All posts by lutfor

আলোচনায় বসেছেন দুই কোরীয় নেতা

কোরিয়া উপদ্বীপকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে আলোচনায় বসেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা মুন জায়ে ইন।

শুক্রবার স্থানীয় সময় সকালে সাড়ে ৯টায় দুই কোরিয়ার সীমান্তবর্তী শান্তি গ্রাম পানমুনজমের পিস হাউসে তারা এই বৈঠকে মিলিত হন।

২০০৭ সালের পর এটি দুই কোরিয়ার মধ্যে প্রথম বৈঠক। ১৯৫৩ সালের পর মাত্র তৃতীয়বারের মতো বৈঠক এটি।

১৯৫৩ সালের পর উত্তর কোরিয়ার প্রথম কোনো নেতা হিসেবে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ায় পা রাখলেন কিম জং উন। এ হিসাবে ৬৫ বছর পর উত্তরের কোনো নেতার প্রথম দক্ষিণ কোরিয়া সফর এটি।

ঐতিহাসিক এ আলোচনায় উত্তর কোরিয়া যে সম্প্রতি পরমাণু কর্মসূচি বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে তার ওপর আলোকপাত করা হবে।

দুটি দেশের মধ্যে কয়েক দশকের উত্তেজনার পর এটি নিঃসন্দেহে এক ঐতিহাসিক সম্মেলন। তবে সিউল সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, পিয়ংইয়ং পরমাণু কর্মসূচি বর্জন না করলে তাদের মধ্যে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র জং-সিওক বলেছেন, ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের ইচ্ছায় দুই দেশের নেতা সমঝোতার বিষয়ে কোন পর্যায়ে পৌঁছতে পারবেন সেটাই হচ্ছে এ বৈঠকের সবচেয়ে কঠিন অংশ।’

তথ্য : আল জাজির, বিবিসি, রয়টার্স

খালি পায়ে হাঁটার উপকারিতা

খালি পায়ে হাটার অনেক ধরনের উপকারিতা আছে যা সারাক্ষন জুতা পরে থাকার জন্য গুরুত্ব দেয়া আমাদের মূল ধারার সমাজ ব্যবস্থাকে অনেক সময় ছাপিয়ে যায়। ডঃ মারকোলার মতে খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে হাঁটলে তা সরাসরি মাটি থেকে দেহে নেগেটিভ ইলেকট্রন শোষণ করে যা আভ্যন্তরীণ বায়োইলেক্ট্রিক্যাল পরিবেশের ভারসাম্যতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার চাপে পরে আমরা আসলে মাটির সংস্পর্শ হারাচ্ছি। কিন্তু আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার মাঝেই সময় বের করে নিয়ে কিছুটা সময় খালি পায়ে হাঁটি তার উপকারিতা অভাবনীয়।
খালি পায়ে হাটার কিছু উপকারিতা এখানে তুলে ধরছি-
১.ঘুমের সমস্যা দূর হয়। অনিদ্রা কিংবা শোয়ার অনেক পরে ঘুম আসে, এমন সমস্যাতে অনেকেই ভুগছেন। খালি পায়ে হাঁটাচলা করলে সেই প্রবণতা কমে যায়।
২.শুধু ঘুম নয়, ক্লান্তি কিংবা অবসাদ থাকলেও তা দূর হয় খালি পায়ে হাঁটলে।
৩.খালি পায়ে চলাফেরা করলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং মানসিক ভাবে সুস্থ থাকা যায়।
৪.কাজ করার ক্ষমতা বাড়ে খালি পায়ে হাঁটলে।
৫.জুতো ছাড়া হাঁটাচলা করলে পায়ের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি হাড় মজবুত হতেও সাহায্য করে।
৬.ভোরবেলায় খালি পায়ে ঘাসের উপর চলাফেরা করলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়।
৭.খালি পায়ে হাঁটলে স্মৃতিশক্তির ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

ওয়াইফাই রাউটার আরো দ্রুতগতির করবেন যেভাবে

ইন্টারনেটের প্রসার হচ্ছে প্রতিনিয়তই। একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ইন্টারনেট প্রসারের অন্যতম মাধ্যম হলো রাউটার। বাসাবাড়ি বা অফিসে আমরা নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে এখন সবাই কম-বেশি ওয়াইফাই ব্যবহার করছি। তবে শুরুতে ওয়াইফাইয়ের ব্যবহার ভালো লাগলেও কিছু দিন পরই ওয়াইফাইয়ের গতি ধীর হয়ে যায়। কারণ ওয়াইফাই হলো রেডিও তরঙ্গ, যা সামান্য দূরত্বে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্মার্টফোন ল্যাপটপের মতো ডিভাইসে তা গ্রহণ করে। তরঙ্গ ছড়িয়ে পড়ার মাঝে বাধা পড়লে তা ধীরগতির তো হবেই। কাজেই হতাশ না হয়ে কিছু বিষয় মেনে চললে ওয়াইফাইয়ের ধীরগতি সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

