All posts by lutfor

সু চিকে অপমান, অক্সফোর্ড থেকে সরানো হলো ছবি

চলমান রোহিঙ্গা সংকটের প্রেক্ষাপটে সমালোচনার মুখে থাকা মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির একটি প্রতিকৃতি সরিয়ে নিয়েছে অক্সফোর্ডের একটি কলেজ।
রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়ায় শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির সমালোচনা চলছে বিশ্বজুড়ে।

সহিংসতা থেকে বাঁচতে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
মিয়ামারেরর সেনাবাহিনীর আচরণকে জাতিগত নিধনযজ্ঞের সাথে তুলনা করেছে জাতিসঙ্ঘ।
আর এর মধ্যেই অক্সফোর্ডের সেন্ট হিউ কলেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মিস সু চির প্রতিকৃতির জায়গায় একটি জাপানি চিত্রকর্ম বসানো হবে।
তবে তার প্রতিকৃতি কেন সরানো হলো সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। সু চির ওই প্রতিকৃতি কলেজটির মূল ভবনের প্রবেশদ্বারে ছিল।
কলেজের জনসংযোগ কর্মকর্তা বেঞ্জামিন জোনস বলেছেন, “সু চির প্রতিকৃতি একটি ‘নিরাপদ স্থানে’ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জাপানি চিত্রশিল্পী ইয়োশিহিরো তাকাদার চিত্রকর্ম ‘একটি সময়ের জন্য’ প্রদর্শিত হবে।”
সেন্ট হিউ কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন অং সান সু চি।
গৃহবন্দী হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে তাকে সম্মানসূচক ডক্টরেট দেয় অক্সফোর্ড। ওই ডিগ্রি তিনি গ্রহণ করেন মুক্তি পাওয়ার পর, ২০১২ সালে।                                                                                          বিবিসি

রোহিঙ্গা নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেছিলেন মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রধান

মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রোহিঙ্গা সংকটে যে ভূমিকা নিয়েছিলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারই সাবেক সহকর্মীরা। সাবেক কয়েকজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা এবং ত্রাণ কর্মী বলেছেন, তিনি জাতিসংঘের অফিসে এমনকি রোহিঙ্গা নিয়ে কোনো কথা বলতে পর্যন্ত বারণ করেছিলেন।
শরণার্থীদের অধিকারের বিষয় মিয়ানমার সরকারের কাছে উত্থাপনেও তিনি বাধা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মিয়ানমারে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার সূত্রগুলো বিবিসির কাছে এই অভিযোগ করেছে।
জাতিসংঘের একজন সাবেক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন যে, মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রধান কর্মকর্তা মানবাধিকার কর্মীদের রোহিঙ্গা অধ্যূষিত এলাকায় যাওয়া থেকে বিরত রাখতে চেয়েছেন।
তবে মিয়ানমারে জাতিসংঘ দফতর বিবিসির এই রিপোর্টে উঠে আসা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
গত মাসে যখন লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী নতুন করে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে শুরু করে, তখন থেকে এই সংকট মোকাবেলায় সামনের কাতারে আছে জাতিসংঘ। শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘ ত্রাণ সাহায্য পাঠিয়েছে এবং মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের নিন্দা করে কঠোর ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে।
কিন্তু এই সংকটের পূর্ববর্তী চার বছর ধরে মিয়ানমারে জাতিসংঘের কার্যক্রমের প্রধান রেনাটা লক ডেসালিয়েন রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে ভূমিকা পালন করেন, তা নিয়ে অনেক অভিযোগ তুলেছেন তারই প্রাক্তন সহকর্মী এবং বিভিন্ন ত্রাণ সংস্থার কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, রেনাটা লক ডেসালিয়েন এর আগে বাংলাদেশেও জাতিসংঘের প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছেন।
কানাডার নাগরিক রেনাটা লক ডেসালিয়েনের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে:
রোহিঙ্গাদের এলাকায় মানবাধিকার কর্মীদের যেতে বাধা দেয়ার চেষ্টা করা
এ নিয়ে জনমত গড়ে তোলার কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করা
রোহিঙ্গাদের জাতিগতভাবে নির্মূলের চেষ্টার ব্যাপারে সতর্কবাণী দিয়েছেন যেসব কর্মকর্তা, তাদেরকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার চেষ্টা করা
মিয়ানমারে কাজ করেছেন এমন একজন ত্রাণ কর্মকর্তা ক্যারোলাইন ভ্যানডেনাবিলি জানিয়েছেন, জাতিগত নির্মূলের চেষ্টা কিভাবে শুরু হয়, তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তার আছে। রোয়ান্ডার গণহত্যার আগে ১৯৯৩-৯৪ সালে তিনি সেখানে নিজের চোখে দেখেছেন কী ঘটেছে। তিনি যখন মিয়ানমারে এসে পৌঁছান, তখন সেখানেও এই একই প্যাটার্ন তার চোখে পড়েছে।
‘মিয়ানমারে একদল বিদেশী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা এবং রাখাইন বিষয়ে কথা বলছিল। আমি সেখানে ছিলাম। সেখানে একজন বার্মিজ বললো, রোহিঙ্গারা যদি কুকুরের মতো হয় ওদের সবাইকে মেরে ফেলা উচিত। কোনো সমাজে যখন একটি গোষ্ঠীকে আর মানুষ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং সেটি যখন সমাজে স্বাভাবিক ব্যাপার বলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়, আমার কাছে এটাই জাতিগত নির্মূল শুরুর একটা আলামত।’
ক্যারোলাইন ভ্যানডেনাবিলি এর আগে আফগানিস্তান, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, রোয়ান্ডা এবং নেপালে কাজ করেছেন। ২০১৩ সাল হতে ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি মিয়ানমারে জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের দফতরের প্রধান ছিলেন তিনি। রেনাটা লক ডেসালিয়েন হচ্ছেন বর্তমানে আবাসিক সমন্বয়ক।
রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে যখন জাতিসংঘ কাজ করছে, তখন সেটি একেবারে সামনে থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন ক্যারোলাইন ভেনডেনাবিলি।
২০১২ সালে রোহিঙ্গা মুসলিম এবং রাখাইন বৌদ্ধদের মধ্যে সংঘাতে নিহত হয়েছিল প্রায় একশো এবং সিটওয়ে শহরের আশে-পাশের ক্যাম্পগুলোতে আশ্রয় নেয় এক লাখের বেশি রোহিঙ্গা।
এরপর মাঝেমধ্যেই সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের চেষ্টায় বাধা দিয়েছে রাখাইন বৌদ্ধরা। এমনটি তারা রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণবাহী গাড়ি বহরের পথরোধ করেছে। ত্রাণবাহী গাড়িতে হামলা চালিয়েছে।
‘জাতিসংঘ এবং ত্রাণ সংস্থাগুলোর জন্য পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠলো। রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ সাহায্য পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের একই সঙ্গে মিয়ানমার সরকার এবং স্থানীয় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সাহায্য দরকার। অন্যদিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এটাও বুঝতে পারছিলেন যে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার ও নাগরিকত্ব নিয়ে কথা বললে সেটা মিয়ানমারের অনেক বৌদ্ধকে ক্ষিপ্ত করতে পারে।’
‘এ অবস্থায় জাতিসংঘ একটি দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের সিদ্ধান্ত নেয়। রাখাইনে দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়। উদ্দেশ্য ছিল, যদি সেখানে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন হয়, তাতে রোহিঙ্গা আর বৌদ্ধদের মধ্যে উত্তেজনা কমে আসবে।’
‘কিন্তু এর ফল দাঁড়ালো এই, রোহিঙ্গা বিষয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা আর প্রকাশ্যে কোনো কথা বলতে চায় না। রোহিঙ্গা নিয়ে কথা বলা যেন একটা ‘নিষিদ্ধ’ ব্যাপার হয়ে দাঁড়ালো। জাতিসংঘের প্রেস বিজ্ঞপ্তিগুলোতে রোহিঙ্গা শব্দের ব্যবহারই পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল। মিয়ানমারের সরকারও রোহিঙ্গা শব্দ ব্যবহার করে না। তারা রোহিঙ্গাদের ‘বাঙ্গালি’ বলে।
