All posts by lutfor

এক নজরে মহিউদ্দিন চৌধুরীর বর্ণাঢ্য জীবন

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা। তিনি ১৯৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু ২০০৯ পর্যন্ত কয়েক দফায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের সিটি মেয়রের দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৪৪ এর ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার গহিরা গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরির জন্ম। পিতার নাম মরহুম হোসেন আহমদ চৌধুরি আর মাতা মরহুম বেদৌরা বেগম। আট ভাইবোনের মাঝে মহিউদ্দিন মেজ। পিতা চাকরি করতেন আসাম বেংগল রেলওয়েতে। পিতার চাকরির সুবাদে মহিউদ্দিন পড়াশোনা করেছেন মাইজদি জেলা স্কুল, কাজেম আলি ইংলিশ হাই, আর প্রবর্তক সংঘে। স্কুল জীবনে ছাত্রলীগের সাথে জড়িয়ে পড়েন।

স্কুল শেষে শেষে বাবার আদেশে ভর্তি হয়ে ছিলেন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এর কোর্সে। সেখানের পাট না চুকিয়ে ভর্তি হন চট্টগ্রামের অন্যতম বিদ্যাপীঠ চট্টগ্রাম কলেজে। বছর না ঘুরতেই কমার্স কলেজম, শেষ পর্যন্ত সিটি কলেজ।

সিটি কলেজেই তার বিপ্লবী রাজনৈতীক জীবনের হাতেখড়ি। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
জহুর আহমদ চৌধুরীর হাত দিয়ে রাজনীতি শুরু। বঙ্গবন্ধুর ডাকে আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে গ্রেফতার হন অসংখ্যবার। মুক্তিযুধ্যে অংশ নিতে গিয়ে আইএস আইয়ের চট্টগ্রাম নেভাল একাডেমি সদরদপ্তরের কাছে গ্রফতার হয়ে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হন দীর্ঘ চার মাস।

শহিদ ভেবে বাবা ছেলের নামে দিয়ে ছিলো ফাতেহা। এরই মাঝে একদিন মানসিক রোগীর নাটক করে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে পালিয়ে বেরোন মহিউদ্দিন। পাড়ুই জমান ভারতে। সেখানে সশস্ত্র প্রশিক্ষন শেষে সক্রিয়ভাবে সম্মুখসমরে অংশ নেন। ছিলেন ভারত-বাংলা যৌথবাহিনীর মাউন্টেন ডিভিশনের অধীনে।

বঙ্গবন্ধুর খুবই কাছের আর আদরের ছাত্রনেতা ছিলেন মহিউদ্দীন। কিন্তু তৎকালিন সময়ে প্রবল ক্ষমতাশালী হয়েও ক্ষমতার মোহ স্পর্শ করেনি তাকে।

কিছুদিন না যেতেই ষড়যন্ত্রকারীদের হাতে নিহত হন বঙ্গবন্ধু। অল্পের জন্য মহিউদ্দিন ধরা পরা থেকে বেঁচে যান, মৃত্যু বরণ করেন সাথী মৌলভি সৈয়দ। পালিয়ে গিয়ে ভারতে প্রতিবিপ্লবীদের সাথে যোগ দেন। লক্ষ্য সামরিক জান্তা, খুনি মোশতাককে সামরিকভাবেই পরাস্ত করা। কিছুদিন পরেই দলের নির্দেশে পন্থা পরিবর্তন করে আবার সক্রিয় হন প্রকাশ্য রাজনীতিতে।

দেশে এসেই নির্যাতন, আর একের পর এক কারাভোগ। তখন স্বৈরাচার জিয়া ক্ষমতায়। মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর জিয়ার দমন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে গোপন ষড়যন্ত্রের ভুমিকা, প্রতিবাদী করে তোলে মহিউদ্দিনকে। দলের নির্দেশে চলে বৈপ্লবীক প্রতিবাদ আর প্রতিরোধ। তরুণ ছাত্রনেতা মহিউদ্দিনের জুজুতে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা তটস্থ।

