All posts by lutfor

আরও ৩ মামলায় খালেদা জিয়া গ্রেপ্তার

কুমিল্লায় পেট্রোল বোমায় মানুষ নিহতের ঘটনাসহ তিন মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ইতোমধ্যে পরোয়ানার কপি হাতে এসেছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন গণমাধ্যমকে জানান, তিনটি মামলায় কারাবন্দি প্রাক্তন এ প্রধানমন্ত্রীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা পরবর্তী ব্যবস্থা নেবেন।

পুলিশ বলছে, ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী আইকন পরিবহনের একটি বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগমোহনপুর এলাকায় আসামাত্র দুর্বৃত্তরা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ঘটনাস্থলে সাতজন ও হাসপাতালে নেওয়ার দুদিন পর আরো একজনসহ মোট আটজন মারা যান ও ২৭ জন আহত হন। একদিন পর চৌদ্দগ্রাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নুরুজ্জামান হাওলাদার বাদী হয়ে দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলাসহ তিনটি মামলা করেন।

২০১৭ সালের ৬ মার্চ কুমিল্লার আদালতে ওই তিন মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলায় খালেদা জিয়া, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সালাউদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে আসামি করা হয়।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলা হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়। একটি মামলায় অর্থাৎ বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বলবৎ রয়েছে। ওই মামলায় খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে, শাহবাগ ও তেজগাঁও থানার অন্য দুই মামলায়ও খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ ইফতেখার উদ্দিন।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকের যত্ন

দিনের শেষে আমরা নিজের ঘরে ফিরি একটুখানি প্রশান্তির আশায়। সমস্ত ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে একটুখানি সতেজতার আশায়। আমাদের মনের মতো আমাদের শরীরও ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্লান্ত হয়ে পড়ে আমাদের ত্বকও। ধুলোবালি, রোদসহ নানা কারণে ত্বকে দেখা দেয় মলিনতা। তাইতো রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ত্বকের যত্ন নেয়াটা জরুরি হয়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, ঘুমন্ত অবস্থায় ত্বকের সেল বেশি বৃদ্ধি পায়। একারণে সন্ধ্যায় করা ফেসিয়াল ত্বকের বেশি কাজে লাগে। গবেষক দলের একজন ডা. ডে এর মতে, বেশিরভাগ মানুষ ভালোভাবে তাদের মুখ পরিষ্কার করে না। অথচ সারাদিনের ধুলা- ময়লা, ঘাম রোমকূপে জমে রোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। তাই রাতে শোওয়ার আগে ত্বক পরিষ্কার না থাকলে, রোমকূপের মুখ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ত্বকের লাবণ্য নষ্ট হয়ে যায়, ত্বক রক্ষ দেখায়। তাই স্বাভাবিক, শুষ্ক বা তৈলাক্ত যে ধরনের ত্বকই হোক না কেন রাতে ক্লিনজিং-টোনিং-ময়শ্চারাইজ়িং একান্ত জরুরি।

রাতে ঘুমানোর আগে ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শ দিয়েছেন রূপবিশেষজ্ঞরা। ক্লিনজ়িং এরপর টোনিং করাটা জরুরি। মুখ পরিষ্কার করার পর তুলোয় টোনার নিয়ে ভালো করে মুখ মুছে নিন।

ত্বক মসৃণ, টানটান এবং উজ্জ্বল রাখার জন্য টোনিং-এর কোনও বিকল্প নেই। বাজারে নানা ধরনের টোনার পাওয়া যায় আজকাল।
গোলাপ পানিও টোনার হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। তুলোয় গোলাপ পানি নিয়ে মুখ মুছে নিতে পারেন। এছাড়া শশার রস ও গোলাপ পানি মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এটাও টোনার হিসেবে দারুন কাজে দেবে।

মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করার পর মুখে ময়শ্চারাইজিং ক্রিম লাগান। এটি ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করবে।

