All posts by lutfor

স্বল্পমূল্যে বিশ্বমানের পণ্য আমদানি করুন : কম্বোডিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী

কম্বোডিয়া সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে উন্নত মানের পণ্য তুলনামূলক স্বল্পমূল্যে রফতানি করছে। বাংলাদেশ থেকে ওষুধ, তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক পণ্য, চামড়া ও পাটজাত পণ্য এবং তামাকসহ প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করলে কমোবাডিয়া লাভবান হবে।

বুধবার (২৫ এপ্রিল) কম্বোডিয়ার ফোম প্যান হোটেলে অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড, ফাইনান্স এ ডেভেলপমেন্ট অফ গ্লোবাল ভেলু চেইন শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাকের সঙ্গে যৌথভাবে এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন তিনি। বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

তোফায়েল বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও ফাইনানশিয়াল সিসটেম-এ এশিয়ার দেশগুলোর শক্তিশালী অবস্থান থাকা প্রয়োজন। সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক অসমতা দূর করতে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন প্রয়োজন। এশিয়ার দেশগুলোর অর্থনীতি শক্তিশালী করতে নীতিগত ও রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থাকা একান্ত দরকার। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবদান রাখার সুযোগ থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে ৬৮ দেশে ২৫টি পণ্য রফতানি করে আয় হতো ৩৪৮.৪২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এখন বিশ্বের প্রায় ১৯৯টি দেশে ৭৪৪টি পণ্য রফতানি করে আয় হয় প্রায় ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২০২১ সালে রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে তৈরি পোশাক রফতানি করে আয় হবে ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কম্বোডিয়ার ন্যাশনাল ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আয়োক মালি কর্মশালায় বৈদেশিক বাণিজ্য এবং এসএমই বিষয়ে কি-নোট উপস্থাপন করেন। কর্মশালায় বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের ১৪০ ব্যাংকার্স ও ব্যবসায়ী অংশ নেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৫২ ব্যাংকার্স রয়েছেন।

কর্মশালার উদ্বেধনী অনুষ্ঠানের পর উভয় দেশের বাণিজ্যমন্ত্রী উপস্থিত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় করেন। বাণিজ্যমন্ত্রী এ সময় বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য তুলে ধরেন।

কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন- কম্বোডিয়ার বাণিজ্যমন্ত্রী প্যান সোরাসাক, স্ক্যাপের মাইক্রোপলিসি অ্যান্ড ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ডিভিশনের আলবার্তো ইসগুট, সিইও- কা কি ম্যান, এবং ভিনসেন্ট ও’ব্রেইন এবং কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মিসেস সাঈদা মুনা তাসনিম।

পর পর দুই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ

গত বছর ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির আসর ছিল দারুণ জমজমাট। কিন্তু সাফল্যের পরও অনিশ্চিত এই টুর্নামেন্টের ভবিষ্যৎ। আগামী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জায়গায় আইসিসি আয়োজন করবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। টি-টোয়েন্টির এই বিশ্ব আসর তাই আয়োজিত হবে পর পর দুই বছর।

আগামী চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি হওয়ার কথা ছিল ২০২১ সালে ভারতে। সেটির বদলেই এখন হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০২০ সালে আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর বসবে অস্ট্রেলিয়ায়। বৃহস্পতিবার কলকাতায় আইসিসির সভায় চূড়ান্ত হয়েছে এই বদল।

এর আগে ২০০৯ ও ২০১০ সালেও পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে। সেবার কারণ হিসেবে বলা হয়েছিল, আইসিসি ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সঙ্গে একই বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়া এড়াতেই ২০১০ সালে আরেকটি বিশ্বকাপের আয়োজন।

২০০৭ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছরে ছিল ওয়ানডে বিশ্বকাপও। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছরে ছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও।

তখন দুই বছর পরপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হওয়ার কথা ছিল। ২০১০ থেকে টানা চারটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হয়েছিল ২ বছর অন্তর। তবে ২০১৬ সালে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর ঠিক হয়েছিল এই টুর্নামেন্টও আয়োজন করা হবে চার বছর পর পর। এবার সেই ঘোষণা থেকেও সরে এল আইসিসি।