আপনার ঘরের মেঝেতে ওয়াইফাই রাউটার রাখবেন না। রাউটার এমনভাবে বানানো হয়, যেন তা তরঙ্গ একটু নিচের দিকে ছড়িয়ে দেয়। কাজেই মেঝেতে থাকা রাউটার থেকে তরঙ্গ ওপরের দিকে খুব বেশি ছড়াবে না। ফলে আপনার ডিভাইসগুলো ধীরগতির ইন্টারনেট পাবে। তাই একে একটু উঁচু স্থানে রাখুন।

দামি রাউটারটাকে ধুলোবালি, পানি বা ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে হয়তো আলমিরা বা কোথাও লুকিয়ে রাখবেন। এ কাজটা করলেও রেডিও তরঙ্গ পাবেন না। ইন্টারনেটের গতি ধীর হয়ে যাবে। বন্ধ দরজা বা দেয়াল ভেদ করে সহজে বেরিয়ে যেতে পারে না তরঙ্গ। তাই আপনি তার পূর্ণগতিও পাবেন না। তাই খোলামেলা স্থানে রাখতে হবে রাউটার, যেন তরঙ্গ বাধাহীনভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ওয়াইফাই তরঙ্গ যে বস্তুতেই এসে পড়ুক না কেন তার কিছু অংশ শোষিত হয়। তাই বাধা ন্যূনতম থাকে এমন স্থানে রাখতে হবে রাউটারটাকে। এমন একটা কক্ষের বিশেষ এক স্থানে রাখতে হবে যেখান থেকে বাড়ির অন্যান্য স্থানে সহজে যাওয়া-আসা করা যায়। তাহলে বাড়ির সবখানে সহজে পৌঁছে যাবে তরঙ্গ। এতে গতি ধীর হবে না।

যদি আপনার রাউটারে দুটো অ্যান্টেনা থাকে তবে একটাকে লম্বভাবে রাখবেন। অন্যটাকে মাটি বরাবর সমান্তরাল করে রাখবেন। এতে করে তরঙ্গ দারুণভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

আসলে এটাই স্বাভাবিক যে কম্পিউটারের পাশে রাউটার রাখা হয় যেন সিগনাল দ্রুত পায়। কিন্তু টেলিভিশন, রেডিও বা রান্নাঘরের মাইক্রোওয়েভের মতো যন্ত্র রাউটারের তরঙ্গের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করে। ফলে এটা দুর্বল হয়ে যায়। তাই এ ধরনের যন্ত্র থেকে রাউটার দূরে রাখুন।

হিজাব নিয়ে যা বললেন আমেরিকান এক মডেল

সোমালি আমেরিকান বংশোদ্ভূত নারী হালিমা এডেন। ডাক নাম হালিমা। তার জন্ম কেনিয়ার উদ্বাস্তু শিবিরে। এমন অবহেলিত একটি স্থানে জন্ম হলেও সারাবিশ্বের মানুষ তাকে আজ চিনছে নামকরা মডেল হিসেবে। হিজাব পরা নারীদের দেখতে দেখতে ক্রমে হালিমা হিজাবের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন। শুধু তাই নয়, তিনি নিজেও হিজাব পরা শুরু করেন। অথচ তিনি ১৯৯৭ সালের ১৯ সেপ্টেম্বরে জন্ম নেয়া প্রায় ২০ বছরের একজন নারী। তাই বুরকিনি, হিজাব ইত্যাদি পরার ইচ্ছা জাগতে থাকে অনেক কম বয়স থেকে। হালিমা এডেন এ সংক্রান্ত নানা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বকে রীতিমতো অবাক করেছেন।

তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিস মিনেসোটা প্রতিযোগিতামূলক এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে হিজাব ব্যবহার করেন। তার হিজাব পরা দেখে অনেকেই এর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে ওঠেন। অনেকে তা পরাও শুরু করেন।