মুখের ক্রিম লাগানোর পর শোওয়ার আগে চোখের ক্রিম লাগানোও জরুরি। হাতে কয়েক ফোঁটা আমন্ড অয়েল নিয়ে চোখের চারপাশে লাগিয়ে হালকাভাবে একমিনিট মাসাজ করুন। এতে একদিকে যেমন চোখের চারপাশের চামড়া ভালো থাকবে তেমনি চোখের নিচের কালো দাগের সমস্যাও কমে যাবে।

দাবানলের পরে বন্যা, কাঁদছে ক্যালিফোর্নিয়া

যত দূর চোখ যায়, শুধু কাদা আর জঞ্জালের স্তূপ! মাঝে মধ্যে উঁকি দিচ্ছে কোনও বাড়ির ছাদ বা কার্নিস। কোথাও বা এক ফালি জানলার কাঁচ। দেখে বোঝার উপায় নেই এটাই ক্যালিফোর্নিয়ার সবচেয়ে অভিজাত মন্টেসিটো শহর। ওপরা উইনফ্রে, রোব লোয়ের মতো হলিউড তারকাদের বিলাসবহুল ঠিকানা। বন্যা আর কাদা-ধসের কালো স্রোতে চাপা পড়ে গিয়েছে ঝকঝকে সাজানো স্বপ্নের মতো শহরটা।

কয়েক দিন ধরেই এক টানা বৃষ্টি আর ঝড়ের চোখ রাঙানিতে প্রমাদ গুনছিলেন আমেরিকার উপকূলবর্তী ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা। সেই আশঙ্কা সত্যি করেই ধস নেমেছে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সান্টা বারবারা-সহ বিস্তীর্ণ এলাকায়। ঝড়, বন্যা আর ধসের কবলে বুধবার পর্যন্ত ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত দেড়শোর বেশি। খোঁজ নেই বহু মানুষের। গত দু’মাসে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার বড়সড় বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত ক্যালিফোর্নিয়া।

ডিসেম্বরেই ভয়াবহ দাবানলে পুড়ে খাক হয়ে গিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার বহু এলাকা। সম্প্রতি এত বড় অগ্নিকাণ্ড দেখেননি
বলে জানিয়েছিলেন বাসিন্দারা।
সেই জ্বালা জুড়োতে না জুড়োতে এ বার ভাসিয়ে দিল বন্যা। আমেরিকার বিপর্যয় মোকাবিলা সংস্থা
‘ফেমা’ (ফেডারেল এমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি) অবশ্য এতে অস্বাভাবিক কিছু দেখছে না। তাদের মতে, এক বার দাবানল হলে পরের পাঁচ বছরে বন্যার আশঙ্কা বহু গুণ বেড়ে যায়।

কিন্তু কেন? আমেরিকার আবহাওয়া নির্ণায়ক সংস্থা ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের মতে, দাবানলে মাটির ওপরের স্তর পুড়ে শক্ত হয়ে যায়। সে মাটি ভেদ করে সহজে জল গলতে পারে না। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই ভাসিয়ে নিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। জলের সঙ্গে পোড়া মাটি আর গাছপালার স্তূপ মিশে সহজেই তা কাদার স্রোতে পরিণত হয়।

মন্টেসিটোর পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে ১০১ নম্বর জাতীয় সড়ক। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে ওরেগন হয়ে ওয়াশিংটন পৌঁছয় এই রাস্তা। এই মুহূর্তে যার বিরাট একটা অংশ ভাসছে কাদার স্রোতে। দেখে বোঝার উপায় নেই নদী না রাস্তা! মন্টেসিটোর বাসিন্দা, আমেরিকার চ্যাট-শোয়ের সঞ্চালক এলেন ডে জেনেরেস টুইটারে সেই ছবি পোস্ট করে জানিয়েছেন, ‘‘নদী নয়। আমার বাড়ির পাশে ১০১ ফ্রিওয়ের ছবি।’’

