All posts by lutfor

সুষমা স্বরাজ এখন ঢাকায়:রাতে বৈঠক বেগম জিয়ার সাথে

দুই দিনের সফরে ঢাকা এসেছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। আজ দুপুর পৌনে দুইটায় তাকে বহনকারী বিশেষ বিমান কুর্মিটোলা বঙ্গবন্ধু বিমান ঘাঁটিতে অবতরণ করে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী তাকে স্বাগত জানান।
সুষমা স্বরাজ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের জয়েন্ট কনসালটেটিভ কমিশনের (জেসিসি) চতুর্থ বৈঠকে যোগ দেবেন। জেসিসি বৈঠকে দুই দেশের সার্বিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। আজ বিকালে হোটেল সোনারগাঁওয়ে জেসিসি বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করবেন সুষমা স্বরাজ।
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাতে তার সাথে হোটেল সোনারগাঁওয়ে সাক্ষাত করবেন। এছাড়া সংসদে বিরোধী দলীয় নেত্রী রওশান এরশাদের সাথেও সুষমা স্বরাজ সাক্ষাত করবেন।
জেসিসি বৈঠকে যৌথ নদীর পানি বন্টন, বিশেষ করে তিস্তার পানি বন্টন চুক্তি সই, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বাধাগুলো দূর করা, ভারতের ঋণে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি, কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানী খাতে সহযোগিতা, নিরাপত্তাসহ বিস্তৃত ইস্যুতে আলোচনা হবে। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ঢাকা সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দিল্লি সফরের সময় সই হওয়া চুক্তি, সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যু এবং বাংলাদেশের পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও এই সফরকালে আলোচনা হবে।

কমেছে দারিদ্র্য, বেড়েছে বৈষম্য

দেশে দারিদ্র্যের হার কমলেও বেড়েছে বৈষম্যের হার। গত ছয় বছরে দেশে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৭ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে বৈষম্যের হার বেড়েছে। এর

মানে ধনী ব্যক্তির আয়ের হার যে হারে বেড়েছে, গরিব মানুষের আয়ের হার সে তুলনায় বাড়েনি।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ খানা আয়-ব্যয় জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পরিসংখ্যান ভবনে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

২০১০ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপে ১২ হাজার খানার তথ্য নেয়া হয়েছিল। এবার ২০১৬ সালে নমুনা দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৪৬ হাজার খানার ওপর জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। প্রতি পাঁচ বছর পর পর এই জরিপ হয়। এই জরিপে খানার আয়-ব্যয়, ভোগ, পুষ্টিমান, জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত তথ্য, দারিদ্র্য হার, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ইত্যাদি সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়।

জরিপ অনুসারে, ২০১০ সালের জরিপে দারিদ্র্যের হার ছিল ৩১.৫ শতাংশ। ২০১৬ সালে সালের হিসাবে ছয় বছরে দারিদ্র্যের হার কমে দাঁড়িয়েছে ২৪.৩ শতাংশে। এর মানে ছয় বছরের ব্যবধানে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৭.২ শতাংশ। তবে দারিদ্র্য কমার এই হার আগের ছয় বছরের চেয়ে কম।

অন্যদিকে দারিদ্র্যের হার কমলেও বেড়েছে আয় বৈষম্য। বৈষম্য নিরূপণে সমাদৃত মানদণ্ড গিনি সূচক নামে পরিচিত। নিয়মানুসারে গিনি সূচক শূন্য হলে কোনো

বৈষম্য নেই বলে ধরা হয়। এক কে বলা হয় সর্বোচ্চ বৈষম্য। তার মানে শূন্য থেকে এর হার যত বাড়বে বৈষম্যও তত বাড়বে।

বিবিএসের জরিপ অনুসারে ২০১০ সালে গিনি সূচকে বৈষম্যের হার ছিল শূন্য দশমিক ৪৫৮। আর ২০১৬ সালে সেই বৈষম্যের হারে বেড়ে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক

৪৮৩।

জরিপ প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দেশের মানুষের আয় বেড়েছে। দারিদ্র্য ও হতদরিদ্রের সংখ্যাও কমেছে। আমাদের জন্য একটি ভালো সংবাদ। যেভাবে দারিদ্র্যের হার কমছে এ হিসাবে আমরা বলতে পারি ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে কোনো দারিদ্র্য থাকবে না।

