All posts by lutfor

আরকানে জ্বলছে রোহিঙ্গাদের বসতবাড়ি : চলছে গণহত্যা ও ধর্ষণ

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। রোহিঙ্গাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া হচ্ছে, চলছে গণহত্যা ও ধর্ষণ। হেলিক্প্টার থেকে শত শত রাউন্ড মর্টার ও গুলি বর্ষণও করা হচ্ছে। নিহতদের শোকে বাকরুদ্ধ আত্মীয়স্বজন। চারদিকে কান্নার শব্দ। স্বজনের লাশ পেছনে ফেলে রুদ্ধশ্বাসে পালাচ্ছে মানুষ। আবার পালাতে চেষ্টা করা হলে পিছন থেকে করা হচ্ছে গুলি। যারা গোলাগুলির শিকার হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
গত বৃহস্পতিবার থেকেই অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী আরো হিংস্ত্র হয়ে উঠেছে। খুন, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন স্থাপনায় অগ্নিসংযোগসহ সবকিছুরর মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। দিনে রাতে হ্যালিকপ্টার থেকে মর্টার, বোমা হামলা ও মুহুর্মুহু গুলি বর্ষণ শব্দে মুর্ছা যাচ্ছে রোহিঙ্গা নারী ও শিশু। যেন যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে রোহিঙ্গা অধ্যূষিত আরকানে। উগ্রপন্থা দমনের অজুহাতে বোমা ও মর্টার হামলা করে গ্রামের পর গ্রাম জ্বালিয়ে দিচ্ছে মিয়ানমারের সরকারি বাহিনী। ‘জঙ্গিগোষ্ঠীর’ সদস্য দাবি করে ধরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আরাকানের মুসলিম অধ্যূষিত এলাকার তরুণদের। আর বাংলাদেশ জিরো পয়েন্টে বাড়ছে রোহিঙ্গা আশ্রায় প্রাথীর সংখ্যা।
রোহিঙ্গারা বলছেন, যুদ্ধ নয় গণহত্যার নতুন অধ্যায় শুরু করেছে সে দেশের সরকারি বাহিনী। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে উগ্রপন্থী বৌদ্ধ ও রাখাইন সম্প্রদায়। এইসব বাহিনী এবারে একচেটিয়াভাবে রোহিঙ্গাদেরকে গণহত্যা করে রাখাইন রাজ্যে বৌদ্ধদের পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করছে উদ্যোগ নিয়েছে। হাজার বছরের রোহিঙ্গা জাতির ইতিহাসকে ধুলোয় মুছে দিতে গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী কাজ করছে জাতিসঙ্ঘের আহ্বানকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে।
ফলে মিয়ানমারের সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর হাত থেকে নির্মম নির্যাতনে বাদ পড়ছে না মায়ের কোলের শিশু। মায়ের কোল থেকে শিশু ছুড়ে ফেলা হচ্ছে জ্বলন্ত আগুনে। পদদলিত করে দুই দিনের শিশু খুন করতে কুণ্ঠাবোধ করছে না তারা। নারী ধর্ষণ করছে গণহারে। এইসব রোহিঙ্গার বেঁচে থাকার স্বপ্ন দিন দিন ফুরিয়ে আসছে। নির্বিচারে হত্যা, অগ্নিসংযোগ, নারীধর্ষণ, লুন্ঠনের শিকার হয়ে জীবন বাঁচাতে সহায় সম্পত্তি ফেলে মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজছে সহায়হীন অসহায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী। বাংলাদেশ সীমান্তের নাফ নদীর পাড়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নারী ও শিশু জড়ো হয়েছে প্রাণ বাচাঁতে। আকাশের নিচে মাটির বিছানায় অন্ন-বস্ত্রহীন নিরূপায় হয়ে চেয়ে আছে একটু সহায়তা পাওয়ার আশায়।
