All posts by lutfor

মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হলেন জান্নাতুল নাঈম

জমকালো পরিসরে শুক্রবার রাতে পর্দা ওঠে লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ, ২০১৭-এর গ্র্যান্ড ফিনালের। প্রায় ২৫ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে জমকালো এ আয়োজনে বিচারকরা চূড়ান্ত বিজয়ী নির্বাচিত করেন। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ হন জান্নাতুল নাঈম।
রাজধানীর বসুন্ধরা ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারের (আইসিসিবি) নবরাত্রি হলে এই আয়োজনের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা শুরু হয়।
প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার বিজয়ী জান্নাতুল নাঈম চীনে অনুষ্ঠেয় মিস ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এতে সারাদেশ থেকে বাছাইকৃত সেরা দশপ্রতিযোগির মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হলেন এভ্রিল। এতে প্রথম রানার আপ হয়েছেন জেসিয়া ইসলাম, দ্বিতীয় রানার আপ হন জান্নাতুন সুমাইয়া।

অনুষ্ঠানের উপস্থাপক শিনা চৌহানের নাচের পর একে একে মঞ্চে আসেন চূড়ান্ত ১০ জন প্রতিযোগী। হলভর্তি হাজারো দর্শকের সামনে একে একে নিজেদের পরিচয় দেন তাঁরা।

এরপর প্রত্যেকেই নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কথা বলেন। নাচ, একাধিক ফ্যাশন কিউ এর মধ্য দিয়ে নিজেদেরও তুলে ধরেন প্রতিযোগীরা।
গত আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ‘লাভেলো মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৫ হাজার প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন।
এ প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা শীর্ষ ১০ প্রতিযোগীর মধ্যে অন্যরা হচ্ছেন- রুকাইয়া জাহান চমক, জান্নাতুল নাঈম অভ্রিল, জারা মিতু, সাদিয়া ইমান, তৌহিদা তাসনিম তিফা, মিফতাহুল জান্নাত, সঞ্চিতা রানী দত্ত, ফারহানা জামান তন্দ্রা, জান্নাতুল সুমাইয়া হিমি এবং জেসিকা ইসলাম।

গ্র্যান্ড ফিনালে বিচারক হিসেবে ছিলেন; অভিনেত্রী শম্পা রেজা, আলোচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ, জাদু শিল্পী জুয়েল আইচ, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল, রুবাবা দৌলা মতিন।

অনুষ্ঠানের টাইটেল স্পন্সর লাভেলো ছাড়াও মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের সঙ্গে আরো রয়েছে ক্রাউন স্পন্সর আমিন জুয়েলার্স, সজীব গ্রুপ, রংধনু গ্রুপ, ভিশনসহ আরো অনেক পার্টনার এবং অ্যাসোসিয়েটরা।
অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এনটিভিতে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনটিভির পরিচালক মাহবুবা সুলতানা।

যে বিয়ে ছিলো দুনিয়া জুড়ে আলোচনার বিষয় , জানুন কি সেই আলোচনার বিষয় !!

আরব্য রজনীতে জৌলুসময় যে বর্ণনা রয়েছে, সেটাই ২১ শতকে নতুন মাত্রায় দেখা গেল ব্রুনেইতে। দেশটির সুলতান বিশ্বের অন্যতম ধনী। তার ছেলের বিয়ে কী সাধারণভাবে হতে পারে। ক্রিস্টাল-খচিত জুতা, কোয়েলের ডিম আকৃতির পান্না, রত্নপাথরের পুষ্পস্তবকে ফুটে ওঠেছিল জাঁকজমকের প্রদর্শনী।

বরের নাম প্রিন্স আবদুল মালিক, বয়স ৩১। সুলতান হাসান আল বলকিয়াহ ও রানি সালেহার সর্বকনিষ্ঠ সন্তান তিনি। সুলতান হওয়ার দৌড়ে এই প্রিন্সের অবস্থান দ্বিতীয়।

