All posts by lutfor

‘মিথ্যা অভিযোগে খালেদা জিয়াকে সম্পৃক্ত করে চার্জশিট’

দুদকের উপপরিচালক হারুন-অর-রশীদ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা। আবার তিনিই এই মামলা তদন্ত করে অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযোগে সম্পৃক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বকশীবাজারে স্থাপিত ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামানের আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্কে একথা বলেন তার আইনজীবী একে মোহাম্মদ আলী।

এদিন খালেদা জিয়ার পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হলে আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। এদিন একই আদালতে জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্কের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

দুই মামলায় হাজিরা দিতে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে আদালতে হাজির হন খালেদা জিয়া। দুপুর ১২টায় বিচারক এজলাসে বসেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক শুরু করেন তাঁর আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী। এ সময় আদালত বলেন, ‘আদালতের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা সকাল সাড়ে নয়টায়। আপনারা ১২টার সময় কেন এলেন? এভাবে সময় নষ্ট করে কোর্ট কিভাবে চলবে? আমরা (বিচারক) আপনাদের (আইনজীবী) সম্মান করি বলে এভাবে যদি প্রতিদিনই দেরী করতে করতেই থাকেন, তাহলে কোর্ট কিভাবে চলবে? আপনারা আসেন না আসেন, এরপর থেকে আমি সকাল সাড়ে ১০টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু করব।’

আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলীর উদ্দেশে বিচারক বলেন, তিনি অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক শুনছেন। এর আগে খালেদা জিয়ার অপর জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বিস্তারিত বলেছেন। ‘আজই আপনারা শেষ করবেন’। আদালত এটা বলার সঙ্গে সঙ্গে এজলাসে উপস্থিত বিএনপির আইনজীবীরা হইচই শুরু করেন। ওই সময় বিচারক বলেন, ‘আপনারা হইচই করলে আমি আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করব।’

তখন খালেদা জিয়ার অপর আইনজীবী আবদুর রেজাক খান বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে। তিনি বলেন, তিনটি কথার ওপর এই মামলা। প্রথম কথাÑ ম্যাডাম জিয়া (খালেদা জিয়া) অ্যাকাউন্ট খোলেন, দ্বিতীয় কথাÑ ম্যাডাম জিয়া টাকা উত্তোলন করেন, তৃতীয় কথাÑ ম্যাডাম জিয়া ডিস্ট্রিবিউট করেন। আর অতিরিক্ত একটা কথাÑ তিনি ট্রাস্ট গঠন করেন। এই চারটা কথা। এই চার কথার ওপর কেন আমাদের এতোদিন বলা লাগছে? আমরা বলেছি, সমস্ত কিছুই জাল-জালিয়াতি করে করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি, মামলার প্রাসঙ্গিক বিষয়ে যুক্তিতর্ক তুলে ধরতে। যতক্ষণ যুক্তিতর্ক উপস্থান শেষ না হয়, ততক্ষণ অনুগ্রহ করে আমাদের কথা শুনবেন। এরপর পরিস্থিতি শান্ত হয়।

খালেদা জিয়ার পক্ষে অষ্টম দিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থান শুরু করেন প্রাক্তন অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, দুদক কর্মকর্তা নূর আহমেদ ২০০৮ সালের ১১ জুন ‘অনুসন্ধানের নিদিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের সংশ্লিষ্ট নথি এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য সম্বলিত কাগজপত্র সরবরাহ না করায় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সম্পৃক্ততা সম্পর্কে মতামত প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না।’Ñ মর্মে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।’

‘আর এই প্রতিবেদন দাখিলের মাত্র ১৪ দিনের ব্যবধানে অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ কোন প্রকার সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য, সৃজনকৃত কাগজপত্র ও সাক্ষীদের নামে সাজানো ও মিথ্যা বক্তব্যের ভিত্তিতে ওই বছরের ২৫ জুন একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন। তিনি ওই প্রতিবেদনে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এই লাইনটি সংযুক্ত করেনÑ ‘অনুসন্ধানে তৎকালীন মুখ্য সচিবের পিএস সৈয়দ জগলুল পাশা ওই নথিপত্র উপস্থান ও সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন।’

তিনি বলেন, হারুন-অর-রশীদ অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা, আবার তিনিই এই মামলার তদন্ত করে অন্যায়ভাবে খালেদা জিয়াকে মিথ্যা অভিযাগে সম্পৃক্ত করে চার্জশিট (অভিযোগপত্র) দাখিল করেন।