কোনো মা সন্তান হারিয়ে, কোনো সন্তান মা হারিয়ে আর্তনাদ করছে। মায়ের বুকে দুধ না পেয়ে কুলের শিশু ক্ষণেক্ষণে কেঁদে মাকে বলার চেষ্টা করছে। মায়েরা অসহায় হয়ে পড়েছে। অসহায় হয়ে পড়েছে এইস নারীদের মাতৃত্ব। বয়োবৃদ্ধরা চোখে মুখে চরম হতাশার চিত্র। তাদের ছেলে, মেয়ে ও নাতি-নাতনিদের চিন্তায় গাল বেয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে।
রাখাইন রাজ্যের ঢেঁকিবনিয়ার উত্তরপাড়ার আহমদ হোসেন মুঠোফোনে জানান, রোববার খুব ভোরে সেনাবাহিনীর একটি দল গ্রামে ঢুকে স্থানীয় জহির, করিম ও আব্দুর শুক্কুরকে আটক করে নিয়ে যায়। এ সময় তারা পালিয়ে পাশের পাহাড়ে আশ্রয় নেন। পরে ওই তিন তরুণের ওপর বর্ববর নির্যাতন চালিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় জঙ্গলে ফেলে দেয়া হয়।
ঢেঁকিবনিয়া পূর্বপাড়ার আবছার কামাল জানান, সেনাবাহিনী সন্ধ্যার পর বাড়িতে বাড়িতে তল্লাশি শুরু করেছে। যেসব বাড়িতে মানুষ পাচ্ছে না সেসব বাড়ি বোমা মেরে জ্বালিয়ে দিচ্ছে। আর যাকে পাচ্ছে ধরে নিয়ে যাচ্ছে।
অপরদিকে রাথদং জেলার সোহাগপ্রাং রোহিঙ্গা পল্লীতে নারকীয় হত্যালীলা চালিয়েছে মিয়ানমারের বর্বর বাহিনী । পুলিশ, লুন্টিং, সেনা ও বিজিপি সম্মিলিতভাবে এ বর্বরতা চালিয়েছে । সোমবার দিবাগত রাতের শেষভাগে এ নৃশংসতা চালিয়েছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে । কয়েক শ’ সৈন্য গ্রামটি ঘেরাও করে চিরুণী অভিযান চালিয়ে রোহিঙ্গা পুরুষদের আটক করে। আটককৃত পুরুষদের দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ার করে গণহত্যা চালায়। রোহিঙ্গা নারীদের ধরে নিয়ে গিয়ে গ্রামের একটি স্কুলঘরে গণধর্ষণ করেছে। উঠতি বয়সের কন্যা শিশুও রক্ষা পায়নি সেনাদের ধর্ষণ থেকে। অনেকেই ধর্ষণে বাধা দেয়ায় তাদেরকে হত্যা করা হয়।
সূত্র আরো জানিয়েছে, হত্যার পর গাড়িতে তুলে অনেক লাশ নিয়ে গেছে । তবে বেশ কিছু লাশ এখনো ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে । এই সময় এই সব রোহিঙ্গা পল্লীতে অগ্নিসংযোগ করে। পুড়ে মরেছে গবাদিপশুও। গ্রামটি এখন জনশূন্যে ও নিস্তব্ধ । এরপর আশেপাশের সব রোহিঙ্গা পল্লী ঘিরে রেখেছে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ইতিমধ্যে আরাকানের প্রত্যেক মুসলিম পল্লীতে নিধনযজ্ঞ চালানোর জন্য ইতিমধ্যে অমুসলিমদের সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন । এভাবে বর্ববরতা চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুরো আরাকান রোহিঙ্গাশূন্য হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে টেকনাফের নাফনদীর পানিসীমানা অতিক্রম করার সময় ৪৭৫ রোহিঙ্গাকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা। রাতে নাফনদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তাদের ফেরত পাঠানো হয়। ফেরত পাঠানো এসব রোহিঙ্গার বেশিরভাগ নারী, শিশু ও বৃদ্ধ।
টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে পৃথক অভিযানে ৪৭৫ জন রোহিঙ্গাকে পানিসীমানা অতিক্রম করার সময় প্রতিহত করে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়। গত ৫ দিনে ১০১৬ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।

