All posts by lutfor

সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের নব নির্বাচিত কার্যকরী কমিটি (২০১৮-২০২০)

৩১ মার্চ ২০১৮ , ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সাপ্তাহিক পত্রিকা পরিষদের ২০১৮-২০২০ সালের কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন হয়। সভাপতি, ড. গোলাম রহমান ভুইয়া (আইন পক্ষ),  কার্যকরী সভাপতি, মো: মকছুদের রহমান মানিক (আজকের যোগাযোগ) , এবং সাধারন সম্পাদক , এস এম মোরশেদ (অপরাধ বিচিত্রা)  নির্বাচিত হন। কমিটির অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন: সহ-সভাপতি, এম এম গিয়াসউদ্দিন (স্বদেশ খবর) সহ-সভাপতি, মোঃ লুৎফর রহমান (সেরা কন্ঠ) সহ- সভাপতি, ড. সৈয়দ আফজাল বাকের (উদয়ের পথে),  যুগ্ম সম্পাদক, আবু ফাত্তাহ (সত্য সমাচার), যুগ্ম সম্পাদক, মাহবুব আলম আব্বাসী (সামাল), অর্থ বিষয়ক সম্পাদক, খন্দকার গিয়াসউদ্দিন (মোকাবেলা), সাংগঠনিক সম্পাদক, এ্যাড. মাসুম আহাম্মদ (শিকড় সন্ধানে), দপ্তর সম্পাদক, কেএজেএম রফিকউদ্দিন (কাজী রফিক) (সু-সময়), আন্তর্জাতিক ও আইন বিষয়ক সম্পাদক, এ্যাড.নোমানুল হক শহীদ (সভ্যতা), প্রচার ও মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক, মো: সেলিম রেজা (সমকন্ঠ), কল্যাণ ও পূনর্বাসন সম্পাদক মো: হানিফ আলী (অবদান), স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক, লায়ন ইব্রাহিম ভূইয়া (যুবশক্তি), সমম্বয়কারী সদস্য, মো: মোশারেফ হোসেন (পল্লীদূত), নির্বাহী সদস্য, মনসুর আহমেদ (সচিত্র ঘটনা)।

গরমের তীব্রতায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

গরমের তীব্রতায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। পানির অভাব তীব্র হয়েছে, এই সাথে পানিতে বাড়ছে জীবাণুর ঘনত্ব। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। রাজধানীতে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ, খাবার সরবরাহসহ বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকে মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল। এখানে এ গরমের দিনগুলোতে দৈনিক ভর্তি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ শ’র বেশি রোগী। এসব রোগীর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গড়ে পাঁচ শ’র বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ভর্তির সংখ্যা ছিল চার শ’র কিছু বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: আয়েশা আকতার জানান, গত ৯ দিনে (২০ থেকে ২৮ মার্চ) মহাখালী কলেরা হাসপাতালে চার হাজার ৩৪৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ মার্চ ৪২৮ জন, ২১ মার্চ ৪৬২, ২২ মার্চ ৪৬৬, ২৩ মার্চ ৪৫৮, ২৪ মার্চ ৪৬৮, ২৫ মার্চ ৪৭৭, ২৬ মার্চ ৫২৭, ২৭ মার্চ ৫০৬ ও ২৮ মার্চ ৫৫৩ জন রোগী ভর্তি হন। আইডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ছয় শ’র কাছাকাছি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের দুই-তৃতীয়াংশই শিশু।

ডায়রিয়ার রোগী বাড়লেও চিকিৎসকেরা এটাকে খুবই স্বাভাবিক মনে করছেন। এ সময় প্রতি বছরই ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এ সময় পানির অভাব হয়। গরমে-ঘামে গলা শুকিয়ে যায়। ফলে মানুষ কান্তি দূর করার জন্য, গলা ভেজাতে রাস্তার নানা রকম পানীয়, লেবুর শরবত, রাস্তার খোলা আইসক্রিম, কুলফি মালাই, রাস্তার চটপটি, নানা রকম খাবার খেয়ে থাকেন। বিশুদ্ধ পানি দিয়ে তৈরি না হওয়ায় এসবে প্রচুর জীবাণু থেকে যায়। বাসি-পচা খাবারও ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ। তা ছাড়া পাইপের পানিও না ফুটিয়ে পান করার কারণে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ সব খাবার মানুষ সারা বছরই খেয়ে থাকে; কিন্তু মার্চের আগে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকে।