মাঝে আওয়ামী লীগের ভেতরেই ষড়যন্ত্রকারীরা তৎপর হয়ে উঠলো। বঙ্গবন্ধু কন্যা আজকের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুমিকাকে নগণ্য করতে তাকে ঠেকাতে শত্রুরা উঠেপরে বসলো। অদম্য সাহসী মহিউদ্দীন চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে দলবল নিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার জন্য ঝাপিয়ে পরলেন। সব বাধা অতিক্রম করে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে দলের কাণ্ডারির দায়ীত্ব নিতে সহয়তা করলেন।

স্বৈরাচারি সামরিক জান্তা এরশাদের শাসনামলে চট্টগ্রামে স্বয়ং জান্তা প্রধানকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে চক্ষুশূল হন সরকারের। ফলে আবারও রাজনৈতিক বন্দি। ততদিনে চট্টগ্রামের আপামর জনতার নয়নমনি হয়ে উঠেন মহিউদ্দীন চৌধুরী।

একানব্বইয়ের ঘুর্ণিঝড়ে দুস্হ জনতার পাশে দাঁড়িয়ে, অসহযোগ আন্দোলনে খালেদার সরকারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে, গরিব-দুঃখি-শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে মহিরুহে পরিনত হন আজকের মহিউদ্দীন।

ওয়ান ইলেভেনের শাসনামলে জেলে যান। ষাটোর্ধ বয়সে কারান্তরিন ছিলেন দীর্ঘ দুই বছর। এরমধ্যেই নির্মম ভাবে ইন্তেকাল করেন আদরের মেয়ে ফওজিয়া সুলতানা টুম্পা। নানান টালবাহানা করে টুম্পাকে মৃত্যু অবধারিত জেনেও দেখতে দেয়নি অনির্বাচিত সরকার নামক ভদ্রবেশি আরেক নব্য সামরিক জান্তা। শতচেষ্টা আর মানসিক নির্যাতন করেও টলাতে পারে নি সরকার মহিউদ্দীনকে একটুও।

তিনি ১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দে প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

২০০৫ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন মন্ত্রীকে পরাজিত করে তৃতীয়বারের মতো চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের তুলনায় ভোটের ব্যবধানও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।

শেখ হাসিনা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন, রাজি হননি

সদ্য প্রয়াত সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে শেষ বারের মতো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ সময় তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হৃদয়জুড়ে, অন্তরজুড়ে শুধুই চট্টগ্রাম, এই মাটি ও মানুষকে ভালোবাসতেন।

আজকে চট্টগ্রামে যে বাঁধভাঙা শোককাতুর মানুষ দেখছি, সেটা থেকেই বোঝা যায় তার প্রতি মানুষে ভালোবাসা কতটা প্রকট। চট্টগ্রাম মহিউদ্দিন চৌধুরীর, মহিউদ্দিন চৌধুরী চট্টগ্রামের।
আজ শুক্রবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর ষোলোশহরের চশমা হিলের বাসায় গিয়ে তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা মহিউদ্দিন চৌধুরীকে মন্ত্রী হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। আমাদের নেত্রী তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্য হতে বলেছিলেন, তিনি রাজি হননি। তিনি বলতেন, আমার স্বপ্ন, আমার ধ্যান, আমার প্রাণ, আমার সবকিছুই হচ্ছে চট্টগ্রাম। চট্টগ্রামের বাইরের নেতা হওয়ার আমার কোনো স্বপ্ন নেই। বারবার নেত্রী তাকে বলেছেন, সেই অনুরোধ তিনি রাখেননি।

গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মহিউদ্দিন চৌধুরী (৭৩) মারা যান।

তিনি অনেক দিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি জটিলতাসহ বার্ধক্যজনিত নানা রোগে ভুগছিলেন বলে জানা গেছে।

২০২৫ সালের মধ্যে ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি হবে চালকহীন- জয়