আইসিসি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বেশি দলকে বিশ্ব আসরে খেলার সুযোগ দিতেই এই পরিবর্তন। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেয় ১৬ দল, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ৮টি।

সভায় ২০১৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ভবিষ্যত সফরসূচিও চূড়ান্ত করেছে আইসিসি। বহুল আলোচিত আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ও ওয়ানডে লিগ অনুমিতভাবেই পেয়েছে চূড়ান্ত অনুমোদন।

২০১৯-২০২৩ ভবিষ্যৎ সফর সূচিতে উল্লেখযোগ্য আসর:

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপ: ২০১৯, ২০২৩

আইসিসি ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি: ২০২০, ২০২১

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ: প্রথম চক্র – ২০১৯-২০২১; দ্বিতীয় চক্র- ২০২১-২০২৩

আইসিসি ক্রিকেট বিশ্বকাপের বাছাই লিগ: ২০২০-২০২২

৫ জানুয়ারির মতো নির্বাচন হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবে

বিশিষ্ট আইনজীবী ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, শুধুমাত্র ক্ষমতায় থাকা কিংবা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য লোক দেখানো সংসদ নির্বাচন নয়, জনগণ যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে সে রকম নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে গণফোরামের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, গত ৫ জানুয়ারির মতো ভবিষ্যতে নির্বাচন হলে জনগণ গণতন্ত্র ও নির্বাচনের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলবে। ৫ জানুয়ারির মতো ভবিষ্যতে নির্বাচন হলে তাতে লাভবান হবে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি।

তিনি বলেন, ঘুষ-দুর্নীতি-সন্ত্রাস, দলীয়করণ, গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা চলছে এবং তা রাষ্ট্রযন্ত্র কাঠামোর মূলে আঘাত হানছে। এই পরিস্থিতি চলতে দেয়া যায় না। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্র-আইনের শাসন-সুষ্ঠু নির্বাচনের অধিকার অর্জন করতে হবে।

অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, শান্তিপদ ঘোষ, জগলুল হায়দার আফ্রিক, আ.ও.ম শফিকউল্লাহ, মোসতাক আহমেদ, আইয়ুব খান ফারুক, রফিকুল ইসলাম পথিক, রওশন ইয়াজদানী, নৃপেন ঘোষ, আব্দুল হাসিব চৌধুরী, খান সিদ্দিকুর রহমান, সাইদুর রহমান, বিলকিছ বানু প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

গ্লোবাল সামিট অব উইমেন সম্মেলনে যোগ দিতে দিনের সরকারি সফরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্থানীয় সময় আজ শুক্রবার ৭টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী থাই এয়ারওয়েজের একটি বিমান সিডনির কিংসফোর্ড স্মিথ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মুহাম্মদ সুফিউর রহমান বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান। বিমানবন্দর থেকে একটি গাড়িবহরে করে ইন্টারকন্টিনেন্টাল সিডনি হোটেলে পৌঁছান। সফরকালে সেখানেই তিনি অবস্থান করবেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী সিডনি যাওয়ার পথে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে প্রায় আড়াই ঘণ্টা যাত্রাবিরতি করেন।

শেখ হাসিনা সিডনির আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে (আইসিসি) শুক্রবার এক অনুষ্ঠানে ভিয়েতনামের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাই নগক থিন এবং কসোভোর সাবেক প্রেসিডেন্ট এতিফেত জাহজাগার সঙ্গে এই গ্লোবাল উইমেনস লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড-২০১৮ গ্রহণ করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ‘গ্লোবাল সামিট অব উইমেন’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালনের স্বীকৃতি হিসেবে এই সম্মাননা পদকে ভূষিত করেছে।
গ্লোবাল উইমেন সামিট বিশ্বব্যাপী নারী নেতৃবৃন্দের ব্যবসা এবং অর্থনৈতিক বিষয়াবলী সংক্রান্ত একটি বাৎসরিক সম্মেলন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) একটি সূত্র জানায়, এই সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন এবং জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় নারীদের সম্পৃক্তকরণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরবেন।

