All posts by lutfor

করোনায় মারা গেলে ৩ লাখ টাকা পাবে প্রবাসীর পরিবার

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির কারণে চাকরি হারিয়ে দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আটকে পড়া প্রবাসীদের ফেরত আনা নিয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক এই ঘোষণা দেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে বলা হয়, প্রবাসী কর্মীরা দেশে ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরে ৫ হাজার টাকা যাতায়াত খরচ পাবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে প্রত্যাবাসন, জাতীয়তা যাচাইকরণ, পৃথকীকরণ, প্রবাসীদের ত্রাণ, বিভাগের মধ্যে সমন্বয়, বন্ধু দেশে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রেরণ, প্রত্যাবাসন পরবর্তী প্রস্তুতি ইত্যাদিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

এর আগে ৫ এপ্রিল প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনা সম্পর্কিত আন্তঃমন্ত্রণালয়ের প্রথম বৈঠকটি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে ও দ্বিতীয় বৈঠকটি ৯ এপ্রিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

জার্মানিতে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  : বিশ্বের সেরা স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাসেবা থাকা সত্ত্বেও জার্মানিতে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাস সংক্রমিত কোভিড-১৯ আক্রান্ত ২৮৫ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। মহামারি এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর দেশটিতে একদিনে এত প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বাড়লেও জর্মানিতে আক্রান্তের হার কমেছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংক্রমণ রোগবিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র রবার্ট কক ইনস্টিটিউট। গত একদিনে জার্মানিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪৮৬ জন। এ নিয়ে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫৮৩; যা একদিনে সর্বনিম্ন আক্রান্ত দিনগুলোর মধ্যে একটি।

জার্মানিতে আক্রান্তের সংখ্যা সোয়া লাখ ছাড়ালেও মৃৃত্যুহার তুলনামূলক কম। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হজার ৪৯৫ জন। রবার্ট কক ইনস্টিটিউট জানিয়েছে, আক্রান্তদের মধ্যে ৭২ হাজার ৬০০ রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন।

আক্রান্তের সংখ্যায় জার্মানি ওপরের দিকে থাকলেও মৃত্যুর সংখ্যা বিচারে দেশটি অনেক পেছনে। দেশটিতে মৃতের সংখ্যার বিচার করছে তা গড়ে মৃত্যুহার ১ দশমিক ৫ থেকে ২ শতাংশ। অথচ ইতালিতে এই হার ১২ শতাংশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও স্পেনে ১০ শতাংশের বেশি।

জার্মানিতে করোনার প্রথম সংক্রমণ দেখা যায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি। কিন্তু জানুয়ারি থেকেই দেশটির সরকার করোনা শনাক্তে ব্যাপক হারে পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। জানুয়ারি শেষ না হতেই তারা করোনা পরীক্ষার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করে। শুরু হয় গণহারে পরীক্ষা।

৬ মাসের বেতনের ২০ শতাংশ দান করছেন নিউজিল্যান্ডের মন্ত্রীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আর্ডার্ন এবং তার সরকারের মন্ত্রীরা তাদের আগামী ৬ মাসের বেতনের ২০ শতাংশ দান করছেন। করোনাভাইরাসের কারণে যে মহামারি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাতে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশের করোনা পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য দেশটির মন্ত্রীরা তাদের বেতনের একটা অংশ দান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

শুরু থেকেই করোনার বিস্তাররোধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। দেশজুড়ে অনেকদিন ধরেই লকডাউন চলছে। এর মধ্যেই লকডাউনের মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে।এ পরিস্থিতিতে মন্ত্রীদের আগামী ৬ মাসের বেতন থেকে ২০ শতাংশ অর্থ করোনার মোকাবেলায় বিভিন্ন কার্যক্রমে কাজে লাগানো হবে।

করোনার প্রকোপ ঠেকাতে শুরু থেকেই কড়াকড়ি আরোপ করেছে দেশটি। বিদেশফেরত নাগরিকদের সেখানে ১৪ দিনের জন্য বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। সেখানে সব ধরনের জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। গত তিন সপ্তাহ ধরে সব ধরনের অফিস, স্কুল এবং অপ্রয়োজনী সব প্রতিষ্ঠানের সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দেশটির অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে।

এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা বলেন, আমরা এমন একটি অবস্থানে আছি যেখানে আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে এবং সে কারনেই আমরা তা করছি। বুধবারের হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে নতুন করে আরও ২০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৩৮৬ এবং করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা গুরুতর।

করোনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৫০ : নতুন শনাক্ত ২১৯

দেশে করোনাভাইরাসে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জন মারা গেছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ জনে। নতুন করে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২১৯ জন। এতে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জনে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। নিজের বাসা থেকে এতে যুক্ত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৪০টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ২১৯ জন। ফলে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ৪ জন। এতে মৃতের সংখ্যা হয়েছে ৫০। এছাড়া আরও সাত জন সুস্থ হয়েছেন। ফলে মোট সুস্থ হয়েছে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ জন।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত হয়েছে করোনাভাইরাস। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সোয়া লাখ। তবে চার লাখ ৮৫ হাজারের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ২৩১। মারা গেছেন ৫০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ জন।

প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সাধারণ ছুটি ঘোষণার পাশাপাশি নানা সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে; যার মূলে রয়েছে মানুষে মানুষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা। মানুষকে ঘরে রাখতে রাজপথের পাশাপাশি পাড়া-মহল্লায় টহল দিচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী, র‌্যাব ও পুলিশ।

করোনা সন্দেহে মা কে জঙ্গলে ফেলে গেলো সন্তান

টাঙ্গাইলের সখীপুর জঙ্গলে এক নারীকে করোনা সন্দেহে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছেন তার স্বামী-সন্তানসহ স্বজনরা।

সোমবার গভীর রাতে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের ইছাদিঘী গ্রামের এক জঙ্গলে ফেলে যাওয়া ওই নারীকে পাওয়া যায়। গজারিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল মান্না মিঞা ও স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, জঙ্গলে অপরিচিত ওই নারীর চেঁচামেচির শব্দ শুনে বিষয়টি ইউএনওকে অবগত করা হয়।

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমাউল হুসনা লিজা জানান, সোমবার রাত দেড়টার দিকে পুলিশ সদস্য ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসারসহ আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর পরিচয় জানি। ওই নারীর বাড়ি শেরপুর জেলার নালিতা বাড়িতে। তার স্বামী-সন্তান গাজীপুরের সালনায় পোশাক কারখানায় কাজ করেন। তার স্বামী-সন্তান আর স্বজনরা রাতে করোনা সন্দেহে তাকে জঙ্গলে ফেলে রেখে সকালে বাড়ি নিবে বলে আশ্বাস দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে তাকে রাতেই ঢাকায় হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহীনুর আলম জানান, ওই নারীর জ্বর, শ্বাসকষ্ট ও গলা ব্যথা রয়েছে। রাতেই তাকে এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আইসোলেশন বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

র‌্যাবকে গুলি, পাল্টা গুলিতে নিহত দুই ডাকাত

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে র‍্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই ডাকাত সদস্য নিহত হয়েছেন। এ সময় কনস্টেবল মনির ও র‌্যাব সদস্য নাসির আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। নিহত একজনের নাম মাসুদ (৩৬); অপরজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে র‍্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩) ও পুলিশ সুপার মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীনগর উপজেলার বেজগাঁও এলাকায় এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

মহিউদ্দিন ফারুকী বলেন, তিন মাস ধরে ওই ডাকাত দলকে নজরে রাখা হয়েছিল। শরীয়তপুরসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন জেলায় ডাকাতি করে আসছিল তারা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় উপস্থিতি টের পেয়ে র‌্যাবকে গুলি ছুড়ে ডাকাত দলের সদস্যরা। র‌্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। পরে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে মৃত অবস্থায় ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়। এ সময় একটি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও সাত ভরি স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করা হয়।

