All posts by lutfor

যৌন শিক্ষার বই বিতরণ স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে! অতঃপর…

যৌন শিক্ষার পুস্তিকা বিতরণ করা হল নিউজিল্যান্ডে একটি মাধ্যমিক স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে! যা নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

‘নিরাপদ যৌনজীবন’ বা ‘সেফ সেক্স’ নামের ওই পুস্তিকায় বিয়ের আগে যৌন সম্পর্ক করেছে এমন মেয়েদের ‘সস্তা বেশ্যা’, এবং বিয়ে ছাড়াই একসঙ্গে থাকছে এমন যুগলকে ‘মজ্জাগতভাবে দায়িত্বহীন ব্যভিচারী’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। খবর বাংলাদেশ প্রতিদিনের।

বইটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কেউ সমকামিতায় লিপ্ত হলে তার জন্য মৃত্যু ও নরক অপেক্ষা করছে। ক্রাইস্টচার্চের পাপানুই হাই স্কুলের স্বাস্থ্য শিক্ষার ক্লাসে ১৫ বছরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এমন পুস্তিকা বিলি করা হল।

এরপর এক ছাত্রের মা এনিয়ে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে অনলাইনেও ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই নিয়ে জোর বিতর্ক দানা বেঁধেছে।

যদিও স্কুলটির প্রধান শিক্ষক জেফ স্মিথ বলছেন, ছাত্রদের কাছে একটি উগ্র মতাদর্শকে তুলে ধরার জন্যেই বইটি বিলি করা হয়েছে। এতে স্কুলের নিজস্ব আদর্শের কোন প্রতিফলন ঘটেনি।

বাংলাদেশি তরুণী কৃত্রিম মানব ফুসফুস বানিয়ে সাড়া ফেললেন

প্রথমবারের মতো কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করে বিজ্ঞানী মহলে সাড়া ফেলেছেন বাংলাদেশি তরুণী আয়েশা আরেফিন টুম্পা। ন্যানো প্রযুক্তির মাধ্যমে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে তিনি প্রথম কৃত্রিম মানব ফুসফুস তৈরি করেছেন। খবর দ্যা ডেইলি স্টার, ওমেন্স ওয়ার্ড, দ্যা আটলান্টিক, এলএএনএল।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ও বায়োটেকনোলজি বিভাগের ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক ক্রিস ডেটার ও তাঁর সহকর্মী ল্যান্স গ্রিনের সহযোগিতায় আয়েশা লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পান।

আয়েশা আরেফিন লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরির বায়ো-সিকিউরিটি বিভাগে তার ক্যারিয়ার শুরু করেন। সেখানে ভারতীয় গবেষক প্রখ্যাত টক্সিকোলজিস্ট রাশি আইয়ার অপ্টোজেনিক্স সংক্রান্ত গবেষণা কাজের জন্য আয়েশাকে নিয়োগ দেন।

অপ্টোজেনিক্স হচ্ছে জিন বিদ্যা ও প্রোটিন প্রকৌশলের মাধ্যমে জীবন্ত টিস্যুর মাঝে ঘটতে থাকা বিভিন্ন স্নায়বিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করা। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কৃত্রিম টিস্যু বা কলা তৈরি করা সম্ভব।

আয়েশা ও রাশি আইয়ারের দলের অন্যান্য সদস্যরা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেন। গবেষণা করে তারা একটি কৃত্রিম মানব ফুসফুসও তৈরি করেন।

অবশ্য তাদের উদ্দেশ্য ছিল, Chronic Obstructive Pulmonary Disease এর সময় ফুসফুসের কোষগুলো কিভাবে কাজ করে তা জানা ও এর প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা। আয়েশা আরেফিন একই সাথে বিভিন্ন স্নায়বিক ব্যাধি ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নিয়েও গবেষণা করছেন।
আয়েশা আরেফিন বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব নিউ মেক্সিকোতে ন্যানো-সায়েন্সের উপর ডক্টরেট করছেন। একই সাথে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবেরটরিতেও চলছে তার গবেষণা।
আয়েশা আরেফিনের এমন সাফল্য বাংলাদেশে নানা প্রতিকূলতার মাঝে নারীদের এগিয়ে চলার পথে অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত।

এবার টাইটানিক ছবির ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের গোপন তথ্য ফাঁস করলেন কেট