আমি যখন মিয়ানমার থেকে রিপোর্ট করতাম, তখন খুব কম জাতিসংঘ কর্মীই আসলে অকপটে রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রকাশ্যে কথা বলতে চাইতো। কিন্তু এখন একটি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে এমনকি রুদ্ধদ্বার কক্ষেও রোহিঙ্গা ইস্যুকে একপাশে সরিয়ে রেখেছিল জাতিসংঘ।’
মিয়ানমারে কর্মরত ত্রাণকর্মীদের একাধিক সূত্র বিবিসিকে জানিয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের জাতিসংঘ বৈঠকে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষকে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা রীতিমত অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়।
ক্যারোলাইন ভ্যানডেনাবিলি বলেন, শিগগিরই এ বিষয়টি সবার কাছে পরিস্কার হয়ে যায় যে উচ্চ পর্যায়ের জাতিসংঘ বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলা কিংবা জাতিগত নির্মূল অভিযানের ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়।
‘আপনি হয়তো এটা করতে পারেন, কিন্তু সেটার একটা পরিণতি ভোগ করতে হবে’, বলছেন তিনি।
‘এর অনেক নেতিবাচক পরিণতি আছে। আপনাকে আর কোনো সভায় ডাকা হবে না। আপনার ভ্রমণের অনুমতিপত্র ঠিকমত পাওয়া যাবে না। অনেক কর্মী তাদের কাজ হারিয়েছেন। তাদেরকে সভার মধ্যে হেনস্থা করা হয়েছে। এমন একটা পরিবেশ তৈরি করা হলো যে রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথাই বলা যাবে না।’
এত বিধিনিষেধের পরও যারা এই কাজ বারবার করেছেন, তাদের আলোচনা থেকেই বাদ দেয়া হয়েছে। যেমন জাতিসংঘের মানবিক ত্রাণ বিষয়ক দফতরের (ইউএনওসিএইচএ) প্রতিনিধি।
ক্যারোলাইন ভ্যানডেনাবিলি জানান, তাকে সবসময় নির্দেশনা দেয়া হতো বৈঠকগুলো যেন এমন সময়ে আয়োজন করা হয় যখন ইউএনওসিএইচএ’র প্রতিনিধি শহরে থাকবেন না।
তিনি আরো বলেন, তাকে গন্ডগোল সৃষ্টিকারি বলে চিহ্নিত করা হয় এবং রোহিঙ্গাদের জাতিগত নির্মূলের আশংকা নিয়ে বারবার সতর্ক করায় তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়।
ভ্যানডেনাবিলি যেসব ঘটনা বর্ণনা করেছেন, জাতিসংঘ তার কোনো প্রতিবাদ জানায়নি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে কথা বলতে মিয়ানমার সফরে যাওয়া জাতিসংঘ কর্মকর্তাদেরও বারণ করা হতো।
টমাস কুইটানা এখন উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কর্মকর্তা। এর আগে তিনি ছয় বছর মিয়ানমার বিষয়ে ওই একই দায়িত্বে ছিলেন।
আর্জেন্টিনা থেকে বিবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন।
ইয়াংগুন বিমানবন্দরে একবার তার দেখা হয় রেনাটা লক ডেসালিয়েনের সাথে।
‘তিনি আমাকে পরামর্শ দিলেন, আপনার উত্তর রাখাইনে যাওয়া উচিত হবে না – দয়া করে ওখানে যাবেন না। আমি তখন জানতে চাইলাম, কেন? এই প্রশ্নের কোনো উত্তর ছিল না। তার অবস্থানটা ছিল এ নিয়ে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষের সাথে কোনো ঝামেলায় তিনি যেতে চান না।’
‘এটা মাত্র একটা ঘটনা। কিন্তু এ থেকে বোঝা যায় রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারে অবস্থানরত জাতিসংঘ দলের কৌশলটা কী ছিল।’
তবে রেনাটা লক ডেসালিয়েনের পরামর্শ উপেক্ষা করে কুইনটানা উত্তর রাখাইনে যান এবং এক্ষেত্রে তিনি মিয়ানমারের জাতিসংঘ মিশনের সাথে সম্পর্ক রাখেননি।
‘জাতিসংঘের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আমাকে জানিয়েছেন, রোহিঙ্গাদের বাদ দিয়ে আমরা আসলে সেখানে রাখাইন সম্প্রদায়ের মধ্যে কাজ করার চেষ্টা করছিলাম।’
‘সরকার আসলে খুব ভালো করেই জানে আমাদের কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, কিভাবে কাজে লাগাতে হয় – এবং তারা সেটাই করে যাচ্ছিল। অথচ আমরা কখনোই এ থেকে কোন শিক্ষা নিইনি। আমরা কখনোই মিয়ানমারের সরকারের সামনে পিঠ সোজা করে দাঁড়াতে পারিনি, কারণ তাতে নাকি মিয়ানমার সরকার ক্ষেপে যাবে।’
২০১৫ সালে জাতিসংঘ নিজেই মিয়ানমারে তাদের দফতরের কাজ নিয়ে আভ্যন্তরীণ পর্যালোচনার পর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। এই রিপোর্ট বিবিসির হাতে এসেছে।
এতে মিয়ানমারে জাতিসংঘ দফতরের কাজের কঠোর সমালোচনা আছে।
জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব আন্তনিও গুটেরেস দায়িত্ব নেয়ার পর তার জন্য তৈরি করা এক রিপোর্টেও বলা হয়েছে, মিয়ানমারে জাতিসংঘ একেবারেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
রেনাটা লক ডেসালিয়েন এখনো মিয়ানমারে জাতিসংঘের প্রধান কর্মকর্তার দায়িত্বে আছেন। তার জায়গায় নতুন যে কর্মকর্তার নাম পাঠানো হয়েছিল, মিয়ানমার সরকার তাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে মিজ ডেসালিয়েন এখনো তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
রেনাটা লক ডেসালিয়েন এসব বিষয়ে বিবিসির সাথে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
আর মিয়ানমারে জাতিসংঘের দফতরের একজন মুখপাত্র এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কথা বলার বিষয়ে রেনাটা লক ডেসালিয়েন কেনো বাধা দিয়েছেন।
তবে অন্য অনেকেই মিয়ানমারে জাতিসংঘের বর্তমান অবস্থার সাথে শ্রীলংকায় জাতিসংঘ যে ভূমিকার জন্য ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছিল, তার অনেক মিল দেখতে পাচ্ছেন।
চার্লস পেট্রি শ্রীলংকায় জাতিসংঘের ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করে একটি রিপোর্ট লিখেছেন। তিনি মিয়ানমারে জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা ছিলেন। ২০০৭ সালে তাকে মিয়ানমার থেকে বহিস্কার করা হয়।
তিনি বলেছেন, মিয়ানমারের জাতিসংঘের গত কয়েক বছরের ভূমিকা বিভ্রান্তিকর।
জাতিসংঘ কি মিয়ানমারে কোনো ভিন্ন কৌশল নিলে এই বিপর্যয় এড়ানো যেতো?
ক্যারোলাইন ভ্যানডেনাবিলি মনে করেন, অন্তত তিনি যেসব আগাম সতর্কবাণীর কথা বলেছিলেন, তা আমলে নিলে হয়তো সবাই আগে থেকে প্রস্তুত থাকতে পারতো কী ঘটতে চলেছে।
একটি সূত্র বলছে, রাখাইনে রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপারে যেভাবে মিয়ানমারে জাতিসংঘ কাজ করেছে, তার জন্য একটি আভ্যন্তরীণ তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। সূত্র: বিবিসি

মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আকস্মিক পদত্যাগ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী টম প্রাইস পদত্যাগ করেছেন। সরকারি কাজে ব্যয়বহুল ব্যক্তিগত ফ্লাইট ব্যবহার করার অভিযোগ ওঠার পর প্রাইস পদত্যাগ করলেন।
হোয়াইট হাউসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রাইসের পদত্যাগপত্র প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রহণ করেছেন এবং ডন জে রাইটকে ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
টম প্রাইসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, গত মে মাস থেকে তিনি ২৬টি ব্যক্তিগত ফ্লাইটে ভ্রমণ করেন, যাতে অন্তত চার লাখ ডলার খরচ হয়েছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র্রে পেশাগত কাজে সরকারি কর্মকর্তাদের বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ভ্রমণের নিয়ম রয়েছে। শুধুমাত্র জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তারা এ নিয়মের বাইরে।
অবশ্য প্রাইস তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন এ ধরনের খরচে তিনি খুব ‘অখুশি’।

ঢাকায় নিখোঁজ সরিষাবাড়ীর মেয়র শ্রীমঙ্গলে উদ্ধার

নূরে আলম জিকো:  ঢাকার উত্তরা থেকে নিখোঁজের এক দিন জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা রুকনুজ্জামানকে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শাহ জালাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মেয়রকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে এ বিষয়ে আর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

গত সোমবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে রাজধানীর উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন রুকনুজ্জামান। এ ঘটনায়  থানায় একটি জিডি করেন তার ভাই।

মেয়র মো. রুকনুজ্জামানের বাড়ি সরিষাবাড়ীর সাতপোয়া গ্রামে। একসময়ের ইতালিপ্রবাসী রুকনুজ্জামান বিএনপির সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। পরের বছর আওয়ামী লীগের হয়ে নির্বাচন করে মেয়র নির্বাচিত হন। তৈরি পোশাকের ব্যবসাও আছে তার। একই সঙ্গে একটি বায়িং হাউসেরও মালিক। ব্যবসায়িক কার্যক্রম দেখাশোনার জন্য উত্তরায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে থাকেন তিনি। সঙ্গে থাকেন দেহরক্ষী, এক ভাতিজা, গাড়িচালক এবং এলাকার আরও দুই ছেলে।