আর কণে দায়াঙকু রাবিয়াতুল আদাবিয়াহ পেনজিরান হাজি বলকিয়াহ। বয়স ২২। তিনি একসময় ছিলেন ডাটা এনালিস্ট ও আইটি ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করতেন।

অনুষ্ঠানটা হয় রাজধানী বন্দর সেরি বেগাবনে সুলতানের রাজপ্রাসাদ ইতসানা নুরুল ইমানে। বাস করা হয়, এমন প্রাসাদগুলোর মধ্যে এটাই বিশ্বে বৃহত্তম। এতে রয়েছে ১,৭৮৮টি কক্ষ, পাঁচটি সুইমিং পুল, ২৫৭টি বাথরুম ও ১১০টি গাড়ি রাখার মতো গ্যারেজ। অতিথিকক্ষে একসাথে পাঁচ হাজার অতিথি বসতে পারেন।

রাজকীয় বিয়ে। তাই অতিথিদের সংখ্যাও কম ছিল না। অনুষ্ঠানে তাদেরও জৌলুসময় উপস্থিতি দেখা যায়। ব্রুানেই টাইমসের মতে, বিশিষ্ট অতিথিদের মধ্যে মালয়েশিয়ার সাতটি রাজ্যের শাসক, সৌদি আরবের এক গভর্নর ছিলেন।

উৎসব শুরুহয় ৫ এপ্রিল। ১১ দিনের অনুষ্ঠান শেষ হবে ১৫ এপ্রিল। তবে তারা জনসম্মুখে উপস্থিত হন এই রোববারই। এটাই ছিল পুরো উৎসবের মূল আকর্ষণ।

অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল স্থানীয় একটি প্রথা দিয়ে। এ সময় বরের এক প্রতিনিধি কণের পরিবারে গিয়ে বিয়ের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেন। তারা তাতে সম্মতি দিলে তবেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ের কাজ শুরু হয়। প্রথম পর্বে হয় পরিশুদ্ধ করার পর্যায়। এতে উভয় পরিবারের সদস্যরা বর-কণেকে বিভিন্ন পাউডার ও তেল মেখে গোসল করান। তারপর হয় উপহার পর্ব।

মূল অনুষ্ঠানে খলিফা হারুন অর রশিদের বাগদাদই যেন নেমে এসেছিল ব্রুনেইয়ের রাজধানীতে। বর-কণের পরনে স্থানীয় ঐতিহ্যের সাথে মিল রেখে মূল্যবান পোশাক। তাদের বসার জন্য যে চেয়ার দুটি ছিল সেগুলোকে সিংসাহসনই বলা ভালো। নববধূ রাবিয়াতুলের হাতে যে তোড়াটি ছিল, সেটি ফুলের নয়, রত্নপাথরের। হীরার তৈরি তার নেকলেসটির ঠিক মাঝখানে আঙুর আকৃতির তিনটি পান্না শোভা পাচ্ছিল। এর সাথে মানানসই করে তৈরি করা হীরার ব্রোচে ডিম আকৃতির দুটি পান্না শোভা পাচ্ছিল।

জুতা থেকে শুরু করে পোশাকের প্রতিটি অনুষঙ্গই ছিল বিশেষভাবে তৈরি করা। মণি-মানিক্যের ব্যবহার কোথাও কম দেখা যায়নি, বরং অনেক ক্ষেত্রে জৌলুষ উপচে পড়তে চেয়েছে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে রাজকীয় প্রহরীরা আনুষ্ঠানিক ঢাল ও বর্শা নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে।
দোয়া অনুষ্ঠানে নবদম্পতি পাশাপাশি বসেন। নববধূর জন্য বিশেষভাবে দোয়া করার সময় একপর্যায়ে সুলতান তার হাত ছেলের হাতে রেখে স্নেহের পরশ বুলিয়ে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ছিল বিলাসবহুল ভোজ। ১৫ এপ্রিল শুকরিয়া নামাজ দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হবে।
সুলতান বিয়ে করেছেন মোট তিনটি। তা থেকে তার মোট সন্তান ১২টি। এদের পাঁচটি ছেলে, সাতটি মেয়ে। প্রিন্স আবদুল মালিক হলেন সুলতান ও তার বর্তমান স্ত্রী রানি সালেহার (তাদের বিয়ে হয়েছিল ১৯৬৫ সালে) ষষ্ঠ সন্তান।

