All posts by lutfor

চাকরির প্রলোভনে অর্থ আত্মসাত প্রতারক চক্রের পাঁচজন গ্রেফতার

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎকারী প্রতারক চক্রের পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। শুক্রবার বিকালে রাজধানীর পল্লবীতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, হারুন অর রশিদ (ছদ্ম নাম রাম নাথ ঠাকুর (৫৬), সনজ সাহা ওরফে উজ্জল চৌধুরি (ছদ্মনাম জি মোস্তফা কামাল (৪৭), শামছুল আলম মজুমদার ওরফে কোপা শামছু (ছদ্মনাম মিজানুর রহমান (৪৮), আমিনুল ইসলাম আমিন (৩৭) ও মোকসেদুর রহমান আকন (ছদ্মনাম আল-আমিন (৩৮)।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিবিআই’র ঢাকা মেট্রো অফিসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা ফিরোজ খান তাদের জানান, গত ২৫ মে গুলশান লেকের রাস্তায় সকালে হাঁটার সময় অবসরপ্রাপ্ত ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হামিদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আলাপের একপর্যায়ে তার চাকরি করার আগ্রহ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি সম্মতি জানান। সম্মতি পেয়ে তাকে আলী নেওয়াজ গ্রুপ অব ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি কোম্পানির চেয়ারম্যানের পিএস আল-আমিনের একটি ভিজিটিং কার্ড দেন এবং ফোনে কথা বলিয়ে দেন। আল-আমিনের কথামতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ২৭ মে তাদের অফিসে যান। সেখানে আল-আমিন তাকে কোম্পানির এমডি জি মোস্তফা কামালের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। তার বায়োডাটা দেখে তাকে অ্যাডমিন পদের জন্য মনোনীত করা হয়। সর্বসাকুল্যে ৬০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া হবে বলে জানান। এসময় মিজানুর রহমান নামে একজন ওই রুমে প্রবেশ করে আল-আমিনের দূরসম্পর্কের ভাই পরিচয় দিয়ে এমডিকে বলেন, তিনি আল-আমিনের কাছে ১০ লাখ টাকা পাবেন। কিন্তু আল-আমিন সেই টাকা না দিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এ সময় এমডি মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চান কিসের টাকা পাবেন। মিজানুর রহমান তখন জানান, তারা তিনজন একজন ইন্ডিয়ান বড় ব্যবসায়ীর সঙ্গে কার্ড খেলছিলেন। ওই খেলায় তারা ৩০ লাখ টাকা জেতেন। আল-আমিন এবং আরও একজন তাকে ঠকিয়ে ওই টাকা নিয়ে যান। তখন এমডি বলেন, আপনার টাকা কোম্পানির পক্ষ থেকে পরিশোধ করা হবে। তারা নিজেরা নিজেরা যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন ফিরোজ খান চুপচাপ বসে শুনছিলেন। এক পর্যায়ে তিনিও প্রতারকদের খপ্পড়ে পড়ে যান। পরে ফিরোজ খান তার চাকরির বিষয়ে জানতে চাইলে এমডি বলেন, জাপান থেকে তার কাগজপত্র সব ঠিক করা হচ্ছে। খুব শিগগিরই তাকে বনানী সদর দফতরে অ্যাডমিনের দায়িত্বে নিয়োজিত করা হবে।

তিনি আরও জানান, ওইদিনই সন্ধ্যার পর সেখানে বসেই ফিরোজ খানসহ তারা সিদ্ধান্ত নেন, ইন্ডিয়ান ব্যক্তির সঙ্গে তারা ব্যবসা করবেন। ফিরোজ খান ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করবেন বলে জানান। পরে তিনি তার জমি বিক্রি করা এবং পেনশনের টাকা ছাড়াও আরও কিছু টাকা ধার করে ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা ওই প্রজেক্টে বিনিয়োগের জন্য তাদের হাতে তুলে দেন। কয়েকদিন পরে ৫ জুন ওই অফিসের ঠিকানায় গিয়ে দেখেন সেখানে কোনও অফিস নেই। তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ। ফিরোজ খান প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওইদিনই খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। একই সঙ্গে তিনি পিবিআইর সহযোগিতা চান।

পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার জানান, ফিরোজ খান ছাড়াও এ চক্রটি দক্ষিণখান থানার আজমপুর এলাকার বাসিন্দা গোলাম মোস্তফার (৬০) কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকাসহ একাধিক লোকের কাছ থেকে এ চক্রটি একই কৌশলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