নিখোঁজ হওয়ার প্রায় ১২ ঘণ্টা আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘মেয়র রুকুন’ নামের আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, ‘…নতুন প্রজন্মের কাছে আমার আহ্বান যে আমাকে হত্যা করা হলেও তোমাদের সিক্ত ভালোবাসা যেন অটুট থাকে এবং আমার উন্নয়নের ধারাবাহিকতা তোমরা ধরে রাখবা।’

নিখোঁজের পর পৌর মেয়রের বড় ভাই সাইফুল ইসলাম বলেন, মেয়রকে স্থানীয় এক ঠিকাদার সম্প্রতি হুমকি দেন। এ ঘটনায় থানায় জিডি করা হয়েছিল।

নিরাপত্তা পরিষদে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করুন

রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চীন যাতে ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে না পারে সেজন্য সরকারকে কূটনীতিক তৎপরতা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি।

বুধবার দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমাদের কূটনীতিক প্রক্রিয়া শুধু অব্যাহত নয়, আরো জোরদার করতে হবে। যাতে করে চীন-রাশিয়া তাদের ভেটো দেওয়া বন্ধ করতে পারে এবং এই দুস্থ মানুষদের পাশে এসে সবাই দাঁড়াতে পারে।’

ভবিষ্যতে রোহিঙ্গারা যাতে নাগরিকত্ব নিয়ে সসম্মানে নিজ বাসভূমিতে ফিরে যেতে পারে সেজন্য দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বানও জানান তিনি।

ত্রাণ তৎপরতায় সেনাবাহিনীকে যুক্ত করায় স্বস্তি প্রকাশ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করার জন্য আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি। তারা দায়িত্ব গ্রহণের পর ত্রাণ বিতরণে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে। এই কর্মকাণ্ডে জনবল বাড়াতে হবে, স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধিসহ রোহিঙ্গাদের আশ্রয়ের জন্য অস্থায়ী ঘরবাড়ি তৈরি করতে হবে।’

২৫ আগস্ট মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার ঘটনার কথা উল্লেখ করে এক্ষেত্রে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিবৃতি প্রদান, দলের কেন্দ্রীয় রিলিফ টিম গঠন করে ত্রাণসামগ্রী বিতরণসহ নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন ফখরুল।

‘আমরা প্রথম থেকে এই অসহায় রোহিঙ্গাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছি, এখনো আমাদের নেতৃবৃন্দ কাজ করে যাচ্ছে। সরকারকে ওই সময় বার বার বলেছি এই মানবিক বিপর্যয় রোধে উদ্যোগ গ্রহণ করতে। বিশ্ব জনমত যখন সৃষ্টি হয়েছে তখন সরকার সক্রিয় হয়েছে।’

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করতে মঙ্গলবার বিকেলে বিমানযোগে কক্সবাজার পৌঁছান বিএনপি মহাসচিব। বুধবার সকালে উখিয়া কলেজ মাঠে সেনাবাহিনীর ত্রাণভাণ্ডারে দুই ট্রাক ত্রাণসামগ্রী হস্তান্তর করেন মির্জা ফখরুল। ক্যাম্পের কর্মকর্তা মেজর রফিক এসব ত্রাণসামগ্রী গ্রহণ করেন।

এ সময়ে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, কেন্দ্রীয় নেতা মজিবুর রহমান সারোয়ার, ফজলুল হক মিলন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, কামরুজ্জামান রতন, লুৎফর রহমান কাজল, মাহবুবুর রহমান শামীম, শরীফুল আলম, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আমিরুজ্জামান খান শিমুল, শায়রুল কবির খান, উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সারোয়ার জাহান চৌধুরী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল হক রাসেলসহ অঙ্গসংগঠন ও জেলা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিএনপি মহাসচিব উখিয়ার বাগগুনা, বালুখালি ও থাইমখালী রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ত্রিপল, জামা-কাপড়, হাঁড়ি-পাতিল, খাদ্যসামগ্রী, ঔষধপত্র, টিউবওয়েল প্রভৃতি রয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব ডক্টর অ্যাসোসিয়েশনের মেডিক্যাল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও পরিদর্শন করেন। শায়রুল কবির খান জানান, সন্ধ্যায় এক কর্মীসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসচিব।