জিডিপি নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাস সঠিক নয়: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের হার (জিডিপি) নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, এখনই এমন পূর্বাভাস দেওয়ার সময় আসেনি। বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস সময় উপযোগী বা পরিপক্ব নয়।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস প্রতিবেদনে বাংলাদেশের জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চলতি বছর বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ২-৩ শতাংশ। রবিবার (১২ মার্চ) এ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (১৩ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এ পূর্বাভাস সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, কারণ এখনই এটা বলার সময় আসেনি। বিশেষ করে অংক ধরে বলার উপযুক্ত সময় এটা নয়। আমাদের সামনে এখনও ৮ মাসের তথ্য রয়েছে। সেগুলো যাচাই করে কিছু দিন আগে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) বলেছে, এবার আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৮ শতাংশ। ফলে বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাসকে আমি সময় উপযোগী বা পরিপক্ব কোনোটাই মনে করি না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রবৃদ্ধির প্রধান তিনটি খাত হলো কৃষি, শিল্প ও সেবা। আমাদের কৃষিখাতে করোনাভাইরাসের তেমন কোনও প্রভাব পড়েনি। এটা যদি দীর্ঘায়িত না হয় তাহলে কৃষি খাতে আমরা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সম্পূর্ণ প্রবৃদ্ধি অর্জনে সক্ষম হবো। শিল্প খাতে কিছুটা প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। এটা কাটানোর জন্য আমরা বিভিন্ন ধরনের উদ্যোগও নিয়েছি। একইভাবে সেবা খাতেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে। আমরা স্বীকার করছি প্রবৃদ্ধি কমবে, কিন্তু এতটা কমবে না। আল্লাহর কাছে আমাদের প্রার্থনা, তিনি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষকে এ মহামারি থেকে রক্ষা করুন।’

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘অর্থনীতির চেয়ে আমাদের এখন সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে দেশের মানুষের জীবন রক্ষা করা। তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা, খাবারের জোগান দেওয়াসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। ’

তিনি বলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রভাবে সারা বিশ্বের মতো আমাদের জিডিপিও কমবে। তবে আমাদের এতটা কমবে না। কমপক্ষে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপি এ বছরও আমরা অর্জন করতে সক্ষম হবো। কারণ, বাংলাদেশে করোনার প্রভাব পড়ার আগেই আমাদের অর্থবছরের ৮ মাস অতিবাহিত হয়েছে। বাকি আছে মার্চ-জুন চার মাস। এ সময়ে যদি আমাদের শূন্য কিংবা নেগেটিভ গ্রোথও হয়, তারপরও আগের ৮ মাসে আমরা যা অর্জন করেছি সেটা ৬ শতাংশের বেশিই হবে।

করোনায় আক্রান্ত অর্ধশতাধিক চিকিৎসক

দেশে করোনার আক্রান্ত চিকিৎসকের সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে এই পর্যন্ত ৫১ জন চিকিৎসক আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আরো ১০৪ জন আইসোলেশনে আছেন বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ডক্টর ফাউন্ডেশন। রাজধানীর ডেল্টা মেডিকেল কলেজের ৪ জন, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, কিশোরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২জন, পপুলার মেডিকেল কলেজের ১ জন, নারায়নগঞ্জের সিভিল সার্জনসহ ৭ জন, চাঁদপুরের মতলব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ জন, ইনসাফ বারকা মেডিকেল কলেজের ২ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজের ১জন, ফজিলতুন্নেসা মেডিকেল কলেজের ১ জন, ইউনাইটেড হসপিটালের ১ জন, কুড়িগ্রাম স¦াস্থ্য কমপ্লেক্সের ১ জন, গফরগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, ইমপালস হসপিটালের ২ জন, নারায়নগঞ্জের বিএমএর সাবেক সভাপতি, করিমগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জন, রংপুর মেডিকেল কলেজে ২ , ইউএইচএফপিও এর মেডিসিন স্পেশালিস্ট  ১জন। এছাড়া আরো চার জন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজন অর্থপেডিক সার্জন, একজন সহকারী সার্জন,একজন সহযোগী অধাপক ও মেডিকেল অফিসার রয়েছে।