প্রধানমন্ত্রী সফরকালে ২৮ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুলের সঙ্গে বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, সিডনিতে অস্ট্রেলীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলি বিশপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

শেখ হাসিনা ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করবেন এবং ২৮ এপ্রিল হোটেল সোফিটেল-এ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর ২৯ এপ্রিল অস্ট্রেলিয়া ত্যাগ করে পরের দিন দেশে ফিরে আসার কথা রয়েছে।

তোপের মুখে কলকাতা-চেন্নাই ম্যাচ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ৪ হাজার পুলিশ

আজ সন্ধ্যায় তামিলনাড়ুতে গড়ানোর কথা এবারের আইপিএলের পঞ্চম ম্যাচ। ঘরের মাঠে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে আতিথ্য দেবে চেন্নাই সুপার কিংস। তবে অশনিসংকেত হয়ে দেখা দিয়েছে কাভেরী নদীর পানির হিস্যা নিয়ে আন্দোলন।

আরও এক দফা আন্দোলনে নেমেছেন তামিলনাড়ুর অধিবাসীরা। প্রাণকেন্দ্র চিপাউক স্টেডিয়ামের চারপাশ। শঙ্কা জেগেছে, এ আন্দোলনের মুখে ম্যাচটি নির্বিঘ্নে হবে তো? ম্যাচটি বাতিল বা স্থগিত করতে চাপ দিয়ে যাচ্ছেন আন্দোলনকারীরা।

কাভেরী নদীর পানি নিয়ে কর্নাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। বারবার বৈঠকে বসেও এ সমস্যার সমাধান আসেনি। এতদিন এ জন্য কর্নাটকীদের দায়ী করে আসছিলেন তামিল বাসিন্দারা। এবার তাদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তারা। তাদের দাবি, উদ্ভূত সমস্যা সমাধানে কর্ণপাত করছে না সরকার।

বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত এ সমস্যা সমাধানে কেন্দ্র কাভেরী ব্যবস্থাপনা পর্ষদ গঠন না করা পর্যন্ত ম্যাচটি বাতিল বা স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন রাজনৈতিক দল ও আন্দোলনকারীরা। দর্শকদের ম্যাচটি বয়কটের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

তাদের এমন দাবিতে ম্যাচ চলাকালীন অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্রেক ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এতে নড়েচড়ে বসেছে তামিলনাড়ু প্রশাসন। ম্যাচে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ৪ হাজার পুলিশ মোতায়েন করেছে তারা।

এক রাত না ঘুমালে শরীরের ভয়ানক ৭ ক্ষতি

সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের কমপক্ষে ৭-৮ ঘন্টা ঘুমান আবশ্যক। কিন্তু বর্তমান সময়ে রাতে না ঘুমিয়ে থাকাটা একটি ট্রেন্ড হয়ে গেছে। মানুষ রাতে ঘুমালেই শরীর ও মন দুটাই বিশ্রাম নিতে পারে। এতে করে শারীরিক অনেক সমস্যার সমাধান হয়।

আর আমাদের শরীর ভাল থাকে। রাতেই শরীরের কোষগুলো খুলে গিয়ে কাজ করা শুরু করে। কিন্তু আমরা যদি না ঘুমিয়ে জেগে থাকে, এতে শরীর তার কাজ করতে পারে না। এতে শরীরের ব্যাঘাত ঘটে।

১৫ জন লোকের ওপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে মাত্র এক রাত ঘুম না হলেই মস্তিষ্কের কোষের ক্ষয় শুরু হয়। ১৭৪১ জন নারী এবং পুরুষের উপর গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে যারা ১০ থেকে ১৪ বছর ধরে ছয় ঘণ্টারও কম ঘুমান তাদের মধ্যে মারাত্মক ধরনের মৃত্যুহার বেশি থাকে। তাছাড়া তাদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ সহ আরো অনেক রোগের হার বেশি। আসুন জেনে নেই এক রাত জেগে থাকলে মানুষের শরীরে যে ভয়ানক ৭ ক্ষতি হয়।