পূর্ব এশিয়ার বর্নিও উপকূলে ব্রুনেইয়ের অবস্থান। মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার কাছে অবস্থিত দেশটি আয়তনে কম। তবে তেল ও গ্যাসের বিপুল মজুত রয়েছে দেশটিতে। অধিবাসীদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ মালয় মুসলিম। ১৫শ’ শতক থেকেই দেশটির অস্তিত্ব দেখা যায়। ১৯৮৪ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে তারা স্বাধীনতা পায়।

পৃথিবীর ভয়ংকর ও ভূতুড়ে জায়গা!

আমাদের সবার জীবনেই কোনো না কোনো সময় এমন কিছু অভিজ্ঞতা আমাদের সবারই হয়েছে জীবনে কখনও না কখনও। কোনো কোনো সময় আমরা কিছু একটা ভূতুড়ে অনুভূতি বলে বোধ করি, কখনও বা স্রেফ পাশ কাটিয়ে চলে যাই খেয়াল না করে। আবার কখনও এমনও হয় যে কিছু লোকের কল্পনার মাত্রা অন্যদের চেয়ে বেশী এবং তারা সাধারণ ঘটনাকেও অপ্রাকৃতিক বলে ভাবতে শুরু করে। জেনে নিন কিছু স্হানীয় ভূতুড়ে ঘটনা যারা নিজেদের পরিচয় তো দিয়েছে কিন্তু তাদের কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।

১) পুরোনো চাঙ্গী হসপিটাল, সিঙ্গাপুরঃ
এই হাসপাতালটি তৈরী হয়েছিল ১৯৩৫ সালের দিকে। কিন্তু এখন এটা জাপানীরা এটি দখল করে নেয়। জাপানীরা এটাকে গোপন অত্যাচারের ঘাঁটি বানায় এবং যুদ্ধ বন্দিদের নিয়ে এসে নীপিড়ন করত। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধর পর ১৯৯৭ সালে এটিকে নতুন চাঙ্গী হাসপাতালে পরিণত করা হয়। কিন্তু রুগীরা আজ অবধি শান্তিতে থাকতে পারেনি। জোরে চিৎকার ও দরজায় দাপাদাপি আজও শোনা যায় হাসপাতালে।

২) আইল্যান্ড অফ ডলস্, মেক্সিকোঃ
একটি ছোট্ট মেয়ে জলে ডুবে মারা যায় জোকিমিলকো মেক্সিকোর কৃত্রিম দ্বীপে। ১৯৫০ সালে একজন এই জায়গায় থাকতে আসেন সেই নালার কাছে যেখানে সেই মেয়েটি মারা যায়। ছোট্ট মেয়েটির আত্মা মাঝে মাঝেই এসে বিরক্ত করত লোকটিকে। আত্মাকে খুশি করার জন্য লোকটি অনেক পুতুল কিনে ওই দ্বীপের চারপাশে ঝুলিয়ে রাখত।২০০১ সালে লোকটি মারা যায় ওই একই জায়গায় যেখানে আগে মেয়েটি মারা গেছিল।

৩) ভানগড় দুর্গ, রাজস্থানঃ
ভারতবর্ষের রাজস্হানে আলওয়ার জেলায় এটি একটি পরিত্যক্ত দু্র্গ। লোকের বিশ্বাস যে এখানে তান্ত্রিকের অভিশাপ আছে। এক বেপরোয়া তান্ত্রিক রাজকুমারীর প্রেমে ব্যর্থ হয়ে অভিশাপ দেন যে ওখানে কোনো বাড়ির ছাদ থাকবে না। আজ অবধি কোনো বাড়ির ছাদ নেইও। জায়গাটি পরিত্যক্ত ও আজ অবধি ভারতবর্ষের অন্যতম ভূতুড়ে জায়গা।