মার্চ মাস এলেই কেন ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়Ñ এ প্রশ্নের উত্তরে আইসিডিডিআরবির ডা: প্রদীপ কুমার বর্ধন জানান, ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, গরম হলেই এটা বেড়ে থাকে। এটা অস্বাভাবিক নয় এবং এতে আতঙ্কেরও কিছু নেই।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অবশ্য হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে পানি দূষণ ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শিশুদের বেশি ডায়রিয়া হওয়ার কারণ শিশুরা পানি পানে বড়দের মতো সতর্ক নয়। তা ছাড়া এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। ডায়রিয়া বিশেষজ্ঞ ডা: আজহারুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রতি বছর এ সময়টায় বাংলাদেশে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। প্রথমত : গরম পড়ে। ফলে মানুষ পানি বেশি পান করে। দ্বিতীয়ত : পানিতে এ সময় জীবাণুর পরিমাণও বেড়ে যায়, জীবাণুর ঘনত্ব বাড়ে। এ সময় কম পানি পান করলেও ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, পেটে কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি জীবাণু প্রবেশ করলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এ সংখ্যাটা যে সব সময় একই থাকে তা নয়। তিনি বলেন, ডায়রিয়ার সাথে হাত না ধোয়ারও একটি সম্পর্ক থাকে। বিশেষ করে মল ত্যাগের পর ভালোভাবে হাত না ধুতে পারলে একই হাত দিয়ে খাবার খেলেও ডায়রিয়া হয়ে থাকে। সাবান দিয়ে ভালোভাবে কচলে হাত ধুলে হাতে থাকা জীবাণু মারা যায়। এতে যে ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা নয়, আরো কিছু রোগ-জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানান, একটু কষ্ট করে পানি ফুটিয়ে পান করলে ডায়রিয়ার সমস্যাটি থাকে না। ফুটাতে না পারলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পানি পান করা উচিত।

গরম বাড়ার সাথে সাথে বাজারে খাবার স্যালাইনের বিক্রি বাড়ে। এবারো একই অবস্থা হয়েছে। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ডায়রিয়ার অবস্থা হলেই খাবার স্যালাইন পান করে থাকে। এ ছাড়া গরমে বেশি ঘাম ঝরলেও কান্তি দূর করার জন্য খাবার স্যালাইন খাচ্ছে মানুষ। পান করছে লেবুর শরবত। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কাছে যথেষ্ট খাবার স্যালাইন রয়েছে। কোনো সঙ্কট নেই। দেশের অনেক ওষুধ কোম্পানি খাবার স্যালাইন উৎপাদন করে থাকে। অর্ডার দিলেই কোম্পানির লোকজন দিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু যথেষ্ট সরবরাহ আছে সেজন্য দাম বাড়ার কোনো অবকাশ নেই।

তৈরী পোশাক শিল্পের উদ্যোক্তারা হতাশ

বিশ্বসেরা কারখানার তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে বাংলাদেশী তৈরী পোশাক কারখানার নাম। মিরসরাই রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় (ইপিজেড) গার্মেন্ট পল্লী করার জন্য জমি বরাদ্দ পেয়েছে বিজিএমইএ। অর্থবছরের প্রথম আট মাসে রফতানি আয়ে ৮ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু এত কিছুর পরও চরম হতাশ তৈরী পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা। কারণ প্রবৃদ্ধির সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে লোকসানও। গ্যাস-বিদ্যুৎ সঙ্কটের সমাধান হয়নি। মারাত্মক হয়ে দেখা দিয়েছে বন্দর সঙ্কট। ফলস্বরূপ প্রতিনিয়ত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে নিত্যনতুন কারখানা।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৪৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল দুই হাজার দুই কোটি ৭১ লাখ ডলার; অর্থাৎ রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। গত আট মাসের রফতানির ল্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৪৪০ কোটি দুই লাখ ডলার। এ সময়ে রফতানি আয় ল্যমাত্রা শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কম অর্জিত হয়েছে। এ দিকে অর্থবছরে আট মাসে দুই হাজার ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের পোশাক রফতানি করেছে বাংলাদেশ। এ সময়ে পোশাক রফতানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। পাশাপাশি ল্যমাত্রার চেয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে নির্মাণাধীন অর্থনৈতিক অঞ্চলে এরই মধ্যে প্রায় ৮০০ একর জমি বরাদ্দ পেয়েছেন পোশাক শিল্পসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে বিজিএমইএকে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দিতে সম্প্রতি চুক্তি স্বারিত হয়েছে। এ ছাড়া অনন্ত গ্রুপসহ পোশাক শিল্পের আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে ৩০০ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বিজিএমইএর জন্য স্টক রাখা হয়েছে আরো ৭০০ একর জমি। ক্রেতাদের আস্থা বাড়াতে সব ধরনের অবকাঠামো সুবিধাসহ একটি মডেল পোশাকপল্লী গড়ে তোলা হচ্ছে সেখানে। কমপে ৫০০ কারখানা স্থাপিত হবে এ পল্লীতে। গত ২১ মার্চ রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপ (বেজা) এবং বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফেকচারস অ্যান্ড এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) মধ্যে মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে গার্মেন্ট পার্ক প্রতিষ্ঠায় ৫০০ একর জমির লিজ গ্রহণে এক সমঝোতা স্মারক স্বার হয়।