হলিউড তারকা কেট উইন্সলেট। অস্কার জয়ী এ অভিনেত্রী ‘টাইটানিক’ ছবির মাধ্যমে কোটি মানুষের ভালোবাসা অর্জন করেন। গেলো কয়েক বছর ধরেই বেছে বেছে কাজ করছেন কেট। তার অভিনীত ‘দ্য মাউন্টেন বিটউইন আস’ ছবিটি চলতি মাসে মুক্তি পেয়েছে। তার বিপরীতে রয়েছেন ইদ্রিস অ্যালবার।

সম্প্রতি সিনেমায় তার সঙ্গে ইদ্রিস অ্যালবারের বেশ কিছু ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের বিষয়ে অজানা তথ্য ফাঁস করলেন এ অভিনেত্রী।

আমার বয়স ৪২। আমি ২০ বছর বয়স থেকেই অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করছি। ইদ্রিস অন্তরঙ্গ দৃশ্যে একদমই কমফোর্ট ছিলেন না, যা আমি ওর সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে বুঝেছি তিনি এরকম দৃশ্যে অভ্যস্ত নন। বললেন কেট উইন্সলেট।

টাইটানিক তারকার ভাষ্য, তিনি লক্ষ্য করেছেন ইদ্রিস এ সময় সাবলীল ছিলেন না বরং এক ধরনের হালকা মেজাজে ছিলেন।

তিনি আরো বলেন, তবে হ্যাঁ ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছাড়া অন্য জায়গাগুলোতে সে দারুণ অভিনয় করেছেন। তার অভিনয়ে আমি মুগ্ধ।

এর আগে ইদ্রিসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছবি নিজের টুইটারে শেয়ার করেছিলেন কেট। ছবিতে দেখা যায়, রাস্তার মধ্যেই সবার সামনে ইদ্রিসকে জড়িয়ে ধরে চুমু দিচ্ছেন কেট। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়।

‘দ্য মাউন্টেন বিটওয়েন আস’ একটি প্রেম ও আবেগের গল্প। দুর্ঘটনার পর ভালোবাসার দু’জন মানুষ একে অপরকে খুঁজে পাবার জন্য কেমন আকুল হয়ে ওঠেন এবং কোন বাধার সম্মুখীন হয় তাই তুলে ধরা হয়েছে সিনেমায়।

রোহিঙ্গা মুসলিম নিধনে অস্ত্রের মূল যোগানদাতা ইসরাঈল

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক :মালয়েশিয়ার কুদস ফাউন্ডেশন বলেছে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে উগ্র মিয়ানমার সরকারকে অস্ত্রের মূল যোগানদাতা ইসরাইল।

কুদস ফাউন্ডেশনের সদস্য শরিফ আমিন আবু শামালার উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা ইরনা আরও জানিয়েছে, ইসরাইল এ ধরনের হত্যাযজ্ঞ চালানোর উদাহরণ সৃষ্টি করে অন্যান্য দেশ ও অঞ্চলে নিজেদের বৈধতা অর্জন করতে চায়।

শরিফ আমিন রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চালানো জাতিগত নিধনযজ্ঞকে ফিলিস্তিনের গণহত্যার সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার অনুরূপ চিত্র বিশ্ববাসী ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনে লক্ষ্য করেছে। ইসরাইলি হত্যাকারীরা সে সময় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল।

কুদস ফাউন্ডেশনের এই সদস্য মালয়েশিয়ায় আরও বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং শান্তি নোবেলজয়ী অং সান সুচি এখন পর্যন্ত মুসলিম রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নির্মম হত্যাযজ্ঞ ও জাতিগত নিধন অভিযান বন্ধে কোনো পদক্ষেপই নেন নি।

মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর গত ২৫ আগস্ট থেকে হত্যা ও নিধনযজ্ঞ শুরু করেছে সেদেশের সেনাবাহিনী। ওই নিধনযজ্ঞের ঘটনায় ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা মুসলমান নিহত হয়েছে,আহত হয়েছে আট হাজারের বেশি। এছাড়া বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলমান।

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ ১০ কর্মকর্তাকে বদলির অনুমোদন

সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম, প্রধান বিচারপতির একান্ত সচিব আনিসুর রহমান, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন, হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার সাব্বির ফরেজসহ সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন ১০ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলায় বদলির অনুমোদন দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো: আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞা। আজ রোববার সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার জেনারেল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রার অফিস সূত্র জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো রেজিস্ট্রার জেনারেল, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রারসহ ১০ জনের বদলির সুপারিশে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আব্দুল ওয়াহহাব মিয়ার পাঠানো কিছু ‘প্রশাসনিক পরিবর্তন’ এর প্রস্তাব নিয়ে বৈঠক করেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। ওইদিন বিকাল ৩টা থেকে ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির সঙ্গে তার খাস কামরায় বৈঠক করেন মন্ত্রী। ওই বৈঠক শেষে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি কিছু অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ চেঞ্জ (প্রশাসনিক পরিবর্তন) করতে চান, সেগুলো উনি আমাকে অবহিত করেছেন।

প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বন্ধ নয়

‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভাতা নেয়ার অভিযোগ উঠলেই ভাতা বন্ধ না করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি। তদন্ত করার পর সত্যতা মিললেই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বন্ধের কথা বলেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির ১৯তম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ. ক. ম মোজাম্মেল হক, হুইপ ইকবালুর রহিম, স্বপন ভট্টচার্য এবং কামরুল লায়লা জলি বৈঠকে অংশ নেন।

বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা যায়, কমিটির সদস্য হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, তার নির্বাচনী এলাকা ৮০ জন মুক্তিযোদ্ধার ভাতা বন্ধ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৫৩ জনের ভাতা চালু হলেও বাকি ২৭ জনের ভাতা এখনও বন্ধ। তারা দীর্ঘ ৩৮ বছর ভাতা পেয়েছেন। কিসের ওপর ভিত্তি করে, কাদের অভিযোগে তদন্ত না করেই তাদের ভাতা বন্ধ করা হয়েছে তা জানা দরকার। আর ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ভাতা বন্ধ করা যাবে না।

এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. অরূপ চৌধুরী বলেন, ইকবালুর রহিমের নির্বাচনী এলাকার ২৭ জন মুক্তিযোদ্ধার বন্ধ ভাতা চালু ব্যাপারে মন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) একটি কমিটি গঠন করেছে।

এরপর কমিটির সভাপতি ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার অভিযোগ উঠলেই ভাতা বন্ধ না করার সুপারিশ করেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা যাতে সহজে সনদ নেই বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।

এ ছাড়াও বৈঠকে উল্লেখ করা হয যে, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলকে একটি পূর্ণাঙ্গ অধিদফতরে রুপান্তরের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বৈঠকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে তোলপাড়

‘আমি পুরোপুরি সুস্থ, বিচার বিভাগ নিয়ে শঙ্কিত’- অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ত্যাগের আগে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দেয়া এমন বক্তব্যে তোলপাড় চলছে। রাজনীতি ও বিচারাঙ্গনসহ সব মহলে আলোচনার মূল বিষয় এখন প্রধান বিচারপতির শেষ বক্তব্য। বিষয়টি নিয়ে সরকারের ভেতরে-বাইরে আলোড়ন চলছে। অন্য দিকে বিদেশে যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতির অনমনীয় অবস্থানে বেশ বিপাকে পড়েছে সরকার। দেশের বাইরে গিয়ে প্রধান বিচারপতি সার্বিক বিষয় নিয়ে কী ধরনের মন্তব্য করেন তা নিয়েও শঙ্কিত সরকারের নীতিনির্ধারকেরা।

এমন প্রেক্ষাপটে গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় দলের উপদেষ্টামণ্ডলীকে সাথে নিয়ে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথ সভা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সেখানে প্রধান বিচারপতির অবস্থান এবং তার দেয়া শেষ বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলন ও আর্থিক কেলেঙ্কারিসহ ১১টি অভিযোগ এনে বিবৃতি দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। দেশে ফিরে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব গ্রহণ সুদূরপরাহত বলে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের বলেছেন সরকারের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আইনমন্ত্রী আজ রোববার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার বক্তব্য জানাবেন। অন্য দিকে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে সরকার বিচারব্যবস্থা ধ্বংসের যে ষড়যন্ত্র করছে তা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করছেন বিএনপি ও সরকারবিরোধী আইনজীবীরা।

আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় এবং পর্যবেক্ষণকে সরকার বড় আঘাত হিসেবে দেখলেও এই মুহূর্তে আরো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে প্রধান বিচারপতির সর্বশেষ বক্তব্য। সরকার এবং প্রধান বিচারপতির মুখোমুখি অবস্থান শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে ঠেকে তা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন আওয়ামী লীগ ও সরকারের কর্তাব্যক্তিরা। এটিকে কেন্দ্র করে সরকারের লাভ-ক্ষতির হিসাবও কষছেন অনেকে।
প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চ গত ৩ জুলাই বিচারপতি অপসারণসংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে দেয়া হাইকোর্টের রায় বহালের পক্ষে মত দেন। এরপর ১ আগস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় পর্যবেক্ষণসহ প্রকাশ করা হয়। এই রায় নিয়ে সরকার ও প্রধান বিচারপতির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়। শুধু তা-ই নয়, ষোড়শ সংশোধনী বাতিল রায় এবং পর্যবেক্ষণকে সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখেন সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। বিশেষ করে সব বিচারপতির সর্বসম্মত রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত ‘রাজনীতিতে ব্যক্তিবাদ’, সামরিক শাসন, ‘অপরিপক্ব সংসদ’, দুর্নীতি, সুশাসন, মুক্তিযুদ্ধ ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনাকে সহজভাবে নেননি সরকারের নীতিনির্ধারকেরা। তারা এটিকে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র হিসেবেও দেখেন।

সে জন্য প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কঠোর সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা। প্রধানমন্ত্রীসহ দল ও সরকারের শীর্ষপর্যায় থেকে শুরু করে মধ্যম সারির নেতা-মন্ত্রীরাও আদালতের রায় ও পর্যবেক্ষণ নিয়ে সরব হন। তারা প্রধান বিচারপতি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার অপসারণও দাবি করেন। প্রধান বিচারপতির অপসারণ চেয়ে জাতীয় সংসদেও সরব ছিলেন সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে প্রধান বিচারপতির সাথে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, আইনমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা এবং সর্বশেষ রাষ্ট্রপতিরও বৈঠক হয়। পাশাপাশি দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করেন সরকারপন্থী আইনজীবীরা।

অন্য দিকে রায় এবং পর্যবেক্ষণকে ঐতিহাসিক আখ্যায়িত করে প্রধান বিচারপতির পক্ষে সরব থাকেন বিএনপিসহ সরকারবিরোধী আইনজীবীরা। এমন পেক্ষাপটে নানা নাটকীয়তায় গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা অসুস্থতার কারণে এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন বলে জানায় আইন মন্ত্রণালয়। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রধান বিচারপতির স্বাক্ষরসহ রাষ্ট্রপতি বরাবর ছুটির একটি আবেদনপত্রও গণমাধ্যমে তুলে ধরেন। পরদিন বিচারপতি আব্দুল ওয়াহ্হাব মিঞাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শুধু তা-ই নয়, প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি প্রশাসনিক পূর্ণক্ষমতা ভোগ করবেন বলেও ঘোষণা দেয় সরকার।

তবে প্রধান বিচারপতির ছুটি নিয়ে রাজনীতি ও বিচারাঙ্গনে নানা আলোচনা ও গুঞ্জন চলে। এরপর প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ছুটি কাটাতে বিদেশে যাবেন বলে জানানো হয়। বিএনপিসহ সরকারবিরোধীরা এটিকে সরকারের নতুন ষড়যন্ত্র বলে দাবি করে। বিষয়টি নিয়ে প্রধান বিচারপতির আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য জানতে পারছিলেন না কেউ। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির সাথে একাধিকবার দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। অবশেষে শুক্রবার রাতে প্রধান বিচারপতি অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা দেন। এ সময় বাসভবনের সামনে অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের কাছে তিনি অল্প কথায় লিখিত আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তুলে ধরেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা বলেন, ‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ আছি; কিন্তু ইদানীং একটি রায় নিয়ে রাজনৈতিক মহল, আইনজীবী ও বিশেষভাবে সরকারের মাননীয় কয়েকজন মন্ত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে যেভাবে সমালোচনা করেছেন, এতে আমি সত্যিই বিব্রত।’
প্রধান বিচারপতির প্যাডে লেখা সেই চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সরকারের একটা মহল আমার রায়কে ভুল ব্যাখ্যা প্রদান করে পরিবেশন করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার প্রতি অভিমান করেছেন, যা অচিরেই দূরীভূত হবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সাথে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে আমি একটু শঙ্কিতও বটে।’