৪) চাটাউ ডে ব্রিসাক, ফ্রান্সঃ
এই সুরক্ষিত প্রাসাদটি একাদশ সতকের সাক্ষী এক বিভৎস জোড়া খুনের। সবুজ রং-এর পোশাক পরিহিত এক মহিলাকে দেখা যায়, মুখটা পচা গলা মৃতদেহর মত। খুনের সবুজ রং-এর পোশাক পরিহিত এই মহিলা হাহাকার ও আর্তনাদ করে ঘুরে বেড়ান।

৫) আওকিঘারা জঙ্গল, জাপানঃ
এই কুখ্যাত প্রাণঘাতক জঙ্গলটি মাউন্ট ফুজির পায়ের কাছে। প্রতি বছর অনেক মানুষের মৃত্যু ঘটে এই জঙ্গলে। যদিও সরকার আসল সংখ্যাটি গোপন রাখে। ঘন জঙ্গল হাওয়ার গতি রোধ করে এবং এর সাথে জড়িত দৈত্য দানবের গল্প আরও ভয়াবহ করে তোলে জায়গাটিকে। মৃতরা মরার পরেও যেতে চাইছে না ওখান থেকে এবং তাদের সেই আর্তনাদ আজও শোনা যায়।

‘সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি’

১ অক্টোবর প্রবীণ দিবস। বর্তমানে দেশের প্রবীণদের অবস্থা লিখেছেন দোহার থেকে শওকত আলী রতন ও মানিকগঞ্জ থেকে আবদুর রাজ্জাক। সব জায়গায়ই প্রবীণরা অবহেলার শিকার। আমরা চাই যত্নে থাকুন প্রবীণরা। সব প্রবীণকে প্রবীণ দিবসে শুভেচ্ছা।

প্রবীণ শব্দটা শোনামাত্রই আমাদের চোখের সামনে যে ছবিটা ভেসে ওঠে, তা হলো একজন শুভ্রকেশধারী মানুষ, যিনি বয়সের ভারে ও বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় কাতর। কেউ কেউ অসহায়ভাবে জীবনযাপন করে থাকেন। আমরা তাদের সম্মান মর্যাদা কতখানি দিয়ে থাকি জানি না, তবে অযত্ন-অবহেলা ও উপেক্ষা করতে পারলে যেন বাঁচি। মনে করে থাকি বৃদ্ধ আর ক’দিন বাঁচবে? তার জন্য সময় নষ্ট করার দরকার কী? এটা কখনো আমাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বা মূল্যবোধ হওয়া উচিত নয়।

প্রবীণ শরিফা বেওয়ার বয়স ৭০ পেরিয়েছে বছরখানেক আগেই। মানিকগঞ্জের বরংগাইল এলাকায় থাকেন অন্যের দয়ায় এক পরিত্যক্ত ভিটেবাড়িতে। দুই মেয়ে ও এক শিশু ছেলেকে রেখে স্বামী মারা যাওয়ার পর শরিফা বেওয়ার দুঃখের জীবনের শুরু। জীবনের তাগিদে আর সন্তানদের মুখে দু’মুঠো খাবার জোগাড় করতে তিনি মাটি কাটার কাজ, অন্যের বাড়িতে, হোটেলে ঝিয়ের কাজ করেছেন। সূর্য ওঠার আগেই শুরু হতো তার জীবন সংগ্রাম; সূর্য ডোবার পরও যেন তা শেষ হওয়ার নয়। এমনি করে কেটে গেছে জীবনের ৩০টি বছর।