ক্যালিফোর্নিয়ার প্রশাসন অবশ্য হাত গুটিয়ে বসে নেই। সান্টা ক্যাটালিনার কাছে রোমেরো উপত্যকায় আটকে রয়েছেন অন্তত ৩০০ মানুষ। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেখানে উদ্ধার কাজ চলছে। ক্যালিফোর্নিয়ার বন্যা-বিপর্যস্ত এলাকায় পৌঁছনোর বহু রাস্তাই পাহাড়ের ঢাল বেয়ে গড়িয়ে পড়া বড় বড় পাথরে বন্ধ। ফলে আকাশপথেই চলছে উদ্ধারকাজ। বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫০ জনকে এ ভাবে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেশ কিছু এলাকাকে ‘বিপজ্জনক’ চিহ্নিত করে দ্রুত তা খালি করার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। যাঁরা একান্তই রয়ে গিয়েছেন, রোগ-সংক্রমণের আশঙ্কায় তাঁদের জল ফুটিয়ে খেতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে আশঙ্কা, ধস পুরোপুরি সরলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়বে।

নতুন বছরে গাঁজা সেবন ও চাষের বৈধতা দিলো ক্যালিফোর্নিয়া

বিনোদনের জন্য গাঁজা সেবন বৈধ। নতুন বছরের নূতন দিনে এমন ঘোষণাই দিলো যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য। তবে তা শুধু ২১ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য এবং তারা একবারে ২৮ গ্রামের বেশি গাঁজা তার কাছে রাখতে পারবেন না। শুধু তাই নয়, এই নতুন আইনে গাঁজা সেবনকারীরা বাড়িতে ছয়টি পর্যন্ত গাঁজার গাছ লাগাতে পারবেন।
এর বিরোধীরা বলছেন, এর ফলে গাঁজার নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো বেড়ে যাবে এবং তরুণরা মাদক সেবন করতে শুরু করবে। কিন্তু গাঁজার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মহলগুলো মনে করছে, আগামি কয়েক বছরে একে কেন্দ্র করে শত শত কোটি ডলারের শিল্প গড়ে উঠবে। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ই ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণ গাঁজা বৈধ করার প্রশ্নে এক ভোটাভুটিতে অংশ নেন এবং তার ফলাফল বৈধ করার পক্ষেই যায়। এর পর এতদিন ধরে গাঁজা বিক্রি সংক্রান্ত নিয়মকানুন এবং কর কাঠামো তৈরির কাজ চলছিল।
মনে করা হয়, দেশটিতে কালোবাজারে ৫১০ কোটি ডলারের গাঁজার ব্যবসা হয়ে থাকে এবং এটা বৈধ করে দিলে ২০২১ সালের মধ্যে তা ৫৮০ কোটি ডলারের ব্যবসায় পরিণত হবে। বৈধ ক্রেতাদের কাছ থেকে কর পাওয়া যাবে প্রতি বছরে ১০০ কোটি ডলার। তবে জনসমাগম হয় এমন প্রকাশ্য স্থানে, কোনো স্কুলের ৩০০ মিটারের মধ্যে অথবা গাড়ি চালানোর সময় গাঁজা সেবন করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমেরিকায় এখন মোট ৬টি অঙ্গরাজ্যে গাঁজা বৈধ করা হয়েছে। প্রতি পাঁচ জনের একজন আমেরিকান এখন বৈধভাবে গাঁজা কিনতে পারবেন। ১৯৯৬ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথমবারের মতো চিকিৎসা বা ওষুধ হিসেবে ব্যবহারের জন্য গাঁজা ব্যবহার বৈধ করা হয়েছিল।

ক্যালিফোর্নিয়ায় ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ১৩

ক্যালিফোর্নিয়া, ১০ জানুয়ারি- যুক্তরাষ্টের ক্যালিফোর্নিয়ায় দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে প্রায় ১৬৩ জন।

আজ বুধবার সংবাদমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।

জরুরি বিভাগ থেকে জানানো হয়, অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বন্যা আর ভূমিধসের কারণে ধসে পড়েছে ঘরবাড়ি। কাদাযুক্ত বন্যার পানি জমে আছে রাস্তায়। মূল উপকূলে ৪৮ কিলোমিটার রাস্তা বন্ধ আছে।