বৈষম্য বিষয়ে তিনি বলেন, বৈষম্য বেড়েছে ঠিক আছে, কিন্তু আমরা অন্য পদ্ধতিকে এই বৈষম্য কমিয়ে নিয়ে আনবো। যারা আয় বেশি করবে, তারা করও বেশি দেবে। এভাবে এ বৈষম্য কমিয়ে আনা যাবে।

এসময় তিনি যাদের ওপর জাকাত ফরজ হয়েছে তাদের জাকাত দিতে উৎসাহিত করেন। তিনি বলেন, সবাই জাকাত দিতে ধনী-গরিবের বৈষম্য কমবে।

পরিসংখ্যান বিভাগের সচিব কে এম মোজাম্মেল হকের সভাপতিত্বে বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার ও লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

জাহিদ হোসেন বলেন, দেশে দারিদ্র্য কমেছে এটা একটা ভালো সংবাদ। এই দারিদ্র্য কমার সূচকে হতদরিদ্রও রয়েছে। কিন্তু এই জরিপে কিছু মন্দ দিক উঠে এসেছে। এর একটি হলে আয় বৈষম্য বেড়েছে। এর মানে হলে দরিদ্র্য কমলেও বৈষম্য বাড়ছে। প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কিন্তু সেটা দারিদ্র্য বান্ধব প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না। মানুষের কর্মসংস্থান বান্ধব প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না।

৬২টি প্রশ্নের উত্তরে মানুষের আয়, ব্যয়, ভোগ, স্বাস্থ্য, প্রবাস আয়সহ অন্যান্য তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প পরিচালক দীপঙ্কর রায়।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে তিনি বলেন, জরিপটি এসডিজি (সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল) পূরণে কাজে আসবে। এই জরিপ আগের চেয়ে নির্ভরযোগ্য বলা যায়। কারণ জরিপে নমুনার সংখ্যা বেড়েছে। বিবিএসের খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০০৫ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪০ শতাংশ। ২০১০ সালে সেটি কমে আসে ৩১.৫ শতাংশে। সে হিসাবে ছয় বছরে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৮.৫ শতাংশ।

প্রতিবছর দারিদ্র্যের হার কমেছে ১.৭ শতাংশ হারে। আর ২০১১ থেকে ২০১৬ এই সময়ে দারিদ্র্যের হার কমেছে ৭.২ শতাংশ। প্রতিবছর কমেছে ১.২ শতাংশ হারে।

খানা আয়-ব্যয় জরিপের তথ্য বলছে, দেশে এখন অতি দারিদ্র্যের হার ১২.৯ শতাংশ। সংখ্যার হিসাবে দুই কোটি। ২০১০ সালের খানা আয়-ব্যয় জরিপে এই হার ছিল ১৭.৬ শতাংশ।

ইউরোপের ২৮ দেশে মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর আমন্ত্রণ স্থগিত