‘রোহিঙ্গাদের অার জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না’

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি অানানের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অালাপ-অালোচনার ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের অাহ্বান জানিয়েছেন অাওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, মানবিক দিক বিবেচনা করে বারবার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অাশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু এখন অার তাদের জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

মঙ্গলবার বিকেলে অাওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি কার্যালয়ে অায়োজিত অাওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন ওবায়দুল কাদের। বৈঠকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল অালম হানিফ, ডা. দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, অাবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, এনামুল হক শামীমসহ সম্পাদকমণ্ডলীর অধিকাংশ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

ওবায়দুল কাদের ঈদের উৎসব বন্যার্তদের সঙ্গে কাটানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি অাহ্বান জানিয়েছেন। তিনি ঈদের খরচ কমিয়ে বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্যও নেতাকর্মীদের প্রতি অাহ্বান জানান।

বিদেশে বসে খালেদা জিয়ার রোহিঙ্গাদের নিয়ে বক্তব্য প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিদেশে বসে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অাশ্রয় দেয়া সংক্রান্ত বক্তব্য সমর্থনযোগ্য নয়। অারেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে বিএনপির অপরাজনীতি ছাড়া অার কোনো উপায় নেই।

ত্রাণের টাকায় বন্যা ও নদী ভাঙ্গন হ্রাস করা সম্ভব।

আল ইমরান মনু- সিরাজগঞ্জঃ

বন্যা ও নদী ভাঙ্গন যেন বাংলাদেশে গলায় কাটার মতো বিধে আছে। প্রতি বছর বন্যা ও নদী ভাঙ্গনের ফলে শত শত কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে দেশের।আর এর জন্য প্রতি বছর অনেক হৃদয়বান ব্যাক্তি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন বন্যা ও নদী ভাঙ্গন কবলিত মানুষের প্রতি কিন্ত যদি সঠিকভাবে এই সাহায্য বা ত্রাণের টাকা ব্যাবহার করা হয় নদী শাষন ও নদীর গভিরতার কাজে তাহলে আগামীতে আর কাউকে ত্রাণের জন্য হাত বাড়াতে হবে না এবং আর কাউকে ত্রাণ দিতেও হবে না, দেশটাও  এগিয়ে যাবে অনেকখানি।নদীর পাড়ে বাধ দিয়ে ভাঙ্গন রোধ ও নদীর গভিরতা বাড়ালে বন্যা অনেকটাই হ্রাস পাবে। নদী ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে নদীর তলদেশ উপরের দিকে উঠে এসেছে যার কারনে বর্ষা মৌসুমে পানি চলে যাচ্ছে মুল ভুমিতে আর এই কারনে বন্যার ভয়াবহতার শিকার হচ্ছে সাধারন মানুষ।এবং এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দশকে হয়তো নদীই থাকবে না। গত বছর এবং এ বছর যে পরিমান পানি হয়েছে এর চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি কম হলেই জনসাধারনের কোন ক্ষতি হবে না।আর এই ৩-৪ ফুট পানি নদীর গভীরতা বাড়িয়ে নদীতেই রাখা সম্ভব।যমুনা নদী যা দেশের বড় একটি নদী কিন্ত দেখা যাবে আর ২-৩ মাসের মধ্যেই ধু ধু বালু চরে রুপ নেবে। চর জেগে যেন কোনো মরুভুমি হবে যমুনা।আজ থেকে ২০ বছর আগে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার যমুনা অংশ দিয়ে অনেক লঞ্চ, স্টিমার চলতো আর এখন বর্ষা মৌসুমেও বড় নৌকা দেখে দেখে চালাতে হয়, কোথায় যেন চরা আছে, না জানি নৌকা আটকে যায় অথচ নদী ভাঙ্গরে কমতি নাই।চৌহালী উপজেলা চেয়ারম্যান, আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন- যমুনা একটি বড় নদী প্রতি বছর বন্যায় প্রচুর পলি মাটি ও ভাঙ্গনের কারনে যে মাটি চলে যায় তার ফলে চর জেগে ওঠে যার কারনে বন্যার তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। তবে ক্যপিটাল ড্রেজিং করে নদীর গভীরতা বাড়ীয়ে বন্যা হ্রাস করা সম্ভব কিন্ত এটা অনেক ব্যায়বহুল তাই মেগা প্রজেক্ট হলে ক্যাপিটাল ড্রেজিং করা সম্ভব

‘রাম রহিমের আচরণ জন্তুর মতো, তার ক্ষমা নেই’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : রায় ঘোষণার সময় বিচারক বলেন, ‘গুরমিত সিং রাম রহিমের আচরণ বন্য জন্তুর মতো, তার ক্ষমা নেই।’

ভারতের সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) বিশেষ আদালতের বিচারক জগদীপ সিং সোমবার ধর্ষণের মামলায় দোষী প্রমাণিত বিতর্কিত ধর্মগুরু রাম রহিমকে ২০ বছর কারাদণ্ড দেন।

রায়ের আগে রাম রহিম আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, রাম রহিম তার সেবায় নিয়োজিত স্বাধ্বীদেরও (নারী সেবিকা) ছাড় দেয়নি এবং তাদের সঙ্গে বন্য জন্তুর মতো আচরণ করেছে। ফলে গুরমিত ক্ষমা পাওয়ার কোনো যোগ্যতা রাখে না।