অনেকেই পানির কারণে বিভিন্ন স্থানে আটকে আছে। এমন আটকে থাকা অর্ধশত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। আর ১ হাজারের বেশি স্থানীয় বাসিন্দা আগেভাগেই শহর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এই দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উপকূলীয় মন্টেসিটো শহর। এই শহরেই সবচেয়ে বেশি হতাহত হয়েছে। গত মাসে ভয়াবহ দাবানলে পুড়েছে ক্যালিফোর্নিয়ার এই অঞ্চল।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সরব লেখক, সংগীতশিল্পী ও অভিনেতারা

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন স্বীকৃতির বিরুদ্ধে তুমুল নিন্দার ঝড়ে শামিল হয়েছেন লেখক, সংগীতশিল্পী ও অভিনয়শিল্পীরাও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিল্প ও সাহিত্য অঙ্গনের প্রখ্যাত ব্যক্তিরা।
৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসরায়েলের মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে সরিয়ে জেরুজালেমে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানান তিনি। এরপর বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে নিন্দার ঝড় ওঠে। সোমবার (১১ ডিসেম্বর) গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্প জগতের ব্যক্তিরাও এ সমালোচনার কাতারে শামিল হয়েছেন। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে তারা গার্ডিয়ানের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। ওই চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন, টিলডা সুইনটন, মার্ক রুফালো, রজার ওয়াটেরস, পিটার গ্যাব্রিয়েল এবং ব্রায়ান ইনো। চিঠিতে আরও স্বাক্ষর করেছেন, নাট্যকার ক্যারিল চার্চিল, পরিচালক মাইক লেইঘ এবং অভিনয়শিল্পী ম্যাক্সিন পিক, জুলি ক্রিস্টি এবং জুলিয়েট স্টিফেনসন।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, ‘ইসরায়েল সরকার প্রত্যেকটি পর্যায়ে ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর সাম্প্রদায়িক বৈষম্য জারি রেখেছে’ এবং ‘ধীরে ধীরে জাতিগত নিধন প্রক্রিয়া চালাচ্ছে’। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন লেখক-সংগীতশিল্পী এবং অভিনয়শিল্পীদের ওই দলটি।
ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তারা লিখেছেন, ‘এ ধরনের একটি বর্ণবাদী ম্যানিপুলেশনের প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি তার অবমূল্যায়নকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। শিল্পী এবং একটি দেশের নাগরিক হিসেবে আমরা এ নীতির ভয়াবহতা ও অমানবিকতাকে চ্যালেঞ্জ করছি এবং দখলদারদের অধীনে ফিলিস্তিনের জারিকৃত প্রতিরোধের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, ট্রাম্পের ওই ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে পুরো বিশ্বে। প্রতিবাদ বিক্ষোভের মুখে তিউনিসিয়ায় মার্কিন দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার সঙ্গে মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক ছিন্নের প্রস্তাব দিয়েছে আফগানিস্তানের পার্লামেন্ট। ট্রাম্পের ওই ঘোষণার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রাশিয়া, ফ্রান্স, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া, লেবাননসহ বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তুরস্কের প্রেসডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। শুধু প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে জেরুজালেম ইস্যুতে মুসলিম দেশগুলোকে গঠনমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কাতার।