এভাবে হিজাব পরা মেয়েদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মডেলিংয়ের মাধ্যমে হিজাব পরার বিষয়টি সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেন। মূল লক্ষ্য হলো, নারীরা এতে ঝুঁকে পড়–ক। গণমাধ্যমে এক বিবৃতি দেয়ার সময় তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অনেকে হিজাব পরা ত্যাগ করলেও তা পরা নারীর সংখ্যা ক্রমে বাড়ছে। মনে হয় এই ধারা অব্যাহত থাকবে। আমি গুরুত্বপূর্ণ এ ব্যাপারে মুসলিম নারীদের মধ্যে অনুপ্রেরণা জোগাতে চাই। এ ব্যাপারে আমি অনেকের কাছ থেকে সহযোগিতা পাচ্ছি, যা আমার এ সংক্রান্ত কাজকে রীতিমতো সহজ করে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, মার্জিত এই মূল্যবোধের সাথে কেউ বিরোধিতা করলে আমি হিজাব না বলে ‘মাথা আবরণ’ বলি, যাতে তারা সহজে তা বুঝতে পারে। আর এ কারণেই তা বোঝার পর হিজাব পরা নারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ ব্যাপারে উৎসুক অনেকের কাছ থেকে এ সংক্রান্ত ই-মেল বার্তা পান। সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে হালিমা এডেনকে নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য ডাকও পড়ে। তাতে তিনি সাড়াও দেন।

সাঁতার প্রতিযোগিতায় (মেয়েদের) একটি ঢিলেঢালা বুরকিনি পরার ব্যাপারেও সুপারিশ করেন তিনি এবং একজন মডেল সাঁতারু হিসেবে নারীদের জন্য এই পোশাক পরিধানের বিষয়টি অনুমোদন পায়। এতে তো অনেকেই খুশি। দ্য মিস ইউনিভার্স অরগ্যানাইজেশন নামক সংস্থাটি যে বিষয়টি অবিশ্বাস্যভাবে গ্রহণ করে সেটি হলো, এই অনুষ্ঠান নারীদের দ্বারা পরিচালনার বিষয়টি।
সুন্দরী মেয়েদের মিস ইউনিভার্স অরগ্যানাইজেশনের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নের সাথে তার এই শালীন পোশাক ভালোই গ্রহণযোগ্যতা পায়। সংস্থাটির কর্মকর্তারা মনে করেন, প্রকৃত পরিবর্তন আনয়নে একজন প্রত্যয়ী নারী জানেন যে তিনি ক্ষমতাপ্রাপ্ত।

কোনো একপর্যায়ে এডেন হিজাব, বুরকিনি ইত্যাদি পরিধানের ব্যাপারে তার সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে বাধার সম্মুখীন হন। তখন তিনি মনে করেন, সম্প্রদায় তার এ সংক্রান্ত মানসিকতাকে বুঝতে ভুল করছে। এমনকি তিনি তিক্ত অভিজ্ঞতারও সম্মুখীন হন সোমালিয়াতে। এ ব্যাপারে এডেন বলেন, এ ধরনের বিঘœতা বা মানসিকতা একটি সাংস্কৃতিক তিক্ততা ছাড়া অন্য কিছু নয়। তার পরও তিনি এ সংক্রান্ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যান।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, একসময় মানুষ জানত না বুরকিনি, হিজাব ইত্যাদি কী জিনিস। শুনলে অবকা হবেন, আমিও এ ব্যাপারে তেমন কিছু জানতাম না। ক্রমে প্রয়োজনের তাগিদেই আমি এসবের সাথে পরিচিত হতে থাকি।

নারীর সৌন্দর্য সম্বন্ধে তিনি বলেন, নারীর দীঘল কালো চুল আর নীলাভ চোখ বলতে যে রূপের বর্ণনা দেয়া হয়েছে, আমি তাতে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়তে চাই। অন্যকিছুর মাধ্যমেও তো এমন রূপের অধিকারী হওয়া যায়। হিজাব পরার গুরুত্ব এতটাই বেশি।

হালিমা বলেন, প্রতিনিধিত্ব হচ্ছে কোনো বিষয়ের ব্যাপারে এক ধরনের প্রাধান্য পাওয়া। অনেক মুসলিম নারী নানা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। কেননা আমি অনেক ক্ষেত্রেই অনুকূল প্রতিনিধিত্ব দেখতে পাই না। তবে হিজাব পরা বেশির ভাগ মেয়ে অনুকূল পরিবেশ পেয়ে থাকে। তিনি মিস ইউএসএ প্লাটফর্মকে ব্যবহার করে যাচ্ছেন সারা বিশ্বের নারীদের সাথে সংযোগ বা যোগাযোগ স্থাপনের জন্য। তিনি বলেন, তানজানিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের নারীরা এ সংক্রান্ত অনুকূল পরিবেশ পেয়েছে বলে তারা গর্বিত। আমার হৃদয় ভেঙে যায় যখন নারীরা নির্যাতিত কাহিনীর অংশীদার হয়। তার পরও বলতে হয়ে অনেকের আত্মমর্যাদাবোধ আছে। মানুষের নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাব ক্ষেত্রে বাধাবিপত্তি থাকবেই। এ ক্ষেত্রে সবাইকে একজোট হতে হয় এবং এখনই এর উপযুক্ত সময়। কোনো কিছু না বুঝে তা ঘৃণা বা অবজ্ঞা করা এক অদ্ভুত আচরণ।

দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িটি সরিয়ে ছিলেন এই পুলিশ

সেদিন শবনম আক্তার পপির কল সাইন ছিল ‘এপোলো-সিক্স-ওয়ান’।  টহল দিচ্ছেন মহাখালি এলাকায়। রুটিন ডিউটি। হঠাৎ ওয়্যারলেসে বার্তা এলো। মহাখালিতে এক্সিডেন্ট হয়েছে। এখনই ছুটতে হবে।

গাড়ি ছুটলো মহাখালির দিকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখেন ভয়াবহ পরিস্থিতি। অনেক কটি গাড়ি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। রাস্তায় উল্টে আছে গাড়ি। পথ বন্ধ। বিরাট বিশৃঙ্খলা।

‘ভিআইপি পরিবহনের বাসটি যখন ফ্লাইওভার থেকে নীচে নামছিল, তখন সেটি ব্রেক ফেল করে সামনের গাড়িতে ধাক্কা মারে। ধাক্কাটা আসলে জোরে-শোরেই ছিল। পরপর দশটি গাড়িতে ধাক্কা লাগে। একটা পিক-আপ ভ্যান উল্টে একজন মারাত্মকভাবে আহত। কয়েকজন মোটর বাইক আরোহীও আহত হয়েছেন,’ বলছিলেন তিনি।

দিনটি ছিল ২২শে এপ্রিল, রোববার। সেদিন পুলিশের উপ-পরিদর্শক শবনম আক্তার পপি এরপর যা যা করেছিলেন, সেটিকে তিনি ভেবেছিলেন পুলিশ হিসেবে তার কর্তব্য। কাজের অংশ।

কিন্তু যারা সেদিন ঘটনাটি দেখেছেন, ছবি তুলেছেন এবং সেই ঘটনার কাহিনী এবং ছবি অনলাইনে শেয়ার করেছেন, তাদের কাছে এটি ছিল বিরল এবং অনুকরণীয় এক দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী যেখানে প্রতিদিন নানা কাজের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছে, কিছু পুলিশ সদস্যদের নানা কান্ড-কীর্তির কারণে পুরো বাহিনীর ভাবমূর্তি যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, সেখানে শবনম আক্তার পপিকে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘আদর্শ’ বা ‘রোল মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

কী ঘটেছিল সেদিন:
শবনম আক্তার পপির সঙ্গে কথা হয় টেলিফোনে। মহাখালি ফ্লাইওভারের সেই দুর্ঘটনার পর সেদিন সেখানে কী হয়েছিল, নানা প্রশ্নের উত্তরে সবিস্তারে জানিয়েছেন তিনি।

‘ঘটনার গুরুত্ব বুঝে আমি কাছাকাছি আরও যে পুলিশ সদস্যরা ছিলেন তাদের সাহায্য চাইলাম। ভিআইপি পরিবহনের গাড়িটা বিকল হয়ে পড়ে ছিল একেবারে মাঝ রাস্তায়। এর ফলে সেখানে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। গাড়িটার ব্রেক ফেল করেছিল। কাজেই কিভাবে গাড়িটা সরানো যায়, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তা ছিল। শেষ পর্যন্ত আমি সিদ্ধান্ত নিলাম, আমি নিজেই গাড়িটা চালিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নেব।’