রায় ঘোষণার সময় আদালত বলেন, উভয় বাদী (দুই নারী) গুরমিতকে ঈশ্বর মানতো এবং সেভাবে তার সেবা করতো কিন্তু সে তাদের সঙ্গে জন্তুর মতো ব্যবহার করেছে। এমন যৌন নিপীড়নকারী সামাজিক, সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও সেবামূলক কাজের সঙ্গে থাকতে পারে না।

বিচারক বলেন, অপরাধীকে ক্ষমা করলে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতা তৈরি হবে। পাপীদের সাজা দেওয়ায়ই আদালতের কাজ।

২০ বছর কারাদাণ্ডের পাশাপাশি রাম রহিমকে ৩০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। সাজা ঘোষণার পর তার ভক্ত-অনুসারীরা বিক্ষোভের চেষ্টা করলেও নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে তা সম্ভব হয়নি।

গুরমিত সিং থেকে রাম রহিম নাম ধারণকারী এই ভণ্ড ধর্মগুরু নিজের আশ্রমে নারী ভক্তদের ধর্ষণ করতেন। গুরুর এই অন্যায়-অত্যাচার ভক্তরা মেনে নিতেন। কিন্তু নির্যাতিত দুই নারী এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মামলা করেন।

রাম রহিম কেতাদুস্তর থাকতে পছন্দ করেন। মুখভরা দাড়ি-গোঁফ, ঝাঁকড়া চুল, বর্ণিল পোশাক-পরিচ্ছদ, বিলাসি জীবন-যাপন তার জীবনকে রহস্যাবৃত্ত করে রেখেছিল। সংগীতপ্রিয় ধর্মগুরু দুটি সিনেমায়ও অভিনয় করেছেন। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছিলেন, যেখানে ৭-৮ হাজার লোক কাজ করতো। তার অনুসারীদের মধ্যে অধিকাংশই প্রান্তিক ও অশিক্ষিত। দরিদ্রদের জন্য তিনি সেবামূলক কিছু কার্যক্রম চালাতেন। যে কারণে ভারতের হরিয়ানা ও পাঞ্জাব রাজ্যের গরিব মানুষদের মধ্যে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন।

পেপারলেস ট্রেড চুক্তি স্বাক্ষরে থাইল্যান্ড গেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী

জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কমিশন ফর এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (ইউএনস্ক্যাপ)-এর ৭২তম সেশনে ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন ফেসিলিটেশন অব ক্রোস-বর্ডার পেপারলেস ট্রেড ইন এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক’ শীর্ষক রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।

এ চুক্তিতে বাংলাদেশ পার্টনার হওয়ার বিষয়ে ৭ আগস্ট মন্ত্রী সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। আগামী ২৯ আগস্ট, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অবস্থিত ইউএনস্ক্যাপের সদর দফতরে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ স্বাক্ষর করবেন।

একই সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রীকে ‘হাইলেভেল ডায়ালগ অন এনহানসিং রিজিওন্যাল ট্রেড থ্রো ইফেকটিভ পার্টিসিপেশন ইন দ্য ডিজিটাল ইকোনমি’ শীর্ষক ডায়ালগে অংশগ্রহণের জন্য ইউএনস্ক্যাপের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দেবেন।

এছাড়া ৩০ আগস্ট, ২০১৭ তারিখ বাণিজ্যমন্ত্রী শ্রীলঙ্কা যাবেন। সেখানে শ্রীলঙ্কার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রীর সঙ্গে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং এফটিএ সম্পাদন বিষয়ে মতবিনিময় করবেন। এরপর তিনি ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের আমন্ত্রণে ৩১ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর কলম্বোয় অনুষ্ঠিতব্য ‘সেকেন্ড ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্স-২০১৭’-এ যোগদান করে ১ সেপ্টেম্বর মিনিস্টার প্যানেলে বক্তব্য দেবেন।

এতে ২৯টি দেশের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। এ কনফারেন্সের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো- ‘পিস, প্রোগ্রেস অ্যান্ড প্রোসপারিটি’। কনফারেন্সে বাণিজ্যমন্ত্রী ভারত মহাসাগরের তীরবর্তী অঞ্চলের দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনা করবেন। বাংলাদেশের সঙ্গে দেশগুলোর বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী আগামী ১ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরবেন।

আরও ৪৬৮ রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠাল বিজিবি

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় আরও ৪৬৮ জন রোহিঙ্গাকে আটক করে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি। মঙ্গলবার সকালে নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে এসব রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানো হয়।

টেকনাফ ২ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল এসএম আরিফুল ইসলাম বলেন, সোমবার দিবাগত রাত ও মঙ্গলবার সকালে নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে জলসীমানা অতিক্রম করছিল প্রায় ৪৬৮ রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু। সীমান্তে টহলরত বিজিবি’র সদস্যরা তাদের প্রতিহত করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠিয়েছে।