গণভোটে কাতালোনিয়ানদের জয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  স্পেনের কাতালোনিয়ার স্বাধীনতার দাবিতে অনুষ্ঠিত গণভোটে কাতালোনিয়ানরা জয়ী হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার ও সাংবিধানিক আদালতকে উপেক্ষা করে পুলিশের বাধার মধ্যে রোববার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই গণভোটে কাতালোনিয়ার নাগরিকরা স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার অর্জন করেছে বলে দাবি করেছেন কাতালান সভাপতি চার্লস পুজডেমন্ট।

স্পেনের সাংবিধানিক আদালত এই ভোটকে অবৈধ ঘোষণা করে। ভোটে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে শত শত কাতালোনিয়ান আহত হয়েছেন।

ভোটকেন্দ্র থেকে ব্যালট পেপার এবং ব্যালট বাক্স জব্দ করে পুলিশ। এক টেলিভিশন ভাষণে চার্লস পুজডেমন্ট বলেন, আশা ও দুর্ভোগের এই দিনে কাতালোনিয়ার নাগরিকরা স্বাধীন রাষ্ট্রের অধিকার অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, আমার সরকার কিছুদিনের মধ্যেই ভোটের ফলাফল কাতালান পার্লামেন্টে পাঠাবে। তবে ভোট শেষ হওয়ার পর স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় বলেন, অবৈধ ভোটে অংশ নিয়ে বোকার মতো কাজ করেছে কাতালোনিয়ানরা। তিনি এটাকে গণতন্ত্রের উপহাস বলে উল্লেখ করেছেন।

কাতালান সরকার বলছে, গণভোটে অংশ নেয়া কাতালোনিয়ার স্বাধীনতাকামীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপের ঘটনায় ৮ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে।

অপরদিকে, স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ওই ঘটনায় ১২ পুলিশ কর্মকর্তা আহত হয়েছে এবং তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ৯২টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