রোহিঙ্গাদের ওপর নির্বিচার শক্তি প্রয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) ২৮টি দেশ মিয়ানমার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মিন অংসহ সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ইউরোপে সব ধরনের আমন্ত্রণ স্থগিত করে দিয়েছে। এছাড়া মিয়ানমারের সাথে ইইউ’র সামরিক সহযোগিতা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নে ব্যবহার করা যায়, এমন সব অস্ত্র ও যন্ত্রপাতি মিয়ানমারে বিক্রির ওপর আগে থেকে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। এতেও পরিস্থিতির উন্নতি না হলে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আরো পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি ইইউ বিবেচনায় রাখবে। আর পরিস্থিতির অগ্রগতি হলে ইইউ ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখাতে প্রস্তুত রয়েছে।
আজ সোমবার লুক্সেমবার্গে ইইউ পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে (ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিলেশেন্স) এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ইইউ’র হাই রিপ্রেসেন্টেটিভ ফেডারিকা মুগিরিনিসহ এ বৈঠকে জোটের সব দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে সর্বসম্মত প্রস্তাবে বলা হয়, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুতর। সেখান থেকে নির্বিচার গুলিবর্ষণ, ল্যান্ড মাইন পুতে রাখা, যৌন নির্যাতন, অগ্নিসংযোগসহ ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এটা মোটেও গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা এখনই বন্ধ করতে হবে। সহিংসতা ও ভীতির কারণে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ, যাদের অধিকাংশই রোহিঙ্গা, পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এতো অল্প সময়ের মধ্যে এতো অধিক সংখ্যক মানুষের বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে বহিষ্কার করার পরিকল্পিত পদক্ষেপের শক্তিশালী ইঙ্গিত বহন করে। উদ্বাস্তুদের নিরাপদ ও মর্যাদার সাথে ঘরে ফিরতে পারাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো ও সংবাদ মাধ্যমের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে উদ্বাস্তুদের প্রত্যাবাসনে প্রতিবেশী রাষ্ট্র, বিশেষ করে বাংলাদেশের সাথে সংলাপে বসার জন্য মিয়ানমারকে উৎসাহিত করেছে ইইউ। কঠিন এই পরিস্থিতিতে গঠনমূলক ভূমিকা রাখার জন্য এতে বাংলাদেশের প্রশংসা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক তদন্তকে মিয়ানমার ভয় পায় না বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলর অং সান সু চি গত ১৯ সেপ্টেম্বর যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রস্তাবে বলা হয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অন্যান্য অপরাধের সাথে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার সু চি’র প্রতিশ্রুতিকে ইইউ স্বাগত জানায়। শিশুদের ওপর আক্রমণসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগগুলো পুঙ্খনাপুঙ্খভাবে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধান মিশনের সাথে মিয়ানমারের সহযোগিতা করা উচিত। কালবিলম্ব না করে এই মিশনকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে পূর্ণ, নিরাপদ ও বাধাহীন প্রবেশাধিকার দেয়া প্রয়োজন।
প্রস্তাবে বলা হয়, মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উন্নয়ন, শান্তি, জাতীয় সংহতি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির নাগরিকত্বের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুসহ রাখাইন রাজ্যের সঙ্কট নিরসনে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মিয়ানমারকে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাবে ইইউ। এসব সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য মিয়ানমার সরকারের আন্ত:মন্ত্রণালয় কমিটি গঠনকে ইইউ স্বাগত জানায়।
এতে বলা হয়, মিয়ানমারের কাচিন ও শান রাজ্যে সঙ্ঘতের কারণে লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত জনগণের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়েও ইইউ গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। মিয়ানমার ও জাতিসঙ্ঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামের সাথে সম্পৃক্ততার মাধ্যমে এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এবং গণতান্ত্রিক উত্তরনের প্রক্রিয়ায় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ইইউ কাজ করে যাবে। এজন্য আগামী ২০ ও ২১ নভেম্বর মিয়ানমারের রাজধানী নেপিডোতে অনুষ্ঠেয় আসেম পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে ইইউ সক্রিয় থাকবে। মিয়ানমার সরকারের সাথে গঠনমূলক সংলাপ এবং এশিয়ার সব অংশীদারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আশিয়ান এবং আঞ্চলিক রাষ্ট্রগুলোকে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহ দেবে ইইউ।

৩৬তম বিসিএসে ২৩২৩ জনকে সুপারিশ

৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ২ হাজার ৩২৩ জনকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেয়ার জন্য সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। মঙ্গলবার বিকেলে এ ফল ঘোষণা করা হয়।

ফলাফল প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক।

তিনি বলেন, আজ ৩৬তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ২ হাজার ৩২৩ জনকে সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ফল পিএসসির ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

পিএসসি সূত্রে জানা যায়, ৩৬তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের ৩১ মে। দুই হাজার ১৮০ জন গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে প্রকাশিক এ পরীক্ষার প্রথম ধাপ প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয় গত বছরের ৮ জানুয়ারি। দুই লাখের বেশি চাকরিপ্রাথী এতে অংশ নেন। এ ধাপে মাত্র ১৩ হাজার ৬৭৯ জন উত্তীর্ণ হন। আর তাদের দ্বিতীয় ধাপের তথা লিখিত পরীক্ষা হয় গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এতে ১২ হাজার ৪৬৮ জন অংশ নেন। লিখিত পরীক্ষায় ৫ হাজার ৯৯০ জন পাস করেন। আর তৃতীয় ধাপ তথা মৌখিক পরীক্ষা চলতি বছরের ১২ মার্চ থেকে শুরু হয়ে ৭ জুন শেষ হয়।