এ দিকে অনেকটা নীরবেই বিশালসংখ্যক পরিবেশববান্ধব ও কর্মপরিবেশসম্পন্ন (কমপ্লায়েন্ট) কারখানা স্থাপন হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও লাভ করেছে। তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসাবে এ পর্যন্ত ৬৭টি গার্মেন্ট ও টেক্সটাইল কারখানা ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) স্বীকৃতি পেয়েছে। আরো ২২৭টি কারখানা পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠছে। বলা চলে, পরিবেশবান্ধব কারখানা প্রতিষ্ঠার েেত্র একধরনের নীরব বিপ্লব চলছে। তৈরী পোশাক শিল্প মালিকদের দাবি, ইউএসজিবিসির তালিকা অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি পরিবেশবান্ধব স্থাপনা এখন বাংলাদেশে। শুধু তা-ই নয়, পরিবেশবান্ধব কারখানার মান বিচারে বিশ্বের শীর্ষস্থানে থাকা তিনটি কারখানাও বাংলাদেশে। এর মধ্যে দু’টি নারায়ণগঞ্জে আর একটি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে। ইউএসজিবিসির তালিকা অনুযায়ী বিশ্বের শীর্ষ দশে থাকা পরিবেশবান্ধব কারখানার সাতটিই বাংলাদেশের।

এত সুসংবাদ সত্ত্বেও চরম হতাশ রফতানি আয়ে ৮২ শতাংশ অবদান রক্ষাকারী বাংলাদেশের তৈরী পোশাক শিল্প খাতের উদ্যোক্তারা। সবচেয়ে বেশি হতাশায় ভুগছেন ুদ্র ও মাঝারি মানের উদ্যোক্তারা। এদের অনেকেই বাইরে থেকে অর্ডার পান না। সাব-কন্টাক্টে কাজ করান। সময়মতো কাজ না পেলে পড়তে হয় লোকসানে। লোকসান গুনতে না পারলে বন্ধ করে দিতে হয় কারখানা। একবার কারখানা বন্ধ হলেই বাড়ে ব্যাংক ঋণের চাপ। কোনো না কোনো কারখানা বন্ধের খবর আসছে প্রতিদিনই। বিজিএমইএর হিসাবে গত চার বছরে বন্ধ হয়েছে এক হাজার ২০০ তৈরী পোশাক কারখানা। ছয় মাসে বন্ধ হয়েছে ৭০টি।

হতাশার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সম্প্রতি বিভিন্ন কারণে সমতা হারিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। বিশেষ করে অ্যাকর্ড, অ্যালায়েন্সের পরিদর্শনের পর কিছু কারখানা আংশিক, সাময়িক ও পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক ঋণ ও বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ব্যয় মিটিয়ে অনেকের পে টিকে থাকা সম্ভব হচ্ছে না। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কঠিন সঙ্কটের মুখে পোশাক শিল্প। তার পরও পোশাক রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি ও ল্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। কিন্তু আমরা দুশ্চিন্তায় আছি সামনের দিনগুলো নিয়ে। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, পোশাক তৈরির উপকরণ বোঝাই জাহাজকে পণ্য খালাসের জন্য দিনের পর দিন অপো করতে হচ্ছে, পণ্য খালাস করতে না পারায় কনটেইনার ভাড়া বাবদ বন্দর ও জাহাজ কোম্পানিকে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হচ্ছে। তিনি বলেন, টানা আড়াই মাসের বেশি ধরে বন্দরে জাহাজ জট চলমান থাকার পরিস্থিতির সাথে এখন যুক্ত হয়েছে জাহাজীকরণ জটিলতা- রফতানি কনটেইনার না নিয়েই জাহাজের বন্দর ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা, ইতিহাসে কখনই ঘটেনি। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে বিদেশী ক্রেতারাও সময়মতো পোশাক পাবে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