তিনি আরও বলেন, সবার আগে এই মামলায় টাকার উৎস নির্ণয় করা জরুরী। বাংলাদেশে কুয়েত দূতাবাস থেকে যে পত্র দেওয়া হয়েছে, তাতে কুয়েতের আমির জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টকে টাকাটা দিয়েছে বলা আছে।

এরপর দুপুর ১টা ২৫ মিনিটের দিকে আদালত বিরতি দেন। বিরতি শেষে দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটের দিকে খালেদা জিয়ার পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন অপর আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

যুক্তিতর্কে তিনি বলেন, প্রসিকিউশনের দায়িত্ব হল সন্দেহাতীতভাবে আসামির অভিযোগ প্রমাণিত করা। এক্ষেত্রে প্রসিকিউশন সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। হিসাব খোলার ফর্মে খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর নাই। তিনি ওই অ্যাকাউন্ট খোলার নির্দেশও দেননি। তিনি ব্যক্তিগত কিংবা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কখনও ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। যদি ক্ষমতার অপব্যবহারের এক তিল পরিমাণ তথ্য-প্রমাণ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে পাওয়া যায়, তাহলে প্রচলিত আইন অনুসারে আদালত যে শাস্তি দেবেন তা মাথা পেতে নেব।

প্রসঙ্গত, ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই দুদক এ মামলা করে। ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট এ মামলায় খালেদা জিয়া, তারেক রহমান, মাগুরার বিএনপির সাবেক সাংসদ কাজী সালিমুল হক কামাল, সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগনে মমিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান মোশাররফ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সাবেক শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়াকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বুধবার বিকালে মোশাররফকে দু্ই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

১৯৮১ সালের বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেনকে ২০১৪ সালের ২৬ অক্টোবর শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। এরপর গত ১১ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান তিনি।

২০১০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি সেতু বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। পরে একই বছরের ২৯ জুলাই পদোন্নতি পেয়ে সচিব হন মোশাররফ।

এরআগে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি।

পদ্মা সেতুতে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়ন নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে এক মামলায় গ্রেপ্তারের পর ওএসডিও হতে হয়েছিল এই কর্মকর্তাকে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করনে মোশাররফ। তার বাড়ি নরসিংদী।

পাকিস্তান আর কোনো আর্থিক সহায়তা পাবে না: ট্রাম্প

দীর্ঘদিনের গেল বছরের বিভিন্ন সময় মিত্র দেশ পাকিস্তানের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার প্রশাসন। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোকে প্রশ্রয় দেয়ারও অভিযোগ তোলা হয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। হুমকি দেয়া হয়েছে সব ধরনের সহায়তা বন্ধের।

এ অবস্থায় নতুন বছরের শুরুতেই দীর্ঘদিনের মিত্র পাকিস্তানকে সহায়তা বন্ধের ঘোষণা দিয়ে একটি টুইট করেছেন ট্রাম্প।

টুইটে ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পাকিস্তান আর কোনো মার্কিন সাহায্য পাবে না।

আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনী যেসব সন্ত্রাসীর সঙ্গে লড়ছে পাকিস্তান, তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে এবং মিথ্যা কথা বলছে বলে ট্রাম্প সোমবার অভিযোগ করেন।

টুইটবার্তায় তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৫ বছর ধরে বোকার মতো পাকিস্তানে ৩৩শ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সাহায্য দিয়ে এসেছে। বিনিময়ে পায়নি কিছুই। তারা আমাদের নেতাদের বোকা ভেবে মিথ্যা বলেছে, প্রতারণা করেছে। আফগানিস্তানে আমরা যাদের সঙ্গে লড়ছি সেই সন্ত্রাসীদের স্বর্গরাজ্য গড়ে দিয়েছে। সহযোগিতা করেছে কমই। আর না।

এর আগে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’ পত্রিকা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সাহায্য বন্ধ করে দেয়ার কথা ভাবছে।

এদিকে সোমবার ট্রাম্পের টুইটের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা এম আসিফ বলেছেন, আমরা শিগগিরই এ টুইটের জবাব দেব ইনশাল্লাহ…, বিশ্বকে আমরা সত্যটা জানাব…। প্রকৃত সত্য আর বানোয়াটের মধ্যকার ফারাকটা বিশ্ব জানবে।

ওয়াশিংটনে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত হামদুল্লাহ মহিব ট্রাম্পের এ ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনেক দিন ধরে পাকিস্তানের মাটি থেকে সন্ত্রাসীদের চালানো তৎপরতায় দুর্ভোগ পোহানো আফগানদের জন্য এ টুইট একটি আনন্দের বার্তা।

মেনন-মঞ্জু-আনিসুল-তারানার দফতর বদল

দফতর পেলেন শপথ নেয়া তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনমন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীর দফতর বদল করা হয়েছে।

বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও অন্যদের দফতর বদল করে আদেশ জারি করা হয়েছে। এর আগে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠকের ব্রিফিং শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম দফতর বণ্টন ও দফতর বদলের তথ্য জানান।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। মেনন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। আনিসুল ইসলামকে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আনিসুল ইসলাম জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য।

অন্যদিকে পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। মঞ্জু জাতীয় পার্টির (জেপি) সভাপতি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমকে তথ্য প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

আগে নুরুজ্জামান আহমেদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী থাকলেও এখন মন্ত্রী নিয়োগ দেয়ায় তাকে শুধু সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে।

বিএনপির অংশগ্রহণবিহীন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ১২ জানুয়ারি শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা হয়। তখন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ ছাড়া অন্যরা নিয়োগ পেয়েছিলেন।

২০১৫ সালের ১৪ জুলাই তারানা হালিমকে ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এবং নূরুজ্জামান আহমেদকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ করা হয়।

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন মারা যাওয়ার পর ২০১৬ সালের ১৯ জুন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়।

খালেদা পদ্মা সেতুর কিছু বোঝেন না : প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু নিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘খালেদা জিয়া ব্রিজের কিছু বোঝেন না, উনি যেটুকু বুঝেছেন সেটুকু বলেছেন। তাই তার এ বক্তব্যের ব্যাপারে আমার কিছু বলার নেই।’

বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে অনির্ধারিত আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রিপরিষদের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

মঙ্গলবার ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সভায় খালেদা জিয়া নির্মাণাধীন পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে বলেন, ‘জোড়াতালি দিয়ে পদ্মা সেতু বানানো হচ্ছে। এই সেতুতে ঝুঁকি আছে।’

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শেখ হাসিনা। মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ছাড়াও বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊধ্র্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের দরজা বন্ধ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, মিলনায়তনের ভাড়ার টাকা পরিশোধ না করায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষই দরজা বন্ধ রেখেছিল। পরে ওবায়দুল কাদেরের হস্তক্ষেপে দরজা খুলে দেয়া হয়।

মন্ত্রিসভা সূত্র জানায়, বৈঠকে প্রসঙ্গটি উঠলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, তালা বন্ধের ঘটনাটি জানার পর আমি আমাদের দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে জানাই। এটা কেন হচ্ছে, এতে সরকারের সমালোচনা হবে। বিষয়টি তাকে দেখতে বলি। ওবায়দুল কাদের ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সভাপতির কাছে জানতে চান- কেন মিলনায়তনের দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে?

ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ ওবায়দুল কাদেরকে জানায়- ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেনি বলে দরজা বন্ধ রাখা হয়েছে। ওবায়দুল কাদের তখন তাদের বলেছে ভাড়ার টাকা পরিশোধ হয়েছি কী হয়নি সেটা পরে দেখা যাবে, তাদের যেহেতু ভাড়া দেয়া হয়েছে তাড়াতাড়ি দরজা খুলে দিন। এটা নিয়ে সরকারের সমালোচনা হবে। এরপর দরজা খুলে দেয় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন,-বলেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্ত্রী ছায়েদুল হক আর নেই

মৎস্য ও প্রাণি সম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক চিকিৎসাধীন অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে মারা গেছেন।

শনিবার সকালে তিনি মারা যান। বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ শাখার কর্মকর্তা প্রশান্ত  বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে পাঁচ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ছায়েদুল হক। ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান প্রবীণ এই নেতা। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি স্ত্রী ও এক ছেলে রেখে গেছেন। তার ছেলে রায়হানুল হক ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্রভাষক।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জির তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছায়েদুল হক দীর্ঘদিন ধরে জ্বর, ইউরিন ইনফেকশন ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছিলেন।

বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা : রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তাঁরই আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।’

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি মহান বিজয় দিবসের প্রাক্কালে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানাব আসুন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরো বেশি অবদান রাখি, দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেই সমৃদ্ধ আগামীর পথে।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমি আজ বিনম্রচিত্তে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অপরিসীম ত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাঁদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিজয়ের এই মহান দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যাঁরা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন।’ তিনি বলেন, ‘জাতি তাঁদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।’

আবদুল হামিদ বাণীতে উল্লেখ করেন, “১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে করণীয় বিষয়ে প্রদত্ত বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ গত ৩০ অক্টোবর ইউনেসকো ‘ইন্টারন্যাশনাল মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড’-এ অন্তর্ভুক্ত করে ‘বিশ্বপ্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এ জন্য আমরা গর্বিত।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতার হত্যার মধ্য দিয়ে দেশে সামরিক স্বৈরশাসন ও অগণতান্ত্রিক সরকারের উত্থান ঘটে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে প্রত্যাবর্তন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে আন্দোলন শুরু করেন। দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রাম এবং নানা চড়াই-উৎরাইয়ের মধ্য দিয়ে দেশে আজ গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। সরকারের যুগোপযোগী পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে অর্জিত হচ্ছে নানা সাফল্য।’

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মতো বৃহৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে। ২০২৪ সালে দুই হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট মহাকাশে স্থাপিত হবে। টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ হবে এক নতুন দিগন্ত। আর্থসামাজিক নানা খাতে বাংলাদেশের অগ্রগতি আজ বিশ্বদরবারে ‘রোল-মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই যে অর্জন, এর পেছনে রয়েছে এদেশের সকল শ্রেণিপেশার মানুষের অসাধারণ মেধা-মনন, অক্লান্ত পরিশ্রম আর অদম্য মনোবল। তিনি বলেন, ‘আমাদের অর্থনীতিতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রেরিত রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তারাও আমাদের উন্নয়নের গর্বিত অংশীদার। সরকার সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা সাফল্যের সাথে অর্জন করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে।’

‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারোর সাথে বৈরিতা নয়,’ জাতির পিতা ঘোষিত এ মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালিত হচ্ছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘চলতি বছর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে নির্যাতিত ও বিতাড়িত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে নিতান্ত মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়ে বিশ্বদরবারে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আশ্রয়হীন এত মানুষের ভার বহন করা বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন। বাংলাদেশ এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী।’

আসুন, দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আসুন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা করি। দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। এটাই হোক ২০১৭ সালের বিজয় দিবসে আমাদের অঙ্গীকার।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান।

৪৭তম মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বিজয়ের এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। স্মরণ করেন জাতীয় চার নেতা, ত্রিশ লক্ষ শহীদ এবং দুই লক্ষ মা-বোনকে, যাঁদের অসামান্য আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, ‘২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে জনগণ পুনরায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করে সংবিধানের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে। সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশ ও জনগণের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে ১৯৯৬ সালে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন জাতীয় ইতিহাসের গৌরবোজ্জ্বল সময় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। বাঙালি জাতি দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ২০০৮ সালে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে। বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচনে জনগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটকে বিপুলভাবে বিজয়ী করে। এই সরকার সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করে। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পথ বন্ধ করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গত নয় বছরে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়ন, কূটনৈতিক সাফল্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধিসহ প্রতিটি সেক্টরে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচকে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি দেশের একটি আজ বাংলাদেশ।’

বাংলাদেশ আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। দারিদ্র্যের হার ২২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬১০ মার্কিন ডলার। রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। দেড় কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পাঁচ কোটি মানুষ নিম্ন আয়ের স্তর থেকে মধ্যম আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। শিক্ষার্থীরা বিনামূল্যে বই পাচ্ছে। সাক্ষরতার হার ৭২ শতাংশের বেশি হয়েছে। দেশের ৮৩ ভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায়। দরিদ্র মানুষ বিনামূল্যে ৩০ ধরনের ওষুধ পাচ্ছে। গড় আয়ু বেড়ে ৭১ বছর আট মাস। ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে। সারা দেশে সড়ক, মহাসড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার, পাতাল সড়ক এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রেল, নৌ ও যোগাযোগ অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মেট্রোরেল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।’

নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করে জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে। জনগণকে দেওয়া ওয়াদা অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকার্য এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভারতের সঙ্গে স্থলসীমানা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমারও শান্তিপূর্ণ সমাধান করেছি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। সারা বিশ্ব আমাদের আর্থসামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করছে। এসব অর্জন সম্ভব হয়েছে সংবিধান ও গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষার মাধ্যমে।’

২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত, শান্তিপূর্ণ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তাঁর সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি আশা করি, রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে সক্ষম হব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতার বলিষ্ঠ ও আপসহীন নেতৃত্বে বাঙালি জাতি বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয় দফা, ঊনসত্তরের ১১ দফা ও গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগষ্ঠিরতা অর্জন করে। ফলে বৈধ ভিত্তি পায় বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা অনুধাবন করেছিলেন স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন ও বঞ্চনার অবসান হবে না। তাই তিনি ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা দেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ মূলত সেদিন থেকেই শুরু হয় স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অধ্যায়।’

প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে ধ্বংসস্তূপ থেকে টেনে তুলে সোনার বাংলা গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী চক্র জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে তারা হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের পথ বন্ধ করে দেয়। মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে। অবৈধ সরকার গঠন করে। মুক্তিযুদ্ধের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাসকে বিকৃত করে। সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রুদ্ধ করে। পরবর্তীকালে বিএনপি-জামায়াত সরকার এই ধারা অব্যাহত রাখে।’

স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। ৪৬তম দিবসের প্রথম প্রহরে জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রথমে রাষ্ট্রপতি ও পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

মহান বিজয় দিবসের উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি তার দেওয়া বাণীতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য ও চেতনা বাস্তবায়নে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আরও বেশি অবদান রাখি, দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নেই সমৃদ্ধ আগামীর পথে।

তিনি আরও বলেন, বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন স্বাধীনতা। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম ও নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তারই আহ্বানে ও নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয় বলে বলেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি আজ বিনম্র চিত্তে পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার অপরিসীম ত্যাগ ও আপসহীন নেতৃত্বে পৃথিবীর মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আমি গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। বিজয়ের এই মহান দিনে আমি শ্রদ্ধা জানাই বীর মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যারা আমাদের বিজয় অর্জনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রেখেছেন। তিনি বলেন, জাতি তাদের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে।

মিয়ানমারের জেনারেলদের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের আহ্বান ইইউ’র

রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অবিলম্বে নির্যাতন বন্ধ এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে একটি রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই রেজ্যুলেশন গৃহীত হয়।

ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের সদস্যরা রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধ ছাড়াও অবাধ মানবাধিকার সহায়তার নিশ্চয়তা ও ইইউভূক্ত দেশগুলোকে মিয়ানমারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি সদস্য রাষ্ট্রগুলিকে আহ্বান জানানো হয়েছে মিয়ানমারের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর যেসব সদস্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য দায়ী তাদের বিরুদ্ধে টার্গেটেড শাস্তিমূলক অবরোধ আরোপ করার।

প্রসঙ্গত যে, মিয়ানমারের প্রকৃত ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর হাতে এবং এর প্রধান হচ্ছে জেনারেল মিং আং হ্লাইং। সামরিক বাহিনীর নির্দেশেই রাখাইনে অপারেশন ক্লিয়ারেন্স পরিচালিত হচ্ছে।

রেজ্যুলেশনে একই সঙ্গে ইউরোপিয়ান কমিশনকে আহ্বান জানানো হয়, মিয়ানমার যেসব বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করে সেগুলির বিষয়ে ওই সংস্থা যেন তদন্ত শুরু করে এবং রোহিঙ্গা ইস্যুসহ অন্যান্য মানবাধিকার সংলাপ জোরদার করে। রোহিঙ্গাদের প্রতি নির্যাতন বন্ধ এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য চীনসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক শক্তির প্রতি আহ্বান জানানো হয় রেজ্যুলেশনে।

এতে শাখারভ পুরস্কারপ্রাপ্ত অং সান সুচি মনে করিয়ে দেওয়া হয় এই পুরস্কার তাকেই দেওয়া হয় যে মানবাধিকার রক্ষা করবে, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেবে এবং আন্তর্জাতিক আইনকে সম্মান জানাবে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা হয়, যারা এগুলি পালন করবে না তাদের শাখারভ পুরস্কার ফেরত দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে কিনা। অং সান সুচিসহ মিয়ানমার সরকার যেন সব ধরনের জাতিগত ও ধর্মগত ঘৃণাকে নিন্দা করে এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সামাজিক বৈষম্য প্রতিরোধে ভূমিকা রাখার কথাও রেজ্যুলেশনে বলা হয়।

নিরাপত্তা পরিষদের এ বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে রেজ্যুলেশনে বলা হয়, ইইউ সদস্যরাষ্ট্রসমূহ যেন চীন ও রাশিয়াসহ নিরাপত্তা পরিষদের অন্যান্য সদস্যদের ওপর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য চাপ অব্যাহত রাখে। এছাড়া মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি নিষেধাজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে এ রেজ্যুলেশনে মত প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদ যেন এমন পদক্ষেপ নেয় যাতে করে বিশ্বের যেকোনও দেশ যেন মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রি না করে বা সামরিক প্রশিক্ষণ না দিতে পারে।

এ বছরের আগস্ট থেকে ছয় লাখ ৪৬ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানানো হয় রেজ্যুলেশনে।

উল্লেখ্য, এ বছরের ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর হামলা ও নির্যাতনের ফলে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের পালিয়ে আসে। গত বছরের ৯ অক্টোবর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন শুরু হলে প্রায় ৯০ হাজারের মতো তখন রোহিঙ্গা পালিয়ে আসে। এর আগে থেকে প্রায় তিন লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছিল।