করেছে- আমার মাকে তারা হত্যা করেছে। আমার ভাই কামাল-জামালকে হতা করেছে। তাদের নবপরিণীতা বধূ সুলতানা-রোজী তাদেরকে হত্যা করেছে। ছোট ১০ বছরের রাসেলকেওতো রেহাই দেয়নি। তাকেও তো তারা হত্যা করেছে। একইদিনে আমার তিন ফুপুর বাড়িতে আক্রমণ করে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করেছে। একই সময়ে তিনটি বাড়িতে আত্রমণ করে এই হত্যাযজ্ঞ তারা ঘটায়। যেন ঐ রক্তের কেউ না থাকে।

আওয়ামী লীগ তাকে সভাপতি নির্বাচিত করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমাকে সভাপতি নির্বাচন করে, আমি সিদ্ধান্ত নিলাম দেশে আসবো। তখন একটা জনমত জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবেও সৃষ্টি হয় মানুষের মাঝে একটা উদ্দীপনারও সৃষ্টি হয়। অনেক বাঁধা দিয়েছিল তবু আমি দেশে ফিরে আসি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়া, খালেদা জিয়া এরশাদ সকলেই জাতির পিতার খুনিদের মদদ দিয়েছে। ভোট চুরি করে তাদের সংসদে বসিয়েছে। তাদেরকে নানাভাবে উৎসাহ যুগিয়েছে।

তাকে মানসিক আঘাত দিয়ে পর্যুদস্থ করার জন্যই ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো এসব করেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি এটাও বুঝি আমাকে আঘাত দেওয়ার জন্য বা আমি যেন ভেঙ্গে পড়ি সেইজন্য। কিন্তু আমি কোন বাবার মেয়ে কোন মায়ের মেয়ে এটা তারা উপলদ্ধি করতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘এত প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলা করেও আজকে আওয়ামী লীগ তিনবার সরকার গঠন করেছে বলেই বাংলাদেশ আজকে এগিয়ে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যখন একটু ভালো কাজ হয়, মানুষ যখন একটু ভালো থাকে তখন সবসময় এটাই মনে হয় যে, আমার বাবা-মা’র আত্মা নিশ্চয়ই শান্তি পাবে, তাদের দেশের গরিব মানুষগুলি একটু ভালো আছে। তাই, আমরা সবসময় এটাই চেষ্টা করি যে, যখনই কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাক হয়-আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগসহ আমাদের সমস্ত সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের উদ্বুদ্ধ করি এসব দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তাদের সেবা করার জন্য। এটাইতো আওয়ামী লীগের কাজ এটাইতো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। সেই আদর্শ নিয়েইতো আমাদের তৈরি হতে হবে।

তথ্যসূত্র : বাসস

তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন কিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : তৃতীয় সন্তানের বাবা হলেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং-উন। মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপ এ তথ্য জানিয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সোমবার দেশটির পার্লামেন্টে আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, তাদের বিশ্বাস উত্তর কোরিয়ার ফার্স্ট লেডি রাই সোল জু গত ফেব্রুয়ারিতে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন। গত বছরের ডিসেম্বর থেকে রাই সোল লোকচক্ষুর আড়ালে থাকায় এ ধারণাটি জোরদার হয়।

২০০৯ সালে কিম জং উনের সঙ্গে রাই সোল জুয়ের সঙ্গে বিয়ে হয়। ২০১০ সালে তাদের প্রথম সন্তান জন্ম হয়। ২০১৩ সালে ভূমিষ্ঠ হয় দ্বিতীয় সন্তান।

বাস্কেট বল তারকা ডেনিস রোডম্যানকে উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনানুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বলা হয়। গত বছর তিনি জানিয়েছিলেন, উন-জু দম্পতির দ্বিতীয় সন্তানটি কন্যা।

‘এসকে সিনহাকে একদিনের জন্যও নয়’

ছুটি শেষে দেশের স্বার্থেই প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহাকে একদিনের জন্যও সীটে বসতে দেওয়া উচিত হবে না বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রীমকোর্টের সাবেক বিচারপতি সামসুদ্দিন চৌধূরী মানিক। আজ মঙ্গলবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনে ২১ শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে এবং চলমান রাজনীতি নিয়ে অলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বঙ্গবন্ধু একাডেমী ও সম্মিলিত তরুণ পেশাজীবী পরিষদ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সাবেক বিচারপতি মানিক বলেন, প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পাকিস্তানের কথা বলে শেখ হাসিনা সরকারকে হুমকি দেন। তার হাতে নাকি দুটো ফাইল আছে, কিছু করে ফেলতে পারেন। তিনি কি করতে পারবেন, তাকে একদিনের জন্যও সীটে বসতে দেওয়া উচিত হবে না। তার মনে রাখা উচিত বাংলাদেশ আর পাকিস্তান এক নয়। শেখ হাসিনাকে হুমকি দিয়ে কোনও লাভ হবে না।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু এমপি বলেন, ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা কোনো সাধারণ ঘটনা নয়। এর পরিকল্পনা হয়েছিল হাওয়া ভবনে। আর হাওয়া ভবনের কারিগর তারেক জিয়ার নির্দেশেই এ হামলা চালানো হয়।

তিনি বলেন, ওরা ভেবেছিল শেখ হাসিনাকে সরাতে পারলেই দেশ পাকিস্তান বানিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু এদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যতদিন থাকবে, ততদিন কেউ এ দুঃস্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে না।

এসময় মোসতাক ও জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড উল্লেখ করে মরনোত্তর বিচার দাবি করেন সাবেক আইনমন্ত্রী।

সভাপতির বক্তব্যে সুপ্রীমকোর্টের আইনজীবী ও আওয়ামীলীগ নেতা ব্যারিস্টার জাকির আহাম্মদ বলেন, সকল ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিতে নতুন প্রজন্মকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এডভোকেট সামছুল হক টুকু এমপি, কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট সামসুল হক রেজা, ঢাকা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি নুরুল আমীন রুহুল, অধ্যক্ষ শাজাহান আলম সাজু প্রমূখ।