বন্ধ হওয়া রাজধানীর মহাখালীর রসুলবাগের টেক্স পোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরহাদ হোসেন চৌধুরী নিজের দুঃসহ অবস্থার কথা জানিয়ে বলেন, ১৯৯২ সাল থেকে তিনি তৈরী পোশাক ব্যবসায়ের সাথে জড়িত। কমপ্লায়েন্স করতে না পারায় কারখানাটি বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। তিনি জানান, একসময় আমেরিকা, ইউরোপ ও কানাডার বায়ারদের সাথে কাজ করলেও বর্তমানে কাজ না থাকায় কারখানা বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবে তাকে ব্যাংকের কোটি টাকার ঋণের দায় নিয়ে বন্ধ করতে হয়েছে। তার এ কারখানায় তৈরি হতো শার্ট ও প্যান্ট। তিনি আরো জানান, একই ভবনে থাকা আরো সাতটি কারখানা এরই মধ্যে বন্ধ হয়েছে একই কারণে। নতুন করে বিনিয়োগে গেলেন না কেন- জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন জানান, ঢাকার বাইরে বিনিয়োগ করতে হলে ৫০ কোটি থেকে ৬০ কোটি টাকা দরকার। ফলে বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর কোনো সমস্যা না হলেও বন্ধ হচ্ছে ছোট ও মাঝারি কারখানা। তিনি জানান, বেশির ভাগ ক্ষুদ্র ও মাঝারি বিনিয়োগকারী কারখানা বন্ধ করে এ ব্যবসা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।

কুষ্টিয়ায় ২ লাখ টাকার কোয়েল ও টার্কি পাখি হত্যার অভিযোগ

কুষ্টিয়া শহরের চৌড়হাস আদর্শপাড়ায় শত্রুতাবশত কোয়েল ও টার্কি পাখি হত্যা অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার দিবাগত গভীর রাতে চৌড়হাসে আদর্শপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় চৌড়হাস আদর্শপাড়ায় করিম শেখের ছেলে হেলাল শেখ বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, বেশ কয়েকদিন আগে একই এলাকার সজিব হোসেন (৩৫), বাপ্পি (২৭), আল আমিন ১৮ ও আকিব (২০) সহ অজ্ঞাত আরো ৭/৮ জন মিলে কোয়েল পাখির খামারে যেয়ে খামারটি বন্ধের জন্য হুমকি দিয়ে আসে। খামার বন্ধ না বড় ধরনের ক্ষতি হবে।

গতকাল সকালে খামারের মালিক হেলাল তার খামারে যেয়ে দেখে সব দরজা জানালা খোলা। সেখানে ১০০০ থেকে ১২০০ কয়েল পাখি ও ৬টি টার্কি পাখি মৃত অবস্থায় দেখতে পায় এবং আরো কিছু পাখি চুরি করে নিয়ে যায়। যার অনুমানিক মূল্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

এদিকে কোয়েল পাখি ও টার্কি পাখি মেরে ফেলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নাসির উদ্দিন জানান, বিষয়টি তদন্তধীন রয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যেভাবে কিনবেন রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট

বিশ্বকাপ ২০১৮,আর মাত্র ৭৬ দিন সাত ঘন্টা পরই শুরু হবে। মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে স্বাগতিক রাশিয়া এবং সৌদি আরবের ম্যাচ দিয়ে বাজবে বিশ্বকাপের দামামা। ১৪ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ফুটবলের মহোৎসবে মাঠ মাতাবেন বিশ্বসেরা তারকারা। প্রিয় দেশের পাশাপাশি প্রিয় খেলোয়াড়কে সমর্থন জানাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ভক্তকূল। সেই সঙ্গে প্রতিবারের ন্যায় এবারও ফুটবল উন্মাদনায় মাতবে বিশ্ব। আর অনেকেই সেই উন্মাদনার সাক্ষী হতে চান স্বশরীরে। স্বশরীরে মাঠে উপস্থিত হয়ে খেলা দেখতে প্রয়োজন পড়বে টিকেট। আর সবাই চায় সেই স্বপ্নের বিশ্বকাপ ম্যাচ টিকেট পেতে। অথচ প্রতি বিশ্বকাপেই ম্যাচের টিকেট যেন এক একটি সোনার হরিণ।