জাপানে আন্তর্জাতিক ট্যুরিজম মেলায় বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক:
জাপানের বিখ্যাত শহর ওদাইবার টোকিও বিগ সাইটে অনুষ্ঠিত হয়েছে ট্যুরিজমের ওপর তিন দিনের ফেস্টিভ্যাল। সম্প্রতি তিনদিনের এই ফেস্টিভ্যালে ১৩০টি দেশের সরকারি-বেসরকারি প্রায় এক হাজার ৩১০টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।
ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা অংশ নেয়। বাংলাদেশ বুথের সবচেয়ে আকর্ষণ ছিল জাপানি নারী মায়ে ওয়াতানাবে জাপানি ছেলেমেয়েদের শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরিয়ে আনন্দ দেয়া। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস জানান, জাপানিদের মাঝে বাংলাদেশের বিভিন্ন পর্যটন ক্ষেত্রগুলোকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারলে বাংলাদেশের খুব ভালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এ জন্য টোকিওর বাংলাদেশ দূতাবাসকে উদ্যোগ নিয়ে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে হবে। এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর মোহাম্মদ হাসান আরিফ, টোয়াবের সহসভাপতি মো. রাফিউজ্জামান, তৌফিক রহমান ও বেঙ্গল ট্যুরসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আমরা যা করার তা করবো : ট্রাম্পের হুঙ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা করার অর্থ হলো সময় নষ্ট করা। আর সে কারণে টিলারসনকে কর্মশক্তি অপচয় না করার পরামর্শ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এক টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নিজের কর্মশক্তি সঞ্চয় করো রেক্স, আমরা যা করার তা করবো।”
শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন জানান, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই দেশের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছে।
যুক্তরাষ্ট্র চায়, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা বন্ধ করুক। উত্তর কোরিয়া গত বেশ কিছু দিন ধরে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।
গত মাসেই দেশটি ক্ষুদ্রতম হাইড্রোজেন বোমার পরীক্ষা চালিয়েছে। এই বোমা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের ওপর সংযুক্ত করা যাবে। তাদের এই পরীক্ষা সফল হয়েছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।
এই প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র -চীন সফরে এমনটাই জানিয়েছেন টিলারসন।
তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে, আলোচনার এই পদক্ষেপ বাস্তবায়ন নাও হতে পারে।
রোববার এক টুইট বার্তায় উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন প্রসঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিখেছেন, “আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বলেছি, তিনি ক্ষুদ্র রকেট মানবের সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা করে তার সময় নষ্ট করছেন”।
তবে “আমাদের যা করার করবো”-এই কথাটি তিনি কেন বলেছেন, কী অর্থে বলেছেন সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি ট্রাম্প।
প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মন্তব্যের বিপরীতের ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও ট্রাম্পের মন্তব্যের মধ্যে বৈপরিত্য দেখা গেছে।
গত অগাস্ট মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু হুমকি মোকাবেলা করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী দৃঢ়ভাবে প্রস্তুত রয়েছে।
তবে ট্রাম্পের এই বক্তব্যের কয়েক ঘন্টা পরই প্রতিরক্ষামন্ত্রী দু’দেশের উত্তেজনা কমিয়ে আনার চেষ্টা করেন এই বলে যে- কূটনৈতিক পদক্ষেপ সফল হতে চলেছে।
১০ তারিখে উত্তর কোরিয়ার হামলা শুরু!
আগামী ১০ অক্টোবর হামলা চালাতে পারে উত্তর কোরিয়া। এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। ওই দিন থেকে জাপানে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা। সে দেশের বিশেষ দিনটিকে টার্গেট করেই মিসাইল হামলা চালাতে পারেন উত্তর কোরিয়ার সর্বাধিনায়ক কিম জং উন, আশঙ্কা ইসুনরি অনোদেরার। গত ৩ সেপ্টেম্বর পিয়ং ইয়ং তাদের ষষ্ঠ ও সবচেয়ে বড় পারমাণবিক পরীক্ষাটি করার পর থেকে রাতের ঘুম উড়ে গেছে প্রতিবেশী দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের।
ওই দুই দেশই রাষ্ট্রসংঘের কাছে বারবার আবেদন জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার আগ্রাসনের উপর রাশ টানার। এমনকী খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও একাধিকবার কড়া ভাষায় পিয়ংইয়ংকে সতর্ক করলেও লাভের লাভ হয়নি।
উত্তর কোরিয়ার ক্যালেন্ডারে বিশেষ বিশেষ দিনগুলি বেছে নিয়ে পারমাণবিক পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন কিম। ঠিক যেমন, গত ৯ সেপ্টেম্বর সে দেশের প্রতিষ্ঠা দিবসে চালানো হয় বৃহত্তম পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা। আর এখানেই ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছে জাপান। কারণ, সে দেশে যখন নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে, উত্তর কোরিয়াতে সেই ১০ অক্টোবর কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিষ্ঠা দিবস। ট্র্যাডিশন বজায় রেখে সেদিনও পিয়ংইয়ং ভয়ানক কিছু করলে জাপানে নির্বাচন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিতে হতে পারে।
ইসুনরি অনোদেরা বলছেন, ‘আমরা জানি ১০ অক্টোবর দিনটি উত্তর কোরিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা ওই দিনের জন্য বিশেষভাবে সতর্ক থাকছি। আমরা হাই অ্যালার্টে রয়েছি।’ জাপ প্রতিরক্ষামন্ত্রী মতো আশঙ্কায় ভুগছেন দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা চাং ইউ অং। বৃহস্পতিবার তিনি প্রেসিডেন্ট মুনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক সেরেছেন। একইসঙ্গে, পিয়ং ইয়ংয়ের শক্তিশালী হাইড্রোজেন বোমা পরীক্ষার জেরে পরমাণু যুদ্ধের আশঙ্কা আরো ঘনীভূত হচ্ছে।
কোরীয় উপদ্বীপে এই মুহূর্তে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে উত্তর কোরিয়া যাই দাবি করুক না কেন, তারা যে পরমাণু অস্ত্রের গবেষণায় দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে, সেই বিষয়ে একমত আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষজ্ঞদের দাবি, এবার আমেরিকা পালটা হামলা চালালে, কিমের সমর্থনে এগিয়ে আসতে পারে রাশিয়া ও চীন। ফলে শুরু হতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ।

শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার আহবান রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর

দেশের অর্থনীতির বিকাশে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবুদল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এই লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তারা বলেন, একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজারই হচ্ছে উন্নত অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম হাতিয়ার।
বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০১৭ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবুদল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার এই পৃথক বাণীতে এই আহবান জানান।
বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা ও সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের উদ্যোগে দেশে প্রথমবারের মতো ২-৮ অক্টোবর ‘‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ’’ পালন করা হবে।
ইন্টারন্যাশনাল অরগানাইজেশন অব সিকিউরিটিজ কমিশনস (আইওএসসিও) সারাবিশ্বে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই প্রথম ‘বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ কর্মসূচি’ ঘোষণা করেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. আবুদল হামিদ বাণীতে বলেন, বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ ২০১৭ এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে বিনিয়োগ শিক্ষা ও বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা। পুঁজিবাজারের সম্প্রাসারণে বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের বিশেষত প্রথম বিনিয়োগকারীদের বাজার সম্পর্কে যথেষ্ট জ্ঞান না থাকায় প্রায়শ বিনিয়োগ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। অনেকে বিনিয়োগ করে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। পুঁজি বাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থরক্ষায় দিবসটি পালন যথার্থ বলে আমি মনে করি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বাণীতে বলেন, শক্তিশালী পুঁজিবাজার উন্নত অর্থনীতি গড়ে তোলার অন্যতম হাতিয়ার। দেশের অর্থনীতির বিকাশে শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আইনি বিধান রাখা হয়েছে। শেয়ার বাজারে লেনদেন কারচুপি ও অনিয়ম শনাক্ত করতে যথাযথ নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সহায়তা তহবিল’ নামে ৯০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন ও আইপিও-তে ২০ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, আর্থিক প্রতিবেদনের স¦চ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ফিন্যানসিয়াল রিপোর্টিং অ্যাক্ট এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (পাবলিক ইস্যু) রুলস, ২০২৫ প্রণয়ন করা হয়েছে। এক্সচেঞ্জসমূহে ইন্টারনেটভিত্তিক লেনদেন চালু করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিনিয়োগ শিক্ষার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের পুঁজিবাজার আরো গতিশীল হবে। সাধারণ মানুষের ছোট ছোট সঞ্চয়ের সঠিক বিনিয়োগই দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। বাসস

কেউ আত্মহত্যা করলে বা অপঘাতে মরলে কি তার আত্মা সত্যি দেখা যায়

এক জায়গায় যাচ্ছিলাম, পথে একটা বিশাল বট গাছ চোখে পড়ল। মোটরসাইকেল যে চালাচ্ছিল সে বলল, “স্যার, রাতের বেলা এই গাছের এখানে কেউ আসে না।” জিজ্ঞাসা করলাম, কি জন্য? কয়েক বছর আগে এক ছেলে এই গাছে গলায় দড়ি দিয়ে মারা যায়। এরপর থেকে মাঝেমাঝেই নাকি সেই এই গাছের আশেপাশে ছেলেকে রাতের বেলা দেখা যায়। এরকম আত্মা দেখার কাহিনী প্রায় শোনা যায়।

আসলেই কি মৃত মানুষের আত্মাকে দেখি আমরা, না অন্য কিছু? এর উত্তর জানতে হলে আগে জানতে হবে মানুষ মারা যাওয়ার পর আসলে কি হয়। মানুষ যখন মারা যায়, তার শরীর থেকে রুহ বা আত্মাকে আল্লাহর নির্দেশে মালা্কুল মউত বা আজরাইল (আ) বের করে নিয়ে যায়। মৃত্যুর পর ইমানদারদের রুহকে ইল্লিন ও পাপীদের রুহকে সিজ্জিন নামক জায়গায় নিয়ে আমলনামা সংরক্ষণ করা হয়। এরপর রুহকে কবরে ফিরে দেওয়া হয় সওয়াল জবাবের জন্য।

সেটা ভিন্ন প্রসঙ্গ হওয়ায়, সেদিকে বিস্তারিততে যাচ্ছি না। পরবর্তীতে লেখা যাবে। মৃত্যুর পর এভাবেই দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটে, আর পরকালের জীবনের শুরু হয়। মৃত্যুর পর থেকে কিয়ামত ও হাশরের বিচারের আগ পর্যন্ত সময়টাকে বলা বারযাখ। মৃত্যুর পর থেকে আত্মার অবস্থান এই বারযাখেই হয়। এখান থেকে আর ফিরে আসার সুযোগ নেই। তাই কোনো ব্যক্তি মারা গেলে দুনিয়ার সঙ্গে তার সম্পর্ক চিরস্থায়ীভাবে শেষ হয়ে যায়।

তার আত্মা আর কখনোই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে না। আল্লাহ বলেন, “যখন তাদের কারও কাছে মৃত্যু আসে, তখন সে বলে ‘হে আমার পালণকর্তা! আমাকে পুনরায় (দুনিয়াতে ) প্রেরণ করুন। যাতে আমি সৎকর্ম করতে পারি, যা আমি করিনি’। কখনই নয়, এ তো তার একটি কথার কথা মাত্র। তাদের সামনে থাকবে বারযাখ পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত”। (সূরা মুমিনুন: ৯৯-১০০) আত্মা যদি মৃত্যুর পর পৃথিবীতে ফিরে না-ই আসতে পারে, তাহলে অনেকে মৃত মানুষকে যে দেখে বলে দাবী করেন, তারা আসলে কাকে দেখেন? হ্যাঁ, সত্যি সত্যি অনেকে মৃত্যুর পরেও তাকে দেখেন।