‘আমার মনে হয়েছিল তখন যদি আমি দ্রুত গাড়িটা রাস্তা থেকে সরিয়ে না নেই, তাহলে আমার ডিপার্টমেন্টের বদনাম হবে। আর আমার ডিপার্টমেন্ট এই ট্রেনিংটাই দেয় মানুষের সেবা করা, বিপদগ্রস্থ মানুষকে সাহায্য করা। আমাদের কিন্তু ট্রেনিং এ এটাই শেখানো হয়।’

শবনম আক্তার পপি গাড়ি চালানো শিখেছিলেন নিজের আগ্রহেই। পরে পুলিশ সদস্য হিসেবেও গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নেন। কাজেই বাসটি চালিয়ে রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে সমস্যা হয়নি। তবে কিছুটা ভয় কাজ করছিল, যেহেতু বাসটির ব্রেক কাজ করছিল না।

‘কোন গাড়ি যখন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে, তখন একজন ড্রাইভারের অভাবে যাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হয়। আমার মনে হয়েছিল, পুলিশ হিসেবে আমাকে অনেক সড়ক দুর্ঘটনা হ্যান্ডেল করতে হয়। তখন আমার মনে হয়েছিল গাড়ি চালানো শেখাটা খুব জরুরী।’

যে পিক-আপটি রাস্তায় উল্টে গিয়েছিল, তার ড্রাইভার আহত হয়ে পড়েছিলেন রাস্তায়। ব্যাথায় কাতরাচ্ছিলেন। তাকে ফার্ষ্ট এইড দেয়ার কাজেও এগিয়ে গেলেন শবনম আক্তার পপি।

‘তার অবস্থা দেখে আমার বেশ খারাপ লাগছিল। তখন আমি একজনকে টাকা দিয়ে বললাম, আমাকে কিছু বরফের টুকরো এনে দিন। আমি আহত লোকটিকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করলাম এই বলে যে আপনার কিছুই হয়নি। আমি পরে তার আঘাতের জায়গাগুলিতে বরফের সেঁক দেই।’

‘লোকটি বলছিল তার পা বোধহয় ভেঙ্গে গেছে। তখন আমি গামছা দিয়ে সেখানটা বেঁধে দেই। তখন আমার মনে হচ্ছিল, যদি আমি সেই সময়ে এই প্রাথমিক চিকিৎসটা না দেই, এই পা হয়তো আর ভালোই হবে না।

আহত লোকটিতে এরপর দাঁড়াতে সাহায্য করেন তিনি, হাঁটতে সাহায্য করেন। তারপর একটি গাড়িকে অনুরোধ করে লোকটিকে বাড়িতে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।

পুলিশ সদস্য হিসেবে ফার্ষ্ট এইডের প্রশিক্ষণও নিয়েছিলেন শবনম আক্তার পপি। তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যদের এখন এসব প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশ পুলিশ এখন অনেক এগিয়ে। আমাদের ড্রাইভিং, ফার্ষ্ট এইড- সব কিছুই শেখানো হয়।’

বাংলাদেশে গত কয়েকদিন ধরেই যেখানে কিছু পুলিশ কর্মকর্তার কান্ড-কীর্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনা চলছে, সেই পটভূমিতে শবনম আক্তার পপির এই ভূমিকা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।

এই ঘটনার ছবি সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেছেন অনেকে। সেদিন আহত এক মানুষকে তার ফার্স্ট এইড দেয়ার ঘটনার ছবির নীচে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

রহমান আজিজ নামে একজন তার প্রশংসা করে লিখেছেন, ‘পুলিশ জনগণের বন্ধু সেটা পপি আপা দেখালেন। তবে সব পুলিশ যদি এমন হতো তবে বদলে যেত বাংলাদেশ।’

হাসান ইমাম নামে একজনের মন্তব্য, ‘শত সহস্র সালাম সেসব পুলিশ সদস্যদের যারা সত্যিকারের পুলিশের সন্মান রেখে জনগণের সেবা করে। এদের কাছ থেকেও তো খারাপ পুলিশরা কিছু শিখতে পারে!’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গুলশান অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার মোস্তাক আহমেদ নিজেও এ নিয়ে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত একজন পথচারীর পায়ের শুশ্রুষা করছেন একজন পুলিশ সদস্য। এই ছবি শুধু পুলিশের সেবার কথা বলে না, পরিবর্তনের কথাও বলে। শ্রদ্ধা।’

সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে এই শোরগোল কেমন লাগছে শবনম আক্তার পপির? এটিকে বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন তিনি।

‘আমার স্যার আমাকে নিয়ে ফেসবুকে যে পোস্টটি দিয়েছেন, সেটি আমার অন্তর ছুঁয়ে গেছে।’