ছেলের পড়াশোনা আর মেয়ে দু’জনকে বিয়ে দিতে বিক্রি করতে হয় স্বামীর শেষ সম্বল ভিটেটুকু। ছেলে এখন বিয়েশাদি করে গাজীপুরে থাকে, স্বামী-স্ত্রী দু’জনই পোশাক তৈরি কারখানায় চাকরি করে। ছেলেমেয়েরা বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে থাকলেও খোঁজ নেয় না বৃদ্ধ মায়ের। বয়স হয়ে গেছে, এখন আর আগের মতো শক্তি-সামর্থ্য নেই। তবুও পেটের তাগিদে তার জীবন যুদ্ধ যেন ফুরায় না। অন্যের আশ্রয়ে, অন্যের কাছে হাত পেতে জীবনকে ঠেলে নেয়ার শেষ চেষ্টারত দুঃখিনী শরিফা বেওয়া আহাজারি, ‘আল্লাহ এত মানুষ নেয়, আমারে ক্যান মরণ দেয় না।’

রাশেদা বেগম নামের ৭৩ বছরের এক মায়ের ‘দুই ছেলে ও এক মেয়ে আছে। স্বামী মারা যাওয়ার পর ভাইয়ের আশ্রয়ে ছিলেন। ভাই মারা যাওয়ার পর ছেলে তাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে গেছে। সেই যে গেছে, আর কোনো দিন দেখতে আসেনি। আমাকে একটু জায়গা দিলে ওদের কী এমন অসুবিধা হতো? তার পরও আমি তো মা। তাই তো সব সময় চাই, আমার ছেলেমেয়েরা ভালো থাকুক, আরো বড় হোক।’ জীবনের পড়ন্ত বেলায় বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই হয়েছে তার। বছর সাতেক আগে গাজীপুরের মনিপুর বিশিয়া এলাকার বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্রে আশ্রয় নেন তিনি।

ছেলে আমার মস্ত মানুষ, মস্ত অফিসার/মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি/সবচেয়ে কম দামি ছিলাম একমাত্র আমি।’… জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তীর গাওয়া এই গানের মতোই কম দামি বনে যাওয়া রাশেদা বেগমের মতো আরো অনেকেরই জীবনসায়াহ্নে এসে ঠাঁই নিয়েছেন এখানে। আবার শরিফা বেওয়ার মতো অনেক অসহায় প্রবীণ জীবন যন্ত্রণা আর স্বজনদের উপেক্ষার শিকার হয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিজের মৃত্যু কামনা করে বেঁচে আছেন। আত্মীয়স্বজন, সন্তানের সান্নিধ্য, সন্তানকে একটু দেখার জন্য যেন কাঙালের মতো পথ চেয়ে থাকেন উপেক্ষার শিকার একেকজন প্রবীণ। প্রিয় সন্তান তাদের দূরে ঠেলে দিলেও দিনমান সেই সন্তানেরই মঙ্গল কামনা করেন তারা।

আগেকার সমাজে বৃদ্ধজন বেশ সম্মানিত ও শ্রদ্ধেয় ছিলেন। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বৃদ্ধদের ওপর এই শ্রদ্ধা ও সম্মান অক্ষুণœ ছিল। বিশেষ করে প্রাচ্য সমাজে বৃদ্ধদের প্রতি শ্রদ্ধা সম্মান প্রদর্শনের ঐতিহ্য আজো মোটামুটি লক্ষ করা যায়। পক্ষান্তরে, শিল্পোন্নত দেশগুলোয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিকতার ভিত্তি নড়বড়ে হওয়ায় বৃদ্ধদের মর্যাদা কমে গেছে। সেখানে প্রবীণদের বস্তুগত কল্যাণ ও সমৃদ্ধির ব্যাপারে অবশ্য চেষ্টা যে হচ্ছে না, তা নয়। প্রাচ্যের বৃদ্ধজনেরা যেমন সম্মান ও যতœ পান পুরো সমাজ ও পরিবারের পক্ষ থেকে পশ্চিমা সমাজে তেমনটি নেই। উন্নত সমাজের বস্তুতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিই এর জন্য দায়ী বলে মনে করেন বিশিষ্টজনেরা।

ইসলাম বৃদ্ধদের শ্রদ্ধা ও সম্মান দিয়েছে। রাসূলে সা: বলেছেন : যে ব্যক্তি একজন বয়োবৃদ্ধের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করবে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাকে কিয়ামতের দিন সব ভয়ভীতি আশঙ্কা থেকে নিরাপদ রাখবেন। বৃদ্ধদের শ্রদ্ধা বা সম্মান করা আর ছোটদের স্নেহ করা ইসলামি নৈতিকতার অন্যতম বিধান। লেখকঃ আবদুর রাজ্জাক

আগামী সংসদ নির্বাচনে লড়বেন অভিনেতা সিদ্দিক

অভিনয় করে এরই মধ্যে নিজের জনপ্রিয়তা ভালোই অর্জন করেছেন ছোট পর্দার অভিনেতা সিদ্দিক। দীর্ঘদিন ধরেই শুধু অভিনয়ই নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন তিনি। এবার সেই জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চলেছেন। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংসদ সদস্য হয়ে জনগণের সেবার পরিধি বৃদ্ধি করার।

জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনে টাঙ্গাইল-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য (এম পি, মেম্বার অব পার্লামেন্ট) হিসেবে নির্বাচনে লড়বেন এই অভিনেতা। এবার হতে চান সংসদ সদস্য। যার কারণে ২০১৯ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ এলাকা মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা (টাঙ্গাইল-১) আসন থেকে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রার্থী তিনি।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিদ্দিক নিজেই।

সিদ্দিক বলেন,‌ ‘মানুষের জন্য কাজ করতে চাই আমি সবসময়। যখনই সুযোগ পাই, কারও জন্য কিছু করার চেষ্টা করেছি। সেই ভাবনা থেকেই সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা আমার অনেক দিনের। ক্ষমতাকে মানুষের কল্যাণে লাগিয়ে ভালো কিছু করতে চাই। এরইমধ্যে একটু একটু করে আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নির্বাচনে অংশ নেব।’

টিভি নাটকের জনপ্রিয় এই অভিনেতা বলেন, ‘পারিবারিকভাবে আমরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্রজীবনেও আমি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। এবার আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচনে অংশ নেয়ার ইচ্ছা আছে। এখন পর্যন্ত ৩০টির বেশি জনসংযোগ করেছি এলাকায়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে ২০০৭ সাল থেকে আমি সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

সিদ্দিক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ফিরবেন। ওইদিন বিকেলে তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা রয়েছে। সেদিন সবকিছু চূড়ান্ত হবে। এরচেয়ে বেশি কিছু এখন বলতে চাই না।’

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে থিয়েটার করতেন সিদ্দিকুর। এরপর অভিনয় শুরু করেন টিভি নাটকে। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য জনপ্রিয় নাটকের মধ্যে রয়েছে কবি বলেছেন, হাউজফুল, মাইক, হাম্বা, গ্র্যাজুয়েট, চৈতা পাগলা, রেডিও চকলেট ইত্যাদি। এছাড়া ২০১৩ সালে ‘এইতো ভালোবাসা’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেবে, মধ্যস্থতা করবে না ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারত কেবল বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেবে,রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে মধ্যস্থতার ভূমিকা নেবে না ।ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের বরাতে এ খরব দিয়েছে রাশিয়ার সরকার নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা স্পুটনিক।
ভারতের পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে রোহিঙ্গা উদ্বাস্তু সংকট নিরসনে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেয়ার কোনো পরিকল্পনা দিল্লির নেই। ভারত কেবলমাত্র বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা দেবে।
খবরে ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র রাজিভ কুমারকে উদ্বৃত করে বলা হয়, ভারত অপারেশন ইনসানিয়াত-এর আওতায় এ পর্যন্ত তিন দফায় মানবিক সহায়তা দিয়েছে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশের সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে ভারত। রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের ত্রাণ সরবরাহে দুই দেশ সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করছে। উদ্বাস্তু ইস্যু মোকাবেলায় বাংলাদেশকে পূর্ণ সহযোগিতা দিতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা বন্ধে মিয়ানমারের ওপর ভারতের প্রভাব কাজে লাগানোর জন্য বাংলাদেশ অনুরোধ করেছিল বলে খবরে উল্লেখ করা হয়।
রাশিয়ার সংবাদ সংস্থার অপর এক খবরে বলা হয়েছে, রাখাইনের সংঘাতপূর্ণ এলাকায় কূটনীতিক পাঠাতে ভারত আগ্রহী নয়। তবে ভারতের সংবাদ মাধ্যম রাখাইন রাজ্যে যেতে পারে।
সদ্য সমাপ্ত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে আগামী সোমবার বিদেশী কূটনীতিক ও সংবাদ মাধ্যমকে রাখাইনে নিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিল মিয়ানমার।