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়বেন অপরাহ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ২০২০ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার বিষয়ে ভাবছেন মার্কিন জনপ্রিয় টেলিভিশন টকশো উপস্থাপিকা অপরাহ উইনফ্রে। সোমবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন’কে তার ঘনিষ্ঠ দু’জন বন্ধু এ কথা জানান।
অবশ্য নিজের থেকেই যে অপরাহ এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিষয়টি কিন্তু সে রকমও নয়। তার আস্থাভাজন কয়েকজন সহযোগী ব্যক্তিগতভাবে নির্বাচনে লড়াইয়ের জন্য তার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
কয়েক মাস অাগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। তবে এ ব্যাপারে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেননি তিনি। নির্বাচনে প্রতিযোগিতার ব্যাপারে মন্তব্য জানতে চাইলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেওয়া হয়নি। এমনকি সেই গুঞ্জন প্রত্যাখ্যানও করেননি তিনি।
এদিকে আগামী নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থী চূড়ান্ত করার ব্যাপারে মার্কিন রাজনৈতিক দল ডেমোক্রেটিক পার্টির তরফেও অানুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়নি। এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০১৮ সালে দেশটিতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ টেলিভিশন চ্যানেলে শিরোনাম ছিল ‘প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন অপরাহ?’
মার্কিন নির্বাচনে লড়াইয়ের ব্যাপারে গত বছরের মার্চে ব্লুমবার্গের ডেভিড রুবেনস্টেইনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন তিনি।
সূত্র : সিএনএন

ইজতেমার সময় ঢাকার যেসব স্থানে গাড়ি পার্কিং করা যাবে

দুই পর্বে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্ব ইজতেমার সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা গাড়িগুলোর পার্কিংয়ের জন্য ঢাকায় জায়গা নির্ধারণ করে দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ।

বুধবার দুপুরে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় সমাবেশ বিশ্ব ইজতেমায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অতিথিসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মানুষ সমবেত হবেন। বিপুল সংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ যানবাহন পার্কিংয়ের জন্য জায়গা নির্ধারণ করেছে।

যেসব জায়গায় পার্কিং করা যাবে
চট্টগ্রাম বিভাগের গাড়ির জন্য গাউসুল আজম এভিনিউ (১৩ নং সেক্টর রোডের পূর্ব প্রান্ত থেকে পশ্চিম প্রান্ত হয়ে গরিবে নেওয়াজ রোড), ঢাকা বিভাগের জন্য সোনারগাঁও জনপথ চৌরাস্তা হতে দিয়াবাড়ী খালপাড় পর্যন্ত, সিলেট বিভাগের জন্য উত্তরার ১২ নং সেক্টরের শাহ মখদুম এডিনিউ, খুলনা বিভাগের জন্য উত্তরাস্থ ১৬ ও ১৮ নং সেক্টরের খালি জায়গা, রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের জন্য প্রত্যাশা হাউজিং, বরিশাল বিভাগের জন্য ধউর ব্রিজ ক্রসিং সংলগ্ন বিআইডব্লিউটিএ ল্যান্ডিং স্টেশন, ঢাকা মহানগরীর জন্য উত্তরার শাহজালাল এভিনিউ, নিকুঞ্জ-১ এবং নিকুঞ্জ-২ এর আশপাশের খালি জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে রেইনবো ক্রসিং থেকে আব্দুল্লাহপুর হয়ে ধউর ব্রিজ পর্যন্ত এবং রামপুরা ব্রিজ হতে প্রগতি সরণী পর্যন্ত রাস্তা ও রাস্তার পার্শ্বে কোনো যানবাহন পার্কিং করা যাবে না।

গাড়ির নিরাপত্তায় নির্দেশনা 
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রত্যেককে নিজের গাড়ির প্রতি খেয়াল রাখতে বলেছে ডিএমপি। তারা বলছে, নির্ধারিত পার্কিং স্থানে মুসল্লিবাহী যানবাহন পার্কিংয়ের সময় অবশ্যই গাড়ির চালক/হেলপার গাড়িতে অবস্থান করতে হবে। এছাড়া মালিক ও চালক একে অপরের মোবাইল নম্বর বিনিময় করে রাখতে হবে। যেন বিশেষ প্রয়োজনে তাৎক্ষণিকভাবে পারস্পরিক যোগাযোগ করা যায়।

ডাইভারশন সংক্রান্ত নির্দেশনা
ডাইভারশন পয়েন্টসমূহ (শুধু দুই পর্বের আখেরি মোনাজাতের জন্য প্রযোজ্য):