তবে যে কাজ তিনি সেদিন করেছেন, সেটি যে অসাধারণ কিছু সেটা তিনি মনে করেন না। তার মতে, পুলিশের এই কাজই করার কথা।

‘আমি সব সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সেবা করার চেষ্টা করি। আর এখন পুলিশের কাজ আমাকে এই কাজ আরও বড় পরিসরে করার সুযোগ করে দিয়েছে।’

পুলিশের যে নেতিবাচক ভাবমূর্তির কথা সবসময় বলা হয়, তার সঙ্গে একমত নন তিনি।

‘পুলিশ কিন্তু বেশিরভাগ সময় ভালো কাজ করে। সাদা কাপড়ে ময়লা লাগলে যেমন বেশি চোখে পড়ে, পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ব্যাপারটাও তাই। অন্যায় কিন্তু খুব কমই হয়। আমরা কিন্তু বেশিরভাগ সময় দেশের মানুষের সেবাতেই নিয়োজিত থাকি।’

পুলিশ সদস্যদের যে কত দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় তার কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার কাজটা অন্য পুলিশ সদস্যদেরও ভালো কাজে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করেন শবনম আক্তার পপি।

নির্বাচনী প্রচারণা থেকে গাজীপুর মহানগর জামায়াত আমির গ্রেফতার

গাজীপুর মহানগর জামায়াতের আমির অধ্যাপক সানাউল্লাহ ও মহানগর শ্রমিককল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজাহারসহ জামায়াতের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীকে আজ শুক্রবার সকালে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে আটক করেছে পুলিশ।

গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ২০ দলীয় জোট মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে পূবাইল বাদুন এলাকায় শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাচনী সভা থেকে তাদেরকে জেলা পুলিশ গ্রেফতার করে।

অধ্যাপক সানাউল্লাহ গাজীপুর সিটি নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে মেয়রপদপ্রার্থী ছিলেন। ২০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে অবশেষে তিনি গত ২৩ এপ্রিল নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকারকে সমর্থন দেন এবং দলীয় নেতাকর্মীদেরকে সাথে নিয়ে হাসান সরকারের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে থাকার ঘোষণা দেন।

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি শুরু ১৩ মে

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন কার্যক্রম শুরু হবে ১৩ মে। এর আগে ৬ মে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হবে।

একাদশে ভর্তি উপলক্ষে ৩০ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। বৈঠকে ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, খসড়া নীতিমালায় গত বছরের মতোই অনলাইন এবং এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদন নেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচ এবং সর্বোচ্চ ১০ কলেজ বা মাদরাসায় আবেদন করা যাবে। এ জন্য নেয়া হবে ১৫০ টাকা। মোবাইল ফোনে প্রতি এসএমএসে একটি করে কলেজে আবেদন করা যাবে। এ জন্য ১২০ টাকা দিতে হবে। তবে এসএমএস এবং অনলাইন মিলিয়ে কোনো শিক্ষার্থী ১০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারবে না। এবারও ভর্তি কার্যক্রমে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে বুয়েট।

প্রস্তাবনা অনুযায়ী ৩০ জুনের মধ্যে সব ধরনের ভর্তি কার্যক্রম শেষ করে ১ জুলাই একাদশের ক্লাস শুরু হবে।

গত বছর ৯ মে একাদশ শ্রেণির ভর্তির কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। এবার বিলম্বের কারণ সম্পর্কে ঢাকা বোর্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, গত বছর ৪ মে এসএসসির ফল প্রকাশ হয়েছিল। এবার সেখানে দু’দিন বিলম্বে ফল প্রকাশ হচ্ছে। কিন্তু ১১ ও ১২ মে সাপ্তাহিক ছুটির দিন। এ কারণে ১৩ মে ভর্তি কার্যক্রম শুরুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এএসআই সঙ্গে আটক হওয়া পরকীয়া প্রেমিকা সেই রুনুর স্বামী ‘বাবা আরিফ’ বন্দুকযুদ্ধে নিহত

মুন্সীগঞ্জে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত সাইফুল ইসলাম আরিফ (৩৫) ওরফে ‘বাবা আরিফ’ নারায়ণগঞ্জে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবাসহ পুলিশের এএসআই সোরয়ার্দী রুবেলের সঙ্গে আটক হওয়া পরকীয়া প্রেমিকা সাবিনা আক্তার রুনুর স্বামী।