গত ২৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার রোহিঙ্গাকে আটকের পর মানবিক সহায়তা দিয়ে বিজিবি স্বদেশে ফেরত পাঠায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর মিয়ানমারের সীমান্ত চৌকিতে হামলাকারীদের সহযোগিতার অভিযোগ তুলে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চালায় সেদেশের সেনা-পুলিশ। এ ঘটনায় ঘরহারা হয় ৩০ হাজার মানুষ। পালাতে গিয়েও গুলি খেয়ে মৃত্যু হয় অনেকের। আতংকে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৭৮ হাজার রোহিঙ্গা।

এসব রোহিঙ্গারা এখনো টেকনাফের লেদা, নয়াপাড়া, শামলাপুর ও উখিয়ার কুতুপালং ও বালুখালীর ক্যাম্পে অবস্থান করছে। আর চলমান অরাজকতায় এ পর্যন্ত প্রায় ১০-১৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছে বলে বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে। অনুপ্রবেশের আশায় সীমান্তের জিরো পয়েন্টে অবস্থান করছে আরো ৩০-৩৫ হাজার রোহিঙ্গা। যাদের মাধ্যে নারী-শিশু-বৃদ্ধ বেশি।

স্বাস্থ্য খাতে ৪ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

স্বাস্থ্য খাতের নতুন কর্মসূচিতে ঋণ ও অনুদান দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। ‘চতুর্থ স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি সেক্টর কর্মসূচি (৪র্থ এইচএনপি)’ বাস্তবায়নে এ অর্থ ব্যয় করা হবে। এজন্য সোমবার ৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং ১ কোটি ৫০ লাখ ডলার বা প্রায় ১২০ কোটি টাকার অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের সব নাগরিকের জন্য সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণে এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকল্পে সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ বৃদ্ধি করা। তাছাড়া কর্মসূচিটির মাধ্যমে তিনটি কম্পোনেন্টের আওতায় বিস্তৃত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। কম্পোনেন্টগুলো হল, শাসনকার্য এবং ন্যস্ত দায়িত্ব, স্বাস্থ্য-পুষ্টি এবং জনসংখ্যা ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং গুণগত স্বাস্থ্য-পুষ্টি এবং জনসংখ্যা সংক্রান্ত সেবার বিধান করা।

জানা গেছে, বিশ্বব্যাংকের দেয়া ঋণের সার্ভিস চার্জ হচ্ছে উত্তোলিত অর্থের ওপর শূন্য দশমিক ৭৫ শতাংশ। এছাড়া ৬ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩৮ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এ কর্মসূচিতে ডিসবাসমেন্ট লিংক ইন্ডিকেটর (ডিএলআই) পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে। এতে ১৬টি নির্দেশক রয়েছে। এসব নির্দেশক পূরণ সাপেক্ষে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থছাড় করবে বিশ্বব্যাংক। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে সোমবার চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আযম এবং ঢাকা নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর চিমিয়াও ফান। এ সময় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এ কর্মসূচিতে ডিজবাসমেন্ট লিংক ইন্ডিকেটর (ডিএলআই) পদ্ধতিতে বিশ্বব্যাংক অর্থছাড় করবে। আমি আত্মবিশ্বাসী যেসব নির্দেশক দেয়া হয়েছে, তা সঠিকভাবে পূরণ করেই কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ক্ষেত্রে আমরা দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার মধ্যে এগিয়ে আছি এবং থাকব।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, কর্মসূচিটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে ২৯টি অপারেশনাল প্ল্যানের মাধ্যমে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এতে মোট ব্যয় হবে ১৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে বিশ্বব্যাংকের স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ঋণ এবং গ্লোবাল ফাইনান্সিং ফ্যাসিলিটির অনুদানে এ অর্থ ব্যয় হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এমএ মান্নান বলেন, জনগণকে স্বাস্থ্য সুবিধা দেয়া আমাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব। সরকারে অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহযোগিতায় চতুর্থ এই কর্মসূচি শুরু করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য খাত অনেক দূর এগিয়ে যাবে। চিমিয়াও ফান বলেন, একটি দেশকে গড়ে তুলতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিশ্বব্যাংক এ দুই খাতে বিশেষভাবে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের এ কর্মসূচিতে সহায়তা দিতে পেরে বিশ্বব্যাংক খুশি। স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাত উন্নয়নে কর্মসূচিটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জাহিদ মালেক বলেন,এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়ন বাস্তবায়ন হবে। কেননা এর মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু, শিশু মৃত্যু হার আরও কমিয়ে আনা যাবে। কাজী শফিকুল আযম বলেন, স্বাস্থ্য খাত উন্নয়ন কর্মসূচিতে এখনও অর্থায়ন ঘাটতি রয়েছে। সেটি পূরণে ইতিমধ্যেই সৌদি আরবের কাছ থেকে ৩ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২৪০ কোটি টাকা ঋণের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