তবে তারা মৃত ব্যক্তিকে দেখেন না, দেখেন তার রুপকে। আর সে রুপ নেয় জীন। প্রশ্ন আসতে পারে, জীন কেনই বা মৃত ব্যক্তির রুপ নিবে? প্রত্যেক মানুষের সাথে দুজন ফেরেশতা দিনে ও দুজন ফেরেশতা রাতে থাকে (তাফসীরে ইবনে কাসীর)। ফেরেশতা ছাড়াও একজন জীন থাকে, এই জীনকে ক্বারিন জ্বিন বলা হয়। প্রসঙ্গত বলা উচিত, শয়তান জীনদেরই একজন। তবে সব জীন শয়তান না। আল্লাহ বলেন “আর যখন আমি ফেরেশতাদের বলেছিলাম, তোমরা আদমকে সিজদা কর। অতঃপর তারা সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া ।

সে ছিল জিনদের একজন। (সুরা কাহফ: ৫০) এই ক্বারিন জীন হল একটা শয়তান জীন, যার কাজই হল সবসময় মানুষের সাথে থেকে তাকে কুমন্ত্রণা দেওয়া। সব মানুষের সাথেই এই জীন রয়েছে, এমনকি আমাদের নবী (সা) এর সাথেও ছিল। তবে আল্লাহর বিশেষ রহমতে শুধুমাত্র নবী (সা) এর ক্বারিন জীনই ছিল ভাল জীন। রাসুল (সা) বলেন, “তোমাদের প্রত্যেককে জীনদের মধ্য হতে একজন সঙ্গী দেয়া হয়েছে”। সাহাবাগণ জিজ্ঞাসা করলেন, “এমনকি আপনাকেও ইয়া আল্লাহর রাসুল (সা)”? তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তবে এখন সে আমাকে শুধু ভাল করতে বলে।”

(সহিহ মুসলিম) একজন মানুষের সাথে সবসময় সাথে থাকায়, এই ক্বারিন জীন সে মানুষটির নাড়ি নক্ষত্র, সকল কাজ কর্ম সম্পর্কেই অবগত থাকে। কোন গণক বা ফকিরের কাছে গেলেন। আপনাকে দেখেই তিনি বললেন, “তুই গত সপ্তাহে এই কাজ করেছিস।” আপনি অবাক হয়ে গেলেন, সত্যি তাই তো, আমি এই কাজই করেছিলাম। কিন্তু, আসলে ফকির বা গণকের এসব জানার ক্ষমতা নেই। তারা সেই মানুষটার ক্বারিন জীনের সাথে যোগাযোগ করে এর মাধ্যমে জেনে বলে দেয়। তবে, গায়েবি বা অদৃশ্য খবরগুলো জানার ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহ ছাড়া মানুষ-জীন কারোরই নেই।

সুলাইমান (আ) এর মৃত্যুর অনেকদিন পরেও জীনরা গায়েবিভাবে বুঝতে পারেনি তিনি মারা গেছেন কি না, যতক্ষণ না উইপোকার কারণে লাঠি ভেঙ্গে তিনি পরে যান। যারা শয়তানের পুজারি হয়, তাদের বিভিন্ন কাজে শয়তান সাহায্য করে, যাতে তাদের এগুলোকে কারামতি বা বুজুর্গের কাজ মনে করে মানুষ তাদের ভক্ত হয়ে যায় ও শয়তানের পথে তারাও চলতে শুরু করে। জীনদের কিছু বিশেষ ক্ষমতা ও বৈশিষ্ট্যে আছে।

এর একটি হল তারা মানুষের রুপসহ যেকোনো প্রাণীর রুপ নিতে পারে (শুধুমাত্র রাসুল (স) এর রুপ নিতে পারে না)। বদরের যুদ্ধে শয়তান সুরাকা বিন মালিকের রুপ নিয়ে এসেছিল। তাছাড়া অদৃশ্য থেকেও জীনরা বিভিন্ন কথা বলতে পারে বা শব্দ করতে পারে। তবে, জীনরা কখনোই তাদের আসল রুপ (যেরুপে আল্লাহ তাদের সৃষ্টি করেছেন), সে রুপে মানুষের সামনে আসতে পারে না। কেউ যখন আত্মহত্যা করে বা মারা যায়, তার ক্বারিন জীন সঙ্গীহারা হয়ে যায়।