চলুন জেনে নেয়া যাক আসন্ন বিশ্বকাপের টিকেট ক্যাটাগরি ও মূল্য সম্পর্কে। রাশিয়া বিশ্বকাপের বেশির ভাগ টিকেটই অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হবে। মোট সাতটি ভাগ ও চারটি ক্যাটাগরিতে টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ((http://www.fifa.com/worldcup/organisation/ticketing/index.html) এখানে ক্লিক করে টিকেট কেনা যাবে। পাঠকদের সুবিধার্থে নিচে ক্যাটাগরি ভেদে বাংলাদেশি টাকায় টিকেট মূল্য দেয়া হল।

 

১. উদ্বোধনী ম্যাচ: ক্যাটাগরি ১=৪৮ হাজার ৫১৮ টাকা, ক্যাটাগরি ২=৩৩ হাজার ৫১৪ টাকা, ক্যাটাগরি ৩=১৮ হাজার ৯৪৭ টাকা, ক্যাটাগরি ৪= ৪ হাজার ৭০৯ টাকা

২. গ্রুপ ম্যাচ: ক্যাটাগরি ১=১৮ হাজার ৭১টাকা, ক্যাটাগরি ২=১৪ হাজার ২৩৮ টাকা , ক্যাটাগরি ৩= নয় হাজার ৯০ টাকা, ক্যাটাগরি ৪= এক হাজার ৮৬১ টাকা

৩. শেষ ষোলো: ক্যাটাগরি ১=২১ হাজার ১৩৭ টাকা, ক্যাটাগরি ২=১৫ হাজার ৮৮০ টাকা, ক্যাটাগরি ৩= নয় হাজার ৮৫৭ টাকা, ক্যাটাগরি ৪= তিন হাজার ২৮৫ টাকা

৪. কোয়ার্টার ফাইনাল: ক্যাটাগরি ১=৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা, ক্যাটাগরি ২=২১ হাজার ৯০৪ টাকা, ক্যাটাগরি ৩=১৫ হাজার ১১৪ টাকা, ক্যাটাগরি ৪= পাঁচ হাজার ৫৮৫ টাকা

৫. সেমিফাইনাল: ক্যাটাগরি ১=৬৪ হাজার ৫০৯ টাকা, ক্যাটাগরি ২=৪১ হাজার ২৯০ টাকা, ক্যাটাগরি ৩=২৪ হাজার ৫৩৩ টাকা, ক্যাটাগরি ৪= ছয় হাজার ৫৭১ টাকা

৬.তৃতীয় স্থান নির্ধারনী: ক্যাটাগরি ১=৩১ হাজার ৪৩৩ টাকা, ক্যাটাগরি ২=২১ হাজার ৯০৪ টাকা, ক্যাটাগরি ৩=১৫ হাজার ১১৪ টাকা, ক্যাটাগরি ৪= পাঁচ হাজার ৫৮৫ টাকা

৭. ফাইনাল: ক্যাটাগরি ১=৯৪ হাজার ৬২৮ টাকা, ক্যাটাগরি ২=৬১ হাজার ১১৩ টাকা, ক্যাটাগরি ৩=৩৯ হাজার২০৯ টাকা, ক্যাটাগরি ৪=১০ হাজার ২৯৫ টাকা

বাংলাদেশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ২৯০ টিকিট পেয়েছে। কিন্তু এর ক্রেতাদের হতে হবে বাফুফের নির্বাহী কমিটির সদস্য, বাফুফের সদস্য সংস্থাগুলোর কর্মকর্তা, ক্লাব কর্মকর্তারা, পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান, বাফুফেতে কর্মরত কর্মকর্তারা ও ফুটবলাররা। একজন দুটির বেশি টিকিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। টিকিট বণ্টনের জন্য ছয় সদস্যের একটি বিশেষ কমিটিও গঠন করেছে বাফুফে।