২৪ ঘণ্টায় কোরবানির বর্জ্য অপসারণের ঘোষণা

নূরে আলম জিকো:ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে কোরবানির বর্জ্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণ করার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

মঙ্গলবার রাজধানীর নগর ভবনে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন আয়োজিত কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা যৌথভাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন ঘোষণা দেন সাঈদ খোকন।

মেয়র জানান কোরবানির দিন দুপুর ২টা থেকে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ শুরু হবে। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নগরবাসীকে পরিষ্কার নগর উপহার দেওয়া হবে। এরপর ৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন যৌথভাবে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবে।

এরপরও যদি কোথাও কোরবানির বর্জ্য পরে থাকতে দেখা যায় থাকলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার জন্য ০৯৬১১০০০৯৯৯ হট লাইনে ও উত্তর সিটি করপোরেশনের জন্য ৯৮৩০৯৩৬ হট লাইনে তথ্য দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটির নগর অ্যাপসে ছবি তুলে পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এমন কী ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্য দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।

এ বছর রাজধানীতে ৪ লাখ ৭৫ হাজার পশু কোরবানি হবার কথা রয়েছে। এর ফলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৮ হাজার টন এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১০ হাজার টন বর্জ্য হতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৬২৫টি এবং উত্তর সিটিতে ৫৪৯টি পশু কোরবানির স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। পশু জবাইয়ের জন্য ঢাকা দক্ষিণে ৬২৫ জন এবং উত্তরে ৫৯২ জন ইমাম ও কসাই উপস্থিত থাকবেন।

এদকে ঢাকা দক্ষিণ এলাকায় ১৫টি এবং উত্তরে ৮টি পশুর হাটের বর্জ্য অপসারণের জন্য ১৭ হাজার পরিচ্ছন্নকর্মী কাজ করবে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বেলাল প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপক এয়ার কমডোর শফিকুল আলম ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাহুল ইসলাম সহ অন্যন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার লক্ষ্য ২৬৫

স্কোর: বাংলাদেশ ২২২/৯।

দ্বিতীয় সেশনে ৫ উইকেট নেই: তৃতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে ৭২ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। শেষ ৩ উইকেট পড়েছে ৯ বলের মধ্যে! চা বিরতি পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২০৫। লিড হয়েছে ২৪৮। ১৭ রানে অপরাজিত থাকা মিরাজের ওপরই নির্ভর করছে, বাংলাদেশ লিডটা কতদূর নিতে পারবে। মিরাজের সঙ্গে ২ রানে অপরাজিত আছেন শফিউল ইসলাম।

দুইশ পার: দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর মিরাজের ব্যাটে দুইশ পেরিয়েছে বাংলাদেশের সংগ্রহ। ৭২তম ওভারে শেষ বলে মিরাজের ডাবলে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ২০১।

হঠাৎ এলোমেলো বাংলাদেশ: পরপর দুই ওভারে মুশফিক-নাসিরের বিদায়ের পর সাব্বির রহমানের ওপর ছিল বড় দায়িত্ব। কিন্তু পরের ওভারে ফিরে গেলেন তিনিও। লায়নের বলে শর্ট লেগে পিটার হ্যান্ডসকম্বের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন সাব্বির (২২)। ৯ বলের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে বাংলাদেশ। ১৮৬ রানে দাঁড়িয়েই বাংলাদেশ হারিয়েছে ৩ উইকেট! তখন লিড ২৩০-ও পেরোয়নি। মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন শফিউল ইসলাম।

এসেই ফিরলেন নাসির: আগের ওভারেই মুশফিক ফেরার পর উইকেটে এসেছিলেন নাসির। কিন্তু দুই বছর পর দলে ফেরা নাসির ফিরলেন মুখোমুখি চতুর্থ বলেই। অ্যাশটন অ্যাগারের বলে উইকেটকিপার ম্যাথু ওয়েডকে ক্যাচ দেওয়ার নাসির মেরেছেন ডাক।