নতুন রেজিস্ট্রার জেনারেল জাকির হোসেন

 আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার মো. জাকির হোসেনকে সুপ্রিম কোর্টের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার জেনারেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা তাকে নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে রেজিস্ট্রার জেনারেলের দায়িত্ব দেন। জাকির হোসেন আগামী ২২ অক্টোবর থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেপুর্টি রেজিস্ট্রার জেমস রিচার্ড ক্রুস এর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রেজিস্ট্রার জেনারেলসহ ১০ প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলায় বদলি করা হয়।

সংলাপে যেসব প্রস্তাবনা দিয়েছে বিএনপি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সংলাপে ২০টি প্রস্তাবনা দিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ দল বিএনপি।

রোববার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে পৌনে তিন ঘণ্টার সংলাপ শেষে এ তথ্য জানান দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

প্রস্তাবনার সারসংক্ষেপ জানাতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সব দল ও প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ তৈরি (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) নিশ্চিত করতে হবে।

প্রস্তাবনাগুলো হলো-
নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান সংসদ ভেঙে দিতে হবে। ১/১১ সরকার কর্তৃক বিএনপি চেয়ারপারসনসহ সব নেতার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে যেসব মামলা হয়েছে তা প্রত্যাহার করতে হবে।

গ্রেফতারকৃত সব নেতাকর্মীকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে।

বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের গুম, খুন, হয়রানি ও নানাভাবে ভীতি দেখানো বন্ধ করতে হবে।

এখন থেকেই সব রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশসহ স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে।

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের কার্যকর সংলাপের উদ্যোগ নির্বাচন কমিশনকেই নিতে হবে।
সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণে ইভিএম ডিভিএম ব্যবহার করা যাবে না।

প্রতিরক্ষা বাহানীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদানসহ নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে তাদের কেন্দ্রের দায়িত্ব দিতে হবে।

সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন-কানুন বিধি-বিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে।

২০০৮ সালের পূর্বে সংসদীয় আসনে যে সীমানা ছিল তা পুনর্বহাল রাখতে হবে। ব্যতিক্রম করতে হলে রাজনৈতিক দল বা জোটের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে করতে হবে।

প্রশাসনকে অবশ্যই দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

নির্বাচনের ছয় মাস পূর্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বাতিল করে স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রয়োজনীয়সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে।

নির্বাচনের দিন মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক চালু রাখতে হবে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা বাতিল করতে হবে।

নির্বাচনে কালো টাকা ও পেশীশক্তির ব্যবহার বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
অধিকসংখ্যায় বিদেশি পর্যবেক্ষককে নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উৎসাহী করতে আগমন সহজীকরণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

দেশীয় পর্যবেক্ষক ও পর্যবেক্ষণ সংস্থার মনোনয়ন ও নিবন্ধনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

সূত্র: জাগো নিউজ

‘নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি ইসলামের পথে আসতে পেরে ’

পাকিস্তানের বিখ্যাত অভিনেত্রী এবং টিভি হোস্ট নূর বুখারী শোবিজ অঙ্গন থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত তার অনেক সমর্থককে বিস্মিত করেছে।

সম্প্রতি তিনি হিজাব পরিধান অবস্থায় কয়েকটি ছবি প্রকাশ করলে সংবাদের শিরোনাম হয়েছিলেন। ৩৫ বছর বয়সী জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি ভবিষ্যতে কোনো সিনেমা বা টিভি শো করার পরিকল্পনা করছেন না। মাত্রই কয়েক সপ্তাহে আগে নূরের চতুর্থ স্বামী গায়ক ওয়াহিদ হামিদ আলী খানের সঙ্গে ডিভোর্স হয়ে গেছে। স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদের পর তিনি এই সিদ্ধান্তটি নিলেন।

জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী বলেন, আমি এমন একটি সময় অতিক্রম করছিলাম; যেটি মানসিক আঘাত এবং অন্যান্য কষ্টের সঙ্গে জড়িত। আমি এ সম্পর্কে আর ভাবতে চাই না। সাক্ষাৎকারে তিনি তার ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন এবং তার এই আধ্যাত্মিক যাত্রায় তিনি নিজেকে কতটা ভাগ্যবান বলে মনে করেন সেসম্পর্কেও কথা বলেন।