আগামী সোমবার থেকে ইসির সংলাপ ফের শুরু

স্টাফ রিপোর্টার:
টানা এক সপ্তাহ বিরতির পর আগামী সোমবার থেকে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ফের সংলাপে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সোমবার সকাল ১১টায় বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন সংলাপে অংশ নেবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) খান. মো. নুরুল হুদা অনুষ্ঠেয় এ সংলাপের সভাপতিত্ব করছেন।
সিইসি ছাড়া নির্বাচন কমিশনার, কমিশন সচিব-অতিরিক্ত সচিবসহ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে তাদের মতামত দিচ্ছেন।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কমিশন এই সংলাপের আয়োজন করেছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), সীমানা পুনর্বিন্যাস, ভোটার তালিকাসহ নির্বাচনী বিধি-বিধান এই সংলাপের বিষয়বস্তু হিসেবে নির্বাচিত রয়েছে। রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এর আগে গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসে ইসি।
গত ২৪ আগষ্ট থেকে শুরু হওয়া এ সংলাপ চলতি মাসেই শেষ হবে। এতে নিবন্ধিত ৪০টি দল অংশ নিচ্ছে।
ইতোমধ্যে একডজন দলের সাথে শেষ হয়েছে কমিশনের সংলাপ।
বাকি ২৮ দলের সাথে সংলাপ হবে যা সোমবার থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।
এর পর ৪ অক্টোবর বেলা ১১টায় বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি); ৫ অক্টোবর বেলা ১১টায় বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বিকেল তিনটায় জাকের পার্টি, ৮ অক্টোবর বেলা ১১টায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বিকেল তিনটায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), ১৮ অক্টোবর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সংলাপে অংশ নেবে; যা ইসি থেকে চিঠি দিয়ে নিশ্চিত করেছে।
এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় গণফ্রন্ট, বিকেল তিনটায় গণফোরাম এবং ২১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিকেল তিনটায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ইসির সংলাপে বসার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারির আগের ৯০ দিনের মধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