রানআউট মুশফিক: নাথান লায়নের বলে সোজা খেলেছিলেন সাব্বির রহমান। বল লায়নের হাত ছুঁয়ে লাগল স্টাম্পে। নন স্ট্রাইকার মুশফিকুর রহিমের ব্যাট তখন ক্রিজের বাইরে, রানআউট। মুশফিক করেছেন ৪১। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ৬ উইকেটে ১৮৬।

২০০ ছাড়াল লিড: নাথান লায়নের বল রিভার্স সুইপ করে চার হাঁকালেন সাব্বির রহমান। তাতে ২০০ ছাড়াল বাংলাদেশের লিড। তখন দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৬০। লিড ২০৩ রানের। সাব্বির ১১ ও মুশফিক ৩১ রানে অপরাজিত।

দ্রুতই ফিরলেন সাকিব: এক বল আগেই ডাউন দ্য উইকেটে এসে মিড অফের ওপর দিয়ে নাথান লায়নকে চার মেরেছিলেন সাকিব আল হাসান। বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এক বল পর আবার একই শট খেলতে গেলেন। কিন্তু এবার বল উঠে গেল আকাশে, হাতে জমাতে ভুল হলো না প্যাট কামিন্সের। ৪ ওভারের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে বাংলাদেশ। সাকিব (৫) ফিরে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৪৩। ২৭ রান নিয়ে ব্যাটিং করা মুশফিকুর রহিমের সঙ্গী হিসেবে উইকেটে এসেছেন সাব্বির রহমান।

লাঞ্চের পরই ফিরলেন তামিম: দ্বিতীয় ইনিংসেও সেঞ্চুরিটা হলো না তামিমের। তৃতীয় দিনের লাঞ্চের পর ব্যক্তিগত খাতায় আর ২ রান যোগ করতেই ফিরে গেছেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। প্যাট কামিন্সের বল তামিমের গ্লাভস ছুঁয়ে উইকেটকিপার ম্যাথু ওয়েডের হাতে জমা পড়ে। আম্পায়ার প্রথমে নট আউট দিলেও রিভিউয়ে বদলায় সিদ্ধান্ত। প্রথম ইনিংসে ৭১ রান করা তামিম দ্বিতীয় ইনিংসে করেছেন ৭৮। ৮টি চারে ইনিংসটি সাজান তিনি। তামিমের বিদায়ের সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৩৫। ২৫ রান নিয়ে ব্যাট করা মুশফিকের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সাকিব আল হাসান।

প্রথম সেশনে ৮৮ রান: তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনে তাইজুল ও ইমরুলের উইকেট হারিয়ে ৮৮ রান তুলেছে বাংলাদেশ। লাঞ্চে যাওয়ার সময় বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১৩৩ রান। তামিম ৭৬ ও মুশফিক ২৫ রানে অপরাজিত আছেন। লিড হয়েছে ১৭৬।

তামিম-মুশফিক জুটির ফিফটি: তামিম ও মুশফিকের ব্যাটে বাংলাদেশের লিড বাড়ছে। চতুর্থ উইকেটে দুজন ফিফটি রানের জুটি গড়েছেন।

দেড়শ ছাড়াল লিড: তামিম ইকবালের ব্যাটিং দৃঢ়তায় দেড়শ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের লিড। দিনের শুরুতে তাইজুল আর ইমরুল কায়েস ফিরলেও তামিমকে এই মুহূর্তে যোগ্য সঙ্গ দেওয়ার চেষ্টা করছেন অধিনায়ক মুশফিক।

দলীয় ১০০ ছাড়িয়ে বাংলাদেশ: তামিম ইকবালের ফিফটিতে ভর করে দলীয় সংগ্রহ ১০০ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতেই নাইটওয়াচম্যান তাইজুলকে বিদায় করেন নাথান লায়ন। এরপর ক্রিজে নেমে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ইমরুল কায়েসও। সেই লায়নের বলে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ব্যক্তিগত ২ রানে ফেরেন তিনি। তবে এক প্রান্ত আগলে রেখে নিজের চওড়া কাঁধে দলকে টানছেন তামিম।

তামিমের ফিফটি: প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ফিফটি তুলে নিয়েছেন তামিম। গতকাল ৩০ রানে অপরাজিত থাকার পর আজ সকালে মাঠে নেমে ফিফটি তুলে নিয়েছেন তিনি। নিজের পঞ্চাশতম টেস্টে দুই ইনিংসেই ফিফটির দেখা পেলেন তামিম। টেস্ট ক্যারিয়ারে দেশসেরা এ ওপেনারের এটি ২৪তম ফিফটি। ১০৯ বল মোকাবেলা করে ৬টি চারে ফিফটি তুলে নেন তামিম। অ্যাশটন অ্যাগারের ৩৫তম ওভারের দ্বিতীয় বলে চার মেরে ফিফটি পূরণ করেন এ তারকা ব্যাটসম্যান।