নূর বলেন, ইসলামের পথে আসতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে মহান আল্লাহর সঙ্গে ঘনিষ্ট হওয়ার বিষয়টি আপনি চাইলেই বাছাই করে নিতে পারেন না, বরং আল্লাহই আপনাকে পছন্দ করে নেন।

আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে পছন্দ করেছেন।

তিনি জানান, তিনি এখন নিয়মিত হিজাব পরছেন এবং হিজাব ছাড়া কখনো ঘর থেকে বাইরে বের হবেন না। নূর ২০০০ সালে শান শহিদের বিপরীতে মুজে চান চাহিয়া ছবিতে অভিনয় করে পাকিস্তানের শীর্ষ অভিনেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হন। এর পর টানা কয়েক বছর তার অভিনয় করা একাধিক সিনেমা ব্যবসা সফল হয়। এছাড়াও নূর নাট্য শিল্পের সঙ্গে জড়িত উফ ইয়াহ লারিকিয়ান এবং মেরে আগনে মেইন এর মতো প্রকল্পগুলোতে কাজ করেছেন। তিনি টিভি অনুষ্ঠান মনিং শো উপস্থাপনা করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

তিনি বলেন, আমি একজন পরিবর্তিত নারী। আমার দর্শনসমূহও পরিবর্তিত হয়েছে। আমার পরিশ্রম আমাকে আল্লাহর কাছাকাছি নিয়ে এসেছে এবং আমি আমার এই রূপান্তর সবার সঙ্গে ভাগ করে নেয়া্র পাশাপাশি এই পথ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে চাই। তিনি আরো বলেন, আমি ধর্মীয় অনুষ্ঠান করবো। বিশেষত ইসলামিক প্রক্রিয়ার মধ্যে ইসলাম গ্রহণ সম্পর্কে শিখব।

পরকীয়ার কথা জেনেও স্বামীদের হাত ছাড়েননি বলিউডের যে তারকা স্ত্রীরা

১. বলিউড অভিনেত্রী রেখা তার আত্মজীবনীতে সরাসরি স্বীকার করেছিলেন তাঁর সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের সম্পর্কের কথা। জয়া যে সে কথা জানতেন তাও লিখেছিলেন রেখা।

যদিও জয়া কোনওদিন এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি।
২. দিলীপ কুমারের সঙ্গে মধুবালার সম্পর্ক বলিউডের ‘এভারগ্রিন গসিপ’। যদিও স্ত্রী সায়রা বানু আজও তাঁর ছায়াসঙ্গী।

৩. মিঠুনের সঙ্গে শ্রীদেবীর পরকীয়ার কথা সবারই জানা। গুঞ্জন ছিল তাঁরা বিয়েও করে নিয়েছিলেন। যদিও স্ত্রী যোগিতা বালি কোনওদিন মিঠুনের হাত ছাড়েননি।

৪. ধর্মেন্দ্রর প্রথম পক্ষের স্ত্রী প্রকাশ কাউর। পরে ধর্ম বদল করে হেমা মালিনীকে বিয়ে করেন ধর্মেন্দ্র। কিন্তু কখনওই তাঁদের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি।

৫. গোবিন্দ স্বীকার করেছিলেন ‘হদ করদি আপনে’ ছবির সেটে রানি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা। যদিও গোবিন্দার স্ত্রী সুনীতা তাঁকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছিলেন।

৬. কখনও রবিনা টন্ডন, কখনও প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। অক্ষয় কুমারের নামবহুবারই পরকীয়ায় জড়িয়েছে। যদিও স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্না কোনওদিন তাঁর হাত ছাড়েননি।

৭. স্বামী অজয় দেবগণের নামও বেশ কয়েকবার সহ-অভিনেত্রীদের সঙ্গে জড়িয়েছে। তবুও কাজল ও অজয়ের দাম্পত্য জীবন কোনওদিন বিঘ্নিত হয়নি।

৮. প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে নাম জড়িয়েছে শাহরুখেরও। যদিও স্ত্রী গৌরী খান কোনওদিন এ নিয়ে মন্তব্য করেননি।