প্রধান বিচারপতির এমন বক্তব্য গত বেশ কিছুদিন ধরে চলা নাটকীয়তায় নতুন মাত্রা যোগ করে। তার বক্তব্যের পর ছুটির দরখাস্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। যা সরকারকে চরম বিব্রতকর অবস্থায় ফেলেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র নেতা জানান, ‘ষোড়শ সংশোধনী ইস্যুতে নানা চেষ্টার পরও প্রধান বিচারপতিকে বাগে আনতে পারেনি সরকার। সেজন্য বিভিন্ন কৌশলে তাকে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার প্রেক্ষাপট সৃষ্টি করা হয়। ছুটি ও বিদেশ যাওয়া ইস্যুতে গত কিছু দিন ধরে তার নীরবতায় সরকারও খানিকটা স্বস্তিতে ছিল। তবে শেষটা ভালো হলো না। বিদেশে যাওয়ার আগে প্রধান বিচারপতি বোমা ফাটালেন। এর মাধ্যমে গত কিছুদিন ধরে দেয়া সরকারের সব বক্তব্য মিথ্যা প্রমাণ করেছেন এস কে সিনহা, যা সরকারের জন্য চরম বিব্রতকর।’

দলের সম্পাদক মণ্ডলীর দুইজন সদস্য বলেন, ‘প্রধান বিচারপতির বিদেশে চলে যাওয়া নিয়েও স্বস্তিতে নেই সরকার। কারণ যাওয়ার আগে দেশেই তিনি যে বোমা ফাটালেন বিদেশে বসে আবার কী রকম এটম ফাটান তা নিয়ে আমরা সত্যিই টেনশনে আছি।’
এক নেতা বলেন, ‘আগামী জাতীয় নির্বাচন আর বেশি দূরে নয়। এই মুহূর্তে বিচারাঙ্গন নিয়ে যে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে তা আমাদের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। দেখা যাক পানি কত দূর গড়ায়।’

সবাই মিলে মিয়ানমারকে বাধ্য করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বলপ্রয়োগের মাধ্যমে নিজ ভূখণ্ড থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গা নাগরিকদের বাংলাদেশ থেকে ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরদারে ব্রিটেনসহ সব দেশকে ভূমিকা রাখতে আবারও আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম শেখ হাসিনার উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মিয়ানমার সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখতে হবে।’

লর্ড আহমদ অব উইম্বলডন এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র ও কমনওয়েলথ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী তারিক মাহমুদ আহমদ স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে লন্ডনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘নিজ দেশ থেকে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অবশ্যই নেপিদোকে বাধ্য করতে হবে।’

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বলপূর্বক বাস্তচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের কক্সবাজার থেকে সরিয়ে নিতেও ব্রিটেনসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাদের অস্থায়ী ব্যবস্থা অনুযায়ী বাংলাদেশে পালিয়ে আসা অসহায় রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ‘ভাসানচর’ নামক একটি দ্বীপে সরিয়ে নিতে হবে এবং তাদের সেখানে সরিয়ে নিতে আমাদের যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী বৃটিশ জুনিয়র মন্ত্রীকে জানান, তাঁর সরকার ওই দ্বীপে রোহিঙ্গাদের জন্য শিক্ষা ও স্যানিটেশন সুবিধাসহ বহুমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।

শেখ হাসিনা লর্ড আহমদকে বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিকদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করেন এবং এই দুস্থ লোকদের জন্য আশ্রয়, খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, এসব দুর্দশাগ্রস্ত লোকের ভোগান্তি লাঘবে বেসামরিক প্রশাসন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ এবং তাঁর দলের স্বেচ্ছাসেবীরা কঠোর পরিশ্রম করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর তারা শরণার্থীর মতো জীবন যাপন করেছেন, এ কারণে তারাও রোহিঙ্গাদের দুঃখ ও বেদনা অনুভব করেন।

এ সময় শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধকালে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হত্যাযজ্ঞের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ থেকে এক কোটি লোকের ভারতে আশ্রয় গ্রহণে বাধ্য হওয়ার কথা স্মরণ করেন।

তিনি আরও বলেন, ১৯৯৭ সালে সম্পাদিত ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তির পর তাঁর সরকার ভারত থেকে ৬২ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থীকে ফিরিয়ে এনেছিল।