সাধারণ দর্শকের জন্য কোনো টিকিটের ব্যবস্থাই রাখেনি বাংলাদেশের ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। সাধারণ দর্শকদের জন্য টিকিট না রাখা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগ বলেন, ‘ফিফার গাইডলাইন অনুসরণ করা হয়েছে। ফিফা আমাদের স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে বিতরণ করতে নির্দেশ দিয়েছে। সাধারণ দর্শকদের জন্য অনলাইন টিকিটের ব্যবস্থা ছিল।’

প্রয়োজন হলে খালেদাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে: ওবায়দুল কাদের

খালেদা জিয়া প্রকৃতপক্ষে অসুস্থ হলে, চিকিৎসকের পরামর্শে সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেবে সরকার। প্রয়োজনে বিদেশেও পাঠাবে। খালেদা জিয়া জেলে বলে সরকার অমানবিক হবেনা: সম্পাদকমণ্ডলী সভা শেষে ওবায়দুল কাদের বলেন।

শুক্রবার সকালে ধানমন্ডি আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদক মণ্ডলীর বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন: বেগম খালেদা জিয়া জেলে অসুস্থ আছেন বিএনপি মহাসচিব জোর গলায় বলে যাচ্ছেন। খালেদা জিয়ার যে ধরনের অসুস্থ আছেন তার জন্য সে ধরণের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জেলে আছেন বলে তার প্রতি অমানবিক আচরণ করা হবে না। প্রয়োজন হলে তাকে সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী বলেন, খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসার জন্য যা যা করা দরকার সব ব্যবস্থা করা হবে। তার অসুস্থতা কেমন তার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা করানো হবে। চিকিৎসকরা যদি মনে করেন চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো দরকার তাহলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার সকালে কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হঠাৎ অসুস্থতার সংবাদে উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে তার উন্নত চিকিৎসার দাবি জানিয়েছে বিএনপি। সেইসাথে তাকে মুক্তি দেয়ারও দাবি জানায় দলটি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দলের বিদ্রোহী করে যারা বিভিন্ন সময় নির্বাচন করেছে তাদের ব্যাপারে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধীদের শাস্তি না হলে অপরাধের প্রবণতা আরো বেড়ে যায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাসিম, দফতর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুস সবুর, উপ-দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ।

এদিকে শুক্রবার নয়াপল্টনে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে উন্নত সুচিকিৎসার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় জানিয়ে তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে বিএনপি।

কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেয়া খাবারের মান ও সঠিক পরিমাণে খাবার দেয়া নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছে তারা।

উন্নত চিকিৎসার জন্য নিঃশর্ত মুক্তি চাইঃ ফখরুল

কারাবন্দি খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, খালেদা জিয়াকে প্যারোলে নয়, আমরা তার নিঃশর্ত মুক্তি চাই; তিনি যেন চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন।

শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল এ দাবি জানান।

এ সময় তিনি বলেন, কারারুদ্ধ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার হঠাৎ অসুস্থতার সংবাদে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন ও উৎকণ্ঠিত। আমরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে শঙ্কায় আছি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গতকাল খালেদা জিয়ার সঙ্গে আমার বিকাল ৩টায় সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন্তু দুপুর দেড়টায় আমি যখন তার সঙ্গে দেখা করতে রওনা হয়েছি, তখন চেয়ারপারসনের একান্ত সচিব আমাকে জানালেন তিনি অসুস্থ। ঢাকার সিভিল সার্জন তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে গেছেন। তাই আমার সাক্ষাৎ স্থগিত করা হয়েছে।

মহাসচিব দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, খালেদা জিয়ার কী ধরনের অসুস্থতা, তিনি কেমন আছেন, তা আমরা জানতে পারিনি। সরকার বা কারাকর্তৃপক্ষ সে বিষয়ে আমাদের কিছুই জানায়নি।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয়ার জন্যই এসব চক্রান্ত চলছে। এ সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছে এবং সর্বশেষ তাকে কারারুদ্ধ করেছে।

তাকে অন্যায়ভাবে একটি পরিত্যক্ত ভবনে আটকে রাখা হয়েছে। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তাকে। কারাগারে তাকে সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী প্রমুখ।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

রায়ের পর পরই তাকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তখন থেকে সেখানে বন্দি আছেন বিএনপি নেত্রী।

পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করবেন না-প্রকাশ জভেদকার

ভারতের বিশ্ব হিন্দু পরিষদ দাবি করেছে পশ্চিমবঙ্গকে আরেকটি বাংলাদেশ বানাচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি । মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রকাশ জভেদকার। রাম নবমীর র‌্যালিকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে সহিংস সংঘাতের প্রেক্ষিতে তিনি এ অভিযোগ করেন।

এ ঘটনার পর মমতা ব্যানার্জিকে সতর্ক করে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ বলেছে, পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা করবেন না। একইসঙ্গে বিজেপি নেতারা মমতার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেছে, রাজ্য সরকারের মদদে হিন্দুদের ওপর হামলা হয়েছে।

মমতাকে টার্গেট করে বক্তব্য রাখছেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপি নেতারা। তারা বলছেন, যখন পশ্চিমবঙ্গ জ্বলছে, তখন দিল্লিতে বলে রাজনীতির তৃতীয় ফ্রন্ট করছেন মমতা।

দুই প্রকল্পে ৫৬০ মিলিয়ন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক

নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীক উদ্যোগের দুটি পরিবেশগত টেকসই প্রকল্পে সহায়তা দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ-সংক্রান্ত দুটি প্রকল্পে ৫৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুমোদন দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে অবস্থিত সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। শুক্রবার বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বাংলাদেশে বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর জাহিদ হুসাইন বলেন, উচ্চতর প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে সাহায্য করছে বিশ্বব্যাংক। বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীক উদ্যোগকে সাহায্য করার মাধ্যমে এ দুটি প্রকল্প বাংলাদেশের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

৪৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ‘ইনহেন্সমেন্ট অ্যান্ড স্ট্রেথিং অব পাউয়ার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়নের কাজে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে।

এছাড়া ১১০ মিলিয়ন ডলারের ‘সাসটেইনঅ্যাবল এন্টারপ্রাইজ প্রজেক্ট (এসইপি)’-এর মাধ্যমে ২০ হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীক উদ্যোগকে সহায়তা করা হবে। উৎপাদন ও কৃষি খাতের উদ্যোগুলো এর আওতায় পড়বে।

আইপিএলেও অধিনায়কত্ব হারাচ্ছেন স্মিথ?

কেপ টাউন টেস্টে বল টেম্পারিংয়ের ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন স্টিভ স্মিথ। পদত্যাগ বলা হলেও আসলে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। আসছে আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের অধিনায়কত্বও হারাতে পারেন তিনি। সেক্ষেত্রে দলটির অধিনায়ক হবেন অজিঙ্কা রাহানে।

কলঙ্কিত এই ঘটনায় স্মিথকে এক টেস্ট নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি। পাশাপাশি তার ম্যাচ ফির পুরোটাই জরিমানা করা হয়েছে। এমনকি স্মিথ ও ডেভিড ওয়ার্নার আজীবন নিষিদ্ধ হতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে! স্মিথের সঙ্গে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হয়েছে ওয়ার্নারকে।

বিসিসিআই চাইছে, স্মিথ নিজে থেকেই রাজস্থানের অধিনায়কত্বের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াক। তাহলে রাজস্থান রাহানেকে দায়িত্ব দিতে প্রস্তুত। স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা শেষে এবারের আইপিএলে ফিরছে রাজস্থান। বিসিসিআইয়ের চাওয়া, কোনো বিতর্ক ছাড়াই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পুনরায় যাত্রা শুরু করুক।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক কর্মকর্তা পিটিআইকে বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বলটা রাজস্থান রয়্যালসের কোর্টে। হ্যাঁ, স্মিথ তরুণ একজন ক্রিকেটারকে বল টেম্পারিংয়ের অনুমিত দিয়ে অসততার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি একটি খারাপ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কিন্তু রাজস্থানের পরিকল্পনা তাকে ঘিরে।’

‘আমরা মনে করি, রাজস্থান কোনো বিতর্ক ছাড়াই পরিষ্কারভাবে শুরু করবে। এটা সহজ হবে যদি স্মিথ শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার সিদ্ধান্ত নেন। তখন অন্য কেউ অধিনায়কত্বের দায়িত্ব গ্রহণ করবে’- বলেন ওই কর্মকর্তা।

আইপিএলের আরেক ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের অধিনায়ক ওয়ার্নার। তার নেতৃত্বও হুমকির মুখে। আগামী ৭ এপ্রিল শুরু হবে আইপিএলের একাদশ আসর।