বাংলাদেশের শিক্ষার সকল পর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি বাধ্যতামূলক করার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য দেশের তরুণদের ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করা। ’ তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতবাণী করতে চাচ্ছি না। তবে কোন সেক্টর ছেড়ে কোন সেক্টরের উন্নতি করা হবে, এর জন্য আমাদের আইডিয়া মানুষের কাছে তুলে ধরতে চাই। যা আপনা আপনি উন্নতির পথে যায়। ’

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া চার দিনব্যাপী
তথ্যপ্রযুক্তির মহাসম্মেলন ‘ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড–২০১৭’ এর দ্বিতীয় দিনে মিনিস্ট্রিয়াল কনফারেন্স এসব কথা বলেন তিনি। এসময় পাঁচ দেশের মন্ত্রীসহ সাত দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

গ্লোবাল কনসাল্টিং গ্রুপ এর জারফ মুনিরের সঞ্চালনায় এই কনফারেন্সে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনায় সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। এজন্য ৪র্থ শিল্প বিপ্লব নিয়ে এখন কথা বলার সময় এসেছে। কারণ, দ্রুত বদলে যাওয়া প্রযুক্তি মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আনছে। ’

তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির বিকাশ ও শিল্পায়নও দ্রুত ঘটছে। ২০২৫ সালের মধ্যেই ন্যানোম্যাটেরিয়ালের বাণিজ্যিক ব্যবহার দেখা যাবে। এসব ন্যানোম্যাটেরিয়াল স্টিলের চেয়েও ২০০ গুণ শক্ত, কিন্তু চুলের চেয়েও পাতলা। থ্রিডি প্রিন্টেড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট হবে। ১০ শতাংশের বেশি গাড়ি হবে চালকহীন। ’

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনেও এর প্রভাব দেখা যাবে। আগামীর বাংলাদেশ পৃথিবীর এসব উন্নত প্রযুক্তিগুলোকে গ্রহণের মাধ্যমে এগিয়ে যাবে। ’

সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘সরকার বেসরকারি খাতকে সঙ্গে নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ করেছে। জনগণ তথ্যপ্রযুক্তির সুফলও ভোগ করছে। ফলে, বাংলাদেশে প্রযুক্তির ব্যবহার বেড়েছে বহুগুণ। এই ডিজিটাল ওয়ার্ল্ডেই আপনারা দেখেছেন ড্রোন, বিশ্বের উন্নত রোবট সোফিয়াকে। ’

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতে মোবাইল সুপারকম্পিউটিং, চালকহীন গাড়ি, কৃত্রিম বুদ্ধিমান রোবট, নিউরো প্রযুক্তির ব্রেন, জেনেটিক এডিটিং দেখতে পাবে। প্রযুক্তির এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের জন্য আমাদেরকে উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে হবে। ’

নেটওয়ার্ক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ও প্রকৌশলীদের জন্য আগামী ভবিষ্যত হবে এবং এজন্য নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে জয় বলেন, ‘বর্তমানে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে দেওয়া হচ্ছে, ভবিষ্যতে প্রাথমিক স্তরেও আইসিটি শিক্ষা দেয়া হবে। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে ভবিষ্যত পরিকল্পনা রয়েছে আইটি শিক্ষা প্রাইমারি লেভেল থেকে শুরু করার। ’

তিনি বলেন, ‘৬ষ্ঠ শ্রেণির চেয়ে প্রাথমিকে আইটি শিক্ষা শুরু করা কঠিন হবে না এ লেভেলে শুধুমাত্র লেখা শেখানো বা তাদের হোমওয়ার্ক ট্যাবের মাধ্যমে করা ইত্যাদি করা যেতে পারে। ’

‘এখানে আমাদের রিসোর্স একটি চ্যালেঞ্জ, স্বল্পমূল্যে ট্যাবলেট ও কম্পিউটার দেশে তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি কয়েক বছরের মধ্যে প্রাথমিক থেকে এ শিক্ষা শুরু করা যাবে,’ যোগ করেন তিনি।