শেখ হাসিনা লর্ড আহমদের মাধ্যমে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বিপুলসংখ্যক লোকের আগমনের ঘটনাকে ‘একটি মানবিক সংকট’ অভিহিত করে লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিককে আশ্রয় দিয়ে তাদের জীবন রক্ষার জন্য বাংলাদেশ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বৃটেন রোহিঙ্গাদের সহায়তায় ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড দেয়ার অঙ্গীকার করেছে। তিনি আরো বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য সহায়তা অব্যাহত রাখতে আমরা আগ্রহী।

এ সময় যুক্তরাজ্যে নিয়োজিত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাজমুল কাওনাইন উপস্থিত ছিলেন। -বাসস

কিডনি ভালো রাখার কিছু উপায়:ধুমপান ছাড়ুন

কিডনি আমাদের রক্ত পরিষ্কার করে। রক্তের হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে। কিডনি ঠিক তো সব ঠিক। যাদের কিডনি ভালো নেই তাদের ওপর ভর করে নানাবিধ শারীরিক এমনকি মানসিক সমস্যা। আসুন জেনে নেই কিডনি ভালো রাখার কিছু উপায়।
১। নিয়মিত দৌড়াদৌড়ি করুন, সুস্থ থাকুন:
খেলাধুলা, হাঁটাচলা, এক্সারসাইজ করলে উচ্চ রক্তচাপ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। কিডনির সমস্যায় ভোগা ৩০ ভাগ রোগীরা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হোন।
২। রক্তচাপ মাপুন:
নিজের শরীরকে বুঝতে হবে। আকৃতি এবং বয়স অনুযায়ী স্বাভাবিক রক্তচাপ না থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। স্বাভাবিক মানুষের জন্য ১৪০/৯০ এর বেশি বা কম রক্তচাপ অস্বাভাবিক বলে গণ্য হয়।
৩। স্বাস্থ্যকর খাবার খান:
বেশি ওজন বেশি লবণ উভয়েই স্বাস্থ্যের জন্য শনি। ব্যালেন্সড ডায়েট অর্থাৎ, ফলমূল শাকসবজি, ফাইবার ইত্যাদি খেয়ে ওজন ঠিক রাখা প্রয়োজন। অতিরিক্ত লবণ কিডনির বেশ ভালোরকমের ক্ষতি করে।
৪। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খাবেন:
দিনে একজন স্বাভাবিক মানুষের দুই থেকে আড়াই লিটার পানি পান করা উচিত। যারা ক্রীড়াবিদ তাদের ক্ষেত্রে পরিমাণটা আরেকটু বাড়বে।
৫। ধূমপান ছাড়ুন:
ব্লাড ভেসেলের সর্বোচ্চ ক্ষতি করে ধূমপান। তবে এমনিই ধূমপান শরীরের অন্যান্য আরো অনেক ক্ষতি করে।
৬। প্রতিবছর কিডনি চেক করান:
যারা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে আছেন বা যাদের বয়স বেশি বা যাদের ডায়াবেটিস আছে, তাদের উচিত, প্রতিবছর অন্তত একবার করে কিডনির চেকআপ করানো।-

চীন-পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের ৩৬ রাফায়েল জেট!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:ভারতের অম্বালার বিমানঘাঁটি ঘাঁটিতে পরিকাঠামোর খোলনলচে পাল্টে এবার নতুন সাজে সেজে উঠছে। জোরকদমে চলছে তার প্রস্তুতির কাজ। কারণ আসছে রাফয়েল যুদ্ধবিমান। একদিকে চীন সীমান্ত নিয়ে সমস্যা জিইয়ে রেখেছে। অন্যদিকে পাকিস্তানের সাথে চলছে উত্তেজনা। তাই ভবিষ্যৎ যুদ্ধের কথা মাথায় রেখে দেশের দুই সীমান্ত লাগোয়া বিমান ঘাঁটিতে অত্যাধুনিক মিডিয়াম মাল্টি রোল কমব্যাট এয়ারক্র্যাফট রাফালকে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত।
ভারতীয় বিমানবাহিনীর উদ্ধৃতি দিয়ে দেশটির মিডিয়ায় বলা হয়েছে, হাসিমারা ঘাঁটিতে চীন আর অম্বালায় পাকিস্তান সীমান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই সেখানেই নতুন রাফায়েল মোতায়েন করে যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চাইছে ভারত। ফ্রান্সের দাসো অ্যাভিয়েশন থেকে প্রথম ধাপে ৩৬টি রাফাল যুদ্ধবিমান কিনছে ভারত। হাসিমারা এবং অম্বালায় ১৮টি করে যুদ্ধবিমান রাখা হবে। পরমাণু অস্ত্রবহনে সক্ষম রাফায়েলগুলোর আসবে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে। তাই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানের প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর উন্নয়ন চলছে হাসিমারা–অম্বালায়।
দুই বিমান ঘাঁটির আধুনিকীকরণের জন্য ২২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। বিমান বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, প্রত্যেক ঘাঁটিতে ১৪টি করে হ্যাঙ্গার, শেল্টার এবং রক্ষণাবেক্ষণের বিশেষ জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। আগামী ৪০–৫০ বছরের কথা মাথায় রেখেই এই পরিকাঠামো বদল করা হচ্ছে।
রাফায়েল চালানোর জন্য ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে বাছাই করেছে বিমান বাহিনী। ফ্রান্সে তাদের প্রশিক্ষণও চলছে। পাশাপাশি অম্বালা–হাসিমারায় বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তোলা হচ্ছে বলে খবর। এই অম্বালা ঘাঁটিতে স্বাধীন ভারতে প্রথম কমান্ডার হিসাবে দায়িত্বে ছিলেন সদ্য পরলোকগত বিমান বাহিনী প্রধান মার্শাল আরজন সিং। ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ফরাসি সরকারের সঙ্গে ভারতের ৫৯ হাজার কোটি টাকায় ৩৬টি রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তি হয়েছিল।
সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদ
সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের আততায়ীরা এখনও ধরা না–পড়ায় ভারতের নানা শহরে সোমবার থেকে ৫ তারিখ পর্যন্ত ব্যাপক প্রতিবাদ জানানো হবে। গৌরীর শহর বেঙ্গালুরু ছাড়াও প্রতিবাদে শামিল হচ্ছে দিল্লি, কলকাতা, চেন্নাই, মুম্বই, রাঁচি, বরোদা ইত্যাদি শহর। কলকাতার সল্টলেকে দুপুর তিনটায় এক ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান–বিক্ষোভে শামিল হবেন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ।
সবচেয়ে বড় প্রতিবাদ সভাটি হবে দিল্লিতে। সোমবার দুপুর একটায় দিল্লির প্রেস ক্লাব চত্বরে স্বাধীনতা এবং সম্প্রীতির দাবিতে সরব হবেন সাংবাদিক–‌সহ নানাস্তরের মানুষ। ৫ তারিখে গৌরীর মৃত্যুর এক মাস পূর্ণ হবে। ওই দিন মান্ডি হাউস থেকে যন্তর মন্তর পর্যন্ত যাবে প্রতিবাদ–মিছিল। মুম্বইয়ে মারাঠি পত্রকার সঙ্ঘ আয়োজন করেছে এক প্রতিবাদ সভার। ‘যারা গান্ধীকে হত্যা করেছে, তারাই হত্যা করেছে গৌরীকে’ এটাই হবে ওই প্রতিবাদ সভার মূল বক্তব্য।

জানিয়েছেন আয়োজকেরা। এ ছাড়াও মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভে এক মিছিলে শামিল হবেন সমাজের বিশিষ্টজনেরা। রাঁচিতে সকল শুভবুদ্ধিসম্পন্ন নাগরিক গান্ধী মেমোরিয়ালে উপস্থিত হয়ে গৌরী হত্যা–রহস্যের কিনারা না–হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেবেন। কেরলে হবে একাধিক প্রতিবাদ সভা। ওডিশায় ভুবনেশ্বর ছাড়াও পুরী, ব্রহ্মপুর ইত্যাদি জায়াগায় হবে প্রতিবাদ সভা। বিজেপি–শাসিত গুজরাট এবং মধ্যপ্রদেশেও আয়োজিত হবে একাধিক প্রতিবাদ সভা।
‘‌ফোরাম এগেনস্ট দ্য কিলিং অফ গৌরী লঙ্কেশ’‌–‌এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারত জোড়া এমন প্রতিবাদ–কর্মসূচি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্যই হলো, কালবুর্গির আততায়ীদের মতো গৌরীর আততায়ীরাও যেন পার না পেয়ে যায়।‌