# মহাখালী ক্রসিং
# হোটেল রেডিসন গ্যাপ
# প্রগতি সরণী
# কুড়িল ফ্লাইওভার লুপ-২
# ধউর ব্রিজ
# বেড়িবাঁধ সংলগ্ন উত্তরা ১৮ নং সেক্টরের প্রবেশ মুখ

ডাইভারশন চলাকালীন আশুলিয়া থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী যানবাহনগুলো আব্দুল্লাহপুর না এসে ধউর ব্রিজ ক্রসিং দিয়ে ডানে মোড নিয়ে মিরপুর বেড়িবাঁধ দিয়ে চলাচল করবে। মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী আন্তঃজেলা বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ সকল প্রকার যানবাহন মহাখালী ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিয়ে বিজয় সরণী-গাবতলী দিয়ে চলাচল করবে। কাকলী, মিরপুর থেকে আসা যানবাহনগুলো এয়ারপোর্টের দিকে না গিয়ে হোটেল রেডিসন গ্যাপ এবং কুড়িল বিশ্বরোডে ইউটার্ন করে বা ফ্লাইওভার হয়ে প্রগতি সরণী দিয়ে চলাচল করবে। প্রগতি সরণী থেকে আব্দুল্লাহপুরগামী যানবাহনগুলো বিশ্বরোড ক্রসিংয়ে ইউটার্ন করে বা ফ্লাইওভার দিয়ে কাকলী-মহাখালী রোড ও মিরপুর ফ্লাইওভার দিয়ে চলাচল করবে।

এছাড়া ১৪ ও ২১ জানুয়ারি বিমানের অপারেশন্স ও বিমান ক্রু বহনকারী যানবাহন, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সব যাবাহনের চালকরা যেন বিমানবন্দর সড়ক পরিহার করে বিকল্প হিসেবে মহাখালী, বিজয় সরণী হয়ে মিরপুর-গাবতলী সড়ক ব্যবহার করেন সে বিষয়ে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

পাশাপাশি বিদেশগামী বা বিদেশফেরত যাত্রীদের বিমানবন্দরে আনা-নেওয়ার জন্য ট্রাফিক উত্তর বিভাগের ব্যবস্থাপনায় চারটি বড় আকারের মাইক্রোবাস নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকার গেটে ভোর ৪টা থেকে মোতায়েন থাকবে।

প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ও ১৯ জানুয়ারি টঙ্গিতে দুই পর্বের বিশ্ব ইজতেমা শুরু হবে। যথাক্রমে ১৪ ও ২১ জানুয়ারি আখেরি মোনাজাত হবে। বিশ্ব ইজতেমায় বিভিন্ন দেশে মুসল্লিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা অংশ নেবেন।

জয়ের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণার চেষ্টা, যুবক আটক

প্রধানমন্ত্রীর ছেলে ও তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালক পরিচয়ে খাসজমি বন্দোবস্ত নেওয়ার চেষ্টাকালে এক প্রতারককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

বুধবার বিকেলে গাজীপুর জেলা রাজস্ব কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃত ওই যুবকের নাম আব্দুল আজিজ (৪৫)। তার বাড়ি রংপুরের পীরগঞ্জ থানায় বলে গাজীপুর জেলা রাজস্ব কার্যালয়ের কর্মকর্তাকে জানিয়েছে।

গাজীপুর জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে আজিজ খাসজমি বন্দোবস্ত নিতে জেলা রাজস্ব অফিসে এসে কর্মচারীদের কাছে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের ব্যক্তিগত গাড়িচালক পরিচয় দেয়। তার আচার-আচরণে সন্দেহ হলে যাচাই করে দেখা যায় ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সঙ্গের সব কাগজপত্র জাল। সে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব, গাজীপুরের আরডিসি ও তহশীলদারের জাল স্বাক্ষরিত কাগজপত্র তৈরি করেছে। পরে তাকে আটক করে জয়দেবপুর থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, দুর্নীতি বা অন্য কোন অপরাধ হতে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ প্রক্রিয়ায় ইতিপূর্বে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার পুত্র আরাফাত রহমান কোকোর পাচারকৃত ২০ লাখ ৪১ হাজার ৫৩৪.৮৮ সিঙ্গাপুর ডলার দেশে ফেরত আনা হয়েছে।

বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পির (মহিলা আসন-৩০) প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমান দেশের বাইরে প্রচুর অর্থ পাচার করেছে। তারেক ও তার ব্যবসায়িক পার্টনার গিয়াসউদ্দিন আল মামুন যৌথভাবে একটি বিদেশি কোম্পানিকে কাজ দেওয়ার বিনিময়ে ২১ কোটি টাকার মতো সিঙ্গাপুরের সিটিএনএ ব্যাংকে পাচার করেছে। এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের এফবিআই তদন্ত করছে। এর সূত্র ধরে এফবিআই-এর ফিল্ড এজেন্ট ডেব্রা ল্যাপ্রিভোট ২০১২ সালে ঢাকায় বিশেষ আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে গেছেন। মামলায় হাইকোর্টে তারেক রহমানের ৭ বছরের সাজা হয়। একইভাবে লন্ডনের ন্যাট ওয়েস্ট ব্যাংকেও প্রায় ৬ কোটি টাকা পাওয়া গেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘এছাড়াও বিশ্বের আরও অনেক দেশে খালেদা জিয়ার ছেলেদের টাকার সন্ধ্যান পাওয়া গেছে যা এখনো তদন্তাধীন। এর মধ্যে অন্যতম হলো, বেলজিয়ামে ৭৫০ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়ায় ২৫০ মিলিয়ন ডলার, দুবাইতে কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের বাড়ি, সৌদি আরবে মার্কেট ও অন্যান্য সম্পত্তি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের জনগণের সম্পদ লুটপাট ও পাচার করতে আর দেওয়া হবে না। এ ধরনের অপকর্ম তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন রিপোর্টের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দুর্নীতি বা অন্য কোনো অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিদেশে পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে সরকারের সকল সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।’

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ কাটিং তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের তালিকায় খালেদা জিয়া তিন নম্বর হিসেবে সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন মিডিয়াতে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। প্রকাশিত এ সকল সংবাদের কোনো প্রতিবাদ খালেদা জিয়া জানাননি।

প্যারাডাইস পেপারে নতুন করে প্রকাশিত নামের তালিকায় উঠে এসেছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দুই পুত্র তারেক রহমান ও আরাফাত রহমানের নাম। প্রকাশিত এ নথিতে তালিকার শীর্ষ পর্যায়ে আছে খালেদা পুত্রদের নাম। এছাড়া নতুন প্রকাশিত ২৫ হাজার নথিতে বের হয়ে আসছে আরও রাঘব বোয়ালদের নাম ও তাদের অর্থ পাচারের নানান তথ্য।

প্যারাডাইস পেপারসে দেখা যায়, তারেক জিয়া ২০০৪ এবং ২০০৫ সালে কেইম্যান আইসল্যান্ড এবং বারমুডায় ২ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেন। এছাড়াও তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের ওয়ান গ্রুপের তিনটি কোম্পানি খোলা হয় ট্যাক্স হেভেনে।

তারেক জিয়ার প্রয়াত ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকো বারমুডার বিভিন্ন কোম্পানিতে ২০০৫ সালে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলেন। কোকোর মৃত্যুর পর এই বিনিয়োগ তার স্ত্রী শর্মিলা রহমানের নামে স্থানান্তরিত হয়। অবৈধভাবে ট্যাক্স হেভেনে জিয়া পরিবারের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।’

অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত নিউজ কাটিং তুলে ধরেন। এবারই প্রথম প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে ২৫৬ পৃষ্ঠার প্রশ্নের উত্তরে ১৫৩ পৃষ্ঠাতেই খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের বিভিন্ন দেশে পাচার হওয়া অর্থের বিবারণ তুলে ধরা হয়েছে।