২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাত্রা শুরু হওয়ার পর বর্তমানে দেশের ৪০ শতাংশ সরকারি সেবা ডিজিটাইজড হয়েছে জানিয়ে জয় বলেন, ‘আগামীতে বেশীরভাগ সেবা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হবে। ভবিষ্যতে ৮০ শতাংশ সরকারি সেবা স্মার্টফোনের মাধ্যমে হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা হবে। ’

এ সময় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক বলেন, ‘গত ৯ বছরে বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। আমরা দ্রুত এগিয়েছি। ভবিষতের জন্য দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করছি। তরুণদের উদ্যোক্তা হতে পথ দেখাচ্ছি। ৫ কোটি মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যে এগিয়ে চলেছি। ’

কঙ্গোর প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য উপদেষ্টা ডায়োডোনি কালোম্বো কোলি বাডিবাং, কম্বোডিয়ার ডাক ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী কান চানমেটা বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া কনফারেন্সে ভুটানের তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দিনা নাথ ডঙ্গায়েল, মালদ্বীপের সশস্ত্র ও জাতীয় নিরাপত্তা উপমন্ত্রী থরিক আলী লুথুফি, ফিলিপাইনের আইসিটি অধিদপ্তরের পরিচালক নেস্টর এস বোঙ্গাটা, সৌদি আরবের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রধান ও মন্ত্রীর উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাহাদ আলী আরাল্লাহ অংশ নেন।

রিজাল ব্যাংককে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই: অর্থমন্ত্রী

রিজার্ভের চুরি যাওয়া অর্থ উদ্ধারে ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) বিরুদ্ধে মামলা করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে বাংলাদেশের ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। ব্যাংকটিকে পৃথিবী থেকে বিদায় করার জন্য দরকারি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

শনিবার সকালে রাজধানীর শিশু একাডেমিতে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সমিতির ২০তম দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের একথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেন, রিজাল ব্যাংকে আমরা আগে ওয়ার্নিং দিয়েছিলাম কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জেনেছি। তারা বিষয়টি জানালে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। রিজাল ব্যাংকে পৃথিবী থেকে বিদায় করতে চাই আমরা।

জেরুজালেম নিয়ে ক্ষোভ, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রক্রিয়ায় সৌদি আরব!

জেরুজালেমকে কেন্দ্র করে মুসলিম বিশ্ব সহ পশ্চিমা অনেক দেশ ক্ষোভে ফুঁসছে। কিন্তু সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণার প্রতিবাদ জানিয়েই ক্ষান্তি দিয়েছে। তারা দৃশ্যত এখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে একটি শান্তি প্রক্রিয়ায় ব্যাপকভাবে সমর্থন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিকল্পনা আগে থেকেই নেয়া হয়েছে এবং তা এখন সামনে এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিষয়ে নভেম্বরে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে রিয়াদের বৈঠকে অবহিত করেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তিনি আব্বাসের কাছে এ বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ সব কথা বলেছেন আরবের কিছু কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়েছে, বুধবার জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন যুক্তরাস্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল এমন ঘোষণা দেয়া হলে তাতে ফিলিস্তিন ও ইসরাইলের মধ্যে বিরোধ আরো গভীর হবে। কিন্তু তিনি সেই ঘোষণা দিয়েই দিয়েছেন। তারপর সৌদি আরবের রয়েল কোর্ট থেকে একে ‘অন্যায্য ও দায়িত্বহীনের’ মতো সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করা হয়।

বলা হয়, এর মাধ্যমে শান্তি প্রক্রিয়াকে অনেকটা পিছনে নিয়ে যাওয়া হবে। কিন্তু ইসরাইল-ফিলিস্তিনের শান্তি স্থাপনের মার্কিন পরিকল্পনায় সৌদি আরব অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন আরবের ওই কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফিলিস্তিনের চার কর্মকর্তা বলেছেন, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মধ্যে ব্যাপক দর কষাকষি হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার জামাই জারেড কুশনার ২০১৮ সালের প্রথম অর্ধাংশে একটি শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাশা করছেন। একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নভেম্বরে রিয়াদে সাক্ষাত হয় প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ও মাহমুদ আব্বাসের।