এক রাত কম ঘুমালে যে সমস্যা হয়
১) ক্ষুধা বেড়ে যায় এবং আপনি বেশি খেতে শুরু করেন।
২) যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকির মধ্যে থাকেন আপনি।
৩) আপনি দেখতে যেমন আপনাকে তার চেয়ে খারাপ দেখায়।
৪) ঠাণ্ডা-সর্দি লাগার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
৫) আপনার মস্তিষ্কের টিস্যু নষ্ট হওয়া শুরু হয়।
৬) আপনি সামান্য কারণে ইমোশনাল হয়ে যান।
৭) আপনার স্মৃতিশক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে।

একরাত ঘুম কম হওয়া বা অল্প সময়কাল ধরে ঘুম কম হওয়ার সমস্যাটি পরে গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

লাইফ সাপোর্টে রাজীব

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে দুই বাসের চাপায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীবকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে। গত ৩ এপ্রিল থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রাজীবকে আজ ওয়ার্ডে নেয়ার কথা ছিল।

রাজীবের খালা হ্যাপি আক্তার বলেন, ভোর পৌনে ৪টার দিকে রাজীব অজ্ঞান হয়ে যায়। এরপর সকাল ৮টায় তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তার চিকিৎসায় গঠিত সাত সদস্যের মেডিকেল বোর্ডের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মো. সামসুজ্জামান বলেন, গতকালও ওর খাওয়া-দাওয়া ভালো ছিল। তাকে আজ ওয়ার্ডে দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল। হঠাৎ রাতে তার মস্তিষ্কে সমস্যা হয় ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এ কারণে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেয়া হয়েছে।

রোববারই রাজীবের আরেক খালা জাহানারা বেগম বলেছিলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে এ ক’দিন চোখই খুলছিল না রাজীব। তবে এখন চোখ খুলছে।

গত ৩ এপ্রিল দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসির একটি দ্বিতল বাসের পেছনের ফটকে দাঁড়িয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র রাজীব হোসেন। বাসটি হোটেল সোনারগাঁওয়ের বিপরীতে পান্থকুঞ্জ পার্কের সামনে পৌঁছালে হঠাৎ পেছন থেকে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে গা ঘেঁষে অতিক্রম করে। এ সময় দুই বাসের প্রবল চাপে গাড়ির পেছনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজীবের ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গে আর্তনাদ করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সে। এতে তার মাথায়ও প্রচণ্ড আঘাত লাগে।

দুর্ঘটনার পর তাকে প্রথমে শমরিতা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

মতিয়াকে আল্টিমেটাম : ক্ষমা না চাইলে সারা দেশে অবরোধ

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী সোমবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিরোধিতা করে আন্দোলনকারীদের রীতিমতো তুলোধুনা করেন। বক্তব্যের একটি অংশে তিনি বলেন, ‘যারা দেশের জন্য জীবন বাজি রাখেন, পৃথিবীর সব দেশে তাদের জন্য বিশেষ সুযোগ থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানেরা সুযোগ পাবে না, রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে? তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংকুচিত হবে?

তার দেয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ আপত্তিকর মনে করে ওই বক্তব্য প্রত্যাহারে ও ক্ষমা চাওয়ার জন্য তাকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এ সময়ের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার না করা হলে আবার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে সামনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ ঘোষণা দেয়া হয়। বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান।

তিনি বলেন, বিকেল ৫টার মধ্যে মতিয়া চৌধুরী বক্তব্য প্রত্যাহার ও ক্ষমা না চাইলে আমরা সারা দেশে অবরোধ কর্মসূচি পালন করবো।

এ সময় তিনি বলেন, ভিসির বাসভবনে হামলাকারীরা বহিরাগত এবং এ ঘটনায় আমরা তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। পাশাপাশি হামলাকারী পুলিশের শাস্তি ও ক্ষতি পূরণের দাবি জানান তিনি।

আন্দোলনের নতুন কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, যারা নতুন কমিটি করেছে তারা স্বার্থ হাসিলের জন্যই এ কমিটি করেছে। আমাদের ব্যানার ব্যাতীত কেউ যদি অন্য ব্যানারে আন্দোলন করে তাদের আমরা প্রতিহত করব।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে

সরকারি চাকরিতে কোটা ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করাসহ ৫ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা প্রত্যাহার করেছে আন্দোলনকারীরা।

দ্বিধাবিভক্ত আন্দোলনকারীরা ফের একত্র হয়ে আন্দোলনে নেমেছে। কোটা সংস্কার নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট ঘোষণা, গ্রেফতারকৃত সবার মুক্তি, আহতদের চিকিৎসার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার অবরোধ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কোটা সংস্কার আন্দোলনবিষয়ক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিকালে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ফের বিক্ষোভে নামে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে আন্দোলনকারীদের মূল কমিটি সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকে। সেখানে ঘোষণা দেয়া হয়, বিকাল ৫টার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের নিয়ে কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর দেয়া বক্তব্য প্রত্যাহার না হলে সারা দেশে ফের অবরোধ শুরু হবে। কিন্তু দাবি অনুযায়ী বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে পুনরায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা, উপজেলা, কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন ও টানা অবরোধের ডাক দেয়া হয়। এরপর সেখান থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

এদিকে সোমবার সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের যে অংশটি কর্মসূচি স্থগিতের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছিল তারাও মূল কমিটির সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দেন। এতে করে আন্দোলনে বিভক্তি দূর হয়। এই অংশটি সকাল থেকে রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছিল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে আগত এই আন্দোলনকারীদের স্লোগান ছিল- ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’। পরে আন্দোলনরত অবস্থায় এই অংশটি ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। সেখান থেকে লাইব্রেরির সামনে দিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে দিয়ে রাজু ভাস্কর্য হয়ে শহীদ মিনারের দিকে যায়।

বিকালের সংবাদ সম্মেলনে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’র যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান বলেন, মতিয়া চৌধুরী আন্দোলনকারীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিকাল ৫টার মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা করেননি। তাছাড়া অর্থমন্ত্রী ‘আসন্ন বাজেটের আগে কোটা সংস্কার হবে না’ এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা সোমবার সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিপরীত। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোটা সংস্কারের বিষয়ে বক্তব্য দেবেন না, তত দিন পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

এর আগে সকালের সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্যের বাসভবনে হামলাকারীদের বহিরাগত দাবি করে রাশেদ খান বলেন, আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নয়। পাশাপাশি আন্দোলন করার কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে যেন কোনো আন্দোলনকারীকে বের করে দেয়া না হয় সে জন্য অনুরোধ করা হয়। সোমবার কর্মসূচি স্থগিত হলে বিভিন্ন হলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হয়রানি করার পর- যুগ্ম সমন্বয়কের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য এলো।

সোমবার সংসদে মতিয়া চৌধুরী কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে জাতীয় সংসদে বলেছিলেন- “মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরা সুযোগ পাবে না, রাজাকারের বাচ্চারা সুযোগ পাবে? তাদের জন্য মুক্তিযোদ্ধা কোটা সংকুচিত হবে?”

আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ থেকে ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’ -এর সুনির্দিষ্ট ৫টি দাবি তুলে ধরেন। দাবিসমূহ হলো- কোটা ব্যবস্থার সংস্কার করে ৫৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশে নিয়ে আসা; কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে খালি থাকা পদগুলোতে মেধাবীদের নিয়োগ দেয়া; কোনো ধরনের বিশেষ পরীক্ষা না নেয়া; সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য অভিন্ন বয়সসীমা এবং চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একবারের বেশি ব্যবহার না করা।