তখন সে মাঝে মাঝে সে ব্যক্তির রুপ নিয়ে চলাফেরা করে। এমনকি কখনো কখনো সে মৃত ব্যক্তির রুপে কারো সামনে এসে বিভিন্ন কথাও বলে। প্রত্যেক মানুষেরই ক্বারিন জীন সে মানুষ সম্পর্কে তার সব কিছুই জানে। তাই, অনেক সময় মৃত ব্যক্তির রুপ নিয়ে এসে এমনভাবে কথা বলে বা এমন তথ্য দেয়, তখন মনে হয় সত্যিই মৃত ব্যক্তিটির আত্মাই এসেছে। শুধু ক্বারিন জীনই নয়, অনেক সময় অন্য শয়তান জীনও মৃত মানুষের রুপ নিয়ে আসে।

যেকোনো শয়তান জীনের উদ্দেশ্যই হয় মানুষকে কষ্ট দেওয়া, ভয় দেখানো, মানুষকে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্ত করে বিশ্বাসকে ভিন্নপথে নিয়ে যাওয়া। কোরআন হাদিস অনুযায়ী মৃত্যুর পর আত্মা কখনোই পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে না। এটা বিশ্বাস করাই ঈমান। অথচ শয়তান জীন মৃত ব্যক্তির রুপ ধরে এসে মানুষের মধ্যে আত্মা ফিরে আসার ভ্রান্ত বিশ্বাস ঢুকে দেয়। তবে, বাস্তবে জীনকে মানুষ খুব খুব খুব কম দেখে।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মানুষ ভুল দেখে বা কল্পনায় মৃত মানুষকে দেখে, যাকে হ্যালুসিনেশন বলে। শয়তান সব সময় মানুষকে ধোঁকা দেওয়ায় লিপ্ত থাকে। শয়তান জীন সবসময় দুর্বল মানুষদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে ও ভয় দেখাতে পছন্দ করে। এই জন্য আল্লাহর উপর বিশ্বাস শক্তিশালী করতে হবে ও সবসময় একমাত্র তাঁর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে। রাসুল (সা) বলেন, “সকাল সন্ধ্যা সূরা ইখলাস এবং সূরা ফালাক্ক ও সূরা নাস তিনবার করে পড়। তাহলে প্রতিটি (ক্ষতিকর) জিনিস থেকে নিরাপত্তার জন্য যথেষ্ট হবে”। (আবু দাউদ)

জোড়া কলা খেলে কি জোড়া সন্তান হয়? কুসংস্কার নাকি সত্যি? ইসলাম কি বলে…

আমাদের সমাজে কিছু প্রচলিত কুসংস্কার রয়েছে যেগুলো অধিকাংশই মানুষের তৈরি করা। কোথাও রওনা দিলে ঝাড়ু, খালি কলসি বা কেউ হাছি দিতে দেখলে অযাত্রা হয়! আসলে ইসলামে এ ধরনের কুসংস্কারের কোনো ভিত্তি নেই।

আমাদের আজকের আলোচনা সমাজের প্রচলিত কুসংস্কারগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি। আর তা হলো জোড়া কলা খাওয়া। শুধু জোড়া কলা কেন কোনো খাবারেরই জোড়া সন্তান জন্মানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখার কোনো ক্ষমতা নেই।

এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কোরআনে পাকে ইরশাদ করেছেন :

لِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يَخْلُقُ مَا يَشَاء يَهَبُ لِمَنْ يَشَاء إِنَاثًا وَيَهَبُ لِمَن يَشَاء الذُّكُورَ – أَوْ يُزَوِّجُهُمْ ذُكْرَانًا وَإِنَاثًا وَيَجْعَلُ مَن يَشَاء عَقِيمًا إِنَّهُ عَلِيمٌ قَدِيرٌ

অর্থ : নভোমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের রাজত্ব আল্লাহ তা’য়ালারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যা-সন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদের দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যাত্ব করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। [সুরা শূরা : ৪৯,৫০]

সুতরাং মহান আল্লাহর পবিত্র কালামে পাকের এই দুটি আয়াত থেকে সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, সবকিছুর ক্ষমতা এক মাত্র মহান আল্লাহর হাতে। তিনি চাইলে যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন।

আরেকটি তথ্য আপনাদের ভুল ভাঙার সুবিধার্থে বলতে হচ্ছে, বর্তমানে অনেক দেশেই দেখা যায় দুইয়ের অধিক সন্তান জন্ম নিচ্ছে। যেমন কিছুদিন আগে আমাদের দেশের খুলনায় এবং রংপুর জেলায় ৫টি করে সন্তান জন্ম হয়েছে। তাহলে তারা কয়টি করে কলা খেয়েছিলেন? আসলে এ ধরনের কথাগুলোর ইসলামে কোনো প্রকার ভিত্তি নেই। তাই এমনসব আলােচনা থেকে নিজে দূরে থাকুন এবং অপরকেও সচেতন করুণ।