বুধবার রাত ২টার দিকে আরিফকে নিয়ে মাদকদ্রব্য ও অস্ত্র উদ্ধারে ইউনিয়নের গজারিয়াকান্দি এলাকায় গেলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আরিফ নিহত হয়।

এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আরিফের মরদেহ মুন্সিগঞ্জ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ১২টি মামলা রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, বুধবার রাতে শতাধিক ইয়াবাসহ সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্য মতে তাকে নিয়ে অস্ত্র উদ্ধারে যায় পুলিশ।

এ সময় ওঁৎপেতে থাকা তার সন্ত্রাসী বাহিনীরা আরিফকে ছাড়িয়ে নেয়ার জন্য পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় আরিফ গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে দুই পুলিশ সদস্যও আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলিসহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ইয়াবা ব্যবসার সূত্র ধরে আরিফরে স্ত্রী রুনুর সঙ্গে পরিচয় হয় পুলিশের এএসআই সোরয়ার্দী রুবেলের সঙ্গে। একসময় তাদের মধ্যে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

তবে সে সম্পর্ক একটা সময় নষ্ট হয়ে যায়। এমতাবস্থায় রুনু নারায়ণগঞ্জে আসলে সদর থানায় কর্মরত সোরয়ার্দী রুবেল রুনুকে কৌশলে তার বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে ৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায় করে।

মুক্তিপণ দিয়ে রুবেলের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ব্যাপারটি জানালে পুলিশ রুবেলের বন্দরের ভাড়া বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪৪ হাজার পিস ইয়াবা ও সদর থানায় ডিউটিরত অবস্থায় রুবেলের ব্যাগ তল্লাশি করে আরও ৫ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ তাকে গ্রেপ্তার করে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থাকায় পরের দিন মুন্সিগঞ্জ থেকে বাবা আরিফের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রুনুকেও গ্রেপ্তার করে নারায়ণগঞ্জ পুলিশ। বর্তমানে রুবেল ও রুনু কারাগারে রয়েছেন।

মিরপুরে সিগারেট ধরাতে গিয়ে গ্যাস লাইনে আগুন, দগ্ধ ৩

রাজধানীর মিরপুরে গ্যাসের লাইনে আগুনে এক শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে নেয়া হয়েছে। দগ্ধরা হলেন বাড়ির দারোয়ান মানিক মিয়া, তার স্ত্রী মীনা বেগম ও তাদের ৭ মাসের শিশুসন্তান তামিম।

ফায়ার সার্ভিস মিরপুর স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, মিরপুরে ১১ নম্বর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ৩ নম্বর রোডের ৪নং বাড়ির নিচ তলায় সিকিউরিটির গার্ডরুমে পরিবার নিয়ে থাকেন বাড়ির কেয়ারটেকার মানিক মিয়া।

মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে মানিক মিয়া সিগারেট ধরাতে দিয়াশলাই ঠুকা দিতেই জমে থাকা গ্যাস থেকে আগুন ধরে যায়। আগুনে তারা তিনজন দগ্ধ হন।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দগ্ধদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

সৌদি সিনেমা হলে নামাজের জন্য থাকবে আলাদা যায়গা!

দীর্ঘ ৩৫ বছরের বিরতি ভেঙে রক্ষণশীল দেশ সৌদি আরবে সিনেমা প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। গেল সপ্তাহে রাজধানী রিয়াদের একটি প্রেক্ষাগৃহে সুপারহিট ছবি ‘ব্ল্যাক প্যান্থার’ প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দেশটি নতুন এক সাংস্কৃতিক যুগের পথে যাত্রা করে। তবে এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের সঙ্গে সিনেমাকে সাংঘর্ষিক বলেও সমালোচনা করছেন। তাদের এ ধারণা বদলে দিতে এবার বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রেক্ষাগৃহের মালিকপক্ষ। হলিউড রিপোর্টারের এক সংবাদে জানা যাচ্ছে, সিনেমা চলাকালীন প্রার্থনার সময় হলে আগত মুসলিমরা যাতে প্রার্থনা করতে পারেন, সেজন্য প্রতিটি প্রেক্ষাগৃহের সঙ্গে আলাদা একটি কক্ষ বানানোর জন্য প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা সম্মত হয়েছেন এবং এ লক্ষ্যে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছেন। মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাস আসন্ন রমজান উপলক্ষে এ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব থিয়েটার ওনার্সের প্রেসিডেন্ট জন ফিথিয়ান। একই সঙ্গে তিনি আরো জানিয়েছেন, সম্প্রতি সিনেমা হল চেইন এএমসি থিয়েটার রিয়াদে যে প্রেক্ষাগৃহটি চালু করেছে, সেখানেও প্রার্থনার জন্য আলাদা ঘর তৈরি করা হয়েছে। গেল মঙ্গলবার সিনেমাকনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান ফিথিয়ান।