লায়নের দ্বিতীয় শিকার ইমরুল: প্রথম ইনিংসে ডাক মেরেছিলেন ইমরুল কায়েস। দ্বিতীয় ইনিংসেও হাসেনি তার ব্যাট। দ্বিতীয় ইনিংসে আউট হয়েছেন ব্যক্তিগত ২ রানে। নাথান লায়নের করা ইনিংসের ৩৪ তম ওভারের দ্বিতীয় বলে সেকেন্ড স্লিপে ওয়ার্নারের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে তাইজুল: লায়নের আগের ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে বাংলাদেশের লিড ১০০তে নিয়ে গিয়েছিলেন তাইজুল ইসলাম। কিন্তু ২৮তম ওভারের প্রথম বলেই সাজঘরে ফিরতে হয়েছে তাকে। লায়নের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে ব্যক্তিগত ৪ রানে আউট হয়ে ফিরে যান তাইজুল।

১০০ ছাড়াল লিড: নাথান লায়নের ২৬ তম ওভারের প্রথম বলে তাইজুল বাউন্ডারি হাকাঁনোয় ১০০ ছাড়িয়েছে বাংলাদেশের লিড। এই সময়ে তামিম ৪২ ও তাইজুল ৪ রানে ব্যাট করছেন। দিনের শুরুতে তাদের শুভ সূচনাই বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে পারে।

৮৮ রানের লিডে শুরু: মিরপুরে গতকাল নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ১ উইকেটে ৪৫ রান করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। আজ ৮৮ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিন শুরু করেছে স্বাগতিকরা। দিন শেষ হওয়ার মাত্র দুই ওভার আগে গতকাল ওপেনার সৌম্য সরকার আউট না হলে আজ পুরো ১০ উইকেট নিয়েই খেলতে পারত টাইগাররা। তবে ধৈর্য্যের পরিচয় দিয়ে তামিম অপরাজিত রয়েছেন ৩০ রানে। তার সঙ্গে নাইটওয়াচম্যান হিসেবে গতকাল ৯ বল মোকাবেলা করলেও কোনো রান না করে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল ইসলাম।

‘মতিঝিলে চোখ বেঁধে ফেলে গেছে আইএফআইসির সেই কর্মকর্তাকে’

ইন্টারন্যাশনাল ফাইনান্স ইনভেস্টমেন্ট অ্যান্ড কমার্স (আইএফআইসি) ব্যাংক লিমিটেডের অপহরণ হওয়া করপোরেট কমিউনিকেশন্স ও ব্র্যান্ডিং বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদকে পাওয়া গেছে। অপহরণের পাঁচদিন পর সোমবার রাতে মতিঝিলের কোনও এক জায়গায় তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায় অপহরণকারীরা।

আজ মঙ্গলবার মতিঝিল থানার সাব ইনস্পক্টর (এসআই) সাইদুল ইসলাম অর্থসূচককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গতকাল সোমাবার রাতে মতিঝিলের আশেপাশে কোনো এক জায়গায় তাকে চোখ বাঁধা অবস্থায় ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে রাত ৯টার দিকে তিনি নিজেই বাসায় হাজির হন। পরে তার স্ত্রী আমাকে রাত ১১টার দিকে জানান।

সাইদুল ইসলাম বলেন, আমি তার সঙ্গে তাৎক্ষনিক কথা বলতে পারিনি। তবে তাদের দুজনকে থানায় আসতে বলেছি; কিন্তু তার স্ত্রী একাই হাজির হয়েছেন। শামীম আহমেদ মানসিকভাবে অসুস্থ্য থাকায় তাকে নিয়ে আসেননি।

শামীম আহমেদ কিভাবে অপহরণ হয়েছিলেন এবং কারা নিয়ে গিয়েছিল এসব ব্যাপারে এখনো জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জানা যাবে বলে জানান সাইদুল ইসলাম।

এসব ব্যাপারে জানাতে শামীম আহমেদের স্ত্রী শিল্পী আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পুরানা পল্টনে আইএফআইসি ব্যাংকের পেছন থেকে সাদা মাইক্রোবাসে করে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীম আহমেদকে। এরপর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। নিখোঁজের ঘটনায় ওইদিনই পল্টন মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন ওই ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী শিল্পী আহমেদ।