জোড়া কলা খাওয়ার কারণে জোড়া সন্তান জন্ম হবে- আমাদের সমাজের এমন একটি কুসংষ্কারের প্রচলন রয়েছে। অনেকে এই কুসংস্কারের কারণে শুধু গর্ভকালীন সময়ই নয়, যেকোনো সময়েই জোড়া কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকেন।

অবার অনেককেই দেখা গেছে, বিয়ে করেননি তারাও এই কলা খাওয়া থেকে বিরত থাকেন। তারা মনে করেন, জোড় কলা খাওয়ার কারণে বিয়ের পর তাদের ঘরে জোড় সন্তান জন্ম নেবে। অথচ ইসলাম এমন কোনো ধারণাকে কখনোই সমর্থন করে না।

প্রাচীনকালে এমন কিছু প্রথা আমাদের সমাজে প্রচলিত ছিল। ঠিক আজো সেই প্রাচীনকালের অকেজো ধারণাগুলোকে আঁকড়ে ধরে আছেন কিছু মানুষ। বিশেষ করে দেখা যায় পরিবারের প্রবীণ লােকদের কাছে এসব কুসংস্কারের কথা শোনা যায় এবং তাদের কাছেই এই প্রথার মূল্য বেশি।

আবার গর্ভবতী মায়েরা কি খেতে পারবেন আর কি খেতে পারবেন না এ নিয়েও রয়েছে আমাদের সমাজে নানা কুসংস্কার। যেমন, জোড়া কলা খেলে যমজ সন্তান জন্ম নেয়। আসলে এ কথাটি নিতান্তই হাস্যকর এবং এর পেছনে না আছে কোনো ইসলামী শরীয়তের নির্দেশনা, না আছে কোনো যুক্তি। ইসলাম কারো মুখের কথায় চলে না এবং চলতে পারে না। তাই এমন বিশ্বাস অবশ্যই বর্জন করা উচিত।

বলিউডে যেসব তারকাদের স্ত্রীরা বয়সে বড়!

প্রেম কোনো বাধা মানে না। তাঁরকাটার বাধন ছিঁড়েও চলে যায় নিষিদ্ধ সীমানায়। তোয়াক্কা করে না কোনো শাস্তির, তা সাধারণ মানুষ থেকে সব স্তরের মানুষের মধ্যে এই হৃদয় ঘটিত বিষয় ঘটে থাকে।

এমন ঘটনা শোবিজ অঙ্গনে অহরহই দেখা যায়। বলিউডে চোখ রাখলেই তার অনেক উদাহরণ মিলে। বলিউড তারকাদের মধ্যে নানা রকম অসম সম্পর্ক দেখা যায়। তার মধ্যে রয়েছে বয়সের ব্যবধানে প্রেম। শুধু প্রেম নয়, তা গড়ায় বিয়ে পর্যন্তও। বলিউডের এমন দম্পতি রয়েছেন, যাদের স্ত্রী স্বামীর চেয় বয়সে বড়। বলিউডের এমন ৪ জুটি নিয়ে সাজানো হয়েছে এই প্রতিবেদন।

অভিষেক-ঐশ্বরিয়া
১. অভিষেক বচ্চন-ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন: অভিষেকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ানোর পূর্বে প্রেমে মজেছিলেন সালমান খান ও বিবেক ওবেরয়ের সঙ্গে। কিন্তু সর্বশেষ অভিষেকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন ঐশ্বরিয়া। প্রেমিক অভিষেক বচ্চনের চেয়ে দুই বছরের বড় বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া। তবে বয়স কোনো বাধা হয়ে দাড়ায়নি। বিয়ের পর তাদের কোলজুড়ে এসেছে আরাধ্যা নামে একটি কন্যাসন্তান। বেশ সুখেই দিনাতিপাত করছেন এই জুটি।

সাইফ-অমৃতা
২. সাইফ আলি খান-অমৃতা সিং: নবাব পুত্র সাইফ আলি খান। ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে প্রেমে মজেছিলেন তার চেয়ে বয়সে ১৩ বছরের বড় অভিনেত্রী অমৃতা সিংয়ের সঙ্গে। ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এই জুটি। তাদের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। কিন্তু ২০০০ সালে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে সাইফ-অমৃতার। সাইফ তারপর প্রেমে মজেন বলিউড অভিনেত্রী কারিনা কাপুরের সঙ্গে। ২০১২ সালে কারিনাকে বিয়ে করে সংসারে থিতু হয়েছেন সাইফ।