এ সময় মার্কিন প্রশাসনের শান্তি পরিকল্পনায় সমর্থন দিতে আব্বাসের প্রতি আহ্বান জানান সৌদি আরবে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। ফিলিস্তিনের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, ওই বৈঠকে মাহমুদ আব্বাসকে প্রিন্স মোহাম্মদ বলেন, ধৈর্য্য ধুরুন। আপনি ভাল খবর পাবেন। শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে যাবে। ট্রাম্পের অধীনে নাটকীয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের সম্পর্কে উন্নতি হয়েছে। এর একটি কারণ হতে পারে, এ দুটি দেশের নেতারা রিয়াদের ঘোর শত্রু বলে বিবেচিত ইরানকে মোকাবিলার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন। ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের (৩৬) পিতা ভালভাবেই জানেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে। সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে শক্তিশালী ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন সেই কুশনর। এর ফলেই প্রিন্স মোহাম্মদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ও তার নিজ দেশে ক্ষমতা প্রদর্শন করছেন। এ বিষয়ে রয়টার্স সৌদি রয়েল কোর্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তবে তারা কোনো মন্তব্য করে নি এ বিষয়ে।

অন্যদিকে হোয়াইট হাউজ এর জবাব দিয়েছে। তারা বলেছে, মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনার জন্য প্রিন্স মোহাম্মদকে বলেন নি কুশনার। এমন অবস্থায় আতঙ্কে আছেন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা। অনেক আরব নেতা সন্দেহ করছেন, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যত রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমের দরজা এরই মধ্যে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের জন্য সুযোগ সীমিত করে ইসরাইলের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন ট্রাম্প। ফলে ১৯৪৮ ও ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের ফলে যেসব মানুষ শরণার্থী হয়েছেন তাদের আর স্বভূমে ফেরার কোনো অধিকার থাকলো না। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে ক্রাউন প্রিন্স যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা।

আব্বাসকে বলা হয়েছে, প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে গাজায় একটি ‘ফিলিস্তিনি এনটিটি’ রখা হবে। পশ্চিম তীরের প্রশাসনিক এলাকা এ এবং বি’তে তাদের সুবিধা থাকবে এবং এরিয়া সি’তে শতকরা ১০ ভাগ এলাকায় তাদের অধিকার থাকবে।

দেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে : খালেদা জিয়া

বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় বয়ে চলছে মন্তব্য করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পূর্বাপর বাংলাদেশকে বধ্যভূমিতে পরিণত করা হয়েছে। বর্তমান অবৈধ ক্ষমতাসীন জোট সীমাহীন রক্তপাত ও বেপরোয়া নিপীড়ন নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে জনগণের সকল গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করে নিয়েছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার মানবাধিকারের পরিপূরক। অথচ বর্তমানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার শূণ্যের নিচে অবস্থান করছে।
আগামীকাল রোববার আন্তজার্তিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষ্যে গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে বেগম জিয়া এসব বলেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মৌলিক মানবিক অধিকার হারা নির্যাতিত মানুষের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করে বলেন, যারা বাক, ব্যাক্তি, চিন্তা, প্রার্থনা, মূদ্রণসহ নাগরিক স্বাধীনতার জন্য সোচ্চার হতে গিয়ে ক্ষমতাসীন স্বেচ্ছাচারী গোষ্ঠির নৃশংস নিপীড়নে আত্মদান করেছেন তাদের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা।
খালেদা জিয়া বলেন, আজো বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানুষ একদলীয় স্বেচ্ছাচারী শাসন, গোষ্ঠী, বর্ণ ও জাতিগত সংঘাতে অবলীলায় খুন ও গুপ্ত হত্যার শিকার হচ্ছে এবং অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ। বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের শিকার হচ্ছে অসংখ্য মানুষ। জাতিসংঘের সার্বজনীন ঘোষণায় বলা হয়েছে বিশ্বের সব জাতির সকল মানুষের মানবাধিকার সংরক্ষণের নিশ্চয়তা থাকতে হবে। কিন্তু দেশে দেশে নিষ্ঠুর স্বৈরাচারী শাসকেরা জাতিসংঘ কর্তৃক মানবাধিকারের সার্বজনীন ঘোষণার নির্দেশনাগুলোকে তাচ্ছিল্য করে নিজ দেশের জনগণের উপর চালিয়ে যাচ্ছে বর্বোরোচিত আক্রমণ। শুধু ক্ষমতাকে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার জন্য জনমতকে অগ্রাহ্য করতে হয়, আর সেজন্য এই সকল গণবিরোধী শাসক গোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকারের তোয়াক্কা করেনা। সুতরাং দুঃশাসনের অচলায়তন তৈরী করতে গিয়ে তারা প্রতিবাদি জনগণের ওপর নামিয়ে আনে পৈশাচিক উৎপীড়ন। যারা সত্য উচ্চারণ করতে চায় তারা রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজিবিসহ নাগরিক সমাজের যেই হোকনা কেনো, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং কারাবাস, শারিরিকভাবে নির্যাতনসহ জখম, হত্যা ও গুমেরও শিকার হতে হয়।
সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে এখন ভয়াবহ দুঃসময় চলছে। এদেশে শুধু বিরোধীদলের নেতাকর্মীরাই শুধু নয়, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিক, নারী, শিশুসহ কারোই কোনো নিরাপত্তা নেই। এদের অধিকাংশই গুম, গুপ্ত হত্যা এবং বিচার বহির্ভূত হত্যার শিকার হচ্ছেন। সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনা করলেই বিরোধীদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও দল নিরেপক্ষ রাজনৈতিক বিশ্লেষক, টকশো আলোচকদের বিরুদ্ধেও মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে এবং কাউকে কাউকে কারান্তরীণও করে রাখা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ‘মানবাধিকার দিবস’ এর এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে “আমাদের অধিকার, আমাদের স্বাধীনতা; সর্বদা”। বর্তমানে বাংলাদেশে জনগণের না আছে নাগরিক স্বাধীনতা, না আছে মৌলিক মানবিক অধিকার। সুতরাং এই নৈরাজ্যকর দুঃশাসনের ছোবল থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের এই মুহুর্তে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য এগিয়ে আসতে হবে। দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তার জন্য জনগণের মিলিত কন্ঠের আওয়াজ তুলে বর্তমান অপশাসনের অবসান ঘটাতে হবে। জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকার দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গিকার।

মায়ের স্মৃতিচারণে প্রধানমন্ত্রী কাঁদলেন এবং কাঁদালেন

মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের স্মৃতিচারণ করে কাঁদলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেগম রোকেয়া পদক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের ৭ই মার্চের বক্তব্যের পেছনে তার মায়ের ভূমিকা, ১৫ আগস্টের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা। বাবা-মা, ভাই-বোনসহ পরিবারের প্রায় সবাইকে হারানোর সেই রাতটার কথা বলতে গিয়েই কেঁদে ফেলেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় দর্শকসারিতেও অনেককেই চোখ মুছতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের এক পর্যায়ে উঠে আসে ১৫ আগস্টের সেই রাতের কথা। সেই মর্মান্তিক ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কিছু সময়ের জন্য স্তব্ধ হয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। আবেগরুদ্ধ কন্ঠে কম্পিত গলায় তিনি বলেন, সেই ঘটনার কথা মনে পড়লে তিনি ঠিক থাকতে পারেন না।

কিছুক্ষণ নীরব থেকে আবেগ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় মিলনায়তন জুড়েই যেনো একটা নীরব কান্নার সৃষ্টি হয়। পরে যখন কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠ ছিলো আবেগ কম্পিত। তিনি বলেন তার মায়ের কথা, বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিচারণ করে বলেন, সেই রাতে আমার মাকে হত্যাকারীরা নিয়ে যেতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি তাদের সাথে যাননি। বরং তার স্বামী বঙ্গবন্ধুর সাথে মৃত্যুকেই বেছে নিয়েছিলেন।