এদিকে কোটার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে রাজু ভাস্কর্য স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়। তাদের স্লোগান ছিল- ‘মতিয়ারে মতিয়া, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘ম-তে মতিয়া, তুই রাজাকার তুই রাজাকার’, ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নেই’, ‘কোটা দিয়ে কামলা নয়, মেধা দিয়ে আমলা চাই’, ‘এক দফা এক দাবি, কোটা প্রথার সংস্কার চাই’, ‘বাতিল করো বাতিল করো, নাতি-পুতি কোটা কোটা বাতিল করো’, ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মেনে নাও’।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে মানববন্ধন করেন চাকরিপ্রত্যাশীরা। পরে আবার ২৫ ফেব্রুয়ারি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন তারা। ৩ মার্চের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান দাবি করে। সমাধান না হওয়ায় আবার আন্দোলনে নেমেছেন তারা। এই সময়ে দাবি পূরণ না হওয়ায় ৪ মার্চ রাজধানীর শাহবাগে কোটা সংস্কার চেয়ে বিক্ষোভ অবস্থান কর্মসূচি পালন করে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশী। দাবি আদায়ে ১৪ মার্চ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদানের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।

পাশাপাশি ওইদিন সারা দেশের সব জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্তু ঢাকা শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে টিয়ার শেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ। এতে ১৬ জন আহত হয় এববং ৬৩ জনকে আটক করা হয়। পরে দেশব্যাপী ছাত্র বিক্ষোভের মুখে রাত ৯টার দিকে তাদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। পরে সেদিনই এই ঘটনায় আন্দোলনকারী অজ্ঞাতনামা ৭০০-৮০০ জনের নামে মামলা দায়ের করা হয়।

এরপর মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ১৫ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে আন্দোলনকারীরা। ১৮ মার্চ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। ২৫ মার্চ গলায় শিক্ষা সনদ ঝুলিয়ে রাস্তা পরিষ্কার কর্মসূচি পালন করে দাবি আদায়ে এক অভিনব প্রতিবাদ জানান চাকরিপ্রার্থী বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া ১ এপ্রিল থেকে ৭ এপ্রিল ছিল ‘কোটা সংস্কার সচেতনতা সপ্তাহ’।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা রয়েছে। আর বাকি ৪৪ শতাংশ নিয়োগ হয় মেধায়। এ জন্য এই কোটা ব্যবস্থার সার্বিক সংস্কারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রার্থীরা।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ ৫ সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকড

গত রোববার থেকে চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনে যোগ দিয়েছে হ্যাকাররা। ইতিমধ্যে তারা রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইটসহ ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাক করেছে।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বেশ কয়েকটি সরকারি সাইটে ব্রাউজ করলে সেগুলো হ্যাক হয়েছে বলে দেখাচ্ছে। হ্যাকাররা ওই সাইটগুলো হ্যাক করার পর সেখানে উপরে শিরোনাম হিসেবে ‘হ্যাকড বাই বাংলাদেশ’ এবং তার নিচে বাংলাদেশের পতাকা হাতে শাহবাগে আলোচিত প্রতিবাদীর ছবি দেয়া হয়েছে।

রাত ১০টার দিকে বঙ্গভবনের ওয়েবসাইট (bangabhaban.gov.bd), প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওয়েবসাইট (www.pmo.gov.bd), জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইট (parliament.portal.gov.bd), স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (www.mha.gov.bd) বিসিএস প্রশাসনের ওয়েবসাইট (bcsadminacademy.gov.bd) এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে (moa.gov.bd) গেলে একই দৃশ্য দেখা যায়।

এবিষয়ে সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম এনালিস্ট মাহাবুবুর রহমান বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটি অনেক বড় একটি আক্রমণ। হ্যাকাররাও এতে যোগ দিয়েছে জানতে পেরে অবাক হচ্ছি। এই ট্রেন্ডটা আগে শুধু বিদেশে দেখতাম। একইভাবে অনলাইনে এভাবে সাইবার আন্দোলন বাংলাদেশে এর আগে হয়নি বললেই চলে। আমাদের দেশীয় সাইটগুলোকে সিকিউর রাখা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। মন্ত্রণালয়গুলোতে দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগের অভাব পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে।

সাইটগুলো হ্যাক করার পর সেখানে প্রদর্শিত ছবির নিচে হ্যাশট্যাগ দিয়ে Reform Quota BD, Stop the Genocide, Reform Quota System, Bangladesh, Student Protest, United WE Stand, No_Private or Publice Discrimination বেশ কিছু শ্লোগান লেখা হয়।