ত্রাণে দুর্নীতি: খোলা থাকবে দুদকের সব জেলা অফিস

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট দুর্যোগের সময় অসহায় দুস্থ মানুষের ত্রাণসামগ্রী নি‌য়ে অনেকেই হরিলুট করছেন। বি‌ভিন্ন জায়গায় ঘুষ বাণিজ্যও হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।এ জন্য সরকারের খাদ্যবান্ধব সামাজিক নিরাপত্তার বিভিন্ন কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ ও দুর্নীতিবাজদের ধর‌তে জেলা পর্যায়ের সব অফিস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।‌ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিষয়‌টি নি‌শ্চিত ক‌রে‌ছেন দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য। তিনি বলেন, ১৩ এপ্রিল দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে জেলা কার্যালয়গুলোতে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে দুর্নীতির অনেক খবর গণমাধ্য‌মে আস‌ছে। এ সব খবর ও অভিযোগ অনুসন্ধানের জন্য এমন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একজন আসামি গ্রেফতারসহ দুটি মামলা দায়ের করেছে দুদকে।

এ বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘কমিশন এ বিষয়ে আগেই সবাইকে সতর্ক করেছে। তারপরও যে বা যারা সরকারের সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি ও ত্রাণসামগ্রী আত্মসাৎ করবেন তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনা হবে। বগুড়ায় শুরু হলো। যেখানেই অভিযোগ পাওয়া যাবে, সেখানেই আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।এদি‌কে, ১৩ এপ্রিল খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে কার্ড বিতরণের নামে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্যকে গ্রেফতার করে দুদক। ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. সেকান্দার মিয়াকে পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা হয়। এর আগে ওইদিন সকালে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ওএমএস ডিলার মো. মশিউর রহমানের বিরুদ্ধে ত্রাণের ৭১০ কেজি চাল আত্মসাতের অভিযোগে অপর একটি মামলা করে দুদক। এছাড়া বিভিন্ন জেলায় ত্রাণসামগ্রী সংশ্লিষ্টরা লুট করছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।

লকডাউন করা হলো ইনসাফ বারাকা কিডনি হাসপাতাল

রাজধানীর মগবাজার ইনসাফ আল বারাকা কিডনি অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের দুই ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ মোট নয়জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনার পর পুরো হাসপাতালটি লকডাউন করে দিয়েছে পুলিশ। এছাড়া হাসপাতালটির সাড়ে তিনশ স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) মোহাম্মদ গোলাম আজম ও হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন।

হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের দুজন চিকিৎসক, ছয়জন নার্স ও একজন রিসিপশনিস্ট আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল এবং আজ পরীক্ষার ফলাফলে তারা জানতে পারেন করোনা পজিটিভ। এই ঘটনার পর আমাদের সাড়ে তিনশ স্টাফকে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়েছে।’

এর আগে হাসপাতালে একজন রোগীর মধ্যে কোভিড-১৯ সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে একজন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া যায়।

হাসপাতালে রোগী আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভেতরে কোনো রোগী নেই। গতকালই আমরা সবাইকে রিলিজ দিয়েছি।’

এদিকে ওসি বলেন, সকালে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা হাসপাতালের ভবনটি লকডাউন করে দিয়েছি। সেখান থেকে কেউ বাইরে যেতে পারবে না, বাইরে থেকে সেখানে কেউ ভেতরে যেতে পারবে না।

মঙ্গলবার আইইডিসিআরের তথ্য অনুযায়ী, প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশে মোট ৪৬ জনের মৃত্যু হলো। এছাড়া নতুন করে অচেনা ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন আরও ২০৯ জন। তাদের নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ১০১২ জনে।

গত মাসের ৮ তারিখে দেশে প্রথমবারের মতো কারও দেহে সংক্রমণ ধরা পড়ার পর একদিনে আক্রান্তের এটাই সর্বোচ্চ সংখ্যা। এছাড়া মৃত্যুর সংখ্যাতেও এটা একদিনে সর্বোচ্চ।