আজ ১০ মহররম :পবিত্র আশুরা

আজ ১০ মহররম। পবিত্র আশুরা। কারবালার শোকাবহ ঘটনাবহুল এ দিনটি মুসলিম জাতির কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলিম বিশ্বে ত্যাগ ও শোকের প্রতীকের পাশাপাশি বিশেষ পবিত্র দিবস হিসেবে দিনটি পালন করা হয়। বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পালিত হবে।
প্রায় ১ হাজার ৩৩৫ বছর আগে এই দিনে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) কারবালা প্রান্তরে শহীদ হন।
১০ মহরম হযরত ইমাম হোসেইন (রা.) এবং তার পরিবার ও অনুসারীরা সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে ফোরাত নদীর তীরে কারবালা প্রান্তরে ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শহীদ হন। এ ঘটনা স্মরণ করে বিশ্ব মুসলিম সম্প্রদায় যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি পালন করে থাকে। শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম ইসলামের মহান আদর্শকে সমুন্নত রাখতে তাদের এই আত্মত্যাগ মানবতার ইতিহাসে সমুজ্জ্বল হয়ে রয়েছে।
কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ও পবিত্র আশুরার শাশ্বত বাণী সবাইকে অন্যায় ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং সত্য ও সুন্দরের পথে চলতে প্রেরণা যোগায়।
এ ছাড়া ১০ মহররম আশুরার দিন মহান আল্লাহতায়ালা পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং আবার এদিন কেয়ামত ঘটাবেন। এর বাইরে এদিন হযরত ইব্রাহিম (আ.) নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে রক্ষা পেয়েছেন, হযরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পান। এ রকম অসংখ্য ঘটনায় তাৎপর্যমন্ডিত এ দিনটি মুসলিম সম্প্রদায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করে থাকে। দিবসটি উপলক্ষ্যে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন,‘ ইসলাম শান্তি ও সম্প্রীতির ধর্ম। এখানে হানাহানি, হিংসা, দ্বেষ বা বিভেদের কোন স্থান নেই।’ পবিত্র আশুরার এই দিনে সাম্য, ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, সংহতি ও অব্যাহত অগ্রগতি কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
দিবসটি উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন মহররম মাসের প্রথম দশ দিন নানা ধরনের শোক-কর্মসূচি পালন করে থাকেন। আশুরার দিনে শোকের আবহে তাজিয়া মিছিল বের করেন তারা। মূলত ইমাম হোসেইন (রা.)-এর সমাধির প্রতিকৃতি নিয়ে এই মিছিল বের হয়। আরবি ‘তাজিয়া’ শব্দটি শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করতে ব্যবহার করা হয়।
রাজধানীতে আশুরা উপলক্ষে পুরান ঢাকায় হোসেনি দালান থেকে তাজিয়া মিছিল হলেও মোহাম্মদপুর, মিরপুর, বকশিবাজার, লালবাগ, পল্টন, মগবাজার থেকেও আশুরার মিছিল বের হয়। হাজারও মানুষ এই শোক মিছিলে ‘হায় হোসেন, হায় হোসেন’ মাতম তুলে অংশ নেয়।

‘আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশুরার মহান শিক্ষা নিয়ে সব অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় জীবনে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে আশুরার মহান শিক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে আমি সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

শনিবার পবিত্র আশুরা উপলক্ষে এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র আশুরা মানব ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। এ দিনটি বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র।

হিজরি ৬১ সালের ১০ মহররম মহানবী হযরত মুহম্মদ (স.) এর প্রিয় দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (রা.) ও তার পরিবারবর্গ কারবালা প্রান্তরে শাহাদাতবরণ করেন। সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় তাদের এ আত্মত্যাগ মুসলিম উম্মাহর জন্য এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে আছে বলে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন।

সৌদি আরবে মহিলারাও ফতোয়া জারির অধিকার পেলেন

কট্টর ধর্মীয় রক্ষণশীলতার কারণে সৌদি মহিলারা অনেক অধিকার থেকে বঞ্চিত
সৌদি আরবে এখন থেকে মহিলারাও ফতোয়া জারি করতে পারবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির শুরা কাউন্সিল।
শুরা কাউন্সিলে বিপুল ভোটে মহিলাদের ফতোয়া জারির অধিকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মাত্র দুদিন আগে সৌদি আরব মেয়েদের গাড়ি চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছিল।
বিশ্লেষকরা সৌদি আরবের এসব সিদ্ধান্তে সুদূরপ্রসারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখছেন।
তেলের দাম পড়ে যাওয়ায় সৌদি আরব এখন বিরাট অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক সংকেটর মুখে পড়েছে।
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন নানা ধরণের সংস্কারের মাধ্যমে তার দেশকে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
শুরা কাউন্সিলে মহিলাদের ফতোয়া জারির অধিকার প্রদানকে সেই লক্ষ্যেই আরেকটি পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে শুরা কাউন্সিলের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হলে সৌদি বাদশাহকে একটি রাজকীয় ফরমান জারির মাধ্যমে মহিলা মুফতির পদ তৈরি করতে হবে।
সৌদি আরবের যে কট্টর রক্ষণশীল ভাবমূর্তি, এসব সিদ্ধান্তের ফলে সেই ভাবমূর্তি অনেকখানি কাটিয়ে তোলা যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।বিবিসি