সোহা আলি-কুনাল
৩. সোহা আলি-কুনাল খেমু: ২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া বলিউডের ‘৯৯’ সিনেমায় কুনাল ও সোহা একসঙ্গে কাজ করেন। একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই থেকে চুটিয়ে প্রেম করছিলেন তারা। নবাব পরিবারের এই কন্যার চেয়ে বয়সে ৪ বছরের ছোট কুনাল খেমু। অবশেষে ২০১৫ সালে গাঁটছড়া বাঁধেন এই জুটি। এখন বেশ আনন্দেই দিন কাটছে এই দম্পতির।

অর্জুন-মেহের
৪. অর্জুন রামপাল-মেহের রামপাল: বলিউড অভিনেতা অর্জুন রামপাল। মডেলিং করতে গিয়েই পরিচয় ঘটে বলিউড অভিনেত্রী মেহের রামপালের সঙ্গে। তারপর ভালো লাগা ভালো বাসা। এই ভালোবাসার লুকোচুরি খুব বেশিদিন করেননি তারা। মাত্র দুই বছর প্রেম করে ১৯৯৮ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন এই জুটি। মেহের অর্জুনের চেয়ে দুই বছরের বড়। ২০১৫ সালের দিকে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের গুঞ্জন উঠেছিল। পরবর্তীতে যদিও তা মিথ্যে বলে প্রমাণিত হয়।

জানেন কি বয়সে বড় মেয়েদের বিয়ে করলে কি হয়

বয়সে ছোট মেয়েকেই স্ত্রী হিসেবে পেতে চান বেশির ভাগ মানুষ। এর পেছনে অনেক যুক্তিও দেখান তারা। কিন্তু জানেন কি বয়সে বড় মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করার কতো লাভ আছে। এর উদাহরণও রয়েছে।

অভিষেক-ঐশ্বরিয়া থেকে সচিন-অঞ্জলি, তরকা জগতে বয়সে বড় মেয়েকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করার উদাহরণ ভুরিভুরি।

তবে শুধুই সেলিব্রেটি নয়, আজকাল নিজেদের আশেপাশে একবার চোখ মেললেই এমন উদাহরণ প্রায়ই দেখা যায়।

বয়সে বড় মেয়েরা স্বাভাবিকভাবেই ছোট মেয়েদের তুলনায় অনেক ভালোভাবে গুছিয়ে কথা বলতে পারে। যা ছেলেদের আকৃষ্ট করে বেশি।

বয়সে বড় মেয়েরা ছোটদের মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন না। তাদের কনফিডেন্স ছেলেদের আকৃষ্ট করে।

অনেক সময়ই দেখা যায় বয়সে বড় হওয়ায় এই সমস্ত মেয়েরা স্বাবলম্বী হয়। ফলে সবসময় ছেলেদের পকেটেই টান পড়ে না। কিছু সময় মেয়েরাও আর্থিক দিকটি সামলে নেন।

ছেলেমানুষি কম থাকে। ফলে এই মেয়েরা কথায় কথায় ঝগড়াঝাঁটি, কান্নাকাটি বা পাবলিক প্লেসে ভুলভাল আচরণ কম করে।

এই মেয়েরা অনেক বেশি বুঝদার হন এবং জীবনের সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেন।

বড় মেয়েরা আপনাকে বলবে ছোট সমস্যাগুলো হাল্কাভাবে নিতে। শেখাবে কীভাবে বড় বড় সমস্যাগুলোও সহজে সমাধান করতে হয়।

অনেক পুরুষই শারীরিক সম্পর্কে অভিজ্ঞ বা পরিণত মহিলাদের বেশি পছন্দ করেন।

এই ধরনের মেয়েদের সঙ্গে প্রেম করার অনেক সুবিধা রয়েছে। তারা অনেক পরিণতমনস্ক হয়। তাই দাম্পত্য জীবনে বোঝাপড়াতেও সুবিধা হয়।

পরিণত বয়সের হওয়ায় এই মেয়েরা কোনো কিছু নিয়েই জীবনে খুব একটা চাপ নেয় না। আর স্বভাবে শান্ত হয়। আর এ ধরনের মহিলাদের অনেক পুরুষই পছন্দ করেন।

সাধারণত এই মেয়েরা আপনাকে বিচার না করে বুঝতে চেষ্টা করে। কীভাবে জীবনে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে হয় তাও শেখায়।

এই মেয়েরা চট করে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে আপনার সব কথা মনে দিয়ে শোনে।
আপনার চেয়ে বড় হওয়ায় সে বুঝতে পারে কোনো সম্পর্ক বা সিদ্ধান্তের জন্য ভবিষ্যতে আপনাকে কষ্ট পেতে হতে পারে।