“কোন সাধারণ নারী হলে হয়তো বাঁচার চেষ্টা করতো। কিন্তু তিনি মৃত্যুকেই আলিঙ্গন করেছেন। ” অশ্রুসজল চোখে এমন মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। কথাটি বলা শেষ করেই চোখ মুছে নেন তিনি। দর্শকসারিতেও অনেকেই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন। তাদেরকেও চোখ মুছতে দেখা যায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭ই মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের প্রসঙ্গেও কথা বলেন। তিনি বলেন সেই ভাষণের আগে অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে নানা ধরণের বুদ্ধি-পরামর্শ দিয়েছিলো। কিন্তু বেগম ফজিলাতুন্নেছাই বঙ্গবন্ধুকে বলেছিলেন, তোমার মনে যা আসে তুমি তাই বলবে, কারণ তুমি এই বাঙলার মানুষদের জন্য এতোদিন সংগ্রাম করেছো। তুমি জানো কি বলতে হবে। আর স্ত্রীর পরামর্শ শুনেই বঙ্গবন্ধু সৃষ্টি করলেন সেই ‘অমর কবিতা’, ‘বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণ’।

বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ অনুসন্ধানে অবশেষে বেসিক ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে। দুদক পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ টিম তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরই মধ্য ব্যাংকটির প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চুর নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদের ১০ সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুদক।

বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে ২০১৫ সালের ২১, ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর তিন দিনে টানা ৫৬টি মামলা করে দুদকের অনুসন্ধান দলের সদস্যরা। রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় এসব মামলায় মোট আসামি করা হয় ১৫৬ জনকে। মামলায় ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ আনা হয়।

এর মধ্যে রাজধানীর গুলশান শাখার মাধ্যমে ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকা, শান্তিনগর শাখায় ৩৮৭ কোটি টাকা, প্রধান শাখায় প্রায় ২৪৮ কোটি টাকা এবং দিলকুশা শাখার মাধ্যমে অনিয়ম করে ১৩০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কেলেঙ্কারির অভিযোগের বাকি অংশের অনুসন্ধান দুদকে চলমান রয়েছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রযেছেন ২৬ জন। বাকি ১৩০ জন আসামি ঋণ গ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্ত্বাধিকারী ও সার্ভে প্রতিষ্ঠান। ব্যাংকার ও ঋণ গ্রহীতাদের অনেকেই একাধিক মামলায় আসামি হয়েছেন। এর মধ্যে ব্যাংকের প্রাক্তন এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮টি মামলায়। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, গ্রেপ্তার হওয়া মো. সেলিম ৮টি, বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি।

তবে কোনো মামলায় ব্যাংকের প্রাক্তন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুরসহ পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। দুদকের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের কোনো সম্পৃক্ততা দুদকের অনুসন্ধানে আসেনি। তবে তদন্তকালে যদি তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় তাহলে জাড়িতদের পরবর্তীকালে আসামি করা হবে।

যদিও বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, সিএজি কার্যালয় ও খোদ বেসিক ব্যাংকের নানা প্রতিবেদনে এ কেলেঙ্কারির সঙ্গে প্রাক্তন চেয়ারম্যান বাচ্চুসহ অনেকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এমনকি বিভিন্ন সময়ে শুনানিতে এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে দুদককে। মূলত এরপরই দুদক থেকে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের বিষয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২০১৫ সালের ২২ অক্টোবর মামলার তদন্তে দুদকের উপ পরিচালক মোরশেদ আলম, মো. ইব্রাহিম ও ঋত্বিক সাহা, সহকারী পরিচালক শামসুল আলম, উপসহকারী পরিচালক ফজলে হোসেন ও মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীনকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। মামলার তদারককারী কর্মকর্তারা হলেন পরিচালক জায়েদ হোসেন খান ও সৈয়দ ইকবাল হোসেন।