দেশের চরম সঙ্কটেও খালেদা জিয়া দেশে নেই : ওবায়দুল কাদের

 আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রোহিঙ্গাদের কারণে দেশ এখন চরম সঙ্কটে রয়েছে। সারা দেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এই সংকটেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে নেই। তিনি এই সংকটেও মাসের পর মাস লন্ডনে অবস্থান করছেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের এই সংকটে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া লন্ডনে কেন? দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের ব্যাপারে তার মাথা-ব্যাথা নেই। শুরু থেকে রোহিঙ্গাদের পাশে আছে আওয়ামী লীগ। সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত তারা মাঠে থাকবে।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজার শহরের গোলদীঘির পাড়ে ইন্দ্রসেন দুর্গাবাড়ি মন্দিরে দুর্গোৎসবের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখা ও তাদের মানবিক আশ্রয় দেয়ায় পুরো পৃথিবী শেখ হাসিনা সরকারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কিন্তু বিএনপিই একমাত্র দল, যারা সমালোচনা করে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গাদের বাস্তব পরিস্থিতি দেখতে তারা উখিয়া-টেকনাফে আসেন না। শুধু ঢাকায় বসে অন্ধকারে ঢিল ছোড়েন।
কাদের বলেন, এক মাস ধরে চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে অবস্থান করছে। এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওঠেনি। কিন্তু বিএনপি সেখানেও অভিযোগ তুলছে। প্রথমবার নিয়মকানুন মানেনি বলে বিএনপিকে ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয় জেলা প্রশাসন। এরপর বিএনপি নেতারা একাধিকবার ত্রাণ দিয়েছেন, সেখানে কিন্তু বাধা দেয়া হয়নি। বিএনপি আসলে নিয়মকানুন না মেনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশ সা¤প্রদায়িক স¤প্রীতির দেশ। আমাদের এই স¤প্রীতি ধরে রাখতে হবে। কোনও অপশক্তিকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া যাবে না। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।
জেলা প্রশাসন, সরকারি দলসহ স্থানীয়দের সাধুবাদ জানিয়ে সড়ক পরিবহণমন্ত্রী বলেন, কঠিন সময়ে সবাই রোহিঙ্গাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছে। এখানকার মানুষ মানবিক ও উদারতার পরিচয় দিয়েছে।
এর আগে মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত পুজার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সড়কমন্ত্রী প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা শাখা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি রণজিত দাশ। সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আবদুর রহমান বদি এমপি, সাইমুম সরওয়ার কমল এমপি, জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, পুলিশ সুপার একেএম ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ প্রমুখ।

দুবাইয়ে উড়ল বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত ট্যাক্সি

 ২৬ সেপ্টেম্বর- সোমবার দুবাইয়ে পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন করল উড়ন্ত ট্যাক্সি। এ দিন বিকালে শহরের জুমাইরা বিচ এলাকায় দুই সিট বিশিষ্ট এ উড়ন্ত ট্যাক্সির প্রথমবারের মতো পরীক্ষা চালানো হয়। সব কিছু ঠিক থাকলে এটিই হবে বিশ্বের প্রথম উড়ন্ত ট্যাক্সি। গালফ নিউজের সংবাদ।

দুবাই প্রশাসনের তথ্য ও যোগাযোগ দফতর থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সড়ক ও যানবাহন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিশ্বে প্রথমবারের মত কোন ধরনের পাইলট ছাড়াই স্ব-নিয়ন্ত্রিত এ উড়ন্ত ট্যাক্সি সেবা চালু করা হবে।

তারা আরও জানায় , উড়ন্ত ট্যাক্সির মাধ্যমে মানুষ এক শহর থেকে আরেক শহরে যাতায়াত করতে পারবে। এমনকি বিভিন্ন শপিং মল সহ শহরের অভ্যন্তরে নানা জায়গাও ভ্রমণ করা যাবে এর মাধ্যমে। পরীক্ষা চালানো প্রথম উড়ন্ত ট্যাক্সিটির জলপথে গতি ৩০ মিনিটে ৫০ কিলোমিটার এবং উড়ন্ত পথে ১০০ কিলোমিটার।

এ দিন দুবাইয়ের যুবরাজ শেখ হামদান বিন মুহম্মদের জন্য এর একটি পরীক্ষামূলক উড়ানের ব্যবস্থা করা হয়৷ এ পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে যানটি ৫ মিনিটের জন্য ২০০মিটার ওপরে উড়ে বলে জানা যায়৷ দুবাই যুবরাজ ছাড়াও এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দুবাই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ও এমিরেটস গ্রুপের চেয়ারম্যান শেখ আহমদ বিন সাঈদ আল মাকতুম, মন্ত্রিপরিষদ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল্লাহ আল গারযাভী এবং অর্থমন্ত্রী সুলতান বিন সাঈদ আল মনসুরী।

৭ বছর ধরে বিয়ের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ফেসবুকে পোস্ট, অতঃপর…

বিয়ে নাকি সৃষ্টিকর্তাই নির্ধারণ করে দেন। কিন্তু সেই বিয়ে করতে গেলে যদি ৪০০০ বিয়ের প্রস্তাব আসে তাহলে ব্যাপারটা বেশ অদ্ভুতেই বটে। হ্যাঁ, তেমনেই একটি কাণ্ড ঘটল ভারতের কেরালাই।

৩৪ বছর বয়সী ফটোগ্রাফার রঞ্জিস মাঞ্জেরি। একটানা সাত বছর বিয়ে করার অপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছেন তিনি। তাকে বিয়ে করানোর জন্য আত্মীয়দের কাছে ধর্নাও দিয়েছেন বাবা-মা। কিন্তু কিছুতেই কাজ হচ্ছিল না। অনেক পাত্রী তাকে দেখতে আসলেও ‘গরিব’ বলে তাকে বিয়ে করতে চাননি। কিন্তু বিয়ে করার পণ নিয়েই তো মাঠে নেমেছেন মাঞ্জেরি, মাঝ পথে এসে হাল ছেড়ে দিলে হবে?

গত ৩ আগস্ট মাঞ্জেরি ফেসবুকে লিখেন, ‘আমার বিয়ে এখনও ঠিক হয়নি এবং আমি এখনও বিয়ের জন্য পাত্রী খুঁজছি। আপনাদের মধ্যে যদি পরিচিত কোনো পাত্রী থাকে, দয়া করে আমাকে জানাবেন। আমার বয়স ৩৪ বছর। পাত্রীকে আমার পছন্দ হতে হবে। আমার আর কোনো দাবি নেই। পেশা: ফটোগ্রাফার। ধর্ম: হিন্দু। পাত্রী যেকোনো জাতের হতে পারবে, কোনো সমস্যা নেই।

এ পোস্ট দেওয়ার পর থেকে মাঞ্জেরির ফোন ব্যস্ত হয়ে উঠে, ফেসবুকের ইনবক্স ভর্তি হয়ে যায় মেসেজে! ভাইরাল হয়ে যায় তার ফেসবুক পোস্টটি।

ফেসবুকজুড়ে তাকে নিয়ে অনেকে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ যেমন করছিলেন, অনেকে আবার সত্যি সত্যি তাকে বিয়ের প্রস্তাব পাঠাচ্ছিলেন। মাত্র অল্প কয়েকদিনের ব্যবধানে ৪ হাজার বিয়ের প্রস্তাব পেয়ে যান মাঞ্জেরি, এমনকি প্রস্তাব আসে দুবাই, অষ্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পাত্রীদের কাছ থেকেও!

নারীদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে সৌদি

নারীদের গাড়ি চালানোর উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিচ্ছে সৌদি আরবে। ফলে প্রথমবারের মতো দেশটিতে গাড়ি চালানোর অনুমতি পাচ্ছেন নারীরা। মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়ে সৌদির বাদশাহ সালমান একটি আদেশ জারি করেছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, বহু বছর ধরে চলা প্রচারণার প্রেক্ষিতে সৌদি আরবের ইতিহাসে এই প্রথম মেয়েরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পেতে যাচ্ছে। শীর্ষ ধর্মীয় নেতাদের কাউন্সিল নতুন এই পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছেন। সরকারি মন্ত্রণালয়কে ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তৈরি করতে হবে এবং ২০১৮ সালের জুনের মধ্যেই এই নির্দেশ বাস্তবায়িত হবে।

বিশ্বের একমাত্র দেশ সৌদি যেখানে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি নেই এবং এ কারণে বহুদিন ধরে সমালোচনা এবং বিতর্ক চলে আসছে।

সৌদির বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় শুধুমাত্র পুরুষরাই ড্রাইভিং লাইসেন্স পায় এবং নারীরা প্রকাশ্যে গাড়ি চালালে তাদের আটক হতে পারেন এবং তাদের জরিমানাও হতে পারে।

এদিকে, মাত্র এক সপ্তাহ আগে এক ধর্মীয় নেতা বলেছেন, মেয়েদের গাড়ি চালানোর মত বুদ্ধি নেই। তার এমন মন্তব্যে সমালোচনা আরো তীব্র হয়েছে।

সৌদি আরবের চরম রক্ষণশীল সমাজে মেয়েদের গাড়ি চালানোর অনুমতি দেয়ার দাবিতে মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সোচ্চার হয়েছে। এর আগে গাড়ি চালানোর অভিযোগে অনেক নারীকে কারাগারেও যেতে হয়েছে।

সৌদি সরকারের নতুন এই উদ্যোগকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র স্বাগত জানিয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাওর্ট বলেন, ‘আমি মনে করি সেদেশের জন্য এটি সঠিক দিক-নিদের্শনার মহান পদক্ষেপ। তারা যে এ ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে সেজন্য আমরা উচ্ছ্বসিত। আমি মনে করি এটি খুবই ইতিবাচক লক্ষণ।’

সৌদি প্রেস এজেন্সির খবরে জানানো হয়েছে, রাজকীয় এই আদেশ অনুযায়ী নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্যই গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে। তবে ২০১৮ সালের জুন মাস থেকে তা কার্যকর হবে। প্রয়োজনীয় শরীয়াহ মানদণ্ড অনুসরণ করেই এই নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।

ছেলেকে নিয়ে অপু বিশ্বাসের পূজা পরিকল্পনা

ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়িকা অপু বিশ্বাস। ঢালিউড নবাব শাকিব খানকে বিয়ে করে হিন্দু ধর্ম থেকে মুসলমান হয়ে তার নাম পরিবর্তন করে রাখেন অপু ইসলাম খান।

বিবাহ সূত্রে পাওয়া ধর্মের জন্য তিনি তার আজন্ম লালিত ধর্মকে ভুলে যান নি এমনটাই জানান অপু। তাই পূজা উৎসব নিয়ে তার উচ্ছ্বাসের কমতি নেই।

পূজার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘পূজার সময় পড়াশুনা করতে হবে না এটাই ছিল সবচেয়ে মজার বিষয়। একমাস আগে থেকে প্ল্যান করে রাখতাম কী কী করবো। একবার তো রাজশাহীতে পূজার জন্য মন্দিরে গিয়েছি । সন্ধ্যার পরে মায়ের সঙ্গে বের হতাম। চারিদিক লাইটিং করা থাকে। ওইটা বেশ ভালো লাগে’।

পূজার সময়ের একটি মজার স্মৃতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘একদিন আমরা যাচ্ছি আর কতগুলো ছেলে আমাদের ফলো করছে। ছোটবেলায় এই বিষয়টাও ভালো লাগতো। কোন ছেলে পেছন ঘুরছে। পাত্তা দিতাম না। কিন্তু মজা লাগতো। সেদিন কিছু ছেলে আমার দিকে তাকিয়ে সিড়ি দিয়ে মন্দিরে উঠতেছিলো। অমনি পরে গেল। পরে গিয়ে তো গাল কেটে রক্ত বের হওয়া শুরু করলো। মা তো গিয়ে বকাবকি। এই ছেলে, মেয়ে দেখো ঠিক আছে, আগে নিজেকে বাচাবা তারপর তো মেয়ে দেখবা। মায়ের সেই বকা আর ছেলেটার সেই অসহায় ফেইসটা এখনো মনে পড়ে’।

তাঁর ছেলে আব্রামের জন্মদিনটাও পূজার মধ্যেই পড়েছে বলে অপু বেশ খুশি। তিনি বলেন, ‘এবার আব্রাহামের জন্মদিন পূজার মধ্যে। তাই পূজাটা আরও বেশি স্পেশাল। সবাই জেনে থাকবেন ২৭ সেপ্টেম্বর আব্রাহাম খান জয়ের জন্মদিন। ওকে নিয়ে পূজা দেখতে যাওয়ার ইচ্ছে আছে। আমার কাছে আসলে ঈদ পূজা আলাদা কিছু নয়। অনেকে হয়তো ভাববেন মুসলমান হয়ে পূজা কেন? রক্তের সম্পর্ক তো ত্যাগ করতে পারবো না। তাদের সঙ্গে উৎসব পালন করবো’।

বিবাহ সূত্রে পাওয়া ধর্ম ও পরিবার থেকে পাওয়া ধর্মের মধ্যে কোন পার্থক্য না রেখে দুটি ধর্মের উৎসবেই সমান ভাবে অংশগ্রহন করে থাকবেন অপু বিশ্বাস।