ফিথিয়ান বলেছেন, ‘এটা নিশ্চিত, এখন থেকে নতুন যেসব প্রেক্ষাগৃহ নির্মাণ করা হবে, তার প্রতিটিতে অবশ্যই প্রার্থনার জন্য নির্ধারিত কক্ষ তৈরি করা হবে। এএমসির বর্তমান ঠিকানা, যা পারফর্মিং আর্টের জন্য প্রসিদ্ধ, সেখানে আগে থেকেই প্রার্থনালয় আছে।

সিনেমা প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ প্রায় তিন যুগের বন্ধ্যত্বের অবসান ঘটিয়ে সৌদি আরবে বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির দরজা যেভাবে উন্মুক্ত হয়েছে, সেখানে ক্রমেই এ প্রশ্ন বড় আকার হয়ে উঠছে, সিনেমার প্রদর্শকরা কীভাবে দেশটির সংস্কৃতি ও ধর্মীয় চর্চাকে সমন্বয় করবে। এ প্রসঙ্গে ফিথিয়ান বলেন, ‘সমস্যা নিরসনে অসংখ্য উপায় আছে।’ সৌদি সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্যের পাশাপাশি নারী-পুরুষদের জন্য পৃথক প্রেক্ষাগৃহ ও ভিন্ন ভিন্ন শো টাইম নিয়েও আলোচনা হয়। এমনকি প্রেক্ষাগৃহে আসা-যাওয়ার জন্য নারী-পুরুষদের আলাদা সিঁড়ি রাখার বিষয়টি নিয়ে কথাবার্তা হয়। এ নিয়ে ফিথিয়ান বলেন, ‘টিকিট বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃতির প্রতি কীভাবে শ্রদ্ধাশীল থাকা যায়, আমরা এ বিষয়টি নিয়ে এখানে আলোচনা করেছি।’

অন্যদিকে এএমসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যাডাম অ্যারোন বলেছেন, ‘তিন সপ্তাহ আগেও সিনেমার প্রদর্শনী নিয়ে সব চিন্তা সবাইকে এক কাতারে রেখেই করা হয়েছিল।’ এরপর এ পরিকল্পনায় ছেদ ঘটিয়ে ‘সঙ্গীহীন পুরুষ’ অথবা ‘অবিবাহিত’দের এখানে ছবি দেখার অনুমতি দেয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য ‘পারিবারিক প্রদর্শনী’ নামেও আলাদা প্রদর্শনীর পরিকল্পনা করা হয়। যেখানে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়, নারীরা ছবি দেখতে আসতে পারবে কিন্তু তাদের অবশ্যই তার স্বামী অথবা রক্তের সম্পর্কের পুরুষ আত্মীয়কে সঙ্গে আনতে হবে।

অবশ্য এত বাধা সত্ত্বেও সৌদি আরবে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসতে থাকবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন অ্যারোন। তিনি বলেন, ‘সঠিক পথে আসার জন্য দেশটির এ প্রচেষ্টায় বারবার পরিবর্তন আসবে।’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি যদি অনুমান করেও বলি, তাহলে তারা একদিন সবার জন্য উন্মুক্ত প্রেক্ষাগৃহ চালু করবে। এটা কাজের প্রত্যাশার জায়গা থেকেই বলছি। অবশ্য এজন্য সময় নেবে তারা।’

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের প্রধান আর্থিক তহবিল পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বড় সিনেমা হল চেইন আমেরিকান মুভি ক্ল্যাসিক বা এএমসির সঙ্গে চুক্তি সই করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে সৌদি আরবের ১৫টি শহরে ৪০টি সিনেমা হল নির্মাণ করবে এএমসি। এর পরের সাত বছরে ২৫টি শহরে ৫০ থেকে ১০০টি সিনেমা হল নির্মাণ করা হবে। সৌদি আরবের নাগরিকরা সর্বশেষ ১৯৭০ সালে সিনেমা দেখেছিলেন। তখন দেশটির কট্টরপন্থী ধর্মীয় নেতাদের চাপে সিনেমা হলগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।