জাতীয় পার্টির প্রাক্তন সংসদ সদস্য বাচ্চুকে ২০০৯ সালে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয় সরকার। ২০১২ সালে তার নিয়োগ নবায়নও হয়। কিন্তু ঋণ কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলে ২০১৪ সালে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ফখরুল ইসলামকে অপসারণ করার পর চাপের মুখে থাকা বাচ্চু পদত্যাগ করেন।

ভোটে না এলে মুসলিম লীগের পরিণতি, বিএনপিকে কাদের

পাকিস্তান আমলের শুরুর দিকে প্রতাপশালী দল মুসলিম লীগের পরিণতির বিষয়টি বিএনপিকে স্মরণ করিয়ে দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা ওবায়দুল কাদের। বলেন, বিএনপি আবারও ভোট বর্জন করলে তাদের অবস্থাও মুসলিম লীগের মতোই হবে।

সোমবার সকালে কক্সবাজারের একটি হোটেলে রোহিঙ্গাদের জন্য নগদ অর্থ সহায়তা এবং ওষুধ সামগ্রী গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

এ সময় ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করা বিএনপিকে আগামী নির্বাচনে অংশ নেয়ার আহ্বান জানান কাদের। বলেন, বিএনপি না এলেও ভোট আটকে থাকবে না। আর বিএনপির নির্বাচন ঠেকানোর ক্ষমতা নেই সেটা প্রমাণ হয়ে গেছে ২০১৪ সালেই।

কাদের বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে অংশ না নিলে বিএনপির পরিণতি হবে মুসলিম লীগের চেয়েও ভয়াবহ।’

২০ শতকের শুরুর দিকে অখণ্ড ভারতে প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগ পাকিস্তান আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর এই দলটিই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি এই অঞ্চলে প্রাদেশিক সরকারেও ছিল। কিন্তু ১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের কাছে হেরে এবং ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের কাছে হেরে রাজনীতিকে গুরুত্ব হারিয়ে ফেলে দলটি। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটি স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ হয়। পরে জিয়াউর রহমানের আমলে আবার রাজনীতি শুরু করলেও দলের একটি অংশ বিএনপিকে বিলীন হয়। আর এখন এই দলটির তৎপরতা থাকলেও তাদের কোনো প্রভাবই নেই রাজনীতিতে।

ওবায়দুল কাদের মনে করেন বিএনপি আবারও নির্বাচন বর্জন করলে তারা কর্মী ধরে রাখতে পারবে না।

আর ভোটে এলেও বিএনপি জিততে পারবে না বলেও মনে করেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, নির্বাচনের বিজয়ের জন্য কথামালার চাতুরি আর স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া বিএনপির কোন পুঁজি নেই।

এ সময় রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, প্রায় সাড়ে সাত লাখ মিয়ানমারের নাগরিক উখিয়া ও টেকনাফের সামাজিক জীবনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন শিল্প, ঝুঁকির মুখে পড়েছে সবুজ পাহাড়ের সৌন্দর্য্য। মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি করেছে, তাদেরকেই এর সমাধান করতে হবে বলেও মন্তব্য করেন কাদের।

পরে সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী ২০ লাখ ও একরামুল করিম চৌধুরীর ২০ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দেয়া নগদ ৮৩ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং ওষুধ সামগ্রী জেলা প্রশাসক আলী হোসেনের হাতে তুলে দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম, কক্সবাজার আওয়ামী লীগ সভাপতি সিরাজুল মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান, সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, আবদুর রহমান বদি, আশেক উল্লাহ রফিক  প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান ঘোষণার বিষয়ে হাইকোর্টে রুল

 একাত্তরে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা ‘জয় বাংলা’ স্লোগানকে কেন জাতীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও শিক্ষাসচিবসহ সংশ্লিষ্টদের উক্ত রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত এক রিট শুনানি নিয়ে সোমবার হাইকোর্টের বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালত বলেন, জয় বাংলা স্লোগানই ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে জনগণকে একত্র করেছিল